নির্লজ্জ_ভালোবাসা
লেখিকাসুমিচোধুরী
পর্ব ৮০ (❌কপি করা নিষিদ্ধ❌)
তুরা গিফট বক্স থেকে জিনিসটা বের করার সাথে সাথে বাড়ির সবাই কয়েক মুহূর্তের জন্য পাথর হয়ে গেল। একদম পিনপতন নীরবতা। পরক্ষণেই সবার মুখ থেকে হাসির এমন তুবড়ি ছুটল যে পুরো হলরুম থরথর করে কাঁপতে শুরু করল। আরশি তো রাগে আর লজ্জায় কাঁপতে কাঁপতে শিহাবের দিকে এমনভাবে তাকাল যেন ওকে এখনই কাঁচা চিবিয়ে খাবে।
কারণ গিফট বক্সে শিহাবের দেওয়া সেই ‘বিশ্বের সেরা’ গিফট আর কিছু নয়, বড় এক প্যাকেট বাচ্চাদের প্যাম্পার্স। তুরা নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না, সে বড় বড় চোখ করে প্যাম্পার্সের প্যাকেটের দিকে তাকিয়ে আছে, যেন ওটা কোনো ভিনগ্রহের বস্তু। নেহাল হাসতে হাসতে দম আটকে যাওয়ার যোগাড়, সে দুই হাতে তালি বাজিয়ে চিৎকার করে তুরার উদ্দেশ্যে বলল।
“ওরে শিহাব ভাই। মারাত্মক গিফট দিছস তো। ভাবি, তোমাদের অনাগত সন্তান হিশু কইরা যাতে বিছানা বালিশ একবারে সাত সাঁতার না ভাসায়া দেয়, শিহাব ভাই সেই চিন্তায় রাইতে ঘুমাইতে পারে নাই। আহা রে। ভাবির প্রতি তোর কী দরদ। ওরে কে আছিস, আমার এই প্যাম্পার্স বিশারদ শিহাব ভাইরে ধইরা একটা ‘প্যাম্পার্স নোবেল’ দে। অন্তত একটা সোনার মেডেল ওর গলায় ঝুলাইয়া দে।”
পুরো হলরুমের সবাই তখন হাসতে হাসতে সোফা আর মেঝের ওপর লুটিয়ে পড়ছে। শিহাব তাতে একটুও লজ্জা না পেয়ে বরং বেশ ভাব নিয়ে নিজের শার্টের কলারটা উঁচু করে টানল। তারপর একদম বীরের মতো স্টাইলে বলল।
“আমি শিহাব চৌধুরী। দরকারি আর কাজের গিফট দিতে আমি কোনোদিন পিছপা হই না। তুরা ভাবি, তুমি মনে হয় খুশিতে কথাই বলতে পারতেছ না। তুমি কি এখন আমারে ধন্যবাদ দিবা? আরে থাক, ধন্যবাদ দিয়া আমারে ছোট করার দরকার নাই। আমি জানি আমি খুব উপকার করেছি তোমাকে।”
তিথি হাসতে হাসতে ভারসাম্য হারিয়ে মেঝেতে পড়ে গেল। সে কোনোমতে হাসির দমক সামলে শিহাবের দিকে তাকিয়ে বলল।
“তাই বলে প্যাম্পার্স। এত সুন্দর একটা জন্মদিনে আপনি আর কিছু না পেয়ে সোজা প্যাম্পার্স গিফট করলেন? তার থেকে বাচ্চাদের সুজি কিংবা মিছরি গিফট করলেও তো অন্তত ভালো হতো, তাও তারা একটু চেটে দেখতে পারতো মিষ্টি আছে কি না।”
আরশি তো রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে শিহাবের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। সে শিহাবের পিঠে ধুমধাম করে কিল ঘুষি মারতে মারতে চিৎকার করে বলল।
“এই আপনার স্পেশাল গিফট? দুনিয়াতে আর কিছু কি আপনার চোখে পড়ে নাই? শেষমেশ এই প্যাম্পার্সই আপনার চোখে পড়ল? আমার মান সম্মান সব শেষ করে দিলেন আপনি।”
নেহাল তখন হাসতে হাসতে প্রায় বেহুঁশ হওয়ার অবস্থা। সে আরশির কাণ্ড দেখে হাসির তোড়ে কোনোমতে বলতে লাগল।
“আরে বোইন, ওরে শুধু শুধু মাইরা কী লাভ? তার চেয়ে বরং একটা প্যাম্পার্স খুইলা এখন ওরেই পরাই দাও। নিজের আনা জিনিস নিজে প্রথমে ট্রাই করে দেখুক। ও পইরা চেক করলে তুরা ভাবির ফিউচার বাচ্চার জন্য আরও সুবিধা হইবো যে ঠিকঠাক ফিট হয় কি না।”
নেহালের কথা শুনে শিহাব যন্ত্রণায় মুখ কুঁচকে নেহালের দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে বলল।
“নেহাল কাল্লু। তুই থামবি? তুই তো দেখি আমার বউরে আরও উসকাই দিতাছস। ভালো চাস তো চুপ থাক, নাইলে তোর মাথায় এমন বদদোয়া দিমু যে কাল থেইকাই টাক পড়া শুরু হইবো রে হালা।”
নেহালকে ধমক দিয়েই শিহাব এবার আদুরে আর করুণ মুখ করে আরশির দিকে তাকিয়ে বলল।
“আর তুমি। এত সুন্দর একটা জিনিস তোমার ভাই বউরে গিফট করলাম, তোমার উচিত ছিল খুশিতে আমারে দুইটা চুমু খাওয়া। তা না কইরা উল্টা আমারে ধইরা মারতেছো? তুমি আমার বউ নাকি আসলি জল্লাদ, একটু খুলে বলবা? আমি তোমারে চিনতেই পারতাছি না আরশি।”
আরশি এবার সত্যিই খেপে গিয়ে আরও ধুমধাম ভাবে শিহাবকে মারতে লাগল। মারের চোটে শিহাব তখন রৌদ্রের দিকে তাকিয়ে আর্তনাদ করে বলল।
“হেই ব্রো। তোর এই জল্লাদ বোনরে থামা। নাইলে কালকে সকালে দেখবি তোর আদরের বোন জামাই নাকে তুলা দিয়া খাটিয়াতে আরাম কইরা ঘুমাই আছে। তোর বোনের হাতের যা কিল, আমার তো এখনই পরকাল দেখা হয়ে যাচ্ছে।”
আয়ান এবার সুযোগ বুঝে শিহাবের পক্ষ নিয়ে ফাজলামোর সুরে বলল।
“শিহাব ভাই খারাপ কী দিছে? একবারে খাঁটি দরকারি জিনিস দিছে। এতে তুরা আর ভাইয়ার বিছানা বেঁচে যাবে, আর ওদের পার্সনাল সময়ও বেঁচে যাবে। বেচারা শিহাব ভাইয়ার লাইগা এখন আমার মায়া হচ্ছে। দীর্ঘ ২৮ বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাইয়া কত কষ্ট করে দোকান থেইকা এই প্যাম্পার্স কিনে গিফট করল, আর এখন বউয়ের হাতে মাইর খাইয়া বেচারা স্মৃতিশক্তিই হারাইয়া ফেলতেছে, নিজের বউকেই আর চিনতে পারছে না।”
রৌদ্র এবার কোনোমতে নিজের হাসি সামলে নিয়ে আরশির উদ্দেশ্যে ধমক মিশ্রিত মজার গলায় বলল।
“আরশি, থাম। আর ঝামেলা করিস না। বেচারা তোর হাতে মার খেয়ে তোরেই তো ভুলে যাইতাছে। এই কাঁচা যৌবনকালে ওর স্মৃতিশক্তিটা দয়া করে কেড়ে নিস না, পরে তো তোকেই সারাজীবন পস্তাতে হবে।”
রৌদ্রের ধমক মিশ্রিত মজা শুনে আরশি এবার মার থামিয়ে দিয়ে একপাশে দাঁড়িয়ে জোরে জোরে হাঁপাতে লাগল। তার চেহারায় তখনো রাগের রেশ। শিহাব তখন ব্যথায় কঁকড়াতে কঁকড়াতে নিজের পিঠ আর হাত ডলতে লাগল। তারপর এক মরণাপন্ন রোগীর মতো আড়চোখে আরশির দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে পড়তে লাগল।
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।”
শিহাবের এমন করুণ দশা আর শেষ মুহূর্তে কালিমা পড়ার ভঙ্গি দেখে পুরো ঘরে থাকা সবাই আবারও হাসিতে ফেটে পড়ল।তারপর সবাই ধীরে ধীরে সিরিয়াস মুডে আসল। শিহাব মজা করে প্যাম্পার্স দিলেও তুরার জন্য আসলে খুব সুন্দর একটা শাড়ি এনেছিল, সেটি সে তুরার হাতে তুলে দিল। নেহাল একটি স্মার্ট ওয়াচ গিফট করল। আয়ান উপহার দিল চমৎকার এক সেট চুড়ি। একে একে সবাই তাদের উপহারগুলো তুরার হাতে তুলে দিল। এত সব সুন্দর সুন্দর গিফট পেয়ে তুরা যেন খুশিতে আকাশে উড়ছে।
দীর্ঘক্ষণ হাসাহাসি আর হুল্লোড়ের পর সবাই বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়ল। তারপর একে একে সবাই যার যার রুমে চলে গেল। তিথি নিজের রুমে এসে সোজা ওয়াশরুমে ঢুকল। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চোখে-মুখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিতে দিতে সে ভাবল, হাসতে হাসতে তার পেটে এখনো ব্যথা করছে। আজকের রাতটা সত্যিই অনেক বেশি স্মরণীয় হয়ে থাকল।
তিথি ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আয়নার সামনে দাঁড়াল। নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো করে মুখ মুছতে থাকা অবস্থায় হঠাৎ চারপাশটা যেন থমকে গেল। ঠিক তখনি পেছন থেকে দুটি শক্ত অথচ মায়াবী হাত এসে পরম আবেশে তার চোখ দুটো চেপে ধরল। সেই চেনা হাতের স্পর্শ আর হাতের তালুর পরিচিত উষ্ণতাটুকু পাওয়া মাত্রই তিথির ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল। মানুষটাকে চিনতে তার এক মুহূর্তও দেরি হলো না। সে মুচকি হেসে আলতো স্বরে বলল।
“চোখ ধরেছ কেন?”
আয়ান বেশ অবাক হওয়ার ভঙ্গি করে পেছন থেকেই ফিসফিসিয়ে বলল।
“এত দ্রুত বুঝে ফেললি?”
“না বোঝার কী আছে। তোমার স্পর্শ তো আমার অন্তরের গহীনে মিশে গিয়েছে। আর সেই চেনা স্পর্শ না চেনার তো কোনো মানেই হয় না।”
আয়ান তার চোখ থেকে হাত সরাল না, বরং আরও একটু নিবিড় হয়ে বলল।
“তাই। তুই তো দেখছি দিন দিন বেশ ভালোবাসার পাগলি হয়ে যাচ্ছিস। বাই দ্য ওয়ে, তোর জন্য একটা বিশেষ জিনিস এনেছি। জলদি হাত দুটো ওপরে তোল তো।”
তিথি আর কথা বাড়াল না, এক মুহূর্ত দেরি না করে হাসিমুখে নিজের ডান হাতটা উপরে তুলল। আয়ান সাথে সাথে তার পকেট থেকে সেই কাঙ্ক্ষিত উপহারটি বের করে তিথির হাতের তালুতে রাখল। এরপর খুব আলতো করে নিজের হাত দুটো তিথির চোখ থেকে সরিয়ে নিল।
তিথি ধীরে ধীরে পলক ফেলল। চোখ মেলে হাতের দিকে তাকাতেই তার বিস্ময়ের সীমা রইল না। হাতের ওপর ঝকঝক করছে এক জোড়া গাঢ় নীল রঙের রেশমি কাঁচের চুড়ি। নীল রঙের সেই মায়াবী আভা দেখে তিথি খুশিতে একদম আত্মহারা হয়ে গেল। সে বিস্ময়ভরা চোখে আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল।
“চুড়ি। আমি যে নীল রঙের চুড়ি এত পছন্দ করি, এটা তুমি জানলে কীভাবে?”
আয়ান একটু রহস্যময় হাসি দিয়ে বলল।
“কিভাবে জানলাম সেটা তোর জানতে হবে না। এখন বল, তোর পছন্দ হয়েছে কি না?”
তিথি হাতের তালুতে রাখা চুড়িগুলো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে দেখতে মুগ্ধ হয়ে বলল।
“খুব, খুব বেশি পছন্দ হয়েছে।”
বলেই তিথি হঠাৎ চুড়ি জোড়া আয়ানের সামনে ধরল। তারপর নিজের ফর্সা বাম হাতটা আলতো করে উঁচিয়ে ধরে আবদারের সুরে বলল।
“উপহার তো এনেছ, এখন আরেকটু খুশি করো দেখি। সুন্দর করে এই চুড়িগুলো আমায় পরিয়ে দাও তো।”
আয়ান মৃদু হেসে তিথির হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিল। অতি সাবধানে চুড়ির ওপরের পাতলা কাগজটুকু ছিঁড়ে ফেলে দিয়ে সে খুব আলতো করে একটি একটি করে চুড়ি তিথির নরম কবজিতে পরিয়ে দিল। কাঁচের চুড়িগুলো একে অপরের গায়ে লেগে এক অদ্ভুত মায়াবী টুংটাং শব্দ তুলল। তিথি মুগ্ধ চোখে নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে রইল, তারপর হাতটা নেচে নেচে চুড়ির শব্দ তুলে আহ্লাদী সুরে বলল।
“খুব সুন্দর লাগছে, তাই না?”
আয়ান এবার পকেটে হাত দিয়ে বেশ ভাব নিয়ে একদম সোজা হয়ে দাঁড়াল। চোখের কোণে দুষ্টুমি মিশিয়ে বলল।
“হুম। এখন বল, এই স্পেশাল গিফটের বদলে আমাকে তুই কী দিবি?”
তিথি খানিকটা অবাক হওয়ার ভান করে আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল।
“ওমা। তোমার আবার কী চাই?”
আয়ান ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থেকে বলল।
“কী চাই বা না চাই সেটা বড় কথা না। তুই নিজের থেকে আমাকে কী দিবি, সেটা বল?”
তিথি কিছুক্ষণ গাল ফুলিয়ে ভাবল। তারপর যেন মস্ত বড় লিস্ট করছে, এমন ভঙ্গিতে বলল।
“আচ্ছা, কী পছন্দ তোমার। ঘুড়ি, সানগ্লাস, দামী পারফিউম, স্মার্ট ওয়াচ নাকি ল্যাপটপ? তোমাদের ছেলেদের আর কী কী জানি লাগে। যাই হোক, তোমার কী চাই নাম বলো?”
আয়ান এবার পকেট থেকে হাত বের করল। সে সামান্য ঝুঁকে তিথির একদম কাছে চলে এল। তিথির কপালে আছড়ে পড়া অবাধ্য কয়েকটা এলোমেলো চুল খুব যত্নে আঙুল দিয়ে কানের পিঠে গুঁজে দিল সে। তিথির চোখের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে খুব নিচু গলায় বলল।
“আমি যা চাইব, দিবি তো?”
আয়ানের এই অতর্কিত সান্নিধ্যে তিথি ভেতর থেকে শিউরে উঠল। তার বুকটা তখন দুরুদুরু কাঁপছে। সে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে বিস্ময়ভরা কণ্ঠে আমতা আমতা করে বলল।
“হ্যাঁ, বলো কী চাই? ঘুড়ি, স্মার্ট ওয়াচ আ…”
বাকিটুকু আর মুখ ফুটে বের হলো না। তার কথা শেষ হওয়ার আগেই আয়ান নিজের ডান হাতের তর্জনীটা তিথির ঠোঁটের ওপর আলতো করে চেপে ধরল। তিথির চঞ্চল কথাগুলো নিমেষেই স্তব্ধ হয়ে গেল। আয়ান গভীর চোখে সরাসরি তিথির চোখের দিকে তাকিয়ে কিছুটা শাসানোর সুরে বলল।
“তোকে একবারও বলেছি যে আমার ওসব জাগতিক জিনিস চাই?”
আয়ানের আঙুল তখনো তিথির কম্পমান ঠোঁটে লেগে আছে। সেই স্পর্শে তিথির সারা শরীরে এক অদ্ভুত শিহরণ বয়ে গেল। সে ওভাবেই বড় বড় চোখ করে অস্ফুট স্বরে বিড়বিড় করে বলল।
“তাহলে কী চাই তোমার?”
আয়ান এবার আরও খানিকটা ঝুঁকে তিথির কানের একদম কাছে চলে এল। তার তপ্ত নিঃশ্বাস তিথির গলার কাছে আছড়ে পড়ছে। এক মায়াবী আর ঘোর লাগা কণ্ঠে ফিসফিস করে সে বলল।
“আমার তো অন্য কিছু চাই।”
আয়ানের ওই নেশালো কন্ঠস্বর আর গাঢ় চাহনিতে তিথির সারা শরীর মুহূর্তেই বরফ হয়ে গেল। বুকের ভেতর হৃদপিণ্ডটা যেন আজ অবাধ্য হয়ে লাফাচ্ছে। সে কোনোমতে ঢোক গিলে কাঁপাকাঁপা কণ্ঠে অস্ফুট স্বরে বলল।
“হ্যাঁ… বলো, কী কী চাই তোমার?”
আয়ান এবার তার হাতের আঙুল দিয়ে তিথির মসৃণ গালে আলতো করে স্লাইড করতে লাগল। সেই স্পর্শে তিথির চোখের পাতা যেন ভারি হয়ে আসছে। আয়ান চোখের মণি স্থির রেখে শান্ত অথচ গভীর স্বরে বলল।
“আগে বল, যা চাইব তা দিবি?”
তিথি যেন এক মায়ার জগতে হারিয়ে গিয়েছে। সে আয়ানের চোখের অতল গভীরে তাকিয়ে ঘোরের মাঝেই মাথা নেড়ে সায় দিয়ে বলল।
“হুম। বলো কী চাই তোমার?”
তিথির কথা শেষ হতে না হতেই আয়ান এক মুহূর্তের জন্য সময় নিল না। আচমকা এক ঝটকায় তিথির কোমর জড়িয়ে ধরে তাকে একদম নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিল সে। তিথি অপ্রস্তুত হয়ে দুহাতে আয়ানের শার্ট খামচে ধরল। আয়ান এবার তার মুখটা তিথির কানের খুব কাছে নিয়ে গেল। তার তপ্ত নিঃশ্বাসের ছোঁয়ায় তিথি চোখ বুজে ফেলল। আয়ান অত্যন্ত নেশালো আর মায়াবী গলায় ফিসফিস করে বলল।
“আদর।”
আয়ানের এমন সরাসরি আর উন্মাতাল করা আবদারে তিথি যেন শক্তিশালী কোনো বৈদ্যুতিক শক খেল। তার সারা শরীরে এক তীব্র শিহরণ বয়ে গেল। লজ্জায় তার ফর্সা মুখটা মুহূর্তেই আগুনের মতো লাল হয়ে উঠল। সে কোনো উত্তর দিতে পারল না, শুধু আড়ষ্ট হয়ে কাঁপাকাঁপা হাতে আয়ানের শার্টের বুকটা আরও জোরে খামচে ধরল। তার হৃৎস্পন্দনের শব্দ যেন নিজেই কানে শুনতে পাচ্ছে।
আয়ান যখন দেখল তিথি স্তব্ধ হয়ে আছে, তখন সে তিথির কোমরে রাখা হাতের বাঁধনটা আরও এক ইঞ্চি বাড়িয়ে ওকে নিজের তপ্ত শরীরের সাথে একদম লেপ্টে নিল। আয়ান এবার সরাসরি তিথির চোখে চোখ রেখে খুব নিচু আর গাঢ় স্বরে বলল।
“কী হলো? একদম জমে গেলি যে? বল, আমার পাওনাটা কি দিবি না?”
তিথির মনে হচ্ছে পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। এমন লজ্জা আর এমন পরিস্থিতির জন্য সে একদমই তৈরি ছিল না। কোনোমতে মাথা নিচু করে মুখ লুকিয়ে অস্ফুট স্বরে বলল।
“আয়ান… তুমি কেমন জানি দিন দিন মাত্রাতিরিক্ত অসভ্য হয়ে যাচ্ছো।”
আয়ান এবার এক মুহূর্তের জন্য থামল না। সে নিজের মুখটা নিচু করে তিথির গলার কাছে নামিয়ে আনল। তিথির মসৃণ কাঁধ আর গলার সন্ধিস্থলে নিজের ঠোঁট দুটো খুব আলতোভাবে ঘষতে ঘষতে অত্যন্ত নেশালো আর ভাঙা গলায় বলল।
“উমম খুব বেশি অসভ্য হয়ে গেছি, তাই না? আসলে তোকে দেখলেই আমার মস্তিষ্কের সব নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়। তুই আমার এমন এক আদিম নেশা, যার নেশায় আমি প্রতি মুহূর্তে পাগল হই। তোর এই শরীরের ঘ্রাণ, তোর এই লজ্জা সবকিছু আমাকে জ্বালিয়ে দিচ্ছে। এখন বল তিথি, দিবি কি না?”
আয়ানের ওমন তীব্র নেশালো সান্নিধ্যে তিথি আর নিজেকে সামলাতে পারছিল না। তার সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে, নিশ্বাস আটকে আসছে বারবার। সে কোনোমতে আয়ানের শক্ত বুক থেকে মুখটা সামান্য সরিয়ে নিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় অস্ফুট স্বরে বলল।
“আ…আয়ান, আমি প্রেগন্যান্ট!”
তিথির এই কথা শুনে আয়ান এক মুহূর্তের জন্য থামল। তার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে প্রশ্রয়ের হাসি ফুটে উঠল। সে তিথির চোখে চোখ রেখে ওর কানের লতিতে ঠোঁট ছোঁয়াল, তারপর খুব আদুরে অথচ নেশালো ভঙ্গিতে তিথির কাঁধে হালকা একটা কামড় বসিয়ে দিল। সেই কামড়ের শিহরণে তিথি চোখ বুজে আয়ানকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। আয়ান ওর কানের কাছে মুখ রেখে ফিসফিস করে বলল।
“পাগলি আমি মোটেও তেমন কোনো গভীর আদর চাইনি যেটাতে আমার সন্তানের বিন্দুমাত্র ক্ষতি হবে। আমি অতটা গভীরে যাব না রে পাগলী। আমি তো শুধু তোর এই মায়াবী শরীরের ছোট ছোট আর মিষ্টি কিছু আদর চাইছি। যে আদরে শুধু তুই আর আমি থাকব।”
আয়ানের কথাগুলো যেন নেশার মতো তিথির কানে বাজতে লাগল। সে বুঝতে পারল আয়ান কতটা যত্ন আর ভালোবাসার সাথে তাকে চাইছে। আয়ান এবার তিথির কপালে থাকা চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে ওর কপালে খুব দীর্ঘ এক জোড়া ঠোঁটের ছাপ এঁকে দিল।তিথি লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে রইল, একটি শব্দও তার মুখ দিয়ে বের হলো না। তার সেই লজ্জায় রাঙা মুখ আর আনত চোখের চাহনি দেখে আয়ানের ভেতরের তৃষ্ণা যেন কয়েক গুণ বেড়ে গেল। সে আর নিজেকে সংবরণ করতে পারল না। তিথির নীরবতা যেন আয়ানের জন্য এক মৌন সম্মতি হয়ে এল।
আয়ান মুহূর্তের মধ্যে এক ঝটকায় তিথিকে পাঁজাকোলা করে কোলে তুলে নিল। অতর্কিত এই ঘটনায় তিথি হালকা একটা চিৎকার দিয়ে আয়ানের গলা জড়িয়ে ধরল। আয়ান ওর চোখের দিকে তাকিয়ে এক মায়াবী হাসল এবং পা ফেলে এগিয়ে গেল বিছানার দিকে।
বিছানায় তিথিকে খুব সন্তর্পণে শুইয়ে দিয়ে আয়ান নিজেও ওর একদম কাছে ঝুঁকে এল। ঘরের ডিম লাইটের আবছা নীল আলোয় আয়ানের চোখের নেশাটা যেন আরও স্পষ্ট হয়ে ধরা দিল। তিথি দ্রুতবেগে নিশ্বাস নিতে নিতে চোখ দুটো শক্ত করে বুজে ফেলল। আয়ান ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে তপ্ত স্বরে বলল।
“তোর এই লজ্জা আমাকে পাগল করে দিচ্ছে তিথি। কথা দিচ্ছি, আমাদের আগত সোনামণির একটুও কষ্ট হতে দেব না।”
বলেই আয়ান পরম আবেশে তিথির গলার ভাঁজে মুখ ডোবাল। নীল কাঁচের চুড়িগুলোর টুংটাং শব্দে নিস্তব্ধ ঘরটা এক মোহনীয় ভালোবাসার গল্প লিখতে শুরু করল।
তুরা গাল ফুলিয়ে বিছানার এক কোণে বসে আছে। রাগে আর অভিমানে তার মুখটা লাল হয়ে আছে। আজ তার জন্মদিন, অথচ রৌদ্রর কোনো পাত্তাই নেই। সবাই উপহার দিল, কিন্তু নিজের স্বামীই কি না খালি হাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে।রৌদ্র অনেক ক্লান্ত ছিল, তাই কোনো কথা না বলে সোজা ফ্রেশ হতে ওয়াশরুমে ঢুকেছিল।
খানিক বাদে রৌদ্র ফ্রেশ হয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হলো। তোয়ালে দিয়ে ভেজা চুল মুছতে মুছতে সে নজর দিল তুরার দিকে। তুরা তখনো গাল ফুলিয়ে পাথরের মতো বসে আছে। রৌদ্র মুচকি হেসে আলতো পায়ে তুরার সামনে এসে মেঝের ওপর হাঁটু গেড়ে বসল। সে তুরার দুই হাত নিজের শক্ত মুঠোয় পুরে নিল।রৌদ্র খুব নরম আর আদুরে গলায় ডাকল।
“কি হয়েছে তুরা? এইভাবে গাল ফুলিয়ে বসে আছো কেন?”
রৌদ্রের স্পর্শ পেয়ে তুরা যেন আরও বেশি রেগে গেল। সে রৌদ্রের হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেওয়ার একটা বৃথা চেষ্টা করে মুখটা ঝামটা দিয়ে অন্য দিকে ঘুরিয়ে নিল। সে এমন একটা ভাব করল যেন সে রৌদ্রকে চিনেই না। রৌদ্র এবার একটু অসহায় মুখ করে আবার বলল।
“তুরা আমার দিকে তাকাও। কি হয়েছে বলো? তুমি কি এখনো আমার উপর রেগে আছো?”
তুরা তবুও কোনো কথা বলল না। সে স্থির হয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে রইল। রৌদ্র এবার তুরার থুতনিটা আলতো করে ধরে নিজের দিকে ফেরানোর চেষ্টা করল। সে খুব মিষ্টি করে হাসল এবং সুর করে বলতে লাগল।
“আতা গাছে তোঁতা পাখি, ডালিম গাছে মৌ… এত ডাকি তবু কথা কও না কেন বউ?”
রৌদ্রের ওই অবাস্তব ছড়া শুনে তুরার রাগের মাত্রা যেন আকাশ ছাড়িয়ে গেল। সে মনে মনে ভাবছে এক তো লোকটা জন্মদিনে কোনো উপহার দেয়নি, তার ওপর এখন দরদ না দেখিয়ে মজা নিচ্ছে।কেন যে সে গাল ফুলিয়ে বসে আছে, সেটুকু বোঝার ক্ষমতাও কি রৌদ্রের নেই? তুরা আর বসে থাকতে পারল না এক ঝটকায় বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে রাগে কাঁপতে কাঁপতে চেঁচিয়ে বলল।
“কে ভাই আপনি?
তুরার মুখে হুট করে ‘ভাই’ ডাক শুনে রৌদ্রের চোখের মণি যেন স্থির হয়ে গেল। তবে দমে যাওয়ার পাত্র সে নয়। তুরার অগ্নিশর্মা চেহারা দেখে রৌদ্র এবার মোক্ষম এক দুষ্টু বুদ্ধি বের করল। সে ঝট করে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল, একদম তুরার নাকের ডগায় নাক ঠেকিয়ে। তারপর খুব গম্ভীর হওয়ার ভান করে বাম হাতটা প্যান্টের পকেটে গুজল আর ডান হাতটা হ্যান্ডশেক করার ভঙ্গিতে এগিয়ে দিয়ে এক নাগাড়ে বলতে শুরু করল।
“চলেন আপু, ।আগে পরিচয়টা হোক আপু। আমি আব্রাহাম খান রৌদ্র আপু, আপনার বাচ্চার বাবা আপু, আর হ্যাঁ আপু আপনার স্বামী আপুও বটে। এখন আপু, আপনার পরিচয়টা দিলে আমি খুব খুশি হতাম আপু। না মানে আপু, ভুল বুঝবেন না আপু, আমারও তো জানার ইচ্ছে করে আপু আপু আপনি কে আপু? আপনার নাম কী আপু? আপু, আপনার বাসা কোথায় আপু? আপু, আপনি রাগ করেছেন নাকি আপু? আপু, আপনার মুখটা এমন দেখাচ্ছে কেন আপু? আপু, শরীর খারাপ লাগছে আপু? আপু, এখনই ডাক্তার ডাকবো আপু? আপু… আপু… আপু… ওই আপু। কথা বলেন আপু।আপু শুনতে পাচ্ছেন তো আপু?”
রৌদ্রের এই অন্তহীন ‘আপু’ সম্বোধন আর এক নিশ্বাসে বলা পাগলামি শুনে তুরার মাথায় যেন রক্ত চড়ে গেল। সে দাঁতে দাঁত চেপে রৌদ্রের দিকে তাকিয়ে আছে, আর রৌদ্র খুব নিরীহ একটা মুখ করে এখনো হাতটা বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তুরার রাগ এখন চরমে, কিন্তু রৌদ্রের এই অদ্ভুত কাণ্ড দেখে সে হাসবে না কি আরও জোরে চেঁচাবে, সেটা বুঝতে পারছে না।তুরাকে ওমন করে তাকিয়ে থাকতে দেখে রৌদ্র কয়েক বার চোখের পলক ফেলে অত্যন্ত নিরীহ মুখ করে বলল।
“আপু শুনছেন আমার কথা?।”
তুরা আর এইবার নিজেকে ঠিক রাখতে পারল না। রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে রৌদ্রের চওড়া বুকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে মারতে চিল্লাতে চিল্লাতে বলল।
“আপনি আসলেই একটা খারাপ। আপনি আমার জন্য এ পর্যন্ত যা করেছেন সব নাটক ছিল। আসলে আপনি আমাকে ভালোই বাসেন না, শুধু নাটক দেখান।আর কী বললেন? আমি আপনার আপু? ঠিক আছে, আজ থেকে আমি আপনার আপুই সই। আর কখনো আমার ধারেকাছে আসবেন না আপনি।একদম ছোঁবেন না আমাকে।”
তুরার চিৎকারে পুরো ঘর যেন কেঁপে উঠল। অভিমানে তার কণ্ঠস্বর বুজে আসছিল, আর চোখের নোনা জল গাল বেয়ে টপ টপ করে রৌদ্রের শার্টের ওপর পড়ছিল। রৌদ্র কিন্তু এক চুলও নড়ল না। সে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে তুরার সবটুকু রাগ আর আঘাত নিজের বুকে সইতে লাগল। তুরা মারতে মারতে যখন একদম ক্লান্ত হয়ে পড়ল, ঠিক তখনই রৌদ্র এক ঝটকায় তুরার দুই কবজি শক্ত করে ধরে ওকে নিজের শরীরের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল।তুরার রাগে টকটকে লাল হয়ে যাওয়া মুখটা এখন রৌদ্রের একদম কাছে। রৌদ্রের চোখের সেই দুষ্টুমি হাসিটা মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল, সেখানে এক গভীর নেশালো আর মায়াবী চাউনি ফুটে উঠল। রৌদ্র খুব নিচু স্বরে, তুরার ঠোঁটের একদম কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল।
“বাপ রে এত রাগ আমার ওপর।”
তুরা রৌদ্রের শক্তিশালী বাহু থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য জানপ্রাণ দিয়ে ধস্তাধস্তি শুরু করল। রাগে তার সারা শরীর রি রি করছে। সে রৌদ্রের হাতের ওপর নিজের নখ বসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে করতে তীক্ষ্ণ গলায় বলল।
“ছাড়েন বলছি আমায়।একদম ছুঁবেন না আমাকে, ভালো হবে না কিন্তু বলছি।”
তুরার এই অগ্নিশর্মা রূপ আর ধমক শুনে রৌদ্র মোটেও ভয় পেল না, উল্টো তার ঠোঁটের কোণে একটা বাঁকা হাসি ফুটে উঠল। সে এক ঝটকায় তুরাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে পরক্ষণেই আবার উল্টো করে দিল। তুরার পিঠ এখন রৌদ্রের বুকের সাথে ঠেকে আছে। রৌদ্র পেছন থেকে ওর কোমরে নিজের দুই হাত দিয়ে শক্ত এক বেষ্টনী তৈরি করল, যাতে তুরা নড়াচড়া করতে না পারে।রৌদ্র তুরার কানের একদম কাছে নিজের তপ্ত মুখটা নিয়ে গেল। তার উষ্ণ নিশ্বাস তুরার ঘাড়ে লাগতেই তুরা শিউরে উঠল। রৌদ্র খুব নিচু আর নেশালো গলায় কানে কানে ফিসফিস করে বলল।
“তাই? কী করবে ছুঁলে? শুনি একটু তোমার শাস্তির কথা।”
তুরা অপমানে আর রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে দাঁতে দাঁত চেপে বলল।
“খু*ন করে ফেলবো একদম। আমার কথা ঠাট্টা মনে করবেন না।”
রৌদ্র এবার উচ্চ স্বরে হেসে উঠল। হাসির চোটে তার বুকটা তুরার পিঠের সাথে কাঁপতে লাগল। সে তুরাকে আরও নিবিড় ভাবে জড়িয়ে ধরে তুরার ঘাড়ে নিজের থুতনিটা রাখল। এক অদ্ভুত মায়ার সুরে সে ফিসফিস করে বলল।
“তাই? সত্যিই মারতে পারবা আমায়? এতটা পাষাণ বাবুর আম্মু হতে পারবে তো যে বাচ্চা পৃথিবীতে আসার আগেই তাকে এতিম করে দিবে?”
রৌদ্রের এই আবেগী কথায় তুরার ভেতরটা যেন একটু নরম হলো, কিন্তু তার অভিমান তো কমবার নয়। সে এবার অভিমানে ধরা গলায় গাল ফুলিয়ে বলতে লাগল।
“আপনি কেমন মানুষ? আপনি আমাকে একটা গিফটও দিলেন না! খুব দামী কিছু হতে হবে তেমন তো না, ছোট্ট একটা জিনিস দিলেও তো মনকে বোঝাতাম যে আপনি কিছু দিয়েছেন। আসলে গিফটটা বড় কথা না, কিন্তু সব থেকে কাছের মানুষ যখন কিছু দেয় না, তখন খুব খারাপ লাগেএইটাই বড় কথা। আর আপনি আমার অভিমানটাও বুঝতে পারছেন না? এই বুঝি আমার প্রতি আপনার ভালোবাসা?।”
তুরার কথাগুলো শুনে রৌদ্রের হাসিখুশি মুখটা শান্ত হয়ে এল। সে এবার পুরোপুরি নিশ্চিত হলো যে তার বউয়ের অভিমানটা ঠিক কোন জায়গায় গিয়ে ঠেকেছে। সে আলতো করে তুরার গালে একটা পাপ্পি খেয়ে আদুরে গলায় বলল।
“ওহ আচ্ছা।আমার বাবুর আম্মুর বুঝি এই জন্য আমার ওপর এত রাগ? মনে মনে আমাকে একদম ভিলেন বানিয়ে ফেলেছ, তাই তো?”
তুরা কোনো উত্তর দিল না, মাথা নিচু করে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। রৌদ্র এবার তুরাকে নিজের বাঁধন থেকে ছেড়ে দিয়ে একদম সিরিয়াস মুডে চলে আসল। তুরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই রৌদ্র আলমারির কাছে গিয়ে সব থেকে ওপরের তাক থেকে একটা ফাইল বের করে আনল। সে একটা কলম আর ফাইলটা নিয়ে তুরার সামনে এসে দাঁড়াল। ফাইলটা খুলে তুরার চোখের সামনে ধরে একটা নির্দিষ্ট জায়গা দেখিয়ে গম্ভীর গলায় বলল।
” সাইন করো এখানে।”
তুরা অবাক হয়ে ফাসলফাসল চোখে রৌদ্রের দিকে তাকাল। সে বুঝতে পারছে না হুট করে এই মাঝরাতে কিসের সই নিতে চাইছে রৌদ্র। তার বুকের ভেতরটা দুরুদুরু করতে লাগল।তুরাকে সাইন করতে না দেখে রৌদ্রের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। সে ফাইলের ওপর আঙুল দিয়ে চাপ দিয়ে আবারও বেশ গম্ভীর গলায় বলল।
“কী হলো? শুনতে পাওনি? আই সেড সাইন দ্য পেপার, রাইট নাও।”
রৌদ্রের এই আকস্মিক রুক্ষ আচরণে তুরা একদম ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। যে মানুষটা একটু আগে তাকে ‘বাবুর আম্মু’ বলে আদরে ভাসিয়ে দিচ্ছিল, সে হুট করে এমন হুকুম দিচ্ছে কেন? তুরা কিছু বুঝতে না পেরে কাঁপা গলায় বলল।
“কিসের কাগজ এইটা? হঠাৎ সাইন করতে বলছেন কেন?।”
রৌদ্র এবার তুরার চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে অত্যন্ত হিমশীতল কণ্ঠে বলল।
“তোমার বাবার যা যা সম্পত্তি আছে তা তুমি আমাকে দিয়ে দিচ্ছো। সেই হস্তান্তরের কাগজ এইটা। সাইন করো তাড়াতাড়ি।”
তুরার শরীর অপমানে রি রি করে উঠল। রৌদ্র তাকে এভাবে সস্তায় পরীক্ষা করছে। রাগের মাথায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে তুরা মুহূর্তের মধ্যে রৌদ্রের হাত থেকে কলমটা ছিনিয়ে নিল এবং খসখস করে কাগজে সই করে দিল। সই করার সাথে সাথেই রৌদ্রের ঠোঁটে এক পৈশাচিক নয়, বরং অত্যন্ত তৃপ্তির এক মায়াবী হাসি ফুটে উঠল। সে কোনো কথা না বলে ফাইলটা পরম যত্নে আলমারিতে তুলে রাখল। তুরা আর সেখানে এক সেকেন্ডও দাঁড়াতে পারল না কান্নার বেগ সামলাতে সে সোজা ব্যালকনিতে গিয়ে বাইরের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে রইল।
বেশ কিছুক্ষণ পর, তুরার কাঁধে খুব নরম আর মিহি কিছু একটার স্পর্শ অনুভব হলো। কেউ যেন আলতো করে সুড়সুড়ি দিচ্ছে। তুরা ভাবল রৌদ্র হয়তো মান ভাঙাতে ছলাকলা করছে। সে অভিমানে মুখটা আরও ঘুরিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল।
“ভালো লাগছে না আমার, একা থাকতে দিন আমাকে!”
কিন্তু সেই সুড়সুড়ি বন্ধ হলো না। বরং স্পর্শটা কেমন যেন অদ্ভুত তুলতুলে আর ভিজে ভিজে। তুরা এবার খটকা খেল মানুষের আঙুল তো এত নরম হতে পারে না। সে ধীরে ধীরে ঘাড় সামান্য বাঁকিয়ে কাঁধের দিকে তাকাতেই তার চোখ একদম ছানাবড়া।
তার কাঁধে বসে আছে এক অপূর্ব সুন্দরী, দুধে-আলতা মেশানো গায়ের রঙের এক বিদেশি পারসিয়ান বিড়াল। বিড়ালটার গায়ের পশম এতই সাদা আর মিহি যে মনে হচ্ছে এক দলা সাদা মেঘ কেউ তার কাঁধে বসিয়ে দিয়েছে। বিড়ালটার চোখ দুটো নীল মণির মতো উজ্জ্বল, যা চাঁদের আলোয় হীরের মতো চিকচিক করছে। ছোট ছোট গোলাপি নাক আর তুলতুলে গাল দুটো এতটাই কিউট যে দেখলেই আদর করতে ইচ্ছে করে।
তুরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো বিড়ালটাকে নিজের দুই হাতে তুলে নিল। বিড়ালটার গলায় একটা লাল মখমলের বেল্ট বাঁধা, যাতে একটা গোল সোনারুপালি মেডেল ঝুলছে। মাথায় ছোট ছোট দুটো ব্যান্ড লাগানো। বিড়ালটা মিউ মিউ করে তুরার বুকের সাথে লেপ্টে যেতেই তুরার সব রাগ যেন কর্পূরের মতো উড়ে গেল। বিড়ালটার নীল চোখের সেই মায়াবী চাউনি আর রাজকীয় অবয়ব দেখে তুরা বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ হয়ে গেল।
মুহূর্তে তুরা খুশিতে একদম আত্মহারা হয়ে গেল। রৌদ্রের ওপর থাকা পাহাড়সমান অভিমান যেন এক নিমেষে কর্পূরের মতো উড়ে গেল। সে বিড়ালটাকে বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে তার নরম তুলতুলে পশমে মুখ ঘষতে লাগল। বিড়ালটাও যেন খুব চেনা আবেশ পেল। সে তুরার ওম পেয়ে পরম শান্তিতে তুরার বুকে মাথা নুইয়ে চোখ বুজে ফেলল। তুরার এই বাঁধভাঙা খুশির মাঝেই পেছন থেকে সেই পরিচিত গভীর আর মাদকতাময় পুরুষালি কণ্ঠ ভেসে এল।
“কী, আমার মহারানীর পছন্দ হয়েছে?”
রৌদ্রের কণ্ঠ শুনে তুরা চট করে পেছনে তাকিয়ে দেখল, রৌদ্র দরজায় হেলান দিয়ে বুকে হাত ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে আছে। তার ঠোঁটের কোণে সেই চিরচেনা বিজয়ী হাসি। তুরা এখন জলের মতো পরিষ্কার বুঝতে পারল, রৌদ্রই এই ছোট্ট জাদুকরী প্রাণিটাকে এনে চুপিচুপি ওর কাঁধে বসিয়ে দিয়েছিল। তুরা বিড়ালটার দুধসাদা গলার ভাঁজে নিজের নাক ডুবিয়ে আদুরে ভঙ্গিতে ফিসফিস করে বলল।
“হুম, খুব।আমি ভাবতেও পারিনি আপনি আমাকে এত সুন্দর একটা গিফট দেবেন। আর বিড়ালটা যে এত কিউট, আমি সত্যি কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।”
রৌদ্র ধীরপায়ে তুরার একদম কাছে এসে দাঁড়াল। বিড়ালটার সেই মোহনীয় নীল চোখের দিকে তাকিয়ে সে সগর্বে বলল।
“ভাষা হারানোরই কথা। সুইজারল্যান্ডের পুরো ক্যাট-হাউজের মধ্যে এই বিড়ালটাই ছিল সবথেকে সেরা,রাজকীয় আর আদুরে। এর স্বভাব খুব শান্ত কামড় দেওয়া বা নখ দিয়ে খামচি দেওয়ার মতো অভদ্রতা ও জানেই না। শুধু একটা পচা স্বভাব আছে পছন্দের মানুষের শরীর চেটে দেওয়া।”
তুরা বিড়ালটার মাথায় আলতো করে হাত বুলাতে বুলাতে খিলখিল করে হেসে উঠল। বিড়ালটা তখন তার হাতের তালুতে মিহি করে নাক ঘষছে। তুরা মুগ্ধ নয়নে বিড়ালটার দিকে তাকিয়ে বলল।
“হুম, আসার পর থেকেই আমার ঘাড় চেটে দিচ্ছিল। ওরে আল্লাহ্, কী যে কিউট এটা।একদম পুতুলের মতো দেখতে।দেখলেই আদ’র করতে ইচ্ছে করছে?।”
রৌদ্র এবার তুরার আরও কাছে সরে এসে ওর কোমর জড়িয়ে ধরল। তুরার কানের একদম কাছে মুখ নিয়ে তপ্ত নিশ্বাসে ফিসফিস করে বলল।
“শুধু কি ওকেই আদর করবে যে এত কষ্ট করে এত গুলা দেশ পার করে এনে দিল তাকে আদ’র করবে না?।”
রৌদ্রের কথায় তুরা খিলখিল করে হেসে উঠল। বিড়ালটার তুলতুলে শরীরে মুখ ঘষতে ঘষতে সে দুষ্টুমি করে বলল।
“আপনি কি ওর মতো কিউট যে আপনাকে আদর করব? দেখুন তো ও কতটা কিউট আর আপনি কতটা খিটখিটে।”
রৌদ্র এবার মুখটা পুটি মাছের মতো হাড়িপানা করে অভিমানী সুরে বলল।
“ওহ আচ্ছা।তার মানে আমি এখন পচা হয়ে গেলাম? আমি একদমই কিউট না?”
তুরা বিড়ালটার মাথায় আঙুল দিয়ে বিলি কাটতে কাটতে রৌদ্রকে জ্বালানোর জন্য মুখ টিপে হেসে বলল।
“একটুও না।আপনি বরং বিড়ালটার সিকিউরিটি গার্ড হতে পারেন।”
রৌদ্র এবার আর কোনো রসিকতা করল না। তার চোখের চাহনি মুহূর্তেই বদলে গেল। সে অত্যন্ত গম্ভীর আর গভীর তৃষ্ণা নিয়ে তুরার চোখের মণির দিকে তাকিয়ে খুব শান্ত অথচ ধারালো স্বরে ডাকল।
“তুরা, আমার দিকে তাকাও।”
রৌদ্রের গলায় হুট করে এমন কর্তৃত্ব আর গভীরতা শুনে তুরা ভেতর থেকে কেঁপে উঠল। তার হাতের বিড়ালটাও যেন এই নিস্তব্ধতা অনুভব করে স্থির হয়ে গেল। তুরা কোনোমতে নিজের কম্পিত পলক জোড়া তুলে ধীরে ধীরে রৌদ্রের আগুনের মতো জ্বলজ্বলে চোখের দিকে তাকাল। রৌদ্র এক দৃষ্টিতে তুরার চোখের দিকে তাকিয়ে সম্মোহনী কণ্ঠে বলল।
“আজকে তোমার কাছে একটা জিনিস চাইব, দিবে?”
রৌদ্রের কণ্ঠের সেই অদ্ভুত আকুতি আর গাম্ভীর্য দেখে তুরার বুকের ভেতরটা দুরুদুরু করতে লাগল। সে বুঝতে পারছে না রৌদ্র ঠিক কী চাইতে যাচ্ছে। রৌদ্রের চোখে তখন এক অন্যরকম নেশা, যা তুরাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলছে।
তুরাকে নিরুত্তর থাকতে দেখে রৌদ্র আবারও খুব নরম কিন্তু গম্ভীর গলায় বলল।
“কী হলো? বলো, দিবে?”
তুরা এবার ঘাবড়ে গিয়ে একদম কাঁপা কাঁপা গলায় কোনোমতে বলল।
“হু… হুম, বলেন?”
রৌদ্র এবার তুরার আরও এক ধাপ কাছে এসে দাঁড়াল। ওর দুচোখে এক বুক আশা নিয়ে বলল।
“আমি চাই তুমি আমাকে ‘তুমি’ করে ডাকো। এই ছোট আবদারটাই তোমার কাছে, তুমি কি এটা রাখবে?”
কথাটা শোনা মাত্রই তুরা লজ্জায় আর আড়ষ্টতায় মুহূর্তেই মাথা নিচু করে ফেলল। কী বলবে সে ভেবে পাচ্ছে না। বিড়ালটা তখন হঠাৎ তার লম্বা লোমশ লেজ দিয়ে তুরার কাঁধে আলতো করে আছাড় মারছে, আর বিড়ালটার লেজের সেই সুড়সুড়িতে তুরা বারবার কেঁপে উঠছে। রৌদ্র তুরাকে আবারও এভাবে নিশ্চুপ থাকতে দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে এবার ব্যালকনির রেলিং ধরে শূন্য আকাশের দিকে তাকিয়ে খুব উদাস গলায় বলল।
“তোমাকে আমি জোর করব না তুরা। তুমি যদি না পারো, তবে ডাকার দরকার নেই।”
রৌদ্রের কণ্ঠে এক অদ্ভুত বিষণ্ণতা। তুরা ধীরে ধীরে চোখ তুলে রৌদ্রের দিকে তাকাল। দেখল রৌদ্র আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে, ওর চোয়াল শক্ত হয়ে আছে দেখেই বোঝা যাচ্ছে সে খুব অভিমান করেছে। এই প্রথম তুরা রৌদ্রের চোখে-মুখে ওর জন্য এমন গভীর অভিমান দেখল। যে মানুষটা সবসময় শাসনের আড়ালে তাকে আগলে রাখে, সেই মানুষটা আজ ছোট্ট একটা আবদার করে গুটিয়ে গেছে।
তুরার মনের ভেতরে থাকা সব জড়তা যেন এক পলকে ধুয়ে গেল। সে বিড়ালটাকে একহাতে সামলে নিয়ে সাহস সঞ্চয় করল। তারপর ঠোঁটের কোণে এক চিলতি মায়াবী হাসি ফুটিয়ে খুব নিচু স্বরে কিন্তু স্পষ্ট করে ডাকল।
“রৌদ্র, শুনছো?”
‘শুনছো’ তুরা তাকে তুমি করে ডাক দিল। রৌদ্র যেন নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারল না। সে ঝট করে মাথা ঘুরিয়ে তুরার দিকে তাকাল।রৌদ্রের চোখেমুখে তখন এক আকাশ সমান আনন্দ। সে খুশিতে যেন একদম আত্মহারা হয়ে গেল। তার মতো শক্ত হৃদয়ের মানুষটাও এই মুহূর্তে আবেগে টলমল করছে। সে কাঁপা কাঁপা গলায় অবিশ্বাসের সুরে আবার জিজ্ঞেস করল।
“কী… কী বললে তুরা? প্লিজ, আর একবার বলো! আর একবার ওই নামে ডাকো আমায়!”
তুরা এবার একটু দুষ্টুমি মেশানো হাসি দিয়ে মুখ টিপে বলল।
“কেন? কানে বুঝি কম শোনো? একবার বলেছি তো, ব্যাস।”
রৌদ্র এবার আর দূরত্ব বজায় রাখতে পারল না। সে এক পা এগিয়ে এসে তুরার কোলে ওই তুলতুলে বিড়ালটা থাকা অবস্থাতেই তুরাকে জড়িয়ে ধরল। বিড়ালটা মাঝখানে পড়ে একটু মিউ করে উঠল, কিন্তু রৌদ্রের সেদিকে খেয়াল নেই। সে তুরার কাঁধে মুখ গুঁজে দিয়ে খুব আবেগঘন গলায় বলল।
“নারে পাগলি।হঠাৎ এত খুশি হয়ে গিয়েছি যে নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছি না। মনে হচ্ছে কোনো সুন্দর স্বপ্ন দেখছি। তুমি আমাকে ‘তুমি’ বলে ডাকবে, এটা শোনার জন্য আমি যে কতদিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম তা তুমি জানো না।”
রৌদ্রের গলার স্বরে এক অদ্ভুত প্রশান্তি। তুরা অনুভব করল রৌদ্রের বুকের ধুকপুকানিটা কত দ্রুত চলছে। রৌদ্রের এই ভালোবাসা আর পাগলামি দেখে তুরার নিজেরও খুব সুখ লাগছে। সে বুঝতে পারল, শুধু একটা ‘তুমি’ ডাক এই মানুষটাকে কতটা পূর্ণতা দিতে পারে।তুরা কিছু বলল না, শুধু আবেশে চোখ বুজে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। রৌদ্রের এই নিবিড় আলিঙ্গনে পৃথিবীর সব সুখ যেন আজ এই ব্যালকনিতেই এসে জমা হয়েছে। কিন্তু তাদের এই রোমান্টিক মুহূর্তের মাঝখানে পড়ে বেচারা বিড়ালটা এবার একদম চিপায় পড়ে গেল। বিড়ালটা অক্সিজেনের অভাব বোধ করতেই হঠাৎ করে বেশ জোরেই এক করুণ স্বরে ‘মিউ’ করে উঠল।
বিড়ালটার সেই আর্তনাদ শুনে রৌদ্রের হুঁশ ফিরল। সে সাথে সাথে তুরাকে ছেড়ে দিয়ে একটু অপ্রস্তুত হয়ে দু-পা পিছিয়ে গেল। বিড়ালটা এবার যেন হাফ ছেড়ে বাঁচল এবং তুরার কোলের ওপর দাঁড়িয়ে মাথা ঝাকিয়ে নিলো।
রৌদ্র আর তুরা দুজনেই একে অপরের দিকে তাকাল। তুরার গাল দুটো লজ্জায় আর হাসিতে রাঙা হয়ে উঠেছে, আর রৌদ্রের মুখে লেগে আছে এক চিলতে অপরাধবোধ মেশানো মিষ্টি হাসি। মুহূর্তেই দুজনের মাঝখানের গাম্ভীর্যটা ধুয়ে মুছে গেল আর তারা একে অপরের কাণ্ড দেখে খিলখিল করে হেসে উঠল। ব্যালকনির নিস্তব্ধতায় তাদের সেই প্রাণখোলা হাসির শব্দটা যেন একটা মধুর সুর তৈরি করল।
রানিং…!
Share On:
TAGS: নির্লজ্জ ভালোবাসা, সুমি চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৯
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬৮
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৪৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৭
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা গল্পের লিংক
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৫৪
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২০
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৯