Golpo romantic golpo নূর এ সাহাবাদ

নূর এ সাহাবাদ পর্ব ২


নূরসাহাবাদ

jannatul_ferdous_জান্নাতুল_ফেরদৌস

কপি করা নিষিদ্ধ। কয়েকটা পেইজ আমার গল্পের পরবর্তী পর্ব দিচ্ছে আমি লেখার আগেই । বিশেষ করে লাল ডায়েরি আর কালো ডায়েরি নামে এই দুইটা পেইজ। তাদের বলি, চুরির স্বভাব বাদ দেন ভাই। আর যে ই হোক, আমার গল্প আপনাদের পেইজে যেনো না দেখি।

পর্ব – ২

রমলা ঘরে ঢুকেই আগে প্রভার কে দেখে নিলো। কারণ বাড়িতে যে দুজন ছিলো তারা প্রভার ভীষণ দরদ করে। কে জানে আবার তালা ভেঙে বের করেও দিতে পারে। নাহহ ঠিকই আছে।
রমলা গোসল করতে গেলো।

মেহের খামটা নিজের বিছানার তলায় রেখে জানালার পাশে গিয়ে বসলো। ভীষণ চিন্তা হচ্ছে খামটা কি করে পৌঁছে দিবে সে নিয়ে। দ্রুত না দিতে পারলে হয়তো প্রভাকে বাঁচানোই যাবে না। রাত ওবদি অপেক্ষা করাটাও দুষ্কর হয়ে উঠছে। কাল থেকে না খেয়ে প্রভা। তার ওপর বেধরক মার মেরেছে মাহবুব। আজও তো খাবার দিবে বলে মনে হয় না। দিন ছাড়া বাড়ির লোকের চোখ ফাঁকি দিয়ে বের হতেও পারবে না।

আর জমিদার প্রাসাদে যাওয়ার পর চিঠিটা সে পড়বে তো? নাকি চারিদিকে থেকে বিভিন্ন প্রয়োজনে আসা পত্রগুলোর পিছনেই চাপা পরে থাকবে। মেহের এর ভাবনার মধ্যেই দরজার সামনে থেকে শোনা যায় চিকন মেয়েলি কন্ঠস্বর।
“আসবো?”

মেহের তাকিয়ে দেখলো তিলোত্তমা দাঁড়িয়ে আছে। ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নিলো। কতটা জঘন্য হলে মানুষ বোন বেচে থাকতে বোনের স্বামী কে বিয়ে করে ঘর ভাঙতে আসে। মেহের এর মনে হয় প্রভার এই অবস্থার জন্য তিলোত্তমা ই বেশি দায়ী। তিলোত্তমা মেহের এর কাছ থেকে কোনোরুপ সারা না পেয়ে নিজেই ঢুকলো ঘরে। চারিদিকে চোখ বুলিয়ে দেখে।

মেহের এর পাশে বসে বলল
“তুমি বেশ গোছগাছ করে রাখো ঘর-দোর। তবে তোমার ঘরটা একটু বেশিই ছোট।”

নাক সিটকালো তিলোত্তমা। মেহেরুন্নেসা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলল
“তা অতো বড় রাজপ্রাসাদ ছেড়ে এই ছোট্ট মাটির ঘরে এলে কেনো?”

তিলোত্তমা তীক্ষ্ণ চোখে পরখ করলো মেহের কে। ভালোই কথা যানে মেয়েটা। তবে দেখে বোঝা যায় না। পাল্টা উত্তর দিতে বলল
“পাঁচতলায় সুখ হয় না। সুখ হলে গাছ তলা তেও হয়”

“কিন্তু যখন অন্যের ঘর ভেঙে হয়? তখন? তখন কি হয়?”

তিলোত্তমার এবার বেশ রাগ হলো। খুব সুন্দরী আর মিষ্টি দেখে আগ বাড়িয়ে কথা বলতে এসেছিলো মেহের এর সাথে। কিন্তু এখন বুঝতে পারছে মেহের তাকে দুচোখের বিষ মনে করে। আসলে সে প্রভার শুভাকাঙ্খি। তিলোত্তমার চুপা থাকা দেখে মেহের কিছু বলতে যাবে তখনই মনে পড়লো, সেও তো জমিদার প্রাসাদ থেকেই এসেছে। ওর কাছ থেকে খবর নেওয়া যাবে। মেহের অল্প নরম হলো
“শুনুন, আপনি বাইজিদ শাহ্ কে চিনেন?”

তিলোত্তমা হাসলো
“চিনবো না কেনো? সম্পর্কে ভাই হয় তো। যদিও আমাদের তেমন সম্পর্ক নেই তবে একই মহলে ছিলাম।”

মেহের আরো জানতে জিজ্ঞেস করলো
“সে ভাই বোন দের ভীষণ ভালোবাসে বুঝি?”

আসলে মেহের নিশ্চিত হতে চাচ্ছে প্রভার খবর শুনে সে আসবে কিনা। তিলোত্তমা বালিশে হেলান দিয়ে বলল
“ভাই পাবে কোথায়? বাকের শাহ্ এর একটাই ছেলে। প্রথম স্ত্রীর ঘরের বাইজিদ শাহ্ আর রত্নপ্রভা। সে মারা যাওয়ার পর আমার মা কে বিয়ে করেন। তারপর আমার এক বোন হয়েছে ওর নাম সুনেহেরা। আর কি বললে ভালোবাসা? ওনার ভিতর সেসবের বিন্দুমাত্র ছিটেফোঁটা নেই। নিজের বোনকে ভালোবাসতো হয়তো, আমাদের দিকে তো কখনো ফিরেও তাকান নি। গোটা জীবনে আমার সাথে ২-৩ বার কথা হয়েছে তার সাথে। আমাদের বড্ড ঘেন্না করে উনি। দ্বিতীয় পক্ষ তো, তাই।”

মেহের এর আর কথা বাড়াতে ইচ্ছা হয় না। নিজের জামাকাপড় গোছাতে গোছাতে তিলোত্তমা কে বলল
“আপনি এবার আসতে পারেন। আমি গোসলে যাব”

মুখের ওপর যেতে বলায় তিলোত্তমা কিছুটা অপমানবোধ করলো। তবুও মুখে কিছু না বলে বেড়িয়ে আসে ঘর থেকে। মেহেরও গোসল করতে যায়। কলপাড়ের চারপাশটা টিনের বেড়া দেওয়া। মেহের গোসল করতে ঢুকলেই শাহানা আসলো কলপাড়ে। শাহানা এর আগে কয়েকবার দেখেছে মেহের কে। কিন্ত কথা হয়নি কখনো। মেহের কে দেখেই বুঝলো গোসল করতে এসেছে। মেয়েটাকে যতবার দেখে ততই যেন মুগ্ধ হয়। প্রকৃতির এমন অবিচার পছন্দ হয় না শাহানার। কেনো একজন কে এত বেশি সুন্দর বানাতে হবে? বাকিরা কি দোষ করেছে। মেহেরুন্নেসা খুব বিব্রত বোধ করছে শাহানার এমন তাকিয়ে থাকায়।
“কিছু বলবেন আপা?”

মেহের এর ডাকে শাহানা ঘোর থেকে বেড়োলো। নারী হয়েই আরেক নারীর সৌন্দর্যে এমন ঘোর লেগে যায়। না জানি মেয়েটার স্বামী কত ভাগ্যবান হবে। শাহানা হেসে বলল
“আর বইলো না বইন। সক্কাল বেহানা কল ডা খারাপ হইলো। তাই তুমাগো কলে পানি নিতে আইলাম। তু…..তুমি গোসল কইরা নেও, পরে নিমানি”

মেহের দ্রুত সরে দাড়ালো
“কি বলছেন আপা? নিন, নিন। আপনি পানি নিন আগে।”

শাহানা মিনমিনে গলায় বলে
“না মানে তুমি ভিতরে গোসল করতেসো”

মেহের স্মিত হেসে বলল
“তাতে কি হয়েছে? আপনিও মেয়ে আমিও মেয়ে। আসুন”

শাহানা মুগ্ধ হয় মেহেরের ব্যাবহারে। রুপের মতো মেয়েটার ব্যাবহারও খুউব সুন্দর। কল চাপতে চাপতে শাহানা বলল
“আসলে আমার একটু তাড়া আছে তো। তাই আরকি তোমাগো কলে আইলাম। তোমার ভাইয়ের তো ছুটি শ্যাষ। আইজই যাইবো আবার জমিদার প্রাসাদে”

মেহের এর হুট করে মনে পড়লো শাহানার স্বামীর কথা। সেও তো তার কাছে যেতে চেয়েছিলো প্রভার চিঠি নিয়ে। কিন্ত সৃষ্টি কর্তার কি মহিমা। শাহানা নিজে এসেছে আজ ওদের বাড়ি। মেহের খপ করে শাহানার হাতটা দুহাতে জড়ো করে ধরে বলল
“ও আপা। আপনাকে একটা অনুরোধ করবো, দয়া করে ফিরিয়ে দিবেন না”

মেহের এভাবে ধরায় আরো অবাক হলো শাহানা। মেয়েটার গায়ের বরন দেখে মাঝে মধ্যেই ইচ্ছা হতো মেয়ে টাকে একটু ছুঁয়ে দেখি আদৌ মানুষ নাকি মোমের পুতুল। ডাগর ডাগর দু-চোখ ভর্তি অনুরোধ স্পষ্ট। শাহানা আশ্বস্ত করে বলল
“বলো বোন, কি হয়েছে?”

“আপনার স্বামী তো জমিদার প্রাসাদে কাজ করে। আমি একটা চিঠি পাঠাতে চাই। উনি কি একটু পৌঁছে দিতে পারবেন?”

শাহানা হাসলো
“কেনো পারবেন না? তুমি যানো, আমার স্বামী জমিদার এর খাস লোক। কিন্তু কারে পাঠাবা চিঠি?”

মেহের শুকনো ঢোক গিলে বলল
“আগে কথা দিন এই বিষয়ে আপনি কাওকে বলবেন না। এমনকি আমার পরিবার কেও না”

এমন মিষ্টি মেয়ের কথা কখনো ফেলা যায় নাকি? শাহানা সম্মত হয়ে বলল
“তুমি নিশ্চিন্তে বলো বোন, আমি কাওকে বলবো না”

মেহের একদৌড়ে ঘর থেকে খামটা নিয়ে আসলো। শাহানার হাতে দিয়ে বলল
“ভাইজান কে বলবেন, এটা বাইজিদ শাহ্ কে দিতে। আমি চিরকাল আপনার ওপর কৃতজ্ঞ থাকবো আপা”

শাহানা কিছু বলার আগেই ভিতর থেকে মল্লিকার আওয়াজ পাওয়া যায়।
“কিরে মেহের? গোসল হলো? নতুন বউ ও তো গোসল করবে, তারাতাড়ি কর”

মল্লিকার গলা পেয়ে শাহানা চিঠি টা লুকিয়ে ফেললো নিজের কাছে। দ্রুত কলসি ভরে চলে যায় সেখান থেকে। এবার শুধু চিঠিটা প্রাসাদে পৌঁছানোর পালা।

যোহরের নামাজ শেষে সকলে একসঙ্গে খেতে বসেছে। আসেনি শুধু শামসুর হাওলাদার। বউ মা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন তা তিনি মানতে পারছেন না। খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে ঘরে বসে আছে। মেহের ও খাবার গিলতে পারছে না। অনেক চেষ্টা করছে বলতে যে ভাবিকেও খাবার দিয়ে আসি। কিন্তু সাহস করে উঠতে পারছে না। রমলা মেয়ের হাবভাব দেখে বলল
“সকালেও তোর ঘর থেকে কাল রাতের খাবার বের করেছি। যেমন দিয়েছিলাম তেমনই ছিলো। হাতও লাগাসনি তাতে। কি হয়েছে তোর? সকালেও খেলি না।”

মেহের আমতা আমতা করে বলল
“কি…কিছু না আম্মা”

ভান্ডার ঘর থেকে ভেসে আসে চাপা গোঙানির আওয়াজ। মাহবুব সহ সকলেই সতর্ক হয়। মেহের এর গায়ের লোম খারা হয়ে যায়। শামসুর জেনে যায় তার আগেই মুখ বন্ধ করতে হবে ওর। মাহবুব খাওয়া ছেড়ে উঠে গেলো ভান্ডার ঘরের দিকে। মেহেরও উঠলো দ্রুত মল্লিকা থামানোর চেষ্টা করেও পারলোনা। মেহের ছুটে গিয়ে বাধ সাধলো মাহবুবের সামনে।
“খবরদার ভাইজান। এতবড় অবিচার করিও না। ধর্মে সইবে না, আল্লাহ্ নারাজ হবে ভাইজান। ভাবিকে আর মেরো না”

মাহবুব রমলার দিকে তাকিয়ে চোখ রাঙিয়ে বলে
“ওকে থামাও আম্মা। নয়তো খুব খারাপ হয়ে যাবে”

সরিয়ে দিতে চাইলে মেহের ভাইয়ের পা জড়িয়ে ধরে বসে পরে।
“দোহাই ভাইজান, আর আঘাত করিও না ভাবিকে। মরে যাবে তো। ছেড়ে দাও না ভাইজান, প্রাণ টা ভিক্ষা দাও”

মাহবুব এক ঝটকায় মেহেরকে সরিয়ে দেয়। মেহের ছিটকে মাহবুব এর থেকে দূরে গিয়ে পরে। মাহবুব বড় বড় পা ফেলে ভান্ডার ঘরে গিয়ে ভিতর থেকে খিল তুলে দেয়। মেহেরুন্নেসা দরজা ধাক্কায় আর কেঁদে কেঁদে ডাকে
“ভাইজান খোলো দরজা টা। আল্লাহর দোহাই লাগে ভাইজান মারিও না ভাবিকে। তুমি এত পাষান হইয়ো না। সে তোমার জন্য সোনার ওপর সোহাগা ছেড়ে এসেছে। রাজবাড়ীর মেয়ে গরীবের ঘরে এসেছে তোমায় ভালোবাসে, তুমি কি সেসব ভুলে গেছো ভাইজান? ছেড়ে দাও ভাবি কে”

রমলা খাওয়া ছেড়ে উঠে গিয়ে মেয়েকে টেনে সরায়।
“আরে করিস কি হতভাগী, তোর বাপ চেচামেচি তে চলে আসবে তো। ও মলি, ওর মুখটা চেপে ধর না। আরে আমি যে পারছি না ওর সাথে”

মা আর ফুপু মিলে মেহেরকে ধরে বেধে সরালো সেখান থেকে। শিমুর গা গুলিয়ে উঠছে বার বার। মেহের এর সাথে তারও প্রতিবাদ করা উচিত ছিলো। আজ যা প্রভার সাথে হচ্ছে, কাল তা তার সাথেও হতে পারে।


কুয়াশা ভেজা আকাশের নিচে গাঢ় পাথরে গড়া উঁচু মিনারগুলো মাথা তুলে আছে, যেন শতাব্দীর সাক্ষী। সুউচ্চ চূড়াগুলোর মাথায় লোহার ক্রসের মতো অলঙ্করণ, আর প্রতিটি জানালায় জ্বলছে হলুদাভ মশালের আলো যেন অন্ধকারের বুক চিরে জেগে থাকা সতর্ক চোখ।
প্রাসাদের ভেতরে প্রবেশের আগে দীর্ঘ পাথরের সিঁড়ি, প্রতিটি ধাপ যেন কোনো গোপন ইতিহাসের ভার বহন করছে। সিঁড়ির দু’পাশে লতানো সবুজ গাছ, আর দেয়ালে সারি সারি লণ্ঠন, যাদের আগুন দপদপ করে জ্বলছে বাতাসের হালকা স্পর্শে। আলো আর ছায়ার খেলা পুরো পরিবেশকে করেছে গা ছমছমে, অথচ রাজকীয়।
মধ্যভাগে খিলানযুক্ত একটি বিশাল সেতু। যেন প্রাসাদের এক অংশ থেকে অন্য অংশে যাওয়া মানেই এক জগত থেকে আরেক জগতে প্রবেশ। উপরের বারান্দাগুলো অন্ধকারে আধা ঢাকা, সেখান থেকে হয়তো রক্ষীরা নিচের প্রাঙ্গণ পর্যবেক্ষণ করছে।
রক্ষীরা সব ভারী ধাতব বর্মে আবৃত, হাতে লম্বা বর্শা বা তলোয়ার। তাদের চোখে কোনো আবেগ নেই, আছে শুধু কর্তব্য। প্রাসাদের মূল ফটকে বিশাল লোহার দরজা, তাতে খোদাই করা সাহাবাদের রাজচিহ্ন।
রাতের বেলায় কুয়াশা আরও ঘন হলে পুরো প্রাসাদটা যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে এটা কোনো স্থাপনা নয়, বরং ইতিহাসের নিঃশব্দ প্রহরী, যার দেয়ালের ভেতর লুকিয়ে আছে অজস্র গোপন কক্ষ, অন্ধকার করিডর, আর রাজবংশের অজানা কাহিনি।

প্রাসাদের উত্তর প্রান্তের উঁচু মিনারের ভেতরেই জমিদার পুত্র বাইজিদ এর ব্যক্তিগত কক্ষ। ভারী কাঠের দরজা বন্ধ। বাইরে দু’জন রক্ষী নিঃশব্দে প্রহরায়। ভেতরে নিস্তব্ধতা, শুধু মাঝে মাঝে কাগজ ওলটানোর মৃদু শব্দ।
কক্ষের চারদিকে গাঢ় কাঠের বুকশেলফ, পুরনো দলিল, মোটা খাতা, সিলমোহর আর চামড়ায় বাঁধানো রেজিস্টার। মাঝখানে বিশাল টেবিল, তার ওপর ছড়িয়ে রাখা জমিজমার মানচিত্র, খাজনার হিসাব, প্রজাদের নামের তালিকা। টেবিলের এক কোণে জ্বলছে পিতলের প্রদীপ, এসময় যেন বড় কোনো আলো জ্বালানোও নিষেধ। প্রদীপের হলুদাভ আলো পড়ে আছে তার মুখের ওপর।
সে মাথা সামান্য ঝুঁকিয়ে কাগজ দেখছে। ধারালো চোয়াল, সুগঠিত দেহ, প্রশস্ত কাঁধ। রাজকীয় রক্তের অহংকার যেন তার ভঙ্গিতেই স্পষ্ট। কিন্তু সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে তার চোখ দু’টি, অস্বাভাবিক সবুজাভ। প্রদীপের আলোয় সেই চোখে যেন পান্নার মতো দীপ্তি জ্বলে উঠছে। যখনই সে কোনো হিসাব মিলিয়ে নেয়, চোখের কোণে কঠোর দৃঢ়তা ফুটে ওঠে।
তার আঙুল দীর্ঘ ও দৃঢ়, সিলমোহর তুলে নিয়ে কাগজে চাপ দিচ্ছে মাপা ভঙ্গিতে। মাঝে মাঝে সে জানালার দিকে তাকায়—কুয়াশায় ঢাকা প্রাসাদের প্রাঙ্গণ দেখা যায় অস্পষ্টভাবে। সেই দৃষ্টিতে আছে দায়িত্ব, আছে কর্তৃত্ব… আর কোথাও গভীরে এক চাপা ঝড়।
তার পরনে শুভ্র পাঞ্জাবি আর পায়জামা। চুলগুলো হালকা এলোমেলো, তবু তাতে এক অদ্ভুত আকর্ষণ।
এই মুহূর্তে সে শুধু জমিদার পুত্র নয়,সে এক ভবিষ্যৎ শাসক, যার হাতে প্রজাদের ভাগ্য। তার সবুজ চোখে হিসাবের শীতলতা, কিন্তু ভেতরে কোথাও যেন দপদপ করে জ্বলছে অন্য এক আগুন। যা কেবল ক্ষমতার নয়, আরও গভীর কিছু।

দরজায় মৃদু ঠুকঠাক। বিরক্তি তে কপাল কুচকে আসে বাইজিদ এর। পিছনে ফিরে বলে
“বলেছিলাম কাজের সময় বিরক্ত করো না”

রক্ষী নতজানু হয়ে বলল
“একটি বিশেষ বার্তা নিয়ে এসেছি জনাব।”

বাইজিদ ভ্রু গুটিয়ে নিলো
“জানোই তো এসময় প্রাসাদে সকল কার্যক্রম নিষেধ। দিনে দিও। আর শব্দ কম করো। মহিলাদের খবর দাও অন্দরে কোনোরুপ শব্দ না করতে”

“জনাব আপনি চিঠিটা রাখুন।”

বাইজিদ বাধ্য হয়ে রাখতে বলল টেবিলে। রক্ষী সেটা রেখে বেরিয়ে গেলো। আগ্রহ না থাকা সত্বেও চিঠির খামটা নিলো সে। খামটা হাতে নিয়ে প্রথমেই চোখ পড়লো খামের উপরের বিষয়গুলো তে। প্রদীপের আলোয় হলদে কাগজ খানায় কালো কালি দিয়ে লেখাটা জ্বলজ্বল করছে। প্রেরক – মেহেরুন্নেসা নূর।

বাইজিদ লেখাটার ওপর বৃদ্ধাঙ্গুল ছোয়ালো। নামটায় কেমন অদ্ভুত একটা টান, একটা আকর্ষণ আছে। জিভ দিয়ে শুষ্ক অধর ভিজিয়ে উচ্চারণ করলো
“মেহেরুন্নেসা?”

শুনুন, কিছু অসাধু লোক শুধু মাত্র ফলোয়ার, লাইক কমেন্টের আশায় নূর-এ-সাহাবাদ এর বিভিন্ন পর্ব দিচ্ছে। যাতে লেখার কোনো ধাত ই নেই। ওগুলো আমার লেখা নয়। আমার এই পেইজ টা ফলো করে রাখুন। এখান থেকেই আসল গল্প পাবেন। আমার এই একটাই পেইজ। তাই অন্য পেইজ থেকে ভুল ভাল এলোমেলো গল্প পড়ে রিডিং ব্লকে পড়বেন না। আমার নিয়মিত পাঠক রা এটা বুঝবে। আগের পর্বের রিয়্যাক্ট ১.৯k
এটাতে ২k চাই প্লিজ। আমার পাঠকরা চাইলেই এটা সম্ভব।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply