পরগাছা |১১|
ইসরাত_তন্বী
(অনুমতি বিহীন কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ)
রাত পেরিয়ে ধরণির বুকে দিনের সময় চলমান। গুঞ্জরিকা সকালেই শাহরিয়ার এর নিকট দলিলখানা দিয়ে এসে নদীর চরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। অসুস্থ শীর্ণ দেহখানা জোরপূর্বক টেনে হাঁটছে মেয়েটা। আজকাল বুকটা ফাঁকা অনুভূত হয়। ফাপড়ের ন্যায় হৃদযন্ত্রটা ওঠানামা করে। একদণ্ড শান্তি মেলে না। গন্তব্যস্থলে পায়ে হেঁটে যেতে ঘণ্টা পাঁচ লাগবে কিংবা তার বেশি। মুন্সীনগর শ্বশুবাড়ি থেকে শশীদিঘির দুরত্ব তেমন বেশি না। আব্বার বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়িতে যেতে খুব বেশি হলে দুই ঘণ্টা মতো সময় লাগে। কিন্তু আপাতত গুঞ্জরিকার হাত শূন্য। ওই বাড়ির মানুষগুলোর মতো তাদের জিনিসের প্রতিও আকাশসম বিতৃষ্ণা জন্মেছে। তাই কোনো টাকা পয়সা সাথে নেইনি মেয়েটা। অগত্যা হেঁটেই যেতে হচ্ছে। অন্যসময় হলে গরুর গাড়ি নিত হয়ত।
সময় বয়ে চলেছে তার মতো। সূর্যিমামার অবস্থান ঠিক মস্তক বরাবর। এতক্ষণে গুঞ্জরিকা পৌঁছাল গন্তব্যস্থলে। হাঁপাচ্ছে মেয়েটা। নদীর এপাশেই বৃক্ষের ছায়াতলে, সবুজ ঘাসের উপরে আস্তে ধীরে বসল। মুগ্ধ চোখে আব্বার রেখে যাওয়া জায়গাটুকু দেখতে লাগল। ওপাশে যাওয়ার জন্য সাঁকোর ব্যবস্থা নেই। খেয়া করে পার হতে হবে। কিন্তু গুঞ্জরিকা তো নিঃস্ব। তাই মন চাইতেও ওপাশে যাওয়া সম্ভব নয়। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সবটা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখছে মেয়েটা। আব্বা আর ভাইজানকে নিয়ে কতশত স্মৃতি মিশে আছে জায়গাটার সাথে।
নদীর চরের মধ্যিখানে এক টুকরো পরিষ্কার জমি। যেখানে বেড়ে উঠেছে নানা রকমের গাছপালা। তাদের ছায়াতলে জমিটা বেশ শান্ত, শীতল দেখাচ্ছে। চারপাশে সবুজের সাম্রাজ্য। এ যেন চোখের শান্তি। সামনে বয়ে চলেছে নদী। এত সুন্দর পরিবেশে অনায়াসেই একাকী একটা জীবন পার করে দেওয়া সম্ভব। প্রকৃতির সাথে বন্ধুত্ব জমে উঠলে তখন আর মানবকুলে মন ঠাঁই পাবে না। কোথায় ঘর বাঁধবে সেটাও ভেবে নিল গুঞ্জরিকা। ওই যে আব্বার লাগানো বকুল ফুল গাছটার নিচে ছোট্ট একটা কুঁড়েঘর হবে গুঞ্জরিকার। উঁচু গাছটার দিকে কিছুক্ষণ একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল। অধরযুগলে হাসির দেখা মিলল। ডুব দিল অতীতে। গাছটা রোপন করা নিয়ে সুখকর একটা অতীত আছে।
গুঞ্জরিকার বয়স তখন বড়ো জোর আট অথবা নয় বছর। মেয়েটার তখন দৌড়ঝাঁপের সঙ্গী ছিল চন্দ্রা এবং পায়রা দুজন সখী। একদিন জাব্বার আলীর সাথে বাড়ি থেকে এতদূরের চরে এল ওরা তিনজন। আব্বা গুঞ্জরিকার পছন্দের বকুল ফুলের চারা রোপণ করবে। এতটুকুতেই যেন ঈদ লেগেছিল মেয়েটার মনে। গাছ হওয়া, না হওয়া পরের কথা। এই চরে এসে দেখল তাইমুর আগে থেকেই এখানে আছে। শুক্রবার হওয়ার দরুন বিদ্যালয়ে যায়নি। ভাইজানকে দেখতেই গুঞ্জরিকার খুশি আকাশচুম্বী তখন। তাইমুর নিজ হাতে খুব যত্ন নিয়ে গাছটা লাগিয়েছিল। গুঞ্জরিকাকে জিজ্ঞাসা করেছিল,
“বকুলফুল তোর খুব প্রিয়?”
গুঞ্জ মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলেছিল। তাইমুর তখন বড়ো সাধ করে বলেছিল,
“এই যে একখানা বকুল গাছ লাগালাম। তোর সব সুখ দুঃখে ওকে সঙ্গী করিস। এখানেই তোর সবটুকুকে বেঁধে রাখিস। তোকে বিয়ে দিয়ে এখানে একটা ঘর বানিয়ে দিব। তোর আর তোর স্বামীর চড়ুই পাখির মতো ছোট্ট সুখের একটা সংসার হবে। তোদের দিন কাটবে দুমুঠো খাবারের সন্ধানে। আর রাত কাটবে এই শান্তির নীড়ে। আমি যখন থাকব না তখন বকুল ফুলের সুবাসে আমাকে খুঁজে নিবি। দেখবি প্রতিটা বকুল ফুলের সুগন্ধের সাথে আমার অস্তিত্ব মিশে আছে। ভাইজান তোকে সারাজীবন সঙ্গ দিবে।”
সবসময় ক্যাটক্যাট করা ভাইজানের মুখে ওই প্রথম ওতো সুন্দর কথা শুনেছিল গুঞ্জরিকা। যেখানে ছিল না কোনো বকা, কোনো পঁচানো। ছিল একরাশ আবেগ, একরাশ স্নেহ এবং অগাধ অপ্রকাশিত ভালোবাসা। ছোট গুঞ্জরিকা ভাইজানকে জড়িয়ে কেঁদেছিল। কারণ একটাই সে ভাইজানকে ছেড়ে কোথাও যাবে না। জাব্বার আলী বকুল গাছের চারপাশের জঞ্জাল পরিষ্কার করছিলেন। বেশ রং, ঢং করে নিজের কন্যা, পুত্রের পাগলামীতে নিজেও সামিল হয়েছিলেন। সখীর চোখের পানিতে চন্দ্রা আর পায়রার বুকটা হু হু করে কেঁদে উঠেছিল। শেষমেশ তারাও সঙ্গ দিয়েছিল। সুখকর অতীত সবসময়ের ন্যায় এবারও গুঞ্জরিকাকে কাঁদাল। কোনো ব্যতিক্রম ঘটল না। শাড়ির আঁচলের একাংশ তুলে ম্লান বদন মুছে নিল গুঞ্জরিকা। মেয়েটা ছলছল নেত্র যুগলের প্রতিবিম্বে সব যেন আজ আবারও নতুন করে দেখল। চোখের পর্দায় অতীত উঁকি দিয়েছিল কিয়ৎসময়ের জন্য। জলে টইটম্বুর আঁখি জোড়া নিয়ে তাচ্ছিল্যের সাথে হাসল। বিড়বিড় করে আওড়াল,
“তুমি কথা দিয়ে কথা রাখোনি ভাইজান। আমায় ছোট্ট ঘর বেঁধে দাওনি।”
.
শেখ বাড়িতে উৎসবের আমেজ। চৌধুরী বাড়ি থেকে বিয়ের তারিখ জানানো হয়েছে। আজ থেকে ঠিক তিনদিন পরে অর্থাৎ শুক্রবারে অদিতির বিয়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাতে চৌঠা আশ্বিন। সকাল থেকেই ব্যস্ত সময় পার করছে আরুষ। নিকট আত্মীয়দের নিকট হাতে লেখা দাওয়াতপত্র পাঠানোর ব্যবস্থা করছে ছুটে ছুটে। সকাল থেকে দুপুর অবধি বসে বসে এগুলোই লিখেছে। এখন মানুষের কাছে দৌড়ে বেড়াচ্ছে। তাদের হাত দিয়েই পাঠানো হবে ওগুলো। আরুষ কিংবা আসমান শেখের যাওয়ার সুযোগ নেই। দুজনের হাতে অফুরন্ত কাজ আপাতত। এরমধ্যে আবার আরুষকে ব্যবসার দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। দুয়েক দিনের মধ্যেই নগর থেকে ব্যবসায়িক কাজে অতিথি আসবে। সবমিলিয়ে বড্ড ব্যস্ত সময় পার করছে ছেলেটা।
মোটামুটি সবার নিমন্ত্রণ পত্র পাঠিয়ে মাত্র নিজের কক্ষে এল আরুষ। বাকিগুলো পাঠানোর জন্য বিকেলে বেরোবে। আফসোস হয় বড়ো, আজ যদি একটা বড়ো ভাই থাকত তাহলে সবকিছু নিয়ে ওকে এতটা ছোটাছুটি করতে হত না। হাহ্! সবই কপাল। সবকিছুতে আজকাল বড্ড ক্লান্ত লাগে। কিন্তু নিজের ক্লান্তির জের ধরে বোনের প্রতি থাকা দায়িত্ব সে অস্বীকার করতে পারে না। একটামাত্র কলিজার বোন অদিতি শেখ। তার প্রতি কোনো অবহেলা রাখতে চায় না। বিয়েটা সবদিক থেকে নিখুঁত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে আরুষের। বাকিটা আল্লাহ ভরসা।
শরীরে জড়ানো সফেদ রঙা পাঞ্জাবীটা আলগোছে খুলে পালঙ্কের একপাশে রাখল আরুষ। ঘেমে নেয়ে অস্থির হয়ে আছে। কপাল বেয়ে টপটপ করে ঘাম ঝরছে। কক্ষের চারপাশে দৃষ্টি ভাসমান হলো। হাতপাখাটা খুঁজল কিন্তু পেল না। পালঙ্কের একপাশে আলগোছে মাথা রাখল। নজর মেঝেতে নিবিষ্ট রইল। তৎক্ষণাৎ দরজা খোলার মৃদু শব্দ কর্ণগোচর হলো। নত দৃষ্টি তুলে সামনে তাকাল আরুষ। অমনিই ক্লান্ত লোচন জোড়া শীতল হয়ে এল। ছড়াল এক আকাশসম মুগ্ধতা। মাত্রই গোসল দিয়ে বেরিয়েছে চন্দ্রা। ফর্সা উন্মুক্ত উদর, গলা ও কাঁধের একাংশ দৃশ্যমান। সিক্ত কেশ বেয়ে টুপটাপ পানি গড়িয়ে পড়ছে। পিঠের একাংশ ভিজে আছে সেই পানিতে। অদূরে বসা স্বামী নামক মানুষটার ওমন চাহনিতে চারিদিক থেকে একরাশ লজ্জা ঘিরে ধরল মেয়েটাকে। লাল হয়ে ওঠা মুখটা নামিয়ে নিল। আরুষ মন্ত্রমুগ্ধের মত বসা থেকে উঠে দাঁড়াল। গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে এসে চন্দ্রার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রইল। চন্দ্রা হাঁসফাঁস করে উঠল। খিচে নয়ন জোড়া বন্ধ করে নিল। আরুষ একপলক মেয়েটার উন্মুক্ত জঠরের দিকে তাকাল। হাত উঠিয়ে আলতো করে ছুঁয়ে দিল সেথায়। দুজনের মধ্যিখানে থাকা দুরত্ব ঘুচিয়ে আরেকটু ঘনিষ্ঠ হলো। মুখটা এগিয়ে চন্দ্রার কান বরাবর নিল। ফিসফিস করে কিছু তিক্ত সত্য আওড়াল। কণ্ঠস্বর একটু গম্ভীর এবং শীতল শোনাল,
“আমাকে রুপ দেখিয়ে কাছে টানতে পারবে না মেয়ে। তোমার প্রতি হয়ত আমার ক্ষণিকের মুগ্ধতা জন্মাবে। সুযোগ পাবে আমার স্পর্শকে গভীরভাবে আলিঙ্গন করার। রাত্রিশেষে তোমার শরীরের প্রতিটা পশমে আমার ছোঁয়া লেপ্টে থাকবে অথচ কোথাও আমি রব না। ভালোবাসা তো এভাবে হয় না মেয়ে। তুমি বড্ড বোকা।”
চন্দ্রা তড়িৎ গতিতে নেত্রপল্লব মেলে চাইল। কিন্তু সামনে কেউ নেই। অথচ কয়েক সেকেণ্ড পূর্বেও অপরপক্ষের গরম নিঃশ্বাস দিব্যি অনুভব করছিল। বেনামি হাওয়ায় কণ্ঠস্বরের সাথে মানুষটাও যেন চোখের পলকে উধাও হয়ে গেল। চন্দ্রা একবার নিজের দিকে তাকাল। মানুষটার স্পর্শ লেপ্টে থাকা অংশের দিকে তাকিয়ে কেঁদে ফেলল। কেবল চন্দ্রা সবাইকে ঠকায়? তাকে কেউ ঠকায় না? এইযে এত আয়োজন করে কাকে ঠকানো হচ্ছে প্রতিনিয়ত? সকলের কাছে খারাপ হয়ে সবতো দিব্যি সয়ে যেতে হচ্ছে তাকে। সে তো চায়নি এই ভাগাভাগির সংসার। নিজের সখীর সুখ চাওয়া মেয়েটা কীভাবে পারে তার সুখের পথে কাঁটা হতে? তৎক্ষণাৎ স্মরণ হলো কারোর মুখনিঃসৃত একটা বাক্য
“পৃথিবীর সব সুখ তোমার হোক চন্দ্রাবতী তবুও আমার মতো করে কেউ কখনো তোমাকে এতটা জঘন্যভাবে ভালো না বাসুক।”
.
পৃথ্বীর বুকে সায়াহ্ন নেমেছে। রাজ করছে নিকষ কালো আঁধার। আজ সারাদিন গুঞ্জরিকাকে একটাবারের জন্যও দেখেনি আরুষ। অদিতিকে বিকেল নাগাদ জিজ্ঞাসা করেছিল। ফিরতি জবাব পেয়েছিল, সে জানে না ভাবীজান কোথায়। তারপর তো আরুষ আবার কাজে বেরিয়েছিল। ফিরল মাত্র। শেখ বাড়ির সামনের সুবিশাল বারান্দায় চেয়ারে চিন্তিত মুখে বসে আছে ছেলেটা। গায়ে শুভ্র রঙা পাঞ্জাবীর উপরে একটা মোটা কালো রঙের শাল জড়ানো। দৌড়ঝাঁপের উপরে থাকলে ঠাণ্ডা তখন লুঙ্গি তুলে পালায়। আরুষের দৃষ্টি নিবদ্ধ বড়ো লোহার ফটকের দিকেই। কারোর ফেরার প্রতিক্ষার প্রহর গুনে চলেছে। তবে সেই অপেক্ষা দীর্ঘ হলো না। মিনিট দশেক পেরোতেই অন্ধকারের মধ্যে একটা অবয়ব স্পষ্ট হলো। মানুষটাকে চিনতে আরুষের একটুও সময় বিলম্ব হলো না। চাতক পাখির মতো চেয়ে রইল। অবয়বটা আস্তে ধীরে সিঁড়ির কাছটাই আসতেই লণ্ঠনের নিয়ন আলোয় তার ফ্যাকাসে বদন স্পষ্ট হলো। অতিব কাঙ্ক্ষিত মুখটার দেখা মিলল। কিন্তু গুঞ্জরিকা যেন ওকে দেখেও দেখল না। ব্যথিত শরীর টেনে শ্লথগতিতে দরজার দিকে হাঁটা ধরল। তক্ষুনি পিছন থেকে ভেসে এল পুরুষালী কণ্ঠস্বর,
“আজ সারাদিন কোথায় ছিলে গুঞ্জন?”
থেমে গেল মেয়েটার চলন্ত পদযুগল। বড়ো একটা শ্বাস ফেলে পিছু ফিরল। ভ্রু কুঁচকে বলল, “আপনার জানার প্রয়োজন দেখছি না।”
আরুষ একবাক্যে মেনে নিল। আজ কোনো ত্যাড়ামো করল না। জানার আগ্রহ দেখাল না। কেবল জানতে চাইল, “সারাদিনে খেয়েছ কিছু?”
গুঞ্জরিকা এই পর্যায়ে হেসে ফেলল, “আমার প্রতি এত যত্নশীল কবে হলেন? আল্লাহ আমাকে না খেয়ে থাকার ক্ষমতাটুকু দিয়েছেন। এটা নিয়ে ভেবে আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করার প্রয়োজন নেই।”
“অথচ আমার জীবনে সবচেয়ে মূল্যবান তুমি।”
কথাটা বলেই তাচ্ছিল্যের সুরে মৃদু হাসল আরুষ। চোখ সরিয়ে নিল গুঞ্জরিকার থেকে। গুঞ্জরিকার মুখের হাসি বাড়ল। উলটো ঘুরে হাঁটা ধরল। আজকাল এইসব কথা ওকে আর টানে না। শ্রবণেন্দ্রিয়ে ঝংকার তুলল পুরুষের শান্ত গলার আওয়াজ,
“অদিতিকে দিয়ে খাবার পাঠিয়ে দিচ্ছি আমি। খেয়ে নিও। মানুষের উপর জমে থাকা রাগ, অভিমান অন্নের উপর দেখাতে নেই। যখন আমি থাকব না তখন বুঝবে কেউ হয়ত সত্যিই ছিল তোমার জন্য। যে তোমার চোখে তারজন্য এক পৃথিবীর সবটুকু ঘৃণা দেখেও তোমার জায়গা কাউকে দেওয়ার দুঃসাহস দেখায়নি। তার মস্তিষ্কের প্রতিটা নিউরনে কেবল তুমিই ছিলে। তোমার রাজত্ব ছিল।”
না চাইতেও কয়েক কদম এগিয়েই থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল গুঞ্জরিকা। অপরপক্ষের মুখনিঃসৃত কথাগুলো বড্ড পীড়া দিল। বুকের মধ্যিখানে সুক্ষ্ম একটা চিনচিনে ব্যথা অনুভব হলো। তা যেন ক্রমশ জোরাল হচ্ছে। গাল বেয়ে বারিধারা নামল মেয়েটার। বিড়বিড় করে বলল,
“একজনকে ভালোবাসলে কখনো আরেকজনের নামে কবুল পড়া যায় না শেখ বাবু। কই এত কষ্টের পরেও আমি তো এটা কল্পনাতেও আনতে পারিনি। জীবন একটা, বিয়ে একটা এবং স্বামীও একটাই হয়। এখানে তৃতীয় পক্ষের কোনো জায়গা থাকে না।”
মুখনিঃসৃত কথাতে ইতি টেনেই সম্মুখে হাঁটা ধরল গুঞ্জরিকা। অদূরে বসে ছেলেটা কি শুনল কথাগুলো? হয়ত! হয়ত না। কেবল কালো শানের মেঝেতে কয়েক ফোঁটা মূল্যবান পানি দৃশ্যমান হলো। তারা সাক্ষী হলো অপ্রকাশিত কিছুর।
চলবে
(ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। প্রিয় পাঠক আপনাদের সকলের গঠনমূলক মন্তব্য ও রেসপন্সের আশা রাখি।)
Share On:
TAGS: ইসরাত তন্বী, পরগাছা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
পরগাছা পর্ব ৬
-
পরগাছা পর্ব ৩
-
পরগাছা পর্ব ৮
-
পরগাছা পর্ব ৭
-
পরগাছা পর্ব ১
-
পরগাছা পর্ব ৯
-
পরগাছা পর্ব ২
-
পরগাছা পর্ব ৪
-
পরগাছা পর্ব ১০
-
পরগাছা গল্পের লিংক