নির্লজ্জভালোবাসা পর্ব ১৩ লেখিকাপ্রিঁয়ঁসেঁনীঁ
পরিবেশটা যেন এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতায় ঢেকে গেছে, চারপাশের বাতাসও থমকে দাঁড়িয়ে আছে মনে হয় সময় নিজেও যেন শ্বাস আটকে তাকিয়ে আছে দৃশ্যটার দিকে৷পুরো হলরুমজুড়ে এক ভয়ানক নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে। কেউ কথা বলছে না, কেউ শ্বাস নিচ্ছে না সবাই কেমন জানি ভয়ে জমে আছে। সামনে দাঁড়িয়ে আছে রৌদ্র আর তুরা। রৌদ্রের মাথা নিচু, যেনো অপরাধের ভারে নুয়ে পড়েছে তার কাঁধ। ঠিক তখনই তনুজা খান চিৎকার করে উঠলেন তুরা!বলে ছুটে এসে তুরাকে জড়িয়ে ধরলেন বুকের মাঝে। তুরার চোখে অশ্রু, কাঁপা হাতে মাকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরলো সে। পরক্ষণেই তিথি দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরলো তার বোনকে,
চারপাশে যেনো একটু শান্তির বাতাস বইতে শুরু করেছে, সবাই দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলেছে স্বস্তিতে তুরা ফিরে এসেছে, সেটাই যেন এক অলৌকিক শান্তি। কিন্তু সেই শান্তির মুহূর্ত স্থায়ী হলো না এক সেকেন্ডও। হঠাৎই এক বজ্রকণ্ঠে গর্জে উঠলো এক ভয়াল ডাক।
“রৌদ্র…!”
সেই কণ্ঠে ঘরটা কেঁপে উঠলো। সবাই চমকে উঠে তাকিয়ে দেখলো আনোয়ার খান দাঁড়িয়ে আছেন দরজার কাছে, চোখ লাল, রাগে ফুঁসছে তাঁর মুখ। হলরুমের বাতাস ভারী হয়ে গেলো মুহূর্তেই। তিনি দ্রুত এগিয়ে এসে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে সজোরে এক থাপ্পড় মারলেন রৌদ্রের গালে। থাপ্পড়ের শব্দে স্তব্ধ হয়ে গেলো পুরো হলরুম, কেউ একটাও শব্দ করলো না। রৌদ্র স্থির দাঁড়িয়ে রইলো, মাথা নিচু, চোখ বন্ধ। তার ঠোঁট কাঁপছে, কিন্তু সে কিছু বললো না কারণ সে জানে, এই থাপ্পড়ই তার প্রাপ্য ছিলো।আনোয়ার খানের কণ্ঠ যেনো বজ্রপাতের মতো ছিঁড়ে গেলো নিস্তব্ধ বাতাসে। তিনি গর্জে উঠলেন, চোখ দুটো রাগে লাল,বুক উঠছে নামছে ক্রোধে।
“কেনো এরকম করলি বল রৌদ্র! কেনো?তুরার সাথে তোর সম্পর্ক কি, যার জন্য তুই এত বড় সর্বনাশ করলি মেয়েটার!”
রৌদ্র এই জায়গায় চুপ থাকলো না নাথা নিচু করে গর্ভ স্বরে বলল।
“তুরাকে আমার ভালো লাগে অর্থাৎ, ভালোবাসি তুরাকে?।”
কথাটা বের হতেই এক মুহূর্তের জন্য সময় যেনো থেমে দাঁড়ালো। সবার চোখ বড় বড় হয়ে উঠলো বিশ্বাস করা যেনো অসম্ভব।আশিক খান চুপ করে থাকতে পারলেন না। মুখ লাল হয়ে উঠলো, বুকের রাগ আর অপমান একসাথে জ্বলে উঠলো তাঁর মধ্যে। তিনি এগিয়ে এসে রৌদ্রের গালে জোরে আরেকটা থাপ্পড় মারলেন।
“লজ্জা করলো না তোর এই কথাটা বলতে? তোর মাথা খারাপ নাকি? তুরা তোর বোন হয় তার বিয়ের আগের রাতে তুই তাকে তুলে নিয়ে গেছিস! এই লজ্জা কেমনে সহ্য করলি?”
থাপ্পড়ের পরও রৌদ্র মাথা নিচু রেখেই রইলো। চোখ বেয়ে নেমে আসা পানির ফোঁটাটা হাতের তালুতে পড়ে মিলিয়ে গেলো। তবুও কণ্ঠটা দৃঢ় রেখে বলল।
“কাকা, ভালোবাসায় লজ্জা নাই সত্যি কথা বলতেও লজ্জা নাই। আমি যা বলছি, সেটাই সত্যি। আমি তুরাকে ভালোবাসি এই কথাটাই তোমাদের সামনে বলার সাহস করেছি, কারণ এটা মিথ্যে না।”
হলরুমে আবারও ভারী নীরবতা নেমে এলো। কেউ কথা বলছে না, শুধু বাতাসের চাপা হাহাকার যেনো ভেসে বেড়াচ্ছে চারদিকে।আনোয়ার খান ছফায় বসে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে গর্জে উঠলেন।
“ঘৃণা হচ্ছে তোকে, দেখে! নিজের ছেলে বলতে ঘৃণা হচ্ছে, তুই আমার সন্তান এই ভাবনাটাই এখন অভিশাপ মনে হয়!”
এবার রৌদ্র মাথা নিচু করে রইলো না। ধীরে ধীরে মাথা তুললো, চোখ মেলে তাকালো সরাসরি আনোয়ার খানের দিকে। সেই চোখে ছিল না প্রতিবাদ ছিল কেবল অনুতাপ, আর অপরাধবোধের গভীর ভার।নীরবে পা বাড়িয়ে এগিয়ে এলো সে, সবার সামনে দিয়ে আনোয়ার খানের সামনে গিয়ে হাটু গেড়ে বসে পড়লো। পুরো হলরুম স্তব্ধ। কেউ একটা শব্দ পর্যন্ত করলো না।তুরা অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। বুকের ভেতর হঠাৎ যেনো কিছু একটা মোচড় দিয়ে উঠলো, তীব্র এক যন্ত্রণা ছড়িয়ে পড়লো শরীরের প্রতিটি কোণায়। কেনো এমন অনুভূতি হচ্ছে সে নিজেই জানে না।
রৌদ্রের কণ্ঠে একরাশ ভাঙা বেদনা, মুখে ক্লান্তির ছায়া। চোখদুটো গভীর অপরাধবোধে ভরা, কিন্তু তার ভেতর একটা সত্যিকারের ভালোবাসার অগ্নিশিখা এখনো টিকে আছে।রৌদ্র আনোয়ার খানের দিকে তাকিয়ে ধীরে, কাঁপা গলায় বলল।
“বাবা, আমি বলি না তুমি আমাকে নিয়ে গর্ভ করো কারণ আমি সত্যিই তোমার ছেলে হিসেবে যোগ্য না। কিন্তু বাবা, তুমি একটুকু বিশ্বাস করো আমি সত্যি তুরাকে ভালোবাসি। আমি জানি না কেনো আমি ওকে নিয়ে গেলাম হয়তো আমার ভালোবাসাটা পাগলামিতে পরিণত হয়েছিলো, যা আমি তখন বুঝিনি যে আসলে….. ।”
রৌদ্র একটু থেমে তুরার দিকে তাকালো চোখে একরাশ অপরাধ, তবু তার ভেতর নিঃস্বার্থ অনুশোচনার কোমল ছোঁয়া। সেই দৃষ্টির ভেতর দিয়ে যেনো সব কথা বলে দিলো যা মুখে আর বলা সম্ভব নয়।তারপর নিচু গলায় শেষ কথাটা বলল।
“ভালোবাসা জোর করে হয় না।”
তুরা এক মুহূর্ত রৌদ্রের দিকে তাকিয়ে রইলো।তার চোখে ছিলো এক অদ্ভুত মিশ্র অনুভূতি, রাগ, কষ্ট, আবার কোথাও গভীর মায়াও। কিন্তু সেই দৃষ্টি বেশিক্ষণ টিকলো না। পরক্ষণেই তুরা মুখ ফিরিয়ে নিলো, যেন নিজের ভেতরের ঝড়টা রৌদ্র বুঝে না ফেলে।আনোয়ার খান স্থির হয়ে বসে আছেন, মুখে কোনো কথা নেই। চারপাশ এখনো নিস্তব্ধ, কিন্তু তাঁর নীরবতা যেন কোনো কথার চেয়েও ভারী। চোখের কোণে কঠোরতা, অথচ বুকের গভীরে দহন। রৌদ্রের বলা প্রতিটা শব্দ তাঁর ভেতরের পিতৃত্বকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে।রৌদ্র ধীরে আবার মুখ তুলে আনোয়ার খানের দিকে তাকালো, গলার স্বর ভারী হয়ে এলো।
“বাবা, আমি জানি আমি ক্ষমার যোগ্য নই। কিন্তু অপরাধ করলে ক্ষমা চাওয়াটাই সবচেয়ে বড় কাজ তাই আমি বলছি, পারলে আমাকে মাফ করো।”
শেষ কথাটুক বলেই রৌদ্রের ঠোঁট কেঁপে উঠল। মাথা নিচু করলো সে, যেন পৃথিবীর সব বোঝা তার কাঁধে চেপে আছে। অজান্তেই চোখ থেকে টুপটাপ করে কয়েক ফোঁটা অশ্রু মেঝেতে পড়লো। সেই অশ্রু যেন নিস্তব্ধতার বুক চিরে শব্দ তুললো।
আনোয়ার খান তখনও নীরব। তাঁর চোখের গভীরে একরাশ হতাশা আর অব্যক্ত কষ্ট জমে আছে। কেউ যেন বুঝতে পারছে না তিনি রাগে নাকি বেদনায় চুপ করে আছেন। চারপাশে উপস্থিত সবাই নিঃশব্দ, শুধু রৌদ্রর কণ্ঠই ভেসে আসছে ভারী হয়ে।
রৌদ্র ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো। তার মুখটা ফ্যাকাশে, চোখ দুটো লাল হয়ে আছে কান্না চেপে রাখার চেষ্টায়। সে ধীরে আশিক খানের সামনে এসে হাত জোড় করলো, গলা কেঁপে উঠলো তার কথায়।
“কাকা, তুমিও আমাকে মাফ করে দিও। তখন আমি নিজের মনের সাথে লড়াই করতে পারিনি, তাই পাগলামিটা করে ফেলেছিলাম। তখন বুঝিনি ভালোবাসা কখনো জোর করে পাওয়া যায় না। আমি ভাবতাম তুরাকে শক্তি দিয়ে নিজের করে নেবো, কিন্তু তুরাই আমাকে শিখিয়েছে ভুলটা আসলে আমার কথায় যে….!
রৌদ্র হঠাৎ থেমে গেলো। চোখ তুলে আবারো তাকালো তুরার দিকে। দুজনের দৃষ্টি এক মুহূর্তের জন্যে মিললো।চোখে চোখ মিলতেই তুরা আবারো চোখ নামিয়ে নিলো,মুখে কোনো শব্দ নেই।রৌদ্র তুরার দিকে তাকিয়েই নিঃশব্দে বলল।
“ভালোবাসা কাউকে জোর করে নিজের করে নেওয়ায় নয়, ভালোবাসা নিজেকে বদলে সম্মান দিয়ে গড়ে তুলে নিতে হয়।”
কথাটা বলেই রৌদ্র মাথা নিচু করে নিলো, যেন নিজের বলা প্রতিটা শব্দেই নিজের দোষটা আরও গভীরভাবে অনুভব করছে। ঘরটায় আবারও নেমে এলো ভারী নীরবতা, আর সেই নীরবতা যেন প্রত্যেকের হৃদয়ের ভেতর ঢেউ তুলে গেলো।রৌদ্র নিঃশব্দে চোখের পানি ফেলতে লাগল। সেই চোখের পানি কেউ দেখার আগে আঁলতো করে মুছে নিয়ে বড় বড় শ্বাস নিলো। হঠাৎ, সবার দিকে চোখ ঘুরিয়ে, গভীর অভিব্যক্তিতে রৌদ্র বলল,
“আমি অপরাধ করেছি, সেই অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করবো। আমি আজ আব্রাহাম রৌদ্র খান, সকলের সামনে বলছি আমি তুরাকে শিহাবের হাতে তুলে দিব।”
কথাটা বলতেই রৌদ্রের বুকের ভিতর যেনো মুছড় দিয়ে উঠলো, ধমনী জোরে ফুঁপিয়ে উঠলো। রৌদ্রের এই সাহসী সিদ্ধান্তে সবাই অবাক হয়ে তার দিকে তাকালো। তুরাও চমকে, চোখ বড় করে রৌদ্রের দিকে তাকালো। রৌদ্রের কথা শুনে আরিফুল খান মুহূর্তে কপালে ভাঁজ নিয়ে বলল,
“শিহাব, কি এখন তুরাকে বিয়ে করতে চাইবে? তুই শিহাবকে মেরেছিস, আর শিহাব এখনো হসপিটালে! শিহাবের বাবা মা কি এখনও তুরাকে মেনে নেবেন?”
রৌদ্র কিছুক্ষণ চুপ থেকে গভীর শ্বাস নিয়ে কন্ঠে দৃঢ়তা রেখে বলল।
“আমি শিহাবকে বলবো, আমি রাজি করাবো। সেটা সবাই আমার উপর ছেড়ে দাও, তোমরা তুরার বিয়ে সব ব্যবস্থা করে ফেলো।”
কথাটা বলতেই রৌদ্র চোখের পানি আড়াল করে বড় বড় পা ফেলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো। পুরো হল রুমটা মুহূর্তে নিস্তব্ধ হয়ে গেলো, সবাই হতভাগ হয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইল। তুরাও, সব কিছু ভুলে, বরফের মতো জমে দাঁড়িয়ে রইল। হৃদয়ে এক অজানা উত্তেজনা আর ভয়, মনে হচ্ছিল যেনো সময় থমকে গেছে, চারপাশের সবকিছুই ক্ষণিকের জন্য নিশ্চুপ হয়ে গেছে।
রৌদ্র তখন বাড়ি থেকে বেরিয়ে সুজা হসপিটালে আসে। সে ভালো মতো জানে না শিহাব কোন হসপিটালে ভর্তি। অনেক খুঁজে, বহু হাসপাতাল ঘুরে অবশেষে একটা হসপিটালে এসে সে জানতে পারে একজন রোগী শিহাব নামে আছে এখানে।রৌদ্র শিহাবের কক্ষের নাম্বার জেনে ধীরে ধীরে সেই দিকে এগোতে লাগলো। প্রতিটি ধাপের সাথে তার হৃদয় আরও ভারী হয়ে উঠছে যেন প্রত্যেকটি কদমে সে তুরাকে হারানোর ভীতি অনুভব করছে। তার চোখের কোণে অজান্তেই নরম পানি জমে আসছে, মন মনে কেবল একটাই প্রার্থনা শিহাব যেন কোনো ক্রমেই রৌদ্র কে ভুল না বুঝে।
রৌদ্র শিহাবের কক্ষের সামনে এসে আচমকা মুখোমুখি হলেন শিহাবের বাবার সঙ্গে। শিহাবের বাবা রৌদ্র কে দেখে রাগে কষ্টে মুহূর্তে রৌদ্রের শার্টের কলার চেপে ধরে বললেন।
“তুই তাও হসপিটালে তোকে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না। এখন নিজে থেকে এসেছিস আমার ছেলেকে কতটুক মেরে কতটা খারাপ অবস্থা করেছিস তা দেখতে?
রৌদ্র শিহাবের বাবার এমন আচরণে অবাক হলো না কারন সে, যা করেছে তার পরিণতিও এটাই হওয়ার কথা,গলাটুকু শুকিয়ে গিয়েছে, হৃদয়ে একধরনের ক্ষত কিন্তু সে এখন রাগ উসকে তুলতে চায় না, বরং শান্ত করে বিষয়টা বোঝানোর চেষ্টা করতে চায় রৌদ্র ধীর কণ্ঠে নিজের দোষ স্বীকার করার আগ্রহে, কাঁপতি হাত অল্প করে বাড়িয়ে একটু নম্রভাবে বলল।
“আংকেল প্লিজ আপনি শান্ত হোন আগে আমার কথা শুনেন।”
শিহাবের বাবা আরও তেতে উঠলেন,চোখে রাগের আগুন,হাতে শক্ত কড়া আহরণ তিনি চিৎকার করে জবাব দিলেন।
” কি শান্ত হবো হ্যাঁ?তোকে আমি ছাড়বো না তোকে আমি জেলের ভাত খাইয়েই ছাড়বো।”
রৌদ্র ধীরে,খানিকটা কাঁপতি কণ্ঠে বলল।
“আংকেল আমি এখানে কোনো ঝামেলা করতে আসেনি? আর আপনি আমাকে যা করবেন সেটা পরে দেখবেন কিন্তু এখন আমি একটু শিহাবের সাথে দেখা করতে চাই।”
রৌদ্র অনেক কষ্টে শিহাবের বাবার কাছেও মাফ চেয়ে শিহাবের বাবাকে হালকা শান্ত করলো। তারপর অনুমতি পেয়ে ধীরে ধীরে শিহাবের কক্ষের ভিতর প্রবেশ করলো। আর ভিতরে আসতেই আচমকা ঘটে গেলো আরেক বিপদ রৌদ্র যেনো সবার সাথে লড়ছে কারন ভিতরে…..!
চলবে….!
~~~~~~
ভুলক্রুটি হলে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন আর গল্প দিতে দেরি হচ্ছে কারন টা আপনাদের আমি বলে দিছি আমার পরীক্ষা পড়াশোনার খুব চাপ। আবার অনেকে জিজ্ঞেস করেছেন আমি কিসে পড়ি। আসলে আমি ক্লাস টেনে পড়ি যারা টেনে পড়েন তারা হয়তো বুঝতে পারছেন পড়াশোনার কেমন চাপ। তাই দয়া করে কেউ কিছু মনে করবেন না…! 🙏🥺
Share On:
TAGS: নির্লজ্জ ভালোবাসা, প্রিঁয়ঁসেঁনীঁ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৮
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১১
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩৩
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৪,১৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৪
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৯
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৭