নির্লজ্জ_ভালোবাসা
পর্ব ২৩(❌কপি করা নিষিদ্ধ❌)
লেখিকাসুমিচোধুরী
রাতটা নিস্তব্ধ। বিশাল বিল্ডিংটার সামনে সুইমিংপুলের আলো ঝলমল করে জ্বলে উঠছে। চারপাশের সব কিছু যেন এক রহস্যময় স্নিগ্ধতা তৈরি করেছে। হালকা বাতাস বইছে, যা এই রাতটাকে যেন আরও মাতোয়ারা করে তুলছে।
তুরা জ্ঞান ফিরে পেল। সে ধীরে ধীরে চোখ খুলে বোঝার চেষ্টা করল,সে এখন কোথায়। তুরা নিজেকে আবিষ্কার করল, এক তুলতুলে নরম বেডে, যা তুরা আগে কখনও শুয়নি। তুরা বিস্ময়ে বেডে উঠে বসে চারদিকে তাকাল। তার চোখ যেন বিস্ফারিত। মনে হচ্ছে সে যেন স্বপ্নের কোনো রাজ প্রাসাদের ঘরে বসে আছে। রুমটা এত সুন্দর, এত পরিপাটি! আর দামি বিদেশি জিনিসপত্রে সাজানো, যা দেখে তুরা কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। ঘরের প্রতিটা কোণ যেন বিলাসিতা আর রুচির পরিচয় বহন করছে।
হঠাৎ তুরার রৌদ্রের কথা মনে হলো। সে এখন তাহলে রৌদ্রের কাছে আছে! রৌদ্র কি তাকে নিয়ে এসেছে? এই চিন্তাটা মাথায় আসতেই তুরা বেড থেকে নামতে গেল। কিন্তু শরীর অনেক দুর্বল লাগছিল। আর মাথা ঘুরে পড়ে যেতে নিলে সে আবার বেডে বসে পড়ল। শরীরটা খুবই দুর্বল লাগছে, গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। তুরা আশে পাশে তাকাল। হঠাৎ তুরার চোখ আটকে গেল একটা দেয়ালে ঝোলানো ছবির দিকে। ছবিটি দেখে তুরার অজান্তেই শরীর দুর্বলের কথা ভুলে গেল। সে কোনো রকম এগিয়ে গেল সেই ছবির কাছে।
ছবিটা রৌদ্রের। রৌদ্র হাতে গিটার নিয়ে হেসে ছবি তুলেছে। রৌদ্রকে অনেক কিউট লাগছে, যা দেখে তুরা অজান্তেই হেসে উঠল । আর নিশ্চিত হলো সে এখন রৌদ্রের কাছে আছে। আর এইটা ভাবতেই তুরার মন খুশিতে ভরে উঠল! অবশেষে সে পেরেছে রৌদ্রের কাছে আসতে।
তুরা রৌদ্রের ছবির দিকে তন্ময় হয়ে তাকিয়ে আছে। আনন্দে হাতটা এগিয়ে নিয়ে সে সেই ছবিটা স্পর্শ করল। আর হঠাৎ কিছু একটার শব্দ পেয়ে তুরা চমকে উঠে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে দেখল রৌদ্র! রৌদ্র ওয়াশরুমে ছিল এবং সেখান থেকে বেরিয়ে এসে দেখল তুরা তার ছবি দেখছে।দুজন দুজনের চোখাচোখি হতেই স্থির হয়ে গেল। রৌদ্রকে দেখে তুরার স্পন্দন কেঁপে উঠল। বুক কাঁপছে, হার্টবিট বাড়ছে। তুরা লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল।
রৌদ্র তুরাকে মাথা নিচু করতে দেখে লম্বা শ্বাস নিল। সে কথা না বাড়িয়ে সোজা শীতল কন্ঠে প্রশ্ন প্রশ্ন করল।
“কী খাবি বল?”
আচমকা রৌদ্রের মুখ থেকে খাওয়ার কথা শুনে তুরা অবাক হয়ে আবার রৌদ্রের দিকে তাকাল।
“এইভাবে তাকাচ্ছিস কেন? কী খাবি বল?”
তুরা আমতা আমতা করে অনেক কষ্টে উত্তরে বলল
“ভা… ভা… ভাত খাবো?”
তুরার এই উত্তর শুনে রৌদ্র আর কিছু না বলে, হাতে ফোনটি নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। তার স্থির মুখ দেখে বোঝার উপায় নেই যে সে ভেতরে কতটা চিন্তিত।বেশ কিছুক্ষণের মধ্যে অনেক আইটেম হাজির হলো তুরার সামনে। সাথে হালকা ভাতও আছে। সবই রৌদ্র অর্ডার দিয়ে নিয়ে আসল। তুরা এত খাবার দেখে বিস্ময়ে চোখ কপালে তুলে ফেলল।
“এত খাবার কেন?”
রৌদ্র সেই মুহূর্তে দরজার বাইরে কাউকে কল করার জন্য দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল তুরার কথায় আবার উল্টো ঘুরে শান্ত কন্ঠে বলল।
“এইগুলো তুই সব খাবি! তারপর আমি তোর কাছ থেকে অনেকগুলো ইন্টারভিউ নেব। সব প্রশ্নের উত্তর সঠিক এবং সত্যি বলবি।”
কথাটা বলেই রৌদ্র ফোন কানে ধরে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। রৌদ্রের এই অস্বাভাবিক আচরণে তুরা বিস্ময়ে তার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকল। তার কাছ থেকে আবার কিসের ইন্টারভিউ নিবে এসব চিন্তা তুরার মাথায় ঘুরতে থাকল।তুরা এতকিছু না ভেবে, পেটে তীব্র ক্ষুধা থাকায়, সামান্য খাবার খেয়ে নিল। খালি পেট এবং শারীরিক দুর্বলতা থাকায় সে বেশি একটা খেতে পারল না। তবে স্বাদটুকু তাকে শান্তি দিল।
খাওয়া শেষ হতেই রৌদ্র আবার রুমে প্রবেশ করল। তার সাথে একজন বিদেশি কাজের মহিলা ছিল। রৌদ্র সংক্ষেপে সব খাবারের জিনিস সেই মহিলাটিকে নিয়ে যেতে বলল। আর মহিলাটি রৌদ্রের কথা মতো দ্রুত সব কিছু নিয়ে চলে গেল।
রৌদ্র বুকে হাত ভাঁজ করে, চোখ একদম তুরার দিকে স্থির রেখে শান্ত কঠিন কণ্ঠে প্রশ্ন করল তুরাকে।
“কেন এসেছিস?”
রৌদ্রের এই প্রশ্নে তুরা সামান্য কেঁপে উঠল। তুরা মাথা নিচু করে সোজা সাপটা দ্বিধাগ্রস্ত করে বলল।
“জানি না!”
তুরা সত্যিটা রৌদ্রকে বলতে পারছে না। কেমন জানি ভয় লাগছে তার। তুরার এই উত্তর শুনে রৌদ্র বিরক্তির স্বরে বলল।
“জানিস না মানে? তুই সুইজারল্যান্ডে এসে পড়েছিস? কথাটা কি তোর কাছে সাধারণ মনে হচ্ছে? ওয়েট! তুই আসলি কিভাবে? তোর কাছে পাসপোর্ট, ভিসা আছে?”
তুরা লাজুকভাবে না সূচক মাথা নাড়ল। এইবার রৌদ্রের চোখ কপালে উঠে গেল। পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়া তুরা বিদেশি দেশে এসেছে কথাটা কোনোভাবেই স্বাভাবিক না। রৌদ্র তীক্ষ্ণভাবে রেগে গিয়ে বলল।
“পাসপোর্ট ভিসা ছাড়া মানে? তার মানে তুই এমনিই এসেছিস?”
তুরা রৌদ্রের কথায় লজ্জা ও ভয়ে মাথা নিচু করে করে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ল। রৌদ্র সাথে সাথে রেগে উঠল। রাগে রৌদ্র তুরাকে থাপ্পড় মারতে গেল! কিন্তু রৌদ্রের হাত শূন্যে থেমে গেল। কারণ, রৌদ্র যেই তুরাকে মারতে নিবে, সাথে সাথে তুরা রৌদ্রকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।রৌদ্র একদম স্থির হয়ে গেল। তাদের দুজনের বুকের হার্টবিট এত জোরে বাজছে যে, মনে হচ্ছে বাইরের কেউও শুনতে পারবে। সেই আলিঙ্গন ছিল ভয়ের, আনন্দের এবং চরম শান্তির।
তুরার এই আকস্মিক কাজে রৌদ্র কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলল। এতক্ষণ তুরার ওপর যে রাগটা ছিল,সেটা যেন এক মধুময় পরিণতিতে পরিণত হলো।আচমকা তুরা ফুঁঁপিয়ে কেঁদে উঠল। তুরার এই কান্না শুনে রৌদ্র যেন অস্থির হয়ে উঠল। রৌদ্র নিয়ন্ত্রিতভাবে হাতটা তুরার মাথায় রেখে আলতো স্পর্শ করতে করতে উদ্বেগ স্বরে বলল।
“তুরা, কেন এসেছিস বল? আর তুই যে পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়া এসেছিস, জানিস কতটা বিপদ হতে পারত?”
তুরা ফুঁঁপিয়ে কাঁদছেই। এই কান্না তার কষ্টের নয়,খুশির। কারণ সে এখন অনেক শান্তি পাচ্ছে। অবশেষে সে রৌদ্রকে পেল! তার বুকটা যেন দীর্ঘ যন্ত্রণার ভার থেকে খালি হয়ে গেল। সব যেন আনন্দে পরিণত হলো। ভালোবাসার মানুষকে ফিরে পাওয়ার এই আনন্দ এইটা সবাই বুঝবে না। এইটা শুধু সেই বুঝবে, যে তার ভালোবাসার মানুষটাকে ফিরে পেয়েছে।
রৌদ্র বুঝতে পারছে না, তুরা কেন এইভাবে কাঁদছে। সে নিজেকে আলতো করে ছাড়িয়ে, তুরার চোখের পানি দুই হাত দিয়ে মুছে দিয়ে মলিন কণ্ঠে শুধালো।
“কাঁদছিস কেন? আমি কি তোকে মেরেছি?”
তুরা নাক টানতে টানতে না-সূচক মাথা নাড়ল।
“তাহলে কাঁদছিস কেন?”
তুরা সংক্ষিপ্ত উত্তরে বলল।
“এমনি!”
“এমনি কেউ কাঁদে? আচ্ছা যাই হোক, সত্যিটা বল তুরা! কেন এসেছিস এত দূর?”
তুরা রৌদ্রের এই বারবার একি প্রশ্নে বিরক্ত হলো। একি প্রশ্ন করার মানে কী? সে কি বুঝতে পারে না আমি তার কাছেই এসেছি? এতটাই কি সে অবুঝ? এগুলা ভেবে তুরা মনে সাহস জোগাড় করে ফট করে চরম অকপট উত্তরে বলল।
“তোমার সাথে লটুবুটু করতে!”
কথাটা বলেই তুরা নিজের জিভে কামড় মারল। কী থেকে কী বলে ফেলেছে! রৌদ্র তো তুরার কথায় হাঁবা বনে গেল। রৌদ্রের চোখে বিস্ময়, অবিশ্বাস।রৌদ্র কিছু বুঝবার আগেই তুরা কথা ঘুরিয়ে রৌদ্রের উদ্দেশ্যে অগোছালো ভাবে বলল।
“ইয়ে মানে… বলছিলাম কি, রৌদ্র ভাইয়া, আপনার ওয়াশরুমটা জানি কোন দিকে? ওই যে দেখছি (ওয়াশরুমের দিকে তাকিয়ে)! আমি আসছি হ্যাঁ!”
কথাটা বলেই তুরা দৌড়ে ওয়াশরুমে গিয়ে দরজা লক করে দিল। তার বুকটা থরথর করে কাঁপছে। কী থেকে কী বলে ফেলেছে! লজ্জায় নিজেই দুই হাত দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে স্বগতোক্তি হয়ে বলল।
“তুরা, তুইও না! এইভাবে কেউ বলে?”
বাংলাদেশ,,,,,
আরশির বিদায়ের পালা। শিহাব চলে গেলেও শান্ত চৌধুরী আরশিকে বাড়ির বউ হিসেবে নিয়ে যাবেন। আরশির চোখ ভেজা, কান্নায় চোখ ফুলে উঠেছে। আরশি ধীরে ধীরে আনোয়ার খানের দিকে এগিয়ে এসে পা জড়িয়ে ধরে কান্না করতে করতে বলল।
“বাবা, আমাকে মাফ করে দিও তোমার এই অভাগী মেয়েটাকে!”
আনোয়ার খান কোনো কথা বললেন না। আরশি কিছুক্ষণ কেঁদে এইবার রৌশনি খানের কাছে এসে রৌশনি খানের পা ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলল।
“মা, তুমিও আমার মাফ করে দিও! তোমার এই হতভাগা মেয়েটাকে!”
আরশি সবার সাথে এইভাবে কথা বলল, কিন্তু প্রত্যুত্তরে কেউ কিছু বলল না। শুধু আরফা আরশির দিকে এগিয়ে এল। আরফা আরশিকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কান্না করতে করতে বলল।
“আরশি, এইটা তুই কেন করলি? এইভাবে না করলেও পারতি!”
আরশি কিছু বলল না, শুধু আরফাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগল। কান্নাকাটি শেষে শান্ত চৌধুরী সব আত্মীয়-স্বজন নিয়ে আরশিকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। বাড়ি থেকে বাহির হওয়ার কথা ছিল কার, আর হয়ে গেল কার!
,,,,,,,,,
আরশিকে শিহাবের বাড়িতে আনা হলো। তুরার জায়গায় আরশিকে দেখে শিহাবের মা মিনহা চৌধুরী চমকে উঠলেন। শান্ত চৌধুরী সব কিছু বুঝিয়ে বললেন। আরশির কান্না ভেজা চোখ দেখে মিনহা চৌধুরীও মায়ের মন গেল।তিনিও মেনে নিলেন আরশিকে। মিনহা চৌধুরী আরশিকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা স্বরে বলল।
“মা, তুমি চিন্তা করো না! তোমার সাথে আমরা খারাপ ব্যবহার করব না। যেহেতু বিয়ে হয়েছে, এখন থেকে তুমিই আমার মেয়ে, আমার ছেলের বউ। আর তুমি আমাকে সবসময় মায়ের মতো মনে করবে। আর শিহাব ছেলেটা একটু বেশি রাগী, তুমি কষ্ট পেও না। দেখবে, সময় হলে সেও তোমাকে মেনে নেবে। শুধু তুমি ধৈর্যটা ধরো।”
মিনহা চৌধুরীর মায়ের মতো সান্ত্বনা শুনে আরশির মনে যেন সামান্যতম শান্তি এল। কিন্তু মনের ভিতর প্রশ্ন ঘুরতে লাগল শিহাব কি তাকে মেনে নিবে? কিন্তু এইটা কি আদৌও সম্ভব? যে মানুষ স্ত্রী হিসেবে মেনে নিবে না বলে রাগ করে বেরিয়ে এসেছে, সেই মানুষটা কি কোনো দিন তাকে ভালোবাসবে, নিজের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করবে?
রাত দুটো। সাজানো ফুলশয্যার খাটে বসে আছে আরশি। কিন্তু শিহাব আসার নাম নেই। সেই যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছে, এখন পর্যন্ত বাড়িতে আসেনি। শান্ত চৌধুরী অনেকবার কল দিয়েছেন, কিন্তু বন্ধ পেয়েছেন।আরশি এখনো ঘুমায়নি, চুপচাপ বসে আছে। হায়রে নিয়তি! আজ এই ঘরে কার থাকার কথা আর থাকছে কে!
হঠাৎ কারও পায়ের শব্দে আরশি চমকে উঠে মাথা তুলে দরজার দিকে তাকিয়ে দেখল শিহাব! শিহাবকে দেখে আরশির চোখ বড় বড় হয়ে গেল। শিহাবের মাথার চুল এলোমেলো হয়ে আছে, চোখ লাল টকটকে হয়ে আছে। শিহাব আরশিকে দেখে কিছু বলল না। চোখ মুখ শক্ত করে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল। ফ্রেশ হয়ে এসে কোনো কথা না বলে খাট থেকে বালিশ নিয়ে সোফায় গিয়ে শুয়ে পড়ল।
আরশি শিহাবের ব্যবহারে কষ্ট পাচ্ছে। সেও তো আর শিহাবকে ভালোবাসে না। মিথ্যা বলেছে শুধু তুরার সত্যিটা অজানা রাখতে। কিন্তু এইভাবে যে শিহাব তাকে এড়িয়ে চলবে যা আরশি কল্পনাও ভাবেনি।
তারপর আরশি ভাবল’আমার ভুলের জন্য শিহাব ভাইয়া নিজের খাট ছেড়ে ঘুমাবেন কেন? আমি তা হতে দিব না!’ এসব ভেবে আরশি খাট থেকে নেমে সাহস জোগাড় করে শিহাবের কাছে এসে আলতো গলায় ডাক দিলো
“শিহাব ভাইয়া?”
আরশির ডাকে শিহাব বিরক্তিসহকারে চোখ খুলল। আরশির দিকে তাকিয়ে সে বিরক্তি কণ্ঠে বলল।
“সমস্যা কী? ডাকছো কেন?”
“আপনি সোফায় ঘুমাচ্ছেন কেন?”
আরশির কথা শুনে আচমকা শিহাব শোয়া থেকে উঠে সোফায় বসে হাসতে থাকল। শিহাবের এই হাসি দেখে আরশি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। শিহাব হেসে স্বাভাবিক হয়ে, ক্রোধ মিশ্রিত স্বরে বলল।
“কী ভাবছো তুমি? আমাকে ভালোবাসলেই আমি তোমাকে স্বামীর অধিকার দেব? শোনো! যদি তুমি এসব ভেবে থাকো, তাহলে ভুলে যাও! কারণ তুমি আমাকে ফাঁসিয়ে বিয়ে করেছো! আমার কাছ থেকে তুরাকে কেড়ে নিয়েছো! আজ তুমি যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছো, সেখানে আজ তুরা থাকত। কিন্তু তুরার জায়গায় তুমি দাঁড়িয়ে আছো। আমি জাস্ট তোমাকে সহ্য করতে পারছি না। ঘৃণা হচ্ছে তোমাকে দেখে! আর তুমি চিন্তা করো না, খুব তাড়াতাড়ি তোমাকে আমি ডিভোর্স দেব। এখন আমাকে আর ডাকাডাকি করবে না। আমি ঘুমাবো, মন-মেজাজ ভালো নেই!”
শিহাবের কথা শুনে আরশির অজান্তেই মন খারাপ হয়ে গেল। তবুও আরশি সামান্য মাথা নিচু করে সরলতা নিয়ে বলল।
“আমি আপনার কাছ থেকে স্বামীর অধিকার চাইতে আসিনি। শুধু আপনার নিজের জিনিসে থাকতে বলেছি। আপনি কেন আপনার খাট ছেড়ে ঘুমাবেন?”
আরশির কথায় শিহাব সামান্য তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে কড়া জবাবে বলল।
“আমার জিনিস? তুমি তো আমার সবথেকে কাছের জিনিসটাই কেড়ে নিয়েছো! আর কী বাকি আছে?”
আরশি শিহাবের কথায় কিছু বলতে যাবে, তার আগেই শিহাব হাত দিয়ে ইশারা করে থামিয়ে দিয়ে কঠিন নির্দেশ অনুস্বরে বলল।
“চুপ! তোমার কোনো কথা আমি শুনতে চাই না। চুপচাপ খাটে গিয়ে ঘুমাও, নাহলে বাইরে চলে যাও। তবুও আমার কাছ থেকে দূরে থাকো! তোমাকে দেখে আমার রাগ হচ্ছে।”
আরশি গভীর হতাশা নিয়ে চুপচাপ বিছানায় এসে একপাশ হয়ে শুয়ে পড়ল। শিহাব শুধু শুধুই তাকে ভুল বুঝল। আরশি জানে, এই ভুলের ক্ষতিপূরণ দেওয়া তার জন্য সহজ হবে না।
সুইজারল্যান্ড,,
এদিকে তুরার নাজেহাল অবস্থা! ওয়াশরুমে মুখ ধুতে গিয়ে শাওয়ার ক্লিকে চাপ দিয়ে ফেলেছে, আর তুরার সারা শরীর ভিজে গেছে। তুরা চিন্তায় পড়ে গেল কাপড় ভিজে গেল, এখন সে পরবে কী? কোনো কাপড়ও আনেনি। এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ তুরার চোখ গেল উপরের দিকে, যেখানে একটি সাদা রঙের শার্ট রাখা আছে। তুরা আগা-মাথা কিছু না বুঝেই নিজের শরীর থেকে সব কাপড় খুলে শুধু শার্টটা পরে নিল। ওয়াশরুমে তোয়ালে ও পেয়ে মাথায় পেঁচাতে পেঁচাতে ওয়াশরুম থেকে বের হলো।
রৌদ্র সোফায় বসে ফোন স্কল করছিল এবং তুরা ওয়াশরুম থেকে বের হওয়ার অপেক্ষা করছিল। ওয়াশরুমের দরজা খোলার শব্দে রৌদ্র ফোন থেকে চোখ তুলে ওয়াশরুমের দরজার দিকে তাকায় আর তুরাকে দেখতে পায়। তুরা রৌদ্রের শার্ট পরেছে। ফর্সা পা প্রায় হাঁটুর উপর পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে।তুরার এই অবস্থা দেখে রৌদ্র বিব্রত হলো।
“হক্কু! উহু! উহু!”
রৌদ্র কেঁশে উঠল। অন্যদিকে তাকিয়ে তুরার উদ্দেশ্যে দাঁতে দাঁত চেপে বলল।
“শা,লী রে! তুই আমার শার্ট পরেছিস কেন?”
তুরা রৌদ্রের কথা শুনে রৌদ্রের দিকে তাকাল। তার মানে যে শার্টটা পরেছে, এইটা রৌদ্রের! তুরা নিজের দিকে ভালো করে না লক্ষ্য করে হাঁটতে হাঁটতে রৌদ্রের কাছে সোফায় গিয়ে বসে। সে ভাব নিয়ে বলল।
“পরেছি, তাই কী হয়েছে? ছিঁড়ে তো আর ফেলিনি!”
রৌদ্র তুরাকে এত কাছে দেখে আড় চোখে তুরার দিকে তাকাল। আরও ছোট শার্ট পরা তুরা সোফায় বসার জন্য শার্টটা আরও উপরে উঠে গেছে। তুরার এই অবস্থা দেখে রৌদ্র বড় বড় ঢোক গিলতে থাকে। সে বড় বড় শ্বাস নিতে থাকে। তুরা রৌদ্রের অস্বাভাবিক অবস্থা লক্ষ্য করল। তুরা রৌদ্রকে এমন করতে দেখে আরও রৌদ্রের কাছে গিয়ে নির্লিপ্ত জিজ্ঞাসা করল।
“রৌদ্র ভাইয়া, আপনি এমন করছেন কেন? আপনার কি শরীর খারাপ লাগছে?”
রৌদ্র তুরার অবস্থা দেখে দ্রুত উঠে দাঁড়াল। সে কোনো উত্তর না দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ল। আর যাওয়ার আগে যেতে যেতে অস্পষ্ট ইঙ্গিতে বলে গেল।
“নিজের দিকে লক্ষ্য কর! তাহলেই আমার অসুস্থতার কারণ জানতে পারবি।”
কথাটা বলেই রৌদ্র বেরিয়ে পড়ল। নাহলে এখানে থাকলে যে কোনো সময় নিয়ন্ত্রণ হারাবে তা নিশ্চিত।তুরা রৌদ্রের কথা শুনে কিছুই বুঝল না। তবুও নিজের দিকে তাকাল। আর নিজের এই অবস্থা রৌদ্রের শার্ট, যা শরীরের অধিকাংশই অনাবৃত দেখে তুরা।
“আআআআআআআআআআআআ”
রানিং….!
Share On:
TAGS: নির্লজ্জ ভালোবাসা, প্রিঁয়ঁসেঁনীঁ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৩
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৯
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২১
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৯
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা সূচনা পর্ব
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৪,১৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২০