নিষিদ্ধ_চাহনা
পর্ব _৩২
লেখিকাসারাচৌধুরী
🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫
পিহুর অবস্থা বেহাল।আতিয়া বেগম কে ছাড়বে না কোনো মতেই সে।বুক চিরে বেরিয়ে আসছে কষ্টের দলা।পিহুর দোম বন্ধ হয়ে আসছে।শুধু মনে হচ্ছে তার সব শেষ হয়ে গেলো তার সব।জানাযার সময় জেরিন পিহুকে জোর করে সরিয়ে এনেছিলো তখন পিহুর সে কি কান্না।পাগলের মতো হাত পা ছুড়ে কান্না করছিলো পিহু।কখোনো কল্পনা করতে পারে নি আজকের দিনটাকে যতটা সুখময় করতে চেয়েছিলো তার থেকে কয়েক হাজার কোটি গুন দুঃখ দিয়ে দিবে আল্লাহ।
জানাযা শেষ হওয়ার পর কিছু সময়ের জন্য সকল আত্মীয় স্বজন দের দেখার সুজোগ করে দেওয়া শেষ বারের জন্য। যদিও শুধু মাত্র মেয়েরাই দেখছে আতিয়া বেগম কে।আর ইলিয়াস চৌধুরী কে দেখার অবস্থা নেই।কপালে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে খুব নিপুন ভাবে খোদাই করে লিখা ❝IFS❞। সবার দেখার শেষে পিহুকে নিয়ে আসে জেরিন।এবার জেরিনের পাশে সাদি ও দাঁড়িয়ে।জেরিন আশেপাশে দেখ্বছে তবে কোথাও নাবিল কে পাই নি।হয় মতো নাবিল জানেনা এ খবর।
পিহু উড়নার কোন দিয়ে চোখ মুছে।আতিয়া বেগমের খাটিয়ার কাছে গিয়ে শান্ত ভাবে তাকিয়ে থাকে মায়াভরা মুখটির দিকে।নিজের মাকেই তার তেমন মনে পড়ে না।শেষ দেখাটাও ভালো করে দেখেনি।মা হারানোর কষ্ট অইহু বুজতে পারেনি আতিয়া বেগমের জন্য। তবে আজ পিহু বুজতে পারছে না জিনিস টা কি।বাবাই কেও খুব দেখতে ইচ্ছা করছে পিহুর।যদিও ভয় আর কষ্টে সেটা বলতে পারলো না।ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে আতিয়া বেগমের মুখ স্পর্শ করলো পিহু তারপর মনের অজান্তেই চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে করুন স্বরে বলে উঠলো..
-“ও মামনি।মামনি।একবার আমার সাথে কথা বলবে ও মামনি।একবার তাকাও না।আমি কখোনো তোমার অবাধ্য মেয়ে হবো না মামনি।আমি ঠিকমতো ভাত খাবো মামনি তাও তুমি একবার কথা বলো।একবার এই পিহুর মাথাই হাত বুলিয়ে দাও না মামুনি।আমার বুক এর মধ্যে কেমন ফাকা লাগছে মামনি।একটু চোখ মেলে দেখো হাত গুলো কাপছে। ও মামনি আমার উপর রাগ করে চলে গেলে কেন মামনি।আমি তোমাকে ছাড়া বাঁো কিভাবে। আমার তো আর কেও রইলো না মামনি উঠো না।
সাদি এগিয়ে এসে দাড়াই পিহুর পাশে।রাগী গম্ভীর ছেলেটার চোখ গুলো কেমন ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে।চুল গুলোও এলোমেলো যদিও পরনে সাদা পাঞ্জাবি পাজামা আর টুপি।সাদির ইমোশন আজ স্তব্ধ সব পাথর হয়ে গেছে।চোখ গুলোও কেমন স্বার্থপর একটু ও নোনাওশ্রু আসছে না।
লোকজন গোর/স্থান এ নিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্দত হয়।ঠিক তখনই পিহুর কান্নার মাত্রা বেড়ে যায়।আতিয়া বেগম কে ঝাপটে ধরে যেনো কোনো মতেই। সাদি পিহুর এখাত টান দিয়ে টেনে তুলে। মানুষজন ইলিয়াস চৌধুরী কে নিয়ে হাটা শুরু করে।সাদির টানে পিহু সাদির বুকে এসে ধাক্কা খাই।এক পলক সাদির দিকে তাকিয়ে জড়িয়ে ধরে সাদিকে। সাদি ও এক হাত দিয়ে জড়িয়ে নেই নিজের বক্ষে পিহুকে।পিহু হাওমাও করে কেদে উঠে বলতে শুরু করে….
-“এই সাদি দেখেন না ওরা মামনি রে নিয়ে যাবে বলছে। মামনি রাতে না খাইয়ে দিলে আমার সেদিন আর পেট ভরে না।এই সাদি আমাকে ছাড়েন।আমি মামনির সাথে যাবো।ওরা বাবাই কে নিয়ে চলে গেলো।আপনি ফিরে আসতে বলেন না। আমি কখোনো আর দুষ্টামি করবো না। আমার উপর রাগ করে ওরা কেন চকে গেলো।মামনি আমাকে ছাড়া ওখানে কিভাবে থাকবে।বলেন এই সাদি বলেন। আমাকে একটু ছেড়ে দেন। নয়ন ভরে দেখতে ইচ্ছা করছে মামনিকে।
পিহু সাদির বুকে এলোপাতাড়ি কিল ঘুশি দিতে শুরু করে।সকলের মন ভার।পিহুর কান্না সবাইকেও কাদাচ্ছে।লোকজন একত্রিত হলো আতিয়া বেগমের খাটিয়া নিয়ে যাওয়ার জন্য। সাদি বুকের উপর পাথর চাপা দিয়ে পিহুকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে জেরিনের কাছে দিলো।কয়েকজন মহিলা মিলেও পিহুকে সামলাতে পারছে না।পাগলের মতো গড়াগড়ি শুরু করলো মাটিতে।
সাদি পিহুর দিকে এক বার করুন চোখে তাকিয়ে খাটিয়া নিয়ে হাটা শুরু করলো।এতক্ষনে সাদির চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড় মতে শুরু করলো।খুব কাদতে ইচ্ছা করছে তার।আজ খাটিয়া টা বেশ ভারি লাগছে সাদির কাছে।সন্তানের কাদে মায়ের লা/শ এর থেকে কষ্টের বোধহয় আর কিছু নেই।কবরস্থা/ন এর ভিতরে এনে খাটিয়া রাখা হলো শেষ বারের জন্য সাদি নিজের মায়ের মুখ টা দেখে নিলো। কি মায়া সেই মুখে।হাহাকার করে উঠলো সাদির অন্তর।
রাত এগারোটা। বন্ধুদের নিয়ে ফিরেছে সাদি।তার এক বন্ধুর বাড়ি।সেখানেই পিহুকে নিয়ে জেরিন আছে।এতক্ষন সাদি নদীর পাড়ে বসে ছিলো।অশান্ত লাগছে তার সব কিছু।কি থেকে কি হয়ে গেলো।ভাবলেই দোম আটকে আসছে সাদির।
পিহু যে রুমে আছে ধীর পায়ে সে রুমে গেলো সাদি।গিয়ে দেখে জেরিনের কাধে মাথা রেখে বসে আছে পিহু।দৃষ্টি স্থির।চোখগুলো ফুলে গেছে অতিরিক্ত কাদার কারনে।সাদি কে আস্তে দেখেই জেরিন সোজা হয়ে বসলো।সাদি আস্তে করে বিছানায় বসলো পিহুর মুখোমুখি।মেয়েটাকে কত কি বলছে তার আম্মু কে মামনি বলাই।তার বাবাকে বাবাই বলে ডাকার জন্য। তবে এখন কাকে ডাকবে পিহু।আর এখন কাকে নিয়েই বা রাগ দেখাবে সাদি পিহুর উপর।
সাদি পিহুর দিক থেকে চোখ সরিয়ে নেয়।সাদির চোখ দিয়ে এক ফোটা নোনা অশ্রু বেরিয়ে আসে।বুক চিরে বের হতে চায় এক দলা ভাঙা দীর্ঘশ্বাস।সাদি আর কিছু না বলে উঠে যায় সেখান থেকে।সাদি চলে যেতেই পিহু চোখ ঘোরাই।গলা বসে গেছে তার এতো চিল্লানোর জন্য। সবাই থাকতেও পিহুর কিছু একটা বড্ড অভাব মনে এসে লাগছে।পিহু জেরিন এর বাহু পেচিয়ে আবার কাদে মাথা রাখে।কিছুক্ষন পর পর ফিফিয়ে উঠছে পিহু।
সাদি বাইরে চলে আসে।এখান থেকে বাইরের শীতল পরিবেশ খুব অনুভব করছে সে।চাঁদনী রাতের আলোয় পুরো ধরনী আজ আলোকিত।তবে তার জীবনের বটগাছ আর তার ছায়াই আজ তাকে ছেড়ে চলে গেলো।একটু পর পুলিশ আসবে। পোস্ট /মর্ডাম এর রিপোর্ট অনুযায়ী কিছু তথ্য নিয়ে মিশন শুরু করে দিবে খুনিকে ধরার।সাদি খোলা আকাশের নিচে ওই আধখাওয়া চাদের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলে উঠে….
-“আমার একটা আফসোস।আমি কখোনো মুখ ফুটে তোমাদের বলতে পারি নি আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি বাবা।আমি তোমাকে প্রচন্ড ভালোবাসি আম্মু।এই একটা আফসোস আমাকে সারাজীবন কাদাবে।আল্লাহ তোমাদের ভালো রাখুক।আমার কষ্ট হলেও কাদবো না।আমি যানি কাদলে মৃতের আত্মার কষ্ট হয়।আমি তোমাদের কষ্ট দিতে চাই না আমার ধ্বসে যাওয়া এক সুন্দর পৃথিবী।
সাদি থামলো তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবারো খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো…
-“আমার শক্তি দাও আল্লাহ।ভেঙে দিও না।আমি চাই না এই গম্ভীরতার পিছনের অসহায় মানব টাকে প্রকাশ করতে।আমার মাথায় এখন অনেক দায়িত্ব আল্লাহ।আমার ছোট্ট পিহুরানির মন টাও শক্ত করে দাও।ওকে ভালো রাখার দায়িত্ব আমার।ধৈর্য দিও খোদা।
সাদির বিড়বিড় করার মাঝেই ভিতর থেকে সাদির এক বন্ধু এসে বলে পুলিশ এসেছে। সাদি আর এক মুহুর্ত দেরি করে চলে যায় ঘরের ভিতর।পুরো ডাইনিং টেবিল ঘিরে বাড়ির সকল মানুষ। পিহুর সাদির পাশে বসে আছে তার পাশে জেরিন আর অন্য পাশে সাদি।
সাদিদের ঠিক সাম্নের সোফায় বসে আছে থানার ভারপ্রাপ্ত ইনেস্পেক্টর রাশেদ। রাশেদ কিছু গলা ঝেড়ে পরিষ্কার করে নিয়ে বেশ সাবলিল ভাবেই বলে..
-“হার্ট সার্জন মিঃ চৌধুরী।
সাদি মাথা উচু করে রাশেদ এর দিকে তাকাতেই।রাশেদ সাদির দিকে একটা ফাইল এগিয়ে দেই।সাদি কিছু বলে না নিয়ে নেয়।পোস্ট/মার্ডাম এর রিপোর্ট। সাদির চোখ দিয়ে পানি আসে।তার বাবা পুরো নয় বার বুকে চাকু দিয়ে আঘাত করেছে কেও হয়তো মনের ক্ষোভ মিটিয়েছে।আর তার মায়ের পেটেও চার বার ছুরি দিয়েছে।সাথে মাথায় ভারি কিছু দিয়ে আগাত করেছিলো।
সাদি ফাইল থেকে মুখ তুকে ইনেসপেক্টর রাশেদ এর দিকে তাকাতেই রাশেদ বলে উঠে…
-“আপনাদের কি কারোর সাথে শত্রুতা আছে।যে মারার পরে বাড়িতে দুটো টাইম বোম ফিট করে রেখে যায়।
সাদির সাথে সকলে স্তম্ভ।পিহুর মাথা যন্ত্রনা শুরু হয়েছে।রাশেদ আবারো বলে উঠে আপনার মা মিসেস আতিয়া বেগম এর হাতে ও আপনার বাবার কে/টে ফেলা মাথার কপালে খুব নির্মম ভাবে লেখা হয়েছে..
-“❝আই এফ এস❞
চলবে….
-(এটাই পিহুর অতীত কল্পনার শেষ পর্ব।কিছু বলার ভাষা নেই।হাত কাপছিলো আমার।আশা করি রেসপন্স করবেন)-
Share On:
TAGS: নিষিদ্ধ চাহনা, সারা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১২
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১৫
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১৩
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৪
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৭
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৫
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৩১
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১২
-
চার বছরের চুক্তির মা গল্পের লিংক
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২