নির্লজ্জভালোবাসা পর্ব ২০ লেখিকাপ্রিঁয়ঁসেঁনীঁ
পরেরদিন সকালে সেই আগের বারের মতো আজও খান বাড়ির প্রতিটি কোণ বিয়ের সাজে সজ্জিত। ঝলমলে আলো, ফুল আর রঙিন কাপড়ে পুরো বাড়িতে এক উৎসবের আমেজ। আত্মীয়-স্বজনের আনাগোনাও শুরু হয়ে গেছে।খান বাড়ির মহিলারা ছোট ছোট কাজে ব্যস্ত কেউ মেহমানদের আপ্যায়নে, কেউ রান্নাঘরে তদারকিতে। অন্যদিকে, পুরুষরা আড্ডায় ব্যস্ত। সব মিলিয়ে বাড়ির পরিবেশ কোলাহলপূর্ণ ও আনন্দময়।
আনন্দের কোলাহলে যখন সবাই ব্যস্ত, আনোয়ার খানও সকলের সাথে আড্ডায় ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ কী মনে করে তিনি রৌশনি খানের উদেশ্য সামান্য তাড়া দিয়ে বললেন।
“এই যে শুনছো? তুরা হয়তো ঘুম থেকে ওঠেনি। ওকে ডেকে তোলো! পাল্লার থেকে লোক চলে আসবে তো!”
রৌশনি খান কিছু বলার জন্য মুখ খুলতে যাবে, পাশ থেকে তনুজা খান তার আগেই সবাইকে নাস্তা দিতে দিতে রৌশনি খানের উদ্দেশ্যে স্বাভাবিকতা ও স্নেহ মাখা নিয়ে বললেন।
“আফা, আপনি এই দিকটার খেয়াল রাখেন। আমি যাচ্ছি। কিছুদিন ধরে মেয়েটার সাথে মন খুলে কথা বলতে পারছি না। এখন একটু গিয়ে বলে আসি।”
রৌশনি খানের সম্মতি দিলেন।
“আচ্ছা, ঠিক আছে। যাও আমি এইদিকটা দেখছি।”
তনুজা খান ধীরে ধীরে তুরার রুমে প্রবেশ করলেন। তুরা তখন গভীর ঘুমে মগ্ন। তনুজা খান স্নেহভরে মেয়ের পাশে বসে আলতো হাতে তুরার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলেন। তনুজা খানের চোখে তখন রাজ্যের চিন্তা।
তিনি মনে মনে ভাবলেন কত বড় হয়ে গেছে মেয়েটা! আজ অন্যের বাড়ি চলে যাবে। এই বাড়ির সদস্য থেকে এখন অন্য বাড়ির সদস্য হয়ে যাবে। মাতৃত্বের এই চিরন্তন অনুভূতিতে তনুজা খানের চোখের কোণ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল।
নিজের মাথার ওপর কারও আলতো স্পর্শে তুরার ঘুম আস্তে আস্তে ভেঙে গেল। সে কেঁপে উঠে চোখ খুলে দেখে তাঁর মা। তুরা তাঁর মার চোখে জল দেখে বিছানা থেকে উঠে বলল।
“মা, তুমি কাঁদছো কেন?”
তনুজা খানের আবেগমাখা উত্তর দিলেন।
“তুই কত বড় হয়ে গেছিস!”
তুরা নীরবে বুঝতে পারল আজ তার বিয়ে, অন্যের বাড়ি চলে যাবে, তাই তার মা এই কথাগুলো বলছেন। তার নিজের কষ্টটা তখন ক্ষণিকের জন্য আড়ালে চলে গেল।পর মুহূর্তেই কাল রাতে আরশির বলা প্ল্যানটা তুরার মনে পড়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে তুরার চোখ ভেজে উঠল। তুরা আর নিজেকে সামলাতে পারল না। সে সাথে সাথে তাঁর মাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল।
মেয়ের এমন আচমকা কান্না দেখে মায়ের বুক হাহাকার করে উঠল। তনুজা খানও নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না। তিনিও অঝোরে মেয়েকে ধরে কান্না করতে লাগলেন। সত্যি, এই মুহূর্তটা খুব কষ্টের। এই মুহূর্তটা যাদের জীবনে এসেছে, শুধুমাত্র তারাই বুঝবে এর যন্ত্রণা।মা ও মেয়ে দু’জনের অশ্রু দুটি ভিন্ন কারণে ঝরছে। একজন মেয়ের বিদায়ের কথা ভেবে, আর অন্যজন বিয়ের নামে আসন্ন প্রতারণা এবং জীবনের অনিশ্চয়তার কথা ভেবে।
কান্নার মাঝে তনুজা খান কণ্ঠে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন।
“কাঁদিস না মা, মেয়েদের একদিন পরের বাড়ি যেতেই হয়। শিহাব বাবা অনেক ভালো। তোকে অনেক সুখে রাখবে।”
তুরা তার মায়ের কথা শুনে কোনো উত্তর দিল না। শুধু নীরবে তাঁর মাকে জড়িয়ে ধরে অশ্রু ঝরাতে লাগল।ঠিক সেই মুহূর্তে আরশি এবং তার সাথে পার্লারের একজন মহিলা রুমে প্রবেশ করল। তনুজা খান আর তুরা দুজনেই দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে বসলেন। আরশি তুরার কান্নাভেজা চোখের দিকে তাকিয়ে চোখ টিপে ইশারা দিয়ে শান্তনা জানাল তুই চিন্তা করিস না, সব ঠিকঠাক হবে।তনুজা খান কিছুক্ষণ বসে তুরার সাথে আর আরশির সাথে গল্প করে ঘর থেকে চলে গেলেন।
তনুজা খান যেতেই, পার্লারের মহিলাটি আরশি আর তুরার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করলেন।
“কাকে সাজাতে হবে আপনাদের মধ্যে?”
ঠিক তখনই তুরা দুষ্টুমির ছলে, কিন্তু ভেতরের পরিকল্পনা মাথায় রেখে, বলে উঠল।
( আরশিকে দেখিয়ে) “এই যে, আমার আপুকে!”
তুরার কথা শুনে আরশি চোখ কপালে তুলে তুরার দিকে তাকাল। তুরা দুষ্টুমাখা হাসি দিয়ে দ্রুত কাপড় নিয়ে দৌড়ে ওয়াশরুমে গেল। কিন্তু ভুলবশত নিজের লেহেঙ্গাটা না নিয়ে আরশির লেহেঙ্গা নিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ল।
এদিকে আরশি তুরার কথায় রাগে ফেটে পড়ছে। না জানি এই মেয়ের জন্য তার আবার কী বিপদে পড়তে হয়। মুহূর্তে সে মনকে সান্ত্বনা দিল যাই হোক, আমি অন্তত দু’জনের ভালোবাসা তো এক করে দিতে পারব। এসব ভেবে আরশি নিজের মনকে বোঝালো।
তুরা ফ্রেশ হয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে এল। আরশি তখন ফোন টিপতে ব্যস্ত। ওয়াশরুমের দরজা খোলার শব্দে আরশি বুঝে যায় তুরা এসে পড়েছে। আরশি তুরার দিকে না তাকিয়ে ফোন ঘাঁটতে ঘাঁটতে তুরাকে বলল।
“তুরা, হয়েছে তোর? আসলে আরফা আর তিথি আসবে। যা করার তাড়াতাড়ি কর। আর আমি এই রুমেই ফ্রেশ হব, তাই কাপড় নিয়ে এসেছি। তুই যা করার কর, আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।”
কথাটা বলেই আরশি কাপড় না দেখেই নিয়ে দ্রুত ওয়াশরুমে ডুকে পড়ল।
এদিকে তুরা পার্লারের মহিলাটির সামনে বসল। পার্লারের মহিলাটি তুরাকে খুব স্বাভাবিকভাবেই সাজালো, কিন্তু বউয়ের মতো নয়। কারণ পার্লারের মহিলাটি ভেবেছেন আরশিকে বউ সাজাতে হবে। ওই যে তুরা তখন বলল, সেই কথাটি তুরার দুষ্টুমি হলেও, পার্লারের মহিলাটি সিরিয়াসলি মনে করে নিয়েছেন।
আরশি ফ্রেশ হয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয়েই তুরার দিকে তাকাল। নিজের লেহেঙ্গা তুরার গায়ে দেখে সে চমকে উঠল। তারপর সাথে সাথে নিজের দিকে তাকিয়ে দেখল সে তুরার লেহেঙ্গা পরে নিয়েছে।
আরশি সাথে সাথে তুরার উদ্দেশ্যে হতভম্ব কণ্ঠস্বরে বলল।
“তুরা, তুই আমার লে……!”
বাকিটা বলতে পারল না। দরজায় ‘কট কট’ শব্দ হলো। অর্থাৎ, কেউ আসছে। দরজার ওপাশ থেকে রৌশনি খানের কণ্ঠ ভেসে এলো।
“কিরে তুরা, কী করছিস? তোর ওইখানে কি আরশি?”
আরশি ও তুরা দুজনেই রৌশনি খানের কণ্ঠে চমকে উঠল। আরশি নিজের দিকে তাকাল। লেহেঙ্গা দেখে একটু ভয় পেল। কারণ এই লেহেঙ্গাটাই শিহাব তুরার জন্য পছন্দ করেছিল। আরশি আবার তুরার দিকে তাকাল। তুরারও সাজা শেষ। কীভাবে কী করবে, আরশি ভেবে পাচ্ছে না।
হঠাৎ আরশির মাথায় বুদ্ধি এল। সে দ্রুত পার্লারের মহিলাটিকে ফিসফিস নির্দেশনা দিয়ে বলল।
“আন্টি, আপনি আমাকে সাজিয়ে দিয়েছেন আর আমি বড় ঘোমটা দিয়ে রাখব। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলবেন পরে দেখবেন, তার আগে না। আর আমাকে ‘তুরা’ নামে ডাকবেন।”
পরক্ষণেই আরশি তুরার উদেশ্যে দ্রুত আদেশ দিল।
“আর তুরা, তুই দ্রুত ওয়াশরুমে ঢুকে পড়। মা কিছু বললে তুই চিকন কণ্ঠে বলবি ‘আমি ওয়াশরুমে’ বা আন্টি বলে দেবে।”
তুরা আরশির কথামতো দ্রুত ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ল। আরশি পার্লারের মহিলাটিকে দরজা খুলতে বলল। আরশি তাড়াতাড়ি লেহেঙ্গা পরে বড় ঘোমটা দিয়ে বসে পড়ল। পার্লারের মহিলাটি দরজা খুলে দিলেন।
রৌশনি খান রুমে প্রবেশ করে কাউকে বড় ঘোমটা দিয়ে বসে থাকতে দেখে হতভম্ব হয়ে গেলেন। পার্লারের মহিলাটি আরশির নির্দেশনা মতো রৌশনি খানের দিকে তাকিয়ে কণ্ঠে বিনয় নিয়ে বললেন।
“ম্যাডাম, সাজানো এখনো শেষ হয়নি। তাই আমি সম্পূর্ণ সাজিয়ে আপনাদের দেখাতে চাই।”
রৌশনি খান মহিলাটির কথায় মুচকি হাসলেন। তিনি আরশির কাছে এসে আশেপাশে তাকালেন। মহিলাটি রৌশনি খানকে এইভাবে তাকাতে দেখে প্রশ্ন করলেন।
“ম্যাডাম, আপনি কি কাউকে খুঁজছেন?”
রৌশনি খান উত্তর দিলেন।
“হ্যাঁ, আমার মেয়ে আরশিকে। তাঁকে রুমে পেলাম না, ভাবলাম হয়তো তুরার রুমে এসেছে।”
মহিলাটি বুদ্ধি খাটিয়ে নিশ্চিত উত্তর দিলেন।
“হ্যাঁ ম্যাম, সে তো ওয়াশরুমে ঢুকেছে।”
রৌশনি খান সম্মতি মাথা নেড়ে বললেন।
“ওহ আচ্ছা। ঠিক আছে। তাঁকে বলে দিয়েন,তুরাকে তাড়াতাড়ি রেডি করতে।”
পার্লারের মহিলাটি প্রত্যুত্তর করলেন।
“ওকে ম্যাম।”
রৌশনি খান সন্তুষ্ট হয়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেলেন। আরশি এবং তুরার প্রথম বিপদ সাময়িককালের জন্য এড়ানো গেল।এদিকে তুরা ওয়াশরুমে দাঁড়িয়ে কিছুই বুঝতে পারছে না। হঠাৎ আরশি তাঁকে ওয়াশরুমে কেন ঢুকে পড়তে বলল। আবার ভাবল, হয়তো এইটা আরশির প্ল্যানের মধ্যে কিছু একটা।
কিন্তু তুরা নিজেও জানে না সে যে আরশির লেহেঙ্গা পরে আছে। আসলে এখানে তুরার দোষ নেই। সে যখন মার্কেটে শিহাবের পছন্দমতো জিনিস কিনতে বলেছে, তখন সে নিজের বিয়ের লেহেঙ্গা ভালোমতোন দেখেইনি। আর আরশির লেহেঙ্গাও প্রায় তুরার লেহেঙ্গার মতো। শুধু কালার আর কিছু কিছু নকশা ভিন্ন ডিজাইনের।
আরশি ঘোমটাটা তাড়াতাড়ি তুলে ফেলল এবং বড় বড় শ্বাস নিতে থাকল। যেন সে খুব বড় বাঁচা বেঁচেছে।তুরা আর আরশির এসব উল্টাপাল্টা কাণ্ড দেখে পার্লারের মহিলাটির যেন মাথা ঘুরছে। তিনি বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানতে,আরশিকে দ্বিধাগ্রস্ত প্রশ্ন করলেন।
“ম্যাডাম, আমি আপনাদের বিষয়টা বুঝতে পারছি না। বিষয়টা একটু ক্লিয়ারলি। বললে আমি একটু ভালোমতো বুঝতে পারতাম।”
আরশি এখন কথা বলার মুডে নেই। সে বড় বড় শ্বাস নিতে নিতে সংক্ষিপ্ত উত্তর দিল।
“আন্টি, আপনার এগুলো নিয়ে ভাবতে হবে না। আপনি আমাকে তাড়াতাড়ি সাজিয়ে দিন।”
মহিলাটি আর কোনো কথা না বাড়িয়ে আরশিকে সাজাতে লাগলেন। এদিকে আরশি ভুলেই গেছে তুরা যে ওয়াশরুমে। আরশি চোখ বন্ধ করে আছে। মহিলাটি আরশিকে একদম বউ বেশে সাজিয়ে তুললেন।
সাজানো শেষ হলে মহিলাটির আরশির দিকে তাকিয়ে মুগ্ধতা হয়ে বললেন।
“ম্যাডাম, হয়েছে! অনেক সুন্দর লাগছে আপনাকে।”
আরশি হাসিমুখে চোখ খুলল। আর নিজেকে আয়নায় দেখে যেন হাজার ভোল্টের শর্ট খেল!ঠিক তখনই আরশির মনে পড়ল তুরা যে ওয়াশরুমে ঢুকে আছে।আরশি নিজের মাথায় নিজেই দুইটা থাপ্পড় দিল। সব প্ল্যান উল্টো হচ্ছে! সে মুখ খুলে রাগে মহিলাটিকে কিছু বলতে যাবে, ঠিক তখনই আরফা, তিথি হুর হুর করে রুমে প্রবেশ করল।কথায় আছে না বিপদ যখন আসে, তখন চারদিক থেকেই আসতে থাকে! তাঁদের বেলায় ঠিক তাই হচ্ছে।
আরশি তাদের আগমন দেখে সাথে সাথে আবারও বড় ঘোমটা দিয়ে বসে পড়ল। মহিলাটি আরশিকে আবার ঘোমটা দিতে দেখে বুঝে গেল আগের মতো প্ল্যান কাজে লাগাতে হবে তাঁকে।আরফা আরশিকে (যাকে সে তুরা মনে করছে) এইভাবে ঘোমটা দিয়ে বসে থাকতে দেখে কৌতূহল নিয়ে প্রশ্ন করল।
“কিরে তুরা, তুই এইভাবে ঘোমটা দিয়ে বসে আছিস কেন?”
আরশি ঘোমটার আড়ালে হাঁপাচ্ছে। মহিলাটি আরশিকে কোনো কথা বলতে না দেখে আরফার উদ্দেশ্যে বললেন।
“ম্যাডাম, তিনি চাইছেন এই সাজানোটা একেবারে বিয়ের আসনে তাঁর হাজবেন্ডের সামনে দেখাতে। তাই তিনি এখন কাউকে নিজেকে দেখাতে চাইছেন না।”
মহিলাটি বেশ বুদ্ধিমত্তার সঙ্গেই কথাটা বললেন। আরশি মহিলাটির কথা শুনে ঘোমটার আড়ালে সামান্য হাসল।ঠিক তখনই পাশ থেকে তিথি মহিলাটির উদ্দেশ্যে তাড়াভরা কণ্ঠস্বরে বলে উঠলো।
“এখন হয়েছে! বউ তো সাজানো হয়েছে। এখন আমাদের সাজিয়ে দিন।”
তিথি আর আরফা দুজনেই নিজেদের রুম থেকে ফ্রেশ হয়ে কাপড় পড়ে এসেছে। মহিলাটি আবার তাঁদের সাজাতে লাগলেন।
সময় যাচ্ছে, তত ঘনিয়ে আসছে বর আসার সময়। এদিকে তুরার বেজায় নাজেহাল অবস্থা। সে এখনো পর্যন্ত ওয়াশরুম থেকে বের হয়নি। শরীরটা খুব দুর্বল লাগছে। তুরা ভাবছে, আরশি ডাক দিচ্ছে না, হয়তো ভেতরে কোনো সমস্যা আছে, তাই ডাক দিচ্ছে না। এইজন্য তুরা নিজেও বের হচ্ছে না।
দেখতে দেখতে বর আসার টাইম এসে গেল, আর বর এসেও গেল। তিথি আর আরফাকে সাজানোর পর দুজনেই আরশির পাশে বসে আছে। বর আসার শব্দ শুনে দুজনেই আনন্দে মেতে উঠল। তাঁরা একপ্রকার দৌড়েই রুম থেকে বের হলো।
এদিকে আরশিরও নাজেহাল অবস্থা ঘোমটার আড়ালে থাকতে থাকতে। পার্লারের মহিলাটি চলে গেছে। আরশি আরফা তিথিকে যেতে দেখে দ্রুত ঘোমটাটা এক ঝটকায় তুলে ফেলল। আরশি বিদ্যুৎ গতিতে বড় বড় শ্বাস নিতে লাগল। যেন জীবন যায় যায় অবস্থা!আরশির মনে পড়ল তুরার কথা। এখন দেরি করলে চলবে না। যেভাবেই হোক তুরাকে বের করতে হবে। আরশি উঠে দাঁড়িয়ে ওয়াশরুমে ‘টক্ টক্’ শব্দ করে ফিসফিসানি,অধৈর্য কণ্ঠে তুুরাকে ডাক দিল।
“তুরা, আমি আরশি! দরজা খোল, তাড়াতাড়ি!”
তুরা আরশির কণ্ঠ শুনে সাথে সাথে দরজা খুলে দিল। আরশি দ্রুত বলে উঠল।
“শোন, তুই পিছনের ব্যালকনি দিয়ে রুশি।বেঁধে নেমে, পিছনের বাগানের দিক দিয়ে বেরিয়ে যাবি।”
তুরা আরশিকে বউয়ের সাজে দেখে কিছু বলার চেষ্টা করল। কিন্তু আরশি হাত দিয়ে থামিয়ে দিয়ে আকুতি ও তাড়া দিয়ে বলল”
“কথা বললে চলবে না! শিহাব ভাইয়া এসে পড়েছে। তুই তাড়াতাড়ি যা প্লিজ! বাকিটা আমি সামলাবো।”
তুরা আরশির এই আন্তরিকতা দেখে সাথে সাথে আরশিকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠল।
“আপু! তোমাকে কী বলে ধন্যবাদ দেব, তা আমার ভাষা নেই। শুধু বলতে চাই তুমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আপু!”
আরশি সময় নষ্ট না করে তুরাকে ছাড়িয়ে নিল। সে দরজাটা লাগিয়ে দিল এবং তুরাকে কী কী করতে হবে সব ভালো করে বুঝিয়ে দিল। এমনকি তুরার ফোনে কারও নাম্বার সেভ করে দিয়ে বলল।
“ঠিক আছে, তুই গিয়ে ফোন করবি। সে চলে আসবে। আমার নাম বলবি, তাহলেই তোকে চিনবে।”
তুরা আবারো কান্নাভেজা চোখে আরশির দিকে তাকাল। তারপর পুনরায় আরশিকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠল। এবার আরশিও কাঁদতে কাঁদতে বলল।
“নিজের খেয়াল রাখবি। কী হয়, আমাকে জানাবি। আমি তোর পাশে সবসময় আছি।”
তুরা আর আরশি কিছুক্ষণের মধ্যে স্বাভাবিক হলো। তুরা ব্যালকনিতে একটা রুশি বেঁধে বেয়ে বেয়ে নেমে পড়ল। আরশি দাঁড়িয়ে দেখছে তুরাকে। তুরা নেমেই পিছনের বাগানের দিকে ছুটল। কিছুক্ষণের মধ্যেই বাগানের মধ্যে মিলিয়ে গেল, আর দেখা গেল না তুরা চলে গেল তার গন্তব্যে।
আরশি তুরার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে চোখের পানি মুছল। অবশেষে হয়তো দুটি হৃদয়ের ভালোবাসা পূর্ণতা পাবে।ঠিক সেই মুহূর্তে আবারো দরজায় কড়া নাড়ল কেউ। আরশি দ্রুত আবারো তাড়াতাড়ি বড় ঘোমটা দিয়ে গিয়ে দরজা খুলে দিল। দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন আয়ান আশিক খান।
আশিক খান আরশিকে তুরা মনে করে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে বললেন।
“আমার কলিজার টুকরো মেয়ে! তোর বাবা তোকে খুব মিস করবে। তুই চিন্তা করিস না, শিহাব তোকে অনেক ভালো রাখবে।”
ঘোমটার আড়ালে আরশি থরথর করে কাঁপছে। তার মাথা ঘুরছে। যেন যেকোনো সময় পড়ে যাবে এমন অবস্থা। আরশিকে যে এই বিপদের মধ্যে পড়তে হবে, তা সে কল্পনাও করেনি। সবকিছুই কেমন জানি অদল বদল হয়ে যাচ্ছে।আশিক খান আরশিকে নিয়ে নিচে আসলেন। নিচে সবাই বসে আছেন শিহাব, কাজী এবং আরো নানা আত্মীয়। কিন্তু আত্মীয়দের মাঝে কারো মাথায় আসছে না আরশিকে যে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। সবার মনে ধারণা, হয়তো বিয়েবাড়িতে কোথাও বান্ধবীদের সাথে আড্ডা দিচ্ছে। এসব ভেবেই সবাই সময় কাটিয়ে দিচ্ছে।
চলবে….!
ভুলক্রুটি হলে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন!
Share On:
TAGS: নির্লজ্জ ভালোবাসা, প্রিঁয়ঁসেঁনীঁ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩০
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩১
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩৩
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১০
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৭
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা গল্পের লিংক
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৮