নিষিদ্ধ_চাহনা
পর্ব_৩৪
লেখিকাসারাচৌধুরী
🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫
সাদির কথাটা বলতে দেরি হয় তবে পিহুর উঠে দাড়াতে আর হাতের কাছে থাকা গ্লাস টা টেবিল এর উপর আচাড় দিতে দেরি হয় না।পিহু কে আকশ্মিক উঠে দাড়াতে আর এমন গ্লাস ভাংতে দেখে সাদি চমকে উঠে।সাদির দিকে তাকিয়ে পিহু রাগী কন্ঠে বলে উঠে…
-“কি বললেন আপনি..?
সাদি চুপ করে যায়। সে জানতো পিহু রাগ করবে। আসলের সাদির ই ব্যার্থতা। সে তো জানে মনে একজনকে রেখে আরেক জনের সাথে সংসার হয় না।যদি পিহুকে সাদি না পেতো অন্য কোনো মেয়ের সাথে সাদির বিয়ে হতো তাহলে সাদিও হয়তো মেয়েটার সাথে সংসার করতে পারতো না।
সাদিকে চুপ থাকতে দেখে পিহু আরো রেগে গর্জে উঠে বলে…
-“কি হলো বলুন কোন সম্পর্ক চাচ্ছেন আপনি।আমি মানিনা।আর কি আর পাচ-দশটা স্বামী-স্ত্রীর মতো সম্পর্ক চাচ্ছেন আপনি ভাবতেও অবাক লাগে।
সাদি চেয়ারে বসে থেকেই কপাল গুটিয়ে বলে…
-“মানেহ…?
-“মানে তো বেশ সোজাই। আপনি আসলে স্বামী-স্ত্রীর মতো ভালোবাসা না আওনি তো চাচ্ছেন শারি……
আর কিছু বলার আগেই ঠাশ করে চড় বসালো সাদি পিহুর গালে।পিহুর কথা শুনে নিজেকে আর ধরে রাখতে পাতে নি সে।নিজের প্রতিজ্ঞা ভুলে মেরেছে পিহুকে।সাদির চড় খেয়ে সরে যায় পিহু।ফর্সা ত্বক এ পাচ আঙুল ছাপ বসে গেছে সাথে সাথেই।পিহু চুপশে গেছে।চোখ দিয়ে পড়ছে উত্তপ্ত নোনাজল।
সাদি পিহুর মুখের দিকে তাকিয়ে রাগী কন্ঠে বলে….
-“ডন্ট ক্রাই পিহু..!
তবে পিহুর কান্না থামে না।মুখ জালা করছে তার।অনেক দিন পর হটাৎ এমন চড় খাওয়াই বেশ লেগেছে।পিহুর কান্না না থামানোর জন্য সাদি আবারো বলে উঠে….
-“পিহু ডন্ট ক্রাই স্টপ।
পিহু চুপ করে না আরো জোরে কেদে উঠে সাথে সাথে বলে উঠে…
-“মামুনি থাকতেই তো মারতেন সারাদিন আর এখন মামুনি নেই আরো বেশি মারেন।এখন আর মামুনি আদর করবে না।আপনার তো কিছু হয় না শুধু মারতেই পারেন।ভালোবেসেছেন কখোনো।যে এর মানে বুজবেন।
পিহু আর দাড়ালো না হন হন করে নিজের ঘরে গিয়ে দরজা আটকিয়ে দিলো ভিতর থেকে।এদিকে বাইরে ফেলে গেলো পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া সাদিকে।সব থেকে দুর্বল যায়গায় আঘাত করেছে পিহু তার।আসলেই আপন মানুষ গুলো বুকের মধ্যেখানে আঘাত করে।
সাদির চোখ দিয়ে টপ করে দু – ফোটা পড়ে।সাদি ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ভাঙা গ্লাস গুলোর দিকে তাকিয়ে বলে….
-“আসলেই পিহু’রানী আমি কখোনো কাওকে ভালোবাসি নি।আমার মন টা একজনের কাছেই ছিলো ভালোবাসবো কি করে।তবে এই দুনিয়াই আমার চেয়ে বেশি তোকে কেও ভালোবাসে নি।
সাদি ঘুষি দিলো টেবিল এর উপর সাথে কয়েক টুকরো গ্লাসের ভাঙা টুকরো হাতের চামড়া ছিড়ে ভিতরে প্রবেধ করল।রক্ত ঝরতে লাগলো বৃষ্টির মতো।হাত থেকে রক্ত পড়ছে আর সাদি হাসছে।হাতে গেথে যাওয়া কাচের দিকে তাকিয়ে আবারো বিড়বিড় কতে বলে উঠলো..
-“এই কাচের চেয়ে তোর কথা আমারে বেশি যন্ত্রনা দিলো রে জান।একদিন তুই ও আমার জন্য খুব কাদবি তবে সেদিন আমার থাকবে না প্রান।
এমন ভর দুপুরে নিজের ছেলের পাশে একটা অপরিচিত মেয়েকে বউ সাজে দেখে চমকে গেছেন নাবিলের মা কায়া বেগম তার বাবা হায়দার সাবের।একই সাথে চমকেছেন যে ছেলে একটু আগে একটা মেয়ের জন্য কাদছিলো সেই ছেলে এখন একটা মেয়ের পাশে কি করছে।কায়া বেগম নিজের কৌতুহল ধরে রাখতে না পেরে নাবিক কে জিজ্ঞাসা করেই ফেললেন…
-“বাবা এই মেয়েটা কে…?
নাবিল এক হাত প্যান্টের পকেটে গুজে ভাবলেশহীন ভাবে বললো….
-“তোমাদের বউমা।মানে আমার বিয়ে করা স্ত্রী।
নাবিলের কথায় চমযে যায় কায়া বেগম ও হায়দার। হায়দার অবাকের কন্ঠে বলেন…
-“মানেহ….?
-“মানেহ আবার কি আব্বু বউমা পছন্দ হয় নি..?
-“তো তুমি আমাদের জানালে না কেন…?
-“আমার কোনো ইচ্ছা করে নি।এখন জানিয়েছি মেনে নাও।
-“এ বিয়ে আমি মানিনা…!
-“তুমি মানা না মানার কেও না আব্বু।
-“নাবিল মুখে মুখে তর্ক করবে না।রাগাবে না।বেরিয়ে যাও আমার বাড়ি থেকে।
-“মানেহ..?
-“মানে বুজছো না।একদিনে কতটা অধপথন হয়েছে তোমার।পুরো অমানুষ হয়ে গেছো আমার মুখে মুখে কথা বলছো..?
নাবিল নিজের বাবার কথা শুনে ঠোঁট প্রশারিত করে হাসে।নাবিলের হাসি দেখে আরো অবাক হলেন হায়দার ও কায়া বেগম।নাবিল হেসে নিজের বিয়ে করা স্ত্রীর হাত ধরে নিজের ঘরের দিকে হাটা শুরু করে। এক বার ঘাড় ঘুরিয়ে পিছু তাকিয়ে রহস্যময় হাসি দিয়ে বলে…
-“খুব বড় বোকা আপনারা মি: ও মিসেস হায়দার সাবের। যতদিন বাড়ি আপনাদের ছিলো। আমি আওনাদের ছিলাম।এখন এ বাড়ি পুরো প্রোপার্টি আমার এখন আপনাদের লগে কথা বলার প্র্যোজন নেই।থাকলে থাকুন নইতো গেট খোলা।
নাবিল আর কিছু না বলে সাফার হাত ধরে ঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয়।সাফার বাড়ি সাতক্ষিরা জেলাই।নাবিল এর সাথে তার পরিচয় অনলাইন এ।সাফার বাবা গ্রাম এর চেয়ারম্যান। পরিবারের এক মাত্র মেয়ে হওয়াও সাফার বাবা প্রথমে নাবিল আর সাফার সম্পর্ক না মানলেও মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে মেনে নেই।একজন বাবার কাছে তার মেয়ের সুখের চেয়ে আর কি দামি হবে।
সাফা বেশ অহংকারী একটা মেয়ে।ছোট থেকে নিজের কাজ ব্যাতীত কারোর কোনো কাজ সে করেনি।বন্ধু মহল ও তেমন ছিলো না সাফার।অতিরিক্ত অহংকারী হওয়াই কথাই কথাই টাকার খোটা দিতো বন্ধু দের।সেখান থেকেই বন্ধু কমে গেলো।নাবিল ঘরে এনে সাফাকে বসতে দেয় সোফায়।সাফা সোফায় পায়ের উপর পা তুলে আদুরে গলায় বলে…
-“নাবু জান্স সিগারেট এর প্যাকেট টা কই..?
-“মানে তুমি এখন খাবে..?
-“হ্যা বেবে প্রায় আটঘন্টা খাইনি পাপা ছিলো বলে। প্লিজ দাও।
নাবিল আর কিছু না বলে স্টাডি টেবিল এর ডয়ার থেকে সিগারেট আর লাইটার দিলো সাফার হাতে।সাফা মনে সুখে ধোয়া উড়াতে লাগলো।গ্রামে থেকেও শহরের মেয়েদের মতো হয়েছে সাফা।
নাবিল সাফার দিকে তাকিয়ে নিজের একটু আগের কান্নার কথা ভেবে হাসে।সে তো পিহুর মতো একটা সোনার পাখি হারানোর জন্য কেদেছিলো।কোনো মায়ার জন্য না।যদিও নাবিলের উদ্দেশ্য ছিলো পরিপূর্ণ ভিন্ন তবে পুর্ন আর হলো না।তাই সময় নস্ট না করে নতুন পাখি কে একেবারে খাচায় পুরেছে। কাল রাতেই এসে দিয়ে গেছিলো সাফার বাবা।সারারাত এক সাথে থেকে সকালে পিহুর সাথে শেষ বারের মতো নাটক করছিলো যাতে একবার নিজের অসৎ উদ্দেশ্য পুরনের সুযোগ পাই।তবে পাইনি।ব্যার্থতার কারনে বাড়ি এসে কেদেছে।পরে নিজের মায়ের কথা শুনে আর দেরি না করে সাফাকে বিয়ে করে বাড়িতে তুলেছে। এমনিতেই বাড়ি টা হায়দার সাবের এর ফিংগারপ্রিন্ট দিয়ে নিজের নামে করে নিয়েছে।
জেরিনের কাছ থেকে খুব দরকারী একটা কাজ ও নাবিলের বিয়ের কথা শুনে চমকায় পিহু।দুপুরে ঘুম থেকে উঠতেই এমন খবর পেয়ে হতবাক সে।কলেজের সেই পরিচিত গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছে নাবিল জেরিন আর পিহু।পিহুর পরনে মেরুন রঙের একটা গাউন।উড়না মাথায় দেওয়া। জেরিনের ঘাড়ে ব্যাগ কিছু একটা দিবার জন্যই এসেছে সে।
পিহু ফুশছে নাকের পাটা লাল।পিহু নাবিলের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো..
-“আ..আপনি বিয়ে করেছেন…?
নাবিল ভাবলেশহীন ভাবেই জবাব দিলো..
-“হ্যা করেছি তো..?
-“তো মানে..?একজনকে ভালোবেসে আরেক জন কে বিয়ে করতে লজ্জা করে না।
-“ইশ রে সরি জান।ভুল হইছে ফিডার খাবো মাফ করে দাও..-(বেশ রসিকতার সুরেই বলে নাবিল)-
-“আপনার লজ্জা করছে না..?
-“কিসের লজ্জা..তুই তোর চাচতো ভায়ের লগে থাকিস তোর লজ্জা করে না।
পিহুর সাথে সাথে জেরিন চমকায়।আজ তারা এক নতুন নাবিল কে দেখছে।আসলেই তো নাবিকের আচার আচরন এমন না। পিহু এবার রাগী ভাবে নাবিলের গেঞ্জির কলার চেপে ধরে।আর জাইহোক সে থাকে মেনেছে তিবে এর মানে নাবিল যা বুজিয়েছে তা আর পিহুর বুজতে বাকি নেই।তার দিকে নষ্টার ইঙ্গিত দিয়েছে।পিহু রাগী কন্ঠে বলে…
-“বিয়ে করলেন তো আমার সাথে নাটক করলেন কেন..আজ সকালেও।আদেও কি ভালোবাসতেন আমাকে…?
নাবিল এবার জোরে শব্দ করে হাসে।জেরিন আর পিহু আবারো অবাক হয়। নাবিল হেসেই বলে উঠে..
-“ফাস্ট তুই নাটক করেছিস আমার সাথে।বিয়ে করেছিস ওই সা** পোলা কে।কি দেয় তোরে ও।আর তোর প্রতি ভালোবাসা।থু। ভালোবাসা মাই ফুট। তোর বাও মার অঢেল সমপত্তি ছিলো তাই তোর পিছে ঘুরেছি।তোর চাচা চাচি মরেছে এখন সব ওই সা** পোলার নামে গেছে।তুই তো ভিখারি।
ফাইজ রে এত বললাম এমন কাজ করিস না।শুনলোই না। আমি তাও টাকার প্রেমে পড়লাম আর ও তোর মাখন শরী..
কথাটা বলার শেষ হতে না হতেই নাবিল আচড়ে পড়ে মাটিতে……
চলবে……..
-(গল্প নব্বই ডিগ্রি এংগেল এ ঘুরে গেছে। এবার হবে গল্পের আসল কাহিনী।কেমন হয়েছে বলে জাও।আশা করি ভালো লাগবে।বেশি বেশি রেসপন্স করো লাইক কমেন্ট করো)-
Share On:
TAGS: নিষিদ্ধ চাহনা, সারা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৪
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৩৩
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৭
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১১
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১২
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৪
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৫
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৩২
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৯
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৭