নিষিদ্ধ_চাহনা
পর্ব_৩০
লেখিকাসারাচৌধুরী
🚫অনুমতি বাদে কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ🚫
ফাকা রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলছে আপন গতিতে। সাদির ঠোঁটে হাসি চিক চিক করছে নিজের অজান্তেই।সাদা শার্ট এর উপরের দুটো বোতাম খোলা।লোমহীন বক্ষ বিদ্যমান।চোখে থাকা কালো সানগ্লাস এর ভিতরে থাকা চোখেও হাসি।আজকেও পিহু কে বোকা বানাবে সে।যেকোনো ভাবে।সাদি এক পলক তাকালো নিজের হাত ঘড়ির দিকে।আপাতত হসপিটাল যাবে তার আগে পিহুকে কোচিং এর সামনে নামিয়ে দিয়ে আসবে।কারন উকিলের চেম্বার এখন অফ লান্সের টাইম।
পিহুর ঠোঁটেও হাসি।খুকে রাখা চুল গুলো খোলা জানালার বাতাসে এলোমেলো ভাবে উড়ছে দিক বেদিক।সামনের ছোট চুল গুলো বার বার চোখের ঘন পাপড়িতে এসে বাড়ি খাচ্ছে।পিহু চুল গুলো একত্রে করে কানের পিছনে গুজে দিলো।আজ যেহেতু ভিন্ন রাস্তা দিয়ে সাদি ড্রাইভ করছে আর রাস্তা বেশ ফাকা হওয়ায় পিহুর বেশ ভালোই লাগছে।পিহু ঠোঁটে হাসি রেখে সাদির দিকে তাকায়।তারপর বলে….
-“একটা কথা বলি…?
সাদি নিশ্চুপ সামনে তাকিয়ে এক ধ্যানে গাড়ি চালাচ্ছে।মুখের ভাব গম্ভীর।পিহু কোনো প্রতিউত্তর না পেয়ে বলে উঠলো…
-“একটু তাড়াতাড়ি আসবেন নিতে।মামনির জন্য আচার নিতে হবে।মোড়ের ওই দোকান থেকে তার আগে আবার উকি….
-“চুপ স্টুপিড। এত বক বক করিস কেন কানের মাথা খেয়ে গেলো আমার।
হুট করে গাড়ি এক সাইটে ব্রেক কষিয়ে সাদি ধমকের সুরে বলে উঠে।সাদির ধমকে পিহু কেপে উঠলো।পিহুকে চুপ থাকতে দেখে সাদি গম্ভীর কন্ঠেই বলে উঠলো…
-“আমি সাড়ে ছটা বা ছয় টা আসবো দাঁড়িয়ে থাকিস।আর এবার মুখ বন্ধ করবি কোনো কথা বললে এখানেই রেখে চলে যাবো।
সাদির কথায় পিহুর কপাল কুচকে গেলো।সাথে রাগ ও হলো।সেতো কোনো কথাই বলেনি।লোকটি তাকে ইনডেরক্টলি বাচাল পদবি দিলো।কি সর্বনাস এটা পিহু বেচে থাকতে মানবে পারবে না যে কেও তাকে বাচাল বলেছে।হ্যা সে একটু বক বক করে তাই বলে তাকে বাচাল বলবে এটা মোটেই ঠিক না।পিহু সিটের উপর পা তুলে আসন করে বসলো৷ তারপর সাদির দিকে চোখ ছোট করে বললো…
-“আপনি কি আমাকে ইন্ডিরেক্টলি বাচাল বললেন..?
সাদি গাড়ি চালানোয় মত্ত ছিলো।তার যখন খুব আনন্দ অনুভব হয় হৃদয়ে তখন এই শুনশান রাস্তায় এসে ড্রাইভ করে সে।মানুক আর না মানুক নিজের স্ত্রী কে পাশে বসিয়ে ড্রাইভিং করার সপ্ন পুরন হয়েছে সাদির।আর সাদি যানে প্রায় অধিকাংশ পুরুষের ইচ্ছাও তার মতো।সাদি চোখ সামনে রেখেই বললো…
-“আমি কাওকে মিন করে কিছু বলি না..!
-“আপনি আমকে মিন করছেন।আমি কি একবারো বেশি কথা বলেছি নাকি বেশি বক বক করি।আপনি বেশি বুজেন।আপনি বাচাল।
সাদি ফোশ করে শ্বাস ছাড়লো।চোখ থেকে সানগ্লাস নামিয়ে শার্টে ঝুলিয়ে রাখলো গকার কাছে।সিল্কি চুল গুলো দুলছে বাতাসে।সাদি জানে যদি পাগল বলা হয় সেতু নাড়া দিও না তাহলে পাগল সবার আগে সেতু নাড়া দিবে।সাদির কি যেনো হলো।খুব রাগাতে ইচ্ছা হলো পিহুকে।তাই আড়চোখে পিহুর দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো…
-“আমি ঝগড়া পারি না।তাই করলাম না।তবে আমি কাওকে মিন করি নি।যদি কারোর গায়ে গিয়ে লাগে তাহলে আমি তাকেই বলেছি।
কথাটি বলেই ঠোঁট টিপে হাসলো সাদি।বুজতে বাকি নেই।তার অবুঝ বউ এখন রাগে ফুলবে।হয়তো ফুলছে।সাদি পিহুকে আর একটু রাগানোর জন্য বলে উঠলো…
-“জীবনে বিনা কারনে ছাগলের তিন বাচ্চার মতো কাওকে কাদতে না দেখলেও আমাদের বাড়িতে এক ঝগড়ুটিকে দেখেছি।কথায় কথায় ম্যা ম্যা করে কাদতে।
পিহুর রাগ আকাশে উঠে গেলো।লোকটি কথায় কথায় তাকে অপমান করছে।সে কি ঝগড়া করেছে কারোর সাথে যে তাকে ঝগড়ুতে বললো।তার চেয়ে বড় কথা হলো তার বাপ মানুষ তাকে কেন ছাগলের বাচ্চা বলা হলো।পিহু ফুশছে। ফর্সা নাকের পাটা লাল হয়ে গেছে।সাদি আড়চোখে এক বার দেখে ঠোঁট উচু করে শিষ বাজাতেই।পিহু রেগে সাদির বাম হাতের বাহুতে ধাক্কা দিয়ে বলে উঠলো…
-“দেখুন সাদু..?
পিহুর কথাটি বলা মাত্রই গাড়ি ব্রেক কসলো।পিহু কিছু সরে গেলো হটাৎ ব্রেক কসায়।সাদি পড়ে যাওয়া থেকে আটকালো হাত দিয়ে।তারপর পিহুর দিকে এগিয়ে গেলো সিটের উপর পা ভাজ করে।পিহুর বুকের পানি শুকিয়ে গেছে এতক্ষনে।গাড়ির জানালায় সাথে লেগে গেলো পিহু।সাদি পিহুর দিকে আরেকটু এগিয়ে গিয়ে গিয়ে ফিশফিশ করে বললো…
-“কি দেখবো জা…..ন।
সাদির কথা পিহু কেপে উঠে চোখ বন্ধ করে নিলো চোখ খোলা রাখার মতো সাহস তার নেই।বুকের মধ্যে ডিড়িম দিড়িম করে ঢোল বাজাচ্ছে কেও।পিহুর কপালে ঘাম চিকচিক করছে। সাদি পিহুর ভয়াতুর মুখের দিকে একপলক তাকিয়ে পিহুর সিটের কোন থেকে পিহুর নিচে পড়ে থাকা ব্যাগ থেকে রোল করা একটা পেপার বের করে ব্যাক সিটে ছুড়ে মারলো।তারপর কিছু না বলেই গাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো সাদি।এদিকে মতিভ্রমে আটকে থাকা পিহু জল্পনায় দেখছে সাদি তার দিকে এগিয়ে আসছে।পিহু কাপা কাপা কন্ঠে বললো…
-“দ..দ..দেখুন….!
হটাৎ পিহুর মাথায় কারোর হাতের শক্ত গাট্টা খাওয়া ধ্যান ভাংলো পিহুর।মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে পিছু ঘুরতে চোখ পড়লো জেরিনের দিকে।জেরিন অবাক হয়ে পিহুর দিকে একপলক তাকিয়ে বললো…
-“তো পিহুরানী কাকে কি দেখাচ্ছিলি…?
পিহু স্তম্ভ হয়ে গেলো কিছু সময়ের জন্য। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলো সাদি গাড়িতে নেই।এটা তাদের কোচিং এর সামনে।স্যার চলে এসেছে আজ একটু আগেই।পিহু নিজের বোমামির জন্য লজ্জা পেলো মনে মনে তবে আর দেরি না করে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে গেলো গাড়ির দরজা খুলে।তারপর জেরিন আর পিহু চললো কোচিং এর ক্লাস রুমে।
পিহু বেরিয়ে চলে যেতেই সাদিও হাতে কয়েক্টা কচটেপ নিয়ে গাড়ির ভিতরে আসলো।বেশ কাজে লাগবে তার এই জিনস্টা।কেও বক বক করলে তার মুখে চিপকে দিবে।ক্ষনিকের জন্য মুখ বন্ধ হয়ে যাবে।সাদি গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার আগে ব্যাক সিট থেকে কাগজটা নিয়ে একটা সুনিপুন ভাবে চুমু আকলো।সে জানতো হুট করে পিহুর সান্নিধ্যে গেলে পিহু হতভম্ব হয়ে যায়।আর এটার সুজোগ নিলো সাদিম তারপর ডেভিল স্মাইল দিয়ে বিড়বিড় করে বললো…
-“পিহু’রানী আমি কোনো নায়ক না যে তোমার সুখের জন্য তোমাকে ছাড়বো।আমি হলাম ভিলেন যদি তোম্মাকে সুখি হতেই হয় তাহলে তোমাকে আমার সাথে থেকেই সুখি হতে হবে।
সাদি গাড়ি স্টার্ট দিলো উদ্দেশ্য হসপিটাল।ইমারজেন্সি কিছু রুগী দেখবে।তারপর পিহুকে নিয়ে বাড়ি ফিরবে।সাদি মনের সুখে গলায় শার্টের ভাজে রাখা সানগ্লাস টা তুলে চোখে দিয়ে ড্রাইভ করতে থাকলো।
সন্ধ্যা ছয়টা বত্রিশ।সাদি পিহুকে বাড়ির গেটের সামনে নামিয়ে দিয়ে আবার হসপিটালে চলে গেছে।আজ গেটে দারোয়ান নেই।পিহু বেশ বিরক্ত হলো।তার মন এমনিতেই ভালো না।তার উপর এই দারোয়ান গেলো কই।বড্ড ফাকিবাজ এই দারোয়ান।কিছুদিন আগেই রাখা হলো।আর আজ ডিউটি তে ফাকি।আজ বাবাই কে বলে বেটার চাকরি খাইয়ে দিবো। শিওর।বিড়বিড় করতে পিহু এসে পড়লো বাড়ির সিদর দরজায়।পিহুর ঘাড়ে স্কুল ব্যাগ।সাদির কাচজে রাম ধমক খেয়েছে বিয়ের সেই সব কাগজ হারিয়ে ফেলার জন্য। ওগুলা আবার নতুন করে না তুললে ডিভোর্স ও হবে না।তবে পিহু বুজতে পারছে না হারালো টা কোথায়।একটু লম্বা থাকায় ব্যাগ এর চেন ফুল না লাগিয়ে বাইরে রেখেছিলো কিছু অংশ কোথায় হয়তো পড়ে গেছে।কিন্তু পিহুর নিজের কাছে নিজের হারিয়ে ফেলার মতো বোকামির জন্য রাগ হলো।
পিহুর বাম হাতে আতিয়া বেগমের আনতে বলা কাঙ্খিত সাত রকমের আচার।সাদি বেশি করে কিনে দিয়েছে।যদিও সাদি না দিলে পিহু নিজেই কিনতো কারন তার ও খেতে ভালো লাগে।পিহু বার কয়েক বার কলিং বেল বাজালেও ভেতর থেকে কোনো রেসপন্স আসে না ভেসে আসে এক সুক্ষ নিস্তব্ধতা। পিহু দরজায় ঢাকা দিতেই খুলে যায় দরজা।পিহু বেশ অবাক হয়।বাইরে রাত হয়ে গেছে সুর্য সেই কখন ডুবেছে মামনি আজ সন্ধাবাতি দেইনি।পিহু বার কয়েক মামনি বলে ডাক দিলো তবে কোনো সাড়া পেলো না পিহু।হটাৎ কিছু নড়ার শব্দ হলে ভড়কে যায় পিহু।কিছু একটা পোড়া পোড়া গন্ধ আসছে।
পিহু বুজে যায়।সবাই তাকে ভয় দেখানোর প্রান্ক করছে।তাই পিহু মোবাইলে স্ক্রীনের আলোয় সোফার দিকে গেলো।তারপর বাড়ির লাইট এর সুইচ বোর্ড এ চাপ দিতেই……..
চলবে……
-(আশা করি এই পর্ব টা ভালো লাগবে।সবার রিকুয়েষ্ট এর কারনে ডিভোর্স আর হলো না।যদিও গল্পের থিম পরিবর্তন হবে না।কারন এই থিম টা আমার অনেক আগেই ভেবে রাখা ছিলো।কেওম হয়েছে বলে যাও)-
Share On:
TAGS: নিষিদ্ধ চাহনা, সারা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ৮
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৪
-
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ১৩
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২১
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৭
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৩
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১৫
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১২
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ২০
-
নিষিদ্ধ চাহনা পর্ব ১১