Golpo romantic golpo নিষিদ্ধ রংমহল

নিষিদ্ধ রংমহল পর্ব ২৭


নিষিদ্ধ_রংমহল 🥀

পর্ব_২৭

লেখকঃ Atia Adiba – আতিয়া আদিবা
গজনবী মহলের সিক্ত অপরাহ্ন আজ এক অপূর্ব মায়াবী আবেশে আচ্ছন্ন। সারারাতের সেই প্রলয়ংকরী বারিবর্ষণের পর আকাশ এখন বেশ নির্মল। তবে সেই নীলিমার এক কোণে এখনো দু-এক ফালি অলস ধূসর মেঘ আপন মনে ভেসে বেড়াচ্ছে। সিক্ত মৃত্তিকার সেই সোঁদা ঘ্রাণ বাতাসের সাথে মিশে এক অদ্ভুত মাদকতা তৈরি করেছে।

মহলের সুউচ্চ অলিন্দে দাঁড়িয়ে তাইমুর গজনবী দূর দিগন্তের পানে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন। তার অবাধ্য কৃষ্ণবর্ণ কেশরাশি বাতাসের ঝাপটায় ললাটে আছড়ে পড়ছে। তার চোখে এক গভীর চিন্তার প্রতিফলন। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন কোনো এক প্রাচীন কাব্যের বিমর্ষ অথচ তেজস্বী রাজপুত্র!
​ঠিক সেই মুহূর্তে অলংকারের অতি মৃদু নিক্বণ আর রেশমী বস্ত্রের অতিশয় সূক্ষ্ম খসখস শব্দে তাইমুরের ভাবনায় ছেদ পড়ল। তিনি অতি সন্তর্পণে পেছনে ফিরে তাকালেন।

সুলতানা অত্যন্ত ধীর ও ললিত চন্দে ছাদের পাথুরে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে আসছেন। তার মুখমণ্ডলে আজ এক অভাবনীয় স্নিগ্ধতা। যেন শরতের শিশিরবিন্দু। তার এই অবোধ বালিকার ন্যায় সারল্য দেখে কারো পক্ষে কল্পনা করাও অসম্ভব যে, এই হৃদয়ে প্রতিহিংসার দাবানল প্রজ্বলিত।

সুলতানা তাইমুরের কিঞ্চিৎ সন্নিকটে এসে অত্যন্ত মার্জিত ও বিনম্র ভঙ্গিতে কুর্নিশ জানালেন। তিনি বিনীত স্বরে বললেন,

​- হুজুর, এই নিভৃত অপরাহ্নে আপনার নির্জনতায় ব্যাঘাত ঘটালাম বলে অধমকে মার্জনা করবেন। কিন্তু আমার কৃতজ্ঞ হৃদয়ের ভার লাঘব না করে আমি স্থির থাকতে পারলাম না। আপনার প্রেরিত সেই অমূল্য উপঢৌকন আমার কক্ষে পৌঁছেছে গতকাল। অতি সামান্য সেই মিষ্টান্নের বিনিময়ে আপনি যে রাজকীয় সম্মান আর অলঙ্কার পাঠিয়েছেন, তা এই সুলতানার কল্পনাতীত ছিল। আপনার এই দাক্ষিণ্য আর মহানুভবতার জন্য আমি আমার হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছি।

​তাইমুর স্মিত হাসলেন। সুলতানার স্বহস্তে নির্মিত সেই সুস্বাদু মিষ্টান্নের স্বাদ এবং নিপুণ রন্ধনশৈলী তাইমুরের মনে এক বিশেষ প্রভাব বিস্তার করেছিল। তিনি সুলতানার দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত দরাজ স্বরে বললেন,

​- সুলতানা, সেই পরিশীলিত মিষ্টান্ন প্রস্তুত করে আপনি যে গুণের পরিচয় দিয়েছেন, তার কৃতজ্ঞতা স্বরূপ এই উপহার অতি সামান্যই। আমি আপনার এই ধৈর্য আর শান্ত স্বভাবের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

প্রত্যুত্তরে সুলতানা হাসল। তাইমুর দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বললেন,

  • আমি মনে মনে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি এই পরিণয় সুসম্পন্ন করতে চাই। আপনার মতো সুগৃহিণী, ধৈর্যশীল আর আভিজাত্যবোধে গুণবতী কন্যাই গজনবী মহলের ভাবী বেগম হওয়ার প্রকৃত যোগ্য। তবে সুলতানা, আমার একটি বিশেষ আরজি আছে।

​সুলতানা তার আয়ত চক্ষুদ্বয় পলকহীন রেখে বিমোহিত হয়ে বললেন,

​- হুজুর, আপনার প্রতিটি শব্দ আমার কাছে আজ্ঞার ন্যায়। আমি তো আপনার চরণের ছায়া হয়েই এই মহলে জীবন অতিবাহিত করতে চাই। আপনি যেভাবে নির্দেশ দিবেন, যেভাবে আমায় গড়বেন, আমি সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করে নেব। আপনি কী বলতে চান, নির্ভয়ে বলুন।

​তাইমুর এক পা এগিয়ে এলেন। বাতাসের ঝাপটা তখন আরও তীব্র হয়েছে। তিনি গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,

​- আপনার পিতা এ অঞ্চলের একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং বিত্তশালী ব্যবসায়ী হতে পারেন। তবে আপনাকে বুঝতে হবে, জমিদারি প্রথা আর ব্যবসায়িক ঐতিহ্যের মধ্যে এক দুস্তর ব্যবধান রয়েছে। জমিদারি আভিজাত্য কেবল ধনসম্পদে নয়, বরং প্রথা, সংস্কৃতি এবং রুচিবোধে নিহিত।

আমি চাই, এই বিশাল এস্টেটের ভাবী বেগম হওয়ার পূর্বে আপনি নিজেকে এই মহলের রীতিনীতি আর শিল্পবোধে পুরোপুরি শিক্ষিত করে নিন। আপনি কি আমার এই প্রস্তাবে আপনার সহমত ব্যক্ত করবেন?

​সুলতানা অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে তার চোখে এক অদ্ভুত সারল্য ফুটিয়ে বললেন,

​- আপনার কথা আমি অনুধাবন করেছি, হুজুর। এমনকি আপনার পিতাও আপনার মতন ভেবেছেন। আমায় অন্দরমহলে ঠাই দিয়েছেন। আমি জানি আমি অনেক বিষয়েই অনভিজ্ঞ, তবে আপনার সাহচর্য থাকলে আমি সবকিছুই আয়ত্ত করতে পারব। তবে মার্জনা করবেন হুজুর, এই অতিকায় অন্দরমহলে আমার বড়ই একঘেয়েমি লাগে। সারাদিন কেবল পরিচারিকাদের মুখ দেখা আর অলস সময় কাটানো বড়ই যন্ত্রণাদায়ক।

​তাইমুর সুযোগ বুঝে এবার হেমাঙ্গিনীর বিষয়টি উত্থাপন করলেন। তিনি সুলতানার চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন,

​- আপনার সেই একাকিত্ব ঘোচাতেই আমি একটি বিশেষ প্রস্তাব রাখতে চাইছি।

  • কি প্রস্তাব, হুজুর?
  • আমি বাঈজী হেমাঙ্গিনীকে অন্দরমহলে নিয়ে আসতে চাই। তিনি কেবলমাত্র সাধারণ একজন বাঈজী নন, আমার বিশ্বাস তিনি এ অঞ্চলের সর্বশ্রেষ্ঠ শিল্পী। তার গীত আর অলৌকিক নৃত্য আপনার দিনগুলোকে আনন্দময় করে তুলবে। আমি চাই তিনি কেবল আপনারই মনরঞ্জন করুন। এতে আপনি যেমন আমাদের বংশের সংগীত আর কলার সাথে পরিচিত হতে পারবেন, তেমনি আপনার নিঃসঙ্গতাও দূর হবে। আপনি কি এই প্রস্তাবে প্রসন্ন?

​সুলতানা মনে মনে এক ক্রূর হাসির জন্ম দিলেও তা প্রকাশ করলেন না। মুখে একরাশ আনন্দ ফুটিয়ে বললেন,

​- আপত্তি? নবাবজাদা, আপনি আমার মনের কথাই যেন পাঠ করেছেন! আমি তো সংগীত আর নৃত্য অতিশয় পছন্দ করি। হেমাঙ্গিনী যদি অন্দরমহলে থাকেন, তবে তো সেটি আমার জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ হবে। আমার আর কষ্ট করে মাহফিলে গিয়ে জনসমক্ষে নৃত্য দেখার প্রয়োজন হবে না। তিনি কেবল অন্দরমহলেই গীত গাইবেন। এখানেই তার নূপুর ধ্বনিত হবে। এতে তার মান-মর্যাদাও বৃদ্ধি পাবে আর আমার অন্দরমহলও সজীব হয়ে উঠবে। আপনার এই বিচক্ষণ পরিকল্পনা সত্যিই অপূর্ব!

​তাইমুর সুলতানার এই নিরুদ্বিগ্ন ইতিবাচক আচরণে অত্যন্ত প্রীত হলেন। তবে সুলতানার ভেতরে যে এক ভয়ংকর বিষবৃক্ষ দানা বাঁধছে এবং তার শিকড় যে কত গভীর, তা তাইমুরের ন্যায় তীক্ষ্ণবুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তিরও অগোচরে রয়ে গেল।

তাইমুর আশ্বস্ত হয়ে বললেন,

​- আপনি যখন সম্মতি দিয়েছেন, তবে আমি আজই ব্যবস্থা করছি। অপরাহ্ন শেষ হওয়ার পূর্বেই বাঈজী মহলে পরোয়ানা পাঠিয়ে দেওয়া হবে। আগামী প্রাতঃকালেই হেমাঙ্গিনীকে অন্দরমহলে আপনার সেবায় নিয়ে আসা হোক।

​সুলতানা অত্যন্ত বিনয়ের সাথে মাথা নিচু করে হাসলেন। তারা দুজনেই ক্ষণিককাল নিরব হয়ে রইলেন। পশ্চিম দিগন্ত তখন টকটকে লাল বর্ণ ধারণ করেছে। সূর্যাস্তের সেই ম্লান আলোয় তাইমুর আর সুলতানা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখতে লাগলেন। এক শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশ। তবে এই আপাত শান্তি আসলে এক প্রলয়ংকরী ঝড়ের পূর্বলক্ষণ মাত্র।

​সূর্যাস্তের ক্ষণিককাল পরেই বাঈজী মহলে শোবহান মির্জা উপস্থিত হলেন। তার হাতে জমিদারি খাস মোহর লাগানো এক বিশেষ রাজকীয় পরোয়ানা। বাঈজীরা বিস্ময়ে কক্ষের আড়াল হতে উঁকি দিতে লাগল। শোবহান মির্জা সরাসরি হেমাঙ্গিনীর কক্ষের তোরণদ্বারে এসে দণ্ডায়মান হলেন।

​বিলকিস বানু তখন হেমাঙ্গিনীর কক্ষেই তার চুল বিন্যাসে ব্যস্ত ছিলেন। শোবহান মির্জাকে দেখে তিনি কিঞ্চিৎ বিচলিত হলেন। এরপর সসম্মানে উঠে দাঁড়ালেন। শোবহান মির্জা তাঁর হাতের পরোয়ানাটি মেলে ধরে অত্যন্ত গম্ভীর ও দরাজ কণ্ঠে ঘোষণা করলেন,

​- বাঈজী হেমাঙ্গিনী, জমিদারপুত্র তাইমুর গজনবীর আজ্ঞা এই যে, আগামী প্রাতঃকালেই আপনাকে অন্দরমহলে প্রস্থান করতে হবে। হুজুরের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এখন হতে আপনি ভাবী বেগম সুলতানা সাহেবার ব্যক্তিগত খিদমতের জন্য অন্দরমহলীয় বিশেষ দাসীশালায় অবস্থান করবেন। আপনার যাবতীয় প্রয়োজনীয় সামগ্রী আর শিল্পের সরঞ্জাম আজ রাতেই প্রস্তুত করে রাখুন। পালকি কাল সকালেই প্রস্তুত থাকবে।

​সংবাদটি শোনামাত্রই হেমাঙ্গিনীর মনে আনন্দের বান ডাকল। তার অক্ষিজোড়া উজ্জ্বল হয়ে উঠল। সে জানত, অন্দরমহলে প্রবেশাধিকার পাওয়া মানেই তার মায়ের সেই রহস্যাবৃত এবং মর্মান্তিক মৃত্যুর সত্য উদ্ঘাটনের এক সুবর্ণ সুযোগ। এছাড়া জমিদারপুত্রর সান্নিধ্যে থাকতে পারবে। এ কি কম আনন্দের? সে মনে মনে তাইমুর গজনবীর প্রতি অপরিসীম কৃতজ্ঞতায় নুয়ে পড়ল।

​শোবহান মির্জা প্রস্থান করার পর কক্ষের ভেতরে এক ভারী নিস্তব্ধতা নেমে এল। বিলকিস বানুর বহু বছরের অভিজ্ঞ চক্ষু এই আনন্দের ছটার মাঝখানে এক অশুভ কুটিল ছায়া অবলোকন করছিল। হেমাঙ্গিনী তার পাশে এসে হাঁটু গেড়ে বসে আহ্লাদী স্বরে বলল,

​- দেখলে খালা? নবাবজাদা তার কথা অক্ষরে অক্ষরে রেখেছেন। আমি অন্দরমহলে থাকব! সেই মহলের অন্দরে প্রবেশ করতে পারলে আমি মায়ের মৃত্যুরহস্যের সূত্রগুলো খুঁজে বের করতে পারব। তবে তুমি কেন এমন পাষাণ মূর্তির ন্যায় চিন্তিত হয়ে আছ?

​বিলকিস বানু হেমাঙ্গিনীর দুই হাত নিজের কম্পিত হাতের মুঠোয় নিয়ে অত্যন্ত করুণ স্বরে বললেন,

​- বেটি, এই আনন্দ আর পরম আশঙ্কার মাঝখানে কেবল এক অতি সূক্ষ্ম সুতোর ব্যবধান। তুই আজ পুলকিত হচ্ছিস কারণ তুই ভাবছিস সেখানে তোর মায়ের খুনিকে পাওয়া সহজ হবে। কিন্তু মনে রাখিস বেটি, অন্দরমহলের দেয়ালগুলোর সহস্র কান আছে। আর সেখানকার নারীরা বিষধর কালনাগিনীর চেয়েও ভয়ংকর। সুলতানা সাহেবা এখন জমিদারপুত্রের জন্য নির্ধারিত ভাবী বেগম। তিনি যতই উত্তম আচরণ করুন না কেন, তার পুরুষ অন্য কোনো নারীর প্রতি আসক্ত, এই গ্লানি কোনো উচ্চবংশীয়া নারী সহ্য করতে পারবে না।

​হেমাঙ্গিনী কিঞ্চিৎ বিস্মিত হয়ে বলল,

​- হুজুর, অবশ্যই তাকে রাজি করিয়েছেন। তার আপত্তি থাকলে তো…

হেমাঙ্গিনীর কথা শেষ হবার পূর্বেই ​বিলকিস বানু বিদ্রূপের হাসি হাসলেন। বললেন,

​- এই গজনবী মহলের রক্তক্ষয়ী রাজনীতি তুই বুঝবি না, বেটি। সুলতানা সাহেবা আপত্তি জানান নি তোকে নিজের নজরে রাখতে। যাতে তোর প্রতিটি পদক্ষেপ তার ইশারায় চলে। বাঈজী মহলে তুই স্বাধীন নর্তকী ছিলি, কিন্তু অন্দরমহলের সেই রুদ্ধদ্বার কক্ষে তুই সুলতানার হুকুমের নিচে এক বন্দি গোলাম ছাড়া আর কিছুই হবি না। হজুর তো সবসময় তোর পাশে থাকতে পারবেন না। তার চোখের অন্তরালে সুলতানা তোকে ঠিক কতটা শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করবেন, তা ভেবেই আমার বুক দুরুদুরু কাঁপছে। তুই সেখানে এক মুহূর্তের জন্যও নিরাপদ থাকবি না। এই কথাটিই আমার অভিজ্ঞ মন বারবার বলছে।

​হেমাঙ্গিনী এক মুহূর্ত নিরব হয়ে রইল। জানালার বাইরে রাতের অন্ধকার ঘনীভূত হচ্ছে। তার মনের কোণে বিলকিস বানুর কথাগুলো সামান্য ভয়ের উদ্বেগ সৃষ্টি করল। তবে মায়ের মৃত্যুরহস্য উদঘাটনের জেদ হিমালয়ের ন্যায় অটল হয়ে উঠল। সে সংকল্পবদ্ধ কণ্ঠে বলল,

​- খালা, কণ্টকাকীর্ণ পথ অতিক্রম না করলে কখনো লক্ষে পৌঁছানো যায় না। আমি ভীরু নই। জমিদারপুত্র আমার পাশে থাকবেন সর্বদা, এবিষয়ে আমি জ্ঞাত। কাজেই এই প্রাণঘাতী লড়াই লড়তে আমি পিছোপা হব না। তুমি কেবল আমার জন্য দোয়া করো যেন আমি জয়ী হয়ে ফিরতে পারি।

​বিলকিস বানু প্রত্যুত্তরে কিছু বললেন না। তিনি হেমাঙ্গিনীকে নিজের বক্ষে জড়িয়ে ধরে আকাশের সেই অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বিড়বিড় করলেন,

  • হে দয়াময়, এই নিষ্পাপ মেয়েটিকে ওই মহলের বিষাক্ত দংশন থেকে রক্ষা করার ভার তোমার হাতে সোপর্দ করলাম।

আগামীকাল সন্ধ্যা ৭ টায় গল্প আসবে। টার্গেট পূরণ করবেন – ৪০০০ লাইক, ৬০০ কমেন্টস।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply