নির্লজ্জ_ভালোবাসা
লেখিকাসুমিচোধুরী
পর্ব ৬৬ (❌কপি করা নিষিদ্ধ❌)
ক্লান্ত শরীরে তুরা রুমে আসল। কিন্তু রুমের মাঝপথে যেতেই রৌদ্র বিদ্যুৎবেগে ভেতরে ঢুকে ‘ধপ’ করে দরজা লাগিয়ে দিল। দরজার সেই আওয়াজে তুরার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। সে চমকে পেছনে তাকাতেই দেখল রৌদ্র দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আর তার ঠোঁটে এক অদ্ভুত শয়তানি হাসি। তুরা একটু ঘাবড়ে গিয়ে রৌদ্রের সেই হাসি মাখা মুখের দিকে তাকিয়ে বলল।
“কী হয়েছে? আপনি এইভাবে হাসছেন কেন?”
রৌদ্র কোনো উত্তর দিল না। সে ধীরপায়ে শিকারি চিতার মতো এগিয়ে এসে এক ঝটকায় তুরাকে পাজাকোলা করে বুকে তুলে নিল। তুরার কানের কাছে রৌদ্রের তপ্ত নিঃশ্বাস আছড়ে পড়ল, যা তুরার সারা শরীরে এক অদ্ভুত শিহরণ বইয়ে দিল। রৌদ্র নেশাতুর চোখে তাকিয়ে বলল।
“জানো না কেন হাসছি? আজ সেই রাত! আজ আমাদের ভালোবাসায় হয়তো জন্ম হবে আমাদের ভালোবাসার এক নতুন অংশ। আজকে তোমাকে আমি বাচ্চার আম্মু না বানানো পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্যও ছাড়ছি না।”
তুরা লজ্জায় আর রাগে আরষ্ট হয়ে কিছু একটা বলতে চাইল, কিন্তু রৌদ্রের সেই তৃষ্ণার্ত চাহনির সামনে ওর সব কথা গলায় আটকে গেল। রৌদ্র আর সময় দিল না, সরাসরি তুরাকে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিল এবং আদিম এক উত্তেজনা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল তুরার ওপর। মুহূর্তেই তাদের তপ্ত নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাস মিশে একাকার হয়ে গেল। তুরা আর বাধা দেওয়ার শক্তি পেল না, সে শুধু চোখ বুজে মুখ বুঝে সহ্য করতে লাগল তার এই পাগল স্বামীর বুনো উষ্ণতা আর নিবিড় আদর। ঘরের প্রতিটি কোণ তখন তাদের ভালোবাসার সাক্ষী হয়ে রইল, আর এইভাবেই দুজনে আবারো হারিয়ে গেল এক অতল আর রহস্যময় ভালোবাসার সাগরে।
[পরের দিন সকাল বেলা খান বাড়ি]
খান বাড়ির উঠান জুড়ে আজ উৎসবের জোয়ার। সকাল হতেই সানাইয়ের সুর আর হইচইয়ে পুরো বাড়ি মুখরিত। বাড়ির বড়রা কেউ বরণ ডালা সাজাতে ব্যস্ত, কেউ আবার মেহমানদের আপ্যায়নের তদারকি করছে। রান্নার বিশাল চুলা জ্বলে উঠেছে পেছনের উঠানে, যেখান থেকে ঘি আর গরম মশলার সুঘ্রাণ ম ম করছে। ছোটরা নতুন জামা পরে ছোটাছুটি করছে, আর মেয়েরা একে অপরের হাতে মেহেদি লাগাতে ব্যস্ত। এক কথায়, বিয়ের সকালে একটা বনেদি বাড়ির যে জাঁকজমক থাকে, খান বাড়িতে আজ তারই মহোৎসব।
কিন্তু এই হইচইয়ের মাঝেও রৌদ্র আর তুরার ঘরে ছিল এক মায়াবী স্তব্ধতা। সকাল নয়টায় রৌদ্রের ঘুম ভাঙলো আর চোখ খুলেই তার চোখ যেন আটকে গেল ড্রেসিং টেবিলের সামনে। লাল টকটকা শাড়ি পড়ে দাঁড়িয়ে আছে তুরা। চুলগুলো ভিজা, এখনো টপটপ করে পানি পড়ছে মনে হয় মাত্রই শাওয়ার নিয়ে শাড়ি পড়েছে। তুরা তোয়ালে দিয়ে নিজের মাথার চুল মুছতে ছিল, হঠাৎ আয়নায় দেখলো রৌদ্র তাকিয়ে আছে তার দিকে। সেই চাহনিতে কেমন এক অদ্ভুত নেশালো দৃষ্টি। তুরা সরাসরি রৌদ্রের দিকে ঘুরে বলল।
“ওইভাবে তাকিয়ে আছেন কেন? শাড়ি পড়েছি বলে কি বেশি খারাপ লাগছে?”
তুরার কথায় রৌদ্র সামান্য হেসে ধীরে ধীরে বিছানা থেকে ওঠে একদম তুরার কাছে এসে দাঁড়ালো। এক টানে তুরাকে নিজের কাছে টেনে নিয়ে শক্ত করে কোমর জড়িয়ে ধরল। তুরার ভিজে চুলের ঘ্রাণ রৌদ্রের স্নায়ুতে এক নতুন মাদকতা ছড়িয়ে দিল। রৌদ্র তুরার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল।
“হ্যাঁ, খুব খারাপ লাগছে! এতটাই খারাপ লাগছে যে আমি নিজেকে কন্ট্রোল রাখতে পারছি না। এইভাবে শাড়ি কেন পড়ো আমাকে পাগল করার জন্য? আই ক্যান্ট কন্ট্রোল মাই সেলফ তুরা। তোমার এই রূপ দেখে মনে হচ্ছে আজকের দিনটাও আমাদের এই রুমেই কাটবে, বিয়ের উৎসব অন্য কেউ সামলাক।”
রৌদ্রের তপ্ত নিঃশ্বাস তুরার ঘাড়ে লাগতেই তুরা শিউরে উঠল।তুরা রৌদ্রের শক্ত বাহুডোর থেকে ছাড়া পেতে ছটফট করতে করতে বলল।
“ছাড়ুন বলছি অসভ্য কোথাকার! সারা রাত জ্বালিয়ে শান্তি হয়নি? এখন আবার অসভ্যতামি করার ধান্দা? ছাড়ুন বলছি।”
রৌদ্র তবুও ছাড়ল না। বরং তুরাকে আরও নিবিড়ভাবে নিজের সাথে পিষে ফেলে তুরার ভিজে চুলের মাদকতাময় ঘ্রাণ নিতে নিতে ঘাড়ের নিচে আলতো করে ঠোঁট ছোঁয়ালো। তুরার সারা শরীর এক অজানা বিদ্যুৎ তরঙ্গে কেঁপে উঠল। মুহূর্তের মধ্যে রৌদ্র নিজের হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলল। তার আঙুলগুলো ক্ষিপ্রতার সাথে তুরার পিঠের দিকে চলে গেল এক টানে তুরার ব্লাউজের ফিতাটা আলগা করে দিয়ে সে ক্ষুধার্তের মতো তুরার নরম ঘাড়ে আর কাঁধে তপ্ত চুমু খেতে লাগল। তুরা ছাড়া পাওয়ার জন্য প্রাণপণ ধস্তাধস্তি করতে করতে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল।
“উফফ রৌদ্র! পাগল হয়ে গিয়েছেন আপনি? আমি মাত্রই গোসল করলাম প্লিজ স্টপ ইট।”
রৌদ্র থামল না, বরং তুরার ঘাড়ের খাঁজে মুখ গুঁজে দিয়ে রুদ্ধশ্বাসে ফিসফিসিয়ে বলল।
“জান, প্লিজ! জাস্ট ওয়ান মোর টাইম! আমার জন্য আরেকবার করো। আমি সত্যিই আর পারছি না। তোমাকে এইভাবে দেখলে আমি মরে যাবো! আই নিড ইউ সো ব্যাডলি তুরা! আই অ্যাম লুজিং মাই মাইন্ড, আই জাস্ট ক্যান্ট কন্ট্রোল দিস ডিজায়ার এনিমোর।”
তুরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই রৌদ্র ওকে এক ঝটকায় কোলে তুলে নিয়ে বিছানায় আছড়ে ফেলল। দ্বিতীয়বারের মতো আবারো সে ঝাঁপিয়ে পড়ল তুরার ওপর। তুরা হাত দিয়ে রৌদ্রের চওড়া বুক ঠেলে সরানোর আপ্রাণ চেষ্টা করল, কিন্তু রৌদ্রের সেই বুনো আসক্তির কাছে তার সব প্রতিরোধ বালির বাঁধের মতো ধসে গেল। শেষ পর্যন্ত তুরা হাল ছেড়ে দিয়ে চোখ দুটো শক্ত করে বন্ধ করে নিল রৌদ্রের মাতাল করা ভালোবাসার তীব্র স্রোতে নিজেকে পুরোপুরি সঁপে দিল। বাইরে যখন খান বাড়ির উঠানে বিয়ের শোরগোল বাড়ছে, তখন রৌদ্র এই সকালেই আবারও মেতে উঠল তুরার শরীরের ভাঁজে এক আদিম আর উদাম মত্ততায়।
তিথি শাওয়ার নিয়ে এসে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল মুছতে লাগল। হঠাৎ দেখল বিছানায় আয়ান নাক ডেকে অঘোরে ঘুমাচ্ছে। তিথি আয়ানের সেই নিস্পাপ ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে রাগে বিড়বিড় করে বলল।
“রাতে শান্তিতে একটুও ঘুমাতে দাও নাই, আর এখন নিজে খুব শান্তিতে ঘুমাচ্ছো? দাঁড়াও, দেখাচ্ছি তোমায় মজা! তোমার ঘুম আমি আজ হারাম করেই ছাড়ব।”
বলেই তিথি নিজের ভেজা চুলগুলো আয়ানের মুখের একদম সামনে নিয়ে গেল। তারপর তোয়ালে দিয়ে ইচ্ছে করেই চুলে জোরে জোরে ঝাড়া দিতে লাগল। চুলের হিমশীতল পানির ফোঁটাগুলো টপটপ করে বৃষ্টির মতো গিয়ে পড়ছে আয়ানের মুখে। আয়ান ঘুমের ঘোরে বিরক্ত হয়ে চোখ-মুখ কুঁচকে ফেলল। কয়েকবার হাত দিয়ে পানি সরানোর চেষ্টা করেও যখন পারল না, তখন সে ধড়ফড় করে চোখ মেলল। চোখের সামনে তিথির এই শয়তানি হাসি আর চুলের ঝাপটা দেখে আয়ান তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে বলল।
“আব্বে শালি! তোর চুল ঝাঁকানো দরকার তো দূরে যা! আমার মুখের কাছে এসে এই শ্রাবণ মাসের ধারা নামানোর মানে কী?পানিতে কি আমাকে ডুবিয়ে মারার প্ল্যান করেছিস?।”
তিথি মুখে এক আকাশ শান্ত ভাব এনে একদম ভালো মানুষের মতো বলল।
“আরে মারতে যাবো কেন? তোমাকে সাহায্য করলাম। এই যে দেখো দশটা বেজে গেছে অথচ এখনো ঘুম থেকে ওঠোনি! নিজের বোনের বিয়ে আজ হয়তো ভুলেই গিয়েছো, তাই একটু সাহায্য করলাম আর কি? কৃতজ্ঞতা না জানিয়ে উল্টো বকা দিচ্ছো?”
তিথির কথায় আয়ান এক ঝটকায় দেওয়ালে ঝুলানো ঘড়ির দিকে তাকাল। দেখল সত্যি সত্যি দশটা বাজতে আর সামান্য কিছু সময় বাকি। আয়ান এবার কপালে হাত দিয়ে একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তারপর তিথির দিকে তাকিয়ে মুখটা করুণ করে বলল।
“হুম বুঝলাম। তো এইভাবে পেত্নির মতো কেন ঘুম ভাঙালি? একটু ভালো করেও তো ঘুম ভাঙাতে পারতি। এই ধর, এই যে আয়ান জানু, বাবু শুনছো? দেখো দশটা বেজে গেছে, ওঠতে হবে না? ওঠো সোনা’ এইভাবেও তো ঘুম ভাঙাতে পারতি! আচ্ছা তিথি, তুই কি আমার বউ নাকি কোনো ডাইনি বল তো? সারাক্ষণ খালি ঝগড়া করিস’ কেন রে? আমি কি তোর শত্রু নাকি? একটু ভালোবাসলে আমার শ্বশুর আব্বার কোন গুদাম খালি হয়ে যাবে শুনি?।”
আয়ানের কথা শুনে তিথি মুখ ভেংচি কেটে আয়নার সামনে এসে দাঁড়িয়ে চুল মুছতে মুছতে তীব্র ক্ষোভের সাথে বলল।
“ভালোবাসবো? তাও আবার তোমাকে? হাহ্! তুমি আমাকে শুরু থেকেই যে পরিমাণ কষ্ট দিয়ে এসেছো, তা এখনো মনে পড়লে আমার আত্মা কেঁপে ওঠে। আর আমি কিনা সেই পাষাণ মানুষকে ভালোবাসবো? ছাই ভাসবো।”
তিথির প্রতিটি শব্দ যেন বিষের মতো আয়ানের বুকে গিয়ে বিঁধল। আয়ান দমে গেল না বরং ধীর পায়ে এগিয়ে এসে একদম তিথির পেছনে গিয়ে দাঁড়াল। আয়নার প্রতিফলনে দুজনের চোখাচোখি হলো। আয়ান এবার একদম নিচু আর মখমলের মতো নরম স্বরে বলল।
“তিথি, আমি জানি ছোটবেলা থেকেই তোর সাথে আমার সাপে-নেউলে সম্পর্ক ছিল। তোকে অকারণে অনেক বকেছি, অনেক ছোট করেছি, তোকে সহ্যই করতে পারতাম না। কিন্তু তিথি, সময় তো এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে না। সেই রাগী আয়ান আর জেদি তিথির ঝগড়া আজ স্বামী স্ত্রীর পবিত্র বন্ধনে এসে ঠেকেছে।”
কথাটা বলেই আয়ানের কণ্ঠস্বর আরও বুজে এল,যেন হৃদয়ের গভীর থেকে কোনো এক গোপন হাহাকার বেরিয়ে আসছে। সে করুণ আর মিনতিভরা স্বরে আবার বলল।
“চল না তিথি, বিষাক্ত অতীতটাকে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে আমরাও বাকিদের মতো স্বাভাবিক স্বামী-স্ত্রী হয়ে উঠি। আমরাও একটু একে অপরকে ভালোবাসতে শিখি। আমি কথা দিচ্ছি তোকে, আজকের পর থেকে আর কোনোদিন তোর সাথে খারাপ ব্যবহার করব না। তুই তোর নিজের মতো স্বাধীনভাবে চলবি, আমি শুধু তোর কাছে স্বামী হিসেবে একটুখানি সম্মান চাই। তোকে আগলে রাখা আর চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করার দায়িত্বটা আমার ওপর ছেড়ে দিস। কথা দিচ্ছি, কখনো তোকে অবিশ্বাস করে ছোট করব না। একজন স্ত্রী হিসেবে সমাজে তোর যতটুকু সম্মান প্রাপ্য, আমি তার চেয়েও বেশি তোকে দেব। চল না তিথি, সব দূরত্ব ঘুচিয়ে আমরা এক হয়ে যাই।”
আয়ানের এই ভেজা কণ্ঠ আর আকুতিভরা কথাগুলো শুনে তিথির হাতের তোয়ালেটা যেন স্থির হয়ে গেল। চুল মোছা ভুলে সে বিমূঢ় হয়ে আয়নার দিকে তাকিয়ে রইল। আয়নার সেই প্রতিচ্ছবিতে দেখল আয়ান তার ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে একরাশ গভীর ভালোবাসা আর সজল চোখে তার সম্মতির অপেক্ষা করছে। যে আয়ান ছিল সবসময় রুক্ষ আর বদমেজাজি, তার চোখে আজ এমন নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ দেখে তিথির বুকের ভেতরটা অদ্ভুত হাহাকার করে উঠল। সে দ্রুত চোখ নামিয়ে নিল, কিন্তু ঠোঁট জোড়া কাঁপতে থাকলেও মুখ ফুটে কোনো কথা বেরোল না। রুমের নিস্তব্ধতা যেন এক অদ্ভুত আবেগে ভারি হয়ে উঠল।
আয়ান যেন এক অদ্ভুত মায়াবী মানুষে পরিণত হলো। তিথির নিথর নীরবতা দেখে আয়ান দমে গেল না বরং পরম মমতায় তিথির দুই কাঁধ আঁকড়ে ধরে ওকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিল। তিথি আড়ষ্ট হয়ে রইল, মাথা নিচু করে আয়ানের বুক বরাবর তাকিয়ে রইল সে। আয়ান নিজের তপ্ত হাতের তালু দিয়ে তিথির দুই গাল আগলে ধরল, তারপর আলতো করে ওর মুখটা উঁচিয়ে ধরল নিজের দিকে।আয়ান তিথির গভীর চোখের মণি দুটিতে নিজের সরাসরি দৃষ্টি গেঁথে দিয়ে কাঁপাকাঁপা গলায় আয়ান বলল।
“বিশ্বাস কর তিথি, আমার এই ভালোবাসা কোনো নাটক না, কোনো মিথ্যা প্রলোভন না। আমার এই ভালোবাসা ধ্রুব সত্যের মতো পবিত্র। আমি হয়তো আগে অনেক ভুল করেছি, কিন্তু আজ আমি তোকে সত্যি পাগলের মতো ভালোবেসে ফেলেছি রে। আমি এই বাকি জীবনটা তোর সাথেই কাটাতে চাই, এই পুরো পৃথিবীটা তোর হাত ধরে হাঁটতে চাই। আমার এই শূন্য জীবনটাকে তোকে নিয়েই সাজাতে চাই আমি।”
আয়ানের কণ্ঠের সেই আকুতি আর চোখের গভীর তৃষ্ণা দেখে তিথির মনে হলো ওর পায়ের তলার মাটি যেন সরে যাচ্ছে। ওর বুকটা এমনভাবে ধকধক করছে যে ও ঠিকমতো নিঃশ্বাস নিতে পারছে না। আয়ানের নেশাতুর চাউনি ওকে একদম পাথর করে দিচ্ছে। তিথি ঝট করে চোখ নামিয়ে নিল, ওর হাতের তোয়ালেটা এক হাত দিয়ে অন্য হাতে সজোরে কচলাতে কচলাতে তোতলানো গলায় শুধু এটুকুই বলতে পারল।
“আ… আ… আসলে আয়ান ভাইয়া, আমাকে এখন নিচে যেতে হবে। আমার… আমার নিচে অনেক কাজ আছে।”
বলেই তিথি আয়ানের হাতের বাঁধন থেকে এক প্রকার ছিটকে বেরিয়ে এলো। আয়ানের ওই সম্মোহনী দৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য সে কোনোদিকে না তাকিয়ে এক প্রকার দৌড়েই রুম থেকে বেরিয়ে গেল। আয়ান স্তব্ধ হয়ে দরজার দিকে তাকিয়ে রইল। তিথির চলে যাওয়া পথের শূন্যতার দিকে তাকিয়ে সে একটা তপ্ত আর দীর্ঘশ্বাস ফেলল। আয়ানের মনে হলো, পাথরের বুকে ফাটল ধরেছে ঠিকই, কিন্তু সেই পাথর গলতে হয়তো আরো কিছুটা সময়ের প্রয়োজন।
রানিং…!
ছোট হলো মানিয়ে নিও অনেক জ্বর আজকে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম জ্বর মাপলাম ১০২ তাপমাএা হয়ছে তাহলে বুঝো আমি কেমন অসুস্থ, অসুস্থ হয়েও তোমাদের কথা ভেবে গল্প দিলাম কষ্ট করে সবাই রেন্সপন্স কইরো🙏😔
Share On:
TAGS: নির্লজ্জ ভালোবাসা, সুমি চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১০
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬৭
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৫৭
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭৪
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৫২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৪১
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩৩
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৪
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৩