নির্লজ্জ_ভালোবাসা
লেখিকাসুমিচৌধুরী
পর্ব ৮৫ (❌কপি করা নিষিদ্ধ❌)
ধীরে ধীরে তিথির জ্ঞান ফিরে এল। চোখ মেলা মাত্রই তার কানে এল দূর থেকে ভেসে আসা রৌদ্রের এক বুকফাটা আর্তনাদ। শব্দটা শোনামাত্রই তিথির বুকটা ধক করে উঠল। শরীরের প্রচণ্ড দুর্বলতা সত্ত্বেও মনের ভেতরে এক অজানা আতঙ্ক দানা বাঁধল। তিথির বেডের পাশেই নার্সরা তিথির দুই কিউটি বাবুকে সামলাচ্ছিলেন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে নার্সরা তাদের পরিবারের কারও হাতে বাচ্চাদের তুলে দেননি।
তিথি অনেক কষ্টে গলার স্বর টেনে নার্সকে ডাক দিল।
“আপু…?”
নার্স তিথির কণ্ঠ শুনে বেডের দিকে তাকালেন। তিথির জ্ঞান ফিরেছে দেখে তিনি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বললেন।
“আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আপনার পাশে ছিলেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে আপনার জ্ঞান ফিরেছে।”
বলেই নার্স পরম মমতায় দুই বাচ্চাকে তিথির দুই পাশে শুইয়ে দিয়ে বললেন।
“এই যে দেখুন আপনার দুই রাজপুত্র কন্যা। আমি যাই বাইরে খবরটা দিয়ে আসি।”
তিথি ধীরে ধীরে মাথা নিচু করে বাচ্চাদের ফুটফুটে মুখের দিকে তাকাল। দুই বাচ্চাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। তিথির বিষণ্ণ মুখে এক চিলতে হাসি ফুটল। সে মাথা নিচু করে দুই বাবুর কপালে গভীর চুমু খেয়ে ফিসফিস করে বলল।
“আমার সোনারা। তোমরা নিশ্চয়ই এতক্ষণ মাম্মাকে খুব মিস করছিলে? তাই হয়তো অভিমান করে ঘুমিয়ে পড়েছো। এই তো দেখো আমি এসে পড়েছি। মাম্মা আর তোমাদের ছেড়ে নড়বে না।”
তিথির জ্ঞান ফেরার খবর পেয়ে এক এক করে পরিবারের সবাই ঘরে ঢুকল। সবার চোখেমুখে কান্নার ছাপ লুকিয়ে থাকার এক ব্যর্থ চেষ্টা। কেউ তুরার ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা তিথিকে জানাল না। তিথি এমনিতেই অনেক দুর্বল তার ওপর তুরার এই খবর পেলে সে হয়তো আরও ভেঙে পড়বে। কিন্তু তিথির মনে সন্দেহ দানা বাঁধল। সে আকুল হয়ে জিজ্ঞেস করল।
“মা রৌদ্র ভাইয়ার কী হয়েছে? ভাইয়া ওভাবে চিৎকার করছে কেন?”
সবাই চোখের জল মুছে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বলল।
“না রে তিথি ও রৌদ্র না অন্য কেউ হয়তো। তুই ভুল শুনছিস।”
ঠিক সেই সময় ওপাশের করিডোর থেকে একটা নারী কণ্ঠের তীব্র চিৎকার ভেসে এল। তিথি দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবল হয়তো ওপারেই কেউ তার মতো এক নতুন প্রাণের জন্ম দিচ্ছে। যন্ত্রণায় হয়তো সে নারী নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলছে। তিথি নিজেকে ওভাবেই সান্ত্বনা দিল।
তিথির সাথে সবাই দেখা করে চলে গেল। সবাই যাওয়ার পর সবশেষে ঘরে ঢুকল আয়ান। গত কয়েক ঘণ্টায় যে ঝড়ের ওপর দিয়ে ও গিয়েছে, তা কেবল ও-ই জানে। একদিকে নিজের স্ত্রী-সন্তানের অনিশ্চয়তা আর অন্যদিকে রৌদ্রের মতো এক পাহাড় সমান শক্তিশালী মানুষকে ভেঙে চুরমার হতে দেখা আয়ান আজ নিজের ভেতরে নিজেই যেন নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল।
আয়ান কেবিনে এসে দেখল তিথি একদৃষ্টিতে বাবুদের দিকে তাকিয়ে আছে। আয়ান একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করল। তারপর আলতো করে তিথির কপালে হাত রেখে ডাক দিল।
“তিথি…?”
এদিকে অপারেশন থিয়েটারের ভেতরটা তখন এক মরণপণ যুদ্ধের ময়দান। ডাক্তার বারবার আর্তনাদ করে বলছেন।
“মিসেস তুরা, হাল ছাড়বেন না।আরেকটু জোর দিন, আর সামান্য একটু! আপনি পারবেন মা, আরেকটু সাহস সঞ্চয় করুন।”
তুরা নিজের শরীরের প্রতিটি কোষের শেষ শক্তিটুকু জড়ো করার চেষ্টা করছে, কিন্তু শরীর আর সায় দিচ্ছে না। যন্ত্রণার এক চরম শিখরে এসে সে অনুভব করল তার নিশ্বাসগুলো ক্রমশ ভারী হয়ে আসছে। তুরার আবছা মনে হচ্ছে, তার পৃথিবীর সময়টুকু বুঝি ফুরিয়ে এল। তার হায়াত হয়তো এই মুহূর্ত পর্যন্তই লেখা ছিল।
তুরা ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করল। অন্ধকার চোখের সামনে ভেসে উঠল রৌদ্রের সেই পাগল করা হাসিভরা চেহারাটা। রৌদ্রের সাথে কাটানো প্রতিটি মান-অভিমান, খুনসুটি আর ভালোবাসার স্মৃতিগুলো যেন সিনেমার মতো চোখের সামনে দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। ভেসে উঠল বাবা-মায়ের মুখ, ভাই-বোনদের আদর আর পুরো পরিবারের সাথে কাটানো সেই হাসিখুশি মুহূর্তগুলো। ভাবতেই তুরার দুই চোখের কোণ বেয়ে অবিরল ধারায় তপ্ত অশ্রু ঝরতে লাগল। বালিশটা চোখের জলে ভিজে সিক্ত হয়ে যাচ্ছে।
ওহে নারী! নারী হয়ে জন্ম নেওয়া হয়তো সহজ, কিন্তু মা হওয়ার এই অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বেঁচে থাকাটা যে কতটা কঠিন, তা কেবল একজন নারীই জানে। আজ তুরা সেই মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে প্রতি বছর হাজারো নারী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নতুন এক প্রাণের জন্ম দেয়। যদিও এটি একটি গল্প, তবুও এই পরিস্থিতির যে যন্ত্রণা, যে ভয় আর যে আবেগ তা কোনো কলমে সম্পূর্ণ ফুটিয়ে তোলা সম্ভব নয়।
রৌদ্রের সেই পাগলামি আর পরিবারের সবার সাথে কাটানো প্রতিটা মধুর স্মৃতি মনে পড়তেই তুরার মনের পর্দায় ভেসে উঠল, ওর নিস্তেজ হয়ে আসা রক্তে যেন হঠাৎ এক আগুনের হলকা বয়ে গেল। তুরা নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার এক তীব্র নেশায় দাঁতে দাঁত চেপে ধরল। ওর অবচেতন মন ওকে বারবার বলতে লাগল “তুরা, তোকে পারতেই হবে! তোকে হারলে চলবে না।”
একজন নারী যখন হাজারো যন্ত্রণার পাহাড় ডিঙিয়ে একটা নতুন প্রাণের জন্ম দেয় এবং প্রথমবার সেই ‘মা’ ডাক শোনার অধিকার পায়, তখনি তো সে পরিপূর্ণতা পায়। এই মা হওয়ার লড়াইটাই তো নারীর জীবনের শ্রেষ্ঠ বিজয়। তুরা মনে মনে নিজেকেই চিৎকার করে বলতে লাগল, “তুরা, কষ্ট কর! মা তোকে হতেই হবে। প্রমাণ করে দে যে একটা মেয়ে চাইলে মৃত্যুর মুখ থেকেও প্রাণ ছিনিয়ে আনতে পারে।একটা নারী চাইলে সব কিছুই করতে পারে কর তুরা চেষ্টা কর আল্লাহ তোর সাথে আছে। তুই বেঁচে না থাকলেও তোর সন্তান কে পৃথিবীর আলো দেখা তুরা।”
তুরার সেই সংকল্প আর যন্ত্রণার সংমিশ্রণে ওটি-র ভেতর থেকে এক আকাশ-ফাটানো আর্তনাদ বেরিয়ে এল। তুরা নিজের শরীরের শেষ বিন্দু শক্তিটুকু নিংড়ে দিয়ে এমন জোরে জোরে চিৎকার দিতে লাগল যে মনে হচ্ছে অপারেশন থিয়েটারের মজবুত দেয়ালগুলোও বুঝি এই মুহূর্তে ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে।ডাক্তার এবং নার্সরা ততক্ষণে তাদের পজিশন নিয়ে নিয়েছেন। তুরার এই মরণপণ লড়াই দেখে ডাক্তারের চোখেও বিস্ময় আর আশার আলো ঝিলিক দিয়ে উঠল। তিনি বুঝতে পারলেন, এই মেয়েটি এখন শুধু বাঁচার জন্য লড়ছে না, ও লড়ছে ওর ভালোবাসার মানুষের শেষ চিহ্নটাকে পৃথিবীর আলো দেখানোর জন্য।
কষ্টের চরম সীমায় পৌঁছে তুরা এবার আকাশ-পাতাল কাঁপিয়ে এক গগনবিদারী চিৎকার দিল।
“আআআআআআআআআআআআআ!”
ঠিক সেই মুহূর্তেই ডাক্তার এবং নার্সরা তাঁদের কাজ শেষ করলেন। আর ওটির নিস্তব্ধতা চুরমার করে দিয়ে ভেসে এল একজন মায়ের মৃত্যুঞ্জয়ী যুদ্ধের পর এক অপার্থিব বিজয়ী স্বর।
“ওয়াউ… ওয়াউ… ওয়াউ!”
তুরার চোখের সামনে তখন সব কিছু ঝাপসা হয়ে অন্ধকার নেমে আসছে। ডাক্তার মুহূর্ত দেরি না করে নবজাতককে নার্সের হাতে দিয়ে তুরার পালস চেক করলেন। তুরার নিথর শরীর দেখে তাঁর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে উঠল। তিনি চিৎকার করে নার্সদের নির্দেশ দিলেন।
“পেশেন্ট ইজ কোলাপসিং! হার্ট রেট পাওয়া যাচ্ছে না, বডি একদম কোল্ড হয়ে গেছে। কুইক, হার্ট পাম্প করো! ইমিডিয়েটলি আইসিইউ-তে শিফট করো! শি ইজ ইন কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট! মুভ, মুভ!”
মুহূর্তের মধ্যে ওটির ভারী দরজা খুলে তুরাকে স্ট্রেচারে করে বের করা হলো। বাইরে তখন রৌদ্র উন্মাদের মতো দরজায় আছড়ে পড়ছিল। তুরাকে ওভাবে বরফশীতল নিস্পন্দ অবস্থায় বের করতে দেখে রৌদ্রের হিতাহিত জ্ঞান বিলুপ্ত হলো। সে পাগলের মতো স্ট্রেচারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইল, কিন্তু শিহাব আর নেহাল তাকে লোহার মতো শক্ত বাঁধনে আটকে রাখল।রৌদ্র তুরার চলে যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে বুক চিরে আসা এক আর্তনাদ করে বলল।
“ওরে তুরা। আমার পাখি। তুই আমারে এভাবে ফেলে যাস না রে। আমার কলিজাটা যে ছিঁড়ে যাচ্ছে। দেখ তুরা, আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। বুকটা ফেটে যাচ্ছে রে আমার। তুই বড় পাষাণ তুরা। বড় পাষাণ। আমায় একটুও শান্তি দিলি না রে। শেষবার একটু তাকিয়ে দেখ তোর এই পাগলটার দিকে। তুরাআআ!”
রৌদ্রের গলার স্বর কান্নায় বুজে এল। অতিরিক্ত শোক আর অমানুষিক মানসিক যাতনার চাপ তার হার্ট আর ফুসফুস আর নিতে পারল না। তার চোখের মণি দুটো উল্টে গিয়ে সব কিছু অন্ধকার হয়ে এলো এবং ধীরে ধীরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলল । রৌদ্রের বিশাল দেহটা নিথর হয়ে মেঝেতে আছড়ে পড়তে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই শিহাব আর নেহাল তাকে জাপটে ধরে ফেলল।করিডোরের সেই বিষাক্ত বাতাসে তখন এক নবজাতকের কান্নার সুর আর এক পাগলের ভালোবাসার করুণ হাহাকার মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল।
রৌশনি খান পাগলের মতো ছেলের পাশে বসে পড়লেন। রৌদ্রের নিস্পন্দ মাথাটা নিজের কোলের ওপর টেনে নিয়ে ওর গালে বারবার হাত চাপড়াতে চাপড়াতে ডুকরে কেঁদে উঠলেন তিনি।
“রৌদ্র। বাপ আমার। কী হলো তোর। এইভাবে হুট করে ঘুমিয়ে পড়লি কেন। কথা বল বাবা। আমার দিকে তাকা। রৌদ্র।”
আনোয়ার খান নিজের দুই হাতে মুখ ঢেকে বেঞ্চে মাথা ঠেকিয়ে দিলেন। এক রাতে কতগুলো আঘাত সইবে এই বৃদ্ধ বাবা। নেহাল আর শিহাব দেরি না করে রৌদ্রকে পাজাকোলে তুলে নিয়ে পাশের একটা কেবিনে ছুটে গেল।
ঠিক সেই মুহূর্তে অপারেশন থিয়েটারের ভারী দরজাটা শেষবারের মতো শব্দ করে খুলে গেল। ডাক্তার অত্যন্ত ধীর পায়ে বেরিয়ে এলেন। তাঁর হাতে সাদা তোয়ালেতে মোড়ানো ছোট একটা বাচ্চা । ডাক্তার সবার সামনে দাঁড়িয়ে এক গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিষণ্ণ গলায় বললেন।
“এই চরম দুঃখের সময়েও আপনাদের একটা সুখবর দিচ্ছি। মিসেস তুরা পুত্রসন্তান জন্ম দিয়েছেন। আর মিসেসের অবস্থা কেমন তা তো আপনারা নিজের চোখেই দেখলেন। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর হার্টবিট বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এইমাত্র ওনাকে আইসিইউতে শিফট করা হলো। এখন তাঁর জীবনটা পুরোপুরি আল্লাহর হাতে। আপনারা মন থেকে আল্লাহকে ডাকেন যেন তিনি সব ঠিক করে দেন।”
পুরো করিডোরে তখন কান্নার রোল। সেই কান্নার মাঝেই সবাই অস্ফুট স্বরে বলল।
“আলহামদুলিল্লাহ।”
রৌশনি খান কাঁপা কাঁপা হাতে নিজের চোখের জল শাড়ির আঁচল দিয়ে মুছে নিলেন। তিনি এগিয়ে গিয়ে ডাক্তারদের কাছ থেকে সেই ছোট্ট বাচ্চাটি নিজের কোলে তুলে নিলেন। বাচ্চাটির নিষ্পাপ মুখটা দেখামাত্রই তাঁর বুক চিরে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল। রৌশনি খান বাচ্চার কপালে মুখ ঠেকিয়ে ফিসফিস করে বললেন।
“তোর মা তোকে দেখার জন্য নিজের জীবনটা বাজি রেখে দিল রে দাদুভাই। তুই আসলি ঠিকই কিন্তু তোর বাপ-মা দুজনেই যে আজ মরণের দ্বারে পড়ে আছে।”
আরশি নিজের চোখের নোনা জল টুকু মুছে নিয়ে ঝুঁকে পড়ল রৌশনি খানের কোলের দিকে। সে বাবুর একদম ছোট্ট আর নরম একটা আঙুল নিজের তর্জনী দিয়ে ছুঁয়ে দিল। মুহূর্তের জন্য তার ঠোঁটের কোণে বিষাদের মাঝেও একটু হাসির রেখা ফুটে উঠল। সে আদুরে গলায় বলে উঠল।
“দেখো আম্মু। একদম ভাইয়ার মতো হয়েছে। পুরো কার্বন কপি। নাক চোখ মুখ একদম হুবহু ভাইয়ার মতো। কোনো অংশে একটুও কম নেই।”
রৌশনি খান বাচ্চার ডাগর ডাগর চোখ দুটোর দিকে তাকিয়ে এক দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। আরশির কথায় সায় দিয়ে তিনি বাচ্চার কপালে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে বললেন।
“আমিও ঠিক এটাই ভাবছিলাম রে আরশি। রৌদ্র যখন হয়েছিল তখন ও ঠিক এরকমই ছিল। ওর নাক মুখ গায়ের রঙ একদম তোর ভাইয়ের মতো। যেন ছোটবেলার রৌদ্রটাই আবার আমার কোলে ফিরে এসেছে।”
বলতে বলতে রৌশনি খানের চোখের জল আবার গড়িয়ে গিয়ে বাচ্চার গায়ের তোয়ালেতে পড়ল। তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলতে লাগলেন।
“হে মাবুদ। এই নিষ্পাপ মুখটার দিকে তাকিয়ে হলেও ওর মাকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দাও। তুরা না থাকলে এই বাচ্চাটা তো মাতৃহীন হয়ে যাবে। আর রৌদ্র। রৌদ্র তো এইটুকু প্রাণকে দেখেও শান্তি পাবে না যদি না তার পাশে তুরা থাকে। তুমি দয়া করো মাবুদ। তুমি দয়া করো।”
পুরো করিডোরে তখন এক অদ্ভুত স্তব্ধতা। একদিকে বাচ্চার আগমনে আনন্দের ছোঁয়া আর অন্যদিকে দুই প্রাণের জীবন-মৃত্যুর লড়াই।
রানিং….!
Share On:
TAGS: নির্লজ্জ ভালোবাসা, সুমি চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭১
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৫৮
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৪৭
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৪৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬৭