নির্লজ্জ_ভালোবাসা
পর্ব ৯ (বাচ্চাদের পড়া নিষেধ ❌)
লেখিকাঃ-#প্রিঁয়ঁসেঁনীঁ
শিহাব পাগলের মতো পুরো শহর তন্ন তন্ন করে তুরাকে খুঁজে চলেছে। ঢাকা শহরের গলি, পার্ক, রাস্তাঘাট, হোটেল প্রতিটি জায়গায় সে ঘুরে দেখেছে, মানুষকে জিজ্ঞেস করেছে, কিন্তু যেনো তুরার কোনো অস্তিত্ব নেই। প্রতিটি মুহূর্তে তার হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে, কিন্তু সে হাল ছাড়ছে না। চোখ লাল, হাতে মোবাইল, মানচিত্র, ঠিকানা সব কিছু ধরে সে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তার পাগলবাসা যেনো শহরকে কাঁপাচ্ছে।
ঢাকা খুঁজে শেষ করে শিহাব থেমে না, এবার রাজশাহী শহরে চলে আসে। শহরের প্রতিটি থানা, পুলিশ স্টেশনে যোগাযোগ করছে। ৫০০ জন পুলিশকে দিয়ে তুরাকে খুঁজছে প্রতিটি গলি, বাজার, রেস্তোরাঁ, লেকসাইড, হাসপাতাল, ট্রেন স্টেশন সব জায়গায় মানুষ খুঁজছে তুরাকে। পুলিশ-প্রচেষ্টা যতটা শক্তিশালী, তবুও তুরার কোনো খোঁজ নেই।
তবে শিহাব হাল ছাড়েনা। প্রতিটি ব্যর্থতার সঙ্গে তার প্রতিজ্ঞা আরও দৃঢ় হচ্ছে। তার মনে বারবার বাজছে আমি তুরাকে খুঁজে বের করবোই যতো কঠিনই হোক, যত সময়ই লাগুক, আমি ছাড়বো না। তুরা আমার, এবং আমি তাকে ফিরে নিয়ে আসব।শহরের মধ্যে যেনো তার একাকীত্ব আর ভালোবাসার তীব্রতা বাতাসে ঝাপসা হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে, আর প্রতিটি মানুষের চোখে ভেসে উঠছে এক অদম্য যন্ত্রণা আর আশা।
এদিকে তুরা তখন সেন্স হয়ে আছে এখন পর্যন্ত সেন্স ফেরেনি। রৌদ্র তুরা সেন্স নেই দেখে বুঝে নিল যে সে ঘুমিয়ে আছে এই ভেবে রৌদ্র শাওয়ার নেওয়ার জন্য ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ে। কিছুক্ষণ পর তুরার সেন্স ফিরে এবং পিলপিল করে চোখ খোলে। কয়েক সেকেন্ড বসে সে পরিস্থিতি উপলব্ধি করার চেষ্টা করে পর মুহূর্তেই রৌদ্রের সেই কাজটির কথা মনে পড়ে গেলে তুরা রাগে দাঁত কিরমির করে করে বলল।
“অনেক হয়েছে ভাইয়া, এই নাটক! পেয়েছে কি আমাকে? একে তো জোর করে এনে আটকে রেখেছে, তারপর আবার আমার সাথে নোংরা কাজ করছে। আর আমি চুপ করে থাকবো না।”
মুহূর্তে তুরা রাগে কাঁপতে কাঁপত চিৎকার করে রৌদ্র কে ডাকতে লাগলো।
“এই শয়তানের বাচ্চা রৌদ্র! কোথায় মরেছিস রে? নাকি আবার আয়নার সামনে নিজের হাসি দেখে প্রেমে পড়ে গেছিস! ওরে বেকুবের মহারাজ, আমি তোর নাটকে নায়িকা না, বুঝছিস? একবার সামনে আয়, এমন কানের নিচে দেব যে গুগল ম্যাপও তোর বাড়ি খুঁজে পাবে না! আহাম্মকের ব্যাটা!”
রৌদ্র মাএই সব কাপড় খুলে শুধু কোমরে তোয়ালেটা জড়ানোর পথে যাবে, ঠিক সেই সময় হঠাৎ ঘর থেকে তুরার গর্জনভরা চিৎকার ভেসে এলো। চমকে গিয়ে সে তাড়াহুড়ো করে দরজার দিকে দৌড় দিলো এমন তাড়া যে তোয়ালে কোমরে জড়াতেই ভুলে গেলো!পরের মুহূর্তে দরজার সামনে এসে দাঁড়াতেই দেখে,তুরা বিছানায় বসে আগুনের মতো রাগে ফুঁসছে। আর রৌদ্র, নিজের অবস্থার কথা না ভেবেই, হালকা হেসে বলল।
“জানে মান, তোর ঘুম ক্লিয়ার হয়েছে তো?”
তুরা রৌদ্রের কণ্ঠ শুনে ধীরে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল,আর মুহূর্তেই তার চোখ যেনো থেমে গেল সেই দৃশ্যে! রৌদ্র দাঁড়িয়ে আছে একেবারে নির্লজ্জ ভঙ্গিতে, তোয়ালেটাও নেই জায়গামতে! তুরার চোখ বড় বড় হয়ে গেল, মুখের চোয়াল কেঁপে উঠলো, আর পরক্ষণেই তার বুক ফাটানো চিৎকার ঘর কাঁপিয়ে তুলল।
“ও আল্লাহ আম্মা গোওওওওওওওওওওওও……!”
চিৎকারের শেষ প্রান্তে গিয়ে তুরার কণ্ঠ থেমে গেল,চোখ উল্টে গিয়ে সে ধপ করে বিছানায় লুটিয়ে পড়লো। আবারও সেন্স হারালো!বেচারি তুরা যেভাবে কষ্ট করে একটু আগে চেতনায় ফিরেছিল, সেভাবেই আবার চলে গেলো ঘুমের দেশে।রৌদ্র তুরার চিৎকার শুনে হতভম্ব দাঁড়িয়ে আছে। তুরা আম্মা গোওওওও বলে ধপ করে বিছানায় লুটিয়ে পড়েছে। রৌদ্র চোখ কুঁচকে তাকিয়ে দেখছে।
“এইটা কি হলো? মানে, আমি শুধু জিজ্ঞেস করলাম ঘুম ক্লিয়ার কিনা এইটা কি এখন সেন্স হারানোর মতো কথা?”
রৌদ্র ধীরে ধীরে তুরার কাছে গেলো, তুরার মুখের সামনে হাত নাড়ল, কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। তারপর নিজের মাথা চুলকে বিড়বিড় করে বলল।
“আমার কি বিয়ে হবে না সা’লির মাতারি তো বার বার সেন্স হারিয়ে ফেলছে।”
হঠাৎ রৌদ্রের চোখ নিজের শরীরের দিকে গেল। কয়েক সেকেন্ডের জন্য সে জমে গেলো তারপর মুখে এমন এক ভাব এলো, যেনো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অপরাধ সে করে ফেলেছে।
” ও সেট তোয়ালে ?।”
রৌদ্র সাথে সাথে এক দৌড়ে ওয়াশরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করলো, যেনো পিছনে পুলিশ ধাওয়া করছে। তাড়াহুড়া করে তাওয়্যাল কোমরে পেঁচাতে পেঁচাতে আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজের চেহারা দেখেই একদম হতবাক হয়ে গেল। নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে দাঁত কেলিয়ে রাগে গর্জে উঠল,
“তুই সালা মানুষ না, মহা মানুষ! বাসর না করেই ভবিষ্যত বউকে বার বার সেন্স করে ফেলছিস?!”
তারপর নিজেই নিজের মাথায় হালকা একটা চাপড় মেরে বলল,
“এইটা কেমন জীবন রে রৌদ্র? তুই তো প্রেম না করছিস, সরাসরি হার্ট অ্যাটাক দিছিস মেয়েটারে! আর কার প্রেমে তুই পড়লি যে তোর ইয়ে দেখেই সেন্স হারিয়ে ফেলেছে, তাহলে তোর ইয়ের জোড় কিভাবে সামলাবে। সালা এখন তোকে আমার মারতে ইচ্ছে করছে, খোদার কসম তোরে যদি আমি কাছে পাইতাম তোর মাথা আমি তিন ফাল্টা করতাম।তোর ভাগ্য ভালো বেঁচে গেলি আজ তুই আমি বলে হাহ্।”
ডাক্তার এসে তুরার সবকিছু পরীক্ষা করে রৌদ্রের উদ্দেশ্যে বলল,
“আসলে মনে হচ্ছে মেয়েটা জ্ঞ্যান হারানোর আগে এমন কিছু দেখেছে, যা তার বুকের ভেতর হৃদস্পন্দনকে প্রচণ্ডভাবে কাঁপিয়ে দিয়েছে। অতিরিক্ত ধাক্কা আর মানসিক চাপের কারণে সে দুর্বল হয়ে পড়েছে, তাই নিজের হুশে থাকতে পারেনি।”
রৌদ্র ডাক্তারের কথা শুনে নিজের চোখে ক্ষোভ আর হতাশার মিলন বয়ে নিয়ে বিরবির করে বলল,
“হ্যাঁ দেখেছে তো ভবিষ্যত? যা সুন্দর হতে পারতো, সেই আগেই শালি মাতারি অন্ধকারে ডুবে গেছে।”
ডাক্তার রৌদ্রকে কিছু বিরবির করে বলতে দেখে হালকা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন।
“হ্যাঁ, কিছু বলছিলেন?”
রৌদ্র নিজেকে ধরে নিঃশ্বাস দিয়ে বলল,
“না, আপনি আপনার কাজ করুন। আর যাই হোক, তার সেন্স কখন ফিরবে?”
ডাক্তার ধীরে ধীরে উত্তর দিলেন।
“সেটা ঠিকভাবে বলতে পারছি না। তবে আসতে পারে যে কোনো সময়। তবে গুরুত্বপূর্ণ হলো যে জিনিসটি মেয়েটা দেখেছে, সেটি তার কাছ থেকে সরিয়ে রাখবেন। অন্যথায় আবারও সে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।”
রৌদ্র হালকা ব্যঙ্গভরে হেসে আবারও বিরবির করে বলল,
“হাহ্ এখন আমি কেটে ফেলি, তাই তো বলিস আবালের ঘরের বা’লের ডাক্তার!”
ডাক্তার রৌদ্রকে আবারো কিছু বিরবির করে বলতে দেখে কৌতূহল নিয়ে কান পেতে জিজ্ঞেস করলেন।
“হ্যাঁ, মিস্টার রৌদ্র, আপনি কি কিছু বলছিলেন?”
রৌদ্র এক ঝলসানো হাসি ছুঁড়ে, বিরক্ত কণ্ঠে বলল।
“হ্যাঁ আমার বা’ল কাটার কথা ভাবছিলাম,। বেশি কথা না বলে আগে ওর সেন্স ফিরান, আমার বিয়ে দেরি হয়ে যাচ্ছে।”
রৌদ্রের কথায় ডাক্তার থমথমে হয়ে গিয়ে কিছু বলতে পারল না। কোনো রকম একটু নড়েচড়ে তুরাকে আবারও ভালো করে দেখে, মুখ ফ্যাঁকা করে বলল,
“আমি এখন বলে দিতে পারছি না, এই মেয়েটার সেন্স কখন আসবে।”
তাতেই রৌদ্র চোখ কুঁচকে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল,
“তাহলে তুই সা’লা বসে আছিস কেনো, আমার বা’ল চুষার জন্য?”
ডাক্তার সঙ্গে সঙ্গেই এক প্রকার দৌড়ে বেরিয়ে গেলেন। রৌদ্র তুরার ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে, ঠোঁটে অর্ধেক হাসি নিয়ে বলল,
“জানে মান, তুই আমার ধৈর্য নিয়ে খেলছিস? হাহ্ সময় হোক ১০ বছরে পাঁচটা বাচ্চা তোকে গিফ্ট করবো সাথে ২ টা ফ্রী আর ১ বোনাস রেডি থাকিস।”
,,,,,,
দুই দিন পর, পিলপিল করে তুরা চোখ খুলে চারপাশটা বোঝার চেষ্টা করতে থাকে। ধীরে ধীরে সে উঠে বসে, গলাটা শুকিয়ে কাঁটের মতো বেদনা দিচ্ছে। চারদিক চোখ বুলিয়ে দেখতে পায় নিজেকে হসপিটালের একটি বেডে। অবাক হয়ে ভেতরে ভেতরে প্রশ্ন জাগে,আমি কীভাবে এখানে এলাম? মুহূর্তের মধ্যে সব কিছু স্মৃতিতে ফেরে, ঘটনাগুলো একের পর এক ঝাপসা হয়ে ভেসে আসে। সঙ্গে সঙ্গে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে তুরা বলে ওঠে।
“ওই ওই ওইটা কী কী ছিলো?”
তুরা ধীরে ধীরে হাসপাতালের বেড থেকে নেমে দাঁড়ালো। চারপাশে ঘুরে দেখে কেউ নেই। এক পা পরতে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরটা দুর্বল হয়ে আসে, যেন প্রতিটা পদক্ষেপে শক্তি ফুরিয়ে যাচ্ছে। বুকের ভিতরে একটা অদ্ভুত চাপ, হালকা মাথা ঘোরা সব মিলিয়ে তুরার কায়া যেনো ভারী হয়ে পড়েছে।
কোনো রকম সামলে সামলে হাঁটতে হাঁটতে, কোনো ডাক্তার বা পরিচিত কারো সঙ্গে মুখোমুখি না হয়ে, তুরা হাসপাতালের বাইরে এসে পড়ে। বাইরে আসতেই চোখের সামনে নতুন শহর, নতুন রাস্তাঘাট, নতুন মানুষ সবকিছুই তুরার জন্য একেবারে অপরিচিত। তুরা চমকে যায়, চোখ বড় বড় করে চারপাশ দেখে। বাতাসে নতুন শহরের গন্ধ, মানুষের হট্টগোল, গাড়ির শব্দ সব মিলিয়ে তুরার মনকে এক অদ্ভুত অনুভূতিতে ভরে দেয়।
মুহূর্তে তুরার মনে পড়ে গেল রৌদ্রের কথা। চোখ চারপাশে খুঁজে দেখে, কিন্তু রৌদ্রকে কোথাও দেখতে পাচ্ছে না। সেই সুযোগটাই তুরা কাজে লাগালো। বুকের ভিতরে এক অদ্ভুত সাহস জন্ম নিলো যাতে রৌদ্রের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারে।
মন যে দিকে চাইছে, সেই দিকে ধীরে ধীরে হাঁটা শুরু করলো তুরা। কয়েকটা পা এগোতেই দৌড় শুরু করলো, যেন প্রতিটি দৌড় তাকে আরও স্বাধীনতা দিচ্ছে। শরীর দুর্বল হলেও, মনে এক অদ্ভুত শক্তি কাজ করছে। শহরের নতুন রাস্তায় পা রাখতেই মনে হলো, এখান থেকেই শুরু হবে তার নিজস্ব পথ, যেখানে সে নিজের ইচ্ছার জন্য দৌড়াতে পারবে।
রৌদ্র কিছুক্ষণ রেস্টুরেন্টে ছিলো। সেখানে একটা অফিসের ক্রাইং দের সাথে ভিড়িও কলে ম্যাটিং করে আসলো । সেদিন রাতেই রৌদ্র তুরাকে হসপিটালে এনে পড়েছিলো। হাসপাতালে কমপক্ষে চারটি সেলাইন তুরার শরীরে দেওয়া হয়েছে।রৌদ্র হসপিটালে ঢুকে সুজা তুরার কেভিন নাম্বার রুমে ঢুকলো আর দেখে তুরা নেই। চারদিক চোখ বোলালো তুরাকে খুঁজে পেলো না। মুহূর্তের মধ্যে রৌদ্রের মাথা ঘুরে যায়, চোখে উদ্বেগের ছাপ।দৌড়ে ডাক্তারের কাছে গিয়ে রৌদ্র বলল।
“ডাক্তার, ৩০৪ নাম্বার যে রোগীটা ছিল সে কোথায়?”
ডাক্তার চোখ বড় করে চমকে বলল,
“কি বলেন, রোগী তো তার কেভিনেই ছিলো?”
রৌদ্র সাথে সাথে অস্থির হয়ে বলল।
“কিন্তু আমি এই মাএ দেখে আসলাম কেভিন রুমে নেই।”
“মিস্টার রৌদ্র, আমরাও বলতে পারছি না তাহলে?।”
রৌদ্র মাথা ঘুরিয়ে চারপাশে তাকালো। অন্য নার্সরাও একই উত্তর দিলো।দেখিনি বা লক্ষ্য করেনি।রৌদ্রের মাথার ভেতর সব ঘুরপাক খেতে লাগলো। রৌদ্রের চোখ লাল হয়ে উঠলো, গলা জমে গেল, দাঁত কেঁপে উঠলো মনে হলো যেন সব কিছু উল্টে পড়েছে। হঠাৎ সব স্পষ্ট হয়ে গেল তুরা পালিয়ে গেছে।রৌদ্র ক্ষোভে ফুঁসতে ফুঁসতে চিৎকার করলো।
“বোকা,পাগল! তুই আবার কি চালাচ্ছিস! তোর এমন সাহস কীভাবে হলো! তুই জানিস না আমি রেগে গেলে কতটা ভয়ংকর হয়।”
মুহূর্তের মধ্যে রৌদ্রের চোখে জেদ আর রাগের আগুন জ্বলে উঠলো। সে তাড়াহুড়ায় গাড়ির দিকে ছুটলো, মনে এক অদ্ভুত প্রতিজ্ঞা যে কোনো মূল্যে তুরাকে খুঁজে বের করবে। তুরা চাইলে যতই দূরে লুকুক না কেন, তুরা আমারই হবে। আমার ভালোবাসা তাকে ছাড়বে না।
এদিকে তুরা প্রাণপ্রণে দৌড়াচ্ছে,শরীর হেলছে হেলছেই, তবুও পা থামাচ্ছে না। সেইদিনের বিয়ের লেহেঙ্গা এখনো শরীরে পড়ে আছে, লেহেঙ্গার ভারে শরীরটা আরও হেলে পড়ছে। কিন্তু তুরা থেমে নেই হৃদয় এক অদম্য আগুনে জ্বলছে, চোখে দৃঢ়তা, আর প্রতিটি পদক্ষেপে লেহেঙ্গার ভারও যেন তার প্রেরণাকে আটকে দিতে পারছে না।
তুরা প্রাণপ্রণে দৌড়াচ্ছে, হঠাৎ হালকা ধাক্কা খেলো একটা গাড়ির সঙ্গে। ব্যথা তেমন লাগেনি, গাড়িটা আগেই থামানো হয়েছিলো।তুরা চোখ তুলতেই দেখতে পেলো, গাড়ি থেকে কেউ বের হচ্ছে, আর মুহূর্তের মধ্যে সে যেন বাতাসের মতো ধীরে ধীরে বেরিয়ে গেল শিহাব। তুরা শিহাবকে দেখে কিছুটা বাঁচার আশা পেলো মনে হলো যেন সব বিপদ সাময়িকভাবে থেমে গেছে। কিন্তু সেই স্বস্তি স্থায়ী হলো না। তুরার পিছনে মুহূর্তের মধ্যে আরেকটি গাড়ি এসে থামলো, আর সেই গাড়ি থেকে বের হলো রৌদ্র ।
তুরা চমকে গেল দুইদিকেই চোখ খোলে তাকালো, দুজনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে তুরা যেন সাপের খোলসের মতো আটকে পড়লো। একপাশে শিহাবের সহানুভূতি, আর অন্যপাশে রৌদ্রের বিপজ্জনক উপস্থিতি। তুরা শরীরটা কাঁপছে, হৃদয়টা দ্রুত ধুক ধুক করছে,পা যেন এক মুহুর্তে স্থির হয়ে গেল। তুরা ঠিক সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেন সময়ও দাঁড়িয়ে গেছে, আর সাথে মুহূর্তটিও যেন অমর হয়ে গেছে।
চলবে….!
ভুলত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন
Share On:
TAGS: নির্লজ্জ ভালোবাসা, প্রিঁয়ঁসেঁনীঁ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৪
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২১
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা সূচনা পর্ব
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১১
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৮
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৯
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৩