নির্লজ্জ_ভালোবাসা
লেখিকাসুমিচৌধুরী
পর্ব ৭৮ (❌কপি করা নিষিদ্ধ❌)
❌লেখিকার অনুমতি ছাড়া কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ❌
রাতের আঁধারে ছাদের এক কোণে একা দাঁড়িয়ে আছে তুরা। চারপাশ নিঝুম,শুধু দূরের দু একটা ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ কানে আসছে। তুরার চোখ থেকে টপটপ করে অশ্রু ঝরছে। সেই চোখের জল যেন একরাশ অভিমানে গুমরে মরছ হৃদয়ে আর জায়গা হচ্ছে না বলেই হয়তো বাঁধ ভেঙে বেরিয়ে আসছে।রৌদ্র গেছে আজ উনিশ দিন। যাওয়ার সময় কথা ছিল পনেরো দিনের মধ্যে ফিরে আসবে, অথচ আজ পনেরো দিন পার হয়ে গেলেও ফেরার কোনো নাম নেই। গত কয়েক দিন ধরে রৌদ্র ব্যস্ততার কারনে তুরার সাথে ঠিকমতো কথা বলছে না। এমনকি তুরা বারবার ফোন করলেও সে রিসিভ করছে না। উপেক্ষা আর দূরত্ব তুরার সহ্য ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। তার মনের অবস্থা শোচনীয় সবসময় বিষণ্ণ হয়ে থাকে, ঘরের এক কোণে চুপচাপ বসে থাকে। বাড়ির কারোর সাথেই সে এখন আর কোনো কথা বলে না। খান বাড়ির সবাই বুঝতে পারছে তাদের প্রাণচঞ্চল মেয়েটা আজ রৌদ্রের এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি আর কারণেই ভেতরে ভেতরে একদম ভেঙে পড়েছে।
অপেক্ষারনীলকাব্য
আকাশের ওই কোণে আজ মেঘ জমেছে ভারি,
আমার সাথে সুখের বুঝি আড়ি-লাঠালাঠি,
উনিশ দিনের প্রহর গোনা, উনিশ রাতের কান্না,
রৌদ্র তোমার ব্যস্ততা কি তবুও ফুরায় না?
পনেরো দিন শেষ হয়েছে গত হয়েছে কবে,
তোমার চেনা স্পর্শ ছাড়া কেমন করে রবে,
মুঠোফোনে হাতটা কাঁপে, রিং বেজে যায় শুধু,
হৃদয় জুড়ে এখন কেবল তৃষ্ণার্ত এক মরু।
অভিমানী চোখের জল আজ বাঁধ মানে না আর,
তুমি হীন এই বিশাল বাড়ি লাগে যে অন্ধকার।
তুমিও কি আজ পর হয়েছ ভুলেছ সব মায়া,
নাকি অন্য কোথাও ব্যস্ত তুমি, হারিয়ে ফেলেছ ছায়া,
আমাদের সন্তান বুঝি পেটের ভেতর তোমায় খোঁজে রোজ,
বাবা কেন আসছে না মা নেয় কি কোনো খোঁজ,
ভালোবাসার শহর জুড়ে বিরহের এই গান,
ফিরে এসো রৌদ্র আমার জুড়াক তুরার প্রাণ।
হঠাৎ তুরার কাঁধে কেউ হাত রাখল। তুরা চমকে উঠে তড়িঘড়ি করে চোখের পানি মুছে ফেলল। নিজেকে সামলে নিয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতেই দেখল পেছনে তিথি দাঁড়িয়ে আছে। তিথি এত রাতে তুরাকে একা ছাদে দেখে কিছুটা অবাক হয়েই প্রশ্ন করল।
“আপু, তুমি এত রাতে ছাদে কী করছো?”
তুরা ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে কাঁপাকাঁপা গলায় বলল।
“ওই আসলে রুমে তেমন ভালো লাগছিল না, তাই একটু ছাদে আসলাম। ভাবলাম বাইরের ঠান্ডা হাওয়াটা খেলে শরীরটা একটু ফ্রেশ লাগবে।”
তিথি অবাক হয়ে ভ্রু কুঁচকে তাকাল। সে তুরার লাল হয়ে থাকা চোখের কোণ আর গলার স্বর শুনেই বুঝতে পারছে আসল কাহিনী কী। সে একটু কৌতুকের সুরে বলল।
“কীহ! এই হাড়কাঁপানো শীতে তুমি ছাদে ঠান্ডা হাওয়া খেতে এসেছ? এই অবস্থায় বাইরে এত রাত পর্যন্ত থাকা কি ঠিক আপু?”
তুরা একদম থতমত খেয়ে গেল। কী বলতে গিয়ে যে কী বলে ফেলেছে! নিজের বোকামিতে সে নিজেই চুপসে গেল। তিথি এবার তুরার আরও কাছে এগিয়ে এল। তার মুখে এক চিলতে দুষ্টুমিভরা হাসি ফুটে উঠল। সে তুরার কাঁধে হাত রেখে নরম গলায় বলল।
“রৌদ্র ভাইকে বুঝি খুব মিস করছো? তাই না?”
তিথির কথায় তুরা সাথে সাথে অভিমানে মুখ ঘুরিয়ে নিল। চোখের কোণে জমে থাকা জলটুকু আড়াল করতে করতে সে ঝাঁঝালো গলায় বলল—
“কে মিস করছে? আমি মোটেও না! আমি ওকে চিনিই না। কে ও? ওর নাম আমার সামনে একদম নিবি না তিথি। ও আমার কেউ না!”
“তাই নাকি?”
হঠাৎ পরিচিত এক গম্ভীর কণ্ঠ শুনে তিথি আর তুরা দুজনই চমকে পেছনে তাকাল। দেখল, আয়ান পকেটে দুই হাত ঢুকিয়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ওর চোখেমুখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি আর ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি। তিথি আয়ানকে দেখে কোনোমতে নিজের হাসিটা চেপে রাখল, সে জানে এখন মজার কিছু একটা ঘটবে।
তুরা নিজেকে সামলে নিয়ে অবাক হয়ে বলল।
“আয়ান ভাইয়া, তুমি? এই রাতে ছাদে?”
আয়ান ধীরে ধীরে হেঁটে একদম তুরার সামনে এসে দাঁড়াল। পকেট থেকে হাত বের করে সে তুরার দুই গাল টেনে ধরল, ঠিক যেভাবে ছোট বোনকে শাসন করে। তারপর টিপ্পনী কেটে বলল।
“রৌদ্র ভাইকে চিনিস না, তাই তো? আচ্ছা সেইদিন এয়ারপোর্টে কাকে জড়িয়ে ধরে হাপুস নয়নে কাঁদছিলি তবে? আর এখন যে তার জন্যই হাসতে পারছিস না, বাড়ির কারো সাথে ঠিকমতো কথা বলছিস না এগুলো কি তবে পাশের বাড়ির লোকের জন্য? চিনিস না যখন, তাহলে তো রৌদ্র ভাই ফিরে আসলেও আমি তাকে সোজা এয়ারপোর্ট থেকে আবার ফেরত পাঠিয়ে দেব। বল, পাঠিয়ে দেব।”
আয়ানের কথা শুনে তুরা এবার সত্যিই ভেঙে পড়ল। সে মুখটা একদম কাঁদো কাঁদো করে ধরা গলায় অভিমানে ফেটে পড়ে বলল।
“ভাইয়া, তুমি কি আমার সাথে মজা নিচ্ছ?”
আয়ান তুরার গাল ছেড়ে দিয়ে আলতো করে ওর কপালে একটা টক্কা দিল। তারপর একটু গম্ভীর হওয়ার ভান করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল।
“আরে, তুই কি আমার বেয়াইন হস নাকি যে তোর সাথে মিছেমিছি মজা করব? আমি সিরিয়াসলি বলছি তুরা, রৌদ্র ভাইয়ের সাথে একটু আগেই আমার কথা হয়েছে। ও জানাল কাজ শেষ হয়নি, ফিরতে আরও অন্তত ছয় মাস দেরি হবে।”
কথাটা শোনামাত্র তুরার বুকের ভেতরটা যেন মুহূর্তেই ছারখার হয়ে গেল। ছয় মাস! এটা স্রেফ একটা সময় নয়, তুরার কাছে যেন এক অনন্তকাল। সে হুট করে মুখ ঘুরিয়ে অন্য দিকে তাকাল। জেদের বশে কান্না আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করল ঠিকই, কিন্তু চোখের কোণটা ভিজে উঠল। তারপর গলার স্বর যতটা সম্ভব শক্ত করে অভিমান মেশানো স্বরে বলল।
“আসুক বা না আসুক, তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না! তার যা মন চায় তাই করুক। শুধু ছয় মাস কেন, সারাজীবন না আসলেও আমার কোনো সমস্যা নেই। আমি আর ওর নামও নেব না।”
তুরার এই রাগী কথার আড়ালে যে কতটা হাহাকার আর তীব্র বিরহ লুকিয়ে আছে, তা আয়ান আর তিথি ঠিকই বুঝতে পারল।তিথি মুখ টিপে হাসি আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে। আয়ান তিথির কাণ্ড দেখে চোখের ইশারায় ওকে শান্ত থাকতে বুঝালো। তারপর আয়ান একটা কৃত্রিম গলা খাঁকারি দিয়ে বেশ গম্ভীর গলায় বলল।
“ঠিক আছে, তোর যখন এতই জেদ, তবে তাই হোক। আমি এখনই রৌদ্র ভাইকে কল করে বলে দিচ্ছি তোমার আর এই দেশে আসার কোনো দরকার নেই। তুরা তোমার নাম পর্যন্ত নিতে চাইছে না, সে তোমাকে চেনেও না। যদি এখন আসার কোনো প্রস্তুতি নিয়েও থাকো, তবে মাঝপথ থেকেই উল্টো দিকে ফিরে যাও।”
বলেই আয়ান সত্যি সত্যি পকেট থেকে ফোন বের করে রৌদ্রকে কল দিল। তুরা আড়চোখে দেখল আয়ানের ফোনের স্ক্রিনে ‘রৌদ্র ভাই’ নামটা জ্বলজ্বল করছে। কয়েকবার রিং হওয়ার পর ওপাশ থেকে কলটা রিসিভ হলো। তুরা তখনো উল্টো দিকে ফিরে জেদ ধরে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু তার কান দুটো এখন ফোনের দিকে খাড়া হয়ে আছে।আয়ান ফোন কানে দিয়ে ওপাশ থেকে সাড়া পেতেই উচ্চস্বরে বলতে লাগল।
“হ্যাঁ রৌদ্র ভাই! শুনো তোমার আসার কোনো দরকার নেই। তোমার শ্রীমতী তো তোমাকে চিনতেই পারছে না! সে বলল তুমি সারাজীবন না আসলেও নাকি তার কিচ্ছু যায় আসে না। তুমি বরং ওখানেই থেকে যাও, এদিক নিয়ে ভাবার দরকার নেই।”
আয়ানের ফোনের স্পিকার থেকে রৌদ্রের সেই গম্ভীর অথচ অদ্ভুত শোনানো কণ্ঠস্বর ভেসে এলো। রৌদ্র বেশ ভাব নিয়ে কড়া গলায় বলতে লাগল।
“কীহহ! তুরা এই কথা বলেছে? মেলা সাংঘাতিক কথা বলেছিস তো তুই আয়ান! এটা তো সরাসরি আমার ইজ্জতে লাথি মারা অপমান। ঠিক আছে, ওর যখন এতই দেমাগ, তবে আমিও আর আসছি না। আমি এখন মাঝ আকাশে বিমানে আছি, এখনি পাইলটকে বলে বিমানটা ইউ-টার্ন নিয়ে উল্টো দিকে ফিরে যাচ্ছি। তুই এই মুহূর্তে তুরাকে ছাদ থেকে ঘাড় ধরে নিচে নামিয়ে দিয়ে আয়। আর শোন, ভুল করেও ভাবিস না যে আমি ওর জন্য চিন্তা করছি! আমার চিন্তা শুধু ওর পেটে থাকা আমার বাবুর জন্য। এই কনকনে ঠান্ডায় দাঁড়িয়ে যদি আমার বাবুর নাক দিয়ে জল পড়ে, তবে কিন্তু আমি তোকেও ছাড়বো না আর ওই তুরাকেও ছাড়বো না।”
“বিমান উল্টো দিকে ঘুরিয়ে রৌদ্র আবার ফিরে চলে যাবে” রৌদ্রের মুখে এই আজব কথা শুনে তিথির পেট ফেটে হাসি আসতে চাইল। আয়ান বিপদ বুঝে তাড়াতাড়ি তিথিকে এক হাত দিয়ে টেনে নিজের কাছে আনল আর অন্য হাত দিয়ে তিথির মুখ চেপে ধরল, যাতে হাসির শব্দ তুরার কানে না যায়।
এদিকে তুরা রৌদ্রের এমন কঠোর কথা শুনে আর নিজেকে সামলাতে পারল না। চোখের জল উপচে গাল বেয়ে পড়তে লাগল। তার মনের ভেতর এখন আগ্নেয়গিরি জ্বলছে সবচেয়ে বড় কথা, রৌদ্র তার এতগুলো ফোন ধরল না, অথচ আয়ানের ফোন ঠিকই একবারে রিসিভ করে গালগল্প করছে! এই অপমান আর অবহেলা তুরাকে বিষম কষ্ট দিল। সে ঝটপট চোখের জল মুছে ফেলল, তারপর এক ঝটকায় আয়ানের হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিল। ফোনটা কানে ধরেই কোনো সুযোগ না দিয়ে এক নিঃশ্বাসে বলতে লাগল।
“হ্যালো! শুনুন মিস্টার রৌদ্র, এই যে বিমানের পাইলটকে বলে বিমান উল্টো করে ফিরে যাওয়ার কথা বলছেন না, সেটা এখনই করুন! একদম দেরি করবেন না! আপনি ভাবছেন আপনার জন্য আমি এখানে মরে যাচ্ছি? একদম না! আপনি সারাজীবন কেন, আগামী সাত জনম না আসলেও আমার কিচ্ছু যায় আসে না। আর আপনি আমাকে চেনেন না? আমি তুরা! আমি একবার যার নাম ভুলে যাই, তার চেহারা আয়নাতেও আর খুঁজে পাই না। আপনি কোন রৌদ্র? আকাশ থেকে যে রোদ পড়ে আমি শুধু তাকেই চিনি, আপনাকে চিনি না আর পেটের বাবুর কথা বলছেন? খবরদার! আমার বাবুকে নিয়ে একদম নাক গলাবেন না। সে তার মাম্মামের কাছে রাজার হালে আছে। আপনার মতো এমন বেরসিক, বিমানে উল্টো গিয়ার দেওয়া বাবার কোনো দরকার নেই আমার বাবুর! আপনি আপনার কাজ নিয়ে ওই বিদেশেই পচে মরুন। আপনি তো মহা ব্যস্ত মানুষ, আপনার সাথে তো শুধু আয়ান ভাইয়ারই কথা হয়, আমার ফোন তো আপনার কাছে ফালতু মনে হয়! আপনাকে আসার জন্য এখানে কেউ রেড কার্পেট বিছিয়ে রাখেনি, আপনি যেখান থেকে এসেছেন ওখানেই ওই পাখাওয়ালা বিমানে চড়ে আবার হাওয়া হয়ে যান! আমার আর আমার বাবুর জন্য একটুও দরদ দেখাতে হবে না, নিজের দরদ পকেটে নিয়ে ওখানেই বসে থাকুন।”
একনাগাড়ে কথাগুলো বলে তুরা হাঁপাতে লাগল। তার চেহারায় তখন রাগ, জেদ আর একরাশ অভিমান মাখানো।আয়ান আর তিথি একদম থ মেরে দাঁড়িয়ে আছে। তারা কল্পনাও করতে পারেনি যে তুরা এক নিশ্বাসে রৌদ্রকে এভাবে ধুয়ে দেবে! তুরা ফোন নামিয়ে বুক ফুলিয়ে বড় বড় শ্বাস নিচ্ছে। ওর ভাবভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে ও এইমাত্র কোনো রক্তক্ষয়ী বিশ্ব জয় করে ফিরেছে। ওর দুচোখে তখনো রাগের আগুন জ্বলছে।
আয়ান কোনোমতে নিজের বিস্ময় কাটিয়ে তুরার হাত থেকে ফোনটা নিল। ওপাশ থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে আয়ান ফোনটা কানে ঠেকিয়ে হালকা টক্কা দিয়ে রসিকতা করে বলল।
“হিলু! রৌদ্র ভাই? আছো নাকি গেছো? তুরা তো যে হারে তোপের মুখে ফেলল তাতে তো তোমার বিমানে হার্ট অ্যাটাক করে কোমায় চলে যাওয়ার কথা! এখনো কি বেঁচে আছো নাকি?”
আয়ানের কথা শেষ হতে না হতেই ওপাশ থেকে হুট করে কলটা কেটে গেল। কয়েক সেকেন্ড পরেই টুং করে একটা মেসেজ আসার শব্দ হলো। আয়ান মেসেজটা পড়ে মোবাইলের টাইম দেখে বড় বড় চোখ করে তুরার দিকে তাকাল। তারপর চরম নাটকীয় ভঙ্গিতে কপালে হাত দিয়ে বলল।
“সর্বনাশ হয়েছে রে তুরা আমার তো মনে হচ্ছে আমাদের এখনই ইমার্জেন্সি হেলিকপ্টার ভাড়া করে মাঝ আকাশে যাওয়া উচিত। রৌদ্র ভাই মনে হয় বিমানেই স্ট্রোক করেছে তোর এই কলিজা কাঁপানো কথাগুলোর লোড রৌদ্র ভাইয়ের হার্টবিট মনে হয় নিতে পারেনি রে। বেচারা মনে হয় বিমানেই ফিট হয়ে পড়ে গেছে! ওরে তুরা, এখন কী হবে? তাড়াতাড়ি চল, ছাদ থেকে লাফ দিয়ে গিয়ে চলন্ত বিমানে উঠি।”
আয়ানের কথা শুনে তিথি ওড়না মুখে চেপে ধরে হাসতে হাসতে শেষ। আয়ান চোখের পলকে তিথিকে একটা ইশারা দিল। ইশারা দিতেই তিথি তুরার একদম পেছনে গিয়ে শক্ত করে ওর দুই চোখ বেঁধে দিল। তুরা হকচকিয়ে গিয়ে চিৎকার করে উঠল।
“কি হয়েছে? এই তিথি, চোখ বাঁধছিস কেন? আরে ছাড় আমাকে।”
আয়ান এবার গম্ভীর হওয়ার ভান করে তুরার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। বেশ নাটকীয় স্বরে বলল।
“চুপ কর একদম! তোকে আগেই বলেছি রৌদ্র ভাই বিমানে স্ট্রোক করেছে। এখন পাইলট ইমার্জেন্সি কল দিয়ে বলেছে বিমানটা আমাদের ছাদের ঠিক দুই হাত ওপর দিয়ে উড়ে যাবে। এখন আমাদের ছাদ থেকে এক লাফে ওই চলন্ত বিমানের ডানায় গিয়ে উঠতে হবে। তুই যেহেতু ওই যে ওইসব ‘বিশ্ব জয়’ করা ভয়ংকর কথাগুলো বলেছিস, তাই তোর ডর-ভয় বেশি। এখন যদি চোখ খোলা রেখে বিমানের দিকে লাফ দিতে যাস, তবে তো তুই ও ভয়ে হার্ট অ্যাটাক করে ফেলবি, জামাই বউ এক সাথে হার্ট অ্যাটাক ওমা গো কি সাংঘাতিক কান্ড। তাই তোর চোখ বেঁধে দিলাম যাতে তুই না দেখে এক লাফে বিমানে উঠতে পারিস। চল তুরা, ওয়ান টু থ্রি।”
তুরা এবার ঘাবড়ে গিয়ে হাত-পা ছুড়তে লাগল।
“আয়ান ভাইয়া মজা করছো দেখো ভালো লাগছে না চোখ খুলো আমি রুমে যাবো?।”
আয়ান এগিয়ে গিয়ে তুরার দুই কাঁধ শক্ত করে ধরে শাসানোর সুরে বলল।
“একদম চুপচাপ কথা না বলে আমার সাথে আয়। বেশি কথা বললে কিন্তু হাত-পা বেঁধে একদম নার্কেল গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখব।”
তুরা মুখ গোমড়া করে রইল, কিন্তু আয়ানের দাপটের কাছে হার মেনে বাধ্য হয়েই আয়ানের সাথে অন্ধ অবস্থায় সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে লাগল। পেছন পেছন তিথিও আসছে নিঃশব্দে। আয়ান তুরাকে সাবধানে ধরে এনে একদম অন্ধকার হল রুমের মাঝখানে দাঁড় করিয়ে দিল। তারপর বেশ নাটকীয়ভাবে আলতো করে তুরার চোখের ওপর বাঁধা রুমালটা খুলে দিল। তুরা চোখ মেলে তাকাতেই দেখল চারপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকার, কিচ্ছু দেখা যাচ্ছে না। সে ভীষণ ঘাবড়ে গিয়ে ফিসফিস করে বলল।
“আয়ান ভাইয়া, এখানে কেন নিয়ে আসলে? এতো অন্ধকার কেন? আমার কিন্তু খুব ভয় করছে।”
আয়ান কোনো উত্তর দিল না। সে অন্ধকারের মধ্যেই নিজের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সেকেন্ডের কাঁটা মেলালো। তারপর হঠাৎ গম্ভীর গলায় সংখ্যা গুনতে শুরু করল।
“ওয়ান… টু… থ্রি…!”
‘থ্রি’ বলার সাথে সাথে ঠিক যা ঘটল, তাতে তুরা মুহূর্তেই থমকে গেল। নিজের চোখকেও যেন সে বিশ্বাস করতে পারছে না! বুকের ভেতরটা প্রবল বেগে কাঁপতে শুরু করল। ঠিক এই মুহূর্তের জন্য সে মানসিকভাবে একদমই প্রস্তুত ছিল না। চোখের সামনে ঘটে যাওয়া দৃশ্যটি দেখে তার কণ্ঠস্বর যেন গলার কাছেই আটকে গেল।
রানিং…!
Share On:
TAGS: নির্লজ্জ ভালোবাসা, সুমি চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২০
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৪৩
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৪৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা গল্পের লিংক
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৪৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৪৭
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭৬