পিদিম_জ্বলারাতে. ৩২ ✍️#রেহানা_পুতুল
তার একদিন পরের ভোরে সবার ঘুম ভাঙে কারো বিভীষিকাময় আর্তচিৎকারে! রাবেয়া তখন নাস্তা বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। সে হাতের কাজ ফেলে উড়ে বের হলো নিজেদের নতুন রান্নাঘর থেকে। ঘরে গিয়ে প্রথমে গেল তৌসিফের রুমে।
ছেলের পিঠের মধ্যে জোরে ধাক্কা দিয়ে উদভ্রান্তের মতো বলল,
“তোর চাচী চিল্লানি দিছে ক্যান, ওই ঘরে যা দৌড়ায়া।”
তৌসিফের সারা শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে উঠল ভূমিকম্পের ন্যায়। সে খালি গায়ে,খালি পায়ে মায়ের আগেই দৌড়ে চলে এলো তাদের পুরোনো ঘরে। রাবেয়া একইভাবে তানভির ও জাহেদকে বলল আগের ঘরে যেতে। তানভিরও ভাইয়ের মতো দৌড়ে চলে এলো। পিছন দিয়ে রাবেয়া বিক্ষিপ্ত পায়ে চলে গেল। জাহেদ আল্লাহকে স্মরণ করতে করতে গিয়ে পা রাখল ঘরের ভিতর। তাকে জড়িয়ে মা মর্জিনা দুনিয়া কাঁপিয়ে রোদন শুরু করল।
পুরো এক ঘরের মানুষ সাথীর রুমে। সবাই ছোট বাচ্চার মতো বুক চাপড়াচ্ছে করুণ আর্তনাদে। সীমা অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছে। খুকী ও মনি ঝুলন্ত সাথির দুই পা উপরে তুলে ধরেছে। তৌসিফ দাঁড়িয়ে গলার ফাঁস খোলার চেষ্টা করছে। কান্নাজড়িত গলায় তানভিরকে নির্দেশ দিয়ে বলল,
” গাড়ি আন। হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। দৌড়ে যা বাজারে।”
“ভাই,আগে এখানের ডাক্তার নিয়ে আসি। আসল ঘটনা বলা যাবে না।”
কাঁদতে কাঁদতে বলল তানভির।
তানভির খালি গায়েই দৌড়ে চলে গেল স্থানীয় ডাক্তার আনতে। এই ভিতরে সাথির গলার রশিটা খুলে নিল তৌসিফ ও তার বাবা মিলে। তারা খাটের উপর সাথীকে সোজাসুজি করে শুইয়ে দিল। তানভির ডাক্তার নিয়ে এল। তিনি সাথীর শিরা পরিক্ষা করে জানালেন,সাথীর মাঝে আর প্রাণ নেই। সে এখন মৃত। সে নির্বাক স্বরে জানতে চাইল,হঠাৎ করে সাথি কীভাবে মারা গেল? সবাই তার কাছে সত্য গোপন করল। বিশ্বাসযোগ্য কিছু বানিয়ে বলল। ডাক্তার চলে গেল সন্দেহাতীত চোখে।
তৌসিফ সাথির প্রাণহীন মাথাটা নিজের বুকে চেপে ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। সবার ছুটাছুটি শুরু হলো।
সাথির নানার বাড়ি,খালাদের বাড়ি খবর দেওয়া হলো। সাথীর কলেজেও খবর চলে গেল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তৌসিফদের বাড়ি লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠল। সাথির মায়ের জ্ঞান ফিরে এলেও আবার একটু পরেই মূর্ছা যাচ্ছে সে। তাকে ঘিরে আছে তার মা বোনেরা।
তানভির নিজে গিয়ে পাঞ্জাবী পরে নিল। তৌসিফকেও একটি পাঞ্জাবি এনে দিল পরার জন্য। তৌসিফ সাথির পাশে বসা থেকেই পরে নিল।
আকস্মিক প্রাণচঞ্চল সাথির তাজা প্রাণটা চলে যাওয়া, কেউই মেনে নিতে পারছে না। শোককে বুকে পাথর বেঁধে তৌসিফ, তানভির, বাড়ির অনান্যরা সাথির দাফনের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। থানা পুলিশে গেল না তারা কেউই। সিমার কোনো অভিযোগ নেই কারো উপরে। যতটুকু আছে তৌসিফের উপরে। তাও ভ্যালিড রিজন নেই বলে সে সবার সামনে প্রসঙ্গ তুলল না।
ঘরে বাইরে লোকজন ভীড় করার আগে জাহেদ সবাইকে কড়া গলায় বারণ করে বলল,
“সাথী স্ট্রোক করে মারা গিয়েছে এটাই বলবে সবাইকে। নয়তো মসজিদের মৌলভীরা কবরস্থানে সাথির দাফন করতে বাধ সাধবে। আউট সাইডে মাটি দিতে বলবে তাকে। এবং কী বাইরের কেউ গিয়ে পুলিশও নিয়ে আসবে। পুলিশ সাথিকে নিয়ে কাটাছেঁড়া করবে। এসবের কোনো প্রয়োজন মনে করি না।”
সবাই মৌন থেকে জাহেদের কথায় সম্মতি জ্ঞাপন করল। মর্জিনা বলল থানায় গিয়ে জাবেদকে সাথির খবর দেওয়ার জন্য। মনি কান্নাজড়িত স্বরে একবাক্যে মানা করে দিল,
“নাহ। একদম দরকার নাই। এই বাড়ির ভালো খারাপ কোন খবরই জানার অধিকার নাই তারা।”
তৌসিফ পিতার সাথে আলাপ করে নবনীকে ফোন দিল বাধ্য হয়ে। এত বড় বিষয় না জানিয়ে পার পাওয়া যাবে না। সে এই বাড়ির বউ। সুতরাং তাকে মিথ্যে বলা যাবে না। সত্যিটা শুনেই যাবে। নবনী বিস্মিত হলো ও কেঁদে ফেলল।
বলল,
“আমি আব্বুকে নিয়ে আসতেছি। জ্যাম না হলে ঠিক পৌঁছে যাব।”
“হয়তো পারবে। আসর নামাজের পর মাটি হবে। সাথির এক খালা ঢাকায় থাকে। তিনি আসার আসে মাটি হবে না।”
বাষ্ফরূদ্ধ গলায় বলল তৌসিফ।
বিদেশে সাথীর বাবাকে জানানো হলো। সে ভিডিওকলে উম্মাদের মতো আচরণ করছে। তাকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে তার সহকর্মীরা। সে পারেনা নিজের প্রাণটা বিসর্জন দিয়ে হলেও মেয়ের প্রাণ ফিরিয়ে দিতে। সে অভিযোগের পাহাড় চাপিয়ে দিল তৌসিফের উপরে। হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলল,
“ওই হারামীই দায়ী আমার সাথীর মৃত্যুর জন্য। ডাক্তার মেয়ে বিয়ে করার জন্য লোভে পড়ে গেছে। আমি তারে কোনদিন ক্ষমা করব না। কোনদিনও না।”
সাথি কোথাও কিছু লিখে গিয়েছে কি-না, সেই উদ্দেশ্যে টেবিলের উপরে থাকা সাথির খাতাগুলো দেখল তানভীর। সামনে থাকা খাতাটার পাতা উল্টাতে গিয়ে পেয়েও গেল একটি চিঠি। কিন্তু সেটা আলাদা করে লেখা নয়। খাতার মাঝখানের সাদা পাতায় লিখা রয়েছে চিঠিটি। তানভির সবার অলক্ষ্যে পাতা দুটো ছিঁড়ে নিল। লুকিয়ে ভাঁজ করে নিজের পাঞ্জাবির পকেটে নিয়ে নিল। তৌসিফকে ইশারা দিয়ে নিজেদের ঘরে ঢেকে নিল। তানভীরের রুমে দুই ভাই ঢুকল। দরজা বন্ধ করে দিল। তৌসিফের হাতে দিল চিঠিটি। তৌসিফ কান্নার জন্য পড়তে পারল না। চিঠি ভিজে যাচ্ছে।
আধভাঙ্গা গলায় বলল,
“পারছি না পড়তে রে ভাই। তুইই পড়।”
তানভির অশ্রুভেজা গলায় পড়তে লাগল,
“প্রিয় তৌসিফ ভাই, আমি জানি আপনি এখন মন দিয়ে আমার চিঠিখানা পড়ছেন। এবং এও জানি আমার,মা,বাবা থেকে শুরু করে সারা দুনিয়ায় মানুষ আমারেই ভুল বুঝব। আমারেই দোষী কইব। এটা আমি মানি। কিন্তু আমার মন? আবেগ? অনুভূতি? এসবের কাছে চরমভাবে হেরে গেল আমার বিবেক ও এক তরফা ভালোবাসা! আপনারে জীবন থেকে হারাইয়া কেনো আমি স্বেচ্ছায় এই প্রদীপ জ্বলা রাইতে মৃত্যুরে বরন কইরা নিলাম,তা শুনেন আমার তৌসিফ ভাই।
মাঝেমধ্যেই আমার কানে আসতো,
‘তৌসিফ আর সাথীরে ভালোই মানাইব। দুইটাই ঘরের ছেলেমেয়ে। একটা আরেকটারে বুইঝা চলব। ঘরের ভিতর আত্মীয়ের সম্পর্ক হইলে এতে আমাগো সবার লাইগাই ভালো।’
এই কথাগুলো দাদা,দাদী,ফুফু,আমার আম্মা বলত। মাঝে মাঝে বড় মাও তাদের কথায় মত দিতো। এইভাবে আমার কচিমনে আপনার স্থান বদলে যায়। শক্তপোক্তভাবে আসন গেঁড়ে নেয় মনের মানুষ হিসেবে। নয়তো প্রশ্নই আসে না আপনাকে নিয়ে রঙিন স্বপ্ন দেখার। আপনি বকা দিলেও আমার ভিতরে শিহরণ জাগাতো। মনে হইতো জামাই বকা দিতাছে। আপনি সবসময় বাড়িতে আসলে পড়াশোনা থেকে শুরু করে অনেক খোঁজ খবর নিতেন আমার। তখন আমার বিশ্বাস আরো শক্তিশালী হয়ে উঠে। বুঝলাম আমার পড়াশোনার ক্ষতি হবে বলে আপনি আমারে কিছু বুঝতে দিতেন না। এই বিষয়টা আমি আমার কিছু ঘনিষ্ঠ স্কুল ও কলেজ বান্ধবীদেরকেও বলছি।
কিন্তু হৃদয়টা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল সেদিন, যেদিন দেখলাম আপনার চিরসঙ্গী হতে যাচ্ছে শহরের এক সুন্দরী ডাক্তার মেয়ে। আমার পৃথিবী আঁধারে তলিয়ে যেতে লাগল। ক্লাসে ছোট হয়ে গেলাম একদম। শেষমেশ আপনার বিয়ের আগেরদিন যখন আপনার মুখ থেকেই শুনলাম, আপনি কখনই আমাকে চাচাতো বোন ছাড়া অন্যকিছু ভাবেন নি। তখনই মন চেয়েছে এই পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাই। আপনার কোনো দোষ নাই তৌসিফ ভাই। দোষ আমার। আমার বয়সের। আমার চোখের সামনে আপনি অন্যকারো হয়ে চলবেন,হাসবেন,ঘুরবেন,এটা আমি প্রাণ থাকতে নিতে পারব না। আর তাই আপনার থেকে চিরবিদায় ও চিরবিচ্ছেদ নিয়ে নিলাম।
আমারে মাফ করে দিয়েন। ভালোবাসা, মায়া যে কী জিনিস, তা কেবলমাত্র সেই জানে যেই ভালোবেসেছে।
আরেহ তৌসিফ ভাই,আরেকটা নিগুঢ় সত্য বলে যাই। আপনার জন্য আমার অস্থিরতা দেখে আম্মা গোপনে দরবেশ থেকে তাবিজ,পানি পড়া ও এটা সেটা আনল। এক অন্ধকার রাতে সেগুলো আমাদের বাগানের ভিতরে গর্তে গাঁড়াইলাম। ফকির বলল তারপর হতে আপনিও আমাকে চাইবেন। কিন্তু কই,কিছুই হল না। মন চায় আইজ শুধু আপনারে লিখি আর লিখি। কিন্তু সময় নাই আমার হাতে। আর আমার মা টা বড় অসহায় হয়ে গেল। আপনি আমার মায়ের দিকে খেয়াল রাইখেন। এটা আপনার কাছে আমার বিশেষ অনুরোধ রইল।
ইতি…একলা সাথী!”
তৌসিফ সাথীরে বলে চাপা আর্তনাদ করে বিছানার উপরে উপুড় হয়ে পড়ে গেল। পাশে বসা তানভির কেঁদেই যাচ্ছে। তৌসিফ উঠে ভাইয়ের কাঁধে হাত রেখে বলল,
“এটা কী হয়ে গেলরে তানভির? আমাদের জীবনে এই কী ইতিহাস রচিত হলো? সাথি এতো বেশী ভালোবাসতো আমাকে বুঝতেই পারিনি। নিচের আপন চাচাতো বোন আমার জন্য জীবন দিয়ে দিল? মা,বাবার কোল খালি করে ফেলল? এই দুঃখ, এই অনুশোচনা থেকে আমার বুঝি আর মুক্তি নেই। এমন যদি জানতাম,ওরে বুঝিয়ে নিতাম ভালোবাসা দিয়ে।”
“তাও হতো না ভাই। কী বলল,দেখলে না? চোখের সামনে অন্য মেয়ে তোমার বউ,সে নিতে পারতো না। সাথীর মৃত্যু হয়তো এভাবেই স্রস্টা লিখে রেখেছে। আর তাবিজের বিষয়টা ও সত্যি বলছে। আমি সাক্ষী! আমি নিজ চোখে দেখেছি এটা।”
“কী বলিস! বলিস নি কেন আমাকে?”
“বলিনি, তুমি রেগে যাবে। ঝামেলা করবে তাই। আসো, বাইরে আসো। কবর রেডি হলো কি-না দেখতে হবে।”
তানভীর চিঠিটি তার কাছে রেখে দিল। সমস্যা হতে পারে বলে তৌসিফের কাছে দিল না।
ঢাকা থেকে নবনী চলে এলো। সাথির খালা এল। শুরু হলো হৃদয় বিদারক দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি! নবনী জিজ্ঞেস করলো,
“হঠাৎ সাথী সুইসাইড করল কেন?”
সবাই একশব্দে জানাল,কেউই জানে না। নবনী বলল,
“এই এইজে প্রেমঘটিত বিষয় ছাড়া আর কিইবা হতে পারে? হ্যাঁ, তবে আরেকটা বিষয়ও আছে,পরিবারের কেউ খারাপ আচরণ করলেও এমন করে বসে অনেকে, অতিরিক্ত ইমোশনাল হয়ে।”
সাথীর দাফন সম্পন্ন হয়ে গেল। তবুও বাড়িতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। মানুষ আর মানুষ গিজগিজ করছে সারাবাড়ি ও উঠানজুড়ে। ঘটনার আকস্মিকতায় পাড়া প্রতিবেশী নির্বাক! স্তম্ভিত! রাতেও কারো চোখে ঘুম নেই। সবাই জড়ো হয়ে আছে সাথীর রুমে। এভাবে শুয়ে,বসে,জেগে সাথির স্মৃতিচারণে সবাই মত্ত। নবনী তৌসিফকে শান্তনা দিতে কমতি রাখল না।
তৌসিফের বুকে মাথা রেখে বলল,
“সময় সবকিছু ঠিক করে দিবে হয়তো।তুমি এভাবে ভেঙ্গে পড়লে হবে। অফিস করতে হবে না ঢাকায় গিয়ে?”
“পৃথিবীতে একজনের শূন্যতা আরেকজন দিয়ে পূর্ণ হয় না নবনী। একজনের বিকল্পও আরেকজন নেই!”
“এটা একদম সত্যি। তার ভিতরেই চেষ্টা করতে হবে আমাদের ভালো থাকার।” ম্লান মুখে বলল নবনী।
বিষাদগ্রস্ত পরিবেশে সাথির তিনদিনের কুলখানি সম্পন্ন হয়ে গেল। নবনীর চলে যেতে হবে হাসপাতালে। তৌসিফের অফিসে যোগ দিতে হবে। তাই তৌসিফ ও নবনী সবার থেকে বিদায় নিয়ে নিল। শ্বশুর, শাশুড়ী তার মাথায় স্নেহের পরশ বুলিয়ে আশীর্বাদ করে দিল।
নবনী সীমার কাছে গেল। তাকে জড়িয়ে ধরে শান্তনা দিয়ে বলল,
“চাচী এমন পাগলামি করবেন না। ধরে নেন আমিই আপনার সাথি। আমি সাথির মতই আপনার পাশে থাকব ছায়া হয়ে। তৌসিফও আপনার ছেলে হয়ে পাশে থাকবে সবসময়। আমি সুযোগ পেলেই চলে আসব। এই বাড়িই তো আমার শেষ গন্তব্য ও ঠিকানা।”
সীমা বোবা মুখে নির্বিকার ভঙ্গিতে নবনীর দিকে চেয়ে রইল। সে ছাড়া ঘরের বাকি সবাই তৌসিফ ও নবনীকে এগিয়ে দিল বাড়ির কাচারি ঘরের সামনের পথ পর্যন্ত!
নজরুল তৌসিফকে ফোন করে বলল,
“তোমার এখন মন খারাপ। একা বাসায় থাকা ঠিক হবে না। অফিস শেষে রাতে আমাদের বাসায় চলে এসো।”
তৌসিফ আমতা আমতা করে বলল,
“নাহ। আমি নতুন বাসা নিব সামনের দিকে। নবনী আমার কাছে চলে আসবে।”
“সেটা তখন দেখা যাবে ব্যাটা। এখন চলে এসো।”
“জি,আচ্ছা। আসব।”
দুজনের কর্মমুখর জীবন। তাই তাদের সাক্ষাৎ হয় রাতে। নতুন বিয়ে,নতুন জীবন! মধুচন্দ্রিমা! শপিং! প্রমোদ তরীতে ভাসা! রোমাঞ্চকর উপলব্ধি! কিন্তু এসবের কিছুই উপভোগ করতে পারছে না তারা নবদম্পতি হয়েও। কেননা ঘুরেফিরে তৌসিফের ভাবনায়,কল্পনায়,স্মৃতিচারণায় কেবল সাথী আর সাথী! তা নিয়ে নবনীর মাঝে কোনো আক্ষেপ নেই। বরং সে বিগলিত হয়ে তৌসিফকে সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে।
গ্রামে তৌসিফদের বাড়ির পরিবেশ বেদনাবিধুর! তবে কারো মনে কারো প্রতি নেই কোন বিদ্বেষ! সবার মাঝেই এখন প্রীতিভাব বজায় চলছে। বড় কোনো কিছু না হারালে বা অঘটন না ঘটলে মানুষের মাঝে বড় পরিবর্তনও আসেনা৷
প্রায় মাসখানেক পরের ঘটনা। বর্ষাকালের এক নিরালা দুপুর।
চলবে….৩২
Share On:
TAGS: পিদিম জ্বলা রাতে, রেহানা পুতুল
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ৩৩ (অন্তিম পর্ব)
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ২২
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ৪
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ৮
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ১২
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ২৯
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ৩১
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ১৯
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ৭
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ৩০