নিষিদ্ধ_চাহনা
পর্ব_৫৪
লেখিকাসারাচৌধুরী
🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫
-“তো কু*র বাচ্চা তোর ভিতরে মানুষত্ব বলে কিছু ছিলো না।কিভাবে মারলি।নিরহ মানুষ গুলোকে।তোকে কত বিশ্বাস করেছি আমি।
কথাটি বলে সাদি জাহিন এর থেকে একটা সরে আসে।পিহুকে ইশারায় সরে যেতে বলে পিহু সরতেই।সাদি ঘুরে হাওয়াই উঠে গায়ের জোরে লাথি মারে জাহিনের মুখ বরাবর।সাদির শক্ত বুটের আঘাতে জাহিনের গালের চারটা দাত খুলে বের হয়ে আসে।সাথে জাহিনের আর্তনাদ।সাদি আবারো লাথি দিতে যাবে তার আগেই পিহু সাদিকে থামিয়ে বলে….
-“এ শিকার আমার।আমার প্রিয় মানুষ গুলোকে কেড়ে নিয়েছে আমি শাস্তুি দিতে চাই ওকে।
পিহুর রাগী চোখের দিকে তাকিয়ে সাদি মুচকি হাসে।তারপর পিহুর কপালে একটা ছোট্ট চুমু দিয়ে।কপালের কাছে আসা চুল গুলো কানের পাশে গুজে দিয়ে শান্ত কন্ঠে বলে…
-“ওয়েল ডান স্টুপিড। তুই যা চাইবি।আমি বাইরে যাচ্ছি।
সাদি হাতে থাকা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলে…
-“সাত বাজে।বিশ নাজার আগেই কাজ শেষ করবি।আমি গাড়ির কাছে যাচ্ছি।
বলেই সাদি উলড়ো হেটে চলে গেলো।সাদি যানে তার পিহুর শক্তির কথা।তাই সাদির চিন্তা নেই।পিহু একবার চলে যাওয়া সাদির দিকে তাকিয়ে আবারো জাহিনের দিকে রক্তচক্ষু নিয়ে তাকায়।জাহিন গোঙাচ্ছে গলা দিয়ে শব্দ আসছে না।
পিহু জাহিনের দিকে এগিয়ে গিয়ে জাহিনের চুল ধরে নিজের চোখে চোখ রাখায় তারপর কটমটে কন্ঠে কিছু বাজে গালি দিয়ে বলে উঠে…
-“কি বেপার মিঃ জাহিন।তোর গালফ্রেন্ড সাফু বেবস কেও কুচি কুচি করে কু*ত্তা দিয়ে খাওয়াইছি। বল তুই কি চাস।
জাহিন বেশ কিছুক্ষন চুপ থাকে।ভাঙা দাতের জন্য গাল দিয়ে রক্ত পড়ছে।জাহিন সীমিত কন্ঠে বলে..
-“ছাড় আমাকে।তুই এতো খারাপ বুজতে পারিনি।নয়তো তোকেও উপরে পাঠাতাম সেদিন।
জাহিন আর কিছু বলার আগেই পিহু নিজের বুট পরিহিত পা দিয়ে জাহিনের দুই পায়ের মাঝ বরাবর সজোরে লাথি মেরে জুতা দিয়ে চেপে ধরে বলে হিসহিসিয়ে বলে…
-“আমি যেই লেভেল এর খারাপ।তুই বুজতে গেলে তোর মৃত্যুর তারিখ এসে যাবে।সাফু বেবস এর ভা**।
বলেই অট্ট হাসিতে ফেটে পড়লো।এদিকে তীব্র যন্ত্রনায় জাহিনের চোখ উলটে গেছে।পিহু নিজের চাকুটা কিছু দূরে গিয়ে নিশানা করে জাহিনের বুকে গেথে দিলো।তারপর কাছে গিয়ে আবার টান দিয়ে বললো…
-“তুই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড কে মেরেছিস।আমার মামুনি কে মেরেছিস।আমার বাবাই কেও মেরেছিস।কষ্টের সাগরে ডুবিয়েছিস এবার তুই আগুনের সাগরে ডুবে যাবি।তোর কলিজাটা দেখার খুব ইচ্ছা আমার।কিভাবে এমন কাজ করলি তুই।
বলে আবারো হাসলো পিহু।সজোরে আবারো লাথি মারলো জাহিনের দুই পায়ের মাঝ বরাবর।রক্ত বের হচ্ছে গাল দিয়ে। পিহু জাহিনের কাছে এগিয়ে এসে যত্ন করে জাহিনের শার্ট টা টেনে ছিড়লো।বুকটাও রক্তে ভেজা পিহু এবার পরম তৃপ্তির সাথে জাহিনের বুকের চাম*ড়া কাটতে থাকলো।জাহিন ছটফট করতে থাকলো।পিহু চিরতেই ফিনকি মেরে রক্ত এসে পড়লো তার মুখে।পিহু হাসে।
দাত এলিয়ে হাসে।বুকের কাছে ফাকা হয়ে গেছে।পিহুর হটাৎ কি হলো আর কিছু করলো না।এগিয়ে এসে জাহিনের চারিদিকে ডিজেল দিয়ে মারিয়ার লাশের কাছে এসে বিড়বিড় করে বললো…
-“তোমার উপকার আমি ভুলবো না মারু।তবে তুমি আমার প্রিয় মানুষ টা বাদে অন্য কারোর হাতে খুন হলে তাকে কখোনো ছাড়তাম না।
পিহু এবার সিড়ির দিকে এগিয়ে গেলো।জাহিন সেন্সলেস।পিহু কারেন্ট এর সুইচ দিলো।সাথে সাথে জাহিনের অজ্ঞান শরীর টা কারেন্ট এর ভোল্ট এ কেপে উঠলো।পিহু এসে পকেট থেকে লাইটার টা বের করে ছুড়ে দিলো ভেতরে সাথে সাথে দাউদাউ করে আগুন ধরে গেলো।পিহু বাইরে থেকে লোহার দরজাটা লক করে উপরে চলে এলো।
বাইরে সাদি দাঁড়িয়ে ছিলো।পিহু বের হতেই পিহুকে নিয়ে নিজের গাড়িতে উঠে রওনা হয় নিজেদের বাড়ি।সেখান থেকে গুছিয়ে সিরেন কে নিয়ে এয়ারপোর্ট এ যাবে।
গাড়িতে পাশাপাশি সিটে বসে আছে পিহু আর সাদি।সাদি মনযোগ দিয়ে ড্রাইভ করছে।মুখে কোনো কথা নেই।ঠোঁটের কোনে তৃপ্তিময় হাসি।পিহু আর চুপ থাকতে পারলো না পেটের ভিতরে অজানা কথা গুলো গুলিয়ে উঠছে।পিহুর এমন অস্থিরতা দেখে সাদিই আগে বলে উঠলো…
-“কিছু বলবি..?
-“আপনি আমার খোজ পেলেন কিভাবে।আর বোম ব্লাস্ট এ বেচে গেলেন কিভাবে।আর মারিয়াকে মারলেন কেন।আপনি কি আমার উপর রেগে আছে।
সাদি দীর্ঘশ্বাস ফেলে টেরা চোখে পিহুর দিকে তাকিয়ে বললো….
-“ফাস্ট ধীরে ধীরে জিজ্ঞাসা কর।আর সেকেন্ড তুই একমাত্র মানুষ এই দুনিয়ায় যার উপর কখোনো রাগি না এসব কারনে। কারন আমি তোকে বিশ্বাস করি সাথে প্রচুর ভালোবাসি।
-“আপনি মারিয়া কে কেন মারলেন।মেয়েটা ভালো ছিলো..?
-“আর ইউ ম্যাড..?
-“কেনো..?
-“যারা টাকায় কাজ করে তারা কখোনো ভালো হয় না।
-“তবুও।
-“ওকে আমি মারতে চাই নি।যখন তোর আস্তানায় পৌছালাম।তখন সবার আগে গার্ড দুটোকে মেরেছি।আর মারিয়া যখন ওই ঘরে গেলো তখন প্রথমে আমি ভাবছিলাম আড়াল থেকে তুই।কিন্তু না আমি কিছু করার আগেই মারিয়া গুলি ছুড়ে আমার দিকে।আর একটু হলে আমার ঘাড় ছুয়ে চলে যায়।তাই পর পর গুলি করে ওকে সরিয়েছি।তা ছাড়া উপাই ছিলো না।হয়তো আমি মরতাম না হয় ও।
-“ওহহহ।
-“মন খারাপ…?
-“আপবি বোম ব্লাস্ট থেকে বাচলেন কিভাবে রুচাই বার এর।কতো কেদেছি আমি যানেন..?
-“মরে গেলে খুশি হতিস সুইটহার্ট।
-“চুপ একদম চুপ কি বলেন আপনি।এবার বললে নিজ হাতে আপমাকে মেরে আমিও মরবো।
সাদি ঠোঁট এলিয়ে হাসে নিঃশব্দে।ব্যাস্ত রাস্তায় চোখ রেখে ড্রাইভ করতে করতে বলে….
-“যেদিন সাফা নিখোজ হলো সেদিন থেকে আমি সন্দেহ করেছিলাম যে সেকেন্ড কেও গেম খেলছে।আর ফাইজ কে তো চোখের সামনে থেকে নিয়ে এলি।সেদিন থেকে বাসার সামনে আর পার্কিং এরিয়ার সিসিটিভি গুলো চেক করতে থাকলাম।আর একজন স্পাই কে বাড়ির উপর নজর রাখতে বললাম।আমার সন্দেহ ছিলো আমার উপর শত্রুতা করে কেও যেনো তোর ক্ষতি না করে।তাই তোর মোবাইল এ ট্রাকার ও চালু রেখেছি।তোর অজান্তে।কারন আমি যানি তুই বেশি ফোন টিপিস না।কিন্তু আমাকে ভুল করে দিয়ে খবর পেলাম যাকে নিরপত্তা দেওয়ার জন্য আমি কাজ করছি।সে আমার বিরুদ্ধে গিয়ে গেম প্লে করছে।আমারে ঘুমের ইঞ্জেকশন দিলি।ঘরের চারিপাশে বেড এর সাইট এ মিনি ক্যামেরা ছিলো পরে সব দেখেছি আমি। যেদিন তুই ফাইজ কে কিডন্যাপ করেছিলি সেফিন ই লাগিয়েছিলাম রাতে।তবে আমার মনে সন্দেহ ছিলো না।শুধু চেয়েছিলাম তোকে নিরাপত্তা দেওয়া।কিন্তু যা দেখলাম তারপর আমি তখন থেকে দুজন কে লাগালাম তোর পিছনে।তুই আর মারিয়া যখন প্রথমে আন্ডারগ্রাউন্ড এ গেছিলি জাহিন কে দেখতে তখনই আমি ওই যায়গা সম্পর্কে যানতে পারি।আর যখন দেখি তুই বার এর দিকে আসছিস তখন আমি আমার ঘড়িতে তোর লোকেশন দেখে সাথে সাথে বার থেকে বেরিয়েছিলাম।কারন আমি তখনই সুজোগ পেয়েছিলাম তোদের আন্ডারগ্রাউন্ড এ যাওয়ার।আর তারপর তো বোম বিস্ফোরণ এর কথা সুনলাম।এমনকি আমার গ্রুপ এর একজন বাদে সবাই পুড়ে গেছে।
সাদির কথা শুনে পিহু স্তব্ধ।সে তো সিসি টিভি ক্যামেরা গুলোকে অকেজো ভেবেছিলো।আর বিছানার পাশের গুলো কখোনো দেখেও নি।ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখে এখোনো লোকেশন চালু সাথে সাথে অফ করে দেয়।সাদি আড়চোখে দেখে হাসে।পিহু সাদির দিকে তাকায়। না সেই মেরুন রঙের শার্ট আর ঘড়িটা ঠিক ঠাক ই আছে তাহলে যাকে দেখেছিলো সে কে।পিহু সাদিকে আবারো জিজ্ঞাসা করে উঠলো…
-“আচ্ছা আমি যে পোড়া হাত টা দেখলাম সে কে।
-“কোনটা দেখেছিস জানিনা।
-“তার হাতেও একই ঘড়ি আর একই রঙের শার্ট ছিলো।
সাদি এবার পিহুর দিকে তাকি বলে…
-“তোর মন বলছিলো আমি মরে গেছি..?
-“উহু..!
-“তাহলে..?
-“প্রশ্ন থেকে যায়।
-“এমনি কি স্টুপিড বলি।দুনিয়াতে কি ঘড়ি একটা আর এই রঙের শার্ট একটা।
-“তাও ঠিক।
-“স্টুপিড।
পিহু এবার সাদির দিকে তাকিয়ে রাগী চোখে তাকিয়ে বলে…
-“দেখেন আমাকে স্টুপিড স্টুপিড করবেন না।নিজে ফেল্টুস ডাক্তার।ডাব্বা পেয়ে ভুয়া সার্টিফিকেট করে ডাক্তার হয়েছে আর আমাকে স্টুপিড বলে।
সাদি পিহুর দিকে তাকায় আবারো।এক চোখ টিপ দিয়ে ভ্রু নাচিয়ে পিহুর টকটকে ঠোঁটের দিকে ইশারা করে নিজের দাত দিয়ে নিজের নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে বলে…
-“কানাডা ফিরে চল।অনেক হিসাব কিতাব বাকি।আমারে ঘুমের ইঞ্জেকশন দেওয়ার শখ মেটাবো সিরেনের ভাই-বোন আনার বেবস্থা করবো।তবে এবার এর টা তোর পেট এর ভিতরে ছোট্ট ছোট্ট করে বেড়ে উঠবে।আমার রক্তের।
পিহুর কান দিয়ে ধোয়া উড়ছে লজ্জায়।পিহু কোনোমতে বললো…
-“চুপ করুন অসভ্য লোক..!
সাদি আবারো ঠোঁট কামড়ে হেসে ফিশফিশ করে বললো…
-“স্টুপিড।
চলবে……
-(ইশ কেমন কেমন আদর আদর ছিলো শেষ টুকু।আপবাদের রেসপন্স এর উপর ভিত্তি করে পরের পর্ব আসবে)-
Share On:
TAGS: নিষিদ্ধ চাহনা, সারা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৪৫
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৮
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৪১
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৮
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৫২
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১০
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১৪(ক+খ)
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৬
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৬