Golpo romantic golpo নির্লজ্জ ভালোবাসা

নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮৮


নির্লজ্জ_ভালোবাসা

লেখিকাসুমিচৌধুরী

পর্ব ৮৮(❌কপি করা নিষিদ্ধ❌)

ভোরবেলা সূর্য উঁকি দেওয়ার আগেই রৌদ্র, রৌশান, আয়ান আর তিহান বেরিয়ে পড়েছে। শরীর ঠিক রাখতে প্রতিদিন সকালে সন্তানদের নিয়ে দৌড়ানো রৌদ্র আর আয়ানের দীর্ঘদিনের অভ্যাস। তবে আজ সেই দলে নতুন যোগ দিয়েছে শিহাব আর নেহাল। যদিও শান্তা আর নিহাদ ছোট হওয়ায় তারা এখনো বাড়িতেই ঘুমাচ্ছে।
সবাই বেশ জোরেই জগিং করছিল, কিন্তু হঠাৎ রৌশান দাঁড়িয়ে পড়ল। পাঁচ বছরের পিচ্চিটা দৌড়াতে দৌড়াতে হাঁপিয়ে গিয়ে কোমরে দু’হাত দিয়ে রৌদ্রের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর মুখে বলল।

“থামো পাপ্পা। খালি দৌড়ালে চলবে না। বডি বানাতে হলে পুশ-আপ দিতে হবে। চলো, সবাই মিলে পুশ-আপ দেই।”

রৌদ্র থমকে দাঁড়িয়ে নিজের ছেলের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে হাসল। এই ছেলেটা ছোট হলে কী হবে, ওর কথা আর বুদ্ধি শুনলে মনে হয় কোনো বড় মানুষের সাথে কথা বলছে। রৌদ্র রৌশানের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে ওর কাঁধে হাত রেখে মজা করে বলল।

“আচ্ছা আমার ছোট বস। তো আমরা পুশ-আপ কেন দেই, সেটা কি তুমি জানো?”

রৌশান একদম ভাবগম্ভীর হয়ে উত্তর দিল।

“জানি তো। পুশ-আপ দিলে মাসল হবে, আমি স্ট্রং হবো। তারপর বড় হয়ে তোমার মতো সবাইকে রক্ষা করবো।”

রৌশানের এমন উত্তর শুনে আয়ান আর শিহাব হোহো করে হেসে উঠল।

তিহান রাস্তার সামনের দিকে দৌড়াতে দৌড়াতে বেশ জোশ নিয়ে বলল।

“তো দেরি কিসের। চলো সবাই সামনের মাঠে গিয়ে শুরু হোক প্রতিযোগিতা।”

শিহাব পেছন থেকে দৌড়ে এসে এক ঝটকায় তিহানের টি-শার্টের কলার টেনে ধরল। টেনে ওকে রৌশানের কাছে এনেই আবার বাঁ হাত দিয়ে রৌশানের টি-শার্টও খামচে ধরল। তারপর নিজের সবটুকু শক্তি খাটিয়ে পাঁচ বছরের দুই পিচ্চিকে একসাথেই শূন্যে উঁচুতে তুলে ধরল। শিহাব হাঁপাতে হাঁপাতে মুখ লাল করে বলল।

“ইইইই। দেখ এইটুকুনি শরীর, অথচ দেমাগ কত। আমি দুই হাত দিয়েই দুজনকেই তুলে ফেলছি, আর এরা নাকি আবার পুশ-আপ করবে। আহহহহ। পুশ-আপ করলে তো মাটির নিচে ঢুকে যাবে, তোমাদের দুজনকেই আর খুঁজে পাওয়াই যাবে না।”

শিহাব মজা করে কথাটা শেষ করতে না করতেই বিপত্তি ঘটল। ‘পটাপট’ শব্দে রৌশান আর তিহান দুজনেরই টি-শার্টের কাপড় মাঝখান থেকে ছিঁড়ে গেল। শিহাব অপ্রস্তুত হয়ে কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুজনে সপাং করে মাটিতে আছড়ে পড়ল।

“ওরে বাবাগো।” বলে রৌশান আর তিহান দুই ভাই একসাথে চিৎকার দিয়ে উঠল। রৌশান অগ্নিশর্মা হয়ে রাগী চোখে শিহাবের দিকে তাকিয়ে ছোট ছোট হাত নেড়ে বলতে লাগল।

“ফুপা, এটা তুমি কী করলে। একে তো তোমার এই শক্তিহীন শরীর দিয়ে আমাদের অকারণে উঁচু করেছো, তার ওপর আমাদের পছন্দের টি-শার্ট ছিঁড়ে দিলে। আমাদের মান-সম্মান সব শেষ।”

শিহাব তো রৌশানের মুখে ‘শক্তিহীন শরীর’ শুনে আকাশ থেকে পড়ল। সে চোখ কপালে তুলে চিৎকার করে বলল।

“কীহহ। আমার শরীর শক্তিহীন। দাড়াও, আজ এই শক্তিহীন শরীরের খেলা দেখাচ্ছি তোমাদের। আসো এদিকে।”

বলেই শিহাব এক হাত দিয়ে রৌদ্রকে সরিয়ে তিহান আর রৌশানকে ধরতে গেল। কিন্তু ওই দুই বিচ্ছু কি আর অত সহজে ধরা দেয়। শিহাব হাত বাড়ানোর আগেই রৌশান আর তিহান মাটির ওপর থেকে এক লাফে উঠে দিলো ভোঁ-দৌড়। ওদের পায়ের তলায় যেন চাকা লেগে গেছে।

তিহান দৌড়াতে দৌড়াতে ঘাড় ঘুরিয়ে ভেংচি কেটে বলে গেল।

“শক্তি যদি থাকতোই তবে টি-শার্ট ছিঁড়ল কেন। অন্যে চরকায় তেল দেওয়ার আগে ফুপা, আগে নিজের চরকায় তেল মারো। যাও গিয়ে জিম করো।”

শিহাব মাঝরাস্তায় হাঁ করে দাঁড়িয়ে রইল। রৌদ্র, আয়ান আর নেহাল হাসতে হাসতে রাস্তার ওপর প্রায় বসে পড়ার দশা। শিহাব রাগে আর লজ্জায় গজগজ করতে করতে বলল।

“দেখলি রৌদ্র। দেখলে আয়ান। এই পিচ্চিগুলো তো আমাকে মানুষই মনে করে না। চরকায় তেল মারতে বলে আমাকে।”

রৌদ্র হাসতে হাসতে শিহাবের কাঁধে চাপড় দিয়ে বলল।

“দোষ তো তোরই শিহাব। ওদের বডি চেক করতে গিয়ে নিজের শক্তির দৌড় বুঝিয়ে দিলি।”

সবাই শিহাবকে নিয়ে মজা করতে করতে মাঠে চলে এল। মাঠে এসেই দেখা গেল রৌশান আর তিহান পুরোদমে লাফালাফি করছে। ওদের কাছে ব্যায়াম মানেই হলো মনের সুখে লাফানো। রৌদ্র আর বাকিদের দেখে রৌশান চট করে দৌড়ে সামনে চলে এল। কোমরে হাত দিয়ে বেশ ভাব নিয়ে সে শিহাবের উদ্দেশ্যে বলল।

“আচ্ছা ফুপা, তোমার শক্তি কতটুকু তা আজ পরীক্ষা করা হোক। তুমি আর পাপ্পা পুশ-আপ করো দেখি, কে কয়টা দিতে পারে?”

শিহাব তো রৌশানের এমন সরাসরি চ্যালেঞ্জ শুনে রাগে দাঁত কিড়মিড় করে উঠল। সে চোখ বড় বড় করে বলল।

“চ্যালেঞ্জ করছো আমাকে?”

রৌশান একদম স্বাভাবিক ভঙ্গিতে কাঁধ নাচিয়ে উত্তর দিল।

“ধরো তাই।”

শিহাব তখন ইজ্জত বাঁচাতে রৌদ্রের দিকে তাকিয়ে একটা বড় শ্বাস নিল। রৌদ্রও মুচকি হেসে চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করল। তারপর শুরু হলো আসল লড়াই। রৌদ্র আর শিহাব দুজনেই ঘাসের ওপর পুশ-আপ দেওয়ার জন্য পজিশন নিল। রৌশান একদম রেফারির মতো গম্ভীর মুখে তাদের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। তারপর একটা আঙুল উঁচিয়ে কমান্ড দিল।

“ওয়ান… টু… থ্রি… শুরু করো।”

রৌশানের কথা শেষ হওয়া মাত্রই রৌদ্র আর শিহাব ঝড়ের গতিতে শরীর ওঠানামা করতে শুরু করল। রৌশান আর তিহান পাশ থেকে চিৎকার করে উৎসাহ দিচ্ছে। শিহাব প্রথম দশ-বারোটা খুব জোশে দিলেও ধীরে ধীরে তার মুখ লাল হতে শুরু করল। অন্যদিকে রৌদ্র একদম শান্তভাবে, নিখুঁত ছন্দে পুশ-আপ দিয়ে যাচ্ছে। বিশটা পার হওয়ার পর শিহাবের হাত কাঁপতে শুরু করল। সে বুঝতে পারছে রৌদ্রের সাথে পাল্লা দেওয়া তার সাধ্যের বাইরে।

শিহাব কাঁপতে কাঁপতে রৌদ্রের দিকে তাকাল। রৌদ্র নিজেও তখন বেশ হাঁপিয়ে উঠেছে, কিন্তু সে থামার পাত্র নয়। তবে শিহাবের অসহায় মুখ আর আড়চোখে তাকানো দেখে রৌদ্র সব বুঝতে পারল। শিহাব ইঙ্গিতে তাকে থামতে বলছে, কারণ রৌশানের সামনে সে হার মেনে নিজের ইজ্জত খোয়াতে চাইছে না। বন্ধু হিসেবে শিহাবের মনের অবস্থা আর মান-সম্মানের কথা চিন্তা করে রৌদ্র ইচ্ছে করেই হাত ছেড়ে দিয়ে সোজা হয়ে বসল। তারপর বড় করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল।

“উফফ। আমি আর পারছি না। শিহাবের শক্তির কাছে হার মানলাম।”

সুযোগ পেয়ে শিহাব যেন হাতে চাঁদ পেল। সে মুহূর্তেই কোনো এক জাদুকরী শক্তিতে সুপারস্টারের মতো শেষ দুই-তিনটা পুশ-আপ দিয়ে বীরের মতো উঠে দাঁড়াল। ঘাম মুছতে মুছতে বেশ বুক ফুলিয়ে রৌশানের দিকে তাকিয়ে বলল।

“দেখলে তো? তোমার পাপ্পার থেকে আমার শক্তি ঢের বেশি। গিয়ে তোমার পাপ্পাকে বলো আরও ভালো করে জিম করতে। আমার সাথে পেরে ওঠা অত সহজ না।”

রৌশান আর তিহান দুজনেই থতমত খেয়ে গেল। তারা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছে না যে তাদের সুপারহিরো পাপ্পা হেরে গেছে। রৌশান সন্দেহের চোখে রৌদ্রের দিকে তাকিয়ে বলল।

“পাপ্পা, এইটা কি হলো তুমি তো হারার কথা না?”

আয়ান দূর থেকে সবটাই লক্ষ্য করছিল। সে খুব ভালো করেই জানে, রৌদ্র তার পরম বন্ধু শিহাবের মান রাখতেই ইচ্ছে করে হার মেনেছে। সে কিছুটা এগিয়ে এসে রৌশানকে কোলে তুলে নিল। রৌশানের মন খারাপ দেখে ওকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল।

“শোনো রৌশান, পুশ-আপ বা যেকোনো ব্যায়াম আসলে শরীরের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। হয়তো তোমার পাপ্পার শরীরের কন্ডিশন আজ অতটা ভালো ছিল না, তাই সে পেরে ওঠেনি। এটা নিয়ে মন খারাপ করার কিছু নেই।”

আয়ানের কথায় রৌশান আর কথা বাড়াল না। এরপর তারা মাঠে আরও কিছুক্ষণ হাসি-ঠাট্টা আর মজা করে বাসার দিকে রওনা হলো। বাসায় ফেরার পথেও শিহাবের সেই ‘বিরাট জয়ের’ গল্প চলল।

শিহাব নিজের রুমে ফিরে দেখল আরশি শান্তার মাথার চুলগুলো খুব যত্ন করে দুটো ঝুটি করে দিচ্ছে। শান্তাকে ওই সাজে দারুণ কিউট লাগছে। শিহাব এগিয়ে গিয়ে শান্তার নরম গাল দুটো টেনে আদর করে বলল।

“গুড মর্নিং আমার প্রিন্সেস। কখন উঠেছো?”

শান্তা বাবার গলার আওয়াজ পেয়েই এক লাফে শিহাবের কাঁধে উঠে পড়ল। ওর ছোট্ট দুহাত দিয়ে বাবার গলা জড়িয়ে ধরে আদুরে গলায় বলল।

“গুড মর্নিং টু ইউ পাপ্পা। তুমি যখন দৌড়াতে গেলে, ঠিক তার একটু পরেই আমি উঠে পড়েছি।”

শিহাব নিজের মেয়ের কপালে একটা চুমু খেল। তার এতক্ষণের ক্লান্তি যেন শান্তার ওই এক চিলতে হাসিতেই ভোজবাজির মতো উবে গেল।

“আরে বাহ। আমার প্রিন্সেস তো একদম গুড প্রিন্সেস হয়ে গিয়েছে।”

আরশি পাশ থেকে শিহাবের কাঁধে একটা পরিষ্কার তোয়ালে তুলে দিয়ে আলতো করে বলল।

“অনেক হয়েছে বাপ-বেটির সোহাগ, এবার জলদি গিয়ে শাওয়ার নিয়ে আসেন।”

শান্তা বিছানা থেকে নেমে তার বাবা-মায়ের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে বলল।

“আমি নানুর কাছে যাচ্ছি।”

বলেই শান্তা এক দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। প্রিন্সেস বিদায় নিতেই শিহাবের ভেতরটা যেন আবার চনমন করে উঠল। সে মুহূর্তের মধ্যে আরশির কোমর জড়িয়ে ধরে নিজের খুব কাছে টেনে আনল। ওর চোখে চোখ রেখে দুষ্টু হেসে ফিসফিস করে বলল।

“শান্তা তো চলে গেল। তাহলে চলো, দুজনেই একসাথে শাওয়ার নিই? সাথে একটু রোমান্সও করা যাবে।”

আরশি শিহাবের বুকে হাত দিয়ে মৃদু ধাক্কা দিল। নিজের হাসি চেপে রেখে সে গম্ভীর হওয়ার ভান করে বলল।

“এসব বাজে কথা না বলে তাড়াতাড়ি শাওয়ার নিয়ে আসেন তো। নাহলে আমি এখনই শান্তাকে ডেকে আনছি, তখন বুঝবেন মজা।”

শিহাব মুহূর্তেই মুখটা কুঁচকে ফেলল। সে জানে আরশি যা বলেছে তা করবেই। সে অন্য দিকে তাকিয়ে অভিমানের সুরে বলল।

“তুমি সবসময় আমার এই দুর্বলতার সুযোগ নাও আরশি। শুধু একদিন তোমাকে আমার নাগালে পাই, সেদিন এই সবকিছুর শোধ আমি আসলে-আসলে তুলে নেব। দেখে নিও।”

বলেই শিহাব গটগট করে ওয়াশরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে শাওয়ার ছেড়ে দিল। আরশি আর নিজের হাসি চেপে রাখতে পারল না। সে খিলখিল করে হেসে উঠল। আসলে শিহাব শান্তাকে ভয় পায় না, বরং বাবা হিসেবে মেয়ের সামনে সে সবসময় আদর্শ হয়ে থাকতে চায়। আর শিহাবের এই ‘মেয়ের প্রতি ভালোবাসা’ আর ‘আদুরে ভয়’টাকেই আরশি বারবার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে।

নেহাল রুমে ঢুকেই দেখল আরফা বেশ কসরত করে নিহাদকে খাওয়াচ্ছে। নিহাদ নেহালকে দেখামাত্রই খাওয়ার প্লেট থেকে মুখ সরিয়ে এক দৌড়ে এসে নেহালের পা জড়িয়ে ধরল। তোতলামি করে আধো আধো বোল ফুটিয়ে সে বলল।

“পা পা… তু তুমি মাম্মাকে ব বলো না, আমি খাবো না।”

নেহাল হেসে নিহাদকে কোলে তুলে নিল। ওর নাকে নাক ঘষে আদর করে বলল।

“কী বাবা? না খেলে যে তুমি একদম শুকিয়ে যাবে? তখন রৌশান আর তিহান তোমাকে ‘চিকনা’ বলে মজা করবে। তুমি কি চাও তোমার বড় ভাইদের কাছে ছোট হতে?”

ছোট্ট নিহাদ মুহূর্তের জন্য গম্ভীর হয়ে কিছু একটা ভাবল। তারপর না সূচক মাথা নাড়তে নাড়তে বলল।

“না না… আমি আমি চিকনা না। আমি তোমার মতো হবো।”

নেহাল নিহাদের পিঠ চাপড়ে দিয়ে বলল, “আমার মতো শক্তিশালী হতে হলে তো বেশি বেশি করে খেতে হবে। এখন যাও, মাম্মার কথায় ভালো ছেলের মতো চটপট খেয়ে ফেলো।”

বাবার কথা শুনে নিহাদ আর দেরি করল না। সে নেহালের কোল থেকে নেমে সোজা আরফার সামনে গিয়ে বড় করে ‘হা’ করল। আরফা ছেলের মুখে ভাতের লোকমা তুলে দিতে দিতে মুখ ঝামটা দিয়ে বলল।

“বাবা-বেটার ঢং দেখলে বাঁচি না। আমি কতক্ষণ ধরে খাওয়ার জন্য জান দিয়ে দিচ্ছি, অথচ আমার কথার কোনো মূল্যই নেই। আর বাবার কথা শোনামাত্রই এক সেকেন্ড দেরি করল না? না মানে, আমার কি কোনো দামই নেই?”

নেহাল কাঁধে তোয়ালে জড়িয়ে আরফাকে দুষ্টুমি করে একটা চোখ টিপে দিল। তারপর বেশ আয়েশ করে বলল।

“এত হিংসুটে কেন তুমি? ছেলে আর বাবার এই সুন্দর ভালোবাসাটা তুমি একদমই সইতে পারো না, তাই না?”

আরফা মুহূর্তেই রাগী চোখে নেহালের দিকে তাকাল। ভাতের চামচটা শক্ত করে ধরে দাঁত কিড়মিড় করে বলল।

“কীহহ। আমি হিংসুটে? আপনার সাহস তো কম না।”

নেহাল একটুও না দমে আরফার দিকে ঝুঁকে এল। নিজের চোখ দুটো বড় বড় করে আড়চোখে তাকিয়ে বলল।

“তাই তো দেখতে পাচ্ছি। একদম হিংসেয় জ্বলে যাচ্ছ তুমি।”

আরফা এবার সত্যিই খেপে গেল। সে চিৎকার করে বলল।

“নেহালের বাচ্চা। আপনাকে আজকে যে আমি কী করমু, আপনি কল্পনাও করতে পারছেন না।”

নেহাল দেখল আরফার রাগ একদম চরমে পৌঁছেছে, এখন আর রক্ষা নেই। মুহূর্তের মধ্যে নেহালের মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল। সে চট করে নিহাদের উদ্দেশ্যে বলল।

“বাবা। ওই যে দেখো, ওইটা কী?”

নিহাদ কৌতূহলী হয়ে যেই ঘাড় ঘুরিয়ে ওদিকে তাকাল, নেহাল সেই সুযোগটা হাতছাড়া করল না। সে বিদ্যুৎবেগে আরফার কাছে গিয়ে ওর নরম গালে টপ করে একটা শব্দ করে চুমু খেয়ে ফেলল। আরফা একদম থমকে গেল, হাতের ভাতের লোকমা হাতেই রয়ে গেল। সে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে। নেহাল একটু দূরে সরে গিয়ে মিটিমিটি হেসে বলল।

“তুমি জানো আরফা? রাগলে তোমাকে না অনেক সুন্দর লাগে। ইচ্ছে করে একদম পান্তা ভাতের সাথে মেখে খেয়ে ফেলি।”

আরফা এবার লজ্জায় আর রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ভাতের প্লেটটা বিছানায় রেখে তেড়ে এল নেহালের দিকে। কিন্তু নেহাল কি আর অত বোকা? সে এক দৌড়ে ড্রিবলিং করে আরফাকে ফাঁকি দিয়ে সোজা ওয়াশরুমে ঢুকে দরজা আটকে দিল।

রানিং…!

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply