নিষিদ্ধ_চাহনা
পর্ব_৫০
লেখিকাসারাচৌধুরী
🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫
রাস্তার ধারে পড়ে আছে একটা মৃত দেহ।বেশ নৃশংষ ভাবে খুন করেছে খুনি।মুখ টা বাদে বাকি অংগগুলো খন্ড বিখন্ড।দেখেই বোজা যাচ্ছে খুনি মুখে কিছু করে যাতে লাশ কে চেনা যায় সহযেই।
দুবাই এর সংবাদ পত্রিকার নারি সাংবাদিক এক নাগাড়ে খুনের বর্ননা দুয়ে যাচ্ছে ক্যামেরার সামনে।সেটা টিভি তে ফেসবুকে লাইভ হচ্ছে।লাশটির জিভ কেটে নেওয়া হয়েছে চোখ গুলো ও উবড়িয়ে নেওয়া হয়েছে।সেগুলো পাশেই পলিথিন ব্যাগ এ করে রাখা।
ফেসবুক ঘাটতে ঘাটতে হটাৎ ফাইজ এর মৃত্যুর খবর আসে চোখের সামনে সাদির।সাদি খবর টা দেখে স্তব্ধ বাকহীন হয়ে গেছে।কাল রাতে তো ফাইজ কে তার হাত থেকে কেও একজন নিয়ে পালালো আর আজ তার খন্ডিত লাশ।
সাদির মুখ দিয়ে কথা আসছে না তাকিয়ে আছে ল্যাপটপ এর স্ক্রীনে।সাদি কোনো মতে পিহু কে ডাক দিলো…
-“পিহুউউ…!
সাদি ডাকার সাথে সাথেই রান্না ঘর থেকে ছুটে এলো পিহু।পিহু আসতেই সাদি ল্যাপটপ টা পিহুর দিকে ঘুরিয়ে ধরতেই পিহু আতকে উঠলো।প্রচন্ড ভয় পেলো সে।সাদি পিহু ভয়ার্থ মুখ দেখে তাড়াতাড়ি স্ক্রীন অফ করে দিলো।তারপর পিহুর দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই পিহু বলে উঠলো…
-“আ..আপনি এভাবে মেরেছেন।
বলেই পিহু মুখে হাত দিলো।চোখে মুখে ভয়।এদিকে সাদি কি করে বুজাবে সে করেনি।সাদি কিছুক্ষন চুপ থেকে দীর্ঘশাস ফেলে বললো…
-“এটা আমি করিনি।কাল আমার থেকে একে কেও ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।আমার থেকেও পাকা খেলোয়াড় সে।
-“মানে…!
-“কাল যখন আমি ফাইজ কে ধরতে যাবো ঠিক তখনই একটা মেয়ে এসে ফাইজ কে গাড়িতে করে নিয়ে চলে যায়।আমি ধরবো বলে পিছু ধরেছি তাও পারলাম না।
পিহু আরো ভয় পাওয়ার নাটক করলো।কাপা কাপা কন্ঠে বললো…..
-“নিশ্চয় সে সাইকো নয়তো এভাবে কাওকে মারতে পারবে না।চলেন আমরা ফিরে যায় আমার ভয় করছে।
পিহুর কথায় সাদি হাসলো।তারপর হাত বাড়িয়ে পিহুকে কাছে টেনে নিয়ে পিহুর কপালে ভালোবাসার পরশ একে দিয়ে বললো….
-“আমি বেচে থাকতে তোর কোনো ভয় নেই জান।
-“আমার তো আপনাকে নিয়ে ভয়।
-“পাগলী।
-“যদি ওই মেয়ে আপনার কোনো ক্ষতি করে…?
সাদির অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মুখ ফসকে বলে ফেললো…
-“আজ থেকে আমার তার্গেট ওই মেয়েকে খুজে বের করা।
-“কিভাবে পাবেন।
-“সিক্রেট এজেন্ট লাগিয়েছি।খুব তাড়াতাড়ি খুজে পাবো।তুই চিন্তা নিস না কোনো ভয় নেই।পাপি দের শেষ করেই যাবো এখান থেকে।
পিহু আর কিছু বললো না।কিছুক্ষন বসে থেকে উঠে এলো রান্না ঘরে।রান্না ঘরে এসে একটা ভিলেনি হাসি দিয়ে বিড়বিড় করে বললো….
-“যারে খুজতে এজেন্ট লাগালেন মিঃ তার সাথেই বললেন বাহ আপনার বুদ্ধির বাহবা দিতে হয়।
কথাটা বলে পিহু হাসলো।তারপর সাদির মতোই মুখ গম্ভীর করে বলে উঠলো…
-“স্টুপিড।
পিহু আবারো হেসে উঠলো শব্দহীন হাসি।পিহুর চোখের সামনে ভাসতে লাগলো কাল রাতের সেই ঘটনা।পিহু রান্না করতে করতে ডুবে গেলো সেই রাতের কল্পনায়।
মারিয়াদের বাড়ির সামনে সবে মাত্র গাড়ি থেকে নেমে সোজা আন্ডারগ্রাউন্ড এ চলে এসেছে পিহু।মুখে মাস্ক চোখে কালো সানগ্লাস।কপালে ছোট্ট একটা কালো টিপ।পিহু হেটে এসে সোজা নিজের চেয়ারে পায়ের উপর পা তুলে বসলো।
পিহুর সামনেই বাধা অবস্থাই পড়ে আছে ফাইজ।চাবুক দিয়ে পেটানো হয়েছে একে।পিহুর এক স্টাইল এ মারতে ভালো লাগে না তবে চিহ্ন রাখতে ভালো লাগে।পিহুর দিকে ফাইজ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।তখনও মাস্ক পরা ছিলো এখন ও মাস্ক পরা তাই ফাইজ এর চিনতে অসুবিধা হয়নি।
ফাইজ চোখ বড় বড় করে কিছু বলতে চাইলো তবে মুখ বাধা থাকাই কিছু বলতে পারলো না।পিহু আর যাই হোক কারোর মুখে আঘাত করে না।তবে পাপর সর্বোচ্চ শাস্তি দিবে সে।পিহু ইশারা করতে একজন মেয়ে গার্ড মুখের বাধন খুলে দিলো ফাইজ এর সাথে সাথে ফাইজ বিশ্রি ভাষায় গালি দিয়ে বলে উঠলো…
-“এই কে তুই।আমাকে ধরে আনার সাহস কই পেলি তুই।
পিহু তাচ্ছিল্য হাসলো। তারপর হাসি মুখে উঠে দাঁড়িয়ে চোখের চশমা টা খুলে মারিয়ার হাতে দিলো।তারপর ফাইজ এর দিকে এগিয়ে গিয়ে ফাইজ এর চারিপাশে চক্কর দিতে লাগলো।পিহুর চোখ ও যেনো হাসছে হালকা করে কাজল দেওয়া চোখ জোড়া অসম্ভব সুন্দর লাগছে।
পিহু ফাইজ এর সামনে দাঁড়িয়ে ফাইজ এর মাথার চুল ধরে নিজের দিকে ফিরিয়ে চোখের দিকে তাকিয়ে বললো…
-“আই এফ এস এর বংশধর ফাইজ শিকদার ওরফে সিরাজ শিকদার এর মেয়ে জামাই।
বলেই হেসে উঠলো পিহু।পিহুর হাসি দেখে ফাইজ ছাড়ানোর জন্য ছটফট শুরু করলো। চোখ মুখ রাগে লাল ফাইজ এর।সেভাবেই বলে উঠলে…
-“এই মা*** কেরে তুই।আমার কাছে কি চাস ছাড় আমাকে তোরে আজ খেয়ে ছাড়বো মা।
ফাইজ এর বলাও শেষ সাথে সাথে গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে পর পর দুটো সপায়ে চড় বসালো পিহু ফাইজ এর ডান গালে।চড় গুলো এতই শক্ত ছিলো যে সেই যায়গা ফেটে রক্ত বের হতে লাগলো।পিহু দাত কিড়মিড় করে বলে উঠলো….
-“মুখের ভাষা ঠিক কর। নয়তো তোর জিব টেনে ছিড়ে ফেলবো জানো*য়ার।
এত জোরে চড় খাওয়ার পর ও ফাইজ মুখ তুলে বলে উঠলো….
-“কে তুই মাস্ক খুল। মুখ দেখা।একবার ছাড়া পাই তোকে ধ্বংস করে দিবো মা****।
ফাইজ এর কথায় আবারো তাচ্ছিল্য করে হাসলো পিহু তারপর গায়ের জোরে ফাইজ এর দুই পায়ের মাঝ বরাবর নিজের বুট জুটো পরিহিত অবস্থায় লাথি দিয়ে বলে উঠলো…
-“বোকা তুই করবি আমাকে ধ্বংস তাহলে শউনে রাখ।
পিহু পা দিয়ে আরো জোরে আর একটা লাথি দিলো ফাইজ কুকড়ে উঠলো প্রচন্ড ব্যাথায় তবে পিহুর মনে মায়া হলো না।পিহু ফাইজ এর চুল টেনে নিজের দিকে ফিরালো ফাইজ এর মুখ তারপর নিজের মাস্ক খুলে বলে উঠলো…
-“ধ্বংসের শেষ প্রান্তে দাড়িয়েও আমি তাচ্ছিল্য হেসে বলবো।আমাকে ধ্বংস করা অসম্ভব।
বলাই চুল ছেড়ে আবারো সপাটে চড় বসালো ফাইজ এর গালে।ফাইজ নিজের অন্ড*কোষ এর তীব্র যন্ত্রনা।আর পিহুর মুখ দেখে জ্ঞান হারানোর অবস্থা।তবুও কাপা কাপা গলায় বলে উঠলো…
-“ত..তুই..?
পিহু হাসলো। এতক্ষনে যেনো পিহু অনেক শান্তি পেয়েছে।ফাইজ এর দিকে কিছুটা ঝুকে বলে উঠলো তাচ্ছিল্যের সাথে…
-“হ্যা আমি।যাদের কে মারলি তাদের আদরের মেয়ে।খুব আদরের।ভয় পেলি তুই।আচ্ছা ভয় পা।তবে আমাকে মোটেই তুই বলে সম্বোধন করে ঠিক করলি না।একটু হলেও মায়া দেখাতাম আর নাহ গুড বাই।
বলে পিহু উঠে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ঢংগি স্টাইলে হাত নাড়িয়ে বাই জানিয়েই নিজের মধে কঠিনত্ত্ব এনে পিহু ঘুরে মাস্ক পরতে মারিয়া কে বলে উঠলো….
-“এর কিডনি লিবার হার্ট সব কিছু মাছ এর দিবে।আর বাকি গুলো খন্ড করে রাস্তায় সাজিয়ে রাখবে।মাথাটা আস্ত থাকবে।চোখ গুলো জীবিত অবস্থায় তুলবে। আর জিভ আর ওর সব মেয়েদের নষ্ট করার যন্ত্র।যা আমি এক লাথিতেই নষ্ট করেছি সেটাও কাটবা ও জীবিত থাকতে।
বলেই পিহু হনহনিয়ে বের হয়ে গেলো।পিহুর পিছন মারিয়া ও চলে এলো।গার্ড নামক রোবটদের কাজ বুজিয়ে দিয়ে।আর তারা তাদের কাজে লেগে গেলো।আন্ডারগ্রাউন্ড এর মোটা লোহার দরজা ভেদ করেও ফাইজ এর চিৎকার ভেষে আসছে।
পিহু বাইরে এসে হেসে মারিয়া কে বললো….
-“দুজন পাপিকে বিদায় করতে পেরেছি। এর পর তার্গেট ডিরেক্ট শুট এন্ড ফায়ার।যাস্ট অনলি অন জাহিন রে আমি নিজ হাতে মারবো।
-“ওকে ম্যাম।
পিহুর ধ্যান ভাঙে সাদির ডাকে।এতক্ষন কল্পনায় এতটাই ডুবে ছিলো যে সাদি কখন এসে তার পাশে দাড়িয়েছে পিহুর জানা নেই।সাফি আবারো বলে উঠে…
-“এই স্টুপিড।
পিহু চমকে উঠে সাথে সাথে বলে উঠে…
-“জ্জ্বী ব..বলেন..?
সাদি ভ্রু কুচকে বলে উঠে….
-“কী ভাবছিলো এতো মনযোগ দিয়ে…?
পিহু কোনোমতে নিজেকে সাভাবিক করে মুখে জোর করে হাসি এনে বলে উঠলো….
-“কই কি ভাববো।এইতো রান্না করছি তাই হয়তো।
সাদি ফিচলে হাসলো তারপর পিহুর থুতনি উচু করে ধরে নিয়ে সাদির মুখ পিহুর দিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে ফিশফিশ করে বলে উঠলো…
-“যার বুকের বাম পাজড়ের হাড় দিয়ে তৈরি। তাকেই মিথ্যা বলিস।আর ভাবছিস সে বুজতে পারবে না।নিজেকে খুব চালাক মনে করিস।মাই লাভলি ওয়াইফ। স্টুপিড।
চলবে…….
-(এই জুটির কাহিনী লিখতে গেলে যেনো শেষ হয়না।তবুও খুব তাড়াতাড়ি ইতি টানবো এত সুন্দর এক ভালোবাসার গল্পের।বেশি বেশি রেসপন্স করবেন)-
Share On:
TAGS: নিষিদ্ধ চাহনা, সারা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১১
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৩
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৯(ক+খ)
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৪
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৪২
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১১
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ২
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৮
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৪
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৬