নিষিদ্ধ_রংমহল 🥀
পর্ব_৩০
লেখক: Atia Adiba – আতিয়া আদিবা
গজনবী মহলের প্রাঙ্গণে আজ যমরাজের অট্টহাসি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। প্রাতঃকালীন আকাশের সেই ধূসর আভা বিলীন হয়ে এক রক্তিম বিষণ্নতা গ্রাস করেছে। তাইমুর গজনবী যখন মহলের সুউচ্চ সিংহদ্বার উন্মুক্ত করে বাইরে পা রাখলেন, তখন তাঁর অবয়ব কোনো রক্তমাংসের মানুষের ন্যায় প্রতীয়মান হচ্ছিল না, বরং তিনি যেন রণচণ্ডীর ক্রোধে প্রজ্বলিত এক জীবন্ত অগ্নিপিণ্ড। তাঁর পরনের গাঢ় নীল আচকানের ওপর ভোরের শিশিরবিন্দুগুলো মুক্তোর ন্যায় ঝিলিক দিচ্ছিল বটে, সাথে তাঁর ললাটে গর্জে ওঠা শিরাগুলো কোনো এক প্রলয়ংকরী বিনাশের বার্তা দিচ্ছিল।
সিংহ দরজার ওপারে তখন প্রায় সহস্র মানুষের উন্মত্ত সমুদ্র। যে প্রজা সাধারণ এককালে গজনবী বংশের নাম শুনলে শ্রদ্ধায় মস্তক অবনত করত, আজ তাদের চোখে কেবল জিঘাংসার লেলিহান শিখা।
নীলকুঠির ধূর্ত কুঠিয়ালরা তাদের মস্তিস্কে বিষের চাষ নিখুঁতভাবে করেছে। তাদের হাতে থাকা মশালগুলো থেকে নির্গত ধোঁয়া যেন কোনো এক অশুভ নাগিনীর ন্যায় আকাশে কুন্ডলী পাকাচ্ছে। স্লোগানের তীক্ষ্ণ শব্দে গজনবী মহলের ভিত্তিপ্রস্তর পর্যন্ত আজ থরথর করে কাঁপছে,
“জালিম জমিদারের রক্ত চাই! গজনবী মহলে আগুন জ্বালো!”
তাইমুর তার তেজি অশ্ব ‘জুলফিকার’ এর বল্গা টেনে ঠিক জনসমুদ্রের মধ্যিখানে গিয়ে দাঁড়ালেন। তার পেছনে স্বল্পসংখ্যক অনুগত রক্ষী, যাদের মুখে আজ আসন্ন মৃত্যুর ছায়া। তবে তাইমুর থমকে যাবার পাত্র নয়।
তার মস্তকে আজ কেবল বংশের মর্যাদা আর নীলকরদের
এই বিশ্বাসঘাতকতার দহন। তিনি তাঁর কণ্ঠনালির ভেতর হতে এক বজ্রনির্ঘোষ হুংকার ছাড়লেন,
- অবোধের দল! কার ইশারায় তোমরা আজ নিজ অন্নদাতার দুয়ারে অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়েছ? গজনবী মহলের প্রতিটি প্রস্তরখণ্ড তোমাদের পূর্বপুরুষদের ঘাম আর আমাদের পূর্বপুরুষদের দাক্ষিণ্যে সিক্ত। আজ সেই পবিত্র মাটিতেই তোমরা কলঙ্কের বীজ বপন করতে এসেছো?
ভিড়ের একদম অগ্রভাগে দাঁড়িয়ে ছিল প্রজা গগন সর্দার। লোকটির দেহ বলশালী, আর চোখে ব্রিটিশদের শিখিয়ে দেওয়া অন্ধ আক্রোশ। সে তার হাতের বল্লমটি সজোরে মাটিতে ঠুকে চিৎকার করে উঠল,
- মিথ্যা প্রবোধ দেবেন না, ছোট হুজুর! আশি হাজার স্বর্ণমুদ্রার বিনিময়ে আপনারা আমাদের আবাদি জমি নীলকরদের দাদন চুক্তিতে সঁপে দিয়েছেন। আমরা না খেয়ে মরব, আমাদের সন্ততিরা শ্মশানে পরিণত হবে। তা কেবল আপনাদের এই রাজকীয় বিলাসিতার জন্য? আজ এই মহলের দাম্ভিকতা আমরা ধুলোয় মিশিয়ে দেব!
তাইমুর সামান্য হাসলেন। তবে সে হাসিতে কোনো আনন্দের লেশমাত্র ছিল না। বরং তা ছিল এক গভীর বেদনাবোধের আর্তনাদ। পুনরায় বললেন,
- আপনারা কি একবারও স্থির মস্তিকে ভেবে দেখেছেন—এই আশি হাজার স্বর্ণমুদ্রার গুপ্ত সংবাদ আপনাদের এই অতি সাধারণ কুটিরে পৌঁছাল কীভাবে? যে মিস্টার রবিনসন আর রামকমল রায় আপনাদের হাতে এই জ্বলন্ত মশাল তুলে দিয়ে নেপথ্যে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছে, তারা কি আপনাদের পরমাত্মীয়? তারা আপনাদের পরম হিতাকাঙ্ক্ষী সেজে আজ আপনাদেরই ঘর পোড়ানোর এক অশুভ আয়োজন করেছে। নীলকুঠির ওই ধূর্ত ফিরিঙ্গিগুলো আপনাদের ভূমি হরণ করার নিমিত্তে এই নিপুণ চক্রান্তের মায়াজাল বুনেছে। আপনারা কি স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছেন না যে, আপনাদের এই অন্ধ বিদ্রোহের আড়ালে তারা আসলে গজনবী মহলের সার্বভৌমত্ব হরণ করতে উদগ্রীব?
ভিড়ের অগ্রভাগে থাকা একজন বলশালী প্রজা অবজ্ঞার হাসি হেসে উঠল। ঠিক তখনই পেছন থেকে নীলকুঠির এক বেতনভুক্ত চর উচ্চস্বরে বলে উঠল,
- শোনো ভাইয়েরা! ছোট হুজুর এখন আমাদের মন ভোলাতে সুনিপুণ কূটতর্কের জাল বিস্তার করছেন। তিনি আমাদের বুদ্ধি লোপ করে সেই দলিলে টিপসই নেওয়ার ফন্দি আঁটছেন!
প্রজাদের মধ্যে অবিশ্বাসের এক প্রবল গুঞ্জন বয়ে গেল। রহমত শেখ নামক এক বৃদ্ধ কৃষক, যাঁর ললাটে অভিজ্ঞতার অসংখ্য বলিরেখা, তিনি কাঁপাকাঁপা কণ্ঠে চিৎকার করে উঠলেন,
- হুজুর, নীলকুঠির সাহেবরা আমাদের সেই দাদন চুক্তির নকল দেখিয়েছে। সেখানে বড় হুজুরের রাজকীয় মোহর সুস্পষ্টভাবে অঙ্কিত আছে! তারা আমাদের সশরীরে অকাট্য প্রমাণ দিয়েছে যে, জমিদারি রক্ষা করতে আপনারা আমাদের সর্বস্বান্ত করার এক গোপন শপথ নিয়েছেন। ব্রিটিশরা কেন আমাদের নিকট মিথ্যা বলবে? তারা তো আমাদের শস্যের বিনিময়ে অগ্রিম মুদ্রা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে!
তাইমুর অত্যন্ত বিষাদগ্রস্ত হয়ে মস্তক সঞ্চালন করলেন। তাঁর কণ্ঠস্বরে এক করুণ অথচ অটল আর্তি ফুটে উঠল,
- আপনিও কি বিশ্বাস করলেন ব্রিটিশের ওই সুকৌশলে নির্মিত জাল দলিলকে? তারা জালিয়াতির মাধ্যমে আমাদের মোহর ব্যবহার করেছে। তারা আপনাদের শস্যের ন্যায্য মূল্য দেবে না, বরং আপনাদের উর্বর মৃত্তিকায় নীলের বিষ ঢুকিয়ে আপনাদের আমৃত্যু আপন ভূমিতেই ক্রীতদাসে পরিণত করবে। আপনারা যাদের প্ররোচনায় আজ এই মহলের সিংহদ্বারে খড়্গহস্ত হয়ে দাঁড়িয়েছেন, তারা আপনাদের মুক্তি দেবে না, বরং আপনাদের গ্রীবায় চিরস্থায়ী পরাধীনতার লৌহ জিঞ্জির পরাবে। ফিরে যান আপনারা!
এখনো সময় আছে, এই বিদেশি চক্রান্তের মোহজাল ছিন্ন করুন! নতুবা আজ এই পবিত্র মাটিতে অনর্থক যে শোণিতপাত হবে, তার দায়ভার কাল মহাকাল আপনাদেরই দেবে।
তাইমুরের এই আকুল আবেদন আর যুক্তির নিগড় প্রজাদের পাথুরে হৃদয়ে বিন্দুমাত্র রেখাপাত করল না; বরং তাঁর প্রতিটি শব্দ যেন জ্বলন্ত অগ্নিতে ঘৃতাহুতির ন্যায় কাজ করল। জনতা আরও বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। তাদের মনে হলো, ছোট হুজুর কেবল বাকপটুতা দিয়ে তাদের ন্যায়সঙ্গত ক্ষোভকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ভিড়ের মধ্য থেকে একজন যুবক চিৎকার করে উঠল,
- যথেষ্ট হয়েছে হুজুর! আর রাজকীয় বুলি আউড়াবেন না। পেটে খিদে থাকলে আদর্শ দিয়ে পেট ভরে না। আপনারা নীলকরদের সাথে হাত মিলিয়েছেন বলেই আজ এত কথা বলছেন। যদি সৎ সাহস থাকে, তবে ওই আশি হাজার স্বর্ণমুদ্রার হদিস দিন! আপনারা কেবল আমাদের রক্ত চুষে এই মহলের শান-শওকত টিকিয়ে রাখতে চান!
মুহূর্তেই চারদিকের পরিবেশ আরও ভয়াবহ হয়ে উঠল। প্রজাদের চোখে-মুখে এক পৈশাচিক হিংস্রতা ফুটে বেরুল। তারা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে “মারো! এই জালিমকে শেষ করে দাও!” বলে চিৎকার শুরু করল। কেউ একজন সজোরে একটি জ্বলন্ত মশাল তাইমুরের ঘোড়ার দিকে ছুড়ে মারল। ঘোড়াটি ভয়ে হ্রেষাধ্বনি তুলে পেছনের পায়ে দাঁড়িয়ে পড়ল।
ঠিক সেই মুহূর্তে রামকমল রায়ের এক পোষা ঘাতক ভিড়ের আড়াল হতে একটি ধারালো প্রস্তরখণ্ড তাইমুরের ললাট লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করল। পাথরটি তীব্র গতিতে এসে তার বাম কপালে আঘাত হানল। মুহূর্তেই গৌরবর্ণ কপাল বিদীর্ণ হয়ে উষ্ণ শোণিতের ধারা নেমে এল। সেই রক্তধারা তার নয়নপল্লব ছাপিয়ে আচকানের নীলাভ জমিনে লাল কলঙ্ক এঁকে দিল।
তাইমুর তার কপাল হতে চুইয়ে পড়া রক্তের আস্বাদ পেলেন। এই রক্ত কেবল তার শরীরের নয়, এই রক্ত দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ততার অপমৃত্যুর। তার ধৈর্যের বাঁধ এবার চূড়ান্তভাবে ভেঙে গেল।
তিনি তার কটিদেশ হতে সেই রত্নখচিত তলোয়ারটি কোষমুক্ত করলেন। ইস্পাতের সেই নীলচে ঝিলিক ভোরের আলোয় যেন সাক্ষাৎ কালভৈরবের অসি হিসেবে প্রতিভাত হলো। তিনি তপ্ত স্বরে বললেন,
- তোমরা যখন যুক্তির ভাষা ভুলে গিয়ে পাশবিকতায় মত্ত হয়েছ, তবে আজ তলোয়ারই হবে গজনবী বংশের ভাবি জমিদারের একমাত্র উত্তর ।
যে গজনবী বংশ এতদিন তোমাদের রক্ষা করেছে, সেই বংশ আজ তোমাদের নরকদ্বারে পাঠাতে দ্বিধা করবে না।
রক্ষিবাহিনী, আক্রমণ করো!
পর মুহূর্তেই শুরু হলো এক বীভৎস রণলীলা। তাইমুর তাঁর অশ্ব ছুটিয়ে দিলেন সেই উন্মত্ত ভিড়ের মাঝে। ‘জুলফিকার’-এর হ্রেষাধ্বনি আর মানুষের আর্তচিৎকারে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয়ে উঠল। তাইমুরের তলোয়ারের প্রতিটি কোপ যেন বিদ্যুতের ন্যায়। প্রথম আঘাতেই তিনি গগন সর্দারের হাতের লাঠি দুই টুকরো করে দিলেন। কিন্তু প্রজারা সংখ্যায় অগণিত। তারা পঙ্গপালের ন্যায় তাইমুরকে ঘিরে ফেলল।
মানুষের হাহাকার, অস্ত্রের ঝনঝনানি আর মশালের আগুনের উত্তাপে রণক্ষেত্রটি এক বিভীষিকাময় রূপ ধারণ করল।
তাইমুর তার অমানুষিক বীরত্বে একের পর এক আক্রমণকারীকে ধরাশায়ী করছিলেন। কিন্তু তার মনে এক নিদারুণ দ্বন্দ্ব চলছে তখন।
যাদের তিনি রক্ষা করতে চেয়েছিলেন, আজ তাদের শরীরেই তার তলোয়ারের ফলা বিঁধছে। রক্তের গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে উঠল। ছিন্নভিন্ন দেহ আর বিচ্ছিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাঝে তাইমুর দাঁড়িয়ে রইলেন এক অকুতোভয় সেনাপতির ন্যায়।
এদিকে অন্দরমহলের সেই শান্ত প্রকোষ্ঠে হেমাঙ্গিনী জানালায় দাঁড়িয়ে এই ধ্বংসলীলা প্রত্যক্ষ করছিল। ঝোড়ো বাতাসে জানালার পর্দাগুলো উন্মত্তের ন্যায় উড়ছে। হেমাঙ্গিনীর দুচোখ বেয়ে লোনা জল গড়িয়ে পড়ছিল। সে দেখল, তাইমুরের সেই শুভ্র আচকান আজ প্রজাদের আর তাঁর নিজের রক্তে একাকার হয়ে গেছে। সে বিড়বিড় করে বলছিল,
- হুজুর, ফিরে আসুন। এই জমিদারি, এই ঐশ্বর্য কিছুই তো মানুষের জীবনের চেয়ে বড় নয়! খোদা, কেন আপনি এমন পরীক্ষা নিচ্ছেন?
সহসা কক্ষের ভারী কপাট খুলে শোবহান মির্জা ভেতরে প্রবেশ করলেন। তার হস্তদ্বয় কাঁপছিল, আর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। তিনি কম্পিত স্বরে বললেন,
- বাঈজী সাহেবা! সর্বনাশ হয়ে গেছে! নীলকুঠির কুঠিয়ালরা প্রজাদের আড়ালে থেকে মাস্কেট রাইফেল ব্যবহার করছে। ছোট হুজুরকে চারপাশ থেকে ঘেরাও করা হয়েছে। তারা মহলের প্রধান তোরণে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আপনি এখনই গোপন সুড়ঙ্গ দিয়ে প্রস্থান করুন!
হেমাঙ্গিনী কোনো উত্তর দিল না। তাঁর চোখের মণি তখন এক স্থির সংকল্পে স্থির। সে ধীরপায়ে পালঙ্কের তলা হতে সেই সুসজ্জিত ছোরোটি বের করল। তাঁর কণ্ঠে তখন কোনো ভয় নেই, বরং এক রাজকীয় তেজ ফুটে উঠল,
- যে মহলের ভাবি জমিদার আজ রক্তের সাগরে লড়াই করছেন, সেই মহলের দাসী হয়ে আমি পালিয়ে যাব? কখনো নয়!
নিচে তখন পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। মিস্টার রবিনসনের লেলিয়ে দেওয়া ভাড়াটে বন্দুকধারীরা গাছের আড়াল থেকে তাইমুরকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ল। একটি গুলি সজোরে জুলফিকারের পায়ে বিঁধল। যন্ত্রণাকাতর অশ্বটি চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। তাইমুর ছিটকে পড়লেন সেই কর্দমাক্ত এবং রক্তাক্ত ভূমিতে। ধুলো আর রক্তে তার চেহারা চেনা দায় হয়ে উঠল।
বিদ্রোহীরা এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। তারা সবাই মিলে তাইমুরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার উপক্রম! কিন্তু তাইমুর গজনবী পরাজয় মানার পাত্র নন। তিনি তলোয়ারের ওপর ভর দিয়ে আবার উঠে দাঁড়ালেন। তাঁর চারদিকে তখন অসংখ্য বল্লমের ফলা তাক করা। নীলকুঠির কুঠিয়ালরা ঘোড়ায় চড়ে সামনে এগিয়ে এসে বিদ্রূপের হাসি হাসল।
মিস্টার রবিনসন তাঁর রাইফেলটি তাইমুরের কপাল বরাবর তাক করে বললেন,
- মিস্টার গজনবী! আপনার বংশের শেষ প্রদীপটি আজ এই কাদার মাঝেই নিভে যাবে। এখন বলুন, সেই দাদন চুক্তিতে সই করবেন, নাকি আপনার এই সুন্দর মহলকে শ্মশানে পরিণত হতে দেখবেন?
তাইমুর তাঁর রক্তাক্ত ওষ্ঠাধর প্রসারিত করে এক অবজ্ঞার হাসি হাসলেন। তিনি বললেন,
- রবিনসন, গজনবীর রক্তে গোলামি নেই।
ঠিক সেই মুহূর্তে আকাশের বুক চিরে এক প্রবল বিদ্যুৎ চমকাল। যেন প্রকৃতির দেবতারাও এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন। শুরু হলো এক প্রবল বর্ষণ। রক্তের স্রোত বৃষ্টির জলের সাথে মিশে এক গোলাপী নদী তৈরি করল মহলের আঙিনায়।
অন্দরমহল থেকে হেমাঙ্গিনী তখন সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসছে। তার পরনের বসন বৃষ্টির ঝাপটায় সিক্ত। হাতে ধরা সেই ছোরোটি বিদ্যুতের আলোয় ঝিকিয়ে উঠল।
সে যখন রণক্ষেত্রে এসে পৌঁছালো, তখন দেখল তাইমুরকে সৈন্যরা বন্দি করার চেষ্টা করছে। হেমাঙ্গিনী চিৎকার করে উঠল,
- ছাড়ুনওনাকে! হে বর্বরের দল, তোমরা কি জান না তোমরা কার গায়ে হাত দিচ্ছ?
প্রজারা এক নর্তকীর এই সাহস দেখে স্তম্ভিত হয়ে গেল। কিন্তু ব্রিটিশ সৈন্যরা তাঁকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল। অট্টহাসি হেসে বললেন,
- বাহ! জমিদার সাহেবের রক্ষিতা পর্যন্ত আজ যুদ্ধে নেমেছে? চমৎকার দৃশ্য!
তাইমুর হেমাঙ্গিনীর প্রতি ব্রিটিশদের লালসা স্পষ্ট দেখতে পেলেন। তিনি এক মরণপণ শক্তিতে অন্যদের কবজা থেকে নিজেকে মুক্ত করলেন। তিনি আবার তার তলোয়ারটি তুলে নিলেন। বৃষ্টির ঝাপটায় তার রক্তমাখা মুখটি ধুয়ে যাচ্ছিল বটে, কিন্তু তিনি আবার হুংকার ছাড়লেন,
- যে হাত আমার আমানতকে স্পর্শ করেছে, সেই হাত আমি আজ এই মাটির সাথেই মিশিয়ে দেব!
আবার শুরু হলো এক মরণযুদ্ধ। বৃষ্টির শব্দের চেয়েও তীব্র হয়ে উঠল মানুষের হাহাকার। গজনবী মহলের সেই প্রাচীন দেওয়ালগুলো আজ কেবল নীরব দর্শক নয়, তারা যেন প্রতিটি রক্তবিন্দুর হিসাব রাখছে।
চলবে……
অবশ্যই ৪০০০ লাইক এবং ৫০০ কমেন্ট পূরণ করবেন।
Share On:
TAGS: আতিয়া আদিবা, নিষিদ্ধ রংমহল
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ১৬
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ৯
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ১০
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ১৮
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ২৮
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ১৩
-
নিষিদ্ধ রংমহল গল্পের লিংক
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ৬
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ১৯
-
নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ১১