Golpo romantic golpo নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা

নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৩০


নীভৃতেপ্রেমআমার_নীলাঞ্জনা

নাজনীননেছানাবিলা

পর্ব_৩০

অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ ❌❌❌❌

পরপর কয়েকবার কলিং বেল বাজাতেই ইসরাতুল মিনা মির্জা এসে দরজা খুললেন। দরজার বাইরে চেনা এবং অচেনা মুখ দেখে কিছুটা অবাক হলেও ভদ্রতার খাতিরে দরজা থেকে সরে দাঁড়িয়ে সবাইকে ভেতরে আসতে দিলেন। নীলা অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নিজের ফুফুর দিকে।তার বাবা এবং চাচাদের সাথে অনেকটাই চেহারা মিলে।ইতিমধ্যে তার চোখের কোণে পানি জমে গেছে। খুব ইচ্ছে করছে নিজের ফুফু কে জড়িয়ে ধরে একটু কাঁদতে। কিন্তু নীলা তো দূর্বল মেয়ে না।।নিজের কান্না কে সে নিয়ন্ত্রণ করতে জানে।

নীলা আর ইকরা মিলে সালাম দিল নীলার ফুফুকে। ইসরাতুল মিনা মির্জা সালামের জবাব দিলেন।মিহাল এতক্ষণ খুব ভাবে থাকলেও এখন ভীজে বিড়াল হয়ে মুনভির কাছে গেলো।মুনভির কানে ফিসফিস করে বলল_
গত রাতে তো মাকে বলেছিলাম এক বন্ধুর জন্মদিনের জন্য ভর্তা বানিয়েছি‌।আর নীলাঞ্জনা কেউ তো এখন এখানেই নিয়ে এসেছি ‌।এখন মাকে কি বলব? আর ভর্তা নিবোই বা কি করে? মা যদি প্রসঙ্গ তুলে যেই কথা মাকে বলেছিলাম তখন তো মান ইজ্জত শেষ।

মুনভি চোখ পাকিয়ে মিহালের দিকে তাকিয়ে বলল__
শা*লা আগে খেয়াল ছিল না তোর? ভর্তার বক্স নিয়ে গেলেই হতো। আচ্ছা নিতে ভুলে গিয়েছিস তাও মানলাম নীলা কে এখানে আনার মানে কি? এখন ঠেলা সামলা।আমি তোকে কোনো সাহায্য করবো না বলে দিলাম।

মিহাল অসহায় দৃষ্টিতে তাকালো মুনভির দিকে কিন্তু মুনভি তা পাত্তা না দিয়ে ভেতর চলে গেলো।মিহাল ও তাই করল।

ইসরাতুল মিনা মির্জা একবার ছেলের দিকে তাকাচ্ছেন তো আরেকবার অচেনা দু’টো মেয়ের দিকে তাকাচ্ছেন।মিহাল বোকা হেসে বলল _
ওরা আমার স্টুডেন্ট।

ইসরাতুল মিনা মির্জার মুখে হাসি ফুটে উঠল। কিন্তু মনে সন্দেহও তৈরি হলো। কারণ উনার ছেলে আগে কখনোই কোন স্টুডেন্টকে বাসায় আনেনি তার উপর আবার মেয়ে স্টুডেন্ট। তিনি নীলা এবং ইকরার দিকে তাকালেন।নীলা কে দেখে উনার খুব চেনা এবং আপন কেউ মনে হল। অজান্তেই নীলা কাছে গিয়ে নীলার থুতনিতে আলতো করে হাত রেখে জিজ্ঞেস করলেন_
তোমার নাম কি মা?

নীলা শরীর শীতল হয়ে এলো। অনেকদিন পর কোন আপন মানুষের স্পর্শ পেল। চোখ ভরে উঠলো। ঠোঁট কামড়ে কান্না চেপে রাখার চেষ্টা করল। মাস্ক পড়ার কারণে কেউ দেখল না। নিজেকে সামলিয়ে জবাব দিল__
আমার নাম নীলা।

নীলা মির্জা বলতে গিয়েও সে বলল না। কারণ এখনো সঠিক সময় আসেনি। তাকে এখনো অনেক সত্যি জানতে হবে।তাই নিজের আসল পরিচয় গোপন করাটা অনেক প্রয়োজন।

ইসরাতুল মিনা মির্জার বুকে এক অদ্ভুদ ঢেউ খেলে গেলো। উনার কাছে এই মেয়েটিকে খুব আপন মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে উনার সাথে খুব গভীর সম্পর্ক আছে এই মেয়েটির। নিজের অজান্তেই নীলার কপালে চুমু খেয়ে বললেন _
তুমি খুব লক্ষী মেয়ে।

এই দৃশ্য দেখে মিহালের মন ভালো হয়ে গেল। এবং মনে মনে বলল__
খুব শীঘ্রই আমি সবকিছু ঠিক করে দিব। তখন না আমার মায়ের কোন কষ্ট থাকবে আর না নীলাঞ্জনার কোন কষ্ট থাকবে।

নীলার চোখ ভরে এলো।ইসরাতুল মিনা মির্জারও তাই হলো। তিনি নিজেকে সামলিয়ে ইকারর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস
করলেন _
এবং তোমার নাম কি মা?

ইকরা মুচকি হেসে বলল _
আমার নাম ইকরা শেখ।

ইসরাতুল মিনা মির্জা মুচকি হেসে বললেন__
তুমি অনেক লক্ষী এবং মিষ্টি মেয়ে।

কিন্তু তিনি একটা জিনিস বুঝতে পারছেন না নীলার কাছে গিয়ে নীলার সাথে কথা বলে উনার যা অনুভব হলো ইকরার ক্ষেত্রে সেটি হলো না।

তখনই মিহাল বলল __
মা আমি ভর্তার বক্স নিতে এসেছিলাম।

ইসরাতুল মিনা মির্জা কিছুটা বিরক্ত হয়ে বললেন__
তোর বন্ধুর জন্মদিন আজকে তার জন্যই গতরাত জেগে ভর্তা বানালি দুজন মিলে। অথচ ভর্তার বক্স না নিয়েই চলে গেলি।এটা কেমন কথা মিহাল এবং মুনভি?

মায়ের কথা শুনে মিহাল সঙ্গে সঙ্গে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলল।মুনভিরও একই অবস্থা। অন্যদিকে নীলা আর ইকরা যেন আকাশ থেকে পড়ল। তাদের চোখ আপনা আপনি বড় হয়ে গেল। নীলা তো বলেই উঠলো __
তারমানে আপনারা মিথ্যে বলেছেন?

মুনভি এবং মিহাল কোনো জবাব দিল না।নীলা আর ইকরা সরু চোখে তাদের দুজনের দিকে তাকিয়ে রইল।মিহালের মা কিছুই বুঝতে পারলেন না। তিনি অবুঝের মতোন তাকিয়ে রইলেন।মিহাল মুখের থেকে হাত সরিয়ে মুনভি কে
বলল __
তুই মাকে নিয়ে রুমে যা এবং বসে আড্ডা দে আমি ততক্ষণে ভর্তার বক্স গুলো বের করছি।

মুনভি ও সায় দিয়ে বলল_
হ্যাঁ হ্যাঁ চলো আন্টি আমরা রুমে গিয়ে কথা বলি।

ইসরাতুল মিনা মির্জা ভ্রু জোড়া কুঁচকে জিজ্ঞেস করলেন__
আমাকে সম্পূর্ণ ঘটনা সত্যি সত্যি বল। মিথ্যে কথা বললে একটা মাইরও মাটিতে পড়বে না। কাহিনী কি আমাকে এখান থেকে সরানো ধান্দা কেন?

মিহাল আর মুনভি শুকনো ঢোঁক গিলল। বুঝতে পারলো মায়ের সামনে এবং ভালোবাসার মানুষগুলো সামনে তাদের মান ইজ্জতের ফালুদা হবে আজকে এখন এই মুহূর্তেই।

নীলা এই যে ফুফুর দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো_
আসলে আমি এবং ইকরা বাংলাদেশ থেকে এখানে এসেছি পড়াশোনার জন্য। কিন্তু আমরা ভাবলাম রেস্টুরেন্টে পার্ট টাইম জব করার থেকে নিজেদের বিজনেস শুরু করি। তার জন্যই নিজেদের টাকা দিয়ে ভাবলাম যে চিতই পিঠার বিজনেস শুরু করি।

তখনই ইসরাতুল মিনা মির্জা বললেন_
এবং চিতই পিঠার বিজনেসের জন্য প্রয়োজন ভর্তা। আর এরা দুজন কি ভর্তার দায়িত্ব নিয়েছে?

নীলা এবং ইকরা মাথা নাড়িয়ে বলল__
ইনারা নিজের ইচ্ছাতে ভর্তার দায়িত্ব নিয়েছেন।

এবার ইসরাতুল মিনা মির্জা নিজের ছেলে এবং ছেলের বন্ধুর দিকে রাগী দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বললেন__
অথচ গতরাতে এই দুইজন শিক্ষিত বাটপার আমাকে বলেছে তাদের এক বন্ধু আছে যার আজকে জন্মদিন সে নাকি বাঙালীদের ভর্তা খেতে চেয়েছে তার জন্যই তারা ভর্তা বানাচ্ছে।

নীলা আর ইকরার মুখ হা হয়ে গেল। অবশ্য দুজনের হাসিও পেলো বটে কিন্তু এখন কোন রকম হাসি চেপে রাখলো। ইসরাতুল মিনা মির্জা বললেন_
এ মিথ্যে কথা বলার জন্য এই দু’জনকে আমি খুব বড়সড় শাস্তি।

মিহাল এবং মুনভি অসহায় দৃষ্টিতে একবার মায়ের দিকে তাকাচ্ছে তো আরেকবার নীলা এবং ইকরার দিকে তাকাচ্ছে। কিন্তু কে ওই তাদেরকে পাত্তা দিচ্ছে না। ইসরাতুল মিনা মির্জা বললেন __
বাই এনি চান্স তোরা দুজন কি এই দুই মেয়ের প্রেমে পড়েছিস? তার জন্য রাত জেগে ভর্তা বানালি। আবার আমাকে মিথ্যে কথাও বললি?

নীলা এবং ইকরার চোখ বের হয়ে আসার উপক্রম। নীলা নিজের ফুফুর স্ট্রেট ফরোয়ার্ড কথা শুনে তালুতে উঠে গেলো। তার কাশি উঠছে। সে তারমানে তার ফুফুর মত হয়েছে। কারণ সেও স্ট্রেট ফরোয়ার্ড। তার জন্যই তার বাড়ির সবাই কথায় কথায় তাকে বলে সে নাকি মিনুর মত হয়েছে। কিন্তু কখনো ভাবতে পারেনি ফুপুর মতো যেমন স্ট্রেট ফরোয়ার্ড হয়েছে তেমনি ফুপুর এই স্ট্রেট ফরোয়ার্ড হওয়া তার উপরেই ভারী পড়বে। লজ্জায় মিহালের দিকে তাকাতে পারছে। ইকরার অবস্থাও অনেকটা এমন। সে মনে মনে বলছে_
নীলা যেমন নীলার ফুপুও তেমন। মাঝখান দিয়ে আমি ফেঁসে যাই। কি লজ্জা কি লজ্জা। জেন্টলম্যানের সামনে এখন আর যেতে পারব না আমি।

অন্যদিকে মায়ের কথা শুনে মিহাল যেমন অবাক হলো তেমনি তার ভালো লাগছে। যে কথা তার বলতে হয়তো কয়েক জনম লেগে যেত সেই কথা তার মা খুব সহজেই বলে ফেলল। মুনভির ও একই অবস্থা।

ইসরাতুল মিনা মির্জা আবার বলে উঠলেন_
তাহলে দুই বন্ধু মিলে তলে তলে টেম্পু চালানো শুরু করেছিস? আবার মাকে মিথ্যাও বলছিস? বললেই হতো ভালোবাসার মানুষের জন্য ভর্তা বানাবি। আমি কি তোদেরকে না করতাম? খামখা মিথ্যা বলেছিস কেন? এখন কি শাস্তি দেওয়া উচিত ওদেরকে?

নীলা আর ইকরা তো লজ্জায় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। মিহাল আর মুনভি কি বলবে বুঝতে পারছে না।এরা কখনো কল্পনা করতে পারেনি এমন পরিস্থিতিতে তাদের পড়তে হবে। আপাতত এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচার জন্য কোন উপায় পাচ্ছে না।

নিজের ছেলে এবং ছেলের বন্ধুকে চুপ থাকতে দেখে ইসরাতুল মিনা মির্জা তাদের মাঝখানে গিয়ে দাঁড়িয়ে দুজনের খান ধরে টানলেন। মিহাল এবং মুনভি আর্তনাদ করে উঠল _
আহ্ লাগছে।

দুজনের আর্তনাদ শুনে নীলা এবং ইকরা মাথা তুলে তাকালো। চোখের সামনে এমন দৃশ্য দেখে ফেত করে হেসে দিল। ভালোবাসার মানুষের সামনে মান ইজ্জতের ফালুদা হতে দেখে মিহাল বলল_
উফ্ মা ছাড়ো দেখছো না ওরা দুজন হাসছে। আমাদের তো একটা প্রেস্টিজ আছে তাই না?

ইসরাতুল মিনা মির্জা ছেলের কান আরো জোরে টেনে দাঁতে দাঁত চেপে বললেন__
তোর প্রেস্টিজ কে আজ আমি পাংচার করে দিব। আমার সাথে মিথ্যা বলছিস? একদম বাবার মত হয়েছিস।

মুনভি অসহায় কন্ঠে বলল_
আন্টি আমি তো তোমার ছেলের মত তাই না আমাকে অন্তত ক্ষমা করে দাও। দেখো আমি কিন্তু সেদিন কোন কথা বলিনি যা বলেছে তোমার ছেলে বলেছে যা শাস্তি দেওয়ার ওকে দাও।

এবার ইসরাতুল মিনা মির্জা মুনভির কান আরো জোরে টেনে বললেন__
তোরা দুজন একই নৌকার মাঝি। শাস্তি দুজন কেই দেওয়া হবে। ভালোবেসেছিস ভালো কথা সত্য কথা বললেই পারতে আমাকে আমি কি কিছু বলতাম? আচ্ছা এখন আমাকে বলতো কে কাকে পছন্দ করিস?

নিজের ফুফুর এহেন কথা শুনে নীলার চক্ষু চড়কগাছ।ইকরারও একই অবস্থা। ইসরাতুল মিনা মির্জা কাউকে কিছু বলতে না দিয়ে আবার বলে উঠলেন_
আমার অভিজ্ঞতা বলছে নীলা কে আমার বাটপার ছেলে পছন্দ করে। এবং ইকরাকে আমার বাটপার ছেলের বাটপার বন্ধু মুনভি পছন্দ করে তাই না? বেশ ভালই পছন্দ তোদের দেখছি।

ইকরার মনে হচ্ছে এখনই মাথা ঘুরে পড়ে যাবে।
মুনভি এবং মিহালের রীতিমতো কাশি উঠছে। না পারছে কিছু বলতে আর না পারছে গিলতে।

নীলা এবার লজ্জার মাথা খেয়ে বলে উঠলো__
না না ম্যাম এমন কিছুই না। আর তাছাড়াও উনি আমার প্রফেসর হয় উনার সাথে এরকম সম্পর্ক হওয়া কখনোই সম্ভব না।

নীলার এমন কথা শুনে মিহালের চোখে মুখে অন্ধকার নেমে এলো। নিমিষেই মন খারাপ হয়ে গেল। এবং রাগও উঠতে লাগলো। ইচ্ছে করছে বাংলাদেশে গিয়ে এই রাগ ইরফানের উপর মেটাতে।

কিন্তু তখনি ইসরাতুল মিনা মির্জা বলে উঠলেন_
কেন সম্ভব না? এখানে অসম্ভব এর কি আছে? তোমার প্রফেসরের বাবা ও কোন এক সময় আমার প্রফেসর ছিল। আমাকে বাড়িতে এসে টিউশনি করাতো কোন এক কালে। এবং এখন আমি তার বউ এবং এক সন্তানের মা।

মায়ের কথা শুনে মিহালের কিছুটা গর্ববোধ হলো। বুক উঁচু করে বলে উঠলো__
আমি ঠিক আমার বাবার মত হয়েছি। এবং বাবা যা করেছে এমন কাজ করে আমি বাবার নাম রাখবো।

নীলার চোখ বড় বড় হয়ে গেল মিহালের এমন কথায়। ইচ্ছে করছে নিজের চুল টেনে ছিঁড়তে। আফসোস হচ্ছে কেন এখানে এসেছে। ইকরা আর মুনভি তো মিটমিট করে হাসছে।

ইসরাতুল মিনা মির্জা ছেলের কথায় ব্যঙ্গ করে বললেন_
ঠিক একদম নিজের বাবার মত নির্লজ্জ এবং বাটপার হয়েছিস।

নীলার হাসি ছুটে গেলো।মুনভি এবং ইকরাও শব্দ করে হেসে উঠলো।মিহালের মুখ চুপসে গেল।ইসরাতুল মিনা মির্জা নিজের ছেলে এবং ছেলের বন্ধুর কান ছেড়ে দিয়ে বললেন__
আজকের দিনটা সময় দিয়েছি এরপর নিজ থেকে সব সত্য আমাকে বলবি নয়তো বাড়িতে যায়গা নেই।আর নীলা এবং ইকরা চলো আমি তোমাদের কে ভর্তার বক্স বের করে দিচ্ছি। এবং এই দুজন থেকে দূরে থাকবে।দুই বন্ধুই ভীষণ বড় বাটপার।

বলেই রান্না ঘরের দিকে হাঁটা দিলেন।নীলা আর ইকরাও হাসতে হাসতে সেই দিকেই চলে গেলো।

মিহাল আর মুনভি মান ইজ্জত খইয়ে হা করে তাদের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল।

চলবে??? রাত্রে বোনাস পর্ব আসবে। সেখানে নীলা রানীর লীলা দেখা যাবে। ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা করবেন

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply