Golpo romantic golpo নিষিদ্ধ চাহনা

নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৩৮


নিষিদ্ধ_চাহনা

পর্ব_৩৮

লেখিকাসারাচৌধুরী

🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫

পিহু অপলক ভাবে তাকিয়ে আছে সাদির মুখের দিকে।কেমন ঘোর লেগে যাচ্ছে।ফর্সা মানুষের গাল ভর্তি চাপ দাড়ি বেশ বড় হয়েছে।কাটে না সাদি।উশকো খুশকো এলোমেলো চুল। এতেও বেশ মানাই সাদিকে।জরের তাপ এখোনো গা ত্থেকে পুরোপুরি নামে নি।এখোনো উত্তাপ শরীর।পিহুর চোখ গুলো জালা করছে।সারব্রাত সেও ঘুমাই নি।শরীরের ভিতরে অদ্ভুত অঞ্জালা হয়েছে তার।মাঝে মাঝে দোম বন্ধ হয়ে এসেছে প্রায়।তবে পিহু চোখ খুলেনি।প্রচন্ড জরের ঘোরে যখন কাতরাচ্ছিলো তখন সাদির উদ্মাদনা অনুভব করেছে।বার বার কপালে জল পটি দিয়ে দিয়েছে।

ঠান্ডা হাতে জর এর তাপমাত্রা বুজতে সমস্যা হবে বলে মুখের সাথে মুখ লাগিয়ে দেখেছে।সুস্থ থাকলে হয়তো পিহু কখোনোই এমন একটা মুহুর্ত পেতো না।অসুস্থ বলেই হয়তো সাদির ভালোবাসা বুজতে পেরেছে।থার্মোমিটার দিয়ে কত বার মেপেছে।নিজের সাথে জড়িয়ে নিয়েছে।তবে পিহুর কাল রাতে আর কিচ্ছু বলতে ইচ্ছা হয় নি।আসলেই মানুষ টা বড্ড রাগী।তবে কাল রাতের সাদি ছিলো বড্ড অসহায়।

কাল পিহু আলতো চোখে মোমবাতির হলদেটে আলোয় সাদির চোখে পানি দেখেছে শুধু তার শরীরে অতিরিক্ত জর এর কারনে।পিহুকে এভাবে থাকতে দেখে সাদি পিহুর কপালে হাত দিয়ে জর চেক করলো তারপর শান্ত কন্ঠে বললো…

-“কিছু খাবে বানিয়ে দিবো।ওষুধ খেতে হবে।বাইরের বৃষ্টি থামলেই ডাক্তার এর কাছে নিয়ে যাবো।

পিহু মনে মনে হাসলো।এক রায়ের অসুস্থতার কারনে এই মানুষটার উপর থাকা ভুল ধারনা টা তার ভেঙেছে।তবে এত সহজে পিহু নিজের মন সপে দিবে দিবে না সাদির কাছে। একটু দূর থেকেই না হয় ভালোবাসা অনুভব করবে।পিহুকে চুপ থাকতে দেখে সাদি আবারো বলে উঠলো….

-“কারেন্ট নেই নয়তো বাইরে থেকে আনাতাম।দুটো ফোনের ই চার্জ শেষ। পাওয়ার ব্যাংক এ বসিয়েছি।তবে মনে হয়না এই ঝড় বৃষ্টির মধ্য অর্ডার নিবে ওরা।আর এখন তোমার খাওয়াও ঠিক হবে না।

সাদির মুখে আগেও তুমি ডাক টা শুনলেও পিহুর এমন ভালোলাগা কাজ করে নি।আজ হটাৎ ই সাদিকে প্রচন্ড রকম ভালো লাগছে তার।পিহু উঠে বসতে গেলো তবে উঠতে পারলো না মাথাটা বড্ড ভার।

সাদি বুজতে পেরে পিহুর দিকে ঝুকে গেলো।সাথে সাথে পিহু চোখ বুজে নিলো।বুক দুরু দুরু করে কাপছে তার।সাদি পিহুর বাহুর নিচে ধরে চোখ মুখ খিচে পিহুকে উঠে বসালো তারপর পিঠের পিছনে বালিশ দিয়ে খাটের শক্ত কারু কাজ করা কাটবোর্ড এর সাথে হেলান দিয়ে দিলো।সাদি ভেবেছিলো পিহু এই বুঝি তাকে খারাপ ভাবলো এই বুঝি কিছু একটা বললো।

তবে সাদিকে ভুল প্রমানিত করে দিয়ে পিহু ধীর ভাবে চোখ খুলে তাকালো তারপর ক্ষীন কন্ঠে বলে উঠলো…

-“আপনি একটু ঘুমান। সে রাত থেকে জেগে আছেন।

-“আমাকে নিয়ে তোমার ভাবতে হবে না কি খাবে বলো।আচ্ছা বলতে হবে না আমি স্যুপ করে নিয়ে আসছি ঝাল ঝাল করে।

পিহু আর কিছু বলার আগেই সাদি উঠে দাড়ালো।গায়ে থাকা গেঞ্জি টা খুলে বাস্কেটে রেখে নতুন একটা গেঞ্জি পরে নিলো।অনেকখানি ভিজে গেছে ওটা তখন।সাদি চলে যেতেই স্মীত হাসলো পিহু।বাইরের দিকে তাকালো তবে জানালায় পর্দা দেওয়া।কিন্তু প্রচন্ড বৃষ্টির শব্দ কানে এসে বাজছে তার।পিহু ধীরে ধীরে বিছানা থেকে উঠতে চাইলো।তবে মাথার ভিতরে কেমন জানি ঘুরে উঠলো সাথে সাথে যেভাবে বসে ছিলো সেভাবেই বসে পড়লো মাথা চেপে ধরে।

প্রায় বিশ মিনিট পর সাদি ঘেমে একাকার হয়ে বেতিয়ে এলো রান্না ঘর থেকে। হাতে রেডিমেট প্যাকেট স্যুপ রান্না করেছে সে।ভিতরে ডিম দেওয়া।একটু অল্প ঝাল ও মিশিয়েছে পিহুর জিবের রুচির জন্য। জর হলে রুচি চলে যায়।

সাদি রুমে এসে দেখলো পিহুকে যেভাবে রেখে গেছিলো সেভাবেই বসে আছে।কোমর সমান কম্বল টেনে দেওয়া।সাদি ধিরে ধিরে হাতে থাকা ট্রে টা টি টেবিলের উপর রাখলো।তারপর পিহুর পাশে বসে ধীর কন্ঠে বললো…

-“তুমি সুস্থ হলে আমি আর স্পর্শ করবো না জান।প্রমিচ।শুধু এক্টাই অনুরোধ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত একটু অনুমতিহীন ভাবে তোমাকে স্পর্শ করতে চাই।

সাদি ভেবেছিলো পিহু এতেও রিয়েক্ট করবে।তবে পিহু কিছু বললো না।চুপ করে রইলো। চুপ থাকাকে সাদি সম্মতির লক্ষন ভেবে ছোট্ট পিহুকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে এলো।পিহুর গায়ে কাটা দিচ্ছে।তাই দেখে সাদি পিহুকে নিজের কোলের ভিতর বসালো।পিহুর পিঠ গিয়ে ঠেকলো সাদির বুকে।সাদি কম্ব্ল টেনে পিহুর পা ঢেকে দিলো আর এক হাত দিয়ে পিহুকে জড়িয়ে নিলো।

পিহু সাদির ঘাড়ের মাথা রেখেছে।সাদি স্যুপ এর বাটি থেকে এক চামচ নিয়ে পিহুর মুখের সামনে ধরলো তবে।পিহু মাথা নাড়িয়ে খাবে না বোজালো।কোনো রুচি নেই মুখে।সাদি পিহুর মুখের সামনে চামচ ধরে বলে উঠলো…

-“অল্প কয়েক চামস খাও জান।ওষুধ খাওয়ার জন্য। আমি ভারি খাবার নিয়ে আসবো তোমাকে ডাক্তার এর কাছে নিয়ে যাওয়ার সময়।

সাদির করুন কন্ঠের কথা শুনে পিহু চোখ বুজে গিলে নিলো।মুখের রিয়েকশন দেখে মনে হলো তিতা কিছু খাচ্ছে।কয়েক চামস খাওয়ার পরেই হটাৎ পিহুর গা জড়াতে শুরু করলো।গঅরম লাগতে শুরু করলো।ওয়াক তুলতে শুরু করলো।সাদি তাড়াহুড়ো করে চামচ রেখেই ওর মুখের সামনে নিজের ডান হাত রাখলো।

পিহু ওয়াক ওয়াক করতে শুরু করলো এবার। গা জড়াচ্ছে তার।মাথার ভিতরেও ঘরছে।সাদি পিহুকে বুকের সাথে জড়িয়ে এক পা বিছানা থেকে নামাতেই হড় হড় করে বমি করে দিলো পিহু সাদির গায়ে।সাদি ঘৃনা না করে পানির গ্লাস এগিয়ে দিলো পিহুর দিকে।নিশ্চল চোখে কাপা কাপা হাতে পানির গ্লাস টা নিয়ে এক ঢোক পানি গিলতেই আবারো হড়হড় করে বমি করে নেতিয়ে পড়লো ক্লান্ত হয়ে পিহু।

এদিকে পিহুর অবস্থা দেখে সাদির মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে।দিশেহারা হয়ে গেছে সে।ক্লান্ত নেতিয়ে যাওয়া পিহুকে কিছুক্ষন বুকের সাথে সেভাবেই জড়িয়ে রাখলো সাদি।কিছুক্ষন পর বিছানায় সুইয়ে দিলো।তারপর এক টানে নিজের গায়ে থাকা পিহুর বমি করে ভাষানো টি-শার্ট টা খুলে ফেললো। সাদি টাওয়েল নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলো। পাচ মিনিটের মাথায় টাওয়েল পেচিয়ে গোসল করে বেরিয়ে এলো।

কাবার্ড থেকে ট্রাওজার আর টিশার্ট বের করে পরে নিলো। তারপর চললো পিহুর রুমে। পিহুর রুমে আলমারি থেকে অনেক খুজে একটা লং টি শার্ট আর প্লাজু খুজে পেলো।তবে আন্ডার গার্মেন্টস পেলো না।সাদি জামা কাপড় গুলো এনে টাওয়েল ভিজিতে এনে পরিস্কার করে দিলো পিহুকে।তারপর চোখ বুজে মনে মনে বিড়বিড় করে বললো…

-“আল্লাহ আমাকে ধৈর্য দাও।আমি চাই না আমার বউ এর অসুস্থতার সুজোগ নিতে।আমার চোখ কে হেফাজত করো।

সাদি পিহুর জামা কাপড় চেঞ্জ করিয়ে বিছানায় সোজা করে সুইয়ে দিলো।পিহু ঘুমিয়ে গেছে ক্লান্ত হয়ে।সাদি চোখ বুজে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিঘরের মেঝে পরিস্কার করে নিলো।তারপর এসে সুয়ে পড়লো পিহুকে জড়িয়ে।পিহুর মাথাটা নিজের উষ্ণ বুকে চেপে রাখলো।পিহু ও শান্ত হয়ে পড়ে রইলো সাদির বুকে।


অন্ধকার ঘরের এক কোনাতে বিদ্ধস্ত অবস্থায় প্পড়ে আছে জেরিন।গায়ে জামা – কাপড় নেই লম্বা একটা চাদর জড়িয়ে রেখেছে।উঠে বসার ক্ষমতা নেই তার।সমস্ত হাতে পেটে অজস্র সিগারেট এর পোড়াত দাগ।সাথে সমস্ত গলায় বুকে নরপশু গুলোর কাপড়ের দাগ।জেরিনের দোম আটকে আসছে।কানের নিচ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে।এক সময় একজনকে কামড়ানোর জন্য তার মাথা লোহার মতো শক্ত এই মেঝেতে বাড়ি দিয়েছিলো।যদিও তারপর জেরিনের হুশ ছিলো না।তবে হুশ ফিরতেই দেখেছে নিজের শরীরের উপর ছয় সাত জন নরপশুর আক্রমনের দাগ স্পষ্ট। জেরিনের ঠিক এই সময় টা খুব প্রিয় মানুষ গুলোর কথা মনে পড়ছে খুব করে।সবার আগে চোখে ভেসে উঠছে মেয়েটার কথা।এখানে এসেছে কতক্ষন না জানলেও মন বলছে পিহু ঠিক নেই।পিহুর জন্য চিন্তায় আর নিজের শরীরের কষ্টে বুক ফেড়ে যাচ্ছে।জেরিন কাতর কন্ঠে দাতে দাত চেপে চোখ উল্টিয়ে বিড়বিড় করে বললো….

-“আল্লাহ গো আমার পিহুকে ঠিক করে দাও।আমার মন বলছে ও ঠিক নেই।আমার হায়াত গুলো সব ওরে দিয়ে দাও আল্লাহ।আমি ওর মধ্যে বাচতে চাই।আমার বুকের মধ্যে কষ্ট হচ্ছে আল্লাহ।আমার কলিজার কিছু হয়েছে আল্লাহ তুমি দেখো।

চলবে…..

-(এই জেরিন চরিত্র টা কে লিখতে গেলে চোখের কোনে এসে পানি জমে।আসলেই তার মতো কোনো বন্ধু হয় না।আজকের পর্ব কেমন হয়েছে বলে জাও আশা করি ভালো লাগবে)-

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply