Golpo romantic golpo নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা

নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৩৩


নীভৃতেপ্রেমআমার_নীলাঞ্জনা

নাজনীননেছানাবিলা

পর্ব_৩৩

অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ ❌❌❌

নীলা হঠাৎ দেখলো একটি মেয়ে স্কুটি চালিয়ে এই দিকে আসছে। সে হাত বাড়ালো লিফট নেবার জন্য। মেয়েটি ও নিজের স্কুটি থামালো। তারপর নিজের হেলমেট খুলতেই নীলা দেখলো মেয়েটি তার পরিচিত।আসলে একবার ইউনিভার্সিটি আসার পথে একটি বিড়াল গাড়ির সামনে পড়তে নিয়েছিল কিন্তু তার আগেই নীলা বিড়ালটির প্রাণ বাঁচিয়ে ফেলেছিল। আর বিড়ালটি এই মেয়ের ছিল। ঐদিন এই মেয়ের সাথে নীলা কথা বলতে বলতে ভার্সিটি এসেছিল। এবং একজন আরেকজনের নাম্বার নিয়েছিল। মাঝেমধ্যে তাদের ইনস্টাগ্রামে কথা হয়। মেয়েটির নাম নন্দিনী সে কলকাতার মেয়ে। এই মেয়েটি ও স্কলারশিপ নিয়ে Sorbonne University তে পড়াশোনা করার জন্য এসেছে‌।

নীলার যেন মনে হলো সে হাতে চাঁদ পেয়েছে।আর যেহেতু নন্দিনী কলকাতার তাই কথা বলতে বেশি সময় লাগবে না এবং অসুবিধা হবে না।নীলা চট করে বলল_
নন্দিনী প্লিজ আমাকে তোমার স্কুটি টা দাও একটু। আর তুমি তো আমার অ্যাপার্টমেন্ট চেনো তাই আমার ফোন নিয়ে একটু ইকরার কাছে যাও এবং চার্জ দিতে বলো।আর তোমার ফোন আমার কাছে দাও আমি লোকেশন অন করে রাখবো। তারপর ইকরা কে বলবে মুনভি কে নিয়ে যেন আমার লোকেশন ট্র্যাক করে আসে। এবং তুমি ভুলেও তাদের সাথে এসোনা। বিষয়টি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আমাকে তো তুমি বিশ্বাস করো তাই না? তোমার স্কুটি এবং ফোন তোমাকে পরবর্তীতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। আমার এখন সব কথা খুলে বলার সময় নেই। তোমাকে যা বলেছি তুমি প্লিজ তা একটু করো প্লিজ।

নন্দিনী বিন বাক্যে নিজের স্কুটি থেকে নেমে গেল এবং হেলমেট খুলে নীলাকে পরিয়ে দিল। তার পরণে কুর্তি এবং জিন্স প্যান্ট ছিল। তারপর নিজের প্যান্টের পকেট থেকে ফোন বের করে ফোনের লক খুলে ফোন আনলক করে দিল এবং লোকেশন অন করে নীলার হাতে ধরিয়ে দিল। এবং বলল__
যা করার সাবধানে করো। এবং আমি ইকরাকে গিয়ে সব কিছু বলছি।তুমি চিন্তা করো না।

নীলা আর কথা না বাড়িয়ে স্কুটি চালু করল। একদম ফুল স্পিডে স্কুটি চালাতে লাগলো। মিহালকে যে গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেই গাড়িটি হয়তো দুই তিন মিনিট আগে গিয়েছে। আর নীলা দেশে থাকতেই সাইকেল এবং স্কুটি চালানো শিখেছিল গাড়ি চালানো শেখার আগেই।
তাই তার স্কুটি চালাতে অসুবিধা হচ্ছে না। এবং দেশে থাকতে বোরকা পরা অবস্থায় অনেকবার স্কুটি চালিয়েছিল বলতে গেলে সব সময় বোরকা পরেই আসা-যাওয়া করতো তাই এখনো অসুবিধা হচ্ছে না। সে গতি বাড়িয়ে চালাতে শুরু করল। সে জানে সামনের অনেকটুকু রাস্তায় একদম সোজা কোন ডান বাম নেই তাই গাড়ি খুঁজতে তার বেশি সময় লাগবে না।

অন্যদিকে মিহাল গাড়িতে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। তাকে যেই মাস্ক পরানো হয়েছিল সেটিতে ক্লোরোফর্ম মেশানো ছিল। ক্লোরোফর্মের পাওয়া বেশি থাকায় যখন মিহাল কে মাস্কটি পরানো হলো তখন ক্লোরোফর্ম নাকে লাগার সাথে সাথে অচেতন হয়ে পরেছিল।তার জন্যই তাকে তুলে আনতে কিডন্যাপার দের কোনো অসুবিধা হয়নি।

কিডন্যাপারদের মেইন লিডার লিসাকে কল দিয়ে ইনফর্ম করল যে তাদের কাজ করা শেষ। এবং লিসা বলল যেন সেই গোডাউনে নিয়ে আসা হয়।

নীলা অবশেষে গাড়িটি পেয়ে গেছে। তাই স্কুটির স্পিড বাড়িয়ে একদম গাড়ির পেছন দিয়ে স্কুটি চালাতে লাগলো। যেকোনো একপাশে সে নিজের স্কুটি চালালো না কারণ এতে করে তাকে গাড়ির গ্লাস দিয়ে দেখা যাবে। তাই একদম গাড়ির পেছনে স্কুটি চালাতে লাগলো।

একটি পুরোনো ফার্মের সামনে এসে গাড়ি থামল। নীলা চট করে স্কুটি থামিয়ে ফেলল। গাড়িটা ঘুরিয়ে সেই ফার্মের দিকে যেতে লাগল। নীলা আশে পাশে তাকিয়ে দেখল বড় বড় গাছ আছে তাই সে নিজের স্কুটি নিয়ে একটি গাছের পেছনে লুকিয়ে পরলো। কারন তার সিক্স সেন্স বলছে গাড়ি থেকে এখন সবাই নেমে এই ফার্মের ভেতরে ঢুকবে।

নীলার ধারনা একদম ঠিক হলো।গাড়ি থেকে কিডনাপাররা নেমে মিহাল কে ধরে ফার্মের ভেতর নিয়ে গেল। নীলা আশে পাশে তাকিয়ে দেখল অনেকটা দূরে একটা শপ দেখা যাচ্ছে। যেহেতু সে এখানে একেবারে প্রিপারেশন ছাড়া এবং খালি হাতে চলে এসেছে তাই অবশ্যই প্রতিরক্ষার জন্য তার কিছু প্রয়োজন। এই আশায় সে শপের দিকে হাঁটা দিল। এবং আজ যেন ভাগ্য তার সাথেই আছে।গিয়ে দেখলো একটি গ্রোসারির শপ।সে শপের ভেতর ধুকে একটি বড় স্প্রে বোতল কিনে নিল। তারপর লাল মরিচের গুঁড়ার দুটি প্যাকেট কিনে নিল। নিজের ব্যাগের মাম পট থেকে স্প্রে বোতলের ভেতর পানি ভরে লাল মরিচের পাউডার মিশিয়ে গুলিয়ে নিল। এবং একটি প্যাকেট হাতেই রাখলো।

তারপর নন্দিনী ফোন থেকে নিজের ফোনে একটি ভয়েস মেসেজ দিয়ে বলল_

ইকার আমি (###)শপের সামনে একটি ফার্ম আছে সেখানে আছি।তুই মুনভি ভাইয়া কে নিয়ে চলে আয়। আমি তবুও লোকেশন অন করে রাখছি।

বলেই নীলা ফোন প্যান্টের পকেটের ভেতর ঢুকিয়ে ফেলল। বোরকার নিচে সে গেঞ্জি এবং প্যান্ট পরা ছিল যেগুলো সেই বাড়িতে পড়ে থাকে‌ তাই ফোন প্যান্টের পকেটের ভেতর ঢুকিয়ে চেইন লাগিয়ে দিল এবং আবার সেই ফার্মের দিকে হাটা দিল।


ইকরা নন্দিনীর কাছ থেকে সবকিছু শুনে নীলার ফোন চার্জে দিয়েই মুনভি কে কল দিল।

ইকরার সাথে তখন কথা বলার পর মুনভির মন বেশ ফুরফুরে হয়ে আছে। কিন্তু হঠাৎ যখন এই সময় আবার ইকরা তাকে কল দিল সে বেশ খুশি হল। খুশিতে গদগদ হয়ে ফোন ধরে কিছু বলতে যাবে তার আগেই কানে আসলো ইকরার চিন্তিত কন্ঠ।ইকরা মুনভি কে সবটা খুলে বলতেই মুনভি বলল__
তুমি তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নাও আমি গাড়ি নিয়ে আসছি তোমার অ্যাপার্টমেন্টের সামনে আমি কল দিলেই তুমি নিচে নেমে পড়বে।

ইকরা নন্দিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় দিল। অবশ্য নন্দিনী ও তাদের সাথে যেতে চেয়েছিল কিন্তু ইকরা তাকে সঙ্গে করে নিল না। কারণ নিজেদের বিপদের মধ্যে এসে চায় না আরেকজনের বিপদ হোক। তারপর সে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিল।


লিসা ফার্মে না গিয়ে বরং নিজের বাড়ি চলে গেল। কারণ সে জানে নীলাকে কিডন্যাপ করে ফার্মে রাখা হয়েছে। তাই সে আগে বাড়ি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে খাবার দাবার খেয়ে ঘুমিয়ে তারপর এখানে আসবে। সে চায় ততক্ষণ পর্যন্ত নীলা এই ফার্মে একা বন্দী থাকুক। কিন্তু সে তো জানেই না কত বড় ভুল করেছে সে।

বৃষ্টির দিনের প্যারিস যেন এক জীবন্ত জলরঙের ছবি। আকাশ যখন ধূসর মেঘে ঢেকে যায়, শহরের চিরচেনা চুনাপাথরের (Haussmann) দালানগুলো এক স্নিগ্ধ বিষণ্ণতায় ডুবে থাকে।আকাশ থেকে ঝরে পড়া প্রতিটি ফোঁটা যখন প্যারিসের কোবলস্টোন (Cobblestone) রাস্তায় আছড়ে পড়ে, ধূলামাখা পাথরগুলো মুহূর্তেই ভিজে কালচে চকচকে রূপ নিয়েছে ।ভিজে যাওয়া কালো রাস্তায় রাস্তার ল্যাম্পপোস্ট আর সিগন্যালের আলো প্রতিফলিত হয়ে যেন এক মায়াবী দর্পণ তৈরি করছে। আকাশটা এখনো মেঘলা এবং অন্ধকার।

নীলা এই পিছল রাস্তায় যেমন কষ্ট করে স্পিডে স্কুটি চালিয়ে এসেছিল ঠিক তেমনি এখন কষ্ট করে হেঁটে যাচ্ছে। কিছুটা সময় হাঁটতেই সে একদম ফার্মের কাছে চলে এলো। কিন্তু বিপত্তি তখন ঘটলো যখন সে দেখলো ফার্মের বাহিরে দুইজন বডিগার্ড পাহারা দিচ্ছে। নীলা কিছুটা ঘাবড়ে গেল কিন্তু ভয় পেলো না। সে ফার্মের ভেতরে যাবার জন্য বিকল্প পদ্ধতি ভাবতে লাগলো।

তাই অন্য রাস্তা দিয়ে হেঁটে ফার্মের পেছনে চলে গেল যেদিকে কোন মানুষ নেই। ফার্মের পেছনের দিকে অনেক গাছপালা।নীলা ধীরগতিতে একদম জানলার কাছে গেল। সেখানে তিনটি জানালা আছে যার মধ্যে দুটি ভিতর থেকে বন্ধ করা। কিন্তু ভাগ্যবশত একটি জানালা আছে যেটি ভাঙ্গা। নীলার যেন কপাল খুলে গেল। কিন্তু জানলাটা অনেকটা উঁচু যা তার নাগালে আসছে না।

নীলা আসে পাশে তাকিয়ে কিছু খুঁজতে লাগলো। তারপর দেখল গাছের নিচে কতগুলো বড় বড় উঁচু উঁচু পাথর আছে। নীলা সময় নষ্ট না করে সেখানে চলে গেল এবং পথর তোলার সর্বত্র চেষ্টা চালিয়ে গেল। যেহেতু পাথরগুলো ভারী এবং উঁচু উঁচু তাই তার জন্য সেগুলো তুলে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে আনা নিতান্তই কঠিন ব্যাপার। তবুও সে হার মানার মেয়ে না। তাই নিজের সর্বোচ্চ শক্তি খাটিয়ে একটি একটি করে দুটি পাথর গাছের নিচ থেকে জানালার দিকে আনলো। এবং একটি পাথরের উপর আরেকটি পাথর রেখে সে নিজেও পাথরের উপর দাঁড়িয়ে পরল‌। এবার সে জানালা খুব ভালোভাবেই নাগাল পেয়েছে। সে জানালা দিয়ে উঁকি মারতেই দেখল মিহাল কে চেয়ারের সাথে বেঁধে রেখে দুজন লোক দাঁড়িয়ে আছে।

নীলা মনে মনে দোয়া করতে লাগলো যেন এই দুজন বডিগার্ড এখান থেকে বেরিয়ে যায় এবং সে জানালা দিয়ে ভিতরে ঢুকে মিহাল কে বাঁচিয়ে ফেলে। কিন্তু দুজন লোক এখনও সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। প্রায় ৪০ মিনিট পর সে দুজন লোক ফার্মের থেকে বের হয়ে গেল। নীলা যেন সুবর্ণ সুযোগ পেল। আর দেরি না করে জানালা দিয়ে ভিতরে ঢোকার প্রচেষ্টা চালিয়ে গেল। কিছুক্ষণ চেষ্টা করতেই সে জানালা দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ল। যেহেতু জানালার গ্রিল গুলো ভাঙ্গা ছিল তাই সেগুলো একটু একবার টানতেই খুলে গেল এবং নীলা খুব সহজেই ভেতরে ঢুকতে পারল। এবং ফার্মের ভেতরে জানালার নিচেই ছিল অনেকগুলো ক্ষের ছিল তাই নীলা জানালা দিয়ে ভেতরে ঢুকে যখন লাফ দিল তখন ব্যথা পেল না এবং কোন শব্দ হলো না। সে একদম ধীর পায়ে মিহালের কাছে গেল।মিহাল এখনো অচেতন অবস্থায় পরে আছে‌।নীলা নিজের ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করে মিহালের চোখে মুখে পানি ছিটা দিতে দিতে নরম স্বরে বললো__
প্রফেসর উঠুন প্লিজ। প্রফেসর, প্রফেসর প্লিজ উঠুন। ওরা চলে আসার আগে আমাদেরকে এখান থেকে চলে যেতে হবে।

মিহালের চোখে পানির ছিটা এবং শরীরে ধাক্কা লাগতেই তার জ্ঞান ফিরতে শুরু করে। সে ধীরে ধীরে চোখ খুলে।মিহাল কে চোখ খুলতে দেখে নীলা আর দেরি না করে মিহালের বাঁধা হাত খুলে ফেলল।মিহাল চোখ মেলে আশেপাশে তাকিয়ে তার সাথে কি হয়েছে বোঝার চেষ্টা করল। যখনই তার মস্তিষ্কে সব কিছু পরিষ্কার হয়ে গেল তার জন্য টনক নড়ে উঠল। ততক্ষণে নীলা মিহালের হাতের বাঁধন খুলে ফেলেছে।এইবার পায়ের বাঁধন খোলার জন্য হাঁটু গেড়ে নিচে বসে যেই না মিহালের পা ছুঁতে যাবে অমনি মিহাল বাঁধা দিয়ে বলল_
যখন আমাদের বিয়ে হবে তারপরে আমার শরীরের প্রত্যেকটি অংশে স্পর্শ করার অধিকার তোমার আছে। কিন্তু আর যাই হোক কখনোই আমার সামনে নত হয়ে আমার পা ছুবে না।

নীলা অবাক চোখে তাকিয়ে রইল মিহালের দিকে।আবার মিহালের মুখ থেকে বিয়ের কথা শুনে তার গাল লাল হয়ে গেল লজ্জায়।মিহালও নীলার দিকেই তাকিয়ে আছে। হঠাৎ কারো পায়ে শব্দ শুনে নীলার ধ্যান কাটলো।সে মিহাল কে চোখ পাকিয়ে রাগান্বিত কন্ঠে বলল_
নিজের পায়ের বাঁধন নিজে খুলুন আর নয়তো আমাকে খুলতে দিন।

মিহাল আর দেরি না করে চট করে নিজের পায়ের বাঁধন খুলে ফেলল। নীলা বুদ্ধি করে ফার্মের দরজা ভেতর থেকে লাগিয়ে দিল যাতে কেউ ভেতরে আসতেই গেলে সহজেই আসতে না পারে।মিহাল নীলার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো__
তুমি এখানে এসেছো কি করে?

নীলা আবার সে ভাঙ্গা জানালার কাছে গিয়ে বলল_
আপনার কি এখন নিজের জান বাঁচানো বেশি প্রয়োজন নাকি প্রশ্নের জবাব পাওয়া বেশি প্রয়োজন?

মিহাল চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালো। অনেকক্ষণ অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকার জন্য তার মাথা এখনো ঘুরছে। তবুও নিজেকে সামলিয়ে মিলার দিকে অবসর হল এবং ঠোঁটে বাঁকা হাসি রেখে বলল__
আমার কাছে সব থেকে প্রয়োজন তোমার জান বাঁচানো।

নীলা মিহালের দিকে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল_
আমার জান বাঁচানো কি আপনার নিজের জান বাঁচানোর চেয়েও বেশি প্রয়োজন?

মিহাল কিন্তু মাত্র সময় নষ্ট না করে বলে উঠলো__
আমার জান তো তুমি।

চলবে???

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply