Golpo romantic golpo প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা

প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ২


প্রণয়ের_মায়াতৃষ্ণা ||২||

ফারজানারহমানসেতু

“তূর্জান ভাইয়া আমাদের বেবির নাম কি রাখবা? “
তূর্জানের মাথায় হাত! এই মেয়েকে সে বোঝাচ্ছে কি? আর সে বুজতে চায়ছে কি? এইজন্য লোকে বলে প্রেম বা বিয়ে সমবয়সীদের সাথে করো। নইলে জীবনের মানে কি তা তুমি উল্টো পাল্টা বুজবে। তূর্জান স্বাভাবিক ভাবেই বলল,

“ তোকে বললাম তো এখন এই বিষয়ে কথা বলবি না আর তুই কিন্তু আমাকে প্রমিস করেছিস।আর প্রমিস করা কথা মানতে হয়। “

“ তুমি আগে বেবির নাম বলো,আমি তাহলে আর বলব না। “

“ তোকে বললাম ভাইয়া বললে বেবি মামা ডাকবে। আমি মামা হিসাবে বলব না, পাপা হলে সেদিন নাম রাখব। “

“ পাপ্পা দিবো তোমায়, তাড়াতাড়ি বলো!”

বলেই মুখ উচিয়ে তূর্জানের কপালে ঠোঁট ছোঁয়াতে গেল। তূর্জান যদিও নির্বিকার তার নয় বছরের বউয়ের কান্ড দেখে।তবুও কিছু বলল না। রাহেলা নেওয়াজের কথা মেনেই সে রোজা কে স্পর্শ করে না। তবে তার বউ যেহেতু ছুঁয়ে দিচ্ছে তার কিছু করার নেই।
রোজাকে তূর্জান কিছু বলবে তার আগেই দেখল দরজার কাছে লাঠি হাতে রাহেলা নেওয়াজ দাড়িয়ে। তূর্জান রোজাকে আস্তে করে উরু থেকে নামিয়ে দিতে দিতে বলল, “ কি? এখনে কি চাই? “

রাহেলা নেওয়াজের সরল উত্তর, “ তোর বউকে চাই, দে! আর এত রাতে ওরে এখানে আনছিস কেন?আর এনে ওরে দিয়ে কি করাচ্ছিস?“

তূর্জান যেন আকাশ থেকে পড়ল। এই ছোট বউ আর তার দাদী মিলেই তার জীবনের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে। একটাকে সামলাতে না সামলাতে আরেকটাকে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। তার দৈনিক কাজ হয়েছে রাহেলা নেওয়াজের একই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, যেমন: রোজাকে কেন তোর কাছে এনেছিস? তোর মতলব কি? তুই কি রোজার দিকে খারাপ নজর দিচ্ছিস? ইত্যাদি। তা বলি নিজের বউয়ের দিকে তাকানোর মধ্যেও যে কুনজর থাকে তা তূর্জান রাহেলা নেওয়াজের কাছে শোনে।আগে শোনেনি!

তূর্জান মিটিমিটি হেসে বলল,
“ এখনো তো কিছুই করাতে পারলাম না।তার আগেই তুমি হাজির। একটু পরে আসতে তাহলে দেখতে পারতে তোমার নাতবৌকে দিয়ে কি করাচ্ছি?“

রাহেলা নেওয়াজ জানে তূর্জান কখনো তার কথা অমান্য করবে না। তাই সে নিশ্চিত থাকে, তবে তার এইবয়সে কাজ না থাকায় তিনি নাতিদের পিছনে লাগে। তিনি আর কথা বাড়ালেন না। তিনি জানে তিনি আর কিছু বললে ঠোঁটকাটা তূর্জান তার নিজের মানসম্মান খেয়ে দেবে। তাই তিনি রোজাকে নিয়ে নিজের রুমে হাটা দিলেন।

★★★

রাত গড়িয়ে ভোরের আলো ধরনিতে উপচে পড়েছে খানিক আগে। সকাল প্রায় সাতটা বেজে চব্বিশ। সবাই সকাল সকাল উঠে পড়েছে সমুদ্রসৈকত দেখার জন্য। সবাই নাস্তা করে নিয়েছে, তূর্জানকে ডাকতে বারণ করেছে রাহেলা নেওয়াজ। তূর্জানের হেডেক আছে যেহেতু রাতে দেরিতে ঘুমিয়েছে সেহেতু সে এখন ঘুমাচ্ছে। রাফিয়া আর রাফেজ একসঙ্গে ম্যাসিং ড্রেস পড়েছে।তা দেখে রোজা একছুটে তূর্জানের রুমে গেল, হাপিয়ে হাটুতে হাত রেখে ডাকল,

“ তূর্জান ভাইয়া, উঠো! উঠো! “
তূর্জানের কোনো হুস নেই। বেঘোরে ঘুমাচ্ছে, রাতে ঘুম না আসায় ঘুমের মেডিসিন নিয়েছে। নয়তো এই নয় বছরের ছোট্ট পুতুলটা সারারাত মাথায় নেচে বেড়ায়।রোজা বিছানায় উঠে বসে তূর্জানের চোখ হাত দিয়ে দুদিকে টেনে খোলার চেষ্টা করল। চোখে ব্যাথা অনুভব করে চোখ খুলতেই রোজা বলল,
“ তুমি ওঠো, তাড়াতাড়ি! “
“ কেন তাড়াতাড়ি উঠবো? “
“বেড়াতে যাবো।”

তূর্জান ফোন নিয়ে টাইম দেখল এখনো বেড়াতে যাওয়ার দেড়ঘন্টা সময় বাকি। তারা নয়টায় ঘুরতে যাবে। তূর্জান আড়মোরা ভেঙে চোখ বন্ধ করেই বলল,
“ এখনো অনেক দেরি। আর একটু ঘুমাবো, ততক্ষন তুই গ্ৰানির ( দাদি) কাছে যা।“
“ আপুরা ম্যাসিং ড্রেস পড়েছে, আমি ও পড়বো। “
“ আমি তোর সাথে ম্যাসিং ড্রেস আনিনি। “
“ তোমার কালো শার্ট নেই? “
“ হুম, আছে!”
“ওইটাই পরো দেখ আমি কালো জামা পড়েছি।”

তূর্জান ঘুমে চোখে স্পষ্ট দেখতে পারছে না। তবে যেটুকু দেখল, মনে একটা শব্দেরই উৎপত্তি হলো, মাশাআল্লাহ। রোজা তূর্জানের মাথায় হাত দিয়ে দেখল, জ্বর এসেছে কিনা। তার যখন জ্বর হয় তার মামনি তাকে কপালে হাত দিয়ে দেখে তাই সেও দেখল। নাহ জ্বর আসেনি। তা দেখে তূর্জানকে ঘুমোতে বলে আবার ছুটল।তূর্টান এতক্ষন চুপ করে তার প্রিয়তমার কথা শুনছিল আর তার করা কান্ডকারখানা দেখছিল। এই মেয়ে তো শুধু নিজের ইচ্ছে তে সব করে ফেলে, কিন্তু সে কি জানে তার কাজে বিপরীত মানুষটার কি হয়। না জানে না জানলে হয়তো এরকম খরতো না। এই মেয়ের সারাদিনের কাজ ছুটে বেড়ানো, আর তাকে অবাক করা।

__

সবাই জোড়া বেধে সমুদ্র সৈকতে ঘুরছে। কক্সবাজার গেলে লোকের কিছু মনে থাক বা না থাক, এটা মনে থাকে যে, সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি ঠিক কতটা সুন্দর। তবে এই সুন্দর বৈচিত্রের মধ্যে আরেক বৈচিত্র হলো, একসঙ্গে ঘোরা। রাফেজ রাফিয়া আর তুবাকে নিয়ে অন্য দিকে গেছে। নেওয়াজ পরিবারের বড় সদস্যরা একটা টং দোকানে বসে চা পান করছে আর খুচরো গল্প মেতেছে। তূর্জান রোজাকে নিয়ে সমুদ্রের জলরাশির ধারে গেছে। যদিও তূর্জান যেতে চায়নি, রোজার জোরাজোরিতে আর তাজারুল নেওয়াজের আদেশে যেতে হয়েছে। তূর্জান রোজার হাত শক্ত করে ধরে রেখেছে, যেন ছাড়া পেলেই উড়ে যাবে অতিথি পাখির মতো।
রোজা পানির ঢেউ আসতে দেখে ভয়ে তূর্জানের হাত ছেড়ে দিয়ে দৌড়ে পানির আগে যেতে লাগল।যেন জলরাশি তাকে নিতেই পাড়ে এসে তার পিছু ধরেছে। তূর্জান বুঝতে পেরে রোজার কাছে গিয়ে একটানে কোলে তুলে নিল। বিশাল জলরাশি তূর্জানের পায়ে ছোয়া লাগিয়ে নিজের সীমানায় গিয়ে আবার ফিরে গেলো সমুদ্রে।রোজা তূর্জানের বুকে মাথা রেখেই সমুদ্রবিলাস করে নিল।

রাহেলা নেওয়াজ রোজাকে ছুটতে দেখে তূর্জানের
কাছে এসেছে। তিনি রোজাকে নিয়ে ভীষণ সিরিয়াস। তূর্জানের দিকে তাকিয়ে কটমটিয়ে বলল, “ ওকে ছেড়ে দে। আর সমুদ্রবিলাস করতে হবে না। “

“ বউ আমার, আর তুমি সবসময় ছাড়!ছাড়! করো কেন? আমার জানামতে, দাদার থেকে কোনোদিন তোমাকে ছাড়ায় নি! তুমি কেন ছাড়াতে চাও?“

“ তুই ওরে ছাড়! ও ভয় পায়ছে। “

তূর্জান রোজার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখল সত্যি সত্যিই রোজা কিছুটা ভয় পেয়েছে। তবে রোজা ছোট হিসাবে অনেক সাহসী, অল্প কিছুতে ভয় পায় না। তূর্জান রোজাকে কোল থেকে নামিয়ে দিল। কোনো কথা বলল না। কিন্তু রাহেলা নেওয়াজের হয়তো তা ভালো লাগলো না। তিনি
তূর্জানকে চুপ থাকতে দেখে রাহেলা নেওয়াজ বলল,
“ কিরে টাডা পড়ছে তোর মুখে? ওমন চুপ করে গিলি কেন? “

“ টাডা তো মুখে না মনে পড়ছে এখন?যখনি বৌ কাছে আসে তখনি তুমি গোয়েন্দার মতো হাজির। তো বলি দাদা কি আমার পাহারা দেওয়ার জন্য তোমাকে রেখে গেছে। “

“ হ, তুই জানিস না। “
বলেই রাহেলা নেওয়াজ রোজাকে নিয়ে গেল সমুদ্রের পাড় থেকে। তূর্জান জোরে রাহেলা নেওয়াজের উদ্দেশ্য বলল,
“ দাদি আমার সম্পদ এভাবেই আগামী নয় বছর দেখে রেখ।আমি যেন নয় বছর পর এসে এভাবেই পাই। “

ইনশাআল্লাহ চলবে….

আপনাদের এত ভালুবাসা কোথায় রাখি বলুনতো। ভাবছি একটা সোকেচ কিনে সব জমিয়ে রাখি প্রিয়তারা।ইনশাআল্লাহ সাথে থাকলে হতাশ করবো না।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply