পিদিম_জ্বলারাতে. ৩১ ✍️ #রেহানা_পুতুল
তৌসিফ ঢাকা ফিরে গেলেও মন পড়ে রইল গ্রামে। অফিসে বসে কাজ করতে করতে হঠাৎ তার হাত থেমে যায়। মনে পড়ল মায়ের কথা। তখনই বাবার মোবাইলে ফোন দিল সে। মায়ের সাথে কথা বলল।
“মা, কেমন আছো?”
রাবেয়া একশব্দে জবাব দেয়,
“আছি।”
তৌসিফের কাছে মায়ের কণ্ঠ ঠিক শেষ বিকেলের মরা রোদের মতো লাগল। মায়ের ‘আছি’র ভেতর কতটা যন্ত্রণা ও দুঃখ তা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পারল তৌসিফ। বুঝল মা বেশী কথা বলতে আগ্রহী নয় তার সাথে। তাই তৌসিফ কথা না লম্বা করে ইতি টানল। ফোঁস করে একটি তপ্ত শ্বাস ছাড়ল। জাবেদের উপর প্রচন্ড ঘৃণায় মুখ বিকৃত করে ফেলল।
মনে মনে তার উপর অভিসম্পাত ঢেলে বলল,
শুয়োর কোথাকার! প্রতিটি পরিবারে তোর মতো একটা কুৎসিত লোকই যথেষ্ট, রাবেয়ার মতো সহজ,সরল নারীদের জীবন অতিষ্ঠ করার জন্য। ল অনুযায়ী তোর শাস্তি দশ বছর। কিন্তু আমার ও আমার মায়ের আদালতে তুই আজীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। কোনো ক্ষমা নেই তোর।’
অফিসের বসের ডাকে তৌসিফ কাজে মনোনিবেশ করল।
তানভির পরেরদিনই কলেজে গেল। কিন্তু আগের মতো তার মাঝে আর কোনো উৎফুল্লতা ও চঞ্চলতা নেই। শত বন্ধুদের ভিড়েও নিজেকে তার কাছে একা লাগে। কেমন অস্থির! ছন্নছাড়া! লাগামহীন ঘোড়ার মতো।
কেটে গেল এক সপ্তাহ। একদিন বিকেলে মনি তৌসিফদের ঘরে গেল। এই প্রথম মনির পা পড়ল ভাসুরের নতুন ঘরে। রাবেয়া শুরুতে চমকালেও শেষে বুঝতে পারল কারণ। জাহেদ ও রাবেয়া শান্ত মুখে চুপ রইলো। মনি নিজ থেকে যেচে অপরাধীর ভঙ্গিতে বলল,
“ভাই,ভাবি, আল্লারওয়াস্তে আমারে আপনারা মাফ কইরা দেন। আমি আমার অপরাধ স্বীকার করছি। আর যদি শাস্তি দিতে চান তাও মাথা পাইতা নিমু। আমি না হয় আপনাদের পর। কিন্তু অভ্র আপনাগো বংশ! রক্ত! বাপের অবর্তমানে তারে কী আপনারা না দেইখা থাকতে পারবেন? ভাইজান, কী করমু কন? স্বামীর আদেশ না মাইনা পারিনি। আর সেই তো আমারে ভালো কিছুই বুঝাইলো। আসল ঘটনা তো সেইদিন জানলাম। আমি চাই সে জেলে মইরা যাক। মাইনা নিমু। তাও তার লগে আর সংসার করতে চাই না। কই যামু। নইলে ছাইড়া দিতাম তারে। এক মায়ের প্যাটে জন্মাইয়া আপনিও মানুষ। আর সেও একটা মানুষ নামের অমানুষ!”
রাবেয়া মুখ কালো করে অন্যদিকে চেয়ে আছে না শোনার ভান করে। জাহেদ শাসনের সুরে পুরু গলায় বলল,
“তুমি এখন যাও।”
মনি অনুগত দাসের ন্যায় নিচু মাথায় বেরিয়ে যায়। শ্বশুর শাশুড়ীর রুমে ঢোকে। তাদের কাছেও ক্ষমা যায়। জাবেদ জেলে। মনি ছেলেকে নিয়ে কীভাবে চলবে,সব মিলিয়ে সে অনুশোচনায়,দুঃশ্চিন্তায় দগ্ধ হচ্ছে প্রতিটিমুহূর্তে! নিজের অপরাধ স্বীকার করে জনে জনে মাফ চাচ্ছে। এবং অভ্রর জন্য ভরসার জায়গা খুঁজছে সবার মাঝে।
সলিমুল্লা মনিকে আশ্বাস দিয়ে বলল,
“এতো অস্থির হইয়ো না। তৌসিফ বাড়ি আসুক। তখন বিবাদ মিটাইয়া দিমুনি।”
” হ দিয়েন। আমার নাতির মুখের দিগে চাইয়া হইলেও সবাইরে এক কইরা দিতে হইবো।”
দুঃখিত স্বরে বলল মর্জিনা।
মনি “আইচ্ছা বাবা” বলে নিজের রুমে চলে গেল।
রাবেয়ার যত্নে,ভালোবাসায় জাহেদ আগের চেয়ে সুস্থ আছে। স্বাভাবিক হাঁটাচলা করতে পারে। ডায়াবেটিস মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সীমা উপর দিয়ে হাসি হাসি ভাব করে চললেও বেজায় মনঃক্ষুণ্ন বড় ভাসুরের পরিবারের উপরে।
জাহেদ রাবেয়ার প্রতি আজকাল বেশী মনোযোগী! রাবেয়ার মতিগতি তার কাছে তেমন সুবিধার ঠেকছে না। কেমন যেন জীবন থেকে পালাই পালাই ভাব। নিজেকে লুকিয়ে ফেলার একটা গোপন প্রয়াস তার মাঝে প্রকাশিত।
জাহেদ রাবেয়ার হাত ধরে বলল,
“আমি জানি,তোমার আত্মসম্মানের উপর আঘাত এসেছে প্রকাশ্যে। এই বিষয়টা তুমি হজম করতে পারছ না। তুমি এতো হীনমন্যতায় ভোগো কেন রাবু? সামনে তো আমাদের আরো ভালো দিন আসতেছে। গ্রামের একটা ঘরে ডাক্তার বউ আসা কী কম সৌভাগ্যের? কম আনন্দের? আর তোমারে তো মা,বাবা,জামালের বউ, খুকী কেউই কিছু বলেনি। নূন্যতম অভিযোগের আঙুল তোলেনি। বরং সবাই ওই ইতরের জন্য ছোট হয়ে গিয়েছে তোমার কাছে। দেখনা এরপর এই বিষয় নিয়ে কেউই তোমার সামনে মুখ খোলেনি।”
রাবেয়া ভারাক্রান্ত মনে প্রলম্বিত স্বাস ছেড়ে বলল,
“আমার এখন ডর লাগে আরেক বিষয় নিয়া। বউ আইসা যদি এইসব শুইনা যায় কখনও? তখন কী হইব?”
“কিচ্ছু হইব না। শহরে বাস করা,পড়াশোনা করা ডাক্তার মেয়ে। তার চিন্তাচেতনা গ্রামের পশ্চাৎপদ মানুষের মতো নয়। নিঃসন্দেহে সে প্রগতিশীল মেয়ে! সে এইসব অতি সহজে মেনে নিবে। দেখে নিও।”
রাবেয়াকে ভরসা দিয়ে বলল জাহেদ।
“ইয়া আল্লাহ! তাই যেন হয়।”
দু-হাত উপরে তুলে মোনাজাতের ভঙ্গিতে বলল রাবেয়া।
তার কিছুদিন পার না হতেই সলিমুল্লা জাহেদকে ডেকে বলল,
“সময় ক্ষেপণ করতাছস ক্যান তোরা? বিয়াসাদিতে পিছলান ভালো না। মামলার তো সুরাহা হইলোই। হেগোরে আমরা যাওনের তারিখ জানাইতে হইব না?”
জাহেদ বলল,
“তৌসিফের মার মন খুব খারাপ। তাই একটু সময় নিতাছি বাবা।”
“এইটা কোনো হিসাব হইল? বরং সেইটা ভাইবা ঘরে বউ নিয়া আইবি তাড়া কইরা। তাইলে তৌসিফের মায়ের মন হালকা হইব তারাতাড়ি। কারণ তখন মন ব্যস্ত থাকার কাম বাইড়া যাইব ঘরের মধ্যে।”
” তা অবশ্য ভালো বলছেন বাবা। তাহলে আপনি ভালো দেখে একটা দিন ঠিক করেন। আমরাও বিয়ের কেনাকাটা শুরু করি।”
নরম গলায় বলল জাহেদ। তারপর রাবেয়ার সাথে আলাপ করে সে ছেলেকে ফোন দিল। সলিমুল্লার কথা টেনে বলল,
“তুই নবনীকে নিয়ে তার পছন্দের শাড়ি থেকে শুরু করে সব কিনে নিস। আমাদেরগুলোর প্রস্তুতি আমরা নিচ্ছি। এই সপ্তাহে সব কিনে ফেল। পরের সপ্তাহে আমরা বিয়ের কাজ সেরে ফেলতে চাই।”
“আচ্ছা বাবা,ঠিক আছে। দেখি,ওকে ফোন দিব ফ্রি হয়েই।”
সলিমুল্লা পঞ্জিকা দেখে বিয়ের তারিখ ঠিক করে ফেলল। নবনীর বাবাকে জাহেদ তারিখ জানিয়ে দিল। জাহেদ ঘরের সবাইকে দাওয়াত দিল। যেন সবাই তাদের সাথে ঢাকা যায়। রাবেয়া তার নিকটাত্মীয়দের বলে রাখল। তৌসিফের বিয়ে উপলক্ষে সবাই যার যার মতো করে গ্রামের মার্কেটে গিয়ে কেনাকাটা করতে লাগল। জাহেদ মা,বাবা ও বোনের জন্য কেনাকাটা করল। খুকীকে তার স্বশুর শাশুড়ীসহ দাওয়াত দিল। তানভির তার মতো করে কেনাকাটা করল। রাবেয়া খুব পছন্দ করে একটা শাড়ি কিনল। স্যান্ডেল কিনল। সিটিগোল্ডের এক জোড়া চুড়ি কিনল। নবনীর জন্য তাদের সাধ্যের ভিতরে এক সেট গহনা কিনে নিল।
এদিকে তৌসিফ নবনীকে নিয়ে বিয়ের সবকিছু কিনে নিল দুই তিনদিন সময় লাগিয়ে। বিয়ের সাজ নেওয়ার জন্য একটি বড় লাগেজও কিনে নিল তৌসিফ। অফিস থেকে ছুটি নিয়ে নিল বিয়ের জন্য। বিয়ের সবকিছু নিয়ে সে বাড়ি চলে এল। তানভিরও এলো। খুকিও এলো বাবার বাড়ি। সলিমুল্লা ঘরের সবাইকে ডেকে নিয়ে বসলেন।
নিজ দায়িত্বে সবার উদ্দেশ্যে বললেন,
“মানুষ বাঁচে কয়দিন কও? সবকিছু ভুইলা তোমরা সকলে মিলামিশা চলবা। আমার কোনো ভুলভ্রান্তি হইলে বুইঝা নিও। ছোট বউ তার অপরাধ স্বীকার কইরা ক্ষমা চাইছে। অভ্রের দিকে তাকায়া তারে মাফ কইরা দিও। মানুষের ভুল হইলে খোদায় যদি মাফ কইরা দিতে পারে,আমরা তার গোলাম হইয়া ক্যান পারুম না একজন আরেকজনরে ক্ষমা করতে? ক্ষমা মহৎ গুণ! আমরা সবাই মিলা গাড়িতে কইরা শহরে যামু। ডাক্তার বউ আইব আমাগো বাড়িতে। সে বাড়িতে আইলে যেন কারো মুখ কালাকালি, ফুসাফুসি না দেখি আমি। সবাই সুন্দরভাবে চলবা নয়া বউর সামনে। এই হইলো আমার কথা।”
জাহেদ বাবার কথা শুনে খুশী হয়। এবং অন্যরাও।
একইভাবে খুকীও বড় ভাবির কাছে মাফ চাইল। মর্জিনাও দুঃখ প্রকাশ করল শাশুড়ী হিসেবে নিজের দম্ভ ও অহমিকার জন্য। মনিও ক্ষমা চাইল। সিমা একপাশে বসে রইল মলিন মুখে। সবাই কারণটা জানে। তাই কেউই আগ বাড়িয়ে তাকে মন খারাপের কারণ জিজ্ঞেস করল না।
যেদিন নবনীর বাবা গ্রামে এসে বিয়ে ঠিক করল। সেদিন হতেই সাথীর মন ভয়াবহ রকমের খারাপ। সে নাওয়া খাওয়া প্রায় ছেড়ে দিয়েছে। আড়ালে আবডালে গিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে চোখের জল ফেলে। তৌসিফ বাড়ি গেলে নানান বাহানায় তার থেকে নিজেকে দূরে রাখে। সামনে আসে না। দেখা দেয় না। দরজা বন্ধ করে ফেলে। টেবিলে বসে কাগজ কলম নিয়ে কী সব আঁকিবুঁকি করে। আর তৌসিফও কখনো বিশেষভাবে সাথিকে খোঁজেনি।
তবে তার বিয়েকে কেন্দ্র করে আজ সে সাথীকে খুঁজতে লাগল। আবিষ্কার করলো বাড়ির পিছনের বাগানের পাশে। তৌসিফের পদচিহ্ন টের পেয়েই সাথী পা চালিয়ে অন্যদিকে হাঁটা ধরল। তৌসিফ পিছন থেকে সাথীর হাত ধরে টান দিল। নিজের খুব কাছাকাছি নিয়ে নিল। সাথীর চিবুক উঁচিয়ে ধরে ভরাট কণ্ঠে বলল,
“আমি বিয়ে করতে যাচ্ছি বলে তোর মন খারাপ?”
সাথী মেঘমুখে দাঁড়িয়ে আছে। কিছু বলছে না। চোখজোড়া টলমল করছে অশ্রুতে। তৌসিফ সাথির ওড়নার একপাশ দিয়ে চোখের পানি মুছে দিল। সাথীর মাথাকে নিজের বুকে চেপে ধরল। মাথায় স্নেহের হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,
“তোকে আমি ভালোবাসি চাচাতো বোন হিসেবে। আমি সারাজীবন তোর খোঁজখবর নিব। তুই এমন ভাবসাব করলে তো নবনী বুঝে যাবে। আমাকে সন্দেহ করবে। এতে আমার দাম্পত্য জীবনে সংঘাত তৈরি হবে। প্লিজ তুই শান্ত হ। আমি তো তোর চোখের সামনেই আছি। এতো সুন্দর মুখটাকে অমন অমাবস্যা বানিয়ে রাখিস না। আর আমি চাই তুই সুন্দর করে সেজেগুজে আমার পাশে বসে আমার বউ আনতে যাবি। তুই আমার পাশে থাকলে তোরই ভালো লাগবে।”
সাথি নিমরাজি হয় যেতে তৌসিফের সান্নিধ্য পাবে শুনে। পরক্ষণেই সাথী কাঁদতে কাঁদতে অন্যদিকে চলে যায়। তৌসিফের ভুলানো কথায় তার হৃদয়টা ভেজে না! প্রবোধ মানে না!
অবশেষে বিয়ের দিন বর যাত্রীর গাড়ি তিনটা গেল ঢাকায়। সজ্জিত বরের গাড়িতে তৌসিফের সাথে বসল তার মা, দাদা,সাথি,অভ্র,মাইমুনা। তানভির,জহির, তার বাবা ও বাকিরা গেল বাকি দুই গাড়িতে। মাঝ পথে সাথীর ঘুম এসে গেল। বারবার হেলে পড়ে যাচ্ছে সে। সাথী তৌসিফের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ল। তৌসিফ আপত্তি করল না। থাকুক না। দু’দিন আগে যেই তরুণী মেয়েটার প্রণয়ের কথা শুনল তাকে নিয়ে,সেই যদি আজ একটু শান্তি পায় এভাবে তার স্পর্শ পেয়ে। সমস্যা তো নেই।
তৌসিফরা পৌঁছে গেল ঢাকায়। নবনীরা তাদের বাসার ছাদে প্যান্ডেল করেছে। বরপক্ষ সাজগোজের লাগেজ দিয়ে দিল কনে পক্ষকে। সবাই কুশলাদি বিনিময় করল। কাজী বিয়ে পড়ানোর কাগজপত্র ঠিক করছে। এই ভিতরে নবনীকে শাড়ি পরিয়ে মেকাপ করে দিল তার কিছু কাজিন। ঘরোয়া আয়োজনে সব নিয়ম মেনে বিয়ে হয়ে গেল তৌসিফ ও নবনীর। নবনীকে নিয়ে তৌসিফেরা গ্রামে ফিরে এল রাতেই। সেদিন আর বাসর হল না তাদের। পরেরদিন অন্যসব নব দম্পতির মতোই তৌসিফ ও নবনীর বাসর ঘর উদযাপন হলো। নবনী ভীষণ খুশী তৌসিফকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়ে। অবশেষে তার অনুভূতির জয় হলো। উফফস!
পরেরদিন ঢাকা হতে কনে পক্ষের লোকজন এল। ধুমধাম আয়োজন করে তাদেরকে আতিথেয়তা করল তৌসিফের পরিবার। সবাই চলে গেল। নজরুল যেতে নবনীকে সাথে করে নিয়ে গেলেন। তৌসিফ আপত্তি করল না। বরং বলল,
” ঠিক আছে, নবনী যাক আপনার সাথে। বাড়িতে সব সামলে আমার ঢাকা যেতে একটু সময় লাগবে।”
তার একদিন পরের ভোরে সবার ঘুম ভাঙে কারো বিভীষিকাময়
আর্তচিৎকারে।
চলবে…৩১
#সামাজিক #storytelling #writer #bengalistory #lifelessons #genre #lovestory #twist #loveyourself #✍️ #রেহানাপুতুল ✍️ #রেহানাপুতুল
Share On:
TAGS: পিদিম জ্বলা রাতে, রেহানা পুতুল
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ৭
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ২৩
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ১৬
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ৩
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ৪
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ১৪
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ৮
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ৩০
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ১০
-
পিদিম জ্বলা রাতে পর্ব ২৫