নিষিদ্ধ_চাহনা
পর্ব_৫৫
লেখিকাসারাচৌধুরী
🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫
বাড়ি ফিরে আগে ওয়াশরুমে ঢুকে গোসল সেরে নিলো পিহু।পিহু আসতেই সাদিও গোসল সেরে এলো।পিহুর চুল দিয়ে এখোনো টপটপ করে পানি পড়ছে। রাত সাড়ে তিনটা পেরিয়েছে। সিরেন বিছানার এক কোনে ঘুমাচ্ছে।সাদি ওয়াশরুম থেকে একেবারে ওযু করে বের হয়েছে।
সাদি পিহুর কাছে এসে দুটো জায়নামাজ থেকে একটা পিহুর হাতে দিয়ে শান্ত কোমল কন্ঠে বললো…
-“তাহাজ্জুদ এর নামাজ পড়বো চল।আর তওবা করবো।এই জীবন থেকে সমস্ত পাপ এর ক্ষমা চাওবো।নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল।আমাদের প্রতিশোধ শেষ এবার আমরা একটা সুন্দর জীবনে ফিরতে চাই।সেই আগের পিহুকে চাই আমি।
পিহু বেশ কিছুক্ষন সাদির দিকে তাকিয়ে রইলো।সাদির চোখের ভাসা আজও পিহু পড়তে পারে না।পড়তে পারলে হয়তো সাদির এই লাল আভায় ভরা চোখ দুটোর রহস্য যানতে পারতো।পিহু যায়নামাজ হাতে নিয়ে নিচুস্বরে বলে উঠলো…
-“আপনি আমাকে মাফ করছেন তো।আসলে আমার উদ্দেশ্য খারাপ ছিলো না।শুধু আমি আপনাকে শুদ্ধ দেখতে চেয়েছিলাম বলেই এমন কাজ করেছি।
সাদি এবার হাসলো ঠোঁট এলিয়ে তারপর পিহুর দিকে তাকিয়ে বললো….
-“আমি আমার পিহু’রানীর কোনো ভুল মনে রাখি না।কারন আমি জানি আমার স্টুপিড নিস্পাপ।পবিত্র।পুরো দুনিয়ার কাছে তুই ক্ষনিকের জন্য খারাপ হলেও আমার কাছে প্রতিটা সেকেন্ড এ তুই পবিত্র।
আর কথা বাড়ায় না।নামাজে দাঁড়িয়ে যায় দুজন।সাদির থেকে এক ফুট দুরুত্বে জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ আদায় করে।দীর্ঘক্ষন নামাজ পড়ে মোনাজাত করে এক সঙ্গে।অতীতের সকল ভুলের জন্য মাফ চায় আল্লাহর কাছে।আর সামনের একটা সুন্দর সংসার।
নামাজ শেষ করে দুজনেই জিনিস পত্র ল্যাগেজ গোছাতে শুরু করে।সিরেন উঠেছে কিছুক্ষন আগেই তবে পিহুকে পাত্তা দিচ্ছে না।সাদির কোলের ভিতরে গিয়ে বসে রয়েছে।পিহু দুই-তিনবার হাত এগিয়ে দিলেও সিরেন মাথা ঘুরিয়ে নিয়েছে।তারমানে সে যাবে না।
সিরেনের কর্মকান্ড দেখে সাদি হেসে পিহুকে বলে…
-“তোর উপরে রাগ করেছে দেখছিস।
পিহু বেশ খানিক্ষন তাকিয়ে থেকে ল্যাগেজ এর চেন টেনে দিয়ে সিরেনকে জোর করে নিলো সাদির কোল থেকে কিন্তু সিরেনের কোনো রেসপন্স নেই।একেবারে শান্ত।পিহু এবার সিরেনের কপালে চুপু খেয়ে হেসে বললো….
-“রাগ করে না মা।সরি তো আর হবেনা।আর দেরি করবো না।প্রমিচ।তাকাও আমার দিকে।
তবুও সিরেন তাকায় না।এদিকে সিরেনের রাগ ভাঙানো দেখে সাদি হেসে গড়াগড়ি খাচ্ছে।সাদির হাসি দেখে পিহু রেগে জোরে বলে উঠলো…
-“চুপ করুন একদম হাসবেন না।আমার মেয়েটা আমার উপর রেগে আছে আর আপনি হাসছেন।
পিহুর কথায় সাদি আরো জোরে হেসে উঠলো।পিহুর কোলে সিরেনের দিকে তাকিয়ে বললো..
-“সিরেন তোমার মাম্মাকে বলে দাও।তুমি চাইছো তোমার একটা ভাই বোন আসুক তাইলে তোমার রাগ কমে যাবে।
কথাটা বলেই সাদি আবারো হাসতে লাগলো।অনেক কষ্টে সিরেনের রাগ ভাঙিয়েছে পিহু।তারপর সিরেন খাবার খেয়েছে।
সকাল সাতটার ফ্লাইট এ কানাডার উদ্দেশ্য রওনা দিয়েছে তারা।সিরেনের সাথে নিতে পারেনি।তাদের পরের ফ্লাইট এ আদবে সে।ক্যাট বাক্স এ সুন্দর করে রাখা আছে সিরেন কে।কানাডা এয়ারলাইনস এর ভিতরে সিটে সাদির কাধে মাথা রেখে আছে পিহু।বিমানের ভিতরে লাইট অফ।সকলে ঘুমাচ্ছে।পিহু সাদির ঘাড়ে মাথা রেখেই বলে উঠলো….
-“সাদু আমরা কখনো বাংলাদেশ যাবো না..?আমাদের পরিবার এর বাকি মানুষ গুলোর সাথে কি আর কখোনো দেখা হবে না।
পিহুর কথায় সাদি পিহুর দিকে তাকায়।তারপর ভ্রু কুচকে বলে…
-“কাদের কথা বলছিস তুই..?
-“মেহু আপু আর ইরিনা আপু..?
পিহুর কথাটা শুনে সাদি কিছুটা রেগে গেলো।তবে নিজেকে শান্ত করে বললো..
-“মেহুর সাথে দেখা করাবো তবে ইরিনা কে ভুলে যা।যে বোন তার ভাইকে বিশ্বাস করতে পারেনি।বাবা মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়েও আসেনি।তাকে বোন বলতে ঘৃনা হয়।
-“আপনি না বললেন খবর পাইনি..?
-“আমি শুনেছিলাম এসেছিলো।কিন্তু পরে জানতে পারি আসেনি।তাই তুই যাতে কষ্ট না পাস তাই বলেছি খবর পাইনি।
-“মেহু আপুও তো আসেনি..?
-“তুই কি চাস…?
সাদি পিহুর দিকে তাকায়।পিহু ও সাদির দিকে তাকায়।অস্পষ্ট চোখ জোড়ায় গভীর সমুদ্রের মতো রহস্য।পিহু এবার বলে উঠে…
-“আমি কি চাইবো..?
-“মানে তুই কি চাস। আবারো পুরোনো স্মৃতি মনে করতে কষ্ট পেতে।
-“মানে..?
-“যে বোন তোকে রেখে চলে যাওয়ার পর একদিন ও খোজ নেইনি।তার কথা কিভাবে মনে রাখতে চাস।
-“মানে।আপুতো এসেছিলো..?আর মামুনি তো বলতো সে খোজ নেয়।যদিও কথা হতো না।
সাদি এবার চুপ করে যায়। শান্ত গভীর চোখে পিহুর দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে বলে…
-“আমার বোকা’রানী।এমনি এমনি কি স্টুপিড বলি..?
-“বুজলাম না..?
সাদি এগিয়ে এসে পিহুর কপালে ছোট্ট একটা ভালোবাসার পরশ একে দেয়।তারপর আবারো একই কন্ঠে বলে…
-“আমরা যা শুনি বা দেখি তা সব সময় ঠিক হয় না জান।অতীত ভুলে যা।আর প্রশ্ন করিস না ঘুমা।
পিহু সত্যিই আর প্রশ্ন করলো না।ছোট্ট মাথাতে যা বুজার বুজে গেলো সাদির ঘাড়ে মাথা রেখে সাদির ডান হাত টা নিজের হাত দিয়ে ধরে মুখের কাছে নিয়ে এসে ছোট্ট একটা চুমু আকলো তারপর বিড়বিড় করে বলে উঠলো…
-“খুব ভালোবাসি আপনাকে সাদু।
সাদি এবার হাসে ঠোঁট জোড়ায় এক সুন্দর হাসি ফুটে উঠে।চোখেও যেনো হাসিরা দোলা খাচ্ছে।সাদিও নিজের দুহাতের মুঠোয় পিহুর হাত দুটো এনে কোমল নেশালো কন্ঠে বলে উঠলো…
-“আমিও ভালোবাসি আমার পিহু’রানীকে।খুব ভালোবাসি।অসম্ভবের থেকেও অসম্ভব ভালোবাসি তোকে।
প্রায় পনেরো ঘন্টা জার্নি করে পিহু রা কানাডার মাটি স্পর্শ করে।সিরেনকে নিয়ে বাড়ি ফিরতে ফিরতে চব্বিশ ঘন্টা পেরিয়ে গেছে।
বাসায় ফিরে পিহু নিজের মতো গোছানো শুরু করলো।সিরেন ও সারাদিন পিহুর পায়ে পায়ে।সাদি হসপিটালে যাবে কিছুদিন পর থেকে। আপাতত কাল থেকে অফিসে জয়েন করবে। নয়তো ব্যাবসা শিকেয় উঠবে।সাদির এত পরিশ্রম এ দাড় করানো ব্যাবসা টা আজ কত দিন ম্যানেজার এ দেখছে।সাদিও বাসায় ফিরেই ম্যামেজার কে জানায়।সাথে ফাহাদ কেও।
সময় টা ফেব্রুয়ারী হওয়াই।টরেন্টো শহরে এখন প্রচুর ঠান্ডা।সন্ধ্যার পরপরই প্রায় প্রায় তুষার পাত হয়।রাস্তার পাশে সবুজ ঘাষ গুলো ছোট্ট ছোট্ট তুষার কনায় ঢেকে যায়।আজও তেমন একটা রাত।বাইরে তুষার পাত হচ্ছে। বাড়ির ভিতরে হিটার চলছে।
রাত দশটা বেজে একুশ মিনিট।সাদির বুকে হেলান দিয়ে গল্পের বই পড়ছে পিহু।সাদি চুপচাও বসে আছে তার পিহু রানীকে কোলে নিয়ে।সিরেন ডিভানের উপর ঘুমাচ্ছে।সেই সন্ধ্যা থেকে ঘুমাচ্ছে বেচারি।সাদি হেসেছে।পিহু জোর করে তুলে খেতে দিয়েছে তবে খাইনি আবার গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে।
সিরেনের কান্ড দেখে সাদি পিহু হেসে গড়াগড়ি খাওয়ার অবস্থা ছিলো।
পিহু বই বন্ধ করে বিছানা থেকে নেমে বুক শেলফ এ রেখে আসে।তারপর সিরেনের গায়ে একটু হাত বুলিয়ে আদর করে বিছানায় চলে আসে।বড় লাইট অফ করে বেড সাইট টেবিল এর ল্যাম্পলাইট জালায় সাদি।
পিহু বিছানায় সুয়ে পড়তেই পিহুকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে নেয় কম্ফোর্টার দিয়ে।উষ্ণ কম্ফোর্টার এর নিচে দুটি দেহ একে অন্য কে জড়িয়ে রেখেছে।সাদি কিছুক্ষন চুপ থেকে ফিশফিশ করে পিহুর কানের কাছে বলে উঠে…
-“স্টুপিড..!
পিহু ছোট্ট করে উত্তর দেয়…
-“হুউউ..!
সাদি এবার পিহুর আরো কাছে চলে আসে একেবারে বুকের সাথে জড়িয়ে নেয়।সুতো পরিমান ফাকা রাখে না।তারপর মাথে নিচু করে পিহুর কানের কাছে মুখ এনে ফিশফিশ করে নেশালো কন্ঠে বলে….
-“মাম্মা বানাতে চাই তোকে।আমার ছোট্ট বাচ্চার মাম্মা।রাজি তুই।রাজি হয়ে যা না প্লিজ।খুব ভালোবাসবো।প্লিজ।
সাদির আদুরে আবদারে পিহু স্মীত হাসে।তবে কোনো প্রতিউত্তর করেনা।সাদির বুকে মুখ গুজে ছোট্ট করে কামড় বসায়।সাদি ও যা বুজার বুজে যায়।পিহুর সম্মতি ও বুজতে পারে।সেই তুষারপড়া শীতের রাতে আবারো অন্য জগতে হারিয়ে যায় এক কপোত কপোতি।ভালোবাসার সমুদ্রে তারা ভালো থাকুক।
চলবে…….
-(আজ অনেক প্রশ্নের উত্তর পেলেন।আশা করি সবার মনের প্রশ্ন গুলোর ঠিক মতো উত্তর পেয়েছেন।ইশ সাদু আর তার স্টুপিড মে লিখতে কি আদর আদর লাগে।বেশি বেশি রেসপন্স করো।তোমাদের রেসপন্স এর উপর ভিত্তি করে পরের পর্ব দিবো)-
Share On:
TAGS: নিষিদ্ধ চাহনা, সারা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৩
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১৩
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৫
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৯
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৫
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৫২
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৪
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৪৯
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৬
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৭