নীভৃতেপ্রেমআমার_নীলাঞ্জনা
নাজনীননেছানাবিলা
পর্ব_২৫
অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ ❌❌❌❌
প্রাকটিক্যাল করছিলাম তাই গল্প দিতে দেরি হয়েছে। আর গল্পের মাঝে নিজের নাম লিখব না কারণ লিখে লাভ নেই কপি বাজরা কপি করবে আপনারা আপনাদের মত পড়ুন।
বিকেল মানেই এক বিষণ্ণ মাদকতা, যখন সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ে দীর্ঘ ছায়া ফেলে এবং সোনালী রোদ ক্লান্ত পাখিদের নীড়ে ফেরার ডাক দেয়।শহরের ব্যস্ততা কমে আসার বদলে যেন সময় যেন থমকে দাঁড়ায়, মনে জাগে হারানো দিনের স্মৃতি বা দূর কোনো গন্তব্যের হাতছানি, ঠিক যেন এখন নীলা অতীতের রহস্য জানার জন্য উসখুস করছে।মুনভি কফির কাপ চুমুক দিয়ে কাপ টেবিলের উপর রাখল।নীলা আর ইকরা উভয় তার দিকে অধীর আগ্রহে চেয়ে আছে।মুনভি মুচকি হেসে নীলার দিকে তাকিয়েই বলল_
নীলা মির্জা,,, মির্জা পরিবারের ছোট মেয়ে।এম আই রাইট?
নীলা আর ইকরা একে অপরের দিকে চাওয়া চাওয়ি করে আবার মুনভির দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ল।
দুজনকে মাথা মারতে দেখে মুনভি হেসে উঠলো। তারপর নীলার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল_
তো ফোনে বলে ছিলে তুমি কিছু জানতে চাও।কি জানতে চাও নীলা?
নীলা ইকরার দিকে আবার তাকালো। ইকরা চোখ দিয়ে ইশারা দিতেই নীলা মুনভির দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো _
আমার ফুফু আছে এই দেশে এমনকি এই শহরেই আছে। আমি তাকে খুঁজতে চাই। আর এই দেশে আমার কোন পরিচিত মানুষ নেই। একমাত্র আপনার সাথে কিছুটা পরিচিত হতে পেরেছি। যদি আপনি কোন ভাবে সাহায্য করতে পারলেন তাই আপনাকে বলা।
মুনভি ঠোঁট কামড়ে হাসলো এবং বলল__
তোমাকে যতটা স্মার্ট ভেবে ছিলাম তুমি তার থেকেও বেশি স্মার্ট নীলা।বাই দা ওয়ে তোমার ফুফুর নাম
ইসরাতুল মিনা মির্জা যাকে তোমরা বাবা এবং চাচারা মিনু বলে ডাকে রাইট।
নীলা এবং ইকরা দুজনেই অবাক হয়ে গেল।নীলা মনে মনে ভাবল মুভি তো এইসব জানার কথা না তাহলে কি করে জানবো। তার মনের সন্দেহের স্থান তৈরি হলো।সে ভ্রু কুঁচকে সন্দিহান কন্ঠে মুভিকে জিজ্ঞেস করল_
কে আপনি? আর এই সবকিছু আপনি কি করে জানলেন? আনসার মি।
মুনভি বাঁকা হাসলো কিন্তু কোনো প্রতি উত্তর করল না। এতে যেন নীলার সন্দেহ আরো বেড়ে গেল।
গাড়ি দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় মিহাল আজ আসে পাশে বেশ ভালো করে চোখ বুলালো। কখনোই এরকম ভাবে আশেপাশে তাকানো হয়নি তার। আসল কথা আজ আবহাওয়া বেশ পরিষ্কার বলে চারদিক যুগল দিয়ে ঘেরা।কেউ হাত ধরে হাঁটছে তো কেউ নিজের ভালোবাসার মানুষটিকে কোলে নিয়ে হাটছে, কেউ ছবি তুলছে, কেউ খাবার খাচ্ছে তো কেউ রেস্টুরেন্টে কফি খাচ্ছে। কিন্তু মিহালের নজর গেল গাছের ছায়ার নিচের বেঞ্চে বসে থাকা এক যুগল দেখে। তাদেরকে দেখে নিজের গাড়ি থামালো মিহাল। গাড়ির গ্লাস নামিয়ে তাদেরকে ভালো করে দেখতে লাগলো। মেয়েটি বেঞ্চে বসে আছে এবং ছেলেটি মেয়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে। মেয়েটি নিজের এক হাত দিয়ে ছেলেটির মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে তো আরেক হাত দিয়ে ছেলেটির নরম গাল গুলো টানছে। তাদের দেখে মনে হচ্ছে তাদের জন্য যেন এইটা খুব আনন্দময় মুহূর্ত।মিহালের ঠোঁটের কোণে মিষ্টি হাসি ফুটে উঠছে। আগে যখন এরকম কোন দৃশ্য রাস্তাঘাটে দেখতো তখন উপেক্ষা করে চলে যেত। অথচ আজ এমন কিছু দেখে কেবল নীলাঞ্জনার কথা মনে পরছে।এখন যদি নীলাঞ্জনা তার একান্ত থাকতো তাহলে তারাও হয়তো এমন মুহূর্ত কাটাতে পারতো একসঙ্গে।মিহাল চোখ বন্ধ করে নীলাঞ্জনা কে কল্পনা করল।নীল রঙের শাড়ি পরে তার পাশে বসে আছে।যেই না মিহাল নীলার হাত ধরার জন্য নিজের হাত বাড়ালো ওমনি গাড়ি জানালা দিয়ে এক অদ্ভুত শব্দ আসতে শুরু করল। কল্পনা থেকে বের হয়ে এলো সে।জানালা দিয়ে বাহিরে তাকাতে দেখল এক দোকানদার তার দোকান থেকে অনেকগুলো ইঁদুর তাড়াচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে মিহালের নাক মুখ কুঁচকে এলো। মনে পড়ে গেল ইরফানের কথা এবং এর সঙ্গে মনে পড়লো নীলা ইরফানকে বিয়ে করেছে। এই ইঁদুর নীলার স্বামী। তারপর ভাবতে লাগলো এবং আনমনে বলতে লাগলো __
তার মানে আমার নীলাঞ্জনা সেই ইদুরের গালে এভাবে টানে?
চোখ বন্ধ করে কল্পনা করার চেষ্টা করল। এক সুন্দর হাত ইঁদুরের গাল ধরে টানছে এবং ইঁদুরটি হাসছে। সঙ্গে সঙ্গে তার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। রাগে দুঃখে গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে মাথা এলিয়ে দিল। নিজের কল্পনা দেখে নিজেকে থাপ্পড় দিতে ইচ্ছে করছে তার। এমন অদ্ভুত চিন্তা ভাবনা কেবল তার ধারেই সম্ভব। দাঁত কিড়মির করে বলল_
ইচ্ছে করছে আমার এখন বাংলাদেশে গিয়ে ইরফানকে ইঁদুর মারার বিষ খাইয়ে মেরে ফেলতে।
মিহাল আর গাড়ি থামিয়ে রেখে সময় নষ্ট করলো না। গাড়ি আবার চালানো শুরু করল নিজে বাড়ির উদ্দেশ্যে।
নীলার ধৈর্য্য বাঁধ ভেঙে গিয়েছে তবুও মুনভিকে কিছু বলতে না দেখে সে কিছুটা রেগে গেল এবং তীক্ষ্ণ স্বরে বলল__
মি মুনভি আপনি কি সত্যিট বলবেন?
এইবার ইকরাও নিজেকে আর দমিয়ে রাখতে পারল না। সে যেন নিজেকে এক গোলক ধাঁধায় আবিষ্কার করল। এই স্থান থেকে বের হতে গেলে তাকে জেন্টালম্যানে সাহায্য লাগবে।তাই সে নিজেও কন্ঠ কিছুটা ভারী করে রাগান্বিত দৃষ্টিতে মুভির দিকে তাকিয়ে বলল__
আপনি কিন্তু এখন বাড়াবাড়ি করছেন। যদি আপনার বলার নিয়ত থাকে তাহলে বলুন আর নয়তো আমরা আসছি।
মুনভি এইবার নড়ে চড়ে উঠলো। এতক্ষণ মজা করছিল। কিন্তু ইকরা যেই বলল চলে যাবার কথা অমনি তার সকল হাসি হাওয়া হয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে প্রতি উত্তর করে বলল __
এই না না আমি মজা করছিলাম।আমি সবটা বলছি তোমাদের।
নীলা আর ইকরা এইবার শান্ত হলো। মুনভি কি বলবে সেই আশায় তার দিকে শান্ত দৃষ্টি নিক্ষেপ করে চেয়ে রইল। মুখে একবার দুজনের দিকে তাকিয়ে তারপর বলতে শুরু করলো_
তোমার ফুফু আর কেউই না বরং মিহালের মা। মানে তোমার ইকোনমিক প্রফেসর নিহাল খানের মা। আর মিহাল খান হলো তোমার ফুফাতো ভাই এবং আমি হলাম তোমার ফুফার বেস্ট ফ্রেন্ডের ছেলে। অথবা বলতে পারো তোমার ফুফুর বেস্ট ফ্রেন্ডের ছেলে। আমার মায়ের নাম মিনু।
নীলার মনে হলো মুনভির বলা কথা শোনার পর, ক্ষণিকের জন্য চারিদিকের কোলাহল হঠাৎ স্তব্ধ হয়ে গেল। নীলার হাত থেকে পার্স ব্যাগ খসে পড়ল ঠিকই, কিন্তু সেটার শব্দ তার কানে পৌঁছাল না। তার চোখ দুটো অবিশ্বাস্য বিস্ময়ে স্থির হয়ে রইল। যে যা শুনছে তা বিশ্বাস করার মতো মানসিক প্রস্তুতি তার ছিল না। বুকের ভেতরটা কেমন যেন ফাঁকা হয়ে গেল, একটা দীর্ঘশ্বাসও গলায় আটকে রইল। মনে হলো, সময়টা থমকে দাঁড়িয়েছে। এই কি সেই মুহূর্ত, যার জন্য সে এতদিন ধরে অপেক্ষা করছিল? নাকি এও এক মরীচিকা? তার ফ্যাকাশে ঠোঁট কেঁপে উঠল, কিন্তু কোনো শব্দ বেরোল না। তার বিস্ময়ভরা চাহনিতে তখন যেন প্রশ্ন আর উত্তর—দুটোই মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।
মুনভি নীলার অবস্থা বুঝতে পারলো। আসলেই এমন কথা শুনে মানা অসম্ভব।মুনভি বিনা বাক্যে পকেট থেকে কয়েকটি পুরনো ছবি বের করে নীলা কে দিল। নীলা কম্পিত হাতে ছবি গুলো নিল। এই প্রথম তার নিজেকে দুর্বল মনে হচ্ছে। সে তো আগে নিজের ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে ধোঁকা পেয়েছিল কই তখন তো এত দুর্বলতা অনুভব করেনি তাহলে আজ কেন এরকম মনে হচ্ছে। তখন তো সেই ঠাঁই দাঁড়িয়ে নিজের ভালবাসার মানুষকে অন্য কারো সাথে দেখেছিল। অথচ আজ একটা সামান্য ছবি নিতে তার হাত কাঁপছে?
সে ছবি গুলো নিয়ে দেখতে লাগলো। একটি ছবিতে তার বাবা, এবং তার বাকি দুই চাচা সাথে একটি মেয়ে। এই সেইম ছবিটি তার কাছেও আছে যেটি তার বাবার ডায়েরী থেকে সে নিয়ে এসেছিল। আরেকটি ছবি আছে যেখানে তার বাবা চাচারা এবং সাথে দুটি অপরিচিত মেয়ের মুখ এবং দুটি অপরিচিত ছেলের মুখ। এই ছবিতে তার বাবা এবং চাচাদের ছাড়া সে আর কাউকে চিনতে পারল না। হয়তো মুনভি তার দিকটা বুঝতে পারল তাই নিজ থেকে বলতে লাগলো ,,, __
মাঝখানের দুইজন মেয়ের মধ্যে যে নীল রঙের পোশাক পরে আছে সে হলো তোমার ফুফু মানে ইসরাতুল মিনা মির্জা।আর একজন যে গোলাপি রঙের পোশাক সেটা আমার মা মিনু। এবং তোমার চাচার সাথে যেই দুজন পুরুষ তাদের মধ্যে একজন হলো তোমার ফুফার নাম মুবিন খান।যিনি মিহালের বাবা তিনি ইমরান মির্জার অর্থাৎ তোমার চাচার সমবয়সী ছিলেন।আর একই পাড়াতে থাকার কারণে তোমার চাচার সাথে তার ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল। বলতে গেলে তারা বেস্ট ফ্রেন্ড।
আর তোমার বাড়ির পাশে আরেকটি বাড়ি ছিল চৌধুরী বাড়ি।তাদের ছিল এক মেয়ে যার নাম ছিল মিনু চৌধুরী। তিনি হলেন আমার মা।তিনি ইসরাতুল মিনা মির্জার অর্থাৎ তোমার ফুফুর সমবয়সী ছিলেন।তারা একই তারিখে জন্মগ্রহণ করেছিলেন কিন্তু মাস ছিল আলাদা। আমার মা মিনু চৌধুরী কয়েক মাস বড় ছিলো তোমার ফুফু ইসরাতুল মিনা মির্জা থেকে। তারা দুজন একসাথেই বেড়ে উঠেছিলেন। আর তাদের নামে অনেকটাই মিল ছিল। একজন মিনু তো আরেকজন মিনা যাকে তার ভাইরা আদর করে মিনু বলেই ডাকতো। অনেক সময় তো এমন হয়েছে যে তারা দুজন যদি একসাথে বসে আছে আর সেই সময় যদি কেউ মিনু বলে ডেকেছে তাহলে দুজনেই একসাথে তাকিয়েছে।সময়ের সাথে সাথে হয়ে যায় দুজন বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে গিয়েছিল এবং এখনো আছে। মিহালের বাবা মুবিন খানের তোমার ফুফু মিনা কে মনে ধরেছিল। কিন্তু বয়সের ব্যবধান এবং বন্ধুত্বের খাতিরে তিনি নিজের মনের আশা মনে রেখেছিলেন। তিনি চাইতেন মিনা যখন বড় হবে তখন তিনি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করবেন।
আর তার সাথে দাঁড়িয়ে আছে যে পুরুষটি সেটি উনার ছিল আরেক বেস্ট ফ্রেন্ড যার নাম শাহরিয়ার মামুন সে হলো আমার বাবা।সে প্রায় সই তাদের বাড়িতে আসতো এবং কাকতালীয়ভাবে তার মনে ধরে মিনু কে অর্থাৎআমার মা। অর্থাৎ দুই বেস্ট ভালোবেসে ফেলে অন্য দুইটা বেস্ট ফ্রেন্ড কে।বুঝলে?
নীলা আর ইকরা দুজনের মুখই আপনা আপনি হা হয়ে গিয়েছে।ইকরা তো বলেই উঠলো__
নীলুওওও রে তোদের বাড়ি কি আদৌ কোনো বাড়ি নাকি গোলক ধাঁধার ম্যাপ?
নীলা প্রতি উত্তর করল না।মুনভি শব্দ করে হেসে উঠলো।মুনভির হাসির শব্দে নীলা আর ইকরা দুজনেরই হুঁশ ফিরল।
নীলা অস্পষ্ট স্বরে বলল _
পেয়ারে লাল আমার ফুফাতো ভাই।”আনবিলিভেবল।
হলুদ রঙের পাঞ্জাবি পরে মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে আছে মিহাল এবং তার পায়ের এক রানে নীলার পা রাখা।নীলার পরনে নীল রঙের শাড়ি। ঠোঁট গাঢ় লাল লিপস্টিক।কানে দুল। লম্বা চুল গুলো খোলা। ছোট্ট ছোট্ট অবাধ্য চুল গুলো কানের সামনে দিয়ে পরছে।মিহাল খুব যত্ন সহকারে নীলাকে পায়েল পরিয়ে দিচ্ছে। নীলা লজ্জায় মাথা নুইয়ে রেখেছে।মিহাল পায়েল পরিয়ে নীলার দিকে তাকালো।নীলাও তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো। দুজনের চোখাচোখি হলো। দুজনেই একে অপরকে দেখে লজ্জা পেলো।মিহাল লজ্জা মিশ্রিত কন্ঠে বলল__
খুব সুন্দর লাগছে তোমাকে নীলাঞ্জনা।তোমার পা থেকে আমার নজর সরসে না নীলাঞ্জনা।
বলেই আবার নীলার দিকে তাকালো। দুজনের আবার চোখাচোখি হলো।মিহালের মার ঘর থেকে বাংলা গান ভেসে আসছে _
ভালোবাসি তোমায় কত দেখো হৃদয় খুলে
রাঙিয়ে দেবো তোমার পাঁজর মনের রঙিন ফুলে
তোমার চোখে আকাশ আমার চাঁদ উজাড় পূর্ণিমা
ভেতর থেকে বলছে হৃদয় তুমি আমার প্রিয়তমা।
হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে বসলো মিহাল। সে বাড়ি ফিরে গোসল করে এসে সোফায় বসেছিল। সারারাত জেগে প্রজেক্ট করেছিল বলে ঘুম হয়নি তাই সোফায় গা এলিয়ে দিতেই ঘুমিয়ে পড়েছিল। এবং ঘুমের মাঝে এত সুন্দর স্বপ্ন দেখেছে সে।
চোখ কচলাতে কচলাতে একা একাই বলল_
তারমানে আমি স্বপ্ন দেখছিলাম?
তারপর দেওয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো বিকাল ৪ টা ২০ বাজে। তার তো সেইখানে আধা ঘণ্টা আগে উপস্থিত থাকার কথা। তাই আর বসে না থেকে চট করে উঠে পড়লো এবং বাথরুমে গিয়ে চোখে মুখে পানি দিয়ে বাড়ি থেকে বের হলো। আইফেল টাওয়ারের দিকে যেতে মনে মনে বলতে লাগলো_
নীলাঞ্জনা কি পাগল করিলে আমায়? উঠতে,বসতে, খাইতে,ঘুমাতে সবসময় তোমাকে দেখি। এতদিন নামাজের মোনাজাতে শুধু নিজের পরিবারের ভালো এবং নিজের গুনাহার মাফ চাইতাম। এখন তো মনে হচ্ছে তোমার ডিভোর্সের জন্য দোয়া করতে হবে।”
একা একাই কথাগুলো বলে দৌড়িয়ে দৌড়িয়ে যেতে লাগলো আইফেল টাওয়ারের দিকে। বাড়ি থেকে বেশ একটা দূর না।
নীলা মুনভি কে যেই না কিছু বলতে নিবে অমনি দেখল সামনে থেকে মিহাল ছুটে আসছে। এবং এদিক-ওদিক তাকিয়ে কাউকে খুঁজছে। নীলা অবাক দৃষ্টিতে সেই দিকে তাকিয়ে আছে। নীলার দৃষ্টি অনুসরণ করে মুনভি এবং ইকরাও সেই দিকে তাকালো।মিহাল কে এখানে দেখে ইকরা অবাক হলেও মুনভি একটুও অবাক হলো না কারন সে জানতো এমন কিছু একটা হবে। তার ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটে উঠলো। সে মিহালের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল__
সে তোমার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে। এবং সে ভাবছে তুমি ইরফানের সাথে বিয়ে করেছ। সে তোমাকে ব্যবহার করতে চেয়েছিল ইরফানের ওপর প্রতিশোধ নিতে। কিন্তু এখন নিজেই তোমার মায়ায় আবদ্ধ হয়ে গিয়েছে। ইরফান কে আমি কি করে চিনি এবং মিহাল কি করে চেনে সেসব কথা আরেকদিন বলবো কারণ আজ তোমার প্রফেসর চলে এসেছে।
নীলা কিছুক্ষণ ধাতস্থ থাকলেও পরমূহুর্তেই নিজেকে সামলিয়ে নিল। তার ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটে উঠলো। হয়তো সেও কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছে। সে মিহালের দিকে তাকিয়ে থেকেই বলল__
তাহলে না হয় আমার ফুফাতো ভাইয়ের জন্য আমি বিবাহিত হয়ে থাকবো। দেখি পানি কতদূর গড়িয়ে যায়।
মুনভিও নীলার দিকে তাকিয়ে শব্দ করে হেসে উঠলো এবং বলল__
আই লাইক ইট।জানো তোমার এই পেয়ারে ফুফাতো ভাই ঐই ইরফান শালার জন্য আমাকে থাপ্পড় দিয়েছিল। এর প্রতিশোধ না নিলে কি চলে? তুমি তো আমার প্রতিবেশী তাই না? আর ধরতে গেলে আমার ছোট বোন ।তুমি কি ছোট বোন হয়ে তোমার এই বড় ভাইকে সাহায্য করবে না?
নীলা মুনভির দিকে তাকিয়ে আগের ন্যায় বলল_
অবশ্যই আমি আমার বড় ভাইকে সাহায্য করবো। আমার বড় ভাইয়ের গায়ে হাত তুলেছে তাকে তো একটু আধটু শান্তি পেতেই হবে।তাই আজ থেকে এই সিঙ্গেল নীলা মির্জা কেবল মিহাল খানের জন্য বিবাহিত।
ইকরা এবং মুনভি দুজনেই একসাথে হেসে উঠলো।
চলবে? কাল গল্প আসবে।আর বড় পর্ব আশা করবেন না প্র্যাকটিক্যাল লিখতে লিখতে জান যাচ্ছে।
Share On:
TAGS: নাজনীন নেছা নাবিলা, নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১২
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১৬
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ২
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ২৩
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ২৪
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৯ এর শেষ অংশ
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১৮
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৮+বোনাস
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১৩
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৪