Golpo romantic golpo নিষিদ্ধ চাহনা

নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৪৩


নিষিদ্ধ_চাহনা

পর্ব_৪৩

লেখিকাসারাচৌধুরী

🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫

হাতের ঘড়ির দিকে একবার দেখছে তো এয়ারপোর্টের এক্সিট ডোর এর দিকে একবার তাকাচ্ছে পিহু।বিরক্তিতে ভ্রু কুচকে গেছে তার।তবে কালো সানগ্লাস চোখে থাকায় তা বোঝা যাচ্ছে না।ঠোঁট জুড়ে টকটকে গোলাপি রঙের লিপস্টিক।লম্বা চুল গুলো কিছুটা ছোট করেছে।পেনিটেইল করে সুন্দর করে বেধে রাখা।পরনে জিন্সের লেগিন্স আর গোলাপির উপরে সাদা ফুলের কাজ করা টপ্স ও তার উপর জিন্সের হাফ জ্যাকেট।

এয়ারপোর্টের এক্সিট ডোর থেকে বেরিয়ে এলো সুদর্সন লম্বা চওড়া সাদি।পরনে ব্লাক জিন্স এর প্যান্ট ও সাদা শার্ট। সানগ্লাস টা প্রতিবারের মতো শার্টের বোতামের ভাজে।হাতে দামি ব্রান্ডের ঘড়ি।চাপ দাড়ি গুলো সুন্দর করে কাটা।চুল গুলোও সেট করা।দূর থেকে সাদিকে এক পলক দেখে পিহু যেনো ক্রাশ খেলো।ড্যাশিং মারাত্মক একটা লুক কোনী নায়কের থেকে কম না।সাদির কোলের ভিতরে জড়িয়ে রাখা ছোট্ট »সিরেন«। ধবধবে সাদা পারশিয়ান মেয়ে বিড়ালটির নাম খুব আদর করে রেখেছিলো সিরেন।হুট করেই নাম টা মাথায় আসে।তবে নামটা ওর খুব পছন্দ। বিদেশের মাটিতে আসার পর প্রথম বিদেশি বান্ধুবীর নাম ছিলো সিরেন।আর তার বিড়াল ও সিরেন।

সাদি শান্ত শিষ্ঠ ভাবে এগিয়ে আসে পিহুর দিকে।পিহুর কাছে আসতেই সিরেন চিনে ফেলে তার মালিককে।সাথে সাথে কোলে যাপ্যার জন্য লাফিয়ে উঠে।সাদি পিহুর দিকে এগিয়ে দিতেই পিহু খুব আদরে জড়িয়ে নেয় সিরেন কে নিজের বুকের সাথে।সিরেন ও চুপটি করে থাকে পিহুর বুকের সাথে লেগে।

পিহু সাদির সাথে হাটা শুরু করে। এয়ারপোর্ট এর পার্কিং এ গাড়ি আছে তাদের।কিছুদিন এর জন্য নিয়েছে আরকি।তারা যে বাড়িতে উঠেছে সেই বাড়ির দম্পত্তির গাড়ি।হাটতে হাটতে গিয়ে বসে নির্দিষ্ট গাড়িতে।সাদি গাড়ি স্টার্ট দেয়।পিহু সাদির পাশে৷ গিয়ে বসে।সিরেন গুটি শুটি মেরে বসে পিহুর কোলে।

আজ প্রায় এগারো দিন পর সিরেন এর সাথে পিহুর দেখা।তারা ঠিক সময়ে দুবাইতে আসতে পারলেও সিরেন কে নিয়ে আসতে পারি নি।পাচ মাস বয়সী নীলাভ চোখের সিরেন কে সাদি টরেন্টো শহর থেকে আসার সময় বৃষ্টির মাঝে ভেজা অবস্থায় পেয়েছিলো।খুব ছোট্ট একটা বাচ্চাকে।সেদিন মায়া করে বাড়িতে নিয়ে আসে।আর তারপর থেকেই পিহু নিজের সন্তানের মতো বড় করতে থাকে সিরেন কে।সিরেন ও পিহুর খুব আল্লাহদী।পিহু যদি একটু বকে তাও বেচারীর মন খারাপ হয়ে যায়।

গাড়ি চলছে দুবাই এর রাস্তা ধরে।দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে এসেছে তাদের গাড়ি আরো বিশ মিনিট আগে।আজ দুজনের মুখটাই বেশ হাসিখুশি।অন্য দিনের তুলনায়।তাদের গন্তব্য একটা সুন্দর এলাকা হাত্তা।সেখানেই এক বয়স্ক দম্পতির বাড়িতে উঠেছে তারা।পিহু সিরেন এর দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো তারপর কল্পনায় ডুব দিলো…

ফ্লাসব্যাক….

সাদি সেদিনের পর থেকে পিহুর এক কঠোর ট্রেনিং শুরু করে।যে পিহুর মধ্যে কোনো ইমোশন থাকবে না বাইরের থেকে।যে পিহু হবে শক্তপোক্ত।নিজের সমস্যার সমাধান নিজে করতে পারবে।যে পিহু নিজের সেফটি নিজে দিতে পারবে।

কেটে গেছে পুরো পাচ মাস।নিয়মিত সাদির কঠোর পরিশ্রম আর ট্রেনিং এ পিহু বদলেছে।শুধু বদলায়নি প্রচন্ড রকম চালাক ও হয়েছে।যে পিহু আগে খুব চটপটে ছিলো এখন সে চুপচাপ চোয়াল শক্ত।

সাদি সব কিছুর খবরা খবর নিয়েই গিয়েছে দুবাইতে।হুম খবর পেয়েছে ইশান এখন বসে বসে বিজনেস দেখে ফাইজ এর সশুর এর। ফাইজ এর শশুর এর একটা পাচ তলা রেসটুরেন্ট আছে পাশাপাশি ব্লাক মার্কেটের বিজনেস লোক চক্কুর আড়ালে। সাদি এটাও জেনেছে জেরিন ও তার বাবা মায়ের খুনি জাহিন ও তাদের সাথেই আছে।সাথে একটা মেয়ে।মেয়েটার আসল নাম কিরিনা..আর তবে ছদ্মনাম সাফা।সাদিরা চলে আসার পর শুনেছে জেরিনের বাবা মায়েএ লাশ পাপ্যা গেছে।নাবিল দের বাড়িতে ভয়াবহ আগুন।

তবে সাদি বুজতে পেরেছে সব কিছু পরিকল্পিত ভাবে করা ঘটনা।রাস্তায় সামান্য ভিড় ও ধীরে চালানোর জন্য প্রায় দু ঘন্টার মাথায় এসে পৌছায় তাদের নির্দিষ্ট তিনতলা বাড়িটির সামনে।এখানের পরিবেশ টা বেশ ঠান্ডা।তিন তলা বাড়িতে শুধু মাত্র বয়স্ক দম্পতির ছাড়া কেও থাকে না।বাড়িটির থেকে কিছুদূর চোখ যেতেই ফাইজ দের সেই রেসটুরেন্ট।

সাদির এই দম্পতির বাড়িতে থাকার মুল কারন এটাই।খুব কষ্ট করে রাজি করিয়েছে এই দম্পতিকে দুইতলায় ভাড়ার জন্য। দম্পতি আলী ও হুসনা।ষাটোর্ধ্ব বয়স। চোখেও কম দেখে। ছেলেরা মেয়েরা শহরের বাইরে থাকে।প্রতিদিন সক্সলে একজন কেয়ের টেকার এসে তাদের সব গুছিয়ে দিয়ে যায়।

গাড়ি পার্কিং করে পিহু সিরেন ও সাদি চলে আসে লিফট দিয়ে দোতলায়। দোতলার বড় বেড রুমে গিয়ে বিছায় গা এলিয়ে দেয় পিহু।চশমা টা ছুড়ে ফেলে অদুরে।পাশে লেজ নাড়াচ্ছে শান্ত সিরেন।নীলাভো চোখ গুলো দিনের বেলায় ও জ্বল জ্বল করছে।সাদি ব্যালকোনিতে গিয়ে কারোর কাছে ফোন করে।ওপাশ থেকে ফোন রিসিভ করতেই সাফি বলে ওঠে….

-“কাজ কতদূর তোমার।

-“জ্বী স্যার সব ইনফরমেশন কালেক্ট করা হয়েছে। তার ৮০% ই আপনার ধারনার সাথে মিলেছে।ওরা ব্লাক মার্কেটে নারী পাচার এর সাথে জড়িত।

-“তুমি কোথাই এখন…?

-“জ্বি স্যার তিনশ এক এর সাত নাম্বার রুমে আছি স্যার। আমার পাশের রুম টা একটা মেয়ের।নাম কিরিনা।বাংলাদেশি আপনার ইনফরমেশন এর সাথে সটিক মিলেছে।

-“কতদিন ধরে আছে বলতে পারো…?

-“জ্বী স্যার হোটেল এর কম্পিউটার হ্যাক করে বুজলাম আপ্নার সন্ধানের সকল ব্যাক্তি ই এ হোটেল এ নিয়মিত থাকে।তবে মাঝে মাঝে দুজন দুজন করে ভাগ ভাগ হয়ে চার পাচ দিনের জন্য গায়েব হয়ে যায়।

-“কেনো…?

-“সেটা জানিনা স্যার খোজ লাগিয়েছি তবে প্রতি সপ্তাহে দুবার পার্টি এরেঞ্জ করে। আর এ পার্টিতে ওরা সকলেই থাকে আজ সন্ধাই সেই পার্টি আবারো অনুষ্ঠিত হবে।

-“ওকে গুড জব। তুমি যতটুকু পারো খোজ লাগাও।সব তো তুমি জানোই।সন্ধাই দেখা হচ্ছে।

-“ওকে ।থ্যাংক ইউ স্যার।

-“ওয়েলকাম।

সাদি কল কেটে দিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেল্লো।যা করার আজকেই করতে হবে।যার সাথে এতক্ষন কথা বললো সে সাদির একজন বিশ্বাসযোগ্য গুপ্তচর।এর দ্বারায় সাদি যব খবরা খবর পাচ্ছে।
সাদি জানে সে কই করতে যাচ্ছে।আর এটাও জানে এটা ছাড়া উপাই নেই।পাপিদের জেলে দিলেও তারা কিছুদিন পর বেরিয়ে আসবে তাই তাদের কে সরিয়ে দিতে হবে নয়তো কষ্টদায়ক নরক যন্ত্রনা ভোগ করাতে হবে সারাজীবন। তবে সাদি তো ওতো হৃদয়হীন না।তাই সহজ পদ্ধতি বেছে নিয়েছে।নিকৃষ্টতম মৃত্যু।

সাদি ঘরে এসে দেখে পিহু ছোট্ট সিরেন এর গায়ে হাত বোলাচ্ছে। সিরেন যতই বড় হোক সাদির কাছে সেই ছোট্ট টাই আছে। আসলেই সিরেন এর প্রতি সাদির ও অনেক বেশি মায়া।যদিও আগে বিড়াল কে বিছানায় নিতে পারতো না তবে তার প্রান প্রেয়সী বউ এর জন্য এখন অভ্যাস্ত।

সাদি পিহুর পাশে গিয়ে বিছানায় বসতেই পিহু সাদির মুখের দিকে তাকিয়ে নমনীয় কন্ঠে বলে…

-“কি বললো…?

সাদি সব প্রথম থেকে খুলে বলে পিহুকে।পিহু সব শুনে বিছানায় উঠে বসে তারপর বলে…

-“আমিও জাবো আপনার সাথে।আপনাকে আমি একা ছাড়বো না।

-“নাহ।তুমি এখানেই থাকবে।তোমার সেখানে যাওয়ার কোনো প্র‍য়োজন নেই।

-“আপনার যদি কোনো বিপদ আপদ হয়।

সাফি স্মীত হাসে তার পর নিজের দুহাত দিয়ে পিহুর মুখ খানা আজলায় নিয়ে বলে…

-“আমি জানি আমার কিচ্ছু হবে না।তবে আমি চাই তুমি চিন্তা করবা না।এখানেই থাকবে।

-“কিন্তু..?

-“কোনো কিন্তু নয়।বেশি কিন্তু করলে কিন্তু..?

সাদি দুষ্ট হাসি দেয় পিহুর দিকে তাকিয়ে।সাথে পিহু ছিটকে দূরে সরে গিয়ে বলে উঠে…

-“ছিহ অসভ্য লোক।

-“চলো আজ দেখাই অসভ্য কিভাবে হয়।অসভ্য হয়েই না হয় খেতাব টা নিবো।

কথাটি বলেই এক চোখ টিপ দিয়ে ঠোঁট কামড়ায় সাদি।সাদির এমন হাসিতে ভড়কে যায় পিহু।সাদি পিহুর হাতের দিকে হাত বাড়াতেই পিহু উঠে ছূট লাগায় ব্যালকোনির দিকে।সেদিকে তাকিয়ে সাদি হাসে।

চলবে……….

-(পর্বটা একটু অগোছালো।পারিবারিক ব্যাস্ততার কারনে গল্প দিতে পারছিলাম না।গল্পটা খুব তাড়াতাড়ি ইতি ঘটবে।২k হলে পরের পর্ব দিবো সবাই বেশি বেশি রিয়েক্ট দাও)-

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply