প্রণয়ের_মায়াতৃষ্ণা ||২১||
ফারজানারহমানসেতু
সকালটা নেওয়াজ বাড়িতে একটু অস্বাভাবিক নীরবতার মধ্যেই শুরু হলো। সাধারণত সকাল হলেই এই বাড়িটা বেশ সরগরম হয়ে ওঠে। রান্নাঘরে রেহেনা নেওয়াজের কণ্ঠ, ডাইনিং টেবিলে মোস্তফা নেওয়াজের পেপার পড়ার শব্দ, মিরানের দুষ্টামি আর সবচেয়ে বড় কথা রোজার চঞ্চলতা দিয়ে পুরো বাড়ি একদম মাতানো থাকে।
কিন্তু আজ যেন সবকিছু একটু আলাদা।
রোজা আজ খুব ভোরেই উঠে গেছে।
এখন তুবার কাছে না ঘুমালে তার ঘুম আসে না। এমনও আছে দুইবোন গল্প করেও রাত কাটায়! বা গল্প করতে করতে ঘুমিয়ে যায়। রোজা রাহেলা নেওয়াজের রুমে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। সকালের নরম রোদ গাছের পাতায় পড়ে ঝিলমিল করছে। অথচ সেই সৌন্দর্যও তার মন ভালো করতে পারছে না।
গতকালের ঘটনাটা বারবার মনে পড়ছে। গালে তূর্জানের সেই থাপ্পড়ের শব্দটা যেন এখনো কানে বাজছে।
রোজা আয়নায় নিজের মুখের দিকে তাকাল। গালে এখন আর লাল দাগ নেই, কিন্তু গালটা এখনও কেমন ব্যথা করছে।
নিজেই আয়নায় তাকিয়ে আস্তে করে বলল, “আমি তো শুধু একটা ফুল তুলতে গিয়েছিলাম এত রাগ করার কি ছিল?”
তারপর হঠাৎ করেই মুখ শক্ত করে ফেলে বলল,
“না! আমি আর কারো সাথেই কথা বলব না। আমার কথা বলাতেই সবার সমস্যা তো? বললাম না কথা!”
ঠিক তখনই দরজায় টোকা পড়ল। রোজা ঘুরে তাকাতেই দেখল রাফিয়া দাঁড়িয়ে আছে।
রাফিয়া হালকা হেসে বলল,“কি রে? এত সকালে উঠেছিস?”
রোজা ছোট করে বলল,“ঘুম ভেঙে গেছে।”
রাফিয়া রাহেলা নেওয়াজকে চা দিতে এসেছিলো। হয়তো রাহেলা নেওয়াজ ওয়াশরুমে গেছে। কিছুক্ষণ রোজার দিকে তাকিয়ে থাকল রাফিয়া। তারপর ধীরে ধীরে রুমে ঢুকে দরজাটা চাপিয়ে দিয়ে বলল,“সত্যি করে বল, কি হয়েছে?”
রোজা চোখ নামিয়ে ফেলে বলল,“কিছু হয়নি।”
রাফিয়া সেন্টার টেবিলে চায়ের কাপ রেখে মৃদু হেসে বলল,“তোর ‘কিছু হয়নি’ মুখটা আমি খুব ভালো করে চিনি। বল কি হয়েছে?”
কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর রোজা হঠাৎ বলল,
“আচ্ছা ভাবি কেউ যদি তোমাকে মারে তাহলে কি তুমি তার সাথে কথা বলবে?”
রাফিয়া থমকে গেল এমন কথায়! রোজাকে কে মারতে পারে? সবাইতো রোজাকে অনেক ভালোবাসে।“কে মেরেছে তোকে?”
রোজা ঠোঁট কামড়ে বলল,“কেউ না।”
রাফিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,“তূর্জান ভাইয়া ?”
রোজা এবার আর উত্তর দিল না।কিন্তু উত্তর না দিলেও সব বুঝতে পারল রাফিয়া।
রাফিয়া একটু চুপ করে থেকে বলল,“দেখ, তূর্জান ভাইয়ার রাগটা একটু বেশি। কিন্তু সে ইচ্ছা করে তোকে কষ্ট দিতে চায় না। সে তোকে নিয়ে..”
রোজা চোখ ছোট করে তাকাতেই রাফিয়া বলল, “ না মানে পরিবারের সবাইকে নিয়ে পসেসিভ। তুই একটু সাবধানে চললেই তো আর এমন হয় না। “
রোজা বিরক্ত হয়ে বলল,“ওই হিটলারটা আমাকে একদমই সহ্য করতে পারে না ভাবি! তুমি ওনার হয়ে আমার কাছে একদম সাফাই গায়বে না।”
রাফিয়া হেসে ফেলে বলল,“তুইও তো ভাইয়াকে একদম সহ্য করতে পারিস না।”
রোজা মুখ ফুলিয়ে বলল,“আমি সহ্য করতে পারি না ভালো কথা, তো কাউকে মারি তো না!”
ততক্ষনে রাহেলা নেওয়াজ ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আসলেন। এসেই রোজাকে বলল, “ তা তুইও তূর্জানকে মারবি সমস্যা কোথায়? “
“শোনো গ্ৰানি আমি কারোর মতো দয়া মায়া বিহীন পাষান নই, যে গায়ে হাত তুলবো। আমাকে সহ্য করতে পারে না তোমার নাতি বুঝেছো? সহ্য করতে না পারলে বলে দিলেই হয়। তার সামনে আর এই ইহজীবনেও যাবো না। “
রাফিয়া বলল, “ তোর তো দেখছি পাহাড় সমান অভিমান জমেছে! তা এতো অভিমান ভাইয়ার জন্য হলে সে তো সারাজীবন তা ভাঙাতে ভাঙাতেই শেষ হয়ে যাবে। “
“ এইযে ভাবি শোনো, আমি তোমার দেবরের প্রতি অভিমান জমায়নি। আর সে আমার অভিমান সারাজীবন ভাঙাবে কেমনে? আমি কি তোমাদের বাড়ি সারাজীবন থাকবো নাকি? “
“ কেন কোথায় যাবি? “
“ তোমার দেবর যা শুরু করেছে, ভেবেছিলাম কয়বছর পর বিয়ে করবো। এখন ভাবছি এই বছরেই বিয়ে করে তোমাদের বাড়ি থেকে চলে যাবো। “
রাহেলা নেওয়াজ কেশে উঠলেন। হয়তো এই প্রথম শুনলেন, স্বামীর উপর অভিমান করে, অন্য জায়গায় বিয়ে করে চলে যাওয়ার কথা। এর আগে কেউ হয়তো এমন কথা বলেনি। তবে অনেক হয়েছে এর একটা শেষ করা উচিত। আর কতদিন এমন চলবে?
তাই রাহেলা নেওয়াজ বললো, “ আচ্ছা যা তোকে একটা চ্যালেঞ্জ দিই। যদি পূরণ করতে পারিস তাহলে ভাববো, তুই আমার নাতির চেয়ে ভালো, আমার নাতিই খারাপ। “
“ এমনিতেই তোমার নাতি খারাপ, এসব প্রমান করতে হবে না। “
রাফিয়াও বুঝেছে রাহেলা নেওয়াজ কিছু একটার ফন্দি এটেছে। তাই সেও বলল, “ ভয় পাচ্ছিস রোজা? “
“ ভয় পাওয়ার কি আছে? আচ্ছা বলো তোমাদের চ্যালেঞ্জ কি? “
রাহেলা নেওয়াজ বলল, “ তুই একমাস তূর্জানের সাথে ভালোভাবে কথা বলবি। যা বলবে তাই শুনবি, এবং করবি। রাগ দেখাবি না। দেখবি তখন তোর কথায় আমার নাতি উঠবে বসবে! “
রোজা বলল, “হাহ! যার ঘাড়ের রগে রগে সমস্যা সে শুনবে আমার কথা। শোনো গ্ৰানি এইসব চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমি অকালে অক্কা যেতে চাই না। দেখা গেলো আমি একটা কথা শুনলাম সেই দেখে আরও পাঁচটা চাপিয়ে দিল। “
ঠিক তখনই নিচ থেকে তানিয়া নেওয়াজের ডাক শোনা গেল,“সবাই নিচে এসো নাস্তা রেডি!”
রাফিয়া বলল,“চলো গ্ৰানি নিচে যাই। রোজার দ্বারা এসব হবে না।সবাই তো আর চ্যালেঞ্জ নিতে পারে না।”
রাহেলা নেওয়াজ ও বলল “ চল, যাই। “
তক্ষুনি রোজা বলল, “তোমরা কি ভেবেছো একটা ছোট খাটো চ্যালেঞ্জ দিবে আর আমি তা পূরণ করতে পারবো না। তোমরা দেখ শুধু তোমাদের প্রিয় তূর্জান নেওয়াজকে কি করি? তবে তার আগে একটা শর্ত আছে!“
রাহেলা নেওয়াজ বলল, “ কি শর্ত? “
“ তোমাদের চ্যালেঞ্জ পূরণ করবো। কিন্তু তার আগে তোমার নাতি আমার সাথে আগে কথা বলবে, নইলে না। আমি কারোর সাথে আগে কথা বলতে পারবো না। “
“ ওকে!” বলেই রাহেলা নেওয়াজ মনে মনে বলল, “ আমার নাতি, তোর সঙ্গে কথা না বলে থাকতে পারে না। আর তুই সেইটা বলছিস, দেখ তোর অভিমানের পালা আর ভারি হত দেবেই না। “
রোজা অনিচ্ছা নিয়েই নিচে নামল। ডাইনিং টেবিলে সবাই প্রায় বসে গেছে। তুবাও ডাইনিং এ বসেছে আজ। জ্বরটা একটু কমেছে। মোস্তফা নেওয়াজ পেপার পড়ছেন। তাজারুল নেওয়াজ চা খাচ্ছেন। মিরান ফোনে কিছু দেখছে। রোজা চুপচাপ এসে তুবার পাশে একটা চেয়ারে বসে পড়ল। তবে আজ তুবাকেও জ্বালালো না। মেয়েটার শরীর এমনিতেই অসুস্থ। রেহেনা নেওয়াজ বললেন, “আজ আবার চুপচাপ কেন?”
রোজা বলল,“এমনিই।”
“ কাল না হয় ছোটাছুটি কম করতে বলেছি, চুপচাপ তো থাকতে বলিনি? “
রোজা তাও কথা বলল না। ঠিক তখনই তূর্জান সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামল। তার চোখ একবারেই গিয়ে থামল রোজার উপর। রোজা সেটা টের পেয়েই মুখ ঘুরিয়ে নিল। রোজা রাহেলা নেওয়াজের দেওয়া চ্যালেঞ্জ পূরণ করবে তার আগে তূর্জান আগে কথা বলবে তবেই রোজা কথা বলবে নয়তো না। রোজাও কোনো কথা বললো না, তূর্জানও কিছু না বলে নিজের চেয়ারে বসে পড়ল।
তাজারুল নেওয়াজ হঠাৎ বললেন,“আজকে সবাই রেডি থাকো। বিকেলে শপিংয়ে যেতে হবে।”
মিরান মাথা তুলে বলল,“শপিং?”
রেহেনা নেওয়াজ বললেন,“নূরের বিয়ের জন্য কত কিছু কিনতে হবে।”
রাফিয়া বলল,“আমরা কি সবাই যাব?”
তানিয়া নেওয়াজ বললেন,“হ্যাঁ, সবাই যাবে।”
তাজারুল নেওয়াজ হাসলেন। মিরান বলল ,“বিশেষ করে বনু যাবে। ও না গেলে তো শপিং জমবে না।”
রোজার দিকে তাকিয়ে বলল, “কি রে বনু শপিং এ যাবি না।”
সাধারণত এই কথায় রোজা লাফিয়ে উঠত।কিন্তু আজ শুধু ছোট করে বলল,“হুম।”
তূর্জান সেটা খেয়াল করল।তার চোখে অদ্ভুত একটা দৃষ্টি ফুটে উঠল। বিকেলের দিকে সবাই শপিং মলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলো। দুইটা বড় গাড়িটা বের করা হলো। একটাতে বড়রা যাবে, আরেকটা তে ছোটরা সবাই যাবে। রোজা আজ খুব সাধারণ একটা আকাশি রঙের ড্রেস পরেছে। চুলগুলো খোলা। সাধারণ হলেও তাকে আজ অদ্ভুত সুন্দর লাগছে। তূর্জান গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে ছিল
।
রোজা গাড়িতে উঠতে গেলে হঠাৎ তার চোখ নিচের দিকে গেল।রোজার পা খালি। পায়েল নেই।পায়েল ছাড়া সত্যিই পা দুটো কেমন দেখাচ্ছে? হয়তো একটা হারিয়েছে ভেবে আরেকটা যত্নে উঠিয়ে রেখেছে। তূর্জানের মনে হঠাৎ একটা খচখচে অনুভূতি হলো। সে জানে কেন নেই।কারণটা সে নিজেই। সেদিন রাতে রোজার রুমে ওষুধ খাওয়াতে গিয়ে দেখল রোজা ঘুমিয়ে আছে। পায়ে পুরোনো সেই পায়েল দুটো এখনো আছে। তূর্জান যদিও পায়েল দুটোই খুলতে চেয়েছিলো, তবে একটা খুলতেই রোজার নড়চড়ে আরেকটা খোলেনি। থবে তার প্রেয়সী যে এতদিন পর তা ঠিক পাবে তা কি করে তূর্জান জানবে? রোজার কাছে পায়েল দুটো যথেষ্ট দামী তা তূর্জান পায়ে পায়েল দেখেই বুঝে গেছিলো। নয়তো এতদিন যত্নসহকারে রাখতো না। ভেবেছিলো পায়েলের কথা সেদিন সকলেই বলবে, তবে ভুলোমনা বউ যে এতদিন পরে এটা নিয়ে মন খারাপ করবে তা জানলে আগে নতুন পায়েল কিনে আনতো তারপর পুরোনোটা খুলে সেটা পড়িয়ে দিতো। তূর্জান তো ভেবেছে রোজার পছন্দের পায়েল কিনে দেবে, তাই সে নিজে কিছু বলেনি।
শপিং মলটা খুব বড়। ভেতরে ঢুকতেই চারদিকে আলো ঝলমল করছে। আরাজ একদম উত্তেজিত হয়ে গেছে। সবার কাছে বলছে,“ ওই দোকানে চলো!”না না, আগে ওইটায়!”
রোজা চুপচাপ তাদের পেছনে হাঁটছে। তূর্জান একটু দূর থেকে সব দেখছে।মিরান পাশে এসে বলল,“কি দেখছো ভাইয়া ?”
তূর্জান শান্তভাবে বলল,“কিছু না, তোর বোনকে, একটু কম জেদি বানাতে পারিস নি নাকি তোর বাপের আমার সাথে কোনো শত্রুতা ছিল, যে এমন করে মানুষ করলো?”
মিরান হেসে বলল,“রোজার দিকে তাকিয়ে আছো ভালো কথা, কিন্তু এখনে শপিং করতে এসেছো এখন দেখো তোমার বউয়ের কিচ্ছু পছন্দ হবে না। সবাইকে এটা ওটা পছন্দ করে দেবে লাস্টে নিজেরটা কিনতেই পারবে না আবার কাল আসতে হবে। আবার আমার বাপ আমার মায়ের দোষ দেবে, তুমি নিজের টা রেখে আগে ওরটা চয়েস করতে পারো না।”
তূর্জান কিছু বলল না। শপিং চলতে লাগল নেওয়াজ পরিবারের ।
রাফিয়া একটা লাল ড্রেস ট্রাই করতে গেল।
আরাজ এই সেই ব্যাগ ধরে টেনে নিচ্ছে। রোজা একটা কোণে দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ একটা দোকানের সামনে তার চোখ থেমে গেল। শোকেসে অনেকগুলো পায়েল সাজানো। রোজা কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে থাকল। তারপর মুখ ফিরিয়ে চলে যেতে লাগল। ঠিক তখনই পিছন থেকে একটা গম্ভীর কণ্ঠ শোনা গেল,“এইটা দেখ পছন্দ হয় কিনা? নয়তো চেঞ্জ করে নিই।”
রোজা ঘুরে তাকিয়ে দেখল তূর্জান। হাতে একটা ছোট বক্স।রোজা ভ্রু কুঁচকে বলল,“কি?”
তূর্জান বক্সটা খুলল।ভেতরে একটা সুন্দর রুপার পায়েল। খুব সূক্ষ্ম কাজ করা।রোজা হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।“এইটা দেখ পছন্দ হয় কি না ।”
রোজা সঙ্গে সঙ্গে বলল,“আমার লাগবে না।”
তূর্জান চোখ ছোট করে বলল,“কেন?”
রোজা ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল, “আমার আগেরটা অনেক প্রিয় ছিলো, আমি চাইনা ওইটা বাদে আর কোনো পায়েল পড়তে!”
তূর্জানের ধীরে বলল,” পছন্দের জিনিস কখনো হারায় না, আমরা তাদেরকে অবহেলারয় রাখি! পরে হারিয়ে গেলে আফসোস করি।”
“ আমি গোনা নয় বছর ওটাকে যত্ন করেই রেখেছিলাম, তাও বলছেন অবহেলা করে হারিয়েছি? “
“ সেটা কখন বললাম? “
“তাহলে?”
”কিছু না। পছন্দ হয়েছে কি না তাই বল? “
রোজা কিছু বলল না। দুজনের মাঝখানে অদ্ভুত নীরবতা নেমে এল। তারপর তূর্জান হঠাৎ নিচু হয়ে একপায়ের হাটু ফ্লোরে রেখে বসল। রোজা আঁতকে উঠে বলল,“এই কি করছেন! উঠুন!মানুষ দেখছে। আমার পছন্দ হয়েছে, আমি পড়ে নেবো পরে!”
তূর্জান শান্ত গলায় বলল, “পা দে।”
“না!”
“রোজা।”
তূর্জানের কণ্ঠে এমন একটা দৃঢ়তা ছিল যে রোজা আর কিছু বলতে পারল না। ধীরে ধীরে পা বাড়াল।তূর্জান খুব সাবধানে পায়েলটা তার পায়ে পরিয়ে দিল। রোজার বুকটা হঠাৎ কেমন করে উঠল।তূর্জান উঠে দাঁড়াল।
তারপর শুধু বলল,“এটা আগেরটার মতো যত্নে রাখিস, তাহলেই হবে।”
বলেই চলে গেল।রোজা কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।তারপর আস্তে করে পায়ের দিকে তাকাল। পায়েলটা ঝিকমিক করছে।তার অজান্তেই ঠোঁটের কোণে ছোট একটা হাসি ফুটে উঠল।কিন্তু সাথে সাথে আবার মুখ শক্ত করে ফেলল।“হিটলার!”
তবু মনের ভেতর কোথাও যেন একটু তূর্জানের প্রতি ভালো লাগা ঢুকে গেছে। ওদিকে দূরে দাঁড়িয়ে গ্ৰানি আর মিরান সব দেখছিল।
মিরান হেসে নিজেই গ্ৰানির কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,“ খেলা শুরু হয়ে গেছে গ্ৰানি, তোমার তারিফ করতে হয়।”
ইনশাআল্লাহ চলমান…
খেলা শুরু হয়ে গেছে পাঠিকাগণ। তোমরা রেডি তো খেলা দেখার জন্য? কোন দল হারে আর কোন দল জেতে।
Share On:
TAGS: প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা, ফারজানা রহমান সেতু
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৫
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৬
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৮
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৭
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১৯
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১২
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১০
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১৭
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৩