Golpo romantic golpo নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা

নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা বোনাস পর্ব ২


নীভৃতেপ্রেমআমার_নীলাঞ্জনা

নাজনীননেছানাবিলা

বোনাস_পর্ব

অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ ❌❌❌

রিচেইক দেই নি। ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা করবেন

মিহাল কান ধরে নিজের মায়ের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে আছে।সাথে মুনভিও একই অবস্থায় আছে। মূলত ইসরাতুল মিনা মির্জা মিহাল এবং মুনভি কে শাস্তি দিয়েছে মিথ্যা কথা বলার জন্য। অন্যদিকে নীলা আর ইকরার সামনে যে এমন শাস্তি পায় নি সে খুশিতে গদগদ হয়ে আছে মিহাল আর মুনভি।

ইসরাতুল মিনা মির্জা মুনভির উদ্দেশ্যে বললেন_
মুনভি তোর শাস্তি মাফ।

মুনভি সঙ্গে সঙ্গে কান ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে পেন্ট ঝাড়া দিল। তারপর মিহাল সামনে ভাব নিতে লাগলো। অন্যদিকে মিহাল মুনভির দিকে কিছুক্ষণ রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে মায়ের দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকালো। কিন্তু কিছু বলার সাহস পেলো না।

মুনভি খুশিতে নাচতে নাচতে ইসরাতুল মিনা মির্জার কাছে এসে বলল_
আই লাভ ইউ আন্টি। আমি জানতাম তুমি আমার উপর রাগ করে থাকতে পারবে না। তোমার ছেলে বেশি মিথ্যা কথা বলেছে ওকে শাস্তি দাও কেমন আমি এখানে বসে বসে দেখছি।

মিহাল তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করল মুনভির দিকে। কিন্তু মুনভির এই আনন্দ বেশিক্ষণ থাকলো না। ইসরাতুল মিনা মির্জা বললেন__
মুনভি তোর এখানে বসে থাকতে হবে না তুই বাড়ি ফিরে যা। তোকে তো তোর মা শাস্তি দিবে।মিনু কে আমি সব কিছু বলেছি।
কথাটি শোনা মাত্রই মুনিভর মুখ চুপসে গেল।মিহাল কান ধরে থাকা অবস্থাতেই অট্টো হাসিতে ফেটে পরলো।মুনভি অসহায় দৃষ্টিতে ইসরাতুল মিনা মির্জার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে চলে গেলো।সে জানে আজ তার কপালে দুঃখ আছে।

এইবার মিহালের হাসি বন্ধ হলো। কারণ এখন তার পালা। ইসরাতুল মিনা মির্জা নিজের ছেলের দিকে তাকিয়ে রাগী কন্ঠে বললেন_
আমাকে মিথ্যে বলার কারণ কি মিহাল?আমি কি না করতাম। আর হ্যাঁ এখন আবার মিথ্যে কথা বলার চেষ্টা করো না য বলার সত্যি বলো এবং কান ছেড়ে উঠে দাঁড়াও।

মিহাল বুঝতে পারলো তার মা বেশ রাগ করছে।সে কান ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে মায়ের কাছে আসলো। ইসরাতুল মিনা মির্জা চেয়ারে বসে ছিলেন।মিহাল মেঝেতে বসে মায়ের পায়ের রানের উপর মাথা রেখে বলল__
আজ যা বলব সত্যি কথা বলব মা। প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি তোমাকে মিথ্যে বলার জন্য। বিশ্বাস করো আর কখনোই বলব না।আর আগেই বলে দেই বিষয়টি এত তাড়াতাড়ি হয়েছিল যে আমি তখন বুঝতে পারিনি ঠিক কি বলব তাই মিথ্যা কথা বলেছিলাম। ‌আই এম রেইলি সরি মা।আর নীলা কে কবে কখন কীভাবে ভালোবেসে ফেলেছি আমার জানা নেই। শুধু এতটুকু জানি আমি নীলাঞ্জনা কে অনেক ভালোবাসি যা কেউ কখনোই কল্পনাও করতে পারবে না। তুমি আমাকে সবচেয়ে ভালো চেন এবং বুঝো তাই না মা? তুমিই বলো তো আমার কি কখনো কোনো প্রিয় রং ছিল?
ইসরাতুল মিনা মির্জা মাথা না বোধক ভাবে নাড়িয়ে বোঝালেন যে মিহালের আগে কোনো প্রিয় রং ছিল না।

মিহাল প্রাপ্ত উত্তর পেয়ে আবার বলতে শুরু করল _
আমার কখনো কোনো প্রিয় রঙ ছিল না। কিন্তু নীলাঞ্জনা কে একবার নীল শাড়িতে দেখেছিলাম, তখন থেকেই নীল আমার প্রিয় রঙ। ওকে খুব ভালোবাসি আমি মা।ওর অতীত নিয়ে আমি পরোয়া করি না।ওর চোখ পড়তে পারি আমি ।আমার নীলাঞ্জনা শুধু ভালোবাসা চায়। সত্যি কারের ভালবাসা যা আমি ওকে দিতে চাই।ও আমার দেওয়া ভালোবাসা গ্ৰহণ করতে করতে ক্লান্ত হবে তবুও আমি কখনো নীলাকে ভালোবাসতে এবং ভালোবাসা দিতে ক্লান্ত হবো না। আমাকে একটু সময় দাও আমি আর আস্তে আস্তে সব বলবো তোমাকে। শুধু ভরসা কর আমায় প্লিজ।

ইসরাতুল মিনা মির্জা কোনো প্রতিক্রিয়া করলেন না শুধু ছেলের কথা গুলো শুনলেন। এবং ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।তিনি নিজেও নীলার চোখ দেখে বুঝতে পেরেছিলেন মেয়েটি শুধু ভালোবাসা চায়। এবং নিজের ছেলের প্রতি উনার অটল বিশ্বাস আছে।


নীলা আর ইকরা মিলে টাকার হিসাব করল। প্রথম দিনেই এত ইনকাম করতে পারবে তারা কল্পনাও করতে পারেনি। এবং তাদের বানানো পিঠা খেয়ে কাস্টমার অনেক প্রশংসাও করেছে। এবং অনেকে তো খাবারটি প্রথমবার খেয়ে মুগ্ধ হয়ে পরিমাণের চেয়ে বেশি টাকা দিয়েছে।

নীলা আর ইকরা হিসেব করে পেলো ৪ ঘন্টায় তারা যত টাকা ইনকাম করেছে তা বাংলাদেশের টাকা অনুযায়ী হবে ৭ হাজার ৫০০ টাকা। নীলা এবং ইকরা তো বেশ খুশি। ইকরা খুশিতে গদগদ হয়ে বলল_
তোর ফুফুর আইডিয়াটা কিন্তু বেশ কাজে দিয়েছে।তাই তো প্রথম দিনেই এত টাকা ইনকাম করলাম।

নীলা টাকা দিয়ে বাতাস করতে করতে ভাব নিয়ে বলল_
দেখতে হবে না ফুফুটা কার?

তারপর দুজন মিলেই হাসতে লাগলো। হাসতে হাসতে নীলার চোখে ভেসে এলো তার ফুফু আজকে বিকালে কি প্লান করেছিল তাদের নিয়ে__ ইসরাতুল মিনা মির্জা বললেন
তোমাদের বিজনেসের প্লানটা চমৎকার আমি অনেক খুশি হয়েছি। কিন্তু এটা বাংলাদেশ না যে সবাই নিজ ইচ্ছায় এসে পিঠা টেস্ট করবে। কিন্তু হ্যাঁ আমার মন বলেছে যারা একবার এই পিঠা খাবে তারা বার বার খেতে চাইবে। কিন্তু এই একবার খাওয়ার রিস্কটা কেউ নিতে চাইবে কিনা সন্দেহ।

ইকরা এবং নীলার চেহারার চিন্তার ভাঁজ পরল।নীলা মন খারাপ করে বলল _
তাও ঠিক।

নীলার মন খারাপ যেন ইসরাতুল মিনা মির্জার ভালো লাগলো না। তাই তিনি বললেন _
এক কাজ করি আমরা। তোমার দুজন মিলে এখন গিয়ে গরম গরম পিঠা বানাতে থাকো।আমি আমার কিছু প্রতিবেশী আছছ যারা দেশী এবং বিদেশি। তাদের কে নিয়ে আমি তোমাদের পিঠার স্টলে আসবো এবং এমন ভাব করব যে আমি তোমাদের কে চিনি না। তারপর তোমাদের কাছ থেকে পিঠা কিনে অনেক প্রশংসা করব। তারপর দেখবে এমনি মানুষের ভির জমে গেছে।

নীলা তো নিজের ফুফুর প্লান শুনে খুব গর্ব বোধ করল। এবং মনে মনে বলল_
এই না হলছ মির্জা পরিবারের মেয়ে আর নীলা মির্জার ফুফু।

তারপর আর তাদের প্লান মতোই হলো সবকিছু।ইসরাতুল মিনা মির্জা নিজের বান্ধবীদের নিয়ে স্টলে গিয়ে পিঠা খেলেন। উনার বাংলাদেশি বান্ধবীরা তো চিতই পিঠা দেখে প্রায় দিশেহারা।আর তাদের চেহারায় আনন্দ দেখে অন্যরাও কিনে খেলো।এতে করেই আজ বেশ পিঠা বিক্রি করেছে নীলা এবং ইকরা।

অন্যদিকে মিহাল এবং মুনভি রাস্তায় দাঁড়িয়ে সবটাই দেখলো।মিহাল যখন দেখলো তার মা নীলার স্টলে গিয়ে এমন ভাব ধরছে যে উনি নীলা কে চেনেই না তখন মিহাল মাথায় হাত দিয়ে বলল_
আমার বারোটা বাজবে এখন।আগে আমার মা কত শান্ত ছিল অথচ এখন নীলা রাণীর স্পর্শ পেয়ে নিজেও লীলা দেখাতে শুরু করেছে।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply