নিষিদ্ধ_চাহনা
পর্ব_৫৩
লেখিকাসারাচৌধুরী
🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫
পিহুর জ্ঞান ফিরেছে রাত দুইটাই।মারিয়ার তার মাথার কাছে টুলে বসে আছে।এবার পিহু আর কাদছে না বা কোনো অনুভূতি নেই।চোখ মেলে চারিদিকে এক পলক তাকিয়ে দেখে নিলো।মুহুর্তেই চোখের ভিতরের প্রতিটা শিরা লাল হতে শুরু করলো সাথে পিহির চোখ ও।মারিয়া পিহুর দিকে তাকিয়ে ভয় পেয়ে গেলো।পিহু বেশ কিছুক্ষন মাথার উপরে চলতে থাকা ফ্যান এর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে চোখ বুজে নিলো।চোখের কোন ঘেষে গড়িয়ে পড়লো উত্তপ্ত নোনাজল।
মারিয়া পিহুর দিকে এখোনো তাকিয়ে আছে।কিছুক্ষন পর পিহু হটাৎ চোখ খুলেই উঠে বসলো।বসেই জোরে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মারিয়ার দিকে তাকালো।মারিয়া কাপা কাপা কন্ঠে কিছু বলতে যাবে তার আগেই পিহু নিজের চুল গুলো হাতে থাকা রাবার ব্যান্ড দিয়ে টাইট করতে করতে বলে উঠলো….
-“মারিয়া জাহিন কে কোথায় রাখছো..?
মারিয়া সাথে সাথেই প্রতিউত্তর করে বললো…
-“আন্ডারগ্রাউন্ড এই ম্যাম..?
মারিয়ার বলতে দেরি কিন্তু পিহুর কেবিন এর বেড থেকে নামতে দেরি হয় না।পিহু নেমে সোজা হয়ে হাতের তালু দিয়ে চোখের কোনে থাকা পানি টুকু মুছে মারিয়ার উদ্দেশ্যে বললো…
-“আমার একটা কলিজা ছিলো জানো মারিয়া।আমি কিছু বলার আগেই বুজে যেতো।আল্লাহর কাছে এখন ভালোই আছে।তবে আমি কাদলে সব সময় বলতো আমার পিহু’রানী হবে খুব শক্তিশালী। যার মনে কোনো দয়া মায়া থাকবে না।সব সময় শক্ত হবে।
কথাটা বলে তাচ্ছিল্য হাসে পিহু তার পর আবারো বলে উঠে…
-“আমার প্রিও জিনিস গুলোকে আমি হারায় সব সময়।তবে আমার এখোনো মন মানছে না আমার মানুষ টা আর নেই।তবে তার পিহু শক্ত।পাপীদের মারতে গিয়ে যদি জীবন দিয়ে থাকে তবে আমি শেষ পাপিকে নিজ হাতে পাপ মুক্ত করিয়ে নিজেও মুক্ত হয়ে যাবো পৃথিবী থেকে।
-“কি বলছেন এসব।
-“বুজবেনা।
মারিয়া আদলেই কিছু বুজলো না।তবে এই কথা গুলোর ভাবার্থ সবাই বুজবেনা।মারিয়া পিহুকে আটকাতে গেলেও পিহু আর দাঁড়ায় না।মারিয়াও পিহুর পিছন পিছন বেরিয়ে চলে আসে।পিহুর মনের ভিতরে উথাল পাথাল।সে উপরে উপরে শক্ত থাকলেও ভিতরে ভিতরে শেষ হয়ে যাচ্ছে।মানতে না চাইলেও সত্যি যে তার সাদি আর নেই।পিহু ক্ষনিকের জন্য সিরেন এর কথা ভুলেই গেছিলো।বাচ্চাটা তার বাড়িতে একা।খিদে পেয়েছে হয়তো।এই বাচ্চাটা ছাড়া তো আর পিহুর কেও নেই।এই অবুঝ প্রানিটাও পিহুর খুব আপন।
মারিয়া গাড়ি ড্রাইভ করছে।পিহু গাড়ির ব্যাক ছিট থেকে সিলভার রঙের বক্স টা এগিয়ে নিয়ে এলো।মারিয়া আড়চোখে দেখে ভ্রু কুচকে বললো….
-“এটা কি করবেন ম্যাম..!
-“আজ দেখতে পাবে।কি করবো।আমি পিহু কতটা ভয়াবহ রুপ এ আসতে পারি।
পিহুর কথায় মারিয়া আর প্রতিউত্তর করলো না।আর করলেও পিহু কোনো রিপ্লাই দিবে না সেটা মারিয়া জানে।পিহু সিলভার রঙের বক্স টা খুলে ধীরে ধীরে পুরো কালো রঙের একটা হ্যান্ড গান আর একটা চাকু আর একটা ব্লেট বের করলো।ব্লেট বেশ লম্বা।ছোট্ট একটা সুইচ আছে চাপ দিলেই এক ফুটের মতো বড় হয়ে যায়।কিছুদিন আগেই মারিয়াকে দিয়ে আনিয়েছিলো পিহু এটা।
পিহু গান এর ভিতরে বুলেট লোড করে নিলো।মারিয়ার বাড়ির দিকে যত গাড়ি এগোচ্ছে ঠিক ততই পিহুর রাগ বেড়ে যাচ্ছে।ব্লেট আর চাকু টা জ্যাকেট এর পকেট এ পুরে নিলো।
গাড়ি এসে থেমেছে আন্ডারগ্রাউন্ড এর সামনে।পিহু মারিয়া কে ভিতরে যেতে বলে নিজে গাড়ির ডিকির কাছে এগিয়ে গেলো।মারিয়া পিহুর কথা মতো আন্ডারগ্রাউন্ড এ চলে গেলো।পিহু ও গেলো।বেশ কিছুক্ষন পর। পর পর গুলির শব্দ শোনা গেলো।পিহু ভাবলেশহীন ভাবেই গাড়ির ডিকি থেকে ডিজেল এর দুটো দশ লিটারের ড্রাম বের করলো।সাথে পকেটে লাইটার টা নিলো।পিহু গুলির শব্দ শুনে হাস2 কারন পিহু জানে মারিয়া জাহিনকে একটু নাচিয়ে ছাড়বে।তো নাচাক শেষ চাল টা পিহু চালবে।
পিহু গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গেলো আন্ডার গ্রাউন এর দিকে।সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে লাইট অফ করে দিয়ে ছোট্ট লাল ড্রিম লাইট জালালো সিড়িতে।তারপর পায়ে শব্দ করে দরজাটা খুললো সাথেই সাথেই পিহুর দুহাতে থাকা দুটো ড্রাম শব্দ করে পড়ে গেলো পিহু গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠলো….
-“মারিয়ায়ায়ায়ায়া..!!
পুরো ফ্লোর টা রক্তে গড়া গড়ি খাচ্ছে।মারিয়ার মাথায় গুলি করা হয়েছে।মাথা দিয়ে এখোনো গলগলিয়ে রক্ত পড়ছে।শুধু নিথর হয়ে পড়ে আছে মারিয়া।জাহিনকে ওভাবেই বাধা।দুপায়ে কেও ইচ্ছা করে গুলি করে ঝাজরা করেছে।মুখের ভিতরে কাগজ পুরে বেধে দেওয়া।জাহিন কে পাহারা দেওয়া গার্ড দুটোও নিথর হয়ে পড়ে আছে শুধু উ..উ করে গোঙাচ্ছে জাহিন।এই ঘরে সে ব্যাতিত কেও জিবীত নেই।কে মারলো তাদের।কথাটা মাথায় আসতেই উঠে দাড়ালো পিহু।এতক্ষন মারিয়ার মাথার কাছে হাটু ভাজ করে বসেছিলো।
পিহু উঠে দাড়াতেই কোথা থেকে বন্দুকের নল এসে ঠেকলো পিহুর মাথার পিছনে।পিহু স্পষ্ট বুজতে পেরেছে শত্রুপক্ষের কেও তাকে তার্গেট করেছে তবে কে হবে।পিহু নিজের দু হাত অল্প অল্প করে উচু করতে করতে হটাৎ নিজের কোমরে গুজে রাখা গান টা বের করে সেকেন্ড এর ভিতরে ঘুরে লোকটির পেট এ ঠেশে ধরলো।কাজটা এত তাড়াতাড়ি হলো যে অপর পাশের ব্যাক্তিটি কিছুই বুজে উঠতে পারলো না তার আগে ধরা খেয়েছে।
পিহু লোকটির দিকে বন্দুক ধরলেও লোকটি চতুরতার সাথে পিহুকে ঘুরিয়ে নিজের সাথে জড়িয়ে নিলো পিহুর পিঠ ঠেকলো লোকটির বুকে।পিহু এখোনো নিজের গান লোকটির পেট বরাবর ধরে রেখেছে।লোকটি কে পিহু না জানলেও খুব পরিচিত একটা ঘ্রান ভেসে এলো নাকে।পিহু রাগী কন্ঠে বলে উঠলো…
-“কে তুই ছাড় আমাকে।ছাড়।জানে মেরে ফেলবো ছাড়।
-“সুইটহার্ট।
সাথে সাথে পিহুর কথা থেমে গেলো। শরীরের ভিতরে অদ্ভুত এক শিরশিরানি বয়ে গেলো।লোকটির নেশালো কন্ঠস্বরে পিহু কেপে উঠলো তবে হাল ছাড়লো।নিজের পা দিয়ে লোকটির পায়ে জোরে আঘাত করতেই লোকটির হাত ধিলা হলো সাথে পিহু ছিটকে দূরে এসে লোকটির দিকে গান পয়েন্ট করলো।যেনো লোকটি বাড়াবাড়ি করলেই এক্ষুনি গুলি করে কেচ্ছা খতম করে দিবে।
পিহু রাগী চোখে লোকটির দিকে ভালোভাবে তাকাতেই পিহু জমে গেলো।লোকটির হাতে থাকে বন্দুক টি নিচে পড়ে গেছে লোকটির চোখের চশমা টাও নিচে।লোকটি মাস্ক হাতে নিয়ে তার দিকেই তাকিয়ে আছে অবাক হয়ে।পিহু যেনো আর কিছু ভাবতে পারলো না এক সেকেন্ড ও দেরি না করে নিজের হাতে থাকা গানটি ফেলে লোকটিকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরলো।ধরতেই কেদে উঠলো পিহু।পিহু জড়িয়ে ধরা দেখে হাসলো লোকটি।নিজেও হাত বাড়িয়ে জড়িয়ে নিলো পিহুকে।
পিহু কাদতে কাদতে লোকয়ির বুকে অসংখ্য কিল ঘুষি দিতে দিতে বলে উঠলো…
-“আ..আপনি ঠিক আছেন।আল্লাহ আপনি ঠিক আছেন।কই ছিলেন আপনি।এই সাদি.?কই ছিলেন আপনি..?
সাদি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে পিহুকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে পিহুর কান্নারত মুখের থুত্নি উচু করে ধরে বলে উঠলো….
-“আগামীকাল সকাল সাত টাই আমাদের কানাডার ফ্লাইট।আর তখন ই সব খুলে বলবো তোকে।এখন আমি চাই তুই নিজের হাতে প্রতিশোধ নে ওই জানোয়ার এর থেকে।তোর বেস্ট ফ্রেন্ড।মামুনি বাবাই এর।তোর যেমন ইচ্ছা।
সাদির কথার পর পিহু আরো কিছুক্ষন কাদে।তারপর ও ফুফাচ্ছে।সাদি একটু থেমে আবারো বলে উঠলো…
-“তাড়াতাড়ি কর।সিরেন তার মাম্মা কে খুব মিচ করছে।
সিরেনের কথা শুনতেই পিহু সাদির দিকে চোখ মেলে তাকায় তারপর আর এক মুহুর্ত দেরি না ডিজেল ড্রাম দুটো এনে রাখে জাহিনের পাশে।জাহিনের চোখে তখন ভয়।সাদি পিহুর পিছনে এসে পিহুর চুল এর ঝুটি খুলে দেয় সাথে সারা পিঠদ্বয়ে ছড়িয়ে কেশ গুলো।পিহু নিজের পকেট থেকে চাকু টা বের করেই ঢুকিয়ে দেয় জাহিনের হাতে।জাহিন প্রচন্ড বেদনা গুঙরে উঠে।জাহিনের গোঙরানো দেখে সাদি এসে জাহিনের মুখের বাধন খুলে দিয়ে তাচ্ছিল্য হেসে বলে……
চলবে…..
-(নাও খুশি।তোমাদের সাদু বেচে আছে।আর সুস্থ ও আছে।আজ সারাদিন প্রচন্ড মাথা ব্যাথা তার উপর রোজা ছিলাম।তাই কি থেকে কি লিখেছি জানিনা।একটু মানিয়ে নিও।বেশি বেশি রেসপন্স করিও)-
Share On:
TAGS: নিষিদ্ধ চাহনা, সারা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৩২
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৪৭
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৩৮
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১২
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৪
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৪৬
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৩৪
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৫৫
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৩
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২