নিষিদ্ধ_চাহনা
পর্ব_৪৬
লেখিকাসারাচৌধুরী
🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫
বৃষ্টি স্নিগ্ধ সকালের সুচনা হয়েছে ধরনীতে।দুবাই এর হাত্তা শহরটি পাহাড়ি অঞ্চল হওয়াই গাছ পালার পরমান ও বেশি।সারা রাত বৃষ্টি হয়েছে।সকালেও হচ্ছে আগের থেকে কমলেও ছিটে ফোটা পানি পড়ছে বাইরে।
বিছানায় কম্ফোর্টার জড়িয়ে সুয়ে আছে পিহু।চোখ গুলো কটমট করে তাকিয়ে আছে পাশেই বসে মৃদু আওয়াজে শিষ বাজিয়ে ল্যাপটপে কাজ করা সাদির দিকে।সাদির মন টা আজ বেশ ফুরফুরে।পিহু এমন ভাবে তাকিয়ে তাকতে দেখে আড়চোখে একবার দেখে সাদি হাসলো।ঠোঁটে হাসি রেখে ল্যাপটপের দিকে তাকিয়েই বলে উঠলো…
-“জান এমনে তাকাইস না আমি দুর্বল হয়ে যাচ্ছি..!
সাদির কথা শুনে পিহু কটমট করে বলে উঠলো…
-“চুপ করুন অসভ্য পুরুষ।
সাদি এবার ল্যাপটপ থেকে চোখ সরিয়ে পিহুর দিকে তাকিয়ে বললো…
-“এখোনো পুরোপুরি অসভ্য হয় নি বউ।আর বউ এর কাছে কোন পুরুষ সভ্য বল তো..?
-“চুপ করলেন না আপনি অশুদ্ধ পুরুষ।
সাদি ঠোঁট মেলে হাসলো।গোলাপি ঠোঁট জোড়া কালো ঘন চাপ দাড়ির মাঝে বেশ মন মুগ্ধকর লাগছে। সাদি আবার ঘুরে বেশ মন দিলো ল্যাপটপ কিছু একটা দেখতে।সাদির এমন মনযোগ দিয়ে দেখতে দেখে পিহু ভ্রু কুচকে জিজ্ঞাসা করে….
-“কি দেখছেন এতো মনযোগ দিয়ে…?
সাদি ল্যাপটপে চোখ রেখে বেশ সিরিয়াস ভাবেই বলে….
-“ওইজে রেস্টুরেন্ট এর পাশ দিয়ে এদিকে যে নিচু রাস্তা এসে ছে না।
-“হু..!
-“ওই রাস্তায় পাচঁ জনকে নৃশংস ভাবে কারা জানি মার্ডার করেছে।যদিও যানা গেছে সব গুলো ফরেইনার আর বখাটে পোলাপান।সবার শরীরের ড্রাগ পাওয়া গেছে।
খুনের কথা শুনে পিহু একটু দমে গেলো মনে মনে।তবে উপরে কিছু বুজতে দিলো না।পিহু উত্তেজিত হয়ে বললো…
-“কই দেখি কোন নিউজ..?
সাদি সাভ্বাবিক ভাবেই পিহুর দিকে ল্যাপটপ টা ঘুরিয়ে দিলো। পিহু বালিশের উপর হাত ভাজ করে হাতের উপরে মাথা দিয়ে উচু হয়ে দেখলো নিউজ।সকাল সাতটার খবরে দেওয়া সংবাদ।সাদি ল্যাপটপ টা নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিতে নিতে বললো….
-“একবার ভাব যে বা যারা খুন টা করেছে সে কত বড় প্রফেশনাল খুনি।ঘটনা স্থলে কোনো প্রমান রেখে যায়নি তার উপর কাল রাতে বৃষ্টি তে সব প্রমান ধুয়ে গেছে।
-“আচ্ছা তাহলে খুনি ধরবে কিভাবে…?-(পিহু একটু উৎসুক হয়ে জিজ্ঞাসা করে)-
-“ধরা তো পরের কথা তুই দেখলি না কিভাবে চোখ গুলো টেনে বের করে রেখে দেছে।ভাবতেও গা শিওরে উঠছে আমার।আর বুকের বাম পাশে হার্ট বরাবর ছুরি দিয়ে কুপিয়েছে।
-“হুম যেই করুক তার অনেক সাহস।
-“হুম বাদ দে কারন এসবের কোনো বিচার নেই এ দেশে।আমরা যে কাজ করতে এসেছি করতে পারলেই হলো।
-“আচ্ছা আমাদের যদি ধরে ফেলে…?
সাদি হাসলো।ল্যাপটপ টা বেড সাইট টেবিল এর উপর রেখে পিহুর পাশে সুয়ে পড়লো।পিহু সরে যেতে চাইতেই পিহুকে টেনে বুকের সাথে জড়িয়ে নিয়ে বললো…
-“পালাই পালাই করিস না জান।একটু ঘুমাতে দে সারারাত ঘুমাই নি।
-“ছাড়েন তো। অসভ্য লোক আমার কাছে আসবেন না আর।সরেন।
পিহু ছোটাছুটি করতে থাকলো তবে সাদির পেশিবহুল হাত থেকে ছাড়া পেলো না।সাদি পিহুকে আরো জোরে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে নিয়ে পিহুর কানের কাছে নেশালো কন্ঠে ফিশফিশ করে বলে উঠলো…
-“চুপ চাপ ঘুমাতে দে জান।যদি মুড চলে আসে দুদিন বিছানা থেকে নেমে দাড়ানোর ক্ষমতা হারাবি কিন্তু।
সাদির নেশালো কন্ঠে বলা কথা গুলো পিহুকে চুপ করিয়ে দিলো পুরোপুরি।পিহু যেনো কাঠের পুতুলের মতো চুপসে গেলো।পিহুর গায়ের পশম গুলো কাটা দিয়ে উঠলো।সাদি হাত একটু ল্গা করতেই পিহু ভালোভাবে মাথা রাখলো সাদির হাতের বাহুর উপর।পিহু ভাবতে পারছে না কাল রাতের সেই সাদির আচরন।
এই সাদির চেয়ে বস্ত্রবিহীন সাদি ছিলো বেশি উন্মাদ। সাদির প্রতিটা কথা পিহুর কাপুনি উঠিয়ে দিতে সক্ষম।সে সাদিকে পিহু কাল রাতে আবিষ্কার করেছে।সে সাদির অস্তিত্ব আগে কখোনো পিহু দেখেনি।সে সাদির চোখে ছিলো এক রাশ নেশা যা পিহুকে মোহে ডুবিয়ে দিয়েছিলো।
ভোর রাতে অচেতন পিহুকে নিয়ে সাদি রুমে এসেছে।পিহুর জ্ঞান ফেরে যখন ঝর্নার ঠান্ডা পানি গায়ে পড়ে। শক্ত পিহু অস্ফুট স্বরে কেদে উঠে সারা শরীরের জালাপোড়ায়।সাদি তখন বেশ অনুশুচনা করেছে তবে পরবর্তীতে যা ইচ্ছা তাই।পিহুকে নিজ থেকে বলছে…
-“আমার বউ আমি ভালোবাসবো তোর কি…?
সাদির কথায় তাজ্জব বনে গেছিলো তখন পিহু।তাকে নিয়েই বলছে আবার তার কি তাও জিজ্ঞাসা করছে।হটাৎ সাদির কন্ঠে ধ্যান ভেঙে যায় পিহুর…
-“এই জান কি ভাবছিস…?
-“কই কিছুনা..!
-“তোর কি খিদে লেগেছে…?
-“নাহ আপনার লাগলে খান গিয়ে..!
খিদা লাগবে কি করে আমার সমস্ত শক্তি তো খেয়ে নিলি কাল রাতে।কথাটা মনে মনে ভেবে হাসে সাদি তার পর মুখে বলে…
-“সত্যি..?
-“হুম এতে সত্যি মিথ্যার কি আছে..?-(পিহু মুখ উচিয়ে সাদির তাকিয়ে বলে)-
-“না মানে আসলে…!
সাদি নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরে চোখ মারে পিহুর দিকে। সাথে সাথে পিহু ছোটাছুটি করতে শুরু করে।নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে বলে….
-“খবদদার ভালো হবে না কিন্তু।
-“হুম জান ভালো হবে না।
বলেই সাদি এক প্রকার জোর করেই পিহুর গলায় মুখ ডুবাই।এদিকে পিহু হাশফাশ শুরু করে।হাত দিয়ে খামচে ধরে সাদির বাহু তবে কাজ হয় না।পিহুর মনে পড়ে গোসল করে বেরিয়ে সাদির সবার আগে পিহুর লম্বা লম্বা ধারালো নখ গুলো কেটেছে।তখন পিহুর গায়ে শক্তি ছিলো না নয়তো কখোনোই কাটতো না।পিহুর নোখ কাটার জন্য পিহু কান্না শুরু করলে সাদি শার্টলেস হয়ে নিজের হাত আর গলা দেখিয়ে বলে উঠে…
-“রাক্ষসের মতো নোখ দিয়ে আমার মাংস গুলো তুলে ফেলছিস একেবারে দেখ দেখ।
তখন পিহু চুপ হয়ে গেছিলো।আর পরই ব্যাথা জরের পিল খেয়ে ঘুমিয়েছিলো।
-“কি খামচি দে।জোরে দে..!
সাদির কথায় পিহু আবারো হুশে আসে।তবে সাদি পিহুকে ছাড়ে না।পিহুর গলা থেকে মুখ তুলে পিহুকে আবার জড়িয়ে ধরে বলে….
-“বিকালে বের হতে হবে জান এখন একটু ঘুমাতে দে।একটু চুপ করে থাক।তুই না থাকলে আমার কেমন ঘুমের মাঝেও শুন্য শুন্য লাগে।
সাদির কথা শুনে পিহু আর কিছু বলে না।তার ও ঘুম আসছে চোখ গুলো ছলছল করছে ঘুমে।পিহু সাদির বুকে মুখ গুজে ঘুমিয়ে পড়ে।সাদিও নিজের প্রেয়সীকে বুকের মাঝে নিয়ে পাড়ি জমায় ঘুমের দেশে।
দুপুর দুইটা।খাওয়া দাওয়া শেষে পুরোপুরি রেডি হচ্ছে সাদি।কালো প্যান্ট এর সাথে স্কাই ব্লু রঙের শার্ট হাতা গুলো কনুই পর্যন্ত গোটানো।মাজায় বন্দুক গোজা।তবে বোজা যাচ্ছে না।হাতে সিলভার এর ঘড়ি।চুল গুলো সুন্দর করে সেট করে একটা অনটাইম ব্লাক মাস্ক পরে নিয়েছে সাদি।চোখ গুলো দেখা যাচ্ছে মাস্লের উপর থেকে।যে কেও প্রথম দেখায় এই মাস্ক পরা বিবাহিত পুরুষটির উপর ক্রাশ খাবে।
পিহু এখোনো এলোমেলো চুল নিয়ে বসে আছে বিছানায়।চোখে মুখে এখোনো ঘুম ঘুম ভাব।সাদি জোর করে তুলে খাইয়েছে এখন সে বাইরে যাবে বলে।যেহেতু ফিরতে দেরি হতে পারে তাই পিহুকে একেবারে খাইয়ে দিয়ে গেছে।সাদি ঝাল ছাড়্ব খাবার কর্ডার করেছিলো যেহেতু পিহুর ঠোঁট তার কারনেই আহত।যাতে জালা না করে সেজন্যই।পিহু সাদির এমন ছোট্ট ছোট্ট কেয়ারিং এ বড্ড খুশি।সমস্ত ব্যাথা ভুলে যাওয়ার একমাত্র ওষুধ সাদির এই কেয়ার গুলো।
সাদি পায়ের বুট এ ফিতা বাধা শেষে। পিহুর সামনে এসে দাঁড়ায়।মুখ থেকে নাস্ক খুলে একটু ঝুকে পিহুর কপালে শব্দ করে একটা চুমু দিয়ে বলে…
-“ছোট বেলায় দেখেছি বাবা বাসা থেকে বের হওয়ার সময় আম্মুকে বলে যেতো।বলে গেলে নাকি সেটা শুভ হয়।তাই আমিও আমার অর্ধাঙ্গিনী কে বলে যাচ্ছি।দোয়া করিস জান।তোকে কাদানো প্রতিটি মানুষ কে আমি কাদাবো ভয়ংভাবে।
সাদি পিহুর থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে গেলো।পিহু পিছে পিছে বাড়ির সদর দরজা পর্যন্ত এলো।সাদি গাড়ি নিয়ে চোখের আড়াল হতেই পিহু ছূটে ঘরে চলে এলো।ড্রেসিং টেবিল এর ডয়ার থেকে ল্যাপটপ আর ব্লুতুথ বের করে কানেক্ট করে কাকে কল দিলো।কিছুক্ষন পরেই সেই অজ্ঞাত ব্যাক্তি ফোন রিসিভ করে সালাম দিয়ে কিছু একটা বললো।সাথে সাথে পিহু বলে উঠলো….
-“ওকে তুমি দাড়াও। অনলি ফাইভ মিনিট আমি বের হচ্ছি।
চলবে……
-(এই পিহু কিন্তু আগের পিহু না।গল্প কেমন হয়েছে বলে জাবেন আশা করি ভালো লাগবে।১.৭k রিয়েক্ট হলে পরবর্তী পর্ব দিবো।আমি জানি তোমরা আমাকে হতাশ করবে না)-
Share On:
TAGS: নিষিদ্ধ চাহনা, সারা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৫৫
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৩
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৩
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৪৩
-
নিষিদ্ধ চাহনা অন্তিম পর্ব
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২১
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৪৪
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৮ (খ)
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৪৯