পরগাছা |২২|
ইসরাত_তন্বী
(অনুমতি বিহীন কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ)
একবার তীব্র জ্বরের কবলে পড়েছিল চন্দ্রা। ঠিকমতো কিছুই খেতে পারত না। মুখে একটুও স্বাদ ছিল না। শীর্ণ দেহখানা এক সপ্তাহের জ্বরেই চৌকির সাথে লেপ্টে গিয়েছিল একেবারে। কিন্তু তবুও হাড়ভাঙা খাটুনি থেকে মুক্তি মেলেনি মেয়েটার। ভোরবেলা থেকে সন্ধ্যা অবধি একটুও বসার ফুরসৎ পেত না। মামী ইচ্ছা করেই আরও বেশি কাজ করাত। আপদ বিদেয় হলে যে তার শান্তি। জ্বরে পড়ে মরেছে বলতে পারবে সকলকে। আর কারোর পাতে দুমুঠো ভাত দিতে হবে না।
সেদিন ছিল শুক্রবার। চন্দ্রার জ্বরটা অত্যধিক বেশি। দুচোখ ঝাঁপসা হয়ে আছে। চোখের কোণা লাল হয়ে ফুলে টসটসে দেখাচ্ছে। মাথাটা বড্ড ভার। দুনিয়ার সবকিছু অসহনীয় ঠেকছে। অথচ একটা মানুষ নেই যে পাশে এসে একটু বসবে। মাথায় হাত বুলিয়ে দিবে। এই পৃথিবীতে যার আব্বা- মা নেই তার কিছু নেই। সে একেবারে শূন্য। মামীর কটুকথা উপেক্ষা করে গুঞ্জরিকাও আসে না। দুর্ব্যবহার কতদিন হজম করা যায়? তাই ওই বাড়ির বাইরেই তাদের সাথে সবটুকু সখ্যতা। কাজের ফাঁকে ফাঁকে চন্দ্রা বাড়ির বাইরে যায়। তখন দুই সখী চঞ্চলা হরিণীর মতো ছুটে বেড়ায় পথে ঘাটে।
সবে সকাল হয়েছে অমনিই মামীর ডাক কানে আসে চন্দ্রার। কিন্তু মুখ ফুটে একটা শব্দও উচ্চারণ করতে পারে না। আঁখি জোড়া অবধি খুলে তাকাতে সক্ষম হয় না। কিন্তু সেই ডাক থেকে রক্ষা নেই। ক্রমশ বেড়েই চলেছে,
“মা গির মাইয়া ঘুম থেকে কখন উঠবি? বেলা কি তোর জন্য বসে আছে? চুলোয় রান্না বসাবি কখন? তোর মামা খেয়ে হাঁটে যাবে।”
কথাটা শেষ হতেই চন্দ্রার কক্ষের দরজাটা শব্দ তুলে খুলে যায়। এটা ঠিক কক্ষ নয়। গোয়ালঘর ছিল আগে। গরুগুলো বিক্রি করার ফলস্বরূপ এখন চন্দ্রার মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে। চন্দ্রা চোখ বুঁজেই মামীর উপস্থিতি দিব্যি অনুভব করতে পারছে কিন্তু কথা বলার অবস্থাতে নেই মেয়েটা। এই পর্যায়ে নাসিমা বেগম এগিয়ে এসে চন্দ্রার পাশে দাঁড়ান। কোনো কথা ছাড়াই চন্দ্রার পিঠে একটা থাবা মেরে বসেন। চন্দ্রার সম্পূর্ণ শরীরে বিদ্যুতের মতো ঝাঁকুনি খেলে যায়। ঝিমঝিম করে ওঠে। অস্ফুট স্বরে কঁকিয়ে ওঠে মেয়েটা।
“তোর জন্য….”
নাসিমা বেগম আরও কিছু তিক্ত বাণ ছুঁড়তে নিয়েও থেমে যান। মুখের কথা আটকে যায় চন্দ্রার শরীরের উষ্ণতায়। জ্বরের মাত্রাটা দিব্যি অনুভব করেন। পিঠটা ছুঁতেই মনে হয় হাতটা অগ্নিশিখায় দ্বগ্ধ হয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ চুপ থাকেন নাসিমা বেগম। একদৃষ্টে মেয়েটার লালচে বদনে চেয়ে থাকেন। অতঃপর শান্ত অথচ তীক্ষ্ণ কণ্ঠে বলেন,
“উঠে কাজগুলো সেরে নে কপাল পুড়ি। নয়ত মরে আমাদের শান্তি দে।”
কথাতে তেজ স্পষ্ট অথচ চোখের কোণে পানি দৃশ্যমান। চন্দ্রা ততক্ষণে পিটপিট করে তাকিয়েছে। মামীর নেত্রের পানি চোখ এড়ায় না। পৃথিবীতে এই একটা মানুষকে সে বুঝতে পারে না। এই ভালো তো এই খারাপ। মানুষটা ঠিক কী চায় চন্দ্রার বোধগম্য হয় না। কিন্তু সে যে পুরোপুরি খারাপ নয় এতদিনে এতটুকু বুঝেছে। কিন্তু শেষ অবধি কি সেই ধারণা অক্ষত ছিল? নাকি ভুল প্রমাণিত হয়েছিল? কে জানে!
চন্দ্রা ধীরে ধীরে জ্বরে পিষ্ট কায়া নিয়ে উঠে বসে। কিছুক্ষণ ঠায় বসে রয়। মাথা ঝিমঝিমটা সহনীয় পর্যায়ে আসতেই চৌকি থেকে নেমে দাঁড়ায়। শ্লথগতিতে হেটে খিড়কির দিকে এগিয়ে যায়। চোখের সামনে ভেসে ওঠে চমৎকার একখানা দৃশ্য। মৃত্তিকার বুকে শিউলি ফুলের চাদর বিছিয়ে রেখেছে প্রকৃতি। গোয়ালঘরের বাতায়ন বরাবর একখানা মাঝারি আকারের শিউলি গাছের অস্তিত্ব আছে। শরতের আগমনে গাছটা নিজেকে রাঙিয়েছে শুভ্রতায় ছোঁয়ায়। তার পাশ দিয়েই আবার গ্রামের মেঠোপথ এঁকে বেঁকে চলে গেছে। লোচন জোড়া বুজে বুক ভরে শ্বাস নেয় চন্দ্রা। শিউলির মনমাতানো সবটুকু সুগন্ধ জলন্ত বুকের মধ্যিখানে আঁকড়ে রাখতে চায়। একটু স্বস্তি চায়। জাহান্নামের ন্যায় জীবন থেকে একটু শান্তি চায়। সেই সময়ে শ্রবণেন্দ্রিয়ে প্রবেশ করে তাইমুরের গলা,
“চন্দ্রাবতী?”
চন্দ্রা প্রথমে ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। মনের ভুল বলে উড়িয়ে দেয়। জ্বরের ঘোরে কী শুনতে কী শুনেছে। কিন্তু নাসারন্ধ্রে সেই অতিব পরিচিত সুগন্ধটা এসে ঠেকতেই চকিতে নেত্রপল্লব মেলে তাকায়। জানালার ঠিক সামনেই তাইমুরকে দাঁড়িয়ে আছে। ভূত দেখার মতো চমকায় চন্দ্রা। পরক্ষণেই ভয়ার্ত দৃষ্টি ঘূর্ণায়মান হয় চারপাশ জুড়ে। কেউ দেখে নিলে মুশকিল! ওর বাঁচার আর কোনো রাস্তা থাকবে না। মামী মেরেই ফেলবে। চন্দ্রা দুই কদম পিছিয়ে আসে। মুখ লুকোয় খিড়কির কপাটের আড়ালে। ফিসফিস করে শঙ্কিত গলায় শুধায়,
“আপনি এখানে কেন এসেছেন? চলে যান। কেউ দেখে নিলে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।”
চন্দ্রার মুখের কথা শেষ হয় না। অপরপাশ থেকে শীতল গলার জবাব ভেসে আসে,
“মন ও চোখের তৃষ্ণা মেটাতে এসেছি চন্দ্রাবতী।”
চন্দ্রা হতবাক হয়ে পড়ে। বুকটা অদ্ভুত রকমের অনুভূতিতে ছেয়ে যায়। কিন্তু ভয় কমে না। ফের বলে,
“চলে যান। দয়া করে বাচ্চামো করবেন না।”
তাইমুর ক্ষীণ হাসে। এক পা এগিয়ে জানালার শিক ধরে দাঁড়ায়। অনুরোধের সুরে বলে,
“একটাবার তোমাকে দু’চোখ ভরে দেখতে দাও চন্দ্রাবতী। কথা দিচ্ছি চলে যাব। নয়ত এই দেহ-মনের শান্তি মিলবে না। একটা সপ্তাহ তোমার ওই লাল টমেটোর মতো মুখটা দেখার সৌভাগ্য হয়নি আমার।”
চন্দ্রা পড়ে যায় বিপাকে। লজ্জায় গাল দুটো লাল হয়ে উঠেছে ইতোমধ্যে। ঘাড়ত্যাড়া তাইমুরকে সে ভীষণ ভালোভাবেই চেনে। দেখা না দিলে যাবে না সেটা খুব ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পারছে। সেই সময়ে ফের নাসিমা বেগমের কণ্ঠস্বর শোনা যায়। চন্দ্রা দ্রুত ওড়না তুলে মাথায় দেয়। পরপরই জানালার সম্মুখে যেয়ে দাঁড়ায়। নত বদন তুলে সামনে তাকানোর দুঃসাহস করে না। তাইমুর একদৃষ্টিতে চেয়ে রয়। জ্বরে পড়ে ফ্যাকাসে মুখটার সৌন্দর্য যেন কয়েক গুণ বেড়েছে। মন চায় একটু ছুঁয়ে দিতে। নিজের ভাবনায় নিজেই হাসে তাইমুর। নাসিমা বেগমের করা অত্যাচার সম্পর্কে সে অবগত। মুচকি হেসে ওখান থেকে প্রস্থান করে। যাওয়ার আগে আস্তে করে বলে,
“তোমার সব কষ্ট শিঘ্রই শেষ হবে চন্দ্রাবতী। আমি আসব তোমায় নিতে। লাল শাড়িতে মুড়িয়ে নিয়ে যাব তোমায়। অপেক্ষায় থেকো।”
এক ঝাপটা বেনামি প্রভঞ্জনে মিশে যায় সেই কণ্ঠস্বর। ধীরে ধীরে দূরে সরে যায় মানুষটার অস্তিত্ব। চন্দ্রা বিস্মিত দৃষ্টিতে চেয়ে দেখে তাইমুরের প্রস্থান। তাইমুর আলগোছে একবার পিছনে ফেরে। কয়েক সেকেন্ডের জন্য দুই জোড়া তৃষ্ণার্ত দৃষ্টির মিলন ঘটে। চন্দ্রার ঠোঁটের কোণ ঘেঁষে মুচকি হাসির রেশ ছড়ায়। মস্তিষ্কে বাসা বাঁধে নিত্য নতুন স্বপ্নেরা। কিন্তু তারপর কী হয়? স্বপ্নেরা কি বাস্তব রুপে ধরা দেয়? নাকি মিথ্যার আড়ালে মিলিয়ে যায়? লাল শাড়ি পড়ার সৌভাগ্য হয়েছিল কি?
চন্দ্রা শুয়ে আছে নিজ কক্ষে। আজও শরীরটা ভালো নেই। কোনোরকমে সকালের রান্নাটা করে এসেই শুয়েছে। ক্লান্তিতে চোখ জোড়া বুঁজে এসেছিল। আঁখি যুগল বুজতেই অতীত হানা দিয়েছে মস্তিষ্কে। মানসপটে ভেসে চলেছে সুখ আর বিষাদের ছোঁয়ায় মোড়ানো একেকটা স্মৃতি। যেই জীবন থেকে চন্দ্রা সবসময় মুক্তি চাইত আজকাল সেই জীবনটাই সুখের মনে হয়। সেই জীবনে তার নিজের বলতে একজন ছিল। যার মস্তিষ্কে সবসময় চন্দ্রার বিচরণ ছিল। কিন্তু এই জীবনে? কেউ নেই। কোথাও কেউ নেই। এই পর্যায়ে চন্দ্রার গাল বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল। ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল মেয়েটা। দুই হাতে খামচে ধরল বিছানার চাদর। যাতনায় ক্ষতবিক্ষত বুক নিয়ে সিক্ত গলায় বিড়বিড় করে আওড়াল,
যাদের হারিয়ে যাওয়া অনিবার্য
তাদের সাথেই আমাদের এক জীবনের
সুখকর স্মৃতিগুলো জড়িয়ে থাকে।
.
বেলা গড়িয়ে বিকেল এখন। শাহরিয়ার সাইকেল নিয়ে ছুটেছে শশী দিঘির চরের উদ্দেশে। হাতের কাজ শেষ করেই বেরিয়ে পড়েছে। শরীর সায় দিচ্ছে না তবুও যাচ্ছে। শুধু বন্ধুর জন্য। গতকাল রাতে ঠাণ্ডা হাওয়ায় অসুস্থতা বেড়েছে। ভোররাত থেকেই জ্বর ছেলেটার। কিন্তু মন মানেনি। তাই তো যাচ্ছে একটা বার শেষ চেষ্টা করতে।
আজ সারাদিনে গুঞ্জরিকাকে হন্ন হয়ে খুঁজেছে আরুষ। ছেলেটার মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। ক্ষত চোখটার ও যত্ন নিচ্ছে না। কাটা স্থানের ভেতর থেকে কাঁচা মাংস উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছে। এভাবে চললে নির্ঘাত চোখ খানা হারাতে হবে তাকে। তবুও কোনো হেলদোল নেই। শাহরিয়ার এর পক্ষে এগুলো দেখা সম্ভব নয়। ছেলেটা যখন নাও পেরিয়ে নদীর চরে পৌঁছাল তখন দিনের শেষ প্রহর। অর্থাৎ গোধূলি লগ্ন। কমলা রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে পশ্চিমাকাশ। সাদা বকেরা দল বেঁধে নিজেদের নীড়ে ফিরছে। নদীর তরঙ্গে শিল্পীর মতো চিত্র এঁকে দিচ্ছে প্রকৃতি। আসমানের কমলা রং পানির সনে মিশে চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্যের তৈরি করেছে। নাও পারাপারের পুরোটা সময় প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্যে নিজেকে খুইয়ে বসেছিল শাহরিয়ার।
শাহরিয়ার মিনিট দশ হেঁটে এসে গুঞ্জরিকার কুঠিরের সম্মুখে পৌঁছাল। দেখল মেয়েটা চুলোর সামনে বসে আছে। হয়ত রাতের রান্না করছে। শাহরিয়ার সাইকেল বেড়ার বাইরে রেখে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করল। গুঞ্জরিকা আলগোছে পিছনে তাকাতেই শাহরিয়ারকে দেখতে পেল। অমনিই ঝলমলিয়ে উঠল ম্লান বদন। দ্রুত উঠে এল। শাহরিয়ার মুখোমুখি দাঁড়াল। সালাম দিয়ে হাসিমুখে জানতে চাইল,
“ভালো আছেন ভাইজান?”
শাহরিয়ার এর আগমনে মেয়েটা ঠিক কতটা খুশি হয়েছে সেটা ওই ক্লান্ত মুখের প্রাণোচ্ছল হাসি দেখেই বোঝা যাচ্ছে। শাহরিয়ার নিজেও মুচকি হাসল। সালামের জবাব দিয়ে বলল,
“ভালো নেই ভাবী। চাইলেও ভালো থাকতে পারছি না। আপনার শূন্যতা দিব্যি মানুষ খু ন করার ক্ষমতা রাখে।”
গুঞ্জরিকা প্রথমে ঠিক বুঝল না। কপাল গুটিয়ে চেয়ে রইল। মস্তিষ্ক যখন সবটা উপলব্ধি করতে পারল তখন হাসি মুখটা মিলিয়ে গেল। পৃথিবীর সবটুকু আঁধার এসে ভীড় জমাল ওই পাণ্ডুর বর্ণের আননে। ছোট্ট করে বলল,
“কিছু ভুলের ক্ষমা নেই ভাইজান। মানুষ চাইলেও ক্ষমা করতে পারে না।”
“তবুও একটাবার যদি ভেবে দেখতেন ভাবী?”
কথাটা বলে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে রইল শাহরিয়ার। উত্তর শোনার অপেক্ষায় প্রহর গুনে চলল। গুঞ্জরিকা তাচ্ছিল্যের সুরে হাসল,
“যে আমার উপস্থিতিকে আগলে রাখতে পারেনি তার জন্য আমার অনুপস্থিতিই শ্রেয়। এতে যদি অপরপক্ষের মৃ ত্যু হয় তবে তাই সই।”
অকপটে কথাগুলো বলে দিল গুঞ্জরিকা। শাহরিয়ার বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ল। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। কিছু সময়ের জন্য থমকাল। কল্পনাতীত ছিল এমন জবাব। এই কথার পরিপ্রেক্ষিতে চারপাশ হাতড়ে বলার মতো কিছুই পেল না। কী বলবে? ভুল তো কিছু বলেনি মেয়েটা। যে থাকতে মূল্য দেয়নি এখন তার না থাকাতে কষ্ট পাওয়া বোকামি ছাড়া কিছুই নয়। শাহরিয়ার বড়ো একটা শ্বাস ফেলল। ডান হাতটা উঠিয়ে গুঞ্জরিকার মাথায় রাখল। মৃদু হাসার চেষ্টা করল,
“আপনি ভালো থাকুন ভাবী। আপনার এই ভাইজান সবসময় আপনার সাথে আছে, পাশে আছে। যেকোনো প্রয়োজনে শুধু একটাবার স্মরণ করবেন।”
মুখের কথাতে সমাপ্তি টেনে যেভাবে এসেছিল সেভাবেই প্রস্থান করল শাহরিয়ার। গুঞ্জরিকা ঘরে বসতে বলার সুযোগ টুকুও পেল না। উঠানের মাঝখানে থমকে দাঁড়িয়ে রইল। একদৃষ্টে দেখল শাহরিয়ার এর প্রস্থান। আরুষের উপর রাগ, ঘৃণা, দুঃখ সব মিলেমিশে উদ্ভট বিভৎস একটা অনুভুতির সাথে পরিচিত হলো। আজও মানুষটা কাপুরুষ রয়ে গেল। গাল বেয়ে স্বধারায় পানি গড়িয়ে পড়ল। পর মুহূর্তেই সন্তপর্ণে তা মুছে নিল। আর কাঁদবে না সে। এক জীবনে খুব কেঁদেছে। হাসবে বলেই না সব ত্যাগ করল? তবে কেন কাঁদছে? হায়রে মানব মন! সে কী আর এত বাচ বিচার মানে। সে যেখানে একবার খুইয়েছে সেখান থেকে সহজে মুক্ত হয় না। তার মুক্তি মেলে না।
চলবে
(ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। প্রিয় পাঠক আপনাদের সকলের রেসপন্স ও গঠনমূলক মন্তব্যের আশা রাখি।)
Share On:
TAGS: ইসরাত তন্বী, পরগাছা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
পরগাছা পর্ব ৯
-
পরগাছা পর্ব ৪
-
পরগাছা পর্ব ২০
-
পরগাছা পর্ব ১০
-
পরগাছা পর্ব ১১
-
পরগাছা পর্ব ১৭
-
পরগাছা গল্পের লিংক
-
পরগাছা পর্ব ১
-
পরগাছা পর্ব ১৩
-
পরগাছা পর্ব ১৫