নীভৃতেপ্রেমআমার_নীলাঞ্জনা
নাজনীননেছানাবিলা
পর্ব_২১
অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ ❌❌❌❌
প্যারিসের বর্তমান আবহাওয়া যেন একটি সাদাকালো চলচ্চিত্র, যেখানে শৈল্পিক বিষণ্নতার মাঝে উষ্ণ কফির কাপে চুমুক দেওয়ার আমন্ত্রণ লুকিয়ে আছে।আকাশ মেঘলা সাথে হালকা বাতাস এবং আর্দ্রতা, যা শীতের আমেজকে আরও গভীর করছে । কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল ও মেঘাচ্ছন্ন দিনের এই বিষণ্ন রূপ
নীলা দিন রাত পরিশ্রম করছে কেবল তার সেই প্রজেক্ট এর জন্য। এইসব কারণে পিঠার ব্যবসাটা শুরু করতে পারছে না। ইকরার সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার এই প্রজেক্ট এর কাজ শেষ হলে পিঠার ব্যবসা শুরু করবে। বেশি খেতে চাইলে দেখা যাবে বদহজম হবে।নীলার ৫ রাত যাবত ভালো করে ঘুমায়নি শুধুমাত্র এই প্রজেক্ট এর কাজ ভালোভাবে করার জন্য। আসলে এই প্রোজেক্টের কাজ অনেকেই গ্রুপ হিসেবে করছে। কম হলেও দুজন গ্রুপ হিসেবে করেছে। অর্থাৎ একজন ফ্রেন্ড আরেকজনের সাহায্য করে একজনের প্রজেক্ট শেষ করছে তো আবার যার প্রজেক্ট শেষ হচ্ছে সেই জন আরেকজনের সাহায্য করছে। কিন্তু যেহেতু নীলা নতুন এসেছে তার তেমন কারো সাথে ভালো বন্ডিং এখনো তৈরি হয়নি সেজন্য তার কাজ তাকে একাই করতে হচ্ছে। অবশ্য ইকরা তাকে তারপরও সাহায্য করছে। কিন্তু যেহেতু ইকরার এই বিষয় নেই তাই এ বিষয় সম্পর্কে ইকরার তেমন ধারণা নেই। নীলা ইকরাকে যা বলছে ইকরা কেবল তা তা করে সাহায্য করছে। শীতের কনকনে রাতে ডাস্কে বসে প্রজেক্টের কাজে আচ্ছন্ন নীলা।তার ভালোই লাগে নিজেকে কাজের মাঝে ডুবিয়ে রাখতে।এতে করে অতীতের কোন বাতাস তাকে ছুঁয়ে যেতে পারে না। অতীতের কথা মনে পড়লে তার দুঃখ পাবার বদলে হাসি পায় নিজের বোকামি দেখে। এখন অবশ্য সবাই তাকে হার্টলেস স্বার্থপর ভাবে কিন্তু এতে তার আসা যায় না। যেভাবে থাকলে নিজেকে সুখী রাখা যাবে সেভাবেই মানুষের থাকা উচিত। এই দুনিয়া তো ক্ষনিকের। কে কখন মৃত্যুবরণ করবে তা কেউই জানে না। তাহলে এই অনিশ্চয়তার জীবনে নিজেকে কষ্ট দেবার কোন মানেই নেই তাও আবার অন্য কারো কারণে। আবার অন্যকে কষ্ট দিয়ে নিজেও কখনো সুখে থাকা যায় না। সব থেকে ভালো হয় কাউকে পরোয়া না করে নিজের খুশির পেছনে ছোটা। অবশ্য পৃথিবীর মানুষকে পরোয়া না করলে খুশির পিছনে দৌড়াতে হয় না বরং খুশি নিজে সে গ্রাস করে।
ইকরা নিজের রুমে বসে বাংলাদেশী স্কুল ফ্রেন্ডের সাথে গ্রুপে কথা বলছে। সে উৎসাহিত হয়ে বলল__
আমি আমার বান্ধবীর সাথে প্যারিসে চিতই পিঠার বিজনেস দেবো।
তার এই কথাটি বলতে দেরি হলো না সাথে সাথেই তার বান্ধবীরা অট্টহাসিতে ফেটে পড়লো। এতে অবশ্য ইকরা অনেকটা অপমানিত বোধ করল। এখানে হাসার কি আছে সে লজিকটা সেই ঠিক বুঝতে পারল না। তার এক বান্ধবী হাসতে হাসতে বলল __
শুধু শুধু চিতই পিঠার ব্যবসা করে কেমনে নিজের প্রেস্টিজ নষ্ট করবে? এতো ভালো একটা ইউনিভার্সিটিতে চান্স পেয়েছিস কফি শপে জব নিবি সেটাতে এক ধরনের অ্যাটিটিউড থাকে। অথবা লাইব্রেরীতে কিংবা কোন সুপার মার্কেটে জব নিবি। শুধু শুধু রাস্তায় দাঁড়িয়ে কেন পিঠা বিক্রি করতে যাবি? এসব লোমেন্টালিটি কোথা থেকে আসে?
ইকরার অন্যান্য বান্ধবীরা সায় দিল এই মেয়েটির কথায়।ইকরা তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো।সে রুষ্টস্বরে প্রতিবাদ জানাল__
লো মেন্টালিটি আমার না বরং তোদের। কোন কাজ ছোট নয়। সকল কাজের নিজস্ব মর্যাদা আছে। বাবার টাকায় ফুটাংগিরি করার থেকে অনেক ভালো নিজে ইনকাম করা। আর ইনকাম যদি হয় হালাল ভাবে তাহলে তো কোন কথাই নেই। তাই দয়া করে এসব চিফ এন্ড লেইম এক্সকিউজ যুক্ত কথা আমার সাথে বলবি না।রাখছি।
বলেই ইকরা মুখের ওপর ফোন কেটে দিল। তার রাগে গা জ্বলে যাচ্ছে। সে নিজের রাগ কন্ট্রোল না করতে পেরে নীলা রুমে চলে গেল। নীলাকে সম্পূর্ণ ঘটনা বললে হয়তো তার মন একটু শান্তি পাবে।
নীলা তখনও কাজে মগ্ন ছিল। এমন সময় ইকরা নীলার রুমে প্রবেশ করে ধপ করে বিছানায় বসে পড়লো এবং একটু আগে যা হয়েছে সম্পূর্ণ ঘটনা খুলে বলল। নীলার হাত কাজে ব্যস্ত থাকলেও কান খাড়া ছিল ইকরার কথা শোনার জন্য। শুনেই শেষ দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়লো এবং বলতে শুরু করল__
মানুষের কথায় কান দিলে সব সময় পিছিয়ে থাকতে হবে। এখন তুই কি চাস আজীবন পিছিয়ে থেকে বাবা মার ঘাড়ে বসে বসে খেতে? তারপর আবার বাবা-মা নিজের ঘাড় থেকে নামিয়ে আরেকজনের ঘাড়ে চড়িয়ে দেবে যাকে আবার স্বামী হিসেবে পরিচিত হবে। এবং সেই স্বামীর ঘাড়ে বসে বসে খেতেও কি খুব ভালো লাগবে? নিজের কোন যোগ্যতা থাকবে না,নিজের কোন ইনকাম থাকবে না, নিজের কোন ইচ্ছে থাকবে না, নিজের কোন মর্যাদা থাকবে না এমন জীবন রাখার থেকে মরে যাওয়া অনেক ভালো নয় কি? একটা কথা মাথায় রাখবি বাংলাদেশের মানুষের আসল সমস্যা হলো তারা মানুষ হবার আগে বাঙালি হয়ে যায়। এক বাঙালি আরেক বাঙালিকে দমিয়ে রাখে। কিন্তু যদি তারা বাঙালি না হয়ে প্রকৃত মানুষ হতে পারে তাহলে আরেকজনকে সহায়তা করে। তাইতো সব মানুষের কথায় কান দিবি না এবং ভেঙে পড়বি না। আমি আছি তো তাই না?
ইকরা এতক্ষণ গভীর মনোযোগ দিয়ে নীলার কথা শুনছিল। নীলার বলা শেষ কথা শুনে তার ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠলো। সে বিছানা ছেড়ে উঠে নীলা কে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরল এবং নীলার গালে চুমু খেল। নীলা শব্দ করে হেসে উঠলো।
ইকরা জিজ্ঞেস করল _
কালতো তোদের ডিপার্টমেন্টের সবার অফ তাই না?
নীলা মাথা ঝাঁকিয়ে নিজের কাজ করতে করতে জবাব দিল_
হ্যাঁ কারণ কালকের পরের দিন প্রজেক্ট নিয়ে দেখাতে হবে এবং সেই দিন যার প্রজেক্ট বেস্ট হবে তাকে সিলেক্ট করা হবে এজন্য কালকে আমাদের অফ। তোর একা একা যেতে হবে।
ইকরা হেসে বলল_
সমস্যা নেই আমি একা একা যেতে পারবো।
তারপর ইকরা নীলা কে কিছুক্ষণ প্রজেক্টের কাজে সাহায্য করে নিজের রুমে এসে ঘুমিয়ে পড়ে।
নীলা কার্ডবোর্ডের বক্স বানাচ্ছে।
বক্সের ভেতরে–বাইরে থাকবে:
পুরোনো ছবি
হাতে লেখা নোট
কাপড়ের ছোট টুকরো
ম্যাপের অংশ
শুকনো ফুল।
প্রজেক্টটির নাম মেমোরি প্রজেক্ট। কিন্তু এখানে মেন পয়েন্ট হচ্ছে কার লেখা হাতের নোট সব থেকে বেশি ইউনিক এবং শ্রেষ্ঠ হবে। এবং শুকনো ফুল সব থেকে সস্তা হবে সেই এ প্রজেক্টে জিতবে।
নীলা যে সব থেকে প্রিয় জবা ফুল ব্যবহার করেছে। বাংলাদেশ থেকে আসার সময় বাড়ির গাছ থেকে অনেকগুলো জবা ফুল ছিড়ে এনেছিল সেগুলো ডাইরির ভাজে রেখে দিয়েছিল। সেই শুকনো ফুল ব্যবহার করেছে।
আজ ইউনিভার্সিটি সেরা প্রজেক্ট সিলেক্ট করার দিন।সবাই নিজেদের মতোন প্রজেক্ট বানিয়ে নিয়ে এসেছে।লিসা খুব দামি দামি প্রোডাক্ট ব্যবহার করেছে এই প্রজেক্টের জন্য। প্রফেসর এসে ক্লাস রুমে একে একে সবার প্রজেক্ট দেখতে লাগলেন এবং প্রজেক্টে মার্ক দিতে লাগলেন। সবাই এক জায়গায় ভুল করেছে সেটা হল সবাই দামি ফুল ব্যবহার করেছে। কিন্তু প্রজেক্ট এর শর্ত ছিল কম দামি ফুল ব্যবহার করার। এবং সব থেকে বেশি দামি ফুল ব্যবহার করেছে লিসা তার জন্য সে প্রজেক্টে জিরো মার্ক পেয়েছে। এতেই যেন তার অহংকার দমন হল। সে ভিশন রকম চেতে গেল এই প্রফেসর এর উপর। এবং অপেক্ষা করতে লাগলো কে এইটা দেখার জন্য যে কে হাইস্ট মার্ক পায়।
প্রফেসর যখন ডিলার প্রজেক্ট দেখতে লাগলো তখন হিবিস্কাস ফুল দেখে বেশ অবাক হলো কারণ এই ফুলটির দাম খুবই কম। আর প্রজেক্টর নীলা খুব সুন্দর ভাবে গুছিয়েছে। স্বরূপ নীলা প্রথম হলো এই প্রজেক্টে। একটি ছেলে দ্বিতীয় হল এবং একটি মেয়ে তৃতীয় হল। ভাবেই প্রজেক্ট এর বিজয়ী ঘোষনা করা হলো নীলাকে। সবাই নীলার জন্য তালি বাজালো কেবল লিসা বাদে। সেই শুধু এই মেয়েটির উন্নতি দেখে চটে যাচ্ছে।
নিজের কাজ শেষ করে প্রফেসর ক্লাস রুম থেকে বের হয়ে পড়ল। এখন সবাই যার যার প্রজেক্ট নিয়ে বাড়ি ফিরে যাবে। কালকে প্রাইজ দেওয়ার সময় আবার প্রজেক্ট আনতে হবে সবার। সবার বলতে প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় হয়েছে যারা তাদের। প্রিন্সিপাল নিজ চোখে প্রজেক্টটি দেখে তারপর শুধু প্রাইস দিবে। নীলা যেই না নিজের প্রজেক্ট নিয়ে ক্লাসরুম থেকে বের হতে নেবে অমনি লিসা নিজের এক ফ্রেন্ড কে নীলার উপর বেশ জোরে সরে ধাক্কা দিল। ফলস্বরূপ নীলার হাত থেকে প্রজেক্ট মাটিতে পড়ে ভেঙে গেল। সবাই অবাক হয়ে এই দৃশ্য দেখতে লাগলো। কারোরই অজানা নয় যে লিসা এটা ইচ্ছে করে করেছে। নীলা খানিকের জন্যে স্তব্ধ হয়ে গেল। এক সপ্তাহ যাবত তার রাত জেগে করা প্রজেক্ট এক নিমিষেই ভেঙে গেল। কালকে তো এই প্রজেক্ট না আনতে পারলে সে প্রাইজ পাবে না। আর না পাবে ফুল স্কলারশিপ। সব থেকে বড় কথা হলো তার পরিশ্রম বৃথা গেল। প্রজেক্ট সি এক সপ্তা ধরে বানিয়েছিল সেই প্রজেক্ট কি করে সে এক রাতে বানাবে।
লিসা ইনোসেন্ট ভাবেন ি নীলার কাছে গিয়ে বলল__
আসলে এটা ভুলবশত হয়ে গিয়েছে।
কথাগুলো বলেই গট গট করে ক্লাস রুম থেকে বের হয়ে গেল। ক্লাসরুমের বাকি সদস্যরা নীলাকে এসে সান্ত্বনা দিল। এবং নীলাকে বলল প্রফেসরের সাথে কথা বলে যেন ম্যানেজ করতে পারে।
নীলা আর দেরি না করে নিজেকে সামলিয়ে প্রফেসরের কাছে যাওয়ার জন্য পা বাড়ানো। কলি ডোর দিয়ে হাঁটতে লাগল এবং দেখল সেই প্রফেসর তার ইকোনমিক প্রফেসর মিহাল এর সাথে কথা বলছে। নিজের অজান্তেই নীলা বলে উঠলো__
তাহলে উনি এক সপ্তাহ পর ফিরল।
হ্যাঁ মিহাল তার ট্রেনিংয়ের জন্য এই এক সপ্তাহ ইউনিভার্সিটিতে ছিল না। আউট অফ সিটি ছিল। গতরাত ফিরেছে এবং আজকে ইউনিভার্সিটিতে চলে এসেছে। অবশ্য সে নিজের লোক নিয়ে ঠিকই খবর রেখেছিল নীলার।
মিহাল নীলা কে এইদিকে আসতে দেখে থমকে গেলো।আজ কতদিন পর মেয়েটিকে দেখছে সে। অশান্ত মন নিমিষেই শান্ত হলো।
নীলা তাদের দিকে এসে সেই প্রফেসর কে ডাক দিল। দুজনেই এইবার নীলার দিকে তাকালো।মিহাল অবশ্য নীলা কে দেখে বেশ অবাক হলো। কারণ সব সময় মেয়েটির চেহারায় তেজ স্পষ্ট থাকে। কিন্তু আজ চেহারায় কেমন জানি বিষন্নতা ছেড়ে আছে।মিহালের মন বলছে কিছু একটা হয়েছে তা নীলাঞ্জনা সাথে। এই ইউনিভার্সিটিতে তার নীলাঞ্জনা সাথে যদি কিছু হয়ে থাকে তার পিছনে একমাত্র ব্যক্তি থাকলে সেটি হবে লিসা।
মিহাল মনে মনে বলল _
নীলাঞ্জনা যদি তোমার মনের বিষন্নতার পেছনে লিসার হাত থাকে তাহলে তার সেই হাত কেটে ফেলতে আমি মিহাল খান দ্বিতীয়বার ভাববো না।
নীলা তার এই প্রফেসরকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলল। প্রফেসর নিজেও দুঃখ প্রকাশ করল তো বলল এটা রুলসে নেই। যদি সে কালকে আবার প্রজেক্ট নিয়ে আসতে পারে তবে সে প্রাইস পাবে নয় তো তার নাম কেটে দেওয়া হবে।এক রাতের ভেতর এক সপ্তাহে করা প্রজেক্ট সে কি করে করবে।নীলা মনোক্ষুণ্ন হলো। চোখ অশ্রুতে ভরে গেল। সেই সচরাচর কান্না করার মেয়ে না। কিন্তু এই প্রজেক্ট এর পেছনে সে অনেক শ্রম দিয়েছিল। তারপর কাল রাতে হয়েছে তার পি”রি”য়”ড পেট ব্যথার যন্ত্রণা আর সহ্য করতে পারছে না। এমন সময় এমনিতেই মেয়েদের মুড সুইং থাকে। এখন যদি এমন কোন ঘটনা ঘটে যায় তাহলে অবশ্যই কান্না পাবে। নীলার হয়েছে সেই দশা। এখন তার ভীষণ কান্না পাচ্ছে। যদি ভুলবশত কেউ তার সাথে এখন একটু ভালো ব্যবহার করে অথবা তার মনের কথা জানতে চাই তাহলে সে এখনই কান্না করে দেবে। সেই প্রফেসরটি চলে যেতেই মিহাল নীলার কাছে এসে শান্ত কন্ঠে বলল__
তুমি ঠিক আছো তো? আমি জানি তুমি অনেক শ্রম দিয়েছিলে কিন্তু বিষয়টা হলো কি করে? আমার জানামতে তুমি এতটা কেয়ারলেস না? তাহলে তোমার শ্রম বৃথা গেল কি করে?
নীলা মিহালের এমন নরম স্বর শুনে ফুঁপিয়ে উঠলো। এমনিতেই মেয়েটির কান্না পাচ্ছিল তারপর কেউ যদি এসে তার সাথে নরম স্বরে কথা বলে তাহলে সে করে নিজেকে সামলিয়ে রাখবে।
নীলা কে এভাবে কান্না করতে দেখে মিহালের ভেতরটা যেন দুমরে মুচরে গুঁড়িয়ে গেল। মনে হলো কেউ তার বক্ষঃস্থলে হাতুড়ি দিয়ে অনেক জোরে জোরে আঘাত করছে। নীলার কান্না তার সহ্যই হচ্ছে না। সে নীলা কে শান্তনা দেওয়ার জন্য নরম সুরে বলতে লাগলো __
এই মেয়ে কাঁদছো কেন?তুমি না খুব স্ট্রং গার্ল? তোমার তো অন্যকে কাঁদানোর কথা তাহলে তুমি নিজে কেন কাঁদছো? বল কে করেছে? কেউ কি কিছু বলেছে? আমাকে বলো আমি সবকিছু সামলিয়ে নিবো।
নীলা কান্না করতে করতে সম্পূর্ন ঘটনা খুলে বলল। শুনেই মিহালের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।সে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে গেল।কেউ তার নীলাঞ্জনা কে কষ্ট দিবে এইটা সে বরখাস্ত করবে না।লিসা কে সে তার প্রাপ্ত শাস্তি দিবে। কিন্তু এর আগে তার নীলাঞ্জনা কে সামলাতে হবে।সে নীলার উদ্দেশ্যে বলল_
ভেঙে পরলে কি চলবে?আবার প্রজেক্ট বানাও এইবার আমি তোমাকে সাহায্য করবো। প্লিজ তবুও কেঁদো না তুমি নীলাঞ্জনা।
নীলা অশ্রুসিক্ত নয়নে মিহালের দিকে তাকিয়ে বলল_
বললেই হলো নাকি? যে প্রজেক্ট আমি এক সপ্তাহ পরিশ্রম করে বানিয়েছি। খাওয়া ঘুম সবকিছু ভুলে গিয়ে বানিয়েছিলাম সেই প্রজেক্ট একরাতে বানানো সম্ভব না। আমি পারবো না।
মিহাল বুঝলো মেয়েটি পরিস্থিতি আর মেয়েটা যে কিছুটা ভেঙ্গে পড়েছে সেটিও আন্দাজ করতে পারল। কিন্তু নীলাকে তার তেজি রূপেই মানায়। এই নীলাকে ভেঙে পড়তে দেওয়া যাবে না। সে আস্বস্ত বাণীতে বলল_
হুঁশশশ একদম কান্নাকাটি করবে না।আমি চলে এসেছি এখন আমি সব সামলে নিব। একদম ভেঙে পরে অন্যদেরকে সুযোগ দিবে না।আমি কথা দিচ্ছি কালকে তুমিই এই প্রজেক্ট জিতবে। শুধু আমাকে এই প্রজেক্টে কি কি ব্যবহার করেছ তা বলে সাহায্য করো।
নীলার কান্না অনেকটাই কমে এসেছে।সে হিচকি তুলতে তুলতে সমস্ত প্রজেক্টে কি কি ব্যবহার করেছে সবকিছু খুলে বলবে। মিহাল পকেট থেকে একটি ছোট নোট পেইড বের করে নোট করে নিল যেন কোনোরকম ভুল না হয়। তারপর নীলা কে জিজ্ঞেস করল_
এই প্রজেক্ট এর কোন ছবি আছে তোমার কাছে?
নীলা মাথা উপর নিচে নাড়িয়ে হ্যাঁ সূচক জবাব দিল।মিহাল স্মিত হেসে বলল__
আমার নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করে ছবিগুলো পাঠিয়ে দাও।
নীলা নিজের ফোন বের করে মিহালের কাছ থেকে whatsapp নাম্বার নিল এবং একটি একটি করে ছবি পাঠিয়ে দিলো।সে যখন এই প্রজেক্টটির কাজ শুরু করেছিল তখন থেকেই একটি করে ছবি তুলে রাখত। এর জন্য প্রজেক্ট এর অনেকগুলো ছবি তার কাছে আছে। অবশ্য এতে মিহালের অনেক সুবিধা হল।
মিহাল ছবি গুলো নিয়ে বলল”” “
এখন সোজা নিজের বাড়ি চলে যাও এবং ভুলেও কান্নাকাটি করবে না। নয়তো খবর আছে। আমাকে বিশ্বাস করো?
নীলা এইবার মাথা ডান দিক বাম দিক নাড়িয়ে ইশারার সুযোগ ভাবে বোঝালো যে সে বিশ্বাস করে না।
মিহাল ঠোঁট কামড়ে হাসলো। এবং বলল_
গুড বিশ্বাস করা ইজ নট গুড হেবিট। আমি নিজেও নিজেকে বিশ্বাস করি না। তাই আমাকে বিশ্বাস করার দরকার নেই। কিন্তু আমার পড়া যেভাবে মাথায় রাখ আমার বলা এই কথাটিও মাথায় রাখবে যে আমি সব সামলে নিব।এখন সোজা নিজের বাসস্থানে ফিরে যাও। এবং যাবার আগে যেখানে থাকো সেখানকার ঠিকানা বলে যাও।
নীলা তাই করলো এবং ইউনিভার্সিটি থেকে চলে এলো।
নীলা যেতেই মিহাল মনে মনে বলল __
লিসার এমন ব্যবস্থা করব যে দ্বিতীয়বার কারো সাথে পাঙ্গা নেওয়ার কথা মনে করতেই এক সপ্তাহে জ্বরে ভুগবে। আমার নীলাঞ্জনা কে কি কষ্ট দেবে তার বেঁচে থাকা আমি হারাম করে ছাড়বো।
চলবে???
আবার শুক্রবার আসবে গল্প।তবে চেষ্টা করব এই দুই দিনের ভেতর একদিনে দেবার জন্য।
Share On:
TAGS: নাজনীন নেছা নাবিলা, নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১২
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১৫
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ২০
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১১
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১৬
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১৮
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ৫(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা পর্ব ১৭
-
নীভৃতে প্রেম আমার নীলাঞ্জনা গল্পের লিংক