নিষিদ্ধ_চাহনা
পর্ব_৩৭
লেখিকাসারাচৌধুরী
🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫
জেরিন অবাক চোখে তাকিয়ে আছে দরজার দিকে। পর ছয় সাত জন পুরুষ ঢুকলো ঘরের ভিতরে।তারপর একজন নারীও ঢুকলো।জেরিন এক বুক বেচে ফিরার আশা খুজে পেলো আরো মুখ দিয়ে অস্পষ্ট শব্দ বের করতে থাকলো।তবে জেরিন কে ভুল প্রমান করে দিয়ে মহিলাটি দরজা লাগিয়ে দিয়ে একটা সুইচ চাও দিতেই ঘরটি ভিতরে হলদে ভাবের একটা মৃদু আলো জলে উঠলো।
জেরিনের কাছে এবার ঘরটা পরিস্কার হলো।চারিদিকে রক্ত।আর এতক্ষন রক্ত পচার ই গন্ধ আসছিলো।হলুদ রঙের দেয়ালে রক্তের দাগ স্পষ্ট। কিসের রক্ত বুজলো না জেরিন।তবে একটা ছেলে মহিলা টিকে একটা চেয়ার এগিয়ে দিতেই মহিলাটি পায়ের উপর পা তুলে বসলো।পরনে লাল পাড়ের শাড়ি।মোটা মহিলাটির গায়ে অমানান লাগছে বেশ।
মহিলাটি দূর থেকে জেরিন কে খুতিয়ে খুতিয়ে দেখলো তারপর বললো…
-“বুজিনা বাপু এই কচি কচি মাইয়াগো আবার এত ত্যাজ কিসের।যারে মারার জন দশ লাক টিয়া দেই।
মহিকাটির কথা শুনে জেরিন হতবাক। তাহলে সত্যিই তারে মারার জন্য আনা হয়েছে।এবার মহিলাটি উঠে দাঁড়িয়ে দরজার দিকে হেটে জেতে শুরু করলো ঠিক তখনই গোঙরিয়ে গৌঙরিয়ে জেরিন কান্না শুরু করলো।ওর আদো আদো আওয়াজ কানা যেতেই মহলাটি হুংকার দিয়ে বলে উঠলো….
-“এমন অবস্থা করবি যাতে এই আওয়াজ টুকু পরের বার আমার কানে না আসে।তবে মারিস না।ইচ্ছা মতো উপভোগ কর।
বলেই মহিলাটি দরজা খুলে বাহিরে চলে গেলো। এদিকে জেরিনের আত্মার পানি শুকিয়ে গেছে।ছেলে গুলো ক্ষুদার্ত হায়নার মতো জেরিনের দিকে এগোতে লাগলো।একেক করে জেরিনের বাধন খুলে দিলো।জেরিন ধাক্কা দিয়ে উঠে দাড়াতেই কেও একজন ঠাশ করে চড় বসালো ওর নরম গালে। শেষ রক্ষা হলো না মেয়েটার আর। নিজের সর্বোস্ব হারিয়ে ফেললো মানুষ রুপি কিছু নিকৃষ্ট পশুর কাছে।
সাদি একের পর এক কল দিয়েই যাচ্ছে তবুও কোনো খোজ পাচ্ছে না জেরিনের।এদিকে পিহুর গায়ে হটাৎ জ্বর এসেছে।সাদির মাথায় চিন্তারা বাসা বেধেছে। প্রথমত জেরিন কল তুলছে না।রাত আটটা বেজে চললো।তআর উপর তার প্রেয়সীর জ্বর।
সাদি মিনিমাম দুইশ বারের উপরে ফোন দিয়েছে।তবে ওদের বাড়ির সকলের নাম্বার ই বন্ধ।ব্যাপার টাই বেশ খটকা লাগলো সাদির।তবে কি করবে ভেবে পেলো না।এদিকে বাইরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে অসময়ে।আগাম বার্তা ছাড়াই।ফোনের চার্জ ও প্রায় শেষ এর দিকে।সাদি মোবাইল টা চার্জে বসিয়ে সারার পাশে এলো।চিয়াথির কথা গুলো এখোনো চোখের উপর ভাসছে সাদির।কি করবে খুজে পাচ্ছে না।তবে সাদি কোনো আইন এর সাহায্য নিবে না।এই আইন কোনো শাস্তি না।কয়েক নছর জেল খেটে জামিন এ বের হয়।আর বিদেশে গিয়ে দেশে ফিরিয়ে এনে জেলে দেওয়াও অসম্ভব।
সাদির মাথা কাজ করছে না।হটাৎ ই কিছউ একটা ভেবে ঠোঁটে স্মীত হাসি ফুটে উঠলো সাদির।তারপর বিড়বিড় করে বললো….
-“আমি আসছি মি: ইশান চৌধুরী আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাই।
সাদি এবার রুম কাপয়ে হাসে।সাদির হাসির বিদঘুটে শব্দে জরের ঘোরে থাকা ঘুমন্ত পিহু কেপে উঠে।সাদি সেদিকে তাকিয়ে নিজের হাসি থাময়ে দেয়।ঘরের বড় লাইট অফ করে দিয়ে নীল রঙা ড্রিম লাইট জালয়ে দিয়ে আসে।একটু আগেই গালে তুলে খাইয়ে দিয়েছে পিহুকে তারপর ওষুধ দিয়েছে।জরের তাপমাত্রা বেশি হওয়াই জ্ঞান শুন্য পিহু।
সাদি পিহুর বুকের কাছে বসে নিজের ডান হাত দিয়ে পিহুর চুলে হাত বুলিয়ে দিতে থাকে।বুলাতে বুলাতে এক ঘোরের ভিতরে চলে যায় সাদি।এগিয়ে চলে ঘুমন্ত পিহুর দিকে।ঘাড় থেকে চুল শরিয়ে চুমু খাই খোলা গলায়।তারপর পিহুর শুকনো উষ্ণ ঠোঁটেও।তবে ঘুমন্ত পিহু কিছুই বুজতে পারে না।
সাদি একটু একটু করে পিহুর লেটের দিকে যেতে থাকে।উষ্ণ পেটে স্পর্শ করতেই সাদির বিবেক নাড়া দিয়ে উঠে। এ কি করতে গেছিলো সে।আবারো একই ভুল।নিজের প্রতিজ্ঞা নিজে রাখতে পারছে না।যদিও আগের টা এক্সিডেন্ট ছিলো।তাই বলে এখন কার টা কি হতো।ছিহ।সাদির নিজের কাছে খুব খারাপ লাগে। আর একটু হলে এই ছোট্ট মেয়েটার অসুস্থতার সুজোগ নিতো সে।যদিও বিয়ে করা হালাল বউ। তবে সাদি চাই স্ত্রীর অনুমতি নিয়েই তাকে নিজের করে পেতে।
সাদি পিহুর ঘুমন্ত মুখটার দিকে তাকায়।অসুস্থতার জন্য কেমন ঠোঁট উল্টিয়ে কাদো কাদো ফেস করে ঘুমাচ্ছে পিহু।সেদিকে তাকিয়ে সাদি পিহুর কানের কাছে নিজের ঠোঁট নিয়ে গিয়ে একটা চুম্বন দিয়ে বিড়বিড় করে বলে উঠে…
-“জান।একটু মানিয়ে নে না আমার সাথে।আমার খুব একা লাগে এখন।আমি কখোনো তোর শরীর চাইবো না তবে মনের ভাগ টা আমাকে দে।একটু জড়িয়ে ধরার অনুমতি দে।একটু ভালোবাসি বলার সুজোগ দে।দে না জান।
সাদির বলার সাথে সাথে হুট করে পিহু ঘুমের মাঝেই সাদির হাত টান দেই আর।আকষ্মিক টাল সামলাতে নক পেরে কানের কাছ থেকে মুখ সরে গিয়ে পিহুর ঠোঁট এ গিয়ে লাগে সাদির ঠোঁট। সাথে সাদিও পড়ে পিহির উপরে।অর্ধ উপরে অর্ধ নিচে।সাথে সাথে কারেন্ট চলে যায়।সাদির অনেক ইচ্ছা করছিলো ভুল করে হলেও প্রিয় তমার সাথে এমন একটা ছবি এলবাম করার।এখন না হোক একদিন উপহার হিসেবে সারপ্রাইজ দিতো মেয়েটাকে।
সাদি উঠে বসে।বেড সাইড টেবিল থেকে মোমবাতি বের করে দুটো। তারপর লাইটার দিয়ে আগুন জালিয়ে একটা সোফার সামনের টি টেবিল এর উপর রাখে এবং অন্য টা রাখে সাদির স্টাডি টেবিল এর উপর।দুটো মোমবাতিতেই পুরো ঘর আলোয় আলোকিত।
সাদি আস্তে করে এগিয়ে গিয়ে সুয়ে পড়ে পিহুর পাশে।বাইরের প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টির তেজ বোজা যাচ্ছে কাচের জানালায় বৃষ্টির ঝাপটা দেখে।বেশ ঠান্ডা ঠান্ডা আবহাওয়া।সাদি কাপা কাপ হাতে পিহুর গায়ে দিয়া কম্বল টাতে নিজেকেও জড়িয়ে নিলো তারপর মেয়েটাকে বুকের সাথে জড়িয়ে নিলো আষ্টেপৃষ্টে। খুব করে অনুভব করতে চাইলো তার স্টপিড এর গায়ের তাপ।একটু করে সাদির শীতল হাতের স্পর্শ পেয়ে জরে জর্জরিত মেয়েটার ও ভালো লাগতে শুরু করলো।ঘুনের মধ্যেই সেও জড়িয়ে ধরলো সাদিকে।
নতুন একটা দিনের সুচনা হয়েছে ধরনীতে।তবে কারেন্ট আসে নি।সাদি আজ জেনারেটর ঠিক করিয়ে নিবে মালিক কে বলে।ফ্লাট কেনার আগে তো ঠিকই ছিলো তাহলে এখন চলে না কেন।সাদির ফোন পিহুর ফোন দুজনের ই পুরোপুরি বন্ধ।বাইরে এখোনো তুমুল আকারে বৃষ্টি পড়ছে।বেড সাইট টেবিল এর উপর রাখা এলার্ম ঘড়িতে এখন বাজে সাতটা বেজে ছাপ্পান্ন মিনিট।সাদির চোখ লেগে আসছে।সেই রাত দুটো থেকে পিহুর মাথাই জল পটি দিচ্ছে সে।কয়েকবার হাত পা মুছিয়েও দিয়েছে।ওষুধ এ কাজ হচ্ছে না।সকাল হলেই একটা ভালো ডাক্তার এর কাছে নিবে।সে ডাক্তার হয়েও প্রিয়তমার জ্বর কমাতে পারছে না।পারবেই বা কি করে..?
-“হৃদয়ের ডাক্তার হয়ে প্রিয়তমার হৃদয়ে আজও জায়গা করে নিতে পারলো না।
এটা বড় আফসোস সাদির।তবে জানে।আল্লাহ চাইলে সব ঠিক হয়ে যাবে।আর সব ঠিক হতেই হবে।তার বাবা মায়ের খুনিদের শাস্তি দিতে গেলে অবশ্যই এই মেয়েটাকে শক্ত হতে হবে।শুধু শক্ত না মায়াহীন হতে হবে তবে তার আগে খুব গভীর ভাবে নিজেকে স্থাপন করতে চাই সাদি পিহুর ভিতরে।যাতে সাদিকে পিহু কখোনো কোনো দিন ভুল না বুজে।
সাদি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে।। তাকে আবার কানাডা ফিরতে হবে অনেক কাজ বাকি সেখানে।নিজের ব্যাবসায় বা আর কত দিন ম্যানেজার এর ভরষায় ফেলে রাখবে।এক হাতে কত দিক সামলাবে। তবে তাকে সামলাতে হবে পিহুর ভবিষ্যৎ পিহুর সুখ শান্তি সব তার হাতে লেখা।
হটাৎ পিহু ঘুম থেকে চোখ মেলে তাকালো পিটপিট করে।শুষ্ক ঠোঁট জোড়া ফাকা হয়ে গেলো।সাদি পিহুর দিকে তাকিয়ে ঝুকলো তারপর শান্ত কন্ঠে বললো…….
চলবে……….
-(কিছু কিছু নতুন চরিত্র আসছে। গল্পটার রহস্য উন্মোচন হতে আর বেশি দেরি নেই।বেশি বেশি রেসপন্স পেলে প্রতিদিন গল্প দিবো।আজকের পর্ব কেমন হয়েছে বলে জাও।আশা করি ভালো লাগবে)-
Share On:
TAGS: নিষিদ্ধ চাহনা, সারা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৯
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১২
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১০
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৯
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৬
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৮
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৩৪
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৩
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৭
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২