Golpo romantic golpo নির্লজ্জ ভালোবাসা

নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮৭


নির্লজ্জ_ভালোবাসা

লেখিকাসুমিচৌধুরী

পর্ব ৮৭ (❌কপি করা নিষিদ্ধ❌)

সময় কখনো কারও জন্য দাঁড়িয়ে থাকে না। সে তার নিজ গতিতে অবিরাম চলতে থাকে। সময় কারও বুকফাটা হাহাকার দেখে না, কারও চোখের জল দেখে থমকে দাঁড়ায় না। সে নিষ্ঠুরভাবে অতীতকে পেছনে ফেলে বর্তমানের বুক চিরে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যায়।
কেটে গেছে দীর্ঘ পাঁচটি বছর। এই পাঁচ বছরে খান পরিবারে বদলে গেছে অনেক কিছু। সেই রাতের সেই বিভীষিকা এখন কেবলই এক ধূসর স্মৃতি। রৌদ্র আর তুরার আদরের রাজপুত্র, ছোট্ট রৌশানের এখন পাঁচ বছর চলছে। সে এখন সারা বাড়ি মাথায় করে রাখে, ঠিক যেন ছোটবেলার সেই চঞ্চল রৌদ্র।

অন্যদিকে, আয়ান আর তিথির ঘর আলো করে আসা যমজ সন্তানরাও এখন বেশ বড় হয়েছে। তাদের জীবনের সেই কঠিন মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে আসা মেয়েটির নাম রাখা হয়েছে তাসনিন খান আনায়া আর ছেলেটির নাম আহমিদ খান তিহান। দুই ভাই-বোনের খুনসুটিতে আয়ান-তিথির সংসার এখন কানায় কানায় পূর্ণ।

শিহাব আর আরশির কোলজুড়েও এসেছে এক ছোট্ট রাজকন্যা। তার নাম রাখা হয়েছে আনিকা জান্নাত শান্তা। শান্তা যেন ওর নামের মতোই শান্ত, কিন্তু পুরো বাড়ির সবার নয়নমণি।

পিছিয়ে নেই নেহলা আর আরফাও। তাদেরও এক রাজপুত্রের আগমন ঘটেছে, যার এখন তিন বছর চলছে। আদর করে তার নাম রাখা হয়েছে আরাফ শিকদার নিহাদ।

আনোয়ার খান, আশিক খান আর আরিফুল খান এই তিন মুরুব্বির জগৎ এখন কেবল তাদের নাতি-নাতনিদের ঘিরেই আবর্তিত হয়। ব্যবসা-বাণিজ্য এখন ছেলেদের হাতে ছেড়ে দিয়ে তারা সারাদিন এই একঝাঁক ছোটদের সামলাতেই ব্যস্ত।

রৌদ্রের ছেলে রৌশান হয়েছে তার দাদা আনোয়ার খানের জানের জান। সারাক্ষণ “দাদা দাদা” করে বৃদ্ধ মানুষটার পিছু পিছু ঘুরবে। আনোয়ার খানও নাতিকে ছাড়া এক মুহূর্ত থাকতে পারেন না। এমনকি রৌশনি খানও যেন তার এই ছোট্ট রৌশানের মাঝেই নতুন করে বেঁচে থাকার স্বাদ খুঁজে পেয়েছেন। দাদী-নাতির আদুরে খুনসুটি সারা বাড়ির বিনোদনের খোরাক।

এদিকে আয়ান-তিথির মেয়ে আনায়া হয়েছে পুরোপুরি তনুজা খান আর হিমি খানের ভক্ত। নানি দাদিকে ছাড়া তার চলেই না। আর তিহান? সে আবার দুই নানা দাদার অর্থাৎ আরিফুল খান আর আশিক খানের চোখের মণি। বলতে গেলে, বাচ্চারা যে যার মতো করে একেকজন মুরুব্বিকে দখল করে নিয়েছে। পুরো খান ভিলায় এখন শুধু ছোটদের রাজত্ব।আজ খান ভিলা যেন কোনো এক স্বপ্নপুরী। রাজকীয় ঢঙে সাজানো হচ্ছে পুরো বাড়ি। সদর দরজা থেকে শুরু করে বাগান সবখানে আলোকসজ্জার চোখধাঁধানো আয়োজন। চলবেই তো, আজ যে এক বিশেষ দিন। আজ তিথি আর আয়ানের দুই যমজ সন্তান এবং রৌদ্র আর তুরার ছেলে রৌশানের জন্মদিন। একই দিনে, একই সময়ে এই তিনটি প্রাণের পৃথিবীতে আগমন ঘটেছিল সেই স্মরণীয় কালবৈশাখী রাতে।

বাড়ির প্রতিটি কোণ থেকে ফুলের সুবাস আসছে। শেফরা ব্যস্ত রকমারি সব খাবার তৈরিতে। রৌদ্র আর আয়ান মিলে সব তদারকি করছে। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর সেই কষ্টের স্মৃতিগুলো আজ আনন্দের রঙে ঢাকা পড়ে গেছে। দিনটি শুধু জন্মদিনের নয়, দিনটি হলো সেই কঠিন সময়ের পর পাওয়া এক মহাবিজয়ের।

শিহাব আর আরশি তাদের মিষ্টি রাজকন্যা শান্তাকে নিয়ে ঠিক সময়ে পৌঁছে গেল। নেহাল আর আরাফও তাদের দুরন্ত রাজপুত্র নিহাদকে নিয়ে হাজির। সবাই মিলে এখন এক বিশাল আনন্দ মেলায় পরিণত হয়েছে। ঘড়ির কাঁটা যখন ঠিক রাত বারোটা ছুঁলো, অমনি বাইরের খোলা আকাশে ঠাস ঠাস শব্দে আতশবাজি ফুটে উঠল। নানা রঙের আলোয় আকাশটা যেন হেসে উঠল।

জন্মদিনের সেই বিশাল টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে রৌশান, তিহান আর আনায়া। তিনজনের সামনে তিনটি বিশাল কেক। সবাই একসাথে সুর মিলিয়ে গেয়ে উঠল।”হ্যাপি বার্থডে টু ইউ। হাততালির শব্দ আর হইহুল্লোড়ে পুরো খান ভিলা মুখরিত হয়ে উঠল। রৌশান কেক কেটে নিজে খাওয়ার আগে পরম আদরে তার প্রিয় দাদুকে খাওয়ালো। তিহান আর আনায়াও বড়দের সম্মান দিয়ে সবাইকে খাইয়ে দিল। এরপর একে একে তারা তাদের বাবা-মাকেও কেক খাইয়ে দিল।

কেক কাটা শেষ হতেই গিফটের বন্যা বয়ে গেল। আনোয়ার খান রৌশানকে তার পছন্দের বিশাল এক ইলেকট্রিক গাড়ি গিফট করলেন, সাথে তিহান আর আনায়ার জন্যও ছিল দামি সব উপহার। একে একে সবাই এসে বাচ্চাদের হাত উপহারে ভরে দিল। চারিদিকে উপহারের পাহাড় জমে গেল কিন্তু রৌশানের মুখটা যেন ক্রমশ মেঘলা হয়ে আসছিল।এত গিফট পেয়েও রৌশান শান্ত হলো না। সে হঠাৎ টেবিলের ওপর উঠে দাঁড়িয়ে দু’হাতে বুক ভাঁজ করে মুখ একদম গোমড়া করে ফেলল। সবার দিকে একবার চ্যালেঞ্জিং দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল।

“তোমরা সবাই তো নিজের পছন্দের জিনিস দিচ্ছো, কিন্তু আমার কী চাই কেউ একটা বার জিজ্ঞাসা করেছো? বড়রা শুধু নিজেদের কথাই ভাবে! যাও, কথা বলবো না কারও সাথে। সবার সাথে একদম আড়ি!”

রৌশানের এমন বড়দের মতো কথা আর অভিমানী ভঙ্গি দেখে পুরো হলঘরে হাসির রোল পড়ে গেল।আনোয়ার খান হো হো করে হেসে উঠলেন। তিনি রৌশানের ফোলা ফোলা গাল দুটো টেনে দিয়ে আদুরে গলায় বললেন।

“ওলে আমার দাদু ভাই! তো শুনি কী চাই তোমার? তুমি যা চাইবে আজ তাই হবে। বলো, দাদুর কাছে কী আবদার?”

মুহূর্তে রৌশান টেবিলের ওপর দাঁড়িয়ে দুই হাত ছড়িয়ে দিয়ে ঘোষণা করার মতো গলায় বলল।

“আমি চাই আমরা সবাই মিলে কোথাও দূরে ঘুরতে যাবো। অনেক দূরে! সেখানে আমরা অনেক মজা করবো। কোনো পড়াশোনা নেই, শুধু খেলা আর আনন্দ!”

রৌশানের কথা শেষ হতে না হতেই তিহানও চট করে টেবিলের ওপর উঠে পড়ল। সে রৌশানের গলায় এক হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে অন্য হাত উঁচিয়ে বেশ ভাব নিয়ে উচ্চ স্বরে বলল।

“সহমত।”

পাঁচ বছরের দুটো বাচ্চা যেভাবে জোট বেঁধেছে, তা দেখে উপস্থিত সবার চোখ কপালে উঠে গেল। দুজন এমন ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে, যেন তারা বাড়ির কোনো সিরিয়াস মিটিংয়ে বড়দের শাসন করছে। তাদের এই ‘সহমত’ বলার স্টাইল দেখে কে বলবে এরা মাত্র পাঁচ বছরের শিশু।আশিক খান হাসতে হাসতে এগিয়ে এসে বাচ্চাদের কোলে নামানোর ভঙ্গি করলেন। তিনি ওদের দিকে তাকিয়ে মজা করে বললেন।

“তা আমার দুই দাদু ভাইয়ের এই আবদার? পড়াশোনা ফাঁকি দেওয়ার জন্য এত বড় ফন্দি? তবে আবদার যখন করেছো, তখন তো রাখতেই হবে।

আনোয়ার খান বাচ্চাদের উচ্ছ্বাস দেখে প্রশান্তির হাসি হাসলেন। তিনি সবার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কিন্তু স্নেহমাখা কণ্ঠে ঘোষণা করলেন।

“ঠিক আছে! আমাদের দাদু ভাই যখন এত সুন্দর একটা দিনে এমন আবদার করেছে, তাহলে আর ‘না’ বলার কোনো পথ নেই। এই পাঁচ বছরের সব ক্লান্তি ধুয়ে ফেলতে আমরা সবাই মিলে দূরে কোথাও ঘুরতে যাবো। যেখানে শুধু আমরা আর আমাদের পরিবার থাকবে।”

আনোয়ার খানের এই চূড়ান্ত ঘোষণা শোনার পর রৌশান আর তিহানের খুশি দেখে কে! দুজন টেবিল থেকে লাফ দিয়ে নেমে একে অপরকে জড়িয়ে ধরল। তারপর পাগলের মতো সারা ঘরে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দিল। রৌশান চিৎকার করে বলতে লাগল, “আমরা ঘুরতে যাবো! আমরা পাহাড় দেখবো, না হয় সমুদ্র।

পুরো বাড়ির আঙিনা আর বিশাল ড্রয়িং রুম জুড়ে তখন বাচ্চাদের সেই খিলখিল হাসির স্বর প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। রৌশান তিহানের পিছু পিছু আনায়া আর ছোট্ট শান্তাও যোগ দিল সেই মিছিলে।রৌদ্র আর তুরা একপাশে দাঁড়িয়ে দেখছিল তাদের সন্তানদের এই বাঁধভাঙা আনন্দ। পাঁচ বছর আগে এই দিনটিতেই তারা মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল, আর আজ সেই দিনটিই তাদের জীবনে পূর্ণতার আনন্দ বয়ে এনেছে।হাসি-কান্না, আনন্দ আর খুনসুটিতে খান ভিলার এই রাতটা যেন এক অমর কাব্যে পরিণত হলো। যে রাতে একসময় হাহাকার ছিল, আজ সেখানে শুধুই নতুনের আবাহন।

জন্মদিনের আনন্দ আর শোরগোল ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে এল। রৌশান বরাবরের মতোই তার দাদুর হাত ধরে শোয়ার ঘরের দিকে হাঁটা দিল। দাদু আর দাদীর সাথে ঘুমানোটা ওর কাছে এক বিরাট অ্যাডভেঞ্চারের মতো; তাই আজ এত বড় উৎসবের ক্লান্তিও তাকে দাদুর কোল থেকে দূরে সরাতে পারল না।

সারা দিনের ধকল আর ব্যস্ততা শেষে তুরা যখন নিজের রুমে ঢুকল, ওর পা দুটো যেন আর চলছিল না। ঠিক তখনই পেছন থেকে রৌদ্র এসে অতর্কিতে ওকে জড়িয়ে ধরল। তুরার কাঁধে মুখ গুঁজে দিয়ে রৌদ্র তপ্ত নিশ্বাসে ফিসফিস করে বলল।

“বউ! আজকে না আমার অন্য কিছু করার মুড জাগছে।”

রৌদ্রের এই আকস্মিক সোহাগে তুরা থতমত খেয়ে গেল। সে নিজেকে ছাড়ানোর জন্য হালকা ধস্তাধস্তি করতে করতে কৃত্রিম রাগের সুরে বলল।

“ছাড়ো বলছি! বুড়ো বয়সে খালি অসভ্যতামি করার ধান্দা। ছাড়ো আমায়, সারাদিন অনেক খাটনি গেছে, এখন খুব ঘুম পেয়েছে আমার।”

‘বুড়ো’ শব্দটা শুনে রৌদ্রের জেদ যেন আরও চড়ে গেল। সে তুরাকে আরও শক্ত করে নিজের বুকের সাথে পিষে ধরে জেদি গলায় বলল।

“কী! আমাকে তুমি বুড়ো বললে? ঠিক আছে, তবে আজ এই বুড়োই তোমাকে দেখাবে সে তোমার জন্য কতটা উন্মাদ হতে পারে।”

কথাটা শেষ করেই রৌদ্র এক ঝটকায় তুরাকে পাঁজাকোলে তুলে নিল। তুরা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে যাওয়ার ভয়ে শক্ত করে রৌদ্রের গলা জড়িয়ে ধরল। ওর গালের টোল পড়া হাসিটা আড়াল করার চেষ্টা করে তুরা অভিমানী স্বরে বলল।

“রৌদ্র তুমি কি জানো তুমি হিসাব ছাড়া একটা অসভ্য।”

রৌদ্র তুরাকে কোলে নিয়ে বেডের দিকে এগোতে এগোতে এক অদ্ভুত মোহময় হাসি হাসল। সে তুরার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল।

“আমি আবার কবে বললাম যে আমি হিসাব করা অসভ্য? আমার অসভ্যতা হিসাব ছাড়াই। কোনো সীমা নেই।”

রৌদ্রের তপ্ত নিশ্বাস আর কথার জাদুতে তুরা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। রৌদ্র পরম আবেশে তুরাকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে ওর চোখের পাতায় ঠোঁট ছোঁয়ালো। বাইরে নিঝুম রাত, জানলার ওপাশে রূপোলি চাঁদটা মেঘের আড়ালে মুখ লুকিয়েছে। রৌদ্রের প্রতিটি স্পর্শে তুরা যেন নতুন করে নিজেকে আবিষ্কার করতে লাগল।

রৌদ্রের ভালোবাসার কাছে তুরা সবটুকু ক্লান্তি ভুলে নিজেকে সঁপে দিল। দীর্ঘ সময়ের সব চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ তাদের মাঝে শুধুই গভীর অনুরাগ। পুরো রুম জুড়ে তখন শুধু দুই হৃদপিণ্ডের স্পন্দন আর এক স্বর্গীয় নীরবতা। রৌদ্র আর তুরা হারিয়ে গেল এক গভীর মোহের সুখের রাজ্যে, যেখানে শুধুই তারা দুজন আর তাদের এক আকাশ সমান ভালোবাসা।


এদিকে তিথি তিহান আর আনায়াকে পরম মমতায় ঘুম পাড়িয়ে বিছানাটা গুছিয়ে নিচ্ছিল। সারা দিনের হইচই শেষে বাচ্চা দুটো ক্লান্তিতে কাদা হয়ে আছে। ঠিক তখনই আয়ান ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে বিড়ালের মতো টিপ টিপ পায়ে এগিয়ে এল। তিথি কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে পেছন থেকে জাপটে ধরল ওকে। তিথি চমকে উঠে ফিসফিস করে বলল।

“কী করছো কী! পাগল হলে নাকি? তিহান আর আনায়া এই মাত্র ঘুমালো। তোমার এই কাণ্ড দেখলে এখনই জেগে যাবে!”

আয়ান সেদিকে পাত্তা না দিয়ে তিথির ঘাড়ে আলতো করে মুখ ছোঁয়ালো। গভীর এক নিশ্বাস নিয়ে আদুরে গলায় বলল।

“উহু, জাগবে না। ওরা আজ অনেক ক্লান্ত। তুমি একটু চুপ থাকো তো। কত দিন ধরে মনে হয় তোমাকে ঠিক করে কাছে পাই না!”

সময়ের সাথে সাথে আয়ান আর তিথির সম্পর্কের তিক্ততাগুলো ধুয়ে মুছে গিয়েছে। আয়ান এখন তিথিকে ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করে, আর তার প্রতিটি কাজে ফুটে ওঠে এক গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা। কিন্তু তিথি কি আর অত সহজে ধরা দেওয়ার পাত্রী? সে চট করে হাতটা পেছনে নিয়ে আয়ানের পিঠে কষে এক চিমটি কাটল।আয়ান ব্যথায় ছিটকে সরে গিয়ে চাপা স্বরে আর্তনাদ করে উঠল।

“আহহ! উহহ! কী করলে এটা তুমি? জানো কতটা লেগেছে!”

তিথি খাট পরিষ্কার করার ঝাড়ুটা আয়ানের দিকে তলোয়ারের মতো উঁচিয়ে ধরে শাসানোর ভঙ্গিতে বলল।

“একদম চুপ! আর একটা কথা না বলে শান্ত ছেলের মতো বিছানায় ঘুমাও। দুই বাচ্চার বাপ হয়েছ, অথচ এখনো অসভ্যতামি করার ধান্দা গেল না। দিন দিন বুড়ো হচ্ছ না যেন আরও জোয়ান হচ্ছ! যাও, বলছি ঘুমাও।”

আয়ান মুহূর্তেই ঠোঁট উল্টে অভিমানের সুরে বলল।

“তোমার ঘুম পাচ্ছে তুমি ঘুমাও, আমার একদম ঘুম পায়নি। যাও!”

বলেই আয়ান গটগট করে হেঁটে ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়াল। বাইরে রাতের নিস্তব্ধ আকাশ, ঝিরঝিরে বাতাস বইছে। তিথি বিছানার ঝাড়ুটা রেখে একটু হাসল। সে খুব ভালো করেই চেনে তার এই জেদি জামাইটাকে। পাঁচ বছরে শরীরটা একটু ভারী হলেও মনটা সেই আগের মতোই রয়ে গেছে। তিথি একবার ঘুমন্ত তিহান আর আনায়ার দিকে তাকিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিল, তারপর খুব সাবধানে পা টিপে টিপে ব্যালকনিতে এল।

পেছন থেকে আয়ানকে জড়িয়ে ধরল সে। আয়ানের শক্ত পিঠে গাল ঠেকিয়ে ফিসফিস করে বলল।

“ওলে আমার জামাইটা বুঝি অভিমান করেছে? আসলে তিহান-আনায়া জেগে যাবে বলেই তো বারণ করেছি। পাগল একটা!”

আয়ান তো আয়ানই! বউয়ের হাতের নরম স্পর্শ আর গলার ওই আদুরে সুর পেতেই তার সব রাগ জল হয়ে গেল। সে আর নিজেকে দমিয়ে রাখতে পারল না। মুহূর্তের মধ্যে এক ঝটকায় ঘুরে তিথিকে দু’হাতে পাঁজাকোলে জাপটে ধরে ব্যালকনির দেয়ালের সাথে চেপে ধরল। তিথির চোখের দিকে গভীর নেশায় তাকিয়ে দুষ্টু হেসে বলল।

“এখন তো ব্যালকনিতে আছি, এখানে তিহান বা আনায়া নেই। কেউ দেখবে না আমাদের। চলো, অনেকদিন পর একটু প্রাণভরে আদর করি তোমাকে।”

বলেই আয়ান তিথির ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিল। তিথি প্রথমে একটু অবাক হলেও পরক্ষণেই রেশমি রাতের ওই মাদকতায় নিজেকে হারিয়ে ফেলল। সেও আর কোনো প্রতিবাদ করল না, বরং পরম আবেশে আয়ানের চুলের ভাঁজে আঙুল চালিয়ে দিয়ে তার ভালোবাসার সাড়া দিল। ব্যালকনির এক চিলতে চাঁদের আলো সাক্ষী হয়ে রইল তাদের এই পাঁচ বছর পরের নিবিড় ভালোবাসার।

রানিং…!

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply