প্রণয়ের_মায়াতৃষ্ণা ||১৭||
ফারজানারহমানসেতু
ভেতরটা অদ্ভুত নীরব হয়ে আছে।ইঞ্জিনের মৃদু শব্দ ছাড়া আর কিছু শোনা যাচ্ছে না। রোজা জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে। রাস্তার পাশ দিয়ে গাছগুলো দ্রুত পিছিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তার মাথার ভেতরের ভাবনাগুলো যেন কোথাও গিয়ে থামছে না।
তূর্জান মাঝে মাঝে রিয়ার ভিউ মিররে তাকাচ্ছে।
রোজা সেটা খেয়াল করছে না, তূর্জান
এমন ভাব করছে যেন আসলে সে তাকাচ্ছে না।
তুবা মেয়েটা বরাবরই নিশ্চুপ দর্শক। তবে তুবা রোজার বকবকানি শুনতেও অভ্যস্ত। তুবা হঠাৎ রোজকে উদ্দেশ্য করে বলল,“এই নীরবতা কি খুব দরকার?”
রোজা ঘুরে তুবার দিকে তাকিয়ে বলল,“মানে?”
তুবা হেসে বলল,“ কিছু না,গাড়িতে বসলে সবাইতো আর আজকের মতো চুপ করে থাকে না। আজ কি কোনো নিশ্চুপতার প্র্যাক্টিস চলছে?”
তূর্জান শান্ত গলায় বলল,“ কেউ চাইলে কথা বলতেই পারে!”
রোজা মুখ বাঁকাল। হুহ! আজ কথা বলবে না। তখন কথা বললো উত্তর দিল এককথায়! রোজার ওসব এক কথায় উত্তর পোষায় না। তার ভাই কি সুন্দর এক কথা বললে আরেক কথা বলে। আর এরা দুইভাই বোন মুখে গ্লু এটে বসে থাকে!
রোজা মুখ ঘুরিয়ে বলল,“আপনি তো এমনভাবে কথা বললেন যেন কেউ কথা বললে ফাইন দিতে হবে।”
তুবা হাসি চেপে রাখল। তূর্জান কিছু বলল না। শুধু একবার রোজার মুখের দিকে তাকাল।
ওই তাকানোটা খুব বেশি সময়ের ছিল না, কিন্তু তাতে এমন একটা চাপা তীব্রতা ছিল যে রোজা নিজেই চোখ সরিয়ে নিল।
কিছুক্ষণ পরে তুবা আবার বলল,“আচ্ছা ভাইয়া…”
“হুম?”
“আজকে তুমি ভার্সিটি থেকে কোথায় গিয়েছিলে?”
“ কাজ ছিল কাছেই।”
রোজা তৎক্ষণাৎ বলল,“ মিথ্যা।”
তূর্জান ভ্রু তুলে বলল,“কেন?”
“কারণ আপনি একজন প্রফেসর, আর ভার্সিটি টাইম প্রফেসরদের অন্য কাজ থাকে না। আমাদের অন্য প্রফেসররা তো ভার্সিটি টাইম কোথাও যায় না? “
তূর্জান এবার মনে মনে খুশিই হলো। যাক এর থেকে একটু একটু বউ বউ ফিল আসছে ! বউয়ের মতো সব কাজের সিডিউল এ হিসাবে রাখছে। সাথে সব শাসন ফ্রি! তূর্জানকে আবার চুপ করতে দেখে রোজা বেজায় বিরক্ত। মনে মনে বলল, “ কি মানুষ এ, কে জানে? একমিনিট কথা বললে, আর আটান্ন মিনিট চুপ।
গাড়ির ভেতরের পরিবেশ একটু হালকা হয়ে গেল।
কিন্তু তূর্জানের মাথায় অন্য কিছু চলছে।
আজকের ঘটনাটা সে সহজভাবে নিচ্ছে না। জুস পাঠানো ছেলেটা হয়তো সত্যিই ভুল করেছিল। কিন্তু তূর্জানের মনে একটা জিনিস পরিষ্কার
রোজাকে অন্য কেউ যদি এভাবে সহজে অ্যাপ্রোচ করার চেষ্টা করে, নাহ পারবে না। কারণ তার বউ তাকে না চিনেও তার প্রতি যথেষ্ট লয়াল।
গাড়ি কিছুক্ষণ পরে নেওয়াজ বাড়ির সামনে এসে থামল।
তূর্জান গাড়ি থামিয়ে বলল,“নেমে যা।”
রোজা দরজা খুলে নামতে নামতে বলল, “ধন্যবাদ।”
তূর্জান রোজার দিকে ভ্রু কুচকে তাকিয়ে বলল,“কিসের জন্য ?”
রোজা চলে যেতে যেতে বলল,“ড্রাইভার সার্ভিসের।”
তূর্জান মাথা নেড়ে বলল,“ঝামেলার মেয়ে একটা।”
রোজা কথাটা শুনতেই পিছু ফিরে তূর্জানকে জিভ দেখিয়ে ভেতরে চলে গেল।
বাড়ির ভেতর ড্রইংরুমে ঢুকতেই দেখা গেল মিরানের সাথে। সে সোফায় বসে ফোনে কথা বলছে।
রোজাদের দেখে ফোন রেখে দিয়ে বলল,“এই তো এলি? এত দেরি কেন আজকে ?”
তুবা হেসে বলল,“আজকে একটু ঘটনা ঘটেছে।”
মিরান চোখ বড় করল।“কি ঘটনা?”
রোজা দ্রুত বলল,“কিছু না।”
তুবা মুখ টিপে হাসছে।
মিরান সন্দেহের চোখে তাকাল তুবার দিকে, বলল,“তুবা, তুই বল।”
তুবা নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল,“আজকে এক ছেলে এসে—”
রোজা তুবার মুখ চেপে ধরল।
“চুপ!”
মিরান এবার পুরো আগ্রহী হয়ে তুবাকে বলল,“বল বল! ”
তুবা মুখ থেকে রোজার হাত সরিয়ে বলল,“এক ছেলে এসে রোজাকে ভাবি বলেছে।”
মিরান তড়িৎ বেগে বলল,“কিহহ ?”
বলেই হেসে ফেলল। যাক রোজাকে এবার জ্বালানো যাবে! এই মেয়ে সবসময় তাকে পস্তায়, আজ থেকে সেও রোজাকে পস্তাবে! মিরান উৎসুক জনতার ন্যায় বলল,“তারপর?”
“তারপর তূর্জান ভাইয়া এসে জুস ডাস্টবিনে ফেলে দিল।”
ততক্ষনে তূর্জান বাড়িতে প্রবেশ করেছে। মিরান এবার তূর্জানের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হেসে বলল,“সত্যিই ভাইয়া ?”
তূর্জান খুব স্বাভাবিকভাবে বলল,“অচেনা জিনিস খাওয়া উচিত না।”
বলেই নিজের রুমে পা বাড়াল। মিরান মনে মনে আওড়াল, “হয়, তুমি যে কি কারণে ফেলেছো তা আমি ভালো করেই জানি! বউকে কারোর জিনিস খেতে দেবে না, আর এখন এসে বলছো, অচেনা কারোর জিনিস খাওয়া উচিত না, আর আমি এইটা বিশ্বাস করে নেব! হুহ এতো পাগল মিরান না!”
তবে রোজার সামনে কিছু বলল না, শুধু মাথা নাড়ল।“ভালো করেছ, সত্যিই অচেনা কারোর জিনিস খাওয়া উচিত না।”
রোজা গজগজ করল,“সবাই মিলে আমাকে বাচ্চা বানিয়ে ফেলেছে, আমি কি ছোট যে অচেনা লোক এসে আমাকে কিছু খাইয়ে পাচার করবে?”
তূর্জান তখন সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে বলল,
“কারণ তুই এখনও বাচ্চাই।”
রোজা চিৎকার করল,“আমি বাচ্চা না!”
উপরে উঠে যাওয়ার সময় তূর্জানের মুখে হালকা হাসি ফুটে উঠল। মিরান রোজার দিকে তাকিয়ে বলল, “ বনু একটা সত্যি কথা বলবো? “
“হুমম বলো!”
“ রাগ করবি না তো? “
“ সত্যি কথা বলবে তো রাগ করবো কেন? “
মিরান দুষ্ট হেসে বলল, “ তোকে কোনো কিডন্যাপার পাচার করবে না। কারণ তারা বুদ্ধিমান লোকদের পাচার করে!”
“ভাইয়া!”
“ কি? এত জোরে চিৎকার করিস কেন? ঘরের ইদুর আর তেলাপোকাগুলো ভয় পাবে? “
“ ভাইয়া তুমি আমাকে ইনডাইরেক্টলি কম বুদ্ধিমান বললে? “
“ ইনডাইরেক্টলি হয়ে গেছে! আহারে সরি বোন! আমি তোকে ইনডাইরেক্টলি কম বুদ্ধিমান বলতে পারি বল! তুই আমার একমাত্র এবং একমাত্র বোন তোকে আমি ডিরেক্টলি কম বুদ্ধিমান বলছি!”
রেহেনা নেওয়াজ কিচেনে বিকেলের নাস্তা বানাচ্ছিলেন। তিনি মিরানকে উদ্দেশ্য করে বলল, “ আসতে না আসতেই ভন্ডামী শুরু! তুই পারিস ও বটে, মেয়ে দুটো সারাদিন পর বাসায় এসেছে, আর তুই বকবক শুরু করেছিস!”
মিরান কি করলো? সে তো কিছুই করেনি, তাহলে তাকে কেন দোষ দেওয়া হচ্ছে! মিরান বলল, “ আমাদের পরিবার আজব পাবলিক মাইরি, কিছু হইলেও আমার দোষ! না হইলেও আমার দোষ! “
একটু থেমে আবার নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল, “তা তোমার মেয়ে দুটো কয়বছর পর আসলো মা জননী! এমন ভাবে বলছো যেন কয়েক ঘন্টা না, কয়েক যুগ পরে বাড়ি ফিরেছে!”
তানিয়া নেওয়াজ মিরানকে উদ্দেশ্য করে বলল, “ আব্বাজান এখানেই থেমে যান! আপনার মায়ের হাতে খুন্তি আছে!”
বাড়ির সবাই অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। তুবাও এই সুযোগে বলল, “ ছোট আম্মু, ভাইয়া তোমার হাতের মার বেশ মিস করছে! দুটো দিয়ে দাও তো! জানো তো ফকিরের ইচ্ছা পূরণ করতে হয়!”
মিরান তুবার দিকে তেড়ে আসতে গেলে তুবা দৌড়ে সিড়িতে গেল। গিয়ে বলল, “ ছোট আম্মু আমার হয়ে ফকিরকে দুটো বেশি দিয়,জানোইতো আমি আবার দয়ার মানুষ!”
আরাজ রাহেলা নেওয়াজের কাছে ছিলো। দৌড়ে এসে তানিয়া নেওয়াজ কে বলল, “ বড়দাদু, বড়দাদু আমি ফকির দেখবো!”
রোজাও এই সুযোগে আরাজকে কোলে নিয়ে বলল, “ আরাজ, ফকির দেখবি? “
“ হুম ফুপি, ফকির দেখবো!”
মিরানকে দেখিয়ে বলল,” তোর কাকু ফকির, মার খাওয়া ফকির!”
মিরান চেচিয়ে বলল, “ বনু!”
“ কি? তোমার জোরে বলা কথায় দেয়াল ফেটে যাবে!”
বলেই আরাজকে কোলে নিয়েই সিড়িতে গেল। তূর্জান ফ্রেশ হয়ে ততক্ষনে নিচে চলে এসেছে! রোজার কাছে এসে আরাজকে নিতে চেয়ে বলল, “ ওকে আমার কাছে দিয়ে যা!”
“কেন? আমি আগে নিয়েছি। আপনার কাছে কেন দিবো?”
“ থাপ্পড়ে গালের মানচিত্র পাল্টে ফেলব! এসেছিস আধাঘন্টা হলো, না ফ্রেশ হয়েছিস, না নিজের রুমে গেছিস! আবার এখন মুখে মুখে কথা বলছিস!”
বলেই আরাজকে রোজার থেকে নিয়ে নিল। রোজা ভেঙচি কেটে বলল, “ এই যে মিস্টার নেওয়াজ, কথা মুখে মুখেই বলে!”
বলেই নিজের রুমে পা বাড়াল। রাতে খাবার খেয়ে তুবা আর রোজা ঠিক করল আজ তারা ছাদে যাবে। অনেক দিন হলো রাতে ছাদে যাওয়া হয় না। হলোও তাই! দুজনে ছাদে যেতেই দেখা মিলল মিরানের! ফোনে কারোর সাথে ইমার্জেন্সি কথা বলছে, রোজাদের দেখে তড়িঘড়ি করে ফোন রেখে দিল। রোজা দৌড়ে গিয়ে মিরানের থেকে ফোন নিতে চেয়ে বলল, “ তুমি প্রেম করছো? আর আমরা জানি না! দেখি দেখি ভাবির ছবি দেখাও!”
“ তোর ভাবি কে? তওবা তওবা বনু আমার কপালে এতো দূভিক্ষ আসে নাই যে ছেলেদের সাথে প্রেম করবো!”
আর কিছু বলতে গিয়ে তূর্জানকে দেখে থেমে গেল। তূর্জান কে দেখে বলল, “ ভাইয়া তুমি এখানে? “
“ হ্যাঁ, কেন ছাদে আসা বারণ? “
রোজা বলল, “ এই আপনি আমার ভাইয়ার সাথে এমনভাবে কথা বললেন কেন? “
তূর্জান তুবার দিকে তাকিয়ে বলল,” তুই সারাদিন রাত আমার সাথে উদ্ভট আচরণ করিস, তুবা তো কিছু বলে না। “
রাতের বাতাস ঠান্ডা।, আর কেউ কোনো কথা বলল না। সবাই নিশ্চুপ হয়ে রাতের জোৎস্না উপভোগ করল।তূর্জানের ফোনে একটা মেসেজ এল। সমুদ্র নামে সেভ করা নাম্বারটা।
“ভাইয়া, আজকের জন্য সরি।”
তূর্জান রিপ্লাই করল না। কিছুক্ষণ পরে আবার মেসেজ এলো,
“ধন্যবাদ। আজকে আপনার জন্যই সাহস পেয়েছি।”
তূর্জান এবার ছোট্ট রিপ্লাই দিল।“নূরকে কষ্ট দিও না। জানো আমি আমার মাকে দেখেছি, মেয়েরা একটু পেলে অনেকটা দিতে পারে!”
ওপাশ থেকে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর এল।“কখনো না।”
তূর্জান ফোনটা টেবিলে রেখে দিল।
তার মাথায় এখন অন্য চিন্তা।
রোজা।
মেয়েটা তার জীবনে ঝড়ের মতো এসেছে।
ঝামেলা করে।
তর্ক করে।
কিন্তু অদ্ভুতভাবে… তার জীবনের শান্তিটাও যেন ওর সাথেই জড়িয়ে গেছে।
তূর্জান খুব আস্তে বলল,
“ঝামেলার মেয়ে…”
তারপর হালকা হাসল।
★★
সকালের হালকা রোদটা ডাইনিং রুমের বড় জানালা দিয়ে ঢুকছে। টেবিলে নাস্তা সাজানো পরোটা, ডিম, ফল আর চা। কিছুদিন তাজারুল নেওয়াজ আর মোস্তফা নেওয়াজ অফিসের জরুরি কাজের জন্য অনেক সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান, এবং আসেন রাত করে! রাতে সবার সাথে হালকা পাতলা কথাবার্তা বলেন। তাছাড়া এই একসপ্তাহে বাড়িতে সময় দিতে পারেন না।
রোজা চেয়ারে বসে আছে কিন্তু খাচ্ছে না। চামচ দিয়ে শুধু প্লেটে টোকা দিচ্ছে।
তূর্জান সেটা খেয়াল করে বলল,“খাচ্ছিস না কেন?”
রোজা গম্ভীর মুখে বলল,“ভাবছি।”
“কি ভাবছিস?”
“আজকে যদি আবার কেউ জুস পাঠায় তাহলে কি করবেন?”
তুবা সাথে সাথে হেসে ফেলল। তূর্জান শান্তভাবে চা খেতে খেতে বলল, “ডাস্টবিনে ফেলবো।”
রোজা ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,“কৃপণ লোক! নিজে জীবনে একটা কিছু কিনে দিল না, আবার অন্যের জিনিস ও নিতে দেবে না, ওটা আমাদের দুলাভাই হতে চলছে।”
“ তো!”
“ কিছুনা!”
মিরান মাথা নেড়ে বলল, “ বনু তুই আর ভাইয়া বরং বিতর্ক প্রতিযোগিতায় নাম দে।
”
রোজা ভ্রু তুলল। “মানে!”
“ মানে কথা বলার প্রতিযোগিতায় নাম দিবি দুজনে !”
“দিবো।”
“ তুই প্রথম হবি, ভাইয়া পারবে না তোর সাথে।”
“জানি।”
তূর্জান খেতে খেতেই বলল,“ জানবিই তো,কারণ তোর মুখ থামবে না।”
ডাইনিং এ আবার হাসি ছড়িয়ে পড়ল। রাহেলা নেওয়াজ বলল, “ তোরা আমার নাতিনটাকে কি পেয়েছিস বলতো? একটু বেশি কথা বললে কি হয়? “
রোজা ভ্রু উচিয়ে বলল, “ ও গ্ৰানি আমার পক্ষে কথা বললে নাকি বিপক্ষে? “
ইনশাআল্লাহ চলবে..
Share On:
TAGS: প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা, ফারজানা রহমান সেতু
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১২
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১৪
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৮
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৫
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৩
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ১৩
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৪
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৭
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৯
-
প্রণয়ের মায়াতৃষ্ণা পর্ব ৬