Golpo romantic golpo নিষিদ্ধ রংমহল

নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ৩১


নিষিদ্ধ_রংমহল 🥀

পর্ব_৩১

রণক্ষেত্রের সেই রক্তিম ধূলিকণা আর বৃষ্টির ঝাপটার মাঝে এক বীভৎস নিস্তব্ধতা নেমে এল। সেই নিস্তব্ধতা যেন নতুন ঝড়ের পূর্বাভাস।

তাইমুর যখন হেমাঙ্গিনীকে আগলে ধরে ব্রিটিশ সৈন্যদের লালসা থেকে রক্ষা করার জন্য উদ্যত হলেন, ঠিক তখনই ভিড়ের ভেতর থেকে এক বিষাক্ত গুঞ্জন দাবানলের মতো চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ল।

নীলকুঠির ভাড়াটে দালালরা এই সুযোগেরই অপেক্ষায় ছিল বোধহয়! তারা জানত, গজনবী বংশের আভিজাত্যে আঘাত করার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো বাঈজীর প্রতি ভাবি জমিদারের দুর্বলতা। ভিড়ের মধ্য থেকে রামকমল রায়ের এক ঘনিষ্ঠ অনুচর বিকট স্বরে চিৎকার করে উঠল,

  • দেখুন ভাইয়েরা! চোখ মেলে দেখুন ! আপনাদের অন্নদাতার উত্তরসূরির হাল! যে হাত দিয়ে প্রজাদের রক্ষা করার কথা, আগলে রাখার কথা, সেই হাত আজ এক নর্তকীর কোমর জড়িয়ে আছে। ধিক্কার এই জমিদার বংশকে! ধিক্কার এই কুলাঙ্গার পুত্রকে!

“ধিক্কার এই কুলাঙ্গার পুত্রকে!”

এই একটি বাক্য যেন বারুদের স্ফুলকির ন্যায় ছড়িয়ে গেল। প্রজারা, যারা কিছুক্ষণ আগে রক্তের নেশায় মত্ত ছিল, তারাও নীতি-নৈতিকতার দোহাই দিয়ে গর্জে উঠল। গগন সর্দার বুক চিরে এক অট্টহাসি হেসে বলল,

  • আমরা তো জানতাম গজনবী মহলের রক্ত পবিত্র। কিন্তু আজ দেখছি সেই রক্ত এক বাঈজীর পায়ের নূপুরে লীন হয়ে গেছে! হুজুর, আপনি কি ভুলে গেছেন – এই মাটি ধর্মপ্রাণ মানুষের? এক দেহোপজীবিনীকে রক্ষার্থে আপনি নিজের প্রজাদের ওপর তলোয়ার তাক করলেন? এ তো চরম অধর্ম!

চারদিক থেকে ধিক্কার আর অশ্লীল ইঙ্গিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠল। নীলকুঠির সাহেব মিস্টার রবিনসন এই দৃশ্য দেখে কুটিল হাসলেন। তিনি ঘোড়া এগিয়ে নিয়ে জনতার উদ্দেশে বললেন,

  • শোনো আমার ভাইয়েরা, তোমরা কি এমন কাউকে তোমাদের ভবিষ্যৎ জমিদার হিসেবে মানবে, যে একজন বাঈজীর প্রেমে মগ্ন হয়ে বংশের সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে? ব্রিটিশ কোম্পানি এমন চরিত্রহীন জমিদারের হাতে এস্টেটের ভার রাখতে পারে না!

জনতা এবার উন্মত্ত হয়ে উঠল। রহমত শেখ, ভিড় থেকে চিৎকার ভেসে এল,

  • আমরা এমন জমিদার চাই না! যে বংশের আভিজাত্য এক বাঈজীর প্রেমে মূর্ছা যায়, সেই বংশের পতনই শ্রেয়। বের করে দিন এই বাইজীকে আর তার সাথে এই কুলাঙ্গার পুত্রকেও এস্টেট থেকে বহিষ্কার করা হোক!

তাইমুর গজনবী স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। তাঁর হৃদয়ের ক্ষতটি ছিল প্রখর। তিনি দেখলেন যে প্রজাদের শোষণ কমাতে তিনি পিতার পানেও আঙুল তুলেছেন,তারা আজ তাঁর পবিত্র প্রেমকে এক জঘন্য লালসা হিসেবে চিহ্নিত করছে!

হেমাঙ্গিনী তাইমুরের আচকান খামচে ধরল। তাঁর দুচোখ বেয়ে লোনা জল গড়িয়ে পড়ছে। সে কাঁপাকাঁপা কণ্ঠে বলল,

  • হুজুর, আমার জন্য আপনার ওপর এমন কলঙ্ক আসবে আমি জানতাম। আপনি আমাকে ছেড়ে দিন, আমি একাই চলে যাব। আপনি কেন নিজের মর্যাদা নষ্ট করছেন? এমনটা করবেন না!

তাইমুর তাঁর চোয়াল শক্ত করলেন। তিনি জনতার দিকে এক রুদ্রদৃষ্টি নিক্ষেপ করে বজ্রকণ্ঠে বললেন,

  • স্থির হও তোমরা! তোমরা যারা আজ সতীত্বের বুলি আউড়াচ্ছ, তাদের মনে রাখা উচিত, এই বাঈজীরাই নিজেদের প্রতিভা দিয়ে মহলের সম্মান রক্ষা করেন। মাহফিল মাতিয়ে রাখেন।
    প্রেম কি কেবল রাজমহলের অধিকার? যদি সত্য আর প্রেমের প্রতি সম্মান জানানোই কুলাঙ্গারের কাজ হয়, তবে আমি সেই কলঙ্ক শিরোধার্য করলাম!

তবে তাইমুরের এই প্রতিবাদ অরণ্যে রোদন ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রত্যুত্তরে নীলকুঠির লোকরা চিৎকার করে স্লোগান দিতে লাগল_

“বাঈজীর দালাল নিপাত যাক! গজনবী এস্টেট থেকে এদের বহিষ্কার করো!”

অত্যন্ত দ্রুতপদে কক্ষে প্রবেশ করল জমিদার সিকান্দার গজনবীর প্রধান খিদমদগার দাউদ। তার অবয়বে স্পষ্ট ত্রাস, কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম বৃষ্টির জলের ন্যায় ঝরছে। সে হাঁটু গেঁড়ে বসে রুদ্ধকণ্ঠে বলল,

  • হুজুর! পরিস্থিতি আর আয়ত্তে নেই। বাইরে প্রলয় শুরু হয়েছে।

সিকান্দার গজনবী ধীরে ধীরে ফিরলেন। তাঁর চোখের নিচে বাঘের ন্যায় তীক্ষ্ণতা। তিনি নিচু স্বরে প্রশ্ন করলেন,

  • স্পষ্ট করে বলো দাউদ। আমার পুত্র কি প্রজাদের বিদ্রোহ দমন করতে পেরেছে? নীলকুঠির সেই ফিরিঙ্গি রবিনসন কি পিছু হটেছে?

দাউদ মাথা নিচু করে কাঁপাকাঁপা কণ্ঠে উত্তর দিল,

  • না হুজুর। বরং আগুনের লেলিহান শিখা এখন আমাদের সম্মানের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ছোট হুজুর তলোয়ার হাতে প্রজাদের রক্ষা করার চেষ্টা করছেন ঠিকই, কিন্তু প্রজারা আজ আর প্রজা নেই!

সিকান্দার গজনবী ভ্রু কুঞ্চিত করলেন।

দাউদ পুনরায় বলল,

  • তারা উন্মত্ত পশুর ন্যায় আচরণ করছে। নীলকুঠির দালালরা তাদের কানে বিষ ঢেলেছে। ছোট হুজুর আশি হাজার স্বর্ণমুদ্রার বিনিময়ে তাদের রক্ত বিক্রি করে দিয়েছেন। কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর সংবাদটি ভিন্ন, হুজুর।

সিকান্দার গজনবীর ইশারায় দাউদকে বলতে বললেন।
দাউদ ঢোক গিলে বলল,

  • বাইরের জনসমুদ্রে এখন এক নতুন স্লোগান উঠছে। তারা বলছে, গজনবী বংশের উত্তরসূরি আজ এক সামান্য বাঈজীর মোহে মত্ত। ছোট হুজুর সেই হেমাঙ্গিনীকে রক্ষার্থে নিজ প্রজাদের ওপর অস্ত্র তাক করেছেন। রবিনসন সাহেব জনতাকে উস্কে দিয়ে বলছেন যে, চরিত্রহীন জমিদারের অধীনে তারা থাকবে না। প্রজারা একবাক্যে দাবি তুলেছে, হয় ওই বাঈজীর মায়া ত্যাগ করতে হবে, নয়তো ছোট হুজুরসহ তাকে এই এস্টেট থেকে বহিষ্কার করতে হবে। হুজুর, আপনার ক্ষমতা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। তারা এই অজুহাতে পুরো এস্টেট দখলে নেওয়ার নীল নকশা তৈরি করছে।

সিকান্দার গজনবী জানালার গ্রিল শক্ত করে ধরলেন। তাঁর হাতের শিরাগুলো নীল হয়ে ফুটে উঠল। কয়েক মুহূর্তের জন্য কক্ষের নিস্তব্ধতা যেন পাথরের ন্যায় ভারী ঠেকল। সিকান্দারের চেহারায় এক নিষ্ঠুর কাঠিন্য নেমে এল।
তিনি দাউদের দিকে তাকিয়ে পাথুরে কণ্ঠে বললেন,

  • দাউদ, এই মুহূর্তে আমার কাছে পুত্রের চেয়েও বড় হলো “জমিদারি”। আভিজাত্যের এই বৃক্ষটি আমাদের পূর্বপুরুষরা রক্ত দিয়ে বড় করেছেন। আমি এক নর্তকীর জন্য এই বিশাল সাম্রাজ্য ব্রিটিশদের হাতে তুলে দিতে পারি না। ক্ষমতা হলো সূর্যের ন্যায়। যদি তা একবার অস্ত যায়, তবে অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।

দাউদ বিস্ময়ে চাইল,

  • তবে কি আপনি ছোট হুজুরকে…?

সিকান্দার দাউদের কথা মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে বললেন,

  • ক্ষমতা বাঁচানোর জন্য যদি নিজের রক্তকে বিসর্জন দিতে হয়, আমি তাতেও পিছপা হব না। এই মুহূর্তে প্রজাদের শান্ত করা আর ব্রিটিশদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা আমার প্রথম কাজ। আর তার জন্য প্রজাদের দাবি মানার অভিনয় নয়, বরং এক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি তাইমুরকে সুযোগ দেব। তাঁকে সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে- হয় গজনবী বংশের উত্তরাধিকার, নয়তো ওই বাঈজী। আমি জানি আমার পুত্র তেজস্বী, কিন্তু আবেগ তাকে অন্ধ করে দিয়েছে।
    প্রজাদের কাছে তাইমুরকে এক বিপথগামী প্রেমিক হিসেবে উপস্থাপন করতে পারলে জনতা শান্ত হবে এবং ব্রিটিশদের হস্তক্ষেপের নৈতিক কোনো ভিত্তি থাকবে না। বিনিময়ে আমার ক্ষমতা অটুট থাকবে।

সিকান্দার গজনবী দাউদকে এবার হুকুম দিলেন,

  • মহলের রক্ষীবাহিনীকে প্রস্তুত করো। আমি নিজে সিংহদ্বারের বারান্দায় যাব। প্রজারা যেন দেখে, সিকান্দার গজনবী আভিজাত্যের প্রশ্নে নিজের পুত্রের সাথেও আপস করে না। আমার ক্ষমতার চেয়ে বড় এই পৃথিবীতে আর কিছুই নেই, এমনকি মমতাও নয়।

বাইরের হট্টগোল তখন চরমে। রবিনসন আর রামকমল রায়ের লোকেরা জয়ধ্বনি দিচ্ছে। সিকান্দার গজনবী যখন ধীর পায়ে মহলের সুউচ্চ বারান্দার দিকে অগ্রসর হলেন, তখন তিনি মনে মনে আওড়ালেন—

“ক্ষমা করো তাইমুর! জমিদারের কোনো পুত্র থাকে না, থাকে কেবল উত্তরসূরি। আর কলঙ্কিত উত্তরসূরির চেয়ে নিঃস্ব জমিদার হওয়া অনেক বেশি সম্মানের।”

সিকান্দার গজনবী যখন বারান্দার একদম কিনারায় এসে দাঁড়ালেন, তখন নিচের রণক্ষেত্রে এক মুহূর্তের জন্য শ্মশান নিস্তব্ধতা নেমে এল। প্রজারা তাদের অন্নদাতার এই রূঢ় মূর্তি দেখে থমকে গেল। বৃষ্টিভেজা আলোয় সিকান্দার গজনবীর চোখদুটোকে এক নিষ্ঠুর বিচারকের ন্যায় প্রতীয়মান হচ্ছিল। তিনি নিচের কর্দমাক্ত ভূমিতে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর রক্তাক্ত পুত্র তাইমুর এবং তাঁর পাশে ম্লান মুখে দাঁড়িয়ে থাকা হেমাঙ্গিনীর দিকে একবার তাকালেন। তাঁর সেই দৃষ্টিতে মমতার লেশমাত্র ছিল না, ছিল কেবল ক্ষমতার দম্ভ।

সিকান্দার গজনবী হাত তুলে জনতাকে শান্ত হওয়ার ইশারা করলেন। তাঁর গম্ভীর কণ্ঠস্বর বৃষ্টির শব্দ চিরে প্রাঙ্গণে ছড়িয়ে পড়ল,

  • গজনবী এস্টেটের প্রজাবৃন্দ! স্থির হও তোমরা। আমি জানি, আজ তোমরা এই মহলের পবিত্রতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছ। তোমরা বিশ্বাস করেছ যে, গজনবী বংশের রক্ত এক বাঈজির মোহে কলঙ্কিত হয়েছে।

তাইমুর তাঁর পিতার দিকে মুখ তুলে চাইলেন, তাঁর চোখে তখনো এক ক্ষীণ আশা যে হয়তো পিতা তাঁর পাশে দাঁড়াবেন। কিন্তু সিকান্দার গজনবী সেই আশায় বজ্রপাত ঘটিয়ে ঘোষণা করলেন,

  • এই মহলের প্রতিটি ইট আমাদের পূর্বপুরুষদের আভিজাত্যের সাক্ষী। আমি আমার রক্তকে কোনো নর্তকীর হাতে কলঙ্কিত হতে দেব না। তাইমুর! তুমি আমার পুত্র হয়েও এই মহলের মর্যাদার চেয়ে এক বাইজীর প্রেমকে বড় করে দেখেছ। তুমি ভুলে গেছ, জমিদারের প্রথম ধর্ম হলো তাঁর বংশের গৌরব রক্ষা করা।
    তাইমুর স্তব্ধ হয়ে গেলেন। তাঁর হাত থেকে তলোয়ারটি যেন আলগা হয়ে আসতে চাইল।

সিকান্দার গজনবী আরও কঠোর স্বরে বললেন,

  • আজ এই প্রজাসাধারণ এবং ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের সামনে আমি আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি। যদি তুমি এই মুহূর্তে এই কুলহীন নারীকে ত্যাগ করে মহলের ভেতরে প্রবেশ না করো, তবে তুমি এই এস্টেটের উত্তরসূরি হওয়ার যোগ্যতা হারাবে। গজনবী মহলের প্রাসাদে কোনো কলঙ্কিত নারীর স্থান নেই, আর সেই নারীর প্রেমে মগ্ন কোনো কুলাঙ্গারকেও আমার প্রয়োজন নেই। হয় প্রেম বেছে নাও, নয়তো তোমার এই জমিদারি আর পিতা!

পুরো প্রাঙ্গণ এই ঘোষণায় নিস্পন্দ হয়ে গেল। হেমাঙ্গিনী পুনরায় তাইমুরের আচকান খামচে ধরল, তাঁর চোখের জল বৃষ্টির সাথে মিশে একাকার। সে ফিসফিস করে বলল,

  • হুজুর! খোদার দোহাই লাগে, আপনি আমার হাত ছেড়ে দিন। আপনি ভেতরে যান হুজুর! আমি এক সামান্য বাঈজী, আমার জন্য আপনি নিজের বংশের কয়েকশ বছরের মর্যাদা ধুলোয় মিশিয়ে দেবেন না। এই এস্টেট আপনার, এই সিংহাসন আপনার হুজুর!

তাইমুর নড়লেন না। তাঁর দৃষ্টি স্থির হয়ে আছে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা সেই পাষাণ পিতার দিকে। হেমাঙ্গিনী এবার তাইমুরের পা জড়িয়ে ধরে আবার চিৎকার করে উঠল,

  • কেন বুঝছেন না হুজুর? আমার মতো এক নর্তকীর জীবনের চেয়ে আপনার বংশের আভিজাত্য অনেক বড়। আমি তো পঙ্কিল পথের মানুষ, আমার কোনো পরিচয় নেই। কিন্তু আপনি গজনবী বংশের প্রদীপ! আমাকে ত্যাগ করুন হুজুর, আপনি প্রাসাদে ফিরে যান। আমি মরে গেলেও আপনার নামের গায়ে এই কলঙ্ক লাগতে দিতে পারি না!

তাইমুর হেমাঙ্গিনীর হাত শক্ত করে ধরে উপরে তাকিয়ে বললেন,

  • পিতা, আপনি আজ জমিদারি রক্ষা করতে গিয়ে নিজের পুত্রকে হারিয়ে ফেললেন। যদি এই আভিজাত্য কেবল মানুষের মন বিচার করতে না জানে, তবে এমন জমিদারি আমার চাই না। আমি গজনবী বংশের সন্তান হিসেবে জন্মেছি ঠিকই, কিন্তু মানুষ হিসেবে বাঁচতে চাই। আপনি আপনার মৃত সিংহাসন নিয়ে সুখে থাকুন!

তাইমুর তাঁর রক্তমাখা তলোয়ারটি সিংহদ্বারের চৌকাঠে সজোরে ছুড়ে মারলেন। ঝনঝন শব্দে ইস্পাতটি মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।

সিকান্দার গজনবী চিৎকার করে উঠলেন,

  • তবে তাই হোক! দাউদ, মহলের তোরণ বন্ধ করো! আজ থেকে তাইমুর গজনবী এই এস্টেটের কেউ নয়। সে এবং এই বাঈজী যেন এই মুহূর্তেই গজনবী এস্টেটের সীমানা ত্যাগ করে। নতুবা এদেরকে বন্দি করা হবে!

শোবহান মির্জা এগিয়ে আসতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সিকান্দারের রক্ষীরা তাঁকে অস্ত্র ঠেকিয়ে আটকে দিল। তাইমুর হেমাঙ্গিনীকে সাথে নিয়ে সেই প্রবল বৃষ্টির মাঝে পিছন ফিরে হাঁটতে শুরু করলেন।

প্রজারা পথ ছেড়ে দিল। তাইমুর আর হেমাঙ্গিনী ধীর পায়ে সেই কর্দমাক্ত পথ ধরে অজানার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন।সিকান্দার গজনবী বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখছিলেন তাঁর বড় পুত্রের প্রস্থান।

(পরবর্তী পর্ব আগামীকাল ইফতারের পর আসবে)

লেখনীতে, আতিয়া আদিবা

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply