নীভৃতেপ্রেমআমার_নীলাঞ্জনা
নাজনীননেছানাবিলা
বোনাস_পর্ব
অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ ❌❌❌
নীলা কিছু বলতে যাবে ঠিক সেই মুহূর্তেই শুনতে পেলো বাহির থেকে দরজায় কেউ কড়া নাড়ছে।নীলা এবং মিহাল দুজনেই ভরকে গেলো।নীলা আর মিহাল কে কিছু না বলে জানালা দিয়ে উঠতে লাগলো।মিহাল শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে। নীলার অনেক রূপ এই পর্যন্ত দেখে এসেছে সে কিন্তু এমন রূপ কখনো দেখতে হবে তা সে কল্পনা করেনি।নীলা জানালা উঠে মিহালের দিকে তাকিয়ে রাগান্বিত কন্ঠে বলল__
আমাকে দেখার জন্য গোটা জীবন পরে আছে।এখন যদি এখান থেকে না পালান তাহলে এই ফার্মে ক্ষেড়ের মধ্যে আপনাকে পটল তুলতে হবে।
মিহালের যেন হুঁশ ফিরল।সে নিজেও নীলা কে সাহায্য করল যেন নীলা খুব সহজেই নেমে যেতে পারে। নীলা জানালা দিয়ে নিচে লাফ দিল ঠিকই কিন্তু ততক্ষণে বডিগার্ডরা দরজা ভেঙে ভেতর চলে এসেছে।মিহাল এখন নিজেও জানালায় উঠার চেষ্টা করছে। হঠাৎ তার পাশ থেকে এসে একজন বডিগার্ড তার মুখে ঘুষি মারে।এই আচমকা আক্রমণের জন্য মিহাল মোটেও প্রস্তুত ছিল না।তাই সে নিজেকে প্রতিরক্ষা করতে ব্যর্থ হয়। ঘুষির কারণে তার ঠোঁট কেটে রক্ত বের হতে থাকে।যা দেখে নীলার মাথায় রাগ চেপে উঠে। নীলা এক হাত দিয়ে মিহাল কে নামাতে সাহায্য করছে এবং অন্য হাত দিয়ে ব্যাগ থেকে স্প্রের বোতল বের করার চেষ্টা করছে।
ততক্ষণে মিহাল কে পেছন থেকে দুজন বডিগার্ড এসে ধরে ফেলেছে।মিহাল নিজেকে ছাড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু অনেক্ষণ যাবৎ অচেতন থাকায় সে শক্তি পাচ্ছে না। দুজন বডিগার্ড মিলে তাকে জানালা থেকে নিচে নামিয়ে ফেলেছে অনেকটা।
নীলা ব্যাগ থেকে যেই স্প্রের বোতলে মরিচের পানি গুলানো ছিল সেই স্প্রের বোতল বের করতে সক্ষম হলো। এবং নিজের পা উঁচু করে খুব বুদ্ধিমত্তা এবং সাবধানতার সাথে মিহাল কে ছেড়ে বাকি দুজনের চোখে মরিচের পানির স্প্রে করল। দুজন লোক সঙ্গে সঙ্গে মিহাল কে ছেড়ে দিয়ে নিজেদের চোখ ধরে ফেলল।এই সুযোগে মিহাল আবার জানালায় উঠে পরলো। কিন্তু দুজন বডিগার্ডের মধ্যে একজনের হাতে ছুড়ি ছিল সে এক হাত দিয়ে নিজের চোখ ধরে রাখতে হলেও অন্য হাত দিয়ে মিহালকে ধরে রাখার চেষ্টা করতে থাকে ফলস্বরূপ তার ছুরির আঘাত লাগে মিহালের হাতে। বেশ অনেকটা গভীরে ছুরি ঢুকে যায় নে
মিহালের বাহুতে। মিহাল চোখ বন্ধ করে সেই ব্যথা সহ্য করে জানালা ধরে এবং নীলার সাহায্য নিয়ে জানালা থেকে নিচে নেমে পড়ে।
নীলা যখন দেখলো মিহালের হাত থেকে রক্ত পরছে তার চোখ বড় বড় হয়ে উঠলো।ভয়ে কিছুটা আতকে উঠলো। কিছু না ভেবেই মিহালের ক্ষত স্থানে আলতো করে হাত ছুঁইয়ে নম্র স্বরে বলল__
অনেকটা কেটে গিয়েছে তো।বেশি ব্যথা করছে? আমার,,,, আমার কাছে তো ব্যান্ডেজও নেই।এখন কি করব?
মিহাল নীলার চিন্তিত মুখ দেখতে এতটাই ব্যস্ত যে সে ভুলেই গিয়েছিল তার হাত থেকে রক্ত বের হচ্ছে। অন্যদিকে নীলাও মিহালের ক্ষত দেখে ভুলেই গিয়েছিল আগে তাদের এখান থেকে পালাতে হবে। নীলার আর বেশি না ভেবে নিজের হিজাবের কোণা দাঁত দিয়ে ছেঁড়ার চেষ্টা করল।মুভিতে দেখে
সেখানে সহজেই ওড়না কিংবা জামার কাপড় ছিঁড়ে ফেলা যায় কিন্তু বাস্তবে তা সম্ভব না।তার ব্যাগের সাইড পকেটে সিজার আছে এই কথা মনে পরতেই ব্যাগ থেকে সিজার বের করে হিজাবের লম্বা অংশ থেকে অনেকটা কাপড় কেটে নিল এবং খুব সাবধানতা এবং যত্ন সহকারে মিহালের হাতে বেঁধে দিচ্ছে।আর মিহাল এক দৃষ্টিতে নীলার দিকে তাকিয়ে আছে।যেন চোখের পলক ফেললেই নীলা কোথাও হারিয়ে যাবে।
নীলা মিহালের হাত বাঁধা শেষে মিহালের দিকে তাকায়। নীলার চোখ মিহাল স্পষ্ট নিজের জন্য চিন্তা, সম্মান এবং হয়তো কিছু ভালোবাসার ছোঁয়া দেখতে পাচ্ছে। দুজন একে অপরের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। মিহাল যেই না কিছু বলতে যাবে ওমনি তাদের পেছন থেকে কারোর পায়ের শব্দ শোনা গেল।
মুনভি ফুল স্পীডে গাড়ি চালিয়ে ইকরাকে নিয়ে মিহালের ইউনিভার্সিটি সামনে আসলো।সে আগেই সিকিউরিটি কে কল করে বলে রেখেছিলো যেন তার জন্য ইউনিভার্সিটির গেইটের সামনের সিসিটিভি ফুটেজ রেডি রাখে। নন্দিনী ইকরা কে বলেছিল সে নীলাকে ইউনিভার্সিটি থেকে কিছুটা দূরে দেখে ছিল।ইকরা মুনভি কে সবটা বলতেই মুনভি কল করে আগে সিসিটিভি ফুটেজ রেডি রাখে যাতে পরবর্তীতে কেউ প্রমাণ সরাতে না পারে।আর হসপিটাল থেকে আসার সময় সঙ্গে করে নিজের ল্যাপটপ নিয়ে এসেছিল।
ইউনিভার্সিটির গেটের সামনেই সিকিউরিটি গার্ড সিসিটিভির ফুটেছে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। মুনভি গাড়ি থামিয়ে গ্লাস নামিয়ে শুধু সিসিটিভি ফুটেজ নিতে যতটা সময় লাগে ততটুকু সময় ব্যয় করল। সিসিটিভি ফুটেজ নেওয়ার পর আর এক মুহূর্ত সময় বের করল না। আমার ফুল স্পিডে গাড়ি চালাতে লাগলো। ইকরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সিসিটিভি ফুটেজ ল্যাপটপের সাথে কানেক্ট করতে লাগলো। যখন কানেক্ট করার পর ভিডিও প্লে হলো তখন সে মনোযোগ দিয়ে সবটা দেখতে লাগলো।
দেখতে পেলো মিহাল আর নীলা কথা বলতে বলতে ইউনিভার্সিটির গেটের সামনে এসেছে। তারপর সেখানে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ কথা বলে আবার দুজন হাঁটতে লাগলো। হাঁটতে হাঁটতে অনেকটা এগিয়ে গেল। এরপরে আর ফুটেজ নেই। ইকরা হতাশ হলো।ইকরা কে হতাশ হতে দেখে মুনভি বলো_
তুমি হতাশ না হয়ে ইউনিভার্সিটি গেটের ফুটেজ আরেকবার দেখো এবং নীলা যে পাশে গিয়েছে তার অপজিট পাশের ভিডিও দেখো।
ইকরা ও তাই করলো। ইউনিভার্সিটি গেটের ভিডিও আরেকবার প্লে করার পর সে কিছুই পেল না।তারপর অপোজিট পাশের ভিডিও সে প্লে করল। সেখান দেখতে পেলো লিসা একজন লোক কে নীলা আর মিহাল যেই দিকে আছে সেই দিকে ইশারা করে চলে গেল। এবং লিসা চলে যেতেই লোকটা তার দলবল নিয়ে গাড়িতে উঠে পরল এবং সে দিকে গাড়ি চালাতে লাগলো। ইকরা জুম করে গাড়ির নাম্বার দেখে নিল এবং পজ করে নোট করে নিল এবং মুনভি কে বলল।মুনভি গাড়ির গতি আরো স্পিড করলো।
বিঃদ্রঃ পর্ব ছোট ছোট দেবার কারণে কিডন্যাপের সিন গুলো অনেক পর্ব খেয়ে ফেলছে। কিন্তু এটার একটা ধারাবাহিকতা আছে তাই এই সিন টুকু শেষ না করা পর্যন্ত অন্য কোন সিনে যেতে পারছি না। আগের মত বড় পর্ব দিলে এই কাহিনী দুই পর্বে শেষ হয়ে যেত। গল্পের জোগাখিচুড়ি হলে আমার পছন্দ না অথচ নিজের গল্পে এখন খিচুড়ি হয়ে যাচ্ছে। খুব দুঃখিত ছোট ছোট পর্ব দেওয়ার জন্য। এক দুইদিন পর্ব দিবোনা কিন্তু পরবর্তীতে বড় পর্ব দিব।
যাই হোক আপনাদের জন্য খুশির কথা হলো এইটা আর এক দুই পর্ব পরে আপনারা বিয়ের দাওয়াত পাবেন। ঈদের জামা না হয় তাদের বিয়েতে পরে আসবেন।
চলবে??
Share On:
TAGS: নাজনীন নেছা নাবিলা, নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ২১
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা সারপ্রাইজ পর্ব
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১০
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১৪
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৫(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা গল্পের লিংক
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৪
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১৬
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৩১
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৩+বোনাস পর্ব