Golpo romantic golpo প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা

প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১৯


প্রণয়ের_মায়াতৃষ্ণা ||১৯||

ফারজানারহমানসেতু

সময় চলছে তার আপন গতিতে! রাত পেরিয়ে সকালের দেখা মিলেছে ধরনিতে। রাতে হঠাৎ তুবার জ্বর দেখা দিয়েছে! জ্বরের প্রকোপ বেশি দেখে তানিয়া নেওয়াজ আজ রোজাদের রুমেই ছিলো। ফজরের আজানের সময় তিনি উঠে রুমে গিয়ে সালাত আদায় করেছেন। তুবা সারারাত জ্বরের তাপে ঘুমোতে পারেনি, এখন একটু ঘুমিয়েছে। রোজাও তানিয়া নেওয়াজের সাথে জেগে ছিলো, ফজরের নামাজ পরে ঘুমিয়েছে। বাড়িতে আজ অন্যদিনের চেয়ে হৈ চৈ কম। রাফিয়া আর রেহেনা নেওয়াজ উঠে নামাজ পরে কিচেনের কাজে লেগে পড়েছে। তাজারুল নেওয়াজ আজ বাড়িতে আছেন। একটু পরে তুবাকে নিয়ে হসপিটালে যাবেন। তাই আজ মোস্তফা নেওয়াজ একাই অফিসে যাবেন। মিরান কাল রাতে বাড়ি ফেরেনি, বলেছে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে! হয়তো আজকে ফিরবে। তূর্জানও কাল তুবার ঘরে অনেক সময়, প্রায় বারোটা পর্যন্ত ছিলো, পরে তানিয়া নেওয়াজের বলায় নিজের রুমে এসেছে। তবে নেওয়াজ পরিবার একটু চিন্তায় পড়েছেন, হঠাৎ তুবার জ্বর হওয়ায়।

(সকাল আটটা )

সবাই উঠে পড়েছে। তাজারুল নেওয়াজ তুবাকে নিয়ে হসপিটালে রওনা দিয়েছে। মোস্তফা নেওয়াজ রোজাকে ডেকে উঠিয়ে কথা বলে তবেই অফিসে গেছেন। অতি আদরের মেয়ে, অফিসে হঠাৎ কাজ বাড়ায় তেমন সময় দিতে পারেন না। এ নিয়েও রোজার মনে অনেক অভিমান জমেছে, রাতে রেহেনা নেওয়াজের থেকে শুনেছেন। বাবা তাকে ভুলে গেছে, এখন অফিস সবার আগে, আমি কে?

নানা ধরনের অভিযোগ! তাইতো আজ সকালে রোজাকে ডেকে উঠিয়েছেন, তারপর একসাথে ব্রেকফাস্ট করে, গল্প করে তারপর অফিসে গেছেন। রোজাও ব্রেকফাস্ট করে আবার রুমে গেছে, বাড়িতে মিরান নেই! তুবাও নেই, হসপিটালে গেছে! রোজার একা থাকার অভ্যাস নেই, হয়তো তাই এমন অস্থির লাগছে, মনে হচ্ছে সে মরুভূমিতে দাড়িয়ে।কারোর সাথে বেশি কথা বলতেও ইচ্ছে করছে না।

মিরান একটু আগে বাড়ি ফিরেছে। রোজা নিজের রুমে গিয়ে আবার নিচে নেমে আসলো। নিচে আসতেই আরাজ দৌড়ে গিয়ে কোলে চড়ার বাহানা ধরল। রোজা আরাজ কে কোলে নিয়ে কিচেনে গেলো। রাফিয়া রোজার থেকে আরাজকে নিয়ে গেলো ব্রেকফাস্ট করাতে , আরাজ এইমাত্র ঘুম থেকে উঠেছে! রোজা কিচেনে গিয়ে বলল, “ আম্মু,”

রেহেনা নেওয়াজ রোজার দিকে তাকিয়ে দেখল চোখদুটো কেমন ঘোলাটে হয়ে আছে। হয়তো রাতে ঘুম হয়নি তাই। তিনি বললেন , “ হুম!বল, কিছু লাগবে? “

“ আম্মু, আমি আজকে ভার্সিটি যাবো না!”
রেহেনা নেওয়াজ কড়াইতে খুন্তি নাড়তে নাড়তে বলল, “ কেন? “
“ এমনিতেই!”
“ সামনে এক্সাম মনে আছে? আর এখন এইসব বাহানা, এমনিতে এই কয়মাসে কয়দিন ভার্সিটি গেছিস? “

“ ও আম্মু, আজকে না যাই! তুবা যাবে না, নূর ও আসবে না। আমি একা গিয়ে কি করবো? “

“ একা গিয়ে কিছুই করতে হবে না। ভার্সিটি গিয়ে অন্যদের মতো পড়াশোনা করবি!”

রোজা প্রথম কথাটা শুনে খুশি হলেও লাস্ট কথায় মুখটা চুপসে গেল। তখনি তানিয়া নেওয়াজ কিচেনে এলো, রোজার দিকে তাকিয়ে বলল, “ ও বড় আম্মু, আজকে আমি ভার্সিটি যাবো না।”

“ কেন? “

“ সবাই শুধু কেন বলে, আমার যেতে মন চাচ্ছে না। “

তানিয়া নেওয়াজ ও বললো ভার্সিটি যেতে। নূর যাবে না, তুবা অসুস্থ, রোজাও না গেলে অনেকটা পড়া মিস হয়ে যাবে। রোজা গেলে তাও যা পড়া তা তিনজনে জানতে পারবে। এসব বোঝানোর পরে রোজা একটু রাগ দেখিয়ে রুমে গেল। কেউ তার কষ্ট বুঝতে পারছে না। একসাথে বেড়ানো ফ্রেন্ডদের মধ্যে কেউ একজন না গেলে ভালো লাগে না। সেখানে রোজা একা যাবে!

প্রায় সাড়ে আটটা বেজে গেছে, এমন সময় তানিয়া নেওয়াজে সহ বাড়ির সকলের জ্বোরে বলা কথা শুনে তূর্জানকে বিছানা ছাড়তে হলো। উঠে দোতলা থেকে ড্রয়িং রুমে উকি দিলে দেখল। রোজা সিড়িতে বসে কাদছে। গায়ে পিঙ্ক টপস আর অফ হোয়াইট প্লাজু, সাথে ভার্সিটি যাওয়ার ব্যাগ। হয়তো ভার্সিটি যাওয়ার জন্য বেরিয়েছে। তূর্জান ঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখল সাড়ে আটটা বাজে।
তানিয়া নেওয়াজ রোজার পা উল্টে পাল্টে দেখছে। তূর্জানের আর বুঝতে বাকি রইলো না সিড়িতে কি ঘটেছে। তূর্জান রুমে গিয়ে টিশার্ট পরে বের হলো। এসে দেখে রোজা কেদেকেটে একাকার। তূর্জানকে আসতে দেখে তানিয়া নেওয়াজ বলল,

“ডক্টর কে কল দেও, মনে হচ্ছে পা মুচড়ে গেছে।”

তূর্জান পায়ে চাপ দিতেই রোজা তানিয়া নেওয়াজের হাত শক্ত করে চেপে ধরল রোজা। তূর্জান চুপ করে আছে দেখে তানিয়া নেওয়াজ ধমকের শূরে বললো,

“ এমন চুপ করে বসে রয়েছো কেন। মেয়েটা ভার্সিটি যাওয়ার জন্য একেবারে রেডি হয়ে নেমেছে। আর এমন কান্ড। “

তূর্জান মায়ের পানে চাইলো। তানিয়া নেওয়াজ বলল,” তোমার কাকামনি অফিসে গেছে, আর তোমার বাবা তুবাকে নিয়ে হসপিটালে, এখন ওকে ইমিডিয়েটলি ডক্টরের কাছে নিয়ে যাও ওকে।

“ আমার ভার্সিটি আছে, মিরানকে বলো নিয়ে যেতে।
“ মিরান এইমাত্র ফিরে ঘুমিয়েছে। “

তূর্জান কিছু বলার আগেই তানিয়া নেওয়াজ বলল,“ তুমি ওকে ডক্টরের কাছে নিয়ে যাও ইমিডিয়েটলি, আমি তোমার বাবাকে জানাচ্ছি। দরকার হয় তুমি ওকে ডক্টরের কাছে দিয়ে ভার্সিটি যাও, তোমার বাবা ওখানে আছে ওকে নিয়ে আসবে। “

রোজার দিকে তাকিয়ে বলল, “ আজকে ভার্সিটি যেতে হবে না। “

বলেই তিনি তাজারুল নেওয়াজকে ফোন করতে ঘরে গেলেন। তূর্জান এতক্ষন চুপ থাকলেও এবার বিষয় টা বুঝতে পারল। রোজা ভার্সিটি যাবে না জন্য এতক্ষন নাটক করছিল। রেহেনা নেওয়াজ রোজাকে বুঝিয়ে বলল, “ দেখে শুনে চলতে, এতবড়ো মেয়ে কথায় তো কম না। তাহলে চলাফেরাতে এমন হবে কেন? “

বলেই রেহেনা নেওয়াজ রাহেলা নেওয়াজের রুমে গেলেন। তিনি তাকে ডেকেছিলেন, তার রুমে যাওয়ার সময়ই দেখে রোজার পা মুচকে সিড়িতে বসে আছে । রোজা রাফিয়াকে বলল, “ ভাবি, একটু বরফ এনে দাও, আমি পায়ে লাগাবো!”

রাফিয়া যেতেই পুরো ড্রয়িং রুমে রোজা আর তূর্জান বাদে কেউ রইলো না। তবে তূর্জানকে চমকে দিয়ে রোজা উঠে দাড়াল। তূর্জানের দিকে তাকিয়ে বলল,
“ভার্সিটি যাওয়া ক্যানসেল। বাই,”

বলে দৌড় দিতে গেলে এবার সত্যিই সিড়িতে বেধে বসে পড়ল। তূর্জান এবারও আগের ন্যায় পকেটে হাত রেখে সোজা দাড়িয়ে থাকল। রোজার চোখে পানি দেখে ও চুপ করে রইল। রোজার পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নিলে রোজা বলল,

“ দুনিয়ার বুকে কারোর মায়া নেই। দেখছে একটা মেয়ে পড়ে গিয়ে পায়ে ব্যাথা পেয়েছে, তাও হেল্প না করে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে।হুহ, মায়াবিহীন পাষান লোক“

তূর্জান দাড়িয়ে পড়ল রোজার সামনে সিড়িতে। রোজার দিকে তাকিয়ে বলল,“নাটক শেষ হলে, গাড়িতে গিয়ে বস। নয়তো ফেলে চলে যাব ভার্সিটিতে। “

রোজাকে চুপ থাকতে দেখে তূর্জান রাগী স্বরে বলল,“ কথা কানে যাচ্ছে না,স্টুপিড। “

রোজা এবার তূর্জানের দিকে তাকিয়ে বলল,
“ তখন নাটক করলেও এবার সত্যি সত্যিই ব্যথা পেয়েছি।”

“তো”

“তো মানে, আমি উঠতে পারছিনা, আপনি বলছেন তো।”

“কি করতে পারি?“

“আপনি এমন কেন?”

“কেমন?”

“কেমন যেন!”

“তাতে তোর কি? “

“আমার কিছু না, তবে আপনার বউয়ের কপালে দুঃখ আছে। বেচারি কত স্বপ্ন নিয়ে আছে, আপনি সব ভেঙে দেবেন। “

“ কথায় কথায় বউ টানিস কেন? “

“আপনার জন্য আপনার বউয়ের কপালে দুঃখ আছে তাও বলা যাবে না।”

“না।”

“এখনই বউয়ের প্রতি এত টান।”

“ ছোটবেলা থেকেই!”

বলেই তূর্জান এবার চলে যেতে নিলে রোজা বলল,“আমি উঠতে পারছিনা, হেল্প করুন, প্লিজ।”

তূর্জান যেতে গিয়ে ও ফিরে আসল। এসে রোজার দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। রোজা হাত ধরে আস্তে উঠে দাড়াল। তূর্জান বসে রোজার পা ধরে দেখল, এবার পা সত্যি কিছুটা ফুলে গেছে। তাই তানিয়া নেওয়াজকে ডাকল। তিনি এসে দেখল রোজা এখনো সিড়িতে দাড়িয়ে আছে। তূর্জান মাকে বলল, রোজাকে সোফায় বসাতে। তানিয়া নেওয়াজ ছেলের কথা অনুযায়ী রোজাকে সোফায় বসালো। রাফিয়ার আনা বরফ এবার সত্যিই কাজে লেগে গেলো। রেহেনা নেওয়াজ রোজাকে ধমক দিল। রাহেলা নেওয়াজকে ড্রয়িং রুমে এনেছেন রেহেনা নেওয়াজ, তিনি এটা ওটা পায়ে লাগাতে বলছেন। মিরান উঠে এসে রোজার পা দেখে মিটমিট করে হাসছে, বলে না ভন্ডদের মাথায় সবসময় অন্য কিছু চলে। কে জানে কিসের জন্য হাসছে?

তূর্জান কিছুক্ষন পর রেডি হয়ে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে একেবারে বেরল। তূর্জানকে আসতে দেখে তানিয়া নেওয়াজ বলল,
“ক্লাস নয়টায়, যাওয়ার পথে আগে ওকে ডক্টর দেখিয়ে নিবে, আর সময় না হলে তোমার বাবা এখনো ডাক্তারের চেম্বারে আছে, ওখানে ওকে দিয়ে এসো।”
তূর্জান বেরিয়ে যেতে নিলে, তানিয়া নেওয়াজ বললেন, “ব্রেকফাস্ট করলে না “ না বলেই তূর্জান রোজাকে গাড়িতে আসতে বলল, তানিয়া নেওয়াজ ছেলের দিকে তাকিয়ে বলল,

“তোমার বোধবুদ্ধি সব লোপ পেয়েছে। দেখছো মেয়েটার পা মুচড়ে গেছে, আর তুমি বলছ হেটে গাড়িতে যেতে। “

তূর্জান প্রশ্নসূচক তাকাতেই মীরান বলল, “ ভাইয়া দেখছো না বনুর পা কতটা ফুলে গেছে, ওকে কোলে করে গাড়িতে নিয়ে যাও। “

বলতেই তানিয়া নেওয়াজের ফোন বেজে উঠল। তানিয়া নেওয়াজ ফোন রুমে ফেলে এসেছে। তাই তিনি রুমে চলে গেলেন। তূর্জান ফিরে এসে কোন কথা না বলে রোজাকে কোলে তুলে নিল। রোজা কিছুটা ভড়কে তূর্জানের বুকের কাছে শার্ট খামছে ধরল। চোখ খুলতেই সে তূর্জানের কোলে অনুভব করল নিজেকে। মিরান যেন হেসে গড়াগড়ি খাচ্ছে! তার ভাবনা চিন্তা মিলে গেছে, এইটা ভেবেই তো সে হাসছিলো এতক্ষন।আরাজ মিরানকে হাসতে দেখে বলল, “ ছোট দিদুভাই, তোমার ছেলে পাগল হয়ে গেছে!”

তূর্জান বাড়ি থেকে বেরিয়ে গড়ির দিকে অগ্ৰসর হতে হতে বলল,

“আমার থেকে তো মনে হয় বেশিই খাস। তবে খাওয়া অনুযায়ী তোর ওয়েট এত কম, কেউ কোলে নিলে বলবে নেওয়াজ পরিবার মেয়েদের খেতে দেয়না।“

“ আমি কারোর কোলে উঠতে ঠেকায় পড়ছি! যে সে আমাকে খাওয়ার কথা বলবে? “

“ ও তুই ঠেকায় পড়িস নি, আমি তোকে ইচ্ছে করে কোলে নিয়েছি! ভালো আমার ঠেকা নেই কাউকে কোলে নিয়ে নিজের শক্তির অপচয় করা!”
বলেই হাতের বাধন ঢিলা করল, রোজা পড়ার ভয়তে তূর্জানের বুকের কাছে শার্ট খামছে ধরতেই হাতের নখ লেগে বুকের কাছে আচড় লাগলো। তূর্জান সেদিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল, “ বাহ বউ! বাহ! প্রথম ছোঁয়াতেই স্টাম্প বসিয়ে দিলেন।”

রোজা তড়িঘড়ি করে নিজেকে নির্দোষ করতে বলল, “ এই দোষ কিন্তু আপনার, আমি কিছু করিনি, আপনি হাত ঢিলা না করে শক্ত করে আমাকে ধরে রাখলে তো আর এমনটা হতো না!”

তূর্জান আবারও বিরবির করল, “এর থেকেও শক্ত করে ধরে রাখতে চাই বউ! শুধু তুমিই বোঝো না। আর কোনোদিন ঢিলা করতে চাইবো না, শুধু একবার পুরো আমার হয়ে যাও!”

রোজা তূর্জানকে চুপ করে থাকতে দেখে বলল,
“ আচ্ছা,আপনি আমায় কি খাওয়ার খোটা দিলেন। না, না খাওয়ার কথা বললেন ঠিক বুঝলাম না। “

“তুই কিইবা বুঝিস।”

“সব বুঝি।”

“তাই?”

“ হুমমম”

“ শুধু কিছু বুঝাতে চাইলে, ওইটা বাদে!”

তূর্জান রোজাকে এনে গাড়ির ফ্রন্ট সিটে বসিয়ে দিল। তারপর নিজেও ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি স্টার্ট দিল। গাড়িতে বসে রোজা তার পায়ের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে বলল,

“আমার পায়েল!”

এতজোরে বলেছে যে তূর্জান গাড়ি থামিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করল,“কি সমস্যা, ইডিয়েট!”

“আমার পায়েল।”

“তোর পায়েল কি?”

“আমার পায়ের পায়েল নেই!”

“তো এভাবে চেচাচ্ছিস কেন? “

“আপনি জানেন এটা কতদামী আমার কাছে।”

বলেই মুখ গোমড়া করে বসে রইলো। তূর্জান গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে বলল,“একটা পায়েলের জন্য মানুষ কান্না করে। তা তোকে না দেখলে বুঝতাম না। তুই ও স্টুপিড তোর পায়েল ও স্টুপিড।”

ইনশাআল্লাহ চলবে…

আজকের পর্বের অনুভূতি বলে যাও সবাই!

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply