নিষিদ্ধ_চাহনা
পর্ব_৫১
লেখিকাসারাচৌধুরী
🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫
-“ম..মানে কি বলছেন আপনি…?
পিহুর কাপা কাপা কন্ঠে সাদি ঠোঁট মেলিয়ে হাসে।পিহুর কপালে দীর্ঘ একটা চুমু খেয়ে হেসে বলে উঠলো….
-“স্টুপিড।
সাদি আর দাঁড়ায় না।দ্রুত পায়ে কিচেন ছেড়ে বেরিয়ে যায়।পিহু ও আর কিছু ভাবে না।পরবর্তী মিশন নিয়ে ভাবতে হবে এখন তার।তবে পিহু আর চাচ্ছে না এভাবে খুচরো ভাবে মারতে সবাইকে এক সাথেই তাদের পাপের শাস্তি দিয়ে এদেশ থেকে চলে যেতে চাচ্ছে পিহু।কারন এদেশের মানুষ টাকায় বিক্রি হয়।কখন দেখা যাবে তাদের লোকই তাদের উপর হামলা করছে।পিহু রিস্ক নিবে না।
ধরনীর বুকে সন্ধ্যা নেমেছে।চারিদিকে অন্ধকার। বাইরে বৃষ্টি পড়ছে অল্প অল্প।তাতেই শুষ্ক মাটি ভিজে যাচ্ছে।সবুজ ঘাস গুলো আনন্দে নেচে উঠছে।পাখি গুলো তাদের নীড়ে ফিরেছে অনেক আগেই।ভাড়া করা তিনতলা বাড়ি টাই আজও পিহু রা একা।বাড়ির মালিক আসবে আরো চারদিন পর।সে হিসাবে এখন পুরো বাড়িটা পিহুদের।
মাগরিবের নামাজ শেষ হতেই সাদি গোছানো শুরু করে দিয়েছে।আজ প্রকাশ্যে পিহুর সামনে নিজের গান দুটো বের করে রাখলো সাদি।সাদির গেটাপ টাও আজ ভিন্ন।মেরুন রঙের শার্ট কালো প্যান্ট এর সাথে ইন করা।চুল গুলো জেল দিয়ে সেট করা।পায়ে কালো রঙের বুট।আজ সারাদিন পিহু খেয়াল করেছে সাদি তাকে এড়িয়ে চলছে নয়তো সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছে।তবে পিহু সেসব গায়ে মাখেনি কারন পিহু জানে তাকে ধরা সহজ না।
সাদি গান দুটো কোমরে গুজে।মোবাইল আর ওয়ালেট টা নিয়ে পকেট এ ভরে পিহুর সামনে এসে কপালে দীর্ঘ একটা চুম্বন করলো।এই কপালে চুম্বন করা টা সাদির একটা অভ্যাস এ পরিনত হয়েছে।আর পিহুর ও ভালো লাগে।সাদি পিহুর কানের কাছে গিয়ে ফিশফিশ করে বলে…..
-“আজ সব গুলোকে মেরেই তোর সামনে আসবো জান।নয়তো এই সাদির মুখ আর দেখবি না।আই প্রমিচ।
সাদির কথায় পিহু কেপে উঠে।পিহু কিছু বলতে যাবে তার আগেই সাদি পিহুর মুখে হাত দিয়ে একই ভাবে ফিশফিশ করে বলে উঠলো…
-“হিসসসস..দেখা হবে।
সাদি আর দাঁড়ায় না।কানে ব্লুতুথ গুজতে গুজতে বেরিয়ে পড়ে।এদিকে পিহু বুজতে পারে না দেখা হবে মানে কি।কোন দেখার কথা বলছে। পিহুর আজকে সাদির ভাবগতি মোটেই ভালো লাগছে না।কেমন জেনো অচেনা লাগছে সাদিকে তার কাছে। পিহুর চিন্তা আরো বেড়ে গেলো যখন মনে পড়লো সাদি বলে গিয়েছে আজ সবাইকে শেষ করেই ফিরবে।তাহলে কি বড় কোনো ঝামেলা বাধবে।
পিহু আবারো ভাবলো তাহলে মারিয়া তো ইনফর্ম করতো কয় কিছু বললো না তো।পিহুর ভাবনার মাঝেই পিহুর কল ভেজে উঠে।ফোনের রিংটন টা পিহুর বড্ড চেনা।যদিও ফোন সব সময় সাইলেন্ট থাকে তবে ঘরে থাকলে লাউড থাকে।পিহুর ভাবনার মাঝেই কল আবারো বেজে উঠলো।রিংটনে সাদির ঘুম জড়ানো কন্ঠস্বর।
-“বউ..আমার বউ..শুধুই আমার।ভালোবাসি আমি অসম্ভব ভালোবাসি। এক সমুদ্র ভালোবাসি।এ ভালোবাসার খেলায় সব সময় আমি জিতেছি বউ।খুব ভালোবাসি আমার স্টুপিড বউকে।খুব খুব।
সাদির এই ক্ষুদ্র কথা গুলো ঘুমের ঘোরে বলেছিলো সাদি।পিহু সেগুলোই রেকর্ড করে ফোনের রিংটোন এ সেট করেছে।পিহুর এই মানুষ টার সব কিছুই ভালো লাগে।এই যে কন্ঠ টুকু এতেই মনে হচ্ছে মানুষটা তার পাশে বসে আছে।তাকে আগলে জড়িয়ে ধরে আছে।
পিহু ফোন রিসিভ করে কানে তুলে।সাথে সাথে মারিয়া ওপাশ থেকে ইংরেজিতেই বলে উঠে….
-“ম্যাম শুনছেন..?
-“জ্বী বলো..!
-“স্যার আমাদের পিছনে লোক লাগিয়েছিলো।আর একটু হলে আমি ধরে পড়ে যেতাম।
মারিয়ার কথায় চমকে উঠে পিহু।উৎকন্ঠা হয়ে জিজ্ঞাসা করে…
-“তোমার কিছু হয়নি তো মারু..?
-“নো ম্যাম..বাট..!
-“বাট কি..?
-“আজ স্যার এর বিপদ আছে।স্যার হয়তো জানে না যে ইশান চৌধুরী। আর সিরাজ শিকদার ফাইজ এর লাশ পাওয়ার পর খুনিকে হন্য হয়ে খুজছে।আজ তারা রুচাই বার এর ছয়তলার পার্টিতে থাকবে।আর স্যার সেখানেই যাচ্ছে।ওরা মুলত খুনিকে খোজার কোনো প্লান করছে।এখন কি করবো ম্যাম।
মারিয়ার কথায় পিহু চুপ হয়ে যায়।মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে তার।সাদির যে বিপদ আছে সেটা ভালোয় বুজতে পেরেছে।পিহু আবারো কিছু বলতে যাবে তার আগেই মারিয়া বলে উঠে…
-“আপনার অনুমতি না নিয়ে একটা কাজ করে ফেলেছি।
পিহু ফোনের এপাশ থেকেই ভ্রু কুচকে বলে উঠে…
-“কী..?
-“আসলে ম্যাম।সবাই যখন উপরে যাচ্ছিলো বারের।তখন জাহিন নিচে একটা স্টল এ দাঁড়িয়ে স্মোক করছিলো।আর আমরা ওকে ওখান থেকে তুলে আন্ডারগ্রাউন্ড এ বন্দি করে রেখেছি।
একদিকে খুশির খবর অন্যদিকে আর এক আসন্ন বিপদ এর ভয় পিহু নিজের অনুভুতি প্রকাশ করতে পারলো না।চোখ বুজে একটা দীর্ঘশাস ফেলে বলে উঠলো…
-“আমি বের হচ্ছি।ফাস্ট কোথায় যাবে..?
-“আগে স্যার কে প্রটেক্ট করা দরকার।আপনি চাইলে সেখানেই..!
-“ওকে।
পিহু কল কেটে দিয়ে গোছাতে থাকলো।পুরো বিদেশিদের মতোই।সাদা জিন্সের প্যান্ট এর সাথে সাদা বেগুনের ফুলের মিশলে কাজ করা টপ্স।চুল গুলো বেধে জুতো পরে নিলো।তারপর আলমাতির লকার এর গোপন তাক থেকে নিজের গান বের করে লোড করে নিয়ে বেরিয়ে গেলো বাড়ি থেকে।
রুচাই বার।হাত্তা অঞ্চলের নামি দামি বার গুলোর একটা।এখানে প্রতিনিয়ত সকল অনৈতিক কার্যক্রম হয়ে থাকে।তবে দেশের আইন যেনো অন্ধ এগুলো চোখেও দেখে না।তিনতলার একেবারে কর্নারের টেবিলে বসে আছে ইশান ফারজু আর সিরাজ।
ফারুজু কেদেই যাচ্ছে চোখের পানি যেনো থামছে না।নিজের ভাইকে কে হারানোর কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে তার।এদিকে জাহিন কে না আসতে দেখে সকলে আরেক দফায় চিন্তিত।যদিও জাহিন বলেছিলো একজনকে নিয়েই উপরে আসবে সাড়ে আটটায়।এখন আটটা বাজে সবে মাত্র।
ইশানের দিকে তাকিয়ে সিরাজ ড্রিংকের গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে বলে উঠলো…
-“আমাদের পিছনে আবার কারা লাগছে। কিরিনার তো কোনো চিহ্ন পেলাম না।আর এখন ফাইজ এর এমন নৃশংস মৃত্যু।আমার মেয়ে কেদে ভাসাচ্ছে এদিকে ফারজু ও কাদছে।এর একটা বিহিত চায়।আমাদের পথে কাটা হয়ে আসলে সেই কাটা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ছাই বানিয়ে উড়িয়ে দিবো।
সিরাজ এর কথায় ইশান কোনো উত্তর দেয় না।তার মাথায় এখন অনেক চিন্তা।কিছু যেনো ভালো লাগছে না।সব এলোমেলো লাগছে।আর কারাই বা তাদের পিছু লাগবে।যদি তাদের পিছু লাগতো তাও হতো পরপর কয়েকটা খুন হলো আলাদা আলাদা মানুষ। যদি তাদের শত্রু হতো তাহলে অন্য কে মারতো না।তাদের ই মারতো। ইশান একটা গ্লাস তুলে নিয়ে বোতল থেকে ড্রিংক ঢেলে নিয়ে চুমুক বসাল।
ইশান দের থেকে কিছুটা দুরেই বসে আছে সাদি আর তার এসিস্ট্যান্ট। সাদি প্রতি মিনিটে মিনিটে নিজের হাত ঘড়িতে কোনো কিছুর লোকেশন দেখছে।আর সাথে চিন্তায় মাথায় ফেটে যাচ্ছে তার।
ইশানের এমন নিরশ মুখ দেখে সিরাজ আবারো বলে উঠলো….
-“কি হলো কিছু তো বলো।জাহিন এখোন এলো না।মাথায় কিন্তু প্রেশার পড়ছে।
-“আমারো কিন্তু করার কিছু নেই।কি করবো আমি..?
-“জাহিন কই দেখো তো..ওর জন্য বেশি টেনশন।
সিরাজের কথা শেষ হতে না হতেই ইশান উঠে দাঁড়ায়।ইশানের গায়ের সাথে সেটে থাকা ফারজু চমকে উঠে।ইশানের চোখ তার ঠিক কিছুটা দুরেই মেরুন রঙের শার্ট পরা ছেলেটার উপর।মাস্ক পরা থাকায় চোখ দুটো খুব চেনা চেনা লাগছে।
ইশান টেবিল থেকে বের হতেই সিরাজ ইশানের হাত ধরে বলে উঠে….
-“কোথায় যাও..!
-“ওয়েট আসছি।
ইশান সিরাজ এর হাত ছাড়িয়ে কয়েক পা আগায় ছেলেটার দিকে।ছেলেটা এখোনো তাকে খেয়াল করেনি।পকেট এর বন্দুক টা দেখে নেয়।সন্দেহ ঠিক হলে আজই কেচ্ছা খতম।ছেলেটার থেকে কয়েক ফুট দূরে থাকতেই ছেলেটার চোখে চোখ পড়ে ইশানের।সাথে সাথে ছেলেটা উঠে দাঁড়ায়।পরক্ষনেই বিকট আওয়াজে রুচাই বার এর তিনতলায় বোমা ব্লাস্ট হয় পর পর দুবার।হয়তো কেও ইচ্ছা করেই ফিট করেছিলো।ঝলসে যায় বারে থাকা প্রত্যেকটা মানুষ।
শেষ হয়ে যায় তাদের গল্প।তাদের সকল খারাপ বুদ্ধি।আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় প্রতিটি দেহ।ছাই হয়ে যায় কত মানুষের ভালোবাসার খুনি।
চলবে………
-(কিছু বলার নেই।২k রিয়েক্ট হলে পরের পর্ব দিবো।রোজার ভিতরে রোজা রেখে গল্প লিখতে কষ্ট হয়।তোমরা দয়া করে বেশি বেশি রেসপন্স করিও।আমি জানি আমাকে তোমরা হতাশ করবা না)-
Share On:
TAGS: নিষিদ্ধ চাহনা, সারা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৪২
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৫৪
-
চার বছরের চুক্তির মা গল্পের লিংক
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৩৭
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৪
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২২
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৯
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৮ (খ)
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১০
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৪৬