নিষিদ্ধ চাহনা
পর্ব_৩১
লেখিকাসারাচৌধুরী
🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫
পিহু সুইচ এ চাপ দিতেই পুরো ডাইনিং রুম আলোকিত হয়ে যায়।যেনো প্রান ফিরে পেয়েছে এই অন্ধকার ডাইনিং রুম।পিহু হাত নিজের পিঠের ব্যাগ টা আর আচার এর প্যাকেট টা সোফার উপর রেখে সোজা হয়ে দাড়াতেই।পিহুর নাকে কিছু পোড়ার গন্ধ ভেসে আসলো।তবে গন্ধ টা আগের চেয়ে বেশি তীব্র এখন।হটাৎ কিছু একটা পড়ে যাওয়ার ঝনঝন আওয়াজ ভেসে এলো বাতাসে সাথে গোঙানির আওয়াজ।
পিহু যেনো থমকে গেলো এক মুহুর্তের জন্য। এক মনে ভাবলো আমার সাথে মজা করছে।পিহুর ভাবনার মাঝে আবারো ভেসে এলো গোঙানোর শব্দ।পিহু ছুটে গেলো আতিয়া বেগমের ঘরে।না আতিয়া বেগম নেই তবে।রকিং চেয়ারে বসে উলটো দিকে ফিরে দুলছে ইলিয়াস চৌধুরী।
ইলিয়াস চৌধুরী কে দেখে পিহু একটু জোরেই বলে উঠলো…
-“বাবাই এসব কি আমার সাথে মজা করছো মামনি কই। আর বাইরে আজ আলো দাওনি কেন।
তবে কোনো সাড়া শব্দ এলো না ইলিয়াস চৌধুরীর থেকে।পিহুর বুকের ভিতরে ধুক করে উঠলো।আবার ডাকলো..
-“বাবাই ঘুমাচ্ছো এই ভর সন্ধাই ও বাবাই..?
পিহু জোরে একটা ডাক দিলো আতিয়া বেগম কে মামনি বলে।তবে কথা চার দেওয়ালে বাড়ি খেয়ে তার কানে এসেই বাড়ি খাচ্ছে।পিহু এক পা এক পা করে এগিয়ে গেলো ইলিয়াস চৌধুরী দিকে।ভ্রু যুগল কুচকে গেছে ইতিমধ্যে। ইলিয়াস চৌধুরীর সামনে দাড়াতেই পিহু নিজের মুখ চেপে ধরে দু পা পিছিয়ে গেলো।ঠাশ করে মেঝেতে পড়ে গেলো সে।ইলিয়াস চৌধুরীর কপাল বেয়ে তাজা রক্ত পড়ছে।বুকের বাম পাশে এখোনো ছুরি গেথে আছে।রক্ত বেরিয়ে সাদা পাঞ্জাবি লাল হয়ে গেছে।
পিহু কাপা কাপা শরীরে উঠে দাঁড়িয়ে ইলিয়াস চৌধুরীর গায়ে হাত দিলো।পিহু হাউমাউ করে কেদে উঠলো।চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়লো নোনাজল।ইলিয়াস চৌধুরী কে নাড়া দিতেই সোজা হয়ে থাকা মাথাটা হেলে পড়ে গেলো গলা থেকে।পিহু ভয়ংকর চিৎকার দিয়ে উঠলো বাবাই বলে।বেশ ভয় পেয়েছে মেয়েটা।
ইলিয়াস চৌধুরীর মাথা সাদা মার্বেলের মেঝেতে পড়ে গিয়ে র/ক্তে ভেসে গেলো।এদিকে গলা/হীন লা/শ টা চেয়ারে বসে আছে।আবারো গোঙানীর আওয়াজ পিহুর কানে ভেসে এলো।পিহু উঠে দাঁড়িয়ে মামুনি বলে ছুট লাগালো উপরে সিড়ির দিকে।তখন আবারো এলো শব্দটা।পিহু ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে দেখে রান্না ঘর থেকে আবারো কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ।
পিহু হুতোশে দৌড়ে রান্না ঘরে পৌছাতেই দ্বিতীয় বারের মতো পিহু থমকে যায়।আতিয়া বেগম পেটের ভিতরে ছুরি ধরে মেঝেতে পড়ে আছে।মেঘে দিয়ে তরল রক্ত বয়ে যাচ্ছে।সাথে মাথার কাছ টাও ভিজে গেছে রক্তে।পিহু দৌড়ে গিয়ে আতিয়ে বেগমের মাথা নিজের কোলে তুলে নেই তারপর ডাকতে শুরু করে…
-“ও.. মা..মামনি,,মামনি,,তাকাও না ও মামনি।
আতিয়া বেগম সাড়া দেই তবে পিহু বুজতে পারে হৃদস্পন্দন চলছে।মাথা কাজ করছে না তার।পিহু আবারো ডেকে ও.. ও মামনি তাকাও না,,.?
পিহুর কথা শেষ হতে না হতেই কেমন মায়াময়ী চোখ নিয়ে জল ভরা দৃষ্টিতে তাকায় পিহুর দিকে আতিয়া বেগম।।দাতে দাত চেপে কাপা কাপা কন্ঠে বলে উঠে…
-“আ..আমার সা..দি টারে দেখে রাখিস মা।
আর কথা বকে না আতিয়া বেগম।শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে তিনিও ছেড়ে গেলেন।পিহুর বুক ভার হয়ে আসেম।বুক ফাটা চিৎকার দিয়ে ডেকে উঠে আতিয়া বেগমে তবে তিনি আর উঠে না।
পিহু কাদতে কাদতে ঝাকায় আতিয়া বেগম কে তবে তিনি আর সাড়া দেন না।পিহু কাদতে কাদতে বলে উঠে…
-“ও…মামনি কি হয়েছে তোমার।চুপ করলে কেন।ও মামনি।দেখো না বাবাই কে কারা কি করেছে।ও মামনি।একটু তাকাও না।দেখো তোমার পিহুর দোম বন্ধ হয়ে আসছে।ও মামনি।আমি আচার এনেছি খাবেনা।দেখো তোমার ছেলে কত গুলো কিনে দিয়েছে।আমি ভাগ চাইবো না মামনি উঠো না।ও মামনি একটু তাকাও না।তুমিতো তোমার পিহুর কান্না দেখতে পারো না।একবার তাকাও না আমার দিকে ও মামনি।আমি আর দুষ্টামি করবো না। তুমি যা বলবে তাই করবো মামনি একবার আমার সাথে কথা বলো আমার দুনিয়া অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে ও মামনি।
আতিয়া বেগমের থেকে আর কোনো শব্দ আসে না।পোড়া গন্ধ টা বাড়তে থাকে।তবে কোথা থেকে আসছে জানে না পিহু।এখন তার মাথায় কাজ করছে না।খুব কষ্টে উঠে দাঁড়িয়ে টলতে টলতে সোফার কাছে গিয়ে ফোন্টা কোনোমতে নিলো।তারপর কাপা হাতে ডায়ালপ্যাড এ ঢুকে সাদির নাম্বারে ফোন দিলো।
সাদি হসপিটালে নিজের বন্ধুদের সাথে তখন আড্ডা ব্যাস্ত।পকেটে ফোন বাজতে দেখে ধরতে চাইলো না।তবে কি মনে করে বের করে পিহুর নাম্বার দেখেই ভ্রু কুচকালো সাদি।এক পলক বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে ফোনটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে পিহু কাদতে কাদতে বলে উঠলো..
-“সা..সাদি দেখেন না বাবাই কে কারা বুকে ছুরি ফুটিয়ে দিয়েছে।সাথে মামনিকেও। মামনি কথা বলছে না। সাদি।আমার দোম বন্ধ হয়ে আসছে।কি হয়েছে ওদের একটু আসেন না।
আর কথা কানে এলো না সাদির ঠাশ করে ফোন্টা কান থেকে পড়ে গেলো তার।দুনিয়া এক মুহুর্তের জন্য থমকে গেলো।হুশ ফিরতেই পাগলের মতো ছুটে বেরিয়ে গেলো সাদি।সাথে বন্ধুরাও বেরোলো।
খেয়ে নে মা কদিন আগেই জ্বর থেকে উঠলি খেয়ে নে জেদ ধরিস না তো।
-“বললাম না মামুনি আমি খাবো না।
-“আবার অসুস্থ হয়ে যাবি মা।
-“মামুনি প্লিজ জোর করিও না পেট ভরে গেছে।আর আমি মাছ খাই না।
-“কাটা বেছে দিচ্ছি তো খেয়ে নে আর কয়েক গাল।
-” তুমি খাও তো।
বলেই পিহু চলে যেতে চাইলো ঠিক তখনই আতিয়া বেগম চিৎকার দিয়ে বললো..
-“পিহু…!
পিহুর ঘুম ছুটে যায়।পুরো দু ঘন্টা পর সেন্স এসেছে পিহুর।চোখ খুলতেই নিজেকে আবিষ্কার করে হসপিটালের বিছানায়।মাথার কাছে জেরিন বসে।পিহু চোখ মেলে তাকাতে দেখে বাইরে খবর দিয়ে আসে।জেরিনের চোখে পানি কি বলে শান্তনা দিবে পিহুকে।হটাৎ এমনে সিচুয়েশনে পড়ে পিহুর মতিষ্ক এর শকড হয়ে গেছিলো।সেজন্য জ্ঞান হারিয়ে ছিলো সে।রাত আটটা চল্লিশ।
পিহু জেরিনের দিকে মুখ ঘুরিয়ে উঠে বসে প্রশ্ন করে সা..দি কই।আমার মামনি ঠিক আছে তো।আমি মামনির কাছে যাবো।পিহু পাগলামি শুরু করে।জেরিনের ও চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে।তারও কান্না আসছে এই মেয়েটার কি হবে। প্রথমে বাপ মা কে হারালো।আর আবার বাপ মায়ের মতো আপন চাচা চাচীকেও হারালো।
পিহুর পাগলামি তে জেরিনে পিহুকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে কেদে উঠলো।পিহুর মন সহসা কেপে উঠে।জেরিন কে নিজের থেকে ছাড়িয়ে বলে..
-“কাদছিস কেন ত..তুই।মামনি ঠিক আছে তো।কিছু হিয়নি তো।এই।
জেরিনের মুখে বলার কোনো ভাষা আসে না।পিহু বিছানা থেকে নেমে দাড়িয়েছে।জেরিন কে ধাক্কা দিয়ে বলে উঠে…
-“এই তুই কাদছিস কেন..?
জেরিন এবার ভেউ ভেউ করে কেদে ফেলে।কাদতে বলে…
-“আন্টি আর নেই রে।কেও নিজের ক্ষোভ পুশিয়ে আঙ্কেল আন্টিকে নির্মম ভাবে খুন করেছে।
আর নেই কথাটা কর্ন হরে পৌছাতেই পিহুর পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যায়।মাথাটা আবারো চক্কর দিয়ে উঠে পিহুর।বুকের ভিতরে কেমন হাহাকার করে উঠলো…
পিহু এবার থমকে গেলো।পুরো নির্জীব পাথরের মতো।ঠিক তখনই কেবিনের দরজা ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করলো সাদির এক বন্ধু আনাফ।আনাফ এসে জেরিন কে বললো পিহুকে নিয়ে যেতে বাইরে। শেষ বারের মতো দেখতে।জেরিনের ও যেনো কথাটাই বুকের মধ্যে হাহাকার করে উঠলো।খুব ভালোবাসতেন তাকে আতিয়া বেগম।ঠিক মায়ের মতো।
জেরিন পিহুকে নিয়ে ধীরে সুস্থে বাইরে এলো।হসপিটাল এর বাইরে আসতেই রিকশায় উঠে বসলো দুজনে।রিকশা চলতে শুরু করলো।চৌধুরী বাড়ির সামনে এসে দাড়াতেই দেখলো ব্বশ কিছু ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নিভাচ্ছে।জেরিনে ধীর কন্ঠে বললো।বাড়িতে বোম ফিট করা ছিলো ধারনা করেছে।তাই এই অবস্থা।চৌধুরী বাড়ির বিশাল ফুল বাগানের এক পাশে জানাযা হবে।তাই সেখানে রাখা হয়েছে।পরর্তীতে গোর/স্থান এ নিয়ে যাওয়া হবে।পিহুকে রিকশা থেকে নামিয়ে সাদা কাফনে জড়ানো লা/শ দুটির সামনে নিয়ে যাওয়া হলো।ইলিয়াস চৌধুরীর লা/শের মাথার কাছে সাদি দাঁড়িয়ে আছে পাশে ওর বন্ধুরা।সাদি আজ পিহুর মতো নির্জীব।সাদি শান্ত চোখে তাকিয়ে আছে সাদা কাপড়ে জড়ানো বাবা মায়ের দিকে।সাদির চোখে পানি নেই।অতি কষ্টে পাথর হয়ে গেছে সাদি আজ।বুকের ভিতর দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে তার।
জেরিন পিহুকে নিয়ে আতিয়া বেগমের লা/শের সামনে দাড়াতেই। পিহু আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো। বুক ফাটা চিৎকারে আতিয়া বেগমের নিথর শরীর টা জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেদে উঠলো।পিহুর কান্না আর্তনাদ সবার হৃদয়ের মনিকোঠায় গিয়ে ঠেকছে।
চলবে….
-(আজ আর বলার কিছু নেই।এই পর্ব টা লিখতে গিয়ে নিজের হাত কেপেছে।চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়েছে)-
চ
পর্ব_৩১
লেখিকাসারাচৌধুরী
🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫
পিহু সুইচ এ চাপ দিতেই পুরো ডাইনিং রুম আলোকিত হয়ে যায়।যেনো প্রান ফিরে পেয়েছে এই অন্ধকার ডাইনিং রুম।পিহু হাত নিজের পিঠের ব্যাগ টা আর আচার এর প্যাকেট টা সোফার উপর রেখে সোজা হয়ে দাড়াতেই।পিহুর নাকে কিছু পোড়ার গন্ধ ভেসে আসলো।তবে গন্ধ টা আগের চেয়ে বেশি তীব্র এখন।হটাৎ কিছু একটা পড়ে যাওয়ার ঝনঝন আওয়াজ ভেসে এলো বাতাসে সাথে গোঙানির আওয়াজ।
পিহু যেনো থমকে গেলো এক মুহুর্তের জন্য। এক মনে ভাবলো আমার সাথে মজা করছে।পিহুর ভাবনার মাঝে আবারো ভেসে এলো গোঙানোর শব্দ।পিহু ছুটে গেলো আতিয়া বেগমের ঘরে।না আতিয়া বেগম নেই তবে।রকিং চেয়ারে বসে উলটো দিকে ফিরে দুলছে ইলিয়াস চৌধুরী।
ইলিয়াস চৌধুরী কে দেখে পিহু একটু জোরেই বলে উঠলো…
-“বাবাই এসব কি আমার সাথে মজা করছো মামনি কই। আর বাইরে আজ আলো দাওনি কেন।
তবে কোনো সাড়া শব্দ এলো না ইলিয়াস চৌধুরীর থেকে।পিহুর বুকের ভিতরে ধুক করে উঠলো।আবার ডাকলো..
-“বাবাই ঘুমাচ্ছো এই ভর সন্ধাই ও বাবাই..?
পিহু জোরে একটা ডাক দিলো আতিয়া বেগম কে মামনি বলে।তবে কথা চার দেওয়ালে বাড়ি খেয়ে তার কানে এসেই বাড়ি খাচ্ছে।পিহু এক পা এক পা করে এগিয়ে গেলো ইলিয়াস চৌধুরী দিকে।ভ্রু যুগল কুচকে গেছে ইতিমধ্যে। ইলিয়াস চৌধুরীর সামনে দাড়াতেই পিহু নিজের মুখ চেপে ধরে দু পা পিছিয়ে গেলো।ঠাশ করে মেঝেতে পড়ে গেলো সে।ইলিয়াস চৌধুরীর কপাল বেয়ে তাজা রক্ত পড়ছে।বুকের বাম পাশে এখোনো ছুরি গেথে আছে।রক্ত বেরিয়ে সাদা পাঞ্জাবি লাল হয়ে গেছে।
পিহু কাপা কাপা শরীরে উঠে দাঁড়িয়ে ইলিয়াস চৌধুরীর গায়ে হাত দিলো।পিহু হাউমাউ করে কেদে উঠলো।চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়লো নোনাজল।ইলিয়াস চৌধুরী কে নাড়া দিতেই সোজা হয়ে থাকা মাথাটা হেলে পড়ে গেলো গলা থেকে।পিহু ভয়ংকর চিৎকার দিয়ে উঠলো বাবাই বলে।বেশ ভয় পেয়েছে মেয়েটা।
ইলিয়াস চৌধুরীর মাথা সাদা মার্বেলের মেঝেতে পড়ে গিয়ে র/ক্তে ভেসে গেলো।এদিকে গলা/হীন লা/শ টা চেয়ারে বসে আছে।আবারো গোঙানীর আওয়াজ পিহুর কানে ভেসে এলো।পিহু উঠে দাঁড়িয়ে মামুনি বলে ছুট লাগালো উপরে সিড়ির দিকে।তখন আবারো এলো শব্দটা।পিহু ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে দেখে রান্না ঘর থেকে আবারো কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ।
পিহু হুতোশে দৌড়ে রান্না ঘরে পৌছাতেই দ্বিতীয় বারের মতো পিহু থমকে যায়।আতিয়া বেগম পেটের ভিতরে ছুরি ধরে মেঝেতে পড়ে আছে।মেঘে দিয়ে তরল রক্ত বয়ে যাচ্ছে।সাথে মাথার কাছ টাও ভিজে গেছে রক্তে।পিহু দৌড়ে গিয়ে আতিয়ে বেগমের মাথা নিজের কোলে তুলে নেই তারপর ডাকতে শুরু করে…
-“ও.. মা..মামনি,,মামনি,,তাকাও না ও মামনি।
আতিয়া বেগম সাড়া দেই তবে পিহু বুজতে পারে হৃদস্পন্দন চলছে।মাথা কাজ করছে না তার।পিহু আবারো ডেকে ও.. ও মামনি তাকাও না,,.?
পিহুর কথা শেষ হতে না হতেই কেমন মায়াময়ী চোখ নিয়ে জল ভরা দৃষ্টিতে তাকায় পিহুর দিকে আতিয়া বেগম।।দাতে দাত চেপে কাপা কাপা কন্ঠে বলে উঠে…
-“আ..আমার সা..দি টারে দেখে রাখিস মা।
আর কথা বকে না আতিয়া বেগম।শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে তিনিও ছেড়ে গেলেন।পিহুর বুক ভার হয়ে আসেম।বুক ফাটা চিৎকার দিয়ে ডেকে উঠে আতিয়া বেগমে তবে তিনি আর উঠে না।
পিহু কাদতে কাদতে ঝাকায় আতিয়া বেগম কে তবে তিনি আর সাড়া দেন না।পিহু কাদতে কাদতে বলে উঠে…
-“ও…মামনি কি হয়েছে তোমার।চুপ করলে কেন।ও মামনি।দেখো না বাবাই কে কারা কি করেছে।ও মামনি।একটু তাকাও না।দেখো তোমার পিহুর দোম বন্ধ হয়ে আসছে।ও মামনি।আমি আচার এনেছি খাবেনা।দেখো তোমার ছেলে কত গুলো কিনে দিয়েছে।আমি ভাগ চাইবো না মামনি উঠো না।ও মামনি একটু তাকাও না।তুমিতো তোমার পিহুর কান্না দেখতে পারো না।একবার তাকাও না আমার দিকে ও মামনি।আমি আর দুষ্টামি করবো না। তুমি যা বলবে তাই করবো মামনি একবার আমার সাথে কথা বলো আমার দুনিয়া অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে ও মামনি।
আতিয়া বেগমের থেকে আর কোনো শব্দ আসে না।পোড়া গন্ধ টা বাড়তে থাকে।তবে কোথা থেকে আসছে জানে না পিহু।এখন তার মাথায় কাজ করছে না।খুব কষ্টে উঠে দাঁড়িয়ে টলতে টলতে সোফার কাছে গিয়ে ফোন্টা কোনোমতে নিলো।তারপর কাপা হাতে ডায়ালপ্যাড এ ঢুকে সাদির নাম্বারে ফোন দিলো।
সাদি হসপিটালে নিজের বন্ধুদের সাথে তখন আড্ডা ব্যাস্ত।পকেটে ফোন বাজতে দেখে ধরতে চাইলো না।তবে কি মনে করে বের করে পিহুর নাম্বার দেখেই ভ্রু কুচকালো সাদি।এক পলক বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে ফোনটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে পিহু কাদতে কাদতে বলে উঠলো..
-“সা..সাদি দেখেন না বাবাই কে কারা বুকে ছুরি ফুটিয়ে দিয়েছে।সাথে মামনিকেও। মামনি কথা বলছে না। সাদি।আমার দোম বন্ধ হয়ে আসছে।কি হয়েছে ওদের একটু আসেন না।
আর কথা কানে এলো না সাদির ঠাশ করে ফোন্টা কান থেকে পড়ে গেলো তার।দুনিয়া এক মুহুর্তের জন্য থমকে গেলো।হুশ ফিরতেই পাগলের মতো ছুটে বেরিয়ে গেলো সাদি।সাথে বন্ধুরাও বেরোলো।
খেয়ে নে মা কদিন আগেই জ্বর থেকে উঠলি খেয়ে নে জেদ ধরিস না তো।
-“বললাম না মামুনি আমি খাবো না।
-“আবার অসুস্থ হয়ে যাবি মা।
-“মামুনি প্লিজ জোর করিও না পেট ভরে গেছে।আর আমি মাছ খাই না।
-“কাটা বেছে দিচ্ছি তো খেয়ে নে আর কয়েক গাল।
-” তুমি খাও তো।
বলেই পিহু চলে যেতে চাইলো ঠিক তখনই আতিয়া বেগম চিৎকার দিয়ে বললো..
-“পিহু…!
পিহুর ঘুম ছুটে যায়।পুরো দু ঘন্টা পর সেন্স এসেছে পিহুর।চোখ খুলতেই নিজেকে আবিষ্কার করে হসপিটালের বিছানায়।মাথার কাছে জেরিন বসে।পিহু চোখ মেলে তাকাতে দেখে বাইরে খবর দিয়ে আসে।জেরিনের চোখে পানি কি বলে শান্তনা দিবে পিহুকে।হটাৎ এমনে সিচুয়েশনে পড়ে পিহুর মতিষ্ক এর শকড হয়ে গেছিলো।সেজন্য জ্ঞান হারিয়ে ছিলো সে।রাত আটটা চল্লিশ।
পিহু জেরিনের দিকে মুখ ঘুরিয়ে উঠে বসে প্রশ্ন করে সা..দি কই।আমার মামনি ঠিক আছে তো।আমি মামনির কাছে যাবো।পিহু পাগলামি শুরু করে।জেরিনের ও চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে।তারও কান্না আসছে এই মেয়েটার কি হবে। প্রথমে বাপ মা কে হারালো।আর আবার বাপ মায়ের মতো আপন চাচা চাচীকেও হারালো।
পিহুর পাগলামি তে জেরিনে পিহুকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে কেদে উঠলো।পিহুর মন সহসা কেপে উঠে।জেরিন কে নিজের থেকে ছাড়িয়ে বলে..
-“কাদছিস কেন ত..তুই।মামনি ঠিক আছে তো।কিছু হিয়নি তো।এই।
জেরিনের মুখে বলার কোনো ভাষা আসে না।পিহু বিছানা থেকে নেমে দাড়িয়েছে।জেরিন কে ধাক্কা দিয়ে বলে উঠে…
-“এই তুই কাদছিস কেন..?
জেরিন এবার ভেউ ভেউ করে কেদে ফেলে।কাদতে বলে…
-“আন্টি আর নেই রে।কেও নিজের ক্ষোভ পুশিয়ে আঙ্কেল আন্টিকে নির্মম ভাবে খুন করেছে।
আর নেই কথাটা কর্ন হরে পৌছাতেই পিহুর পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যায়।মাথাটা আবারো চক্কর দিয়ে উঠে পিহুর।বুকের ভিতরে কেমন হাহাকার করে উঠলো…
পিহু এবার থমকে গেলো।পুরো নির্জীব পাথরের মতো।ঠিক তখনই কেবিনের দরজা ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করলো সাদির এক বন্ধু আনাফ।আনাফ এসে জেরিন কে বললো পিহুকে নিয়ে যেতে বাইরে। শেষ বারের মতো দেখতে।জেরিনের ও যেনো কথাটাই বুকের মধ্যে হাহাকার করে উঠলো।খুব ভালোবাসতেন তাকে আতিয়া বেগম।ঠিক মায়ের মতো।
জেরিন পিহুকে নিয়ে ধীরে সুস্থে বাইরে এলো।হসপিটাল এর বাইরে আসতেই রিকশায় উঠে বসলো দুজনে।রিকশা চলতে শুরু করলো।চৌধুরী বাড়ির সামনে এসে দাড়াতেই দেখলো ব্বশ কিছু ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নিভাচ্ছে।জেরিনে ধীর কন্ঠে বললো।বাড়িতে বোম ফিট করা ছিলো ধারনা করেছে।তাই এই অবস্থা।চৌধুরী বাড়ির বিশাল ফুল বাগানের এক পাশে জানাযা হবে।তাই সেখানে রাখা হয়েছে।পরর্তীতে গোর/স্থান এ নিয়ে যাওয়া হবে।পিহুকে রিকশা থেকে নামিয়ে সাদা কাফনে জড়ানো লা/শ দুটির সামনে নিয়ে যাওয়া হলো।ইলিয়াস চৌধুরীর লা/শের মাথার কাছে সাদি দাঁড়িয়ে আছে পাশে ওর বন্ধুরা।সাদি আজ পিহুর মতো নির্জীব।সাদি শান্ত চোখে তাকিয়ে আছে সাদা কাপড়ে জড়ানো বাবা মায়ের দিকে।সাদির চোখে পানি নেই।অতি কষ্টে পাথর হয়ে গেছে সাদি আজ।বুকের ভিতর দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে তার।
জেরিন পিহুকে নিয়ে আতিয়া বেগমের লা/শের সামনে দাড়াতেই। পিহু আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো। বুক ফাটা চিৎকারে আতিয়া বেগমের নিথর শরীর টা জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেদে উঠলো।পিহুর কান্না আর্তনাদ সবার হৃদয়ের মনিকোঠায় গিয়ে ঠেকছে।
চলবে….
-(আজ আর বলার কিছু নেই।এই পর্ব টা লিখতে গিয়ে নিজের হাত কেপেছে।চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়েছে)-
Share On:
TAGS: নিষিদ্ধ চাহনা, সারা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১২
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৭
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৮
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৪
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৪
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৭
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৩
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৯
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২৮ (খ)