Golpo romantic golpo নিষিদ্ধ চাহনা

নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৪৪


নিষিদ্ধ_চাহনা

পর্ব_৪৪

লেখিকাসারাচৌধুরী

🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫

সন্ধ্যা হতেই সাদি গুছিয়ে নেয়।ব্লাক সিল্ক ফুল হাতা শার্ট এর হাতা গুটিয়ে কনুই পর্যন্ত নেওয়া।সাথে ব্লাক জিন্সের প্যান্ট। ব্লাক সু।চোখে আজ সাদা চিকন ফ্রেমের সানগ্লাস।চুল গুলো জেল দিয়ে সেট করা।পিহু বিছানায় বসে তাকিয়ে দেখছে শুধু সাদিকে।আর কয়েক মিনিট পর পর দীর্ঘশ্বাস ফেলছে।

আজ সাদিকে একটু বেশিই সুন্দর লাগছে।ফর্সা সাদির গায়ের সাথে কালো রঙ টা বেশ মানাই।পিহু একবার ক্রাশ খেয়েছে অলরেডি।মনে মনে বিড়বিড় করে মাশাআল্লাহ বলতেও ভুল করে না পিহু।চোখে মুখে এক ধরনের স্নিগ্ধতা বিরাজমান।

সাদি একেবারে রেডি হয়ে ওয়াল মিরর থেকে চোখ ফিরিয়ে বিছানার দিকে তাকাতেই চোখ আটকে যায় তার প্রেয়সীর দিকে।কেমন ভাবুক দৃষ্টিতে তাকেই দেখছে।সাদি পিহুর দিকে এগিয়ে গিয়ে আঙুল দিয়ে তুড়ি বাজাতেই চমকে উঠে পিহু। সাদি পিহুর দিকে তাকিয়ে বলে উঠে….

-“এমন হয়ে কি দেখছিলে পিহুরানী…?

-“আপনি কোনো কাজে যাচ্ছেন নাকি মডেলিং করতে যাচ্ছেন মিঃ…?

সাদি ভ্রু উচায় পিহুর কথায় তারপর বলে উঠে…

-“হুম মডেলিং করতে যাচ্ছি কেনো বলোতো আমার পিহুরানীর হটাৎ কি হলো..?

-“না পার্টিতে তো অনেক মেয়ে থাকবে সবাই তো আপনাকে চোখ দিয়ে গিলে খাবে।নজর লেগে যাবে সকলের।

সাদি এতক্ষনে বুজতে পারে আসল কাহিনী। তারপর স্মীত হাসে।আগের সেই লজ্জাবতী পিহু আর নেই।এখন লজ্জা সংকোচ ছাড়াই সাদির সাথে সব কিছু শেয়ার করে পিহু।সাদি একটু কেশে গলা ঝাড়া দিয়ে বলে উঠে…

-“তো আমার পিহুরানী কি আজ জেলাসি হচ্ছে নাকি..?

-“শুধু জেলাসি না আপনাকে যারা দেখবে তাদের কে মার্ডার করতে ইচ্ছা হচ্ছে।

সাদি আবারো হাসে।মেয়েটা তাকে খুব ভালোবাসে এখন।সাদির সব চাওয়া পরিপূর্ণ তবে সাদি তার কথা এখোনো রেখেছে।পিহুকে এখোনো স্পর্শ করেনি অন্য ভাবে।পিহুর সাথে বন্ধুত্বের এক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।পিহু উঠে দাঁড়ায়।এগিয়ে যায় সাদির দিকে৷ চোখের কোনের এক ফোটা পানি নিয়ে সাদির ঘাড়ের কাছে চুলে লাগিয়ে দিতে দিতে বলে….

-“কারোর নজর না লাগুক।তাই নজর টিকা দিলাম।

সাদি এভবার পিহুর কোমর জড়িয়ে ধরে নিজের খুব কাছে নিয়ে আসে।তারপর স্মীত হেসে ঠোঁটে হাসি রেখেই বলে….

-“পুরো দুনিয়ার সমস্ত নারী আমার সামনে এনে দিলেও আমি আমার পিহুরানীতে আসক্ত।বিশ্বাস করতে পারিস জান এই সাদি শুধু তোর প্রতি নিষিদ্ধ চাহনায় আসক্ত।

সাদি টুপ করে একটা চুমু খাই পিহুর কপালে।পিহু কেপে উঠে। সাদি পিহুর ঠোঁটের দিকে নিজের ঠোঁট এগিয়ে নিতেই সাফির ফোন বেহে উঠে সাথে পিহু ছিটকে দরে যায় সাদির থেকে।এদিকে সাদি বেশ বিরক্ত হয়।কপাল কুচকে যায় ওর।ফোন হাতে নিয়ে কিছু বলতে যাবে তখন নজর যায় তার ইনফরমার এর ফোন। ব্লুতুথ এ কানেক্ট করে যেতে যেতে পিহুর উদ্দেশ্যে বলে….

-“বাই জান।এসে শুধে আসলে নিবো রেডি থাকিস।

কথাটি বলেই তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে যায় সাদি।এদিকে পিহুর মাখে কোনো ভাবাবেগ দেখা গেলো না।প্রায়শই সাদি বের হওয়ার আগে বলে এমন।তবে আগের সাদির সাথে এখনকার সাদির কোনো মিল নেই।ভালোবাসা বেড়েছে অনেক খানি।আগে হুঠাট রেগে যাওয়া সাদি এখন পিহুর প্রচন্ড রাগগেও শান্ত মাথায় ঠান্ডা করে দেয়।পিহুর হুঠাট জেদ গুলোও পুরোন করে।

পিহুর এখন সাদির জন্য মায়া হয়।সাদি তাকে প্রমিচ করেছিলো সে না চাওয়া পর্যন্ত তার সাথে সাভাবিক স্বামী স্ত্রীর সম্পর্কে আসবে না।তবে পুরুষের তো চাহিদা আছে।কতদিন অপেক্ষা করবে সাদি।পিহু কি জন্য সাদিকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।পিহুর তো কোনো পিছুটান নেই।এক সময় নাবিল কে ভালোবাসতো তবে সেদিন এর পর থেকে নাবিল কে আর মনে পড়ে না পিহুর।

তাহলে কিসের জন্য সাদিকে দূরে সরিয়ে রেখেছে।মানুষটাকে দূরে রেখেও এতো টা আগলে রেখেছে তাকে।তাহলে নিজের পরিপূর্ণ অধিকার টুকু দিলে তাকে কতখানি ভালোবাসবে।না পিহু চেষ্টা করবে সব ঠিক করার।একটা সাবাবিক জীবনে ফেরার।আর দু-পাচ টা হাসবেন্ড ওয়াইফ এর মতো হওয়ার।

এই সংকোচ এর জন্য ইচ্ছা হওয়া সত্তেও পিহু সাদিকে জড়িয়ে ধরতে পারে না হুটহাট।হয়তো সাদিও এমন।তবে এমন আর হতে দেবে না পিহু।ধীরে ধীরে সব ঠিক করে নিবে এবার।


রেস্টুরেন্টে এসে বসে আছে প্রায় তিনঘন্টা কেটে গেলো সাদির।তবে কারোর দেখা পেলো না। একটু আগেই খবর পেয়েছে তারা আজ না দুদিন পর আসবে।তাও পাশের শহর আল মাদাম এ।সেখানেই এক গোডাউনে তাদের মিটিং আছে গোপন সুত্রে যেনেছে সাদি।আর কাল সব থেকে বড় মক্ষম সুজোগ সাদির।

এতোক্ষন এসব চিন্তা করতে করতে কয়েক গ্লাস ড্রিংক করে নেই সাদি।আগে খাওয়া অভ্যাস থাকায় ভেবেছিলো নেশা ধরবে না।তবে এতোদিন এসব থেকে পিহুর জন্য দূরে থাকার কারনে আবার হটাৎ কড়া ডোজ খাওয়ায় বেশ ভালোভাবে নেশা ধরে যায় সাদির।

সাদি কোনোমতে বেরিয়ে আসে রাস্তায়।তারপর টলতে টলতে আসতে থাকে বাড়ির দিকে।চোখ এ ঝাপসা দেখছে।মাথার ভিতর চক্কর দিচ্ছে তার।আবার হুট করে ঠিক হয়ে যাচ্ছে।কয়েকবার ফোন দেওয়ার পরেও না ধরার কারনে চিন্তা শুরু হয় সাদির জন্য পিহুর।তাও কয়েকবার ফোন দেয়।নো রেস্পন্স।এদিকে সাদি রাস্তার পাশে পাবলিক বেঞ্চে বসে হাসছে খালি।নেশা ধরেছে তার ভালোই।

বেশ খানিক্ষন পর ঝড়ো হাওয়া শুরু হয় বাইরে।তারাময় আকাশ হটাৎ কালো মেঘে ঢেকে যায়।পিহুর এবার আরো বেশি চিন্তা হয়।কোনো বিপদ হলো না তো মানুষটার।পিহু আর দেরি না করে বেরিয়ে যায়।সাদিকে খোজার উদ্দেশ্যে। পিহুর পরনে টপ্স আর প্লাজু।গলায় উড়না পেচানো।চুল গুলো পেনিটেইল করে বাধা।

পিহু ফোন দিতে সিড়ি বেয়ে নামে। তিনতলা শিড়ি বেয়ে নিচে নামতে এক মিনিট ও লাগে না পিহুর।চোখে ভয়।সাদির জন্য খুব চিন্তা হচ্ছে তার।উদ্দেশ্যে কাঙ্খিত হোটেল।হেটেই চলে যাওয়া যায়।পিহু গাড়ির আশা করলো না।হেটেই চললো সেদিকে।কিছুদুর আসতেই হটাৎ পিহুর সামনে এসে দাড়ালো কয়েকজন অচেনা মানুষ।

পিহু চারিদিকে তাকিয়ে দেখলো রাস্তা বেশ শুনশান।সে ইচ্ছা করেই মেন রোড না ধরে সাইট এর নিচু রাস্তা ধরেছিলো।দূর থেকে শুধু ওই বিল্ডিং টা দেখা যাচ্ছে তাছাড়া এদিকে কেও নেই।পিহু লোক গুলোর পাধ কাটিয়ে যেতে নিতেই একজন ছেলে আবারো পিহুর রাস্তা আটকে দাঁড়ায়।পিহু তাকিয়ে বুজতে পারে ছেলে গুলো এদেশের নয় কিছুটা তাদের মতোই দেখতে হয়তো বাংলাদেশি কিংবা ভারতীয় তবে বখাটে সেটা তাদের হাব ভাব বলে দিচ্ছে।

পিহুকে এখন এমন নির্জন রাস্তায় হাটতে দেখে ছেলেগুলো পার্ক থেকে মদ এর নেশা বাদ দিয়ে পিহুকে ইভটিজিং করতে এসেছে।পিহুর সামনে থাকা ছেলেটি পিহুর দিকে তাকিয়ে শিষ বাজিয়ে বলে উঠলো…

-“উফফ কিউটি।আম ইম্প্রেচড ফর ইউ।

পিহু তবুও কিছু বললো না।তার মাথায় এখোনো সাদির জন্য চিন্তা।কল ধরছে না কেন লোকটা।পিহু ধীর কন্ঠে খাদে নামিয়ে বলে উঠলো….

-“রাস্তা ছাড়ুন যেতে দিন।

-“ওলে লে লে সুন্দরী দেখছে বাংলা জানে।তো সুন্দরী আগে চলো আমাদের খু*শি করো তারপর যেতে দিবো। -(দলের একজন বিশ্রি হাসি দিকে কথাটি বলে উঠে)-

-“দেখুন যেতে দিন।রাস্তা ছাড়ুন নয়তো ভালো হবে না কিন্তু।আমি একটু ব্যাস্ত এম্নিতেই।

-“ওরে বাব্বাহ ব্যাস্ত নাকি বেব চলো আমরাও বিজি কাজ করি।আর কি ভালো হবে না তোর সাথে আজ খারাপ হবে।

কথাটি বলেই পিহুর দিকে হাত বাড়াতে যায় লোকটি।লোকটির হাত পিহুর গলার কাছে আসতেই আপন ইচ্ছায় থেমে যায় লোকটির হাত। চোখ গুলো বড় বড় বড় হয়ে যায়।পাশে থাকা লোক দুটো এখোনো কিছু বুজে উঠতে পারেনি।

পিহু লোক্টির বুক থেকে ছুরি তুলেই পাসজে দাড়িতে থাকা আরেকজনের বুকে পুরে দিয়ে সাম্নের জনের মেন পয়েন্টে লায়হি মারে নিজের পায়ের বুট দারা।সাথে সাথে নেশাগ্রস্ত ছেলেটা প্রচন্ড অন্ডকোষ এর ব্যাথায় লুটিয়ে পড়ে মাটিতে।

কিছুক্ষনের মাঝেই তিনটে লাশ পড়ে মাটিতে।খুব আনন্দে ছুরি দিয়ে কুপিয়েছে পিহু লাশগুলোকে।সবার ই ঘাড়ের র*গ টেনে ছিড়ে দিয়েছে।তারপর পকেট থেকে টিস্যু বের করে ছুরিটা জ্যাকেট এর পকেটে নিয়ে নেয়।এই ছুরিটা সাদি তাকে দিয়েছিলো।আর আজ সটিক সময়ে বের করেই লোক্টির বুকের হৃতপিন্ড সোজা ঢুকিয়ে দিয়েছে।

চলবে……

-(পিহুর এই রুপ টা দেখে কেও আশ্চর্য হয়ো না।এর পর আরো দেখবে।২k রিয়েক্ট হলে পরের পর্ব দিবো। আজকের পর্ব কেমন লেগেছে আশা করি ভালো লাগবে কেও বাজে মন্তব্য করবেন না)-.

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply