Golpo romantic golpo নিষিদ্ধ চাহনা

নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৪০


নিষিদ্ধ_চাহনা

পর্ব_৪০

লেখিকাসারাচৌধুরী

🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫

কাতর চোখে সামনে তাকিয়ে আছে জেরিন।সামনেই কানে ফোন নিয়ে কথা বলছে জাহিন।হাতে ধারালো খঞ্জর।চোখে মুখে এক রাশ বিরক্তি।ফোনের ওপাশে কে আছে জেরিন না বুজলেও এপাসজ থেকে জাহিনের বলা সব গুলো কথা কানে যাচ্ছে জেরিনের।জাহিন উচ্চস্বরে বলে উঠলো…

-“তোরা কি দিন দিন পাগল হয়ে যাচ্ছিস।ওই মেয়েরে তোরা বোকা ভেবেছিস।ও টাকার জন্য নিজের জীবন বাজি রাখতে পারে।

ওপাশ থেকে বেশ খানিক্ষন কিছু বললো তা জাহিন চুপ চাপ শুনলো।কোনো কথা বললো না।ওপাশ থেকে কথা শেষ হতেই এপাশ থেকে জাহিন বলে উঠলো…

-“কাজ হয়ে যাবে।ব্রিজ এর নিচে দিয়ে আসবো আর বাকি টা কার এক্সিডেন্ট।

বলেই কল কেটে দিলো জাহিন।চোখে মুখে হটাৎ কেমন জানি মায়া মায়া চলে এসেছে।চোখ গুলোও কেমন লাগছে দেখতে।জেরিনের চোখ এটে আসছে। সারা শরীর দিয়ে রক্ত পড়ছে।নগ্ন দেহটা গুটিসুটি মেরর সুয়ে আছে জেরিন।তাকিয়ে থাকতে পারছে না আর।ঠোঁট গুলো থেকে পোড়া গন্ধ আসছে।জাহিন খুব যত্ন করে ভয়ংকর ভাবে সিগারেট দিয়ে পুড়িয়েছে জেরিনের রক্তজবা ঠোঁট গুলো।

জাহিন হটাৎ হাতের খঞ্জর টা চেপে ধরে এগিয়ে এসে জেরিনের সামনে হাটু মুড়ে বসলো।চোখে মুখে অনুশুচনার ছাপ।চোখ গুলোও কেমন ছলছল করছে জাহিনের।জেরিন বেশ অবাক হলো।জাহিন হাত বাড়িয়ে দিতেই আরো গুটিয়ে গেলো জেরিন।চোখে মুখে এখন ভয়ংকার ভিতী।

জেরিন কে গুটিয়ে যেতে দেখে হটাৎ করে হু হা করে গলা ফাটিয়ে হেসে উঠলো জাহিন।তার হাসির শব্দে পুরো বদ্ধ ঘর টা মুখরিত হলো।জেরিন জেনো কেপে উঠলো এই হাসিতে।

জাহিন জেরিনের গাল চেপে ধরতেই ককিয়ে উঠলো জেরিন জাহিন ওর গাল ধরেই উঠে বসালো।দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে বসে আছে জেরিন।বসতে পারছে না তবুও বসে আছে।জাহিন সয়তানি হাসি দিয়ে বলে উঠলো…

-“তো মাই লাভ জেরি। তোমার লাস্ট উইশ টা বলে দাও।নইতো সারা জীবন আফসোস করবা।

তবে জেরিন কোনো কথা বললো না। হাটু জোড়ো করে বসে রইলো।জাহিন আরো বেশি করে জেরিনের গাল চেপে ধরলাও।এবার জেরিন কেদে ফেললো। তবে এই কান্নায় জাহিনের মন গললো না।তাও আবার বলে উঠলো…

-“শেষ বার বলছি.. এটা আমাদের নিয়ম।শেষ ইচ্ছা শোনা।তুই চাইলে বলতেই পারিস আমি পুরন করবো প্রমিচ মাই লাভ জেরি।

জেরিন এবার পুরোপুরি চোখ ফেললো জাহিনের দিকে।কেমন যানি বুকের ভেতর কাপতে লাগলো।সাথে রাগ ও হলো জেরিনের।জেরিন কিছু বলবে ভাবতেই জাহিন গাল ছেড়ে দিলো।হাতে থাকা ধারালো খঞ্জর টার দিকে তাকিয়ে স্মিত হাসলো।

তাদের গ্রুপের রুলস অনুযায়ী তারা কোনো দোষী কে মারলে। তার পুরো পরিবার কে মারে।আর সবার কাছ থেকেই শেষ ইচ্ছা টা শুনেই তাকে শান্তিতে ঘুম পাড়িয়ে দেয়।জেরিন কে মারতে জাহিনের বুক কাপছে।খুব ভালোবেসেছিলো মেয়েটাকে।তবে।তবে আর কি।যে জন্য ভালোবেসেছিলো সেই চাহিদা পুরন শেষ এখন মেরে ফেলতে আর হাত কাপবে না।

জেরিন রাগে থু ফেললো জাহিনের দিকে তাকিয়ে।তবে পোড়া ঠোঁট অসহ্য যন্ত্রণা করে উঠলো।জাহিন জেরিনের দিকে খঞ্জর টা তাক করে তীক্ষ্ণ চোখে তাকাতেই জেরিন হাসলো।এ হাসি নিজের বোকামির জন্য। জাহিনের মতো পাপিকে ভালোবাসার জন্য। তারপর কাপা কাপা কন্ঠে বলে উঠলো….

-“আমার কোনো শেষ চাওয়া নেই তবে…!

-“তবে আবার কি..?-(জাহিন ভ্রু কুচকে তাকায় জেরিনের দিকে)-

জেরিন খুব কষ্ট করে নিঃশ্বাস নিলো।হয়তো আজ জাহিনের হাতে তার মৃত্যু হবে তবে বেচে থেকে এই মৃত্যু যন্তনা ভোগ করার চেয়ে সেটাই শ্রেয়।জেরিন কে চুপ থাকতে দেখে জাহিন বলে উঠলো…

-“কি হলো বল হাতে টাইম নেই। তোকে আমার শেষ ভালোবাসা টুকু দিতে হবে…!

জাহিনের কথায় জেরিন কাতর কন্ঠে বলে উঠে…

-“তুমি বলেছিলে..তুমি আমার জন্য মরতে পারো.. তুমি যে আমাকে মারতে পারো..তা কখোনো বলোনি কেন.?

-“মানে..?

-“তুমি……

আর কথা আসে না গলগলিয়ে মুখ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসে জেরিনের।চোখ গুলো উল্টে গেছে ইতিমধ্যে। তবে ঘৃনা ভরা অসহায় দৃষ্টি এখোনো সেই গভীর কাগল কালো চোখে।জাহিনের হাতের খঞ্জর টা জেরিনের পেটের একটু উপরে বাম পাজড়ের হাড়ের ভিতর পুরে দিয়েছে জাহিন।লম্বা খঞ্জর টা পিঠ ভেজ করে কিছু অংশ বেতিয়ে গেছে।

জেরিনের ক্ষত স্থান থেকে কিছুটা রক্ত এসে পড়ে জাহিনের মুখের সামনে।জাহিন হাসে।বড্ড তৃপ্ত সে।মানুষের শেষ ইচ্ছা বলার মাঝ পতেই সবাইকে উপরে পাঠাতে তার বেশ ভালোই লাগে।ঠোঁটের পাশে তাজা রক্তের ঘ্রান পেতেই জিভ দিয়ে চে*টে গিলে নিলো জাহিন।তারপর উঠে দাড়ালো সাথে জেরিনের দেহটা মাটিতে লুটিয়ে পড়লো।আর কোনো রেসপন্স নেই মেয়েটার।হৃদস্পন্দন থেমে গেছে।

জাহিন কারো কাছে ফোন দিয়ে বললো…

-“আমার কাজ শেষ। বাকি কাজটা তোমরা করো।আমি আমার ঘরে যাচ্ছি।

তারপর জাহিন ফোন টা কেটে প্পড়ে থাকা জেরিন এর দিকে একপলক তাকিয়ে থেকে দীর্ঘশ্বাস ফেলে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো দরজা খুলে।


দুপুরের খাওয়ার পর থেকেই পিহু আরো বেশি অসুস্থ হয়ে গেছে।ছটফট করছে মেয়েটা।বার কয়েক বমি করেছে।হুট করে কেও দেখলে বলবে হয়তো শু খবর আছে।তবে সাদি এখন চিন্তায় মগ্ন।গাড়িতে বসে আছে সে।পাশের সিটে জানালার সাথে হেলান দিয়ে বসে আছে পিহু।চোখ মুখ নিশ্চল।

পিহুর বুকের ভিতর এক অসহ্য যন্ত্রনা কুড়ে খাচ্ছে।ক্ষনে ক্ষনে বুকটা খালি হয়ে ফাকা হয়ে যাচ্ছে।মাঝে মাঝে মাথার ভিতর ঘুরে আসছে।পিহু অসুস্থ করুন চোখে তাকালো চ্চিন্তিত সাদির দিকে। এক ধ্যানে ড্রাইভ করছে।হাতের শিরা গুলো এখন কেমন বোজা যাচ্ছে।পিহু কাপা কাপা কন্ঠে সাদির উদ্দেশ্য বলে উঠলো…

-“সাদু…

কথাটা কর্নহ্বরে যেতেই গাড়ির স্পীড স্লো করে পিহুর দিকে তাকিয়ে সাদি উৎকন্ঠা হয়ে বললো…

-“বেশি খারাপ লাগছে জান।আর একটু।সামনের হসপিটালেই নিয়ে যাবো।একটু সহ্য কর জান।

-“আমার খুব কষ্ট হচ্ছে সাদি।আমার দোম বন্ধ হয়ে আসছে।কেমন যেনো হচ্ছে আমার।আমি আর পারছি না।

বলতে বলতে আবারো গা এলিয়ে দিলো গাড়ির সিটে।এদিকে সাদি যেনো পারছে না উড়ে হলেও তাড়াতাড়ি নিয়ে যেতে।মনে মনে নিজেকে দোষারোপ করলো।কেন সে সকালে নিয়ে একো না।তাহলে তো মেয়েটার আর এতো কষ্ট ভোগ করা লাগতো না।

কিছু দূর যেতেই জ্যাম পড়লো বড় আকারে।সাদি গাড়ির জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখলোবেশ লম্বা লাইন।ছোট্ট নদী পার হলেই ওপারে পর পর কয়েকটা হসপিটাল।সাদির চেনা শুনো অনেক ডাক্তার আছে।এখন মুলত মেডিসিন ডাক্তার এর কাছে নিবে সাদি।সাদি বেশ বিরক্ত এ জ্যাম নিয়ে।

তাও জ্যাম খুব ধিরে ধিরে ছাড়তে লাগলো।সাদি বুজতে পারলো জ্যাম লেগেছে ব্রিজের নিচের রাস্তায়।আর সেটার সুত্র ধরেই উপরে এতো গাড়ি দাড় করানো।জ্যাম ঠেলে ঠেলে একটু এগোতেই পিহু আবারো চোখ খুললো।তারপর সাদির দিকে তাকিয়ে বললো….

-“আমার খুব খারাপ লাগছে সাদু।গাড়ি ড়া একটু দাড় করান।হসপিটাল পরে যাবো অসস্তি লাগছে খুব।।

সাদি একটু জ্যাম ঠেলে রাস্তার ধারে গাড়ি দাড় করিয়ে নেমে এলো।তারপর পিহুকেও নামিয়ে পানির বোতল টা হাতে ধরিয়ে দিলো।গাড়ি লক করে সামনে চায়ের দোকানের বেঞ্চে বসতেই।সাদির কানে এলো দোকানের ভেতরের কারোর কথা। একজন লোক আরেকজন কে বলছে….

-“ভাই কিভাবে মেরেছে।আমার নিজেরি গা শিউরে উঠছে।ওদের কি গা কাপেনি।একটা মেয়েকে মারতে।দেখ ব্রিজের নিচে পড়ে আছে।

সাদি কি মনে করে উঠে দাড়ালো।তার মনে এখোনো খারাপ কিছুর আভাস আসে নি।তবে পিহু বেশি ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে। ব্রিজের কাছে এসে সাদি আর পিহু ভিড় ঠেলে ঢুকতেই চোখে পড়লো স্ট্রেচারে সাদা কাপড় দিয়ে গলা পর্যন্ত একজন নারীর দেহ।

পিহু এতক্ষন খেয়াল করে নি।এবার বেশি অসুস্থ লাগছে তার। তাই সাদিকে বলতে যাবে ভাবতেই চোখ গেলো লাশের দিকে আর সাথেই গগন ফাটিয়ে জোরালো চিৎকার দিয়ে বলে উঠলো…..

-“জেরিন……..

চলবে……

-(এই জেরিন চরিত্র টা খুব পজিটিভ আর সবার পছন্দ ছিলো।আজ তার এই অবস্থার জন্য কেও বাজে মন্তব্য করবেন না।গল্পের থিম অনুযায়ী আমি সাজিয়েছি আর সেভাবেই এগোচ্ছে।পিহুর জন্য জেরিনের এর এই চলে যাওয়ার আঘাত টা কত টা মারাত্মক হতে পারে বুজতে পারবে।টুইস্ট রাখলাম।আবারো বলছি কেও বাজে মন্তব্য করবেন না।বেশি বেশি রেসপন্স করবেন তাহলে প্রতিদিন গল্প দিবো)-

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply