নির্লজ্জ_ভালোবাসা
লেখিকাসুমিচোধুরী
পর্ব ৮১ (❌কপি করা নিষিদ্ধ❌)
ধীরে ধীরে সময়ের চাকা ঘুরে কেটে গেল দীর্ঘ নয়টি মাস। তুরা আর তিথি দুজনেরই মাতৃত্বের অবয়ব এখন পূর্ণতা পেয়েছে, ফুলে ফেঁপে তাদের পেট অনেকখানি বড় হয়ে গিয়েছে। তবে সব থেকে দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, তুরার থেকে তিথির পেটটা যেন একটু বেশিই অস্বাভাবিক রকমের বড় ঠেকছে। নয় মাসের এই বিশাল ভার বইতে তিথির শরীর যেন নুয়ে পড়ছে। এই দৃশ্য দেখে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মনে গভীর উদ্বেগের কালো মেঘ জমেছে অনাগত সন্তানদের কোনো বড় সমস্যা হলো না তো।
বাড়ির সবাই মিলে বহুবার চেয়েছে একটা আল্ট্রাসোনো করিয়ে সবটা নিশ্চিত হতে, কিন্তু তিথি নিজের সিদ্ধান্তে পাহাড়ের মতো অটল। সে কিছুতেই পরীক্ষা করাতে রাজি নয়। তার সাফ কথা,”যদি আল্লাহ তায়ালা কপালে কোনো বিপদ লিখেও রাখেন, তবে সেই আল্লাহই পাশে থাকবেন। তিনিই উদ্ধার করবেন।” এই প্রবল বিশ্বাস আর অদম্য জেদ নিয়ে তিথি আল্ট্রাসোনো করতে নারাজ।
এদিকে আয়ানের অবস্থা শোচনীয় সে যেন ভয়ে আর উৎকণ্ঠায় প্রায় পাগল হয়ে যাচ্ছে। সে বারবার তিথিকে জড়িয়ে ধরে হাহাকারে কেঁদে ওঠে, কান্নায় ভেঙে পড়ে মিনতি করে”লক্ষ্মীটি, চল একবার ডাক্তার দেখিয়ে আসি।” কিন্তু তিথিও দমবার পাত্রী নয়, সে পাল্টা জেদ ধরে বসে থাকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে সে আয়ানকে নানা কথায় আটকে দেয়, কোনোভাবেই তাকে রাজি করানো যায় না। প্রিয়তমা স্ত্রীর এই অবুঝ জেদের কাছে আয়ান আজ সত্যিই বড় অসহায়,বড় বাধ্য।আয়ান নিজের অস্তিত্বের সবটুকু দিয়ে তিথির খেয়াল রাখে। অন্যদিকে রৌদ্রও তুরার পাশে ছায়ার মতো লেগে থাকে হাঁটা-চলা করানো থেকে শুরু করে ক্লান্তি দূর করতে পা টিপে দেওয়া, কোনো কিছুতেই তার কমতি নেই।
সময়টা তপ্ত দুপুর। তিথি অনেক কষ্টে ধীর পায়ে হাঁটতে হাঁটতে ব্যালকনিতে এসে দাঁড়াল। পেটটা এখন এতটাই বড় আর ভারী হয়েছে যে ভারসাম্য রক্ষা করে হাঁটাই তার জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। আজ শুক্রবার হওয়ায় আয়ান আর রৌদ্রের অফিস ছুটি। সপ্তাহের ক্লান্তি কাটাতে আয়ান দুপুরে একটু গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল।বেশ কিছুক্ষণ পর ঘুম ভাঙতেই আয়ান পাশে তিথিকে না দেখে এক ঝটকায় বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল তার। সে পাগলের মতো ঘরের কোণে কোণে তিথিকে খুঁজল, অজানার আশঙ্কায় অস্থিরতা যেন তাকে গ্রাস করছিল। কোথাও না পেয়ে শেষমেশ ব্যালকনিতে আসতেই দেখল তিথি একলা দাঁড়িয়ে আছে। তাকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আয়ানের বুকের ওপর থেকে যেন একটা পাহাড় নেমে গেল, এক দীর্ঘ শান্তির নিশ্বাস ফেলল সে।
আয়ান পা টিপে টিপে তিথির পেছনে গিয়ে দাঁড়াল। তার কাঁধে আলতো করে হাত রেখে ভারি গলায় বলল।
“একা একা হাঁটতে গেলি কেন? বলেছি না তোকে তুই কখনো একা হাঁটবি না? যদি মাথা ঘুরে পড়ে যেতিস?”
তিথি শূন্য চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে ম্লান হেসে বলল।
“আসলে ঘরে একদম ভালো লাগছিল না আয়ান, তাই একটু খোলা বাতাসে এখানে আসলাম।”
তিথির এই সাধারণ কথাটুকু শুনেই আয়ান মুহূর্তেই যেন দিশেহারা হয়ে গেল। তার চোখের মণি অস্থিরতায় কাঁপছে। সে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তিথিকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে ধরল। তার কণ্ঠে তখন তীব্র হাহাকার আর আকুতি।
“তিথি, ব্যথা করছে? শরীর কি খুব খারাপ লাগছে সোনা? বল আমায়, প্লিজ দোহাই লাগে তোর, লুকাস না কিছু একটা বল।”
তিথি আয়ানের এমন ছটফটানি আর অস্থিরতা দেখে মৃদু হেসে সান্ত্বনার সুরে বলল।
“আরে না পাগল এমনি ভালো লাগছিল না তাই এসেছি। তুমি শুধু শুধু আমায় নিয়ে এত চিন্তা করো, দেখো কিচ্ছু হবে না আমার।”
তিথির এই অভয়বাণী যেন আয়ানের মনে কোনো কাজই করল না। সে মুহূর্তের মধ্যে তিথির হাত দুটো নিজের দুই হাতের মুঠোয় নিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। তিথির নরম হাতের পাতায় মুখ গুঁজে আকুল হয়ে বলল।
“তুই বুঝবি না তিথি, আমার মনের ভেতর কী ঝড় বয়ে যাচ্ছে! আমি এক মুহূর্তের জন্যও শান্তি পাচ্ছি না, আমার না খুব ভয় করছে সোনা। চল না একটা বার অন্তত পরীক্ষা করিয়ে আসি? যদি ওই বাচ্চার জন্য তোর কোনো সমস্যা হয়, তবে আমার এমন বাচ্চা চাই না। আমি বাচ্চার আগে তোকে চাই তিথি। তোকে আমি হারাতে পারব না, আমি পাগল হয়ে যাব।”
তিথি আয়ানের কাঁপতে থাকা হাত দুটো শক্ত করে আঁকড়ে ধরল। তার চোখেমুখে এক অটল বিশ্বাসের আভা। সে শান্ত গলায় বলল।
“কিছু হবে না আয়ান, আল্লাহ আছেন। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখো, তিনি কখনো আমাদের ওপর বিপদ আসতেই দেবেন না।”
আয়ান তবুও থামল না। প্রিয় কোনো জিনিস ভেঙে যাওয়ার যন্ত্রণায় মানুষ যেভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়, ঠিক সেভাবেই সে গুমরে কাঁদতে কাঁদতে বলল।
“আমি আর পারছি না তিথি, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে, বিশ্বাস কর। বুকটা ফেটে যাচ্ছে আমার।”
আয়ানের চোখের তপ্ত অশ্রুতে তিথির হাত ভিজে একাকার হয়ে যাচ্ছে। তিথি অপলক তাকিয়ে দেখছিল আয়ানের বিধ্বস্ত অবস্থা সে স্পষ্ট বুঝতে পারছে, এই মানুষটা তাকে হারানোর ভয়ে কতটা কুঁকড়ে আছে। তিথি মুখ ফুটে সান্ত্বনার কিছু বলতে যাবে, ঠিক তখনই পেটের ভেতর অনাগত সন্তান সজোরে এক কিক দিয়ে বসল। যন্ত্রণার এক তীব্র ঝিলিক তিথির সারা শরীরে বয়ে গেল, সে ব্যথায় কুঁকড়ে গিয়ে আর্তনাদ করে উঠল।
“আহহহহহ! আয়ান…!”
তিথির ওইটুকু চিৎকার শুনে আয়ান মুহূর্তের মধ্যে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলল। তার কণ্ঠস্বর কাঁপছে, চোখেমুখে চরম আতঙ্ক। সে তিথিকে শক্ত করে ধরে দিশেহারা হয়ে বলল।
“তি… তি… তিথি। কী হয়েছে? চিৎকার দিলি কেন? খুব ব্যথা করছে সোনা? বল না আমাকে, প্লিজ বল! আমি পাগল হয়ে যাব।বল তিথি বল।”
তিথি যন্ত্রণার রেশটুকু সামলে নিয়ে ঠোঁটের কোণে ম্লান হাসি ফুটিয়ে তুলল। আয়ানের ঘাবড়ে যাওয়া মুখটা দেখে সে আদুরে গলায় বলল।
“আরে না পাগল, তোমার দুষ্ট বাচ্চাটা পেটের ভেতর লাথি মেরেছে।”
বলেই তিথি নিজের বিশাল পেটটার ওপর আলতো করে হাত রাখল। যেন অবুঝ সন্তানকে শাসন করছে,এমন ভঙ্গিতে ভ্রু কুঁচকে বলল।
“দুষ্টু একবার খালি পৃথিবীতে আয়, তারপর দেখাচ্ছি যতোটা লাথি মেরেছিস সবগুলোর শোধ নেব। চিনিস না তোর মাম্মিকে? আসিস একবার হাতেনাতে ধরব।”
তিথির কথা শুনে আয়ানের অস্থিরতা যেন এক নিমেষে মায়ায় রূপ নিল। সে মুহূর্তেই তিথির সামনে হাঁটু গেড়ে মেঝের ওপর বসে পড়ল। পরম মমতায় তিথির বিশাল পেটটার ওপর আলতো করে কান পাতল সে। যেন ভেতরে থাকা ছোট্ট প্রাণটার সাথে তার খুব জরুরি কোনো গোপন আলাপ আছে।আয়ান খুব নিচু স্বরে, আদুরে গলায় বলল।
“সোনা, মাম্মাকে কেন কষ্ট দাও? তুমি কি জানো না তোমার মাম্মা একটু কষ্ট পেলেই তোমার বাবার কলিজাটা ফেটে যায়? একদম দুষ্টুমি করবে না কিন্তু খবরদার, মাম্মাকে আর একদম কষ্ট দিবে না। কথা না শুনলে আমি কিন্তু তোমার সাথে আড়ি দেব, একদম কথা বলব না তোমার সাথে।”
কথাটা শেষ করেই আয়ান অতি সাবধানে তিথির পেটের ওপর একটা ভালোবাসার পরশ এঁকে দিল, আলতো করে চুমু খেল। আয়ানের এমন পাগল করা ভালোবাসা আর কাণ্ড দেখে তিথি নিজেকে আর সামলাতে পারল না। সে খিলখিল করে হেসে উঠল। সেই হাসির শব্দে ব্যালকনির বাতাস যেন হঠাৎ সতেজ হয়ে গেল। তিথির হাসিতে ছিল অনাগত সন্তানের জন্য আনন্দ, আর আয়ানের প্রতি এক বুক গভীর উচ্ছ্বাস আর ভালোবাসা।
এদিকে তুরা খুব যত্ন করে একটা মোড়ায় বসে আছে, আর তার ঠিক সামনেই সোফায় বসে আছে রৌদ্র। রৌদ্র পরম মমতায় তুরার লম্বা চুলের বিনুনি করে দিচ্ছে। যদিও কাজটা আগে একদমই পারত না, কিন্তু স্ত্রীর আদুরে আবদার মেটাতে এই কদিনে ইউটিউব মামুর সাহায্য নিয়ে সে বেশ হাত পাকিয়ে নিয়েছে।হঠাৎ তুরা নিজের বড় হয়ে যাওয়া পেটে হাত রেখে খুব নিচু গলায় বলল।
“আচ্ছা, তোমাকে একটা কথা বলি?”
রৌদ্র মনোযোগ দিয়ে বিনুনি করতে করতেই নির্লিপ্ত সুরে বলল।
“হুম, বলো?”
তুরা এক গাল হাসি নিয়ে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বলল।
“আচ্ছা, তুমি ছেলে হলে বেশি খুশি হবে নাকি মেয়ে হলে?”
রৌদ্রের হাতের আঙুলগুলো বিনুনির ভাঁজে মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। সে খানিকটা ভেবে নিয়ে বলল।
“ছেলে বা মেয়ে আল্লাহর নেয়ামত হিসেবে যেটা আসবে সেটাতেই আমি খুশি। তবে যদি মনের ইচ্ছার কথা জানতে চাও, তাহলে আমি একটা ছোট্ট রাজকন্যা চাই।”
তুরা মুহূর্তেই ছোট বাচ্চাদের মতো গাল ফুলিয়ে জেদ ধরল।
“নাহ! আমি চাই ঠিক তোমার মতো একটা রৌদ্র হোক। পুরো পৃথিবী জানবে এইটা আব্রাহাম খান রৌদ্রের ছেলে।”
রৌদ্র তুরার এমন পাগলামি দেখে হেসে ফেলল। সে আলতো করে তুরার গাল দুটো দুই হাত দিয়ে ঘুরিয়ে টপাটপ কয়েকটা চুমু খেল। তারপর গভীর আবেগ নিয়ে বলল।
“উমম্মাহ্! যেইটাই হোক তুরা, আমি শুধু একটাই দোয়া করি আল্লাহ যেন আমাদের দিকে রহমতের নজরে তাকান। তুমি আর আমার সন্তান যেন সুস্থ থাকো, কোনো বিপদ যেন আমাদের স্পর্শ না করে।”
রৌদ্রের কণ্ঠে ছিল এক বুক আকুলতা আর না বলা হাজারো ভয়। তুরা তার মনের অবস্থা বুঝতে পেরে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। রৌদ্রের হাতটা নিজের হাতের ওপর রেখে আশ্বস্ত করে বলল।
“হুম, দেখো আল্লাহ আমাদের কিচ্ছু হতে দেবেন না। আমাদের আর তিথি আয়ান ভাইয়ার বেবি একদম সুস্থভাবে আসবে। দেখবে, আর মাত্র কটা দিন তারপর আমাদের এই খান বাড়িটা ওদের চিৎকারে মুখর হয়ে উঠবে। ও আমাদের মাম্মা-পাপ্পা বলে ডাকবে আর সারা বাড়ি মাথায় তুলবে।”
তুরার কথাগুলো শুনে রৌদ্রের অস্থির মনটা যেন একটু শান্ত হলো। সে পরম মায়ার আবেশে তুরার কাঁধ জড়িয়ে ধরে নিজের বুকের সাথে লেপ্টে নিল। যেন এভাবেই সব বিপদ থেকে তাকে আড়াল করে রাখবে। রৌদ্র ধীর গলায় শুধু বলল।
“তাই যেন হয় তুরা, তাই যেন হয়।”
বিকেলের মিঠে রোদ জানলা দিয়ে এসে ড্রয়িং রুমে পড়েছে। তুরা আর তিথি দুজনেই সোফায় বেশ আয়েশ করে বসে আছে। তিথি মনের সুখে বাটি ভর্তি টক-ঝাল আচার খাচ্ছে, আচারের গন্ধে যেন পুরো ঘর মজে আছে। অন্যদিকে তুরা আধা-শোয়া হয়ে মনোযোগ দিয়ে টিভিতে নিজের প্রিয় মুভি দেখছে। তাদের এই প্রশান্তির পেছনে রয়েছে পরিবারের বাকিদের অক্লান্ত পরিশ্রম।রান্নাঘর থেকে টুংটাং শব্দ আসছে তনুজা খান, রৌশনি খান আর হিমি খান মিলে রাতের খাবারের তদারকি করছেন। কাজের লোকেদের সাথে নিজেরাও হাত লাগিয়েছেন যাতে তুরা-তিথির পছন্দের খাবারগুলো ঠিকঠাক রান্না হয়। বাড়ির পুরুষেরা অর্থাৎ আনোয়ার খান, আশিক খান আর আরিফুল খান বিকেলে নিয়মিত হাঁটার অভ্যেস অনুযায়ী বাইরে বেরিয়ে পড়েছেন।
রৌদ্র আর আয়ানও বাড়িতে নেই। তবে তারা শুধু ঘুরতে বের হয়নি, তাদের গন্তব্য ডাক্তারের চেম্বার। তুরা আর তিথি ডাক্তারের কাছে যেতে চায় না বলে রৌদ্র আর আয়ানই নিয়ম করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে আসে। ওদের এখন কী খাওয়ানো উচিত,শরীর খারাপ লাগলে কী করতে হবে সব ছোটখাটো বিষয় তারা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জেনে নেয়। পরিবারের দুই হবু মায়ের যত্নে তারা কোনো খামতি রাখতে চায় না।
বিকেলের সেই শান্ত পরিবেশটা এক নিমেষেই ওলটপালট হয়ে গেল। তিথি মনের সুখে আচার খাচ্ছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই পেটের ভেতর এক অদ্ভুত মোচড় দিয়ে ওঠা ব্যথা অনুভব করল সে। এ ধরনের ব্যথা মাঝেমধ্যেই হয়, তাই তিথি ভাবল হয়তো এমনিই হচ্ছে, একটু পর সেরে যাবে। অবহেলা করে সে আবারও আচারের বাটির দিকে মন দিল।
কিন্তু সময় যত গড়াচ্ছে, ব্যথা কমা তো দূরের কথা বরং তা যেন আরও তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে, আর সেই সাথে তিথির যন্ত্রণাও বাড়ছে। একসময় সহ্য করতে না পেরে তিথি আচারের বাটিটা পাশে রেখে পেটে হাত দিয়ে ধীরে ধীরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করল। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে গেল এক কাণ্ড! কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই গলগল করে পানি বের হয়ে ফ্লোর ভিজিয়ে দিল, যেন ফ্লোরের ওপর দিয়ে ছোটখাটো এক নদী বয়ে গেল।তিথি থরথর করে কাঁপতে শুরু করল। সে বুঝতে পারছে এই পানির অর্থ কী, কিন্তু ব্যথার তীব্রতা এখন এতটাই ভয়াবহ যে তার মাথা কাজ করছে না। শিরদাঁড়া বেয়ে এক অসহ্য যন্ত্রণার ঢেউ আছড়ে পড়ল তার সারা শরীরে। তিথি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না পেট চেপে ধরে আর্তনাদ করে ফ্লোরের ওপর বসে পড়ল সে।
“ও আল্লাহ! আম্মু গোওওও…।
রানিং…!
Share On:
TAGS: নির্লজ্জ ভালোবাসা, সুমি চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬৩
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৪২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৫৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৮
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৪০
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৪৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৬