Golpo romantic golpo প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা

প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ২০


প্রণয়ের_মায়াতৃষ্ণা ||২০||

ফারজানারহমানসেতু

ডক্টর দেখিয়ে তূর্জান ভার্সিটি তে প্রবেশ করল। সামনে রোজা হেটে আগে ভার্সিটি তে প্রবেশ করেছে। তূর্জানদের ডক্টরের চেম্বারে যেতে দেরি হওয়ায় তাজারুল নেওয়াজ তুবাকে নিয়ে বাড়িতে চলে গিয়েছিলো। তাই তূর্জান ও রোজাকে ভার্সিটিতে নিয়ে এসেছে। রোজা আসতেই তৃনা দৌড়ে এসে দাড়াল রোজার সামনে। তৃনার সাথেও রোজাদের ভালোই বন্ধুত্ব। তৃনা হাপাতে হাপাতে বলল,

“চলো ক্লাসে যাই আর মাত্র বিশ মিনিট পর ক্লাস শুরু হবে। “
বলেই রোজাকে টেনে ক্লাসে নিয়ে গেল। ক্লাস একদম শান্তিপূর্ণ। কারন আজকে রোজা একদম চুপ করে আছে, পায়েলের কথা ভুলতেই পারছে না। মিরান তো বলেছিলো পায়েল দুটো যেন যত্নসহকারে রাখে। রোজা জিজ্ঞেস করেছিলো কেন? সেদিন মিরান কিছুই বলেনি, শুধু বলেছিলো তুই একদিন নিজেই জানতে পারবি! তাই রোজাও মিরানকে আর কিছু জিজ্ঞেস করেনি! তবে রোজা তো পায়েল যত্ন করে রাখতে পারে নি।

তূর্জান ক্লাসে প্রবেশ করেই, আড়চোখে পুরো ক্লাস স্ক্যান করে নিল। রোজা পুরো শান্তশৃষ্ঠ হয়ে বসে আছে। কেন যে আজ মহারানী চুপচাপ তাও বুঝে গেছে, তবে আরেকটা জিনিস খেয়াল করল আজকে রোজা রবিনের কাছে বসেনি। তা দেখে তূর্জান মৃদু হাসল, তবে তা সকলের অগোচরে রয়ে গেল।
ভার্সিটিতে আজ রোজা একটা কথাও বলেনি। এক তার শখের জিনিস হারিয়ে গেছে, দুই তুবা আর নূর আসেনি ভার্সিটিতে! ভার্সিটি শেষে গাড়িতে রোজা এখনো চুপ করে পায়ের দিকে তাকিয়ে আছে,
“ লোকে বলে না কোনো জিনিস তোমার পছন্দ না হলেও তা তোমার কাছে দীর্ঘস্থায়ী করো দেখবে, সেটা পছন্দ নয়, সেটাতে আসক্ত হয়ে পরবে!”
সেখানে রোজার পায়েল দুটো ভীষণ পছন্দের ছিল। তাহলে তা ভুলবে কি করে। রোজার এখন মনে হচ্ছে, পছন্দের জিনিসগুলো তাড়াতাড়ি দূরে চলে যায়। যেমন নূরের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। পায়েল হারিয়ে গেলো। আবার তুবাও অসুস্থ।

ভার্সিটি থেকে বেড়িয়ে একটা জায়গায় গাড়ি পার্ক করে সেই কখন রোজাকে গাড়িতে বসিয়ে বাইরে দাড়িয়ে ফোনে কথা বলছে তূর্জান। আসার নামগন্ধ নেই। একে তো রোজার মন খারাপ তারউপর এভাবে গাড়িতে বসিয়ে রেখেছে। রোজা বাড়ি ফিরতে চায় অতিদ্রুত।

রোজা বিরক্ত হয়ে গাড়ি থেকে নেমে তূর্জানের সামনে দাড়ায়। রোজাকে দাড়াতে দেখে তূর্জান চোখ ছোটো করে তাকাল, চোখ ঘুড়িয়ে জিজ্ঞেস করল।” কি?”
রোজা বিরক্ত ভরা চোখে বলল,“আমি বাসায় যাবো,”
তূর্জান ফোনের স্পিকার মিউট করে বলল, “গাড়িতে গিয়ে বস, আর যাস্ট দুমিনিট।”

“এখনই যাব,”

তূর্জান চোখ রাঙিয়ে বলল,“বললাম না গাড়িতে গিয়ে বস, আমি আসছি। “

রোজা এবার মুখ গোমড়া করে গাড়ির দিকে এগোলো। তার মন খারাপ ভালো করার একমাত্র উপায় বাড়ি! ওখানে গেলেই ভালো হবে মন। ভাবনার মাঝে গাড়িতে বসতে গিয়েও গাড়িতে না বসে সামনে একটা জায়গায় ঝোপে একটা সুন্দর ফুল দেখতে পেয়ে সেখানে দৌড়ে গেল।

তূর্জান ফোনে কথা শেষ করে গাড়ির কাছে দাড়াল। তবে রোজাকে না দেখে মুখটা চুপসে গেল। রোজা আবার অন্য গাড়িতে করে বাড়ি ফিরবে বলে চলে গেলো না তো? এদিক ওদিক তাকাতে লাগল। রোজার দেখা না পেয়ে ভীষণ অদ্ভুত ফিল আসতে লাগল। মনে হচ্ছে তূর্জানের হাতপা কাপছে। হঠাৎ সামনে এগোতেই দেখল রোজা ঝোপের উচু ঢাল থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে ফুল পারার চেষ্টা করছে।

তার কিছু দূরত্বে কিছু বখাটে ছেলেপুলে দাড়িয়ে কানাঘুষা করছে। হয়তো রোজাকে নিয়েই কিছু বলছে। তূর্জানের হাতের রগ গুলো যেন ফুলে উঠছে রাগে। মন চাচ্ছে ওই ছেলেগুলোকে না রোজার মুখের মানচিত্র পাল্টাতে! তূর্জান বলল তো দুইমিনিট পর আসছে , আর এই মেয়ে দুইমিনিট ধৈর্য ধরতে পারল না। এর চাঞ্চ্যল্লতা আজ বের করবে!
ছেলেগুলো এগোনোর আগেই তূর্জান দৌড়ে সেখানে গিয়ে রোজাকে টেনে তূর্জানের দিকে ফেরালো। তবে রোজা বুঝে ওঠার আগেই রোজার গালে ঠা’স করে চ’ড় বসিয়ে দিল।

রোজার গালে চড় পরেছে বুঝতেই আরেকটা চড় দেওয়ার জন্য তূর্জান হাত ওঠালো। কিন্তু রোজার দিকে তাকিয়ে হাত নামিয়ে নিল।

রাগী দৃষ্টি ফেলে রোজার দিকে তাকিয়ে বলল,
“কি সমস্যা তোর, আমাকে শান্তিতে থাকতে দিবিনা বলেই তোর জন্ম তাই না?ইডিয়েট কোথাকার! “

রোজা তখনো চুপ করে গালে হাত দিয়ে ফ্যাল ফ্যাল চোখে তূর্জানের দিকে তাকিয়ে আছে। তূর্জানের ধমকে কিছুটা কেপে উঠল। মিনমিনিয়ে কান্না চেপে ভাঙা গলায় বলল,
“আ.. আমি ওই ফুল টা নিতে….

তার আগেই তূর্জান ধমকে বলল,“আর একটা কথা বললে ওই গালেও একটা পড়বে, ইডিয়েট । গাড়িতে গিয়ে বস। আর আজ থেকে তোর অধৈয্যগিরি শেষ! একদম শান্ত হয়ে থাকবি। না ছোটাছুটি করবি, না বেশি কথা বলবি!”

আর কিছু বলার আগেই রোজা চোখ মুছতে মুছতে গাড়িতে গিয়ে বসল। তূর্জান নিজের রাগ চেপে না রাখতে পেরে সামনে থাকা ভাঙা দেয়ালে পাঞ্চ মারল। দেয়াল পুরোনো থাকায় তূর্জানের হাত কিছুটা কেটে গিয়ে ফিনকি দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করল। তূর্জান সেদিকে খেয়াল করল না, সোজা গিয়ে গাড়িতে স্টার্ট দিল। গাড়ি চলছে আপন গতিতে।


গাড়ি এসে নেওয়াজ বাড়িতে থামল। তবে এতক্ষন দুজন একটা কথা ও বলেনি। তূর্জান রোজার দিকে তাকিয়ে ছিলো কিন্তু রোজা গাড়ির উইন্ডোতে মাথা ঠেকিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে ছিলো। তাই তূর্জান ও আর কথা বাড়ায় নি। গাড়ি থামতেই রোজা তূর্জানের আগে নেমে বাড়িতে ঢুকল।
রোজাকে গোমড়া মুখে আসতে দেখে তাজারুল নেওয়াজ বললেন,“ আমার আম্মুকে আজকেও নিশ্চই হিটলার বকেছে। তাই মুখটা এত ওমন করে রেখেছে? “

রোজা এতক্ষনে চুপ করে থাকলে ও এবার বড় আব্বুর আশকারা পেয়ে তূর্জানের নামে বিচার দেওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়াতেই ইভা কে দেখে থেমে গেল। ইভা তুবার কাজিন, তুবা অসুস্থ শুনে দেখতে এসেছে। ইভা রোজার সামনে এসে বলল,“রোজাস্মিতা না?”

“হুমম। তুমি কে?”

“আমাকে ভুলে গেলে, ভুলতেই পারো, সেই নয় বছর পর দেখা হলো আমাদের, কিন্তু আমি ভুলি নি, “
রোজা বিস্মিত কণ্ঠ বলল,“ তুমি ইভা আপু। “

“হুমম!”

“কেমন আছো আপু?”

“ভালো, তুমি?

“ভালো।”
রোজাকে আসতে দেখে বাড়ির সবাই এগিয়ে আসলো। সকালে মেয়েটার পায়ে চোট লেগেছিলো, তানিয়া নেওয়াজ এসে বলল, “দুজনের কথা শেষ হলে ফ্রেশ হয়ে নে রোজা, আর পায়ের এখন কি অবস্থা? “

“এখন ঠিক আছি বড় আম্মু।”

রেহেনা নেওয়াজ এসে বলল, “ ছোটাছুটি এখন একটু কম করবি। এতো বড় মেয়ের এতো ছোটাছুটি ভালো না।“

“ আম্মু বেশি কিছু হয়নি!”

“ বেশি কিছু হয়নি, যদি হতো? তাই সাবধানের কোনো মার নেই, এখন ছোটাছুটি কমিয়ে চলবি। আর যেন এমন না হয়।“

বলতেই গাড়ি পার্কিং করে এসে তূর্জান বাড়িতে ঢুকল। তূর্জানের বাড়িতে ঢোকা দেখে রোজা কোনো কথা না বলে উপরে চলে গেল। তূর্জানকে দেখে ইভা এগিয়ে এসে বলল,“ আরে ভাইয়া তোমার তো হাত কেটে রক্ত পড়ছে!”

তূর্জান এতক্ষন খেয়াল করলেও কিছু ভাবেনি, যে কাটা হাতে বাড়িতে গেলে কি হবে? তবে এবার হাতের দিকে তাকাল। কাটা হাতে ড্রাইভ করার কারণে আরো রক্ত বের হয়েছে। তানিয়া নেওয়াজ এসে তূর্জানের পাশে দাড়াল।চিন্তিত কণ্ঠে বলল,

“ দেখি, ইশ কতটা কেটে গেছে। নিশ্চয় আবার মারামারি করেছিস?“

তানিয়া নেওয়াজ কিছু বলার আগেই,তাজারুল নেওয়াজ ও এগিয়ে এসে বললেন,

“ ভুলে যেও না, তুমি নেওয়াজ বাড়ির ছেলে। আর নেওয়াজ বাড়ির লোকজন ঝামেলায় জড়ায় না।
আর একটা কথা রোজাকে কথায় কথায় ধমকানো বন্ধ করো, নয়তো আমি তোমার কাছে ওকে রাখবো না। মানে কি করবো তুমি ভালো করেই জানো, আর বুঝেও গেছো ।

বলেই তিনি রুমে চলে গেলেন। তানিয়া নেওয়াজ ও হয়তো কিছু বলতে চাইলেন কিন্তু যতই হোক মা, তাই কিছু বলল না। তানিয়া নেওয়াজ কে ফাস্টেড বক্স আনতে দেখে মিরান দোতলা থেকে নেমে আসতে লাগল। সবাই যেন একেবারে অস্থির হয়ে গেছে। এক মেয়ে অসুস্থ, আরেকটার কি হয়েছে কে জানে? আর তূর্জান সেও হাত কেটে বাড়ি ফিরল।

রোজা ফ্রেশ হয়ে নিচে আসার জন্য মাঝ সিড়িতে আসতেই ইভাকে তানিয়া নেওয়াজের থেকে বক্স নিয়ে নিতে দেখে রোজা ওখানেই থেমে গেলো।
ইভা তূর্জান কে ডেসিং করে দিতে গেলে তূর্জান দোতলায় তাকিয়ে বলল,“লাগবে না, ইট’স ওকে। “
রোজা রুমে ফিরে গেল। তূর্জান বলেই সোফা থেকে উঠতে গেলে তানিয়া নেওয়াজ ধমকে বললেন, “লাগবে না মানে, দেখেছিস কতটা কেটে গেছে তাও বলছিস লাগবে না। “

তূর্জান আর কিছু বলল না। যতই হোক সে মায়ের বাধ্য সন্তান। মিরানকে নেমে এসে ব্যান্ডেজ করে দিতে ইশারা করল। মিরান নেমে এসে ইভার থেকে সব নিয়ে যত্ন সহকারে তূর্জানের হাতে ড্রেসিং করে সফেদ রঙা কাপড়ে হাত ব্যান্ডেজ করে দিল।


রাত আটটা সবাই একসাথে ডিনার করতে বসেছে। রেহেনা নেওয়াজ রোজার প্লেটে বিরিয়ানী তুলে দিতে দিতে বলল,“ তোর কি হয়েছে? “

রোজা চুপ থেকে বলল, “ কিছু না!”

মোস্তফা নেওয়াজ বললেন, “ আম্মু, তোমার কি হয়েছে? আজকে এত চুপচাপ করে আছো কেন?”

“সবাই তো তাই চায়, আমি শান্ত হয়ে থাকি। চুপচাপ থাকি!”

“ তোমার আম্মু বকেছে? “

রোজা আর কোনো কথাই বললো না। রোজা আজ থেকে একদম চুপ করে থাকবে, না কারোর সাথে কথা বলবে, না কাউকে বিরক্ত করবে। সবাই বলে রোজা বেশি চঞ্চল, তবে ছোটো থেকে কেন সেটা বলেনি। ছোটো থেকে বললে তো আর রোজা আজ এমন হতো না। অন্যদের মতো চুপচাপই থাকতো।
আরাজ বলল, “ ও ফুপি, তুমি চুপচাপ থাকবে কেন? তুমি চুপচাপ থাকলে আমি খেলবো কার সাথে? তুমি কথা বলো আমি আর তোমাকে বেশি জ্বালাবো না। “

রাফিয়া নিজেই তো বোনের মতিগতি বুঝতে পারছে না। মানলো যে রেহেনা নেওয়াজ চুপচাপ থাকতে বলেছে, কিন্তু সে তো প্রতিদিনই বলে। কই এমন অভিমান নিয়ে তো থাকে না। তাহলে কি তূর্জান কিছু বলেছে? বলতে পারে। এরা তো কেউই স্বাভাবিক নয়, একেবারে অস্বাভাবিক যাকে বলে। মিরানও আজ চুপই রইলো, তুবার অসুস্থতায় এমনি সকলের মনমেজাজ ভালো নেই, তারপর রোজা সেও আজ কথা বলছে না। তাই তারও আজ কথা বলার ইচ্ছে নেই।সবাই একসাথে খাওয়া দাওয়া শেষ করে রুমে গেল।


তানিয়া নেওয়াজ আর রেহেনা নেওয়াজ আজকে তুবাদের রুমে থাকবে। মেয়েটার জ্বর কমছেই না। ডক্টর দেখানোর পরেও জ্বর একটুও কমেনি!
তাই রোজাকে বলা হলো রাহেলা নেওয়াজের রুমে থাকতে।
রোজা রাহেলা নেওয়াজের রুমে ড্রেসিন টেবিলের সামনে বসে উড়না রেখে মুখের দিকে তাকিয়ে আছে! ওই বিটকেল টা তার মুখে থাপ্পড় মেরেছে!
হঠাৎ আয়নায় চোখ পড়তেই দেখল তূর্জান দরজায় হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে। রোজা ঘুরে বিছানা থেকে উড়না নিয়ে নিল। তূর্জান এসে সোজা বিছানার মাঝখানে সিলিং এর দিকে তাকিয়ে শুয়ে পড়ল। রোজা হতবাক চোখে তাকিয়ে রইলো। তবে কথা বলল না।
তূর্জান বলল, ” কি বলবি? আমি এখানে কেন? “

রোজা যাই হয়ে যাক আজ কথা বলবেও না। সবাই চায় রোজা কম কথা বলুক তাই হবে! তূর্জানই বলল,

“নাটক শেষ হলে হাতে ব্যান্ডেজ করে দে, এখনো রক্ত পড়ছে।“
রোজা তড়িৎ গতিতে চোখ তুলে তূর্জানের হাতের দিকে তাকাল। দেখল হাতে ব্যান্ডেজ নেই।

তাই বলল,“কেন, আমি আপনার হাতে ব্যান্ডেজ করে দেব। একটু আগেই তো ইভা আপু ব্যান্ডেজ করে দিল।”

“তো”

“তো মানে,ব্যান্ডেজ আপনি খুলেছেন কেন? আর খুলেছেন যখন ব্যান্ডেজ করবেন কেন?”

“ তোর ভাইয়ের করা ব্যান্ডেজ ভালো হয়নি। একবার ফ্রেশ হতে গিয়েই খুলে গেছে। আর যার
জন্য হাত কেটেছে সে ব্যান্ডেজ করবে তাই খুলেছি। তোর সমস্যা!”

“আমার সমস্যা না মানে? আর আমার জন্য হাত কেটেছে মানে? আমি আবার কি করলাম? এখন বলবেন যে আমি যেন ঘরে বন্দি হয়ে থাকি? “

তূর্জানকে চুপ থাকতে দেখে রোজা বলল,

“পারব না ব্যান্ডেজ করে দিতে, তাছাড়া আপনি আমাকে তখন মেরেছেন। আমি আপনার সাথে কথা বলবো না।”

“সত্যি? “

“হুমম!”

“সত্যিই তো?”

হু,ওমন ঘুরিয়ে কথা বলছেন কেন? এখনি করে দিচ্ছি। বলেই রোজা ফাস্ট এইড বক্স নিয়ে বিছানায় তূর্জানের পাশে বসল। তূর্জান ও উঠে বসল। তারপর রোজা যত্ন সহকারে তূর্জানের হাতে ব্যান্ডেজ করে দিল। তূর্জান তখনো রোজার দিকে তাকিয়ে, রোজা চোখ ছোট করে তূর্জানের দিকেতাকিয়ে বলল, “কি দেখছেন?”

“তোকে। না মানে তোর ঘাড়ে স্পষ্ট এলো কি করে?
রোজা ঘাড়ের স্পট এ হাত রেখে বলল,“মানে? “

কিছু না। বলেই চলে যেতে গিয়ে আবার ফিরে এসে বলল,“ তোর পড়াশোনা নাকি আগের চেয়ে ড্যামেজ হয়ে গেছে? কাল থেকে বাসায় সন্ধ্যার পরে পড়তে বসবি!”

“ এত পড়া পড়া করেন কেন সবসময়?”

“তো কি বিয়ে করবি?”

“ আজব, আমি কখন বললাম বিয়ে করব!”

“তাহলে পড়তে বসবি প্রতিদিন।“.
বলেই তূর্জান রুম ত্যাগ করল। রোজা বিরবির করে বলল, হিটলার বেডা তোর কপালে এমন বউ জুটবে যে তুই তার জ্বালায় পড়ার কথা ভুলে যাবি। পাগল হয়ে যাবি! অসহ্য কথায় কথায় পড়তে বলে।

ইনশাআল্লাহ চলবে…

আমার পেজ লিংক Farzana Rahman Setu

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply