নিষিদ্ধ_চাহনা
পর্ব_৪৫
লেখিকাসারাচৌধুরী
🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫
পিহু হাটতে হাটতে দূর থেকে দেখতে পায় রাস্তার পাশে পাবলিক বেঞ্চে বসে আছে এক মানব।পিহুর বুজতে একফোটা সময় লাগেনা মানব টি কে।এটা তার সাদি।তার ফেল্টুস ডাক্তার।সাদি এখোনো পর্যন্ত এই নাম টা শুনলে রেগে যায় আর পিহু ততবার ই রাগায়।যদিও এখন পিহুর খুশির জন্যই সাদি রাগের ভান করে।তবুও চাই পিহু হাসুক।
পিহু সাদির কাছে এগিয়ে গিয়ে সামনে দাঁড়ায়।সাদি মাথা নিচু করে দু হাত দিয়ে মাথা চেপে বসে আছে।পিহু লাম্পপোস্ট এর আলোয় সাদির এলোমেলো চউল গুলো দেখলো।তবে বুজতে পারলো নক সাদির এভাবে বসে থাকার কারন।পাশেই অবহেলায় পড়ে আছে সাদির মোবাইল টা।পিহু এগিয়ে সাদির পিঠে হাত দেয় সাদিকে ডাকার উদ্দেশ্যে কি হয়েছে জানবে বলে।
পিহু সাদির পিঠে হাত দিয়ে মৃদু ধাক্কা দিতেই সাদি অল্প একটু মাথা তুলে তবে পিহুর মুখের দিকে তাকায় না।বেশ কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে একই ভাবে। সাদির এমন তাকিয়ে থাকা দেখে পিহু সাদিকে এবার একটু শব্দ করে ডেকে উঠে সাদির ঘাড়ে হাত দিয়ে..
-“এই সাদু কি হয়েছে আপনার।তাকিয়ে আছেন কেন এমন ভাবে।
পিহুর কোনো কথা বোধহয় সাদির কানে গেলো না।সাদি মাথা নিচু করে হাত নাড়িয়ে বিদায় দেওয়ার মতো করেস্পষ্ট বাংলায় বলে উঠলো…
-“দয়া করে জালাস না রে মা।আমার বউ আছে।আর আমি আমার বউ এর প্রতি আসক্ত।তোর সাথে যেতে পারবো না।বিদায় হো রে মা আমার।আমার পিহু’রানী দেখলে কষ্ট পাবে।যা যা।
কথাটা বলেই আবার মাথা চেপে ধরলো সাদি।বেশ জোরালো ভাবেই নেশায় আকৃষ্ট হয়েছে সে।নিজেকে সামলাতে ব্যার্থ চেষ্টা করছে।হেটে যেতে পারলেও যেতে ইচ্ছা করছে না।খোলা আকাশের নিচে বসে থাকতে ইচ্ছা করছে ওর।এদিকে সাদির কথা শুনে পিহু স্তব্ধ।সাদি যে নেশা করেছে সেটা ভালো করেই বুঝতে পেরেছে পিহু।কিন্তু তাকে যেগুলো বললো।
এক মুহূর্তে পিহুর মন টা খুশিতে টুইটম্বুর হয়ে গেলো।সাদি আসলেই তাকে প্রচন্ড ভালোবাসে।মানুষ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সত্যি বলে।সাদি যদি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অন্য মেয়েকে এভয়েড করতে পারে তাহলে বাস্তবের টা আর ভাবলো না পিহু।সাদির পাশে বেঞ্চে বসে আবার সাদির গায়ে হাত দিলো সাদিকে নিজের দিকে ঘোরানোর জন্য।
পিহু সাদির গায়ে হাত দেবার সাথে সাথেই সাদি ছিটকে দূরে সরে গিয়ে কোনো কিছু না ভেবেই বলে উঠলো…
-“হাউ ডেয়ার ইউ। তুই আমারে স্পর্শ করসিস তোর সাহস তো কম না।তোকে আমি…
কথাটা বলতে বলতেই থেমে যায় সাদি।তার দিকে অপলক ভাবে তাকিয়ে আছে তার পিহু।গাল হা হয়ে আছে।সাদি ভাবলো হয়তো ভুল দেখছে তাই দুহাত দিয়ে নিজের চোখ ডলা দিলো।তারপর আবারো তাকালো পিহুর দিকে হ্যা সে পিহুকেই দেখছে। সাদির এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না।মনে হচ্ছে নেশার ঘোরে ভুল দেখছে।
সাদির এমন অবাক হওয়ার মতো করে তাকিয়ে থাকতে দেখে পিহু যা বোঝার বুঝে নিলো।পিহু একটু এগিয়ে সাদির দিকে হাত বাড়াতেই সাদি ধীর কন্ঠে বলে উঠলো..
-“পি..পিহু..?
পিহু স্মীত হেসে সাদির দু গালে নিজের দুহাত রাখলো।সাদির চাপ দাড়ির মাঝে পিহুর ছোট্ট হাত দুটো বসে গেলো।পিহুর স্পর্শ সাদির অনেক বেশি চেনা।পিহুর শরীরের ঘ্রান ও সাদির মুখস্ত।পিহুর স্পর্শ পেয়ে সাদিও পিহুর মুখে হাত রাখলো।নেশাগ্রস্ত থেকেও মাঝে মাঝে নিজেকে ঠিক করতে পারছে সাদি আর মাঝে মাঝে বড্ড টালমাটাল হয়ে যাচ্ছে।
সাদি পিহুর মুখে হাত রেখে ধীর কন্ঠে বলে উঠলো…
-“ত..তুই এখানে..?
পিহু কিছু বললো না তাকিয়ে রইলো সাদির দিকে।মানুষ্টাকে কেমন মায়াবী লাগছে। চোখ গুলোও কেমন ছলছলে।কিছুক্ষন পর একটা ট্যাক্সি এসে থামে পিহুদের সামনে।একটু আগেই পিহু এটা বুক করেছিলো ফোন দিয়ে আর এখন এসেছে।পিহু বিনা বাক্যে সাদিকে নিয়ে গাড়িতে উঠে বসে।
গাড়িতে উঠে সাদি পিহুর কাধে মাথা রাখে।ধীরে পিহুর ঘাড়ের দিকে মুখ নিয়ে যেতে থাকে।পিহু বুজতে পেরে একটু সরে আসে।গাড়ি চলতে শুরু করে।সাদি আরো বড্ড বেশামাল হয়ে যাচ্ছে।সাদির পিহুর গলায় নাক ঘসছে ঠিক তখনই পিহুর ফোন বেজে উঠে।পিহু জ্যাকেট এর পকেট থেকে ফোন বের করতেই দেখে বাড়িওয়ালার ফোন।পিহু একটু ঘাবরাই।যে এতরাতে দুজন বাইরে বলে কল দিছে। পিহু নিযেকে ঠিক করে করে ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে বৃদ্ধা টি তাদের দেশীয় ভাষায় বলে উঠে…
-“মা তুমি তো বাড়িতে নেই।আমার ছেলে এসেছে তাই আমি আমার ছেলের সাথে তাদের বাড়িতে যাচ্ছি। তোমরা বাড়িটা দেখে রাখিও।
পিহু আচ্ছা বলে আরো কিছু কথা আদান প্রদান করে কেটে দেয়।তার ভিতরেই গাড়ি এসে থামে পিহুদের বাড়ির সামনে।বাড়ির সামনে গাড়ি দাড় করানো।ওটা বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ড এর পার্কিং এ রাখতে হবে।পিহু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে।ঘরে গিয়ে আগে সাফিকে তেতুল এর টক খাওয়াবে নয়তো পাগলামি করবে।
পিহু সাদিকে সদর দরজায় দাড় করিয়ে গাড়িটা পার্কিং এ পার্ক করে আসে।ইতিমধ্যে বাইরে বৃষ্টি পড়া শুরু হয়েছে। পিহু সাদিকে নিয়ে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে উপর তলায় যাবে তবে সাদি সিড়ি বেয়ে উঠতে পারবে না।তাই বাধ্য হয়ে পিহু সাদিকে নিয়ে বাড়ির লিফটের কাছে গেলো।লিফট বেশ পুরাতন ধাচের।বেশ বড় সড় লিফট।সাদ থেকে আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং পর্যন্ত সিস্টেম করা।লিফটে গেট সিটেম।হাত দিয়ে টেনে দিতে হয়।
পিহু প্রথম দেখে বেশ অবাক হয়েছিলো এমন লিফট।তবে পরে বুজলো এ বাড়ির মানুষ ইচ্ছা করেই এমন বানিয়েছে। সাদিরা লিফট এ উঠে উপরে উঠার বাটনে চাপ দিতে গেলেই পিহুর হাত সাদির সরিয়ে নিচের বাটনে চাপ দেয়।আর সাথে সাথে কারেন্ট চলে যায়।পুরো বাড়িতে আই পি এস থাকলেও লিফট সিস্টেম এ আই পি এস নেই।
ভাগ্য ক্রমে আন্ডারগ্রাউন্ড এ এসে থামে লিফট।লিফটের ভিতরে কোনায় ছোট্ট আলোয় বেশামাল সাদিকে দেখে যাচ্ছে।যে বার বার পিহুর দিকে ঝুকে যাচ্ছে।আন্ডারগ্রাউন্ড এও নীল রঙা একটা আলো জলছে আবছা।হাত্তা শহর পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় বৃষ্টি হলে কারেন্ট যায়।সেজন্য আজ ও গেছে।তবে পিহুরা এমন অবস্থার সম্মুক্ষিন প্রথম।
পিহু হাত বাড়িয়ে লিফটের ক্লপচির গেট টা খুলতে গেলেয় সাদি পিহুর হাত আটকে দেয়।লিফটের ভেতরের ছোট্ট সাদা আবছা আলোয় পিহু সাদির নেশালো চোখ দেখে আতকে উঠে।আবারো হাত বাড়ায় গেট টা খুলার জন্য। তবে পারে না।সাদি পিহুর দু হাত পিঠমুড়া দিয়ে এক হাত দিয়ে চেপে ধরে পিহুর ঠোঁটে ঠোঁট ডুবাই।
পিহু চোখ বন্ধ করে নেয়।ছূটাছুটি করতে থাকে তবে সাদি তাকে চেপে রেখেছে।বেশ কিছুক্ষন পর সাদি পিহুর মুখ ছাড়তেই পিহুর গা গুলিয়ে উঠে সাদির মুখের ভিতরের মদের বি*শ্রি গন্ধে।পিহু সাদিকে সরাতে চাই। তবে সাদি হাসে। গেট এর সামনে আড়াল হয়ে দাঁড়ায় যাতে পিহু গেট না খুলতে পারে।তার পর সাদি খুব দ্রুত নিজের গা থেকে শার্ট খুলে লিফটের নরম কার্পেটের মেঝেতে ছুড়ে মারে।
সাথে সাথে উন্মুক্ত হয় সাদি পেশিবহুল বডি।পিহু শুকনো ঢোক গিলে।সাদি পিহুর দিকে এগিয়ে গিয়ে পিহু কিছু বুজার উঠার আগেই দু হাত দিয়ে পিহুর মুখ আজলে নিয়ে ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দেয়।প্রায় মিনিট দশেক পর ছেড়ে দেয়।পিহু হাপাতে থাকে।সাদি আবারো হাসে।সাদির পিহুর দিকে মুখ এগিয়ে নিয়ে কানের কাছে গিয়ে ফিশফিশ করে বলে উঠে….
-“সরি জান। আমি আমার কথা রাখতে পারি নি।বড্ড বেশামাল আজ আমি।একটু শান্তি চাই আজ।প্লিজ বাধা দিস না।খুব বেশি কষ্ট দিবো না জান।মাফ করে দিস আমায়।আমি কন্ট্রোল করতে পারছি না।এই বেশামাল আমিটাকে তোর আগুনে পুড়তে দে আজ।তোর প্রতি নিষিদ্ধ চাহনা গুলো আজ পরিপূর্ণ হোক।
সাদির কথা গুলো পিহুর শরীরের শিহরন উঠিয়ে দেয়।শিরদাড়া বেয়ে শীতল স্রোত বয়ে যায়।পিহু কিছু বলার আগেই ঝাপিয়ে পড়ে এবার সাদি।নিজের নিষিদ্ধ চাহনা গুলো পরিপূর্ণ করতে নিস্তব্ধ বৃষ্টি ভেজা রাতে একাকার হয়ে যায়।লিফটের মাঝেই নিজের দুজন মানব মানবী এক অন্য জগতের হারিয়ে গেছে।সাদি নিজের রাজত্ব স্থাপ্নে এক ফোটা কঞ্জুসপনা করেনি।নিশুতি বৃষ্টিভেজা রাতকে শাক্ষি রেখে মিলিত হলো দুটি দেহ।মাঝরাতে সাদির দেওয়া ভালোবাসা নামন যন্ত্রনায় জ্ঞান হারায় অষ্টাদশী পিহু।
চলবে…….
-(ইশ লুমান্টিক বাসর দিয়ে দিছি গাইজ।লিফটের ভিতরে ইউনিক ভাবে আমাদের সাদু বেবি উহু উহু।সবাই বেশি বেশি রেসপন্স করবেন।২ হাজার রিয়েক্ট হলেই পরের পর্ব দিবো।আজকের পর্ব কেমন লেগেছে বলে জাবেন আশা করি ভালো লাগবে)-
Share On:
TAGS: নিষিদ্ধ চাহনা, সারা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৮ (ক)
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৪২
-
চার বছরের চুক্তির মা গল্পের লিংক
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৮
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১৫
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২১
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৪
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৭
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৩
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১৪(ক+খ)