নূরএসাহাবাদ
jannatul_ferdous_জান্নাতুল_ফেরদৌস
পর্ব – ১২
আজকের বিকেলের আলোটা তখন ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসছে। পশ্চিমের আকাশে সূর্যের রঙ গাঢ় কমলা হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে, যেন দিনের শেষ আলোয় পৃথিবীটাকে একটু বেশি মায়াময় করে তুলতে চায়। সেই মায়ার ভেতরেই নিঃশব্দে অন্দরমহলের করিডোর পেরিয়ে রত্নপ্রভা এগিয়ে গেল মেহেরুন্নেসার কক্ষে।
দরজার সামনে এসে একবার থামল সে। ভেতর থেকে কোনো শব্দ নেই। হালকা করে দরজায় টোকা দিতেই ভেতর থেকে মৃদু স্বর ভেসে এলো
“এসো ভাবি…”
রত্নপ্রভা দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল। মেহেরুন্নেসা জানালার ধারে বসে আছে। চোখটা বাইরে, কিন্তু দৃষ্টি যেন অনেক দূরে এই আঙিনার বাইরেও কোথাও।
রত্নপ্রভা কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে গিয়ে তার পাশে বসল। মেহেরুন্নেসার হাতটা নিজের হাতে তুলে নিল। হাতটা ঠান্ডা… অস্বাভাবিক ঠান্ডা।
“মেহের”
তার গলায় মমতা আর দুশ্চিন্তার মিশ্রণ
“তোমার সাথে একটু কথা ছিলো।”
মেহেরুন্নেসা মুখ ঘুরিয়ে তাকালো। ঠোঁটে হালকা একটা হাসি আনার চেষ্টা করল, কিন্তু সেটা চোখে পৌঁছাল না।
“বলো ভাবি…”
রত্নপ্রভা একটু ইতস্তত করল। যেন কীভাবে শুরু করবে বুঝতে পারছে না। তারপর সরাসরি বলেই ফেলল
“ভাইজান এর সাথে তোমার বিয়ের ব্যাপারে কথা বলছি, তোমার কি সম্মতি আছে?”
প্রশ্নটা শুনে মেহেরুন্নেসার চোখে এক মুহূর্তের জন্য কাঁপন দেখা দিল। সে চোখ নামিয়ে নিল। কোনো উত্তর দিল না। রত্নপ্রভা হাতটা আরও শক্ত করে ধরল।
“চুপ করে থেকো না মেহের। আমি সত্যিটা জানতে চাই। তুমি যদি না চাও, যদি তোমার মনে কোনো আপত্তি থাকে… তুমি শুধু একবার বলো। আমি নিজে ভাইজানের সাথে কথা বলব। তোমাকে জোর করে কিছু করতে দেওয়া হবে না।”
কথাগুলো খুব দৃঢ় শোনালেও তার গলায় একটা কাঁপন ছিলো একটা অদ্ভুত আশঙ্কা। মেহেরুন্নেসা ধীরে ধীরে মাথা তুলল। চোখ দুটো ভিজে উঠেছে, কিন্তু সে কান্না আটকে রেখেছে প্রবলভাবে। কয়েক সেকেন্ড শুধু তাকিয়ে রইল রত্নপ্রভার দিকে… তারপর খুব আস্তে বলল
“না ভাবি…”
একটু থামল। গলার স্বর যেন কোথাও আটকে যাচ্ছে।
“বিয়ে না করে উপায় কি…”
রত্নপ্রভা থমকে গেল। এই উত্তরের জন্য সে প্রস্তুত ছিল না। মেহেরুন্নেসা কথা চালিয়ে গেল
“আমার বাড়িতে তো আর আমার জায়গা হবে না। তুমি তো জানোই ভাবি, ওরা আমাকে কী চোখে দেখে এখন। যেন আমি… আমি তাদের জন্য একটা বোঝা। তার চাইতে বড় কথা ওই বাড়িতে আর আমায় ঢুকতেই দেবে না মা আর ফুপু”
তার গলা কেঁপে উঠল এবার। সে মুখ ঘুরিয়ে নিল, যাতে চোখের পানি দেখা না যায়।
“যে মেয়ে একবার ঘর থেকে বেরিয়ে আসে… সে আর ফিরে গেলে আগের মতো জায়গা পায় না। সেখানে ভালোবাসা থাকে না… শুধু প্রশ্ন থাকে, অপমান থাকে।”
রত্নপ্রভা নিঃশব্দে শুনছে। তার নিজের বুকটাও ভার হয়ে উঠছে। মেহেরুন্নেসা আবার বলল
“এই বিয়েটা আমার জন্য হয়তো একটা আশ্রয়। হয়তো একটা নিরাপত্তা। অথবা শুধু একটা পথ, যেটা না নিলে আমি পুরোপুরি হারিয়ে যাব।”
রত্নপ্রভা হঠাৎ বলল
“কিন্তু তুমি কি ভাইজানকে চাও, মেহের? মানুষ হিসেবে? স্বামী হিসেবে?”
প্রশ্নটা এবার সরাসরি হৃদয়ে আঘাত করল।
মেহেরুন্নেসা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর খুব ধীরে মাথা নাড়ল
“চাওয়া-পাওয়ার হিসাব করার জায়গায় আমি নেই ভাবি…”
একটা তিক্ত হাসি ফুটে উঠল তার ঠোঁটে
“আমার জীবনে এখন শুধু একটা হিসাব কোথায় গেলে আমি টিকে থাকতে পারব।”
রত্নপ্রভা চোখ নামিয়ে নিল। তার ভেতরেও একরাশ অপরাধবোধ জন্ম নিল। এই বিয়েতে সে নিজেও তো একভাবে জড়িয়ে আছে।
সে আস্তে করে বলল,
“তুমি যদি কখনো মনে করো… এই সিদ্ধান্তটা তোমার জন্য ঠিক না… তুমি আমাকে বলবে, ঠিক আছে?”
মেহেরুন্নেসা এবার একটু নরম হলো। রত্নপ্রভার হাতটা শক্ত করে ধরল।
“ তুমি আছো বলেই তো আমি এতটুকু সাহস পাই ভাবি… না হলে অনেক আগেই ভেঙে পড়তাম।”
দুজনেই চুপ হয়ে গেল।
বাইরে তখন সূর্য ডুবে যাচ্ছে। ঘরের ভেতর আলো ক্রমশ ম্লান হয়ে আসছে। রত্নপ্রভা উঠে দাঁড়াল ধীরে। মেহেরুন্নেসার মাথায় আলতো করে হাত রেখে বলল
“তুমি বসো, আমি খাবার নিয়ে আসছি। দুপুরে তো কিছুই খাওনি।”
মেহেরুন্নেসা আপত্তি করতে গিয়েও থেমে গেল। শুধু মৃদু মাথা নেড়ে সম্মতি দিল। রত্নপ্রভা আর দেরি না করে কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেল।
দরজা বন্ধ হতেই চারপাশটা আবার নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
মেহেরুন্নেসা একা একা বসে ছিলো। ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। ঘরের মাঝখানে এসে থামল। তার বুকের ভেতর অদ্ভুত এক শূন্যতা। কিন্তু সেই শূন্যতার মাঝেই হঠাৎ করে একটা দৃশ্য ভেসে উঠল মনে।
গতকালের গয়না দেখার সময় এর কথা মনে পড়তেই তার কান দিয়ে যেন গরম ধোঁয়া বের হতে লাগলো। বাইজিদ তার সামনে বসে ছিলো। চোখে সেই অদ্ভুত তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। গয়নার বদলে তাকে-ই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিল।
গয়না দেখার কথা উঠতেই বলেছিলো
“বাসর রাতে এগুলো সব তোমার গায়ে থেকে দেখে নিবো। এখন দেখতে চাই না”
হঠাৎ করে সেই কথাটা কানে বাজতেই মেহেরুন্নেসার শরীর কেঁপে উঠল। তার গাল দুটো মুহূর্তেই লাল হয়ে উঠল। বুকের ভেতর ধুকপুকানি বেড়ে গেল। সে চোখ বন্ধ করে ফেলল এক মুহূর্তের জন্য।
“এমন কথা…!”
নিজের মনেই ফিসফিস করে উঠল সে।
লজ্জা, অস্বস্তি, আর এক অদ্ভুত অচেনা অনুভূতি সব মিলেমিশে তার ভেতরটা অস্থির করে তুলল। সে দুহাতে নিজের গাল ছুঁয়ে দেখল,গরম হয়ে আছে।
ঠোঁটের কোণে লজ্জা ফুটে উঠল।
কিন্তু ঠিক সেই লজ্জার আড়ালেই কোথাও যেন একটা কম্পন লুকিয়ে আছে যা সে নিজেই বুঝতে চায় না।
ঠিক তখনই
“বাহ…”
দরজার দিক থেকে ভেসে এলো এক মিহি, কটাক্ষ মেশানো কণ্ঠ। মেহেরুন্নেসা চমকে উঠে তাকালো।
দরজার ফাঁকে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সিমরান। তার চোখে সেই চেনা দৃষ্টি, আর ভেতরে ভেতরে জ্বলতে থাকা হিংসার আগুন।
সে ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকল। পায়ের নুপুরের শব্দটা যেন ইচ্ছে করেই একটু জোরে বাজাল।
“একাই একা লজ্জা পাচ্ছো নাকি?”
ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল সে। মেহেরুন্নেসা একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেল। তবুও নিজেকে সামলে নিয়ে বলল
“আপনি কিছু বলবেন?”
সিমরান সরাসরি কোনো উত্তর দিল না। সে এগিয়ে এলো খুব কাছে। তারপর ধীরে ধীরে মেহেরুন্নেসাকে ঘিরে একবার ঘুরল। মাথা থেকে পা পর্যন্ত তাকাল একদম খুঁটিয়ে, যেন কোনো দামী জিনিস যাচাই করছে।
“হুম”
সে মৃদু গলায় বলল,
“দেখতে তো সত্যিই খুব সুন্দর…”
তার আঙুলটা হালকা করে ছুঁয়ে গেল মেহেরুন্নেসার চিবুক।
“এই চোখ, এই ঠোঁট,এই গায়ের রং”
তার কণ্ঠে প্রশংসা থাকলেও চোখে ছিল বিষ।
“বুঝতেই পারছি কেনো শাহজাদা এত পাগল হয়ে গেছে তোমার জন্য। এগুলো দেখিয়েই ভুলিয়েছো তাই না?”
মেহেরুন্নেসা এক পা পিছিয়ে গেল। স্পষ্ট অস্বস্তি তার চোখে। সিমরান সেটা লক্ষ্য করেই হালকা হেসে উঠল
“ভয় পাচ্ছো?”
তারপর ঝুঁকে এসে খুব নিচু স্বরে বলল—
“নাকি… অন্য কিছু মনে পড়ছে?”
মেহেরুন্নেসার গাল আবার লাল হয়ে উঠল। সে মুখ ঘুরিয়ে নিল। সিমরান সেই লাল হয়ে ওঠা মুখটা দেখে চোখ সরু করল।
“ওহ্। কিছু তো আছে!”
সে আবার ঘুরে দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে বলল
“কিন্তু জানো, এই রূপ… এই সৌন্দর্য… সবকিছুই খুব ক্ষণস্থায়ী।”
তার কণ্ঠ এবার ঠান্ডা হয়ে গেল
“আজ তুমি এই বাড়ির সবার চোখের মণি… কাল কী হবে, কে জানে?”
মেহেরুন্নেসা এবার দৃঢ় গলায় বলল
“আপনি যদি কিছু বলতে চান, সরাসরি বলুন।”
সিমরান থামল। তারপর ধীরে ধীরে তার দিকে তাকাল।
“বলবই তো…”
ঠোঁটে তীক্ষ্ণ হাসি ফুটিয়ে বলল সে,
“এই বাড়িতে জায়গা করে নেওয়া এত সহজ না, মেহেরুন্নেসা।”
একটু থেমে আবার বলল
“বিশেষ করে যখন সেই জায়গাটা… অন্য কেউ চেয়েছিল।”
ঘরের ভেতর হঠাৎ করে একটা ঠান্ডা নীরবতা নেমে এলো।
দুজনের চোখে চোখ পড়ে রইল।
একজনের চোখে অস্বস্তি আর চেপে রাখা লজ্জা। আরেকজনের চোখে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা হিংসা।
ঠিক সেই সময় দরজার বাইরে পায়ের শব্দ শোনা গেল। সিমরান মুহূর্তেই চুপ হয়ে গেল। চোখের সেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টি মিলিয়ে গিয়ে ঠোঁটে একদম ভদ্র একটা হাসি টেনে আনল সে।
দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল রত্নপ্রভা, হাতে খাবারের থালা।
“মেহের, নাও, গরম গরম খেয়ে নাও”
কথা শেষ করার আগেই তার চোখে পড়ল সিমরানকে।
“ওহ, তুমি এখানে?”
স্বাভাবিক গলায় জিজ্ঞেস করল সে। সিমরান মাথা নিচু করে নরম স্বরে বলল
“জি আপা। একটু দেখতে এসেছিলাম… এখন যাই।”
তার চোখ একবার মেহেরুন্নেসার দিকে গেল। একটা অদ্ভুত, অর্থবহ দৃষ্টি। যেন কিছু বলে গেল নীরবে। তারপর আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। ধীর পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। রত্নপ্রভা একটু অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল দরজার দিকে। তারপর মেহেরুন্নেসার দিকে ফিরে এসে বলল
“ও কিছু বলছিল?”
মেহেরুন্নেসা মাথা নাড়িয়ে বলল
“না ভাবি… তেমন কিছু না।”
রত্নপ্রভা আর খোঁচালো না। থালাটা সামনে এগিয়ে দিয়ে বলল
“এসো, খাও।”
ওদিকে সিমরান দ্রুত পায়ে অন্দরমহলের অন্য প্রান্তে চলে গেল। তার মুখের ভদ্রতার মুখোশ তখন আর নেই। চোখে সেই আগুন… হিংসার দাউদাউ শিখা।
একটা অন্ধকার কোণের ঘরের সামনে এসে থামল সে।
“আম্মা…” ধীরে ডেকে উঠল।
ভেতর থেকে গম্ভীর স্বর এলো
“এসো।”
ঘরে ঢুকতেই দেখা গেল মারজান বসে আছে মশালের ক্ষীণ আলোয়। চোখ দুটো তীক্ষ্ণ, ঠোঁটে অদ্ভুত এক হিসেবি হাসি।
“কী খবর?” সে জিজ্ঞেস করল।
সিমরান বিরক্ত গলায় বলল
“আম্মাজান ওদের তো সত্যি সত্যি বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। কিছু করুন না আম্মা”
মারজান হালকা হেসে বলল—
“যেটা হচ্ছে সেটা হতে দাও। বাকি সব আমার মাথায় আছে। তোমায় অত ভাবতে হবে না বুঝলে। তুমি শুধু সাজুগুজু করি বাইজিদ টর আশেপাশে ঘুরঘুর করবে। এতটুকুই তোমার কাজ”
সিমরান দাঁত চেপে বলল—
“মেহেরুন্নের অত সুন্দর রূপটাই আমার সহ্য হচ্ছে না, আম্মা। শাহজাদা যেভাবে ওর দিকে তাকায়…!”
মারজান এবার একটু সোজা হয়ে বসল।
“তাই বলে শুধু হিংসা করে বসে থাকলে চলবে?”
সিমরান চোখ তুলে তাকাল
“তাহলে?”
মারজান ধীরে ধীরে বলল
“এই প্রাসাদের কিছু নিয়ম আছে, যেগুলো সবাই জানো। রাতে এই প্রাসাদ থেকে বেরোনো নিষেধ। অনেক কিছুই হতে পারে। ধরো মেয়েটা বের হলো। তাহলে কেমম হবে বলোতো।
তার ঠোঁটে ধীরে ধীরে একটা রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল
“কিন্তু নতুন মেয়েটা…?
সিমরানের চোখে কৌতূহল জ্বলে উঠল।
“আপনি ওকে সন্ধ্যার ওর বাইরে পাঠাতে চাচ্ছেন আম্মা?”
মারজান নিচু স্বরে বলল
“সন্ধ্যার পর… এই প্রাসাদে কেউ বাইরে বেরোয় না।”
একটু থামল। যেন কথাটার ভার বাড়িয়ে তুলল।
“কেউই না।”
সিমরান ধীরে ধীরে হাসল।
“আর যদি বেরোয়?”
মারজানের চোখে অদ্ভুত ঝিলিক
“সেটাই তো চাইছি সিমরান”
কথা গুলো শুনে সিমরানের ঠোঁট বাঁকা হয়ে উঠল। চোখে জ্বলে উঠল শয়তানি আনন্দ
“বুঝেছি, আম্মা…”
“ও নিজেই ফাঁদে পা দেবে। আমরা শুধু… পথটা দেখিয়ে দেব।”
সিমরান দরজার দিকে হাঁটতে হাঁটতে থামল।
একবার পিছন ফিরে তাকাল
“আজকের রাতটা… মেহেরুন্নেসার জন্য শাহাজাদার সাথে থাকা শেষ দিন”
বাইরে তখন সূর্য ডুবতে শুরু করেছে।
প্রাসাদের ওপর ধীরে ধীরে নেমে আসছে সন্ধ্যার অদ্ভুত, নিস্তব্ধ ছায়া। আর সেই ছায়ার আড়ালেই
জন্ম নিচ্ছে এক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র।রাত নামতে শুরু করেছে। প্রাসাদের করিডোরগুলো একে একে নিস্তব্ধ হয়ে পড়ছে। মশালের আলো দেয়ালে লম্বা ছায়া ফেলছে। একটা চাপা অস্বস্তি যেন চারপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে।
এই সময়েই মারজান ধীর পায়ে এগিয়ে গেল বাইজিদের কক্ষের দিকে। দরজার সামনে এসে একবার থামল সে। ঠোঁটে হালকা এক হিসেবি হাসি ফুটে উঠল। তারপর দরজায় টোকা দিল।
ভেতর থেকে গম্ভীর স্বর ভেসে এলো
“কে?”
“আমি… দরজা খোলো।”
দরজা খুলতেই দেখা গেল বাইজিদ ভেতরে দাঁড়িয়ে। সদ্য গোসল করে এসেছে। চুল ভেজা, গায়ে হালকা পোশাক। কিন্তু চোখ দুটো এখনও তীক্ষ্ণ সচেতন।
“কিছু বলবেন?”
ঠান্ডা গলায় জিজ্ঞেস করল সে। মারজান ভেতরে ঢুকে ধীরে ধীরে চারপাশে তাকাল। তারপর স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল
“কাল তোমার আর মেহেরুন্নেসার গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান সেটা জানাতে এলাম”
বাইজিদ এক মুহূর্ত চুপ করে রইল।
তারপর ধীরে ধীরে বলল
“না।”
বাইজিদ এর কথায় মারজান ভ্রু কুঁচকে তাকাল
“মানে?”
বাইজিদ এবার সোজা হয়ে দাঁড়াল। চোখে কোনো দ্বিধা নেই।
“মানে, আমি এই অনুষ্ঠান করব না।”
মারজানের মুখ শক্ত হয়ে গেল।
“কেন? এটা তো আমাদের প্রথা”
বাইজিদ তাকে থামিয়ে দিল।
“প্রথা হতে পারে… কিন্তু ইসলামে এমন কোনো নিয়ম নেই।”
তার গলায় যুক্তির কঠোরতা।
একটু থামল, তারপর আরও নিচু কিন্তু দৃঢ় স্বরে বলল
“আর তার চেয়েও বড় কথা….. ”
তার চোখে হালকা আগুন জ্বলে উঠল।
“আমি চাই না আমার স্ত্রী সেজেগুজে অন্য কারো সামনে আসুক।”
বাইজিদ এর কথা শুনে মারজান তাকিয়ে রইল তার দিকে। চোখে অবিশ্বাস, তারপর ধীরে ধীরে সেটা রূপ নিল হিংসায়।
বাইজিদ কথা চালিয়ে গেল
“যদি অন্দরেই, বাড়ির কয়েকজন মহিলা নিয়ে কিছু করতে চান… করতে পারেন। তার বাইরে কিছু হবে না। আমার স্ত্রীর গায়ে কোনো বহিরাগত নারীও যেন হাত না লাগায়”
মারজান এবার ঠোঁট চেপে ধরল। তার চোখে ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
“তাহলে… এত আয়োজন সব বাতিল?”
সে কটাক্ষ করে বলল। বাইজিদ শান্ত গলায় উত্তর দিল
“যেটা অপ্রয়োজনীয়, সেটা বাতিল হওয়াই ভালো।”
মারজান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর ঠোঁট বাঁকিয়ে হালকা ভেংচি কাটল। যেন নিজের ভেতরের জ্বালা লুকাতে পারছে না।
“বুঝেছি”
মারজান আর দাঁড়াল না। ঘুরে দরজার দিকে হাঁটল। বেরিয়ে যাওয়ার সময় তার মুখে সেই তীব্র হিংসার ছাপ মেহেরুন্নেসার জন্য বাইজিদের এই অদ্ভুত টান, সেটা যেন তাকে ভেতর থেকে
জ্বালিয়ে দিচ্ছে।
দরজা পেরিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতেই তার ঠোঁট শক্ত হয়ে গেল।
মনে মনে ফিসফিস করে উঠল
“দেখি… কতদিন থাকে এই টান।”
রাত পুরোপুরি নেমে এসেছে।নসাহাবাদ প্রাসাদ যেন এক নিমিষে বদলে গেছে। দিনের কোলাহল, মানুষের চলাফেরা সব কিছু হঠাৎ করেই থেমে গেছে। একে একে সব আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্দরমহলের মশালগুলোও আজ যেন ইচ্ছে করেই ম্লান রাখা হয়েছে।
সদর দরজা বন্ধ।
ভারী কাঠের দরজার ওপারে পাহারার শব্দ নেই বললেই চলে।
রক্ষীরাও যেন কোথাও লুকিয়ে পড়েছে অদৃশ্য হয়ে গেছে এই অন্ধকারের ভেতর।
এ প্রাসাদের অদ্ভুত নিয়ম। সন্ধ্যার পর কেউ বাইরে পা রাখে না। কিন্তু এই নিয়মটা মেহেরুন্নেসা জানে না।
ঘরের ভেতর বসে থাকতে থাকতে তার মনে এক অদ্ভুত কৌতূহল জন্ম নিল। এত বড় প্রাসাদ, অথচ এমন নিস্তব্ধ কেন? যেন কোনো কিছু ইচ্ছে করে আড়াল করা হচ্ছে।
সে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল।
পায়ের শব্দ যতটা সম্ভব কমিয়ে ভিতরের ঘরের দিকে এগোল। সেই ঘরটা সারাদিনই বন্ধ ছিলো, কিন্তু এখন দরজাটা আধখোলা। ভেতরে ঢুকে চারপাশে তাকাল। ঘরটা ফাঁকা, হালকা ধুলোর গন্ধ।
একপাশে বড় একটা জানালা যেটা বাইরে মুখ করে আছে।
মেহেরুন্নেসার উদ্দেশ্য বাইরের আকাশ দেখা। কৌতূহল আরও বেড়ে গেল। সে এগিয়ে গিয়ে জানালার পাল্লাটা আলতো করে ঠেলে খুলল।
কড়কড় শব্দ করে জানালাটা খুলে গেল।
তার চোখ হঠাৎ থেমে গেল। প্রকৃতির কি অপরুপ সৌন্দর্য। দূরে অন্ধকারের মাঝে এক ফালি রূপালি আলোয় ঝিকমিক করছে নদী।
এই প্রাসাদ থেকে নদী দেখা যায়, সে জানত না।
কিন্তু তার দৃষ্টি সেখানে থামল না। চোখে পড়লো নদীর বুক চিরে ধীরে ধীরে ভেসে আসছে কিছু একটা।
একটা বিশাল ছায়া। মেহেরুন্নেসা চোখ কুঁচকে তাকাল। আরও কাছে আসতেই পরিষ্কার হলো
একটা জাহাজ। অনেক বড়।
অন্ধকারের মধ্যে তার অবয়ব যেন আরও ভয়ংকর লাগছে। কোনো আলো নেই প্রায়, শুধু কোথাও কোথাও ক্ষীণ আলো দপদপ করছে।
জাহাজটা নিঃশব্দে এগিয়ে আসছে।
কোনো ঢেউয়ের শব্দ নেই, কোনো মানুষের কণ্ঠ নেই। সবকিছু অস্বাভাবিকভাবে চুপচাপ।
মেহেরুন্নেসার বুকের ভেতর ধুকপুকানি বেড়ে গেল।
“এটা… এই সময়ে?”
নিজের মনেই ফিসফিস করে উঠল সে। তার চোখে বিস্ময়, সাথে অজানা এক ভয়। এই প্রাসাদে রাত নামার সাথে সাথে সবকিছু বন্ধ হয়ে যায় কেনো? আর এই জাহাজই কেন আসছে? এতরাতে? আর এত গোপনে?
মেহেরুন্নেসা ভাবলো বানিজ্যিক জাহাজও তো হতে পারে। কিন্তু তাহলে তাদের আগমণে কোনো রক্ষীও তো গেল না।
হঠাৎ করে জাহাজের ওপর এক ঝলক আলো জ্বলে উঠল। এক মুহূর্তের জন্য যেন কিছু নড়াচড়া দেখা গেল। তারপর আবার অন্ধকার। মেহেরুন্নেসার গলা শুকিয়ে গেল। সে অজান্তেই জানালার কাঠ শক্ত করে চেপে ধরল।
তার মনে হলো
সে এমন কিছু দেখছে, যা দেখা তার উচিত না।
দূরে জাহাজটা ধীরে ধীরে আরও কাছে ভেসে আসছে…
আর প্রাসাদের চারপাশের অন্ধকার যেন ক্রমশ ঘন হয়ে উঠছে। যেন এই রহস্যটাকে লুকিয়ে রাখতে চাইছে পুরোরাত গভীর হয়েছে।
আকাশটা অদ্ভুত এক রঙে ঢেকে আছে। গাঢ় লাল আর কালচে অন্ধকার মিশে যেন দিগন্তজুড়ে রক্তিম এক ছায়া ফেলেছে। শুধু দূরে, দিগন্তের কাছে একটা নিভু নিভু আলো।
নদীর পানি কালো, অথচ তার বুকে সেই লালচে আভা ছড়িয়ে আছে। মৃদু ঢেউগুলো আলোটাকে ভেঙে ভেঙে দিচ্ছে। প্রতিটা ঢেউ যেন অন্ধকারের বুক চিরে নিঃশব্দে এগিয়ে আসছে।
সেই নিস্তব্ধতার মাঝেই
দূরে সে বিশাল ছায়া ভেসে উঠেছে জাহাজ এর।
অন্ধকারে তার অবয়ব আরও ভারী, আরও রহস্যময়। মাথার ওপর কাঠামোগুলো দাঁড়িয়ে আছে কালো দানবের কাঁটার মতো। কোনো স্পষ্ট আলো নেই, শুধু কোথাও কোথাও ক্ষীণ আলো দপ করে জ্বলে আবার নিভে যাচ্ছে যেন শ্বাস নিচ্ছে।
জাহাজটা এগিয়ে আসছে খুব ধীরে। এতটাই ধীরে যে মনে হয় সময়ই থেমে গেছে। চারপাশে কোনো শব্দ নেই। না মানুষের কণ্ঠ, না কোনো যন্ত্রের গর্জন, না পানির জোরে ছিটকে ওঠা ঢেউ।
সবকিছু অস্বাভাবিকভাবে নীরব। শুধু দূরের আকাশে কয়েকটা পাখি উড়ে যাচ্ছে, তাদের কালো ছায়া লাল আকাশের বুকে কেটে যাচ্ছে নিঃশব্দে। নদীর বুকের ওপর জাহাজটা যেন এক অচেনা ছায়া। যেন এই পৃথিবীর নয়।
যতই কাছে আসে, ততই মনে হয় তার ভেতরে কিছু লুকানো আছে
কিন্ত মেহেরুন্নেসার চোখে পড়ল আরেকটা নড়াচড়া। নদীর দিকেই তাকিয়ে ছিল সে, কিন্তু হঠাৎ ডান পাশের অন্ধকার চিরে যেন একটা ছায়া ছুটে গেল। প্রথমে ঠিক বোঝা গেল না বাতাস, না কোনো মানুষ? সে চোখ কুঁচকে তাকাল।
তারপরই স্পষ্ট হলো একটা ঘোড়া।
অন্ধকার পথ ধরে তীব্র গতিতে ছুটে যাচ্ছে। খুরের শব্দ প্রায় শোনা যায় না, যেন ইচ্ছে করেই শব্দ চাপা রাখা হয়েছে। শুধু মাঝেমধ্যে শুকনো মাটিতে চাপা ঠোকাঠুকির আওয়াজ ভেসে আসছে। ঘোড়ার পিঠে একজন।
চাঁদের ম্লান আলো হঠাৎ করে মেঘের ফাঁক দিয়ে নেমে এলো। সেই আলোয় এক ঝলক দেখা গেল
সোনালি চুল হাওয়ায় উড়ছে। অন্ধকারের মাঝেও অদ্ভুতভাবে ঝলমল করছে।
মেহেরুন্নেসার বুক কেঁপে উঠল।
“ওটা…!”
চিনতে একটুও সময় লাগল না জমিদার বাড়ির ছোট মেয়ে সুনেহেরা।
সে একা, রাতের এই নিষিদ্ধ সময়ে, প্রাসাদের সীমানা পেরিয়ে নদীর দিকেই ছুটে যাচ্ছে।
তার বসার ভঙ্গি দৃঢ়, তাড়াহুড়া স্পষ্ট। যেন সে জানে কোথায় যাচ্ছে আর কেন যাচ্ছে।
মেহেরুন্নেসা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।
এই প্রাসাদে সন্ধ্যার পর কেউ বাইরে বেরোয় না,
তাহলে সুনেহেরা কেন যাচ্ছে?
তার দৃষ্টি আবার নদীর দিকে ফিরল। জাহাজটা আরও কাছে এসেছে এখন। তারপর আবার সুনেহেরার দিকে ঘোড়াটা সোজা সেই দিকেই ছুটছে। মেহেরুন্নেসার মনে হঠাৎ করে এক অজানা শঙ্কা জাগল।
এটা কাকতালীয় নয়।কিছু একটা ঘটতে চলেছে। হঠাৎ যেন নিজেরই বুকের ধুকপুকানি শুনতে পেল মেহেরুন্নেসা।
এখানে দাঁড়িয়ে থাকা ঠিক না।
তড়িঘড়ি করে জানালার পাল্লা টেনে বন্ধ করে দিল সে। কড়কড় শব্দটা রাতের নিস্তব্ধতায় অস্বাভাবিক জোরে শোনা গেল। বুকের ভেতর অজানা ভয় আর অস্থিরতা নিয়ে সে ঘুরে দাঁড়াল
দৌড়ে নিজের কক্ষের দিকে রওনা হলো। আর ঠিক তখনই ধপ্ করে এক শব্দ।
সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কারও সাথে সরাসরি ধাক্কা খেল। এক মুহূর্তের জন্য ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিল সে, কিন্তু শক্ত দুটো হাত তাকে আঁকড়ে ধরল। তার সরু কোমর জড়িয়ে ধরেছে সেই হাত।
মেহেরুন্নেসা চমকে উঠে মুখ তুলল।
মশালের ক্ষীণ আলোয় স্পষ্ট হলো বাইজিদ এর অবয়ব। এতটাই কাছে যে দুজনের নিঃশ্বাস একে অপরের গালে লাগছে। এক মুহূর্ত। সময় যেন থেমে গেল।
বাইজিদের হাত এখনও তার কোমরে। তার চোখ দুটো স্থির হয়ে আছে মেহেরুন্নেসার মুখে। সেই সবুজ দৃষ্টি হঠাৎ যেন অন্যরকম হয়ে উঠল। কঠোর না, দুষ্টু না বরং অচেনা, গভীর কিছু।
মেহেরুন্নেসার বুক ওঠানামা করছে দ্রুত। তার শ্বাস বাইজিদের গায়ে লাগছে।
আর ঠিক তখনই বাইজিদের ভেতরেও যেন কিছু বদলে গেল। এই কাছাকাছি আসা এই উষ্ণতা
তার বুকের ভেতর অদ্ভুত এক টান তৈরি করল।
সে এক মুহূর্ত চোখ সরাতে পারল না। তারপর হঠাৎ যেন নিজেই চমকে উঠল।
দ্রুত হাত সরিয়ে নিল। এক পা পিছিয়ে গেল।
গভীর করে একটা শ্বাস নিল আরও একটা।
নিজেকে সামলানোর চেষ্টা। মেহেরুন্নেসা তখনও স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে। তার মুখ লাল, নিঃশ্বাস ভারী। যেন হঠাৎ করে সবকিছু বুঝে উঠতে পারছে না।
মেহেরুন্নেসার আরও অস্বস্তি হচ্ছিল। সে হালকা করে পেছাতে চাইল, কিন্তু জায়গা কম।
সে একটু হাঁপাতে লাগল—
“আ… আমি…”
কথা আটকে যাচ্ছে। বাইজিদ এবার নিজের শ্বাস স্বাভাবিক করে নিল। চোখের দৃষ্টি আবার আগের মতো স্থির, নিয়ন্ত্রিত। তার গলা গভীর, খানিকটা কঠোর,
“ কোথায় গেছিলে, মেহেরুন্নেসা? এই অন্ধকারে”
প্রশ্নটা শুনে মেহেরুন্নেসার বুক আবার ধক্ করে উঠল। মাথা নিচু করে বলল
“এমনিই হাটাহাটি করছিলাম। কিন্তু আপনি এখানে কেনো?”
বাইজিদ কেমন ঘোর লাগা গলায় বলল
“তোমার কাছে যাচ্ছিলাম।”
মেহেরুন্নেসার মাথা তখনো নিচু। বাইজিদ বুকে হাত গুজে দেয়াল হেলান দিয়ে বলল
“কারণ জানতে চাইবে না?”
মেহেরুন্নেসা উত্তর দিল না। বাইজিদ অস্থির হয়ে বলল
“আমাদের বিবাহ কবে বলোতো”
মেহেরুন্নেসা ইতস্তত বোধ করে বলল
“পরশু”
“পরশু কবে?”
“কালকের দিন পরে”
বাইজিদ কেমন বাচ্চাদের মত করে বলল
“কালকের দিন কখন যাবে?”
মেহেরুন্নেসা সরু চোখে তাকালো তার দিকে।
“এত তাড়া কিসের আপনার?”
বাউজিদ কপাল কুচকে তাকায় মেহেরুন্নেসার দিকে। সোজা হয়ে দাড়িয়ে বলল
“আমার কক্ষে চলো”
বলতে দেরি, মেহের এর হাত খপ করে ধরে টেনে নিয়ে যেতে দেরি নেই। মেহের বাইজিদ এর টানে যাচ্ছে আর বলছে
“কি করছেন? কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমায়?”
আজ অনেক বড় পর্ব দিলাম। পরের পর্বে বিবাহ হবে ইনশাআল্লাহ 😌। ৩k পূরণ হলেই গল্প পেয়ে যাবা তোমরা। কেমন হলো অবশ্যই বলবা। ভালোবাসা তোমাদের কে।
Share On:
TAGS: জান্নাতুল ফেরদৌস, নূর এ সাহাবাদ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৮
-
নূর এ সাহাবাদ পর্ব ৪
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৪১
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৬
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৪৬ এর প্রথমাংশ
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৪
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৪৪ এর শেষাংশ
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২১
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৫৫