নিষিদ্ধ_চাহনা পর্ব ৪৮
পর্ব_৪৮
লেখিকাসারাচৌধুরী
🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫
-“তোকে আমি বিশ্বাস করি কিভাবে বলতো…?
সাফার কথায় ঠোঁট এলিয়ে হাসে পিহু।গাড়ো গোলাপি লিপ জেল দেওয়া ঠোঁট জোড়া হালকা হলদেটে আলোয় তেলের মতো চমকাচ্ছে।পিহু হেসে সাফার চুলের মাঝে হাত দিয়ে বললো…
-“তুই জানিস মেয়েরা ইমোশনাল।আর আমিতো একটু বেশিই।তাই বলে দে আর চলে যা।
-“তোর কি জানের ভয় নেই..?
-“বললাম তো নেই।যেখানে নিজের বাপ মা বেচে নেই সেখানে নিজে বেচে থেকে কি করবো।তবে মরার আগে তাদের মৃত্যুর রহস্য জানার ইচ্ছা ছিলো।তবে এখন শুধু এস এর রহস্য জানলে আর কিছু জানার ইচ্ছা নেই।
কথাগুলো এক টানায় বেশ ইমোশনাল ভাবে বললো পিহু।পিহুর কথায় হয়তো মন কিছুটা গললো সাফার।চোখে বিশ্বাস অবিশ্বাস এর খেলা।সাফা আবারো বললো…
-“আমাকে মুক্তি দিবি তো…?
-“আরে বললাম তো দিবো জবান।তুই বল এস এ কে আর থাকে কই..তার পর তোর মুক্তি।
-“আবার থাকে কই মানে…?
-“যেহেতু মরেই যাবো তাই যানার ইচ্ছা যাগলো..!
-“ওহ্।
-“হুম বল এবার।
-“এস এ হলো সিরাজ শিকদার।শিকদার রেস্টুরেন্ট এর মালিক।
-“কোথায় যেনো শুনেছি নাম টা।
-“ফারজুর ভাইয়ের শশুর।
-“ওহহহ।
-“হুম।
পিহু আর কিছু বলে উলটো ঘুরে চলে যেতে চাই।কয়েকপা আগানোর পর পরই পিছন থেকে ভেষে আসে সাফার বিস্রি ভাষার গালি।সাফা বলে উঠে…
-“এই মা*** জবান দিয়েছিস।তাহলে আমারে মুক্তি দে।একবার ছাড়া পায়।তোর অবস্থা খারাপ করে দিবো।
পিহু পিছু ঘুরে তাকায়।মারিয়া এখোনো পিছনে হাত গুজে দাঁড়িয়ে আছে।পিহু জোরে শব্দ করে বলে উঠলো…
-“গার্ডস..!
সাথে সাথে সাফার পাশে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা দুজন মহিলা বলে উঠলো…
-“জী ম্যাম..?
-“এই আবর্জনা কে মুক্তি দিয়ে দাও।
পিহুর কথায় সাফা হেসে উঠে। পিহু উলটো দিকে ঘুরে মারিয়ার দিকে তাকিয়ে একটা ডেবিল স্মাইল দিয়ে বলে উঠে…
-“জবান যেহেতু দিয়েছি কথা রাখলাম।তোর জান নিয়ে মুক্তি দিলাম।আমি কাওকে মারবো না।আমি আমার স্বামির পবিত্র নারী।কোনো কীট মেরে হাত গন্ধ করি না।গার্ডস ওর কথা মতো করে ওকে জিবন্ত অবস্থায় চাপাতি দিয়ে কুচি কুচি করে সারা হাত্তা আর মাধা শহরের কুকুর গুলোকে খাওয়াও।
কথাটা বলেই বড় বড় পা ফেলে বেরিয়ে যায় পিহু আন্ডার গ্রাউন্ড থেকে।পিছন থেকে ভেষে আসে সাফার করুন আর্তনাদ। গার্ড গুলো হয়তো তাদের কাজ শুরু করে দিয়েছে।আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে বের হতেই মারিয়া বলে উঠে…
-“ম্যাম আমি তো বলেছিলাম এই সিরাজ এর কথা। তখন সন্দেহ না হলেও এখন সেটাই প্রমানিত।আর এই সিরাজ এর নামে নারী পাচার এর কেচ আছে।তবে টাকা দিয়ে পুলিশ এর মুখ বন্ধ রাখে।এমন কি পুলিশ রা তাকে দেখলেও ধরে না।
-“ওহ..!-(ছোট্ট করে বলে পিহু)-
-“ম্যাম একটা কথা বলি..?
-“হুম বলো..?
-“আপনি চাইলেই তো মারতে পারতেন শুট করে।জীবিত অবস্থায় কষ্ট দিয়ে মারলেন। আপনার তো অনেক কঠিন হৃদয়।
পিহু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো তবে কোনো প্রতিউত্তর করলো না।পিহু বোরকা গায়ে জড়াতে জড়াতে বললো…
-“আচ্ছা মারিয়া। নেক্সট তার্গেট কে…?জাহিন নাকি এই সিরাজ শিকদার…?
-“জাহিন কে মেবি স্যার মারবে।আর এখন সিরাজ কে ধরা মানে দলের সকলে এলার্ট হয়ে যাবে দেশ থেকে পালাতেও পারে।সেহেতু আমাদের প্রথম সেনা গুলোকে শেষ করে রাজা কে শেষ করতে হবে।
পিহু হাসে।এই জন্যই মারিয়া মেয়েটাকে পিহুর এতো ভালো লাগে।প্রচন্ড বুদ্ধি মেয়েটার।পিহু এবার মুখে নেকাব বাধতে বাধতে বলে…
-“চলো শেয়ানে শেয়ানে খেলা যাক।বাঘের শিকার আমরা নেকড়ের মতো ছিনিয়ে আনি।
-“তার মানে আপনি স্যার এর কথা বলছেন।যদি স্যার জানে আপনি এখানে কি হবে ভাবছেন।আর আমি এখন যতটুকু যানলাম।সাদি স্যার এর চারজন গুপ্তচর আছে।তাদের উপর আমাদের একজন নজর রাখছে।আর সাদি স্যার যদি ধারনা অনুযায়ী জাহিন কে ধরে তাহলে জাহিন কে শিকার করা আমাদের বোকামি।
পিহু কিছু বলে না।মনে মনে হাসে।সে চাই না তার শুদ্ধ পুরুষ কাওকে মারুক। এমনকি পিহু ও এই জন্য মারবে না কাওকে নিজ হাতে।তবে ইশান কে নিজ হাতে মারার খুব ইচ্ছা পিহুর।আর সেটা পুরন করবেই।পিহু আর মারিয়া দুজনেই দুজনকে বোরকায় আবৃত করে বেরিয়ে পড়ে সেই আন্ডারগ্রাউন্ড এর বারের উদ্দেশ্যে।
একের পর এক মিটিং করেই যাচ্ছে যাচ্ছে ইশান আর সিরাজ।সাফার জন্য চিন্তিত জাহিন আর ফাইজ।কল ও ধরছে না।যদিও এটা বর্ডার এলাকা হওয়ায় নেটওয়ার্ক প্রবলেম। তাই এটা নিয়ে ভাবছে না।
গত দুই ঘন্টা ধরে সাদি আর তার পারছোনার সিকিউরিটি এসিস্ট্যান্ট বসে আছে ইশান দের পেছনের টেবিল।যদিও প্রাইভেসি মেইনটেইন করা সেজন্য কেও সরাসরি কাওকে দেখতে পাচ্ছে না।হটাৎ সবার মাঝ থেকে ফাইজ ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে উঠে দাড়ালো।যদিও তার চিন্তা সাফাকে নিয়ে।এখানে কারপ্র কথা তার ভালো লাগছে না।ফাইজ এর পেছন পেছন জাহিন ও এলো।
এদিকে জাহিন দের ওয়াশ রুমের দিকে যেতে দেখে সতর্ক হয়ে গেলো সাদি আর তার গার্ড গুলো।সাদি চোখের ইশারার মাধ্যমে সামনের এসিস্ট্যান্ট কে বুজিয়ে দিলো শিকার চলে এসেছে এবার প্লান মতো কাজ করতে হবে।সাদি রাও কিছুক্ষন পর বেরিয়ে গেলো একে একে।বার থেকে বেরিয়ে কিছুটা দূরে ওয়াশরুম।চারিপাশ অন্ধকার। জাহিন ওয়াশরুম থেকে এসে বাইরে দাড়ালো।ফাইজ ও তার পাশে দাড়ালো।যদিও সাফার জন্য জাহিন এর চেয়ে ফাইজ এর বেশি চিন্তা হচ্ছে কারন।ফাইজ যেনে গেছে সাফার আসল পরিচয় ফাশ হয়ে গেছে সাদির কাছে।আর সাফার যদি কোনো বিপদ হয় কারোন সে অনেক অনেক পরিবার কে নৃসংস ভাবে মেরেছে।তাই ওর শত্রু বেশি।
দূর থেকে আলাদা আলাদা ভাবে তাদের উপর চোখ রেখেছে চার জোড়া শিকারি চোখ।যদিও সাদিদের উপর পিহুর চোখ আছে তবে সাদির শিকার কে পিহু আজ ছিনিয়ে নিবেই বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ পিহু।
বেশ কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে জাহিন আবার ফিরতে চাইলে ফাইজ তাকে যেতে বলে নিজে দাঁড়িয়ে থাকে।যদিও পিহুরা এসেছিলো জাহিন কে ধরতে তবে ফাইজ কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আর জাহিন কে আবার হেটে বারের ভিতর যেতে দেখে সাথে সাথে প্লান বদলে ফেলে দুই দলের দুজনেই।
ফাইজ আবারো সিগারেট ধরিয়ে ঠোঁটের ভাজে রেখে গাড়ি পার্কিং এরিয়ার দিকে এগিয়ে যায়।সাদি ও এগোতে গিয়েও এগোয় না।কারোন এখন এগোলে ধরা খাওয়ার চান্স আছে। ফাইজ পার্কিং এরিয়া তে আসতেই দূর থেকে দেখতে পায় একটা মেয়ে গাড়িতে এক পা ঠেকিয়ে মোবাইল চাপছে।গাড়ির লাইট জ্বলছে পিছনের ব্যাক লাইট।হয়তো গাড়ি স্টার্ট দেওয়া। বড় লোলের মেয়ে নেশা করছে।
ফাইজ এর মন ফুরফুরে হয়ে গেলো সাথে সাথে।সাফার কথা ভুলে গেলো মুহুর্তে। টানা পায়ে এগিয়ে গেলো মেয়েটির দিকে।মেয়েটির থেকে এক হাত দূরে দাঁড়িয়ে ফাইজ ছোট্ট করে বলে উঠলো…
-“এক্সকিউজ মি মিচ..?
রমনীটি আড়চোখে ফাইজ কে একবার দেখে গাড়ি থেকে পা নামিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায়।এদিকে আলো খুব কম।আবছা আবছা।সাদি৷ দূর থেকেই দেখতে পাচ্ছে ফাইজ এর আর এক মেয়ের কথোপকথন।মেয়েটি ফাইজ এর পা থেকে মাথা অব্দি পরখ করে বললো…
-“ইয়েচ..?
-“আর ইউ সিংগেল ওমেন..?
-“ইয়াহ বাট হুয়াই..?
-“উইল ইউ গো অন আ ডেট উইথ মি? আই’ম সিঙ্গেল টু।
-“হুয়াট।
-“সরি মিচ..!
-“উইল ইউ ডু মি এ ফেভার..?
-“ইয়াহ হুয়াই নট..?
-“ক্যান আই হ্যাব এ অন কিচ ইউর স্মুথ লিপ্স।
পিহু হয়তো এটার ই অপেক্ষায় ছিলো।এ যেনো মেঘ না চাইতেই জল।বাংলার প্রবাদের মতো উপর ওয়ালা যখন চাহিবে আপনা আপনি আসিবে।পিহুর ঘৃনা হচ্ছে মনে মনে।তবে এ সুজোগ হাত ছাড়া করা যাবে না।পিহু মাস্ক পরা অবস্থাতেই বলে উঠলো..
-“ইয়াহ শিওর।
ফাইজ যেনো কথাটায় নেচে উঠলো।পিহুর দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো।পিহুর মনটা বিষিয়ে যাচ্ছে তার প্রান প্রিয় প্রনয় পুরুষ এই জানো*য়ার টাকে ধরতে এসেছে।আসলেই মানুষ কতোটা খারাপ হলে নিজের স্ত্রী থাকার পরেও পর নারীতে আসক্ত হপ্তে পারে এটা ফাইজ কে না দেখলে পিহু হয়তো জানতো না।কিভাবে অচেনা একটা মেয়ের কাছে অসামাজিক আবদার।ছিহ।
চলবে…….
-(পরের পর্ব বেশ রোমাঞ্চকর হবে তোমাদের জন্য। আশা করি মন মতো রেসপন্স পাবো।১.৩k রিয়েক্ট আসলে পরের পর্ব দিবো।আগের পেজ হ্যাক এই পেজটি ফলো করে রাখো সবাই)-
Share On:
TAGS: নিষিদ্ধ চাহনা, সারা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নিষিদ্ধ চাহনা অন্তিম পর্ব
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৩১
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১১
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৩২
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৬
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৫
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৭
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৫
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৩৩
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৩৯