নির্লজ্জ_ভালোবাসা
পর্ব ১৯ (ইমোশনালচরিএের ব্যাখা) লেখিকাপ্রিঁয়ঁসেঁনীঁ
চারপাশের সব শব্দ যেন বন্ধ হয়ে গেছে। বাতাসের ধ্বনিও যেন আর শোনা যাচ্ছে না।তুরা কাঁদতে কাঁদতে রাস্তা দিয়ে দৌড়াচ্ছে। কোথায় যাচ্ছে, সে নিজেও জানে না। রৌদ্রের সেই উন্মত্ত বার্তাটি দেখার পর তুরার আর চিনতে বাকি ছিল না ওইটা যে রৌদ্রেরই মেসেজ ছিল!
রৌদ্রের এতটা তীব্র ভালোবাসায় তুরা আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার হৃদয়ে শিহাবের প্রতি অপরাধবোধ এবং রৌদ্রের প্রতি অব্যক্ত ভালোবাসার এক ভয়ঙ্কর ঝড় চলছে। রেস্টুরেন্টে কাউকে কিছু না বলে, এক দৌড়ে সে বাইরে বের হয়ে এসেছে।সে পিছনে তাকাচ্ছে না। তার কানে শুধু রৌদ্রের সেই হুমকি পূর্ণ শব্দগুলো প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। তুরার এই পলায়ন যেন তার অসহায়তা ও আতঙ্কেরই বহিঃপ্রকাশ।
তুরা দৌড়াতে দৌড়াতে সামনে একটি শিশুপার্ক দেখতে পেল। সে দ্রুত সেই শিশুপার্কে ঢুকে পড়ল।তার মনে শান্তি নেই। কেন যেন মন এখন শুধু রৌদ্রকে চাইছে। তার মনে হচ্ছে, রৌদ্রকে সামনে পেলে হয়তো এখনি জড়িয়ে ধরে কান্না করত।
তুরা পার্কের একটি বেঞ্চে গিয়ে বসল। দুই হাত দিয়ে বেঞ্চ চেপে ধরে মাথা নিচু করে সে ডুকরে কাঁদতে লাগল। তার সেই কান্নায় যেন প্রকৃতিও থমকে গেছে। তাই তো কোনো গাছপালার একটি পাতাও নড়ছে না। যেন তুরার এই অসহনীয় কষ্টে তারাও স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে।
তুরা কাঁদতে কাঁদতে চোখ বন্ধ করল। আর তার মানসপটে একে একে ভেসে উঠল রৌদ্রের সাথে কাটানো সেই স্মৃতিগুলো। মনে পড়ল, রৌদ্র প্রথমবার তাদের ছাদে তার সঙ্গে কেমন আচরণ করেছিল। তার কানে ফিসফিস করে গান গেয়েছিল যা ছিল তাদের সম্পর্কের এক অঘোষিত সূচনা।
তারপর ভেসে উঠল রেস্টুরেন্টের সেই স্মৃতি, যখন রৌদ্র তাকে কোলে তুলে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। নিয়ে গিয়েছিল কাশফুল দেখতে। সেই কাশফুলের মাঝখানে রৌদ্রের উচ্ছল ও ভালোবাসাপূর্ণ আচরণ যা তুরার হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছিল।এভাবে একে একে করে রৌদ্রের সাথে তার সব স্মৃতি দুষ্টুমি, রৌদ্রের সাথে তার আচরণ আর গভীরতম ভালোবাসা স্পষ্টভাবে ভেসে উঠল। প্রতিটি স্মৃতি যেন তুরার বুকে নতুন করে যন্ত্রণা দিচ্ছে।
স্মৃতিগুলো তুরাকে তীব্রভাবে গ্রাস করছে, তুরা চোখ খুলল। অশ্রুসিক্ত চোখেই সে আকাশের দিকে তাকাল।তুরা তীব্র আর্তনাদ কন্ঠে বলল।
“কেন আমার তার কথা এত মনে পড়ছে?
তুরা চোখ মুছল। কিন্তু চোখের কোণে জল আবারও জমে এল। এই প্রেমের টান, এই বিরহ তাকে প্রতি মুহূর্তে কষ্ট দিচ্ছে। সে বুঝতে পারছে না, কেন এই অসহনীয় টান।তুরার কণ্ঠস্বর আরও ভেঙে গেল।
“কেন তাঁকে আমি এত মিস করছি? কেন আমি সব জেনেও এই যন্ত্রণা থেকে বের হতে পারছি না? আমার তো শিহাবকে নিয়ে ভাবা উচিত! কিন্তু কেন আমার হৃদয় বারবার শুধু তাঁর কাছেই ছুটছে?”
তুরার মনের ভেতরের যন্ত্রণা এখন আর শুধু প্রশ্ন নয়, তা আর্তনাদে পরিণত হলো। সে আর নিজেকে সামলাতে পারল না। বেঞ্চের হাতল আঁকড়ে ধরে সে চিৎকার করে কণ্ঠে তীব্র, হতাশ আর্তনাদ নিয়ে বলল।
“কেনো! কেন, কেন, কেন আমার তাঁর কথা এত মনে পড়ছে! কেন আমার কিছু ভালো লাগছে না!
তুরা আবারো চোখ বন্ধ করে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। সেই কান্নার শব্দে যেন তার অসহায় শেষ চিহ্নটুকুও ক্ষয়ে গেল। তার এই নীরব আর্তনাদে শিশুপার্কের নিস্তব্ধতা আরও ভারী হয়ে উঠল।তুরা কেঁদে কিছুক্ষণের জন্য থমকে গেল। চোখ বন্ধ রেখেই সে তার ভেতরের দ্বন্দ্ব নিরসনের চেষ্টা করল। তারপর বাঁ হাত দিয়ে দ্রুত চোখের পানি মুছে ফেলল। নিজের কম্পিত কণ্ঠস্বর নিজেই শুনল
“তা… তা… তাহলে কি আমি আব্রাহাম রৌদ্র খান কে ভালোবেসে ফেলেছি?”
পরমুহূর্তেই, তার মন যেন চিৎকার করে উঠল। আর কোনো দ্বিধা বা ভয় রইল না। এই প্রথম সে নিজের কাছে সত্যটা স্বীকার করল।
“হ্যাঁ, হ্যাঁ, হ্যাঁ! আমি আব্রাহাম রৌদ্র খান কে ভালোবেসে ফেলেছি! অনেক ভালোবেসে ফেলেছি! আমার ভালোবাসা কি অপরাধ? রৌদ্রের মতো একজন মানুষকে ভালোবাসা কি আমার অপরাধ?”
,,,,,,,,
না! আব্রাহাম রৌদ্র খান কে ভালোবাসা কোনো অপরাধ নয়। কেন নয়, আমি লেখিকা প্রিঁয়ঁসেঁনীঁ আপনাদের বলছি।
পুরুষেরা জীবনে এমন অনেক ভুল কাজ করে, যা কিছু নারীর কাছে ঘৃণার কারণ হতে পারে। কিন্তু আমাদের মহান আল্লাহ বলেছেন, যিনি অতিশয় পাপিষ্ঠ হয়েও যদি আমার ঘরে এসে তওবা পড়ে মাফ চায়, তাহলে আমি তাকে অবশ্যই মাফ করে দেব। কারণ আমাদের আল্লাহ পরম দয়ালু, যার কাছে বান্দা কিছু চাইলে তিনি নিজেকে স্থির রাখতে পারেন না। তাহলে যাকে আল্লাহ তায়ালা মাফ করতে পারে,তাহলে সেই বান্দা কে মানুষ কেন ভালোবাসতে পারবে না। রৌদ্রও তার ভুল বুঝতে পেরেছে এবং সে আল্লাহর পথে গিয়ে মাফও চেয়েছে। সে শপথ নিয়েছে, এসব খারাপ কাজ থেকে বের হয়ে আসবে যা আপনারা পরবর্তী পর্বগুলোতেও জানতে পারবেন।
এখন কথা হচ্ছে ভালোবাসা,,আমি ব্যাখা দিচ্ছি,,
ভালোবাসা কোনো কিছুতেই বাঁধা মানে না। সে আগুনের উপর দিয়ে হেঁটেও সেই ভালোবাসাকে জয় করতে রাজি থাকে। এই গভীর অনুভূতি শুধু তারাই বুঝবেন, যারা কাউকে মনে প্রাণে ভালোবাসেন। অনেকে ভাবেন, এত খারাপ বা চরিত্রহীন মানুষকে ভালোবাসা যায় না। কিন্তু সেই চরিত্রহীন ব্যক্তি যদি কাউকে ভালোবেসে সবকিছু ছেড়ে দেয় এবং খারাপ কাজ থেকে বের হয়ে যায়, তাহলে অবশ্যই সেই ব্যক্তিকে ভালোবাসা যায়।
কিন্তু রৌদ্র সেই বেলাটা উল্টো করল। সে মনে করেছিল, তুরা তাকে ঘৃণা করে, এবং তুরা নিজেও বলে দিয়েছিল রৌদ্র যদি তাকে বিয়ে করে, তাহলে সে তার দেহ পাবে, কিন্তু জীবন থাকতে মন পাবে না সে শুধু নামেই তার স্ত্রী হয়ে থাকবে। এদিকে রৌদ্র সেই মুহূর্তে আল্লাহর ঘরে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে এসেছিল এবং ভালোর পথে চলবে বলে শপথ নিয়েছিল। তাই রৌদ্র যদি তুরাকে জোর করে নিজের করে নিত, তাহলে এইটা অবশ্যই একটা অন্যায় হতো। কারণ, ভালোবাসা হয় দুটি হৃদয় দিয়ে, একটি হৃদয় দিয়ে নয় এইটা হয়তো সবাই জানেন। তাই রৌদ্র নিজের ভালোবাসা আত্মসমর্থ্য করে তুরাকে শিহাবের হাতে তুলে দিয়ে গেছে।
আরেকটা কথা আমাদের পারিবারিক বা সামাজিকভাবে যে বিয়েটা হয়, সেইটা ভালোবাসার বিয়ে না। সেটাকে বাবা-মায়ের সম্মানের বিয়ে বলা হয়। তাই ভালোবাসা কোনো পাপ দেখে না। সে শুধু সেই মানুষটাকে চায়, যেই মানুষটাকে পেলে সে তার মনে শান্তি পাবে। তার অতীতে আগে-পিছে কী আছে, সেটা তার জানার দরকার নেই। শুধু ভবিষ্যতে সে যেন ভালোর পথে চলে এবং তাকে ভালো রাখে।
এখন আমি তুরার ব্যাখা দিচ্ছি,,
একজন ‘চরিত্রহীন’ ব্যক্তিকে এভাবে ভালোবাসা যায় কীভাবেএই প্রশ্নটি অনেকের মনে থাকা স্বাভাবিক। তাই আমি সেই উত্তরটিও দিয়ে দিচ্ছি।
আমি আগেই বলেছি, ভালোবাসা কোনো বাঁধাই মানে না, বা পাপও দেখে না। তুরা প্রথমে রৌদ্রের মতো একজন ব্যক্তিকে ভাই হিসেবে সম্মান করত, কিন্তু প্রেমের দিকে ঘৃণা করত। সে চেয়েছিল রৌদ্রকে শর্ত দিয়ে নিজের জীবন রক্ষা করতে, কারণ সে কোনোভাবেই রৌদ্রের মতো একজন পুরুষকে নিজের জীবনে চাইত না। তুরার পরিকল্পনা ছিল রৌদ্রকে শর্ত দিয়ে সে পালিয়ে আসবে এবং অনেক দূরে চলে যাবে। কিন্তু তুরার শর্তে রৌদ্র যে এতটা পরিবর্তন হবে,তা তুরা কল্পনাও করেনি। আপনারাই ভাবুন, মানুষ কতটা পরিবর্তন হলে নিজের ভালোবাসা কোরবানি দিয়ে, তার ভালোবাসার মানুষকে হাসি খুশি রাখতে সে নিজেই দূরে চলে গেল!এই ভাবনা এই পরিবর্তন গুলোই তুরাকে দুর্বল করল।
এখন আরও একটা কথা,,কেনই বা আমি রৌদ্রকে দূরে সরালাম? এর অর্থ হলো, আমরা কিছু কিছু জিনিস কাছে থাকতে মূল্য দিতে জানি না, কিন্তু সেই জিনিস দূরে চলে গেলে সেইটার অনুভব কিন্তু ঠিকই আমরা করি। কথাটা হয়তো সাধারণ ক্যাপশন মনে হতে পারে, কিন্তু কথাটা সত্য। তাই আমি লেখিকা প্রিঁয়ঁসেঁনীঁ চেয়েছি তুরা রৌদ্রকে এইভাবেই অনুভব করুক। আর তুরা আস্তে আস্তে অনুভব করতে করতে নিজের মনকে গলিয়ে ফেলতে পারে রৌদ্রের প্রতি ।রৌদ্র কাছে থাকলে হয়তো তুরা এই ভালোবাসার অনুভূতিটা নিজের কাছে শিকার করত না। এইটাই আপনাদের প্রিঁয়ঁসেঁনীঁ আফার মন্তব্য ছিল।
অনেকে হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন যে, যে ছেলে দশজন মেয়ের সাথে সময় কাটিয়েছে বা খারাপ কাজ করেছে, সেই ছেলে যে আবারও খারাপ হবে না তার গ্যারান্টি কী আছে?
এখন কথা হচ্ছে আমি এইটারও ব্যাখা দিচ্ছি,,
মানুষ যদি ভালো হয়ে আবারও খারাপের পথে ফিরেও যায়, সেটা তার কপালে লেখা এবং তাঁর ব্যক্তিগত ভাগ্য। আমরা আগে থেকে তা ধরে নিতে পারি না। যদি চরিত্রদের ভবিষ্যৎ এত সহজে ধরা যেত, তাহলে হাজারো উপন্যাসে নায়ক খারাপ থেকে নায়িকার প্রেমে পড়ে ভালো হয়েছে তারাও আর খারাপের পথে যায়নি।আমি আপনাদের কাছে আশা রাখছি, আমার উপন্যাসের নায়কও আর খারাপের পথে যাবে না। রৌদ্রের এই পরিবর্তন এসেছে তীব্র ভালোবাসা ও অনুশোচনা থেকে, যা তাকে সত্যিই শুদ্ধ করেছে।
আমরা উপন্যাসে আলোচনা করি সেই সম্ভাবনা নিয়ে, যেখানে ভালোবাসা একজন মানুষকে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।আশা করি, আপনারা সকলে আমার কথা বুঝতে পেরেছেন অর্থাৎ আপনাদের মনে আর কোনো প্রশ্ন নাও থাকতে পারে আমি মনে করি। এখন তুরা যে রৌদ্রকে ভালোবাসে সে এইটা স্বীকার করছে!
তাহলে চলেন সকলে মিলে বলি:আলহামদুলিল্লাহ,,
এখন গল্প শুরু করা যাক,,,
তুরার ফোন একের পর এক বেজেই যাচ্ছে। হয়তো আরশি, আয়ান, আরফাই কল করছে। কারণ তাদের তো কিছু না বলে সে পালিয়ে এসেছে।অনেকবার রিং হওয়ার পর তুরা নিজের গভীর ভাবনা থেকে বেরিয়ে এলো। তাড়াতাড়ি চোখের পানি মুছে নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করল এবং কল রিসিভ করল। অপর প্রান্তে আরশির উদ্বিগ্ন কণ্ঠস্বর শোনা গেল।
“কিরে তুরা! তুই হঠাৎ না বলে কোথায় চলে গেলি? আমরা পুরো রেস্টুরেন্ট খুঁজে দেখলাম, তুই কোথাও নেই! শিহাব ভাইয়া তো প্রায় পাগল হয়ে গেছে!”
তুরা নিজেকে সংযত করে, কণ্ঠে কৃত্রিম অসুস্থতার ভাব এনে বলল।
“আসলে আপু, আমার শরীর খারাপ লাগছিল, তাই আমি বাসায় চলে এসেছি।”
“ওহ, আচ্ছা! আমরাও আসছি।”
“আচ্ছা আপু।”
কলের লাইন কেটে গেল। তুরা কোনোমতে মিথ্যা বলে পরিস্থিতি কাটিয়ে দিলো, যাতে আরশির কোনো সন্দেহ না হয়। কিন্তু এই মিথ্যা বলার পর তার মনে অপরাধবোধ আরও বাড়ল।
,,,,,,,
তুরা আরশিদের আগে দ্রুত বাসায় চলে এল। তাকে একা দেখেই তনুজা খান উদ্বিগ্ন হয়ে প্রশ্ন করলেন।
“তুই একা এলি যে? আয়ানরা কোথায়?”
তুরা ক্লান্তির ভাব এনে জবাব দিল।
“আসলে মা, আমার শরীর খারাপ লাগছিল, তাই আমি আগে চলে এসেছি। ভাইয়ারা আসছে।”
তুরার কথা শুনে তনুজা খান সঙ্গে সঙ্গে তুরার কপালে ও গলায় হাত দিয়ে দেখে,মাতৃত্বের স্নেহ স্বরে বলল।
“সেকি! শরীর খারাপ লাগছে মানে? কিছু হয়েছে? জ্বর টর?”
তুরা দ্রুত আশ্বাস নিয়ে বলল।
“আরে না মা, এমনি শরীর খারাপ লাগছে। মা, আমি খুব ক্লান্ত। আমি রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে একটু ঘুমাবো।”
তনুজা খান স্বস্তি ও অনুমতি স্বরে বললেন।
“আচ্ছা, ঠিক আছে যা।”
তুরা তার মায়ের কথা শুনে দ্রুত তার রুমে চলে গেল।এর কিছুক্ষণ পরই, সময়ের গতিতে আরশি, আয়ান, তিথি এবং আরফা তারাও বাসায় চলে এল। রেস্টুরেন্টে তুরার হঠাৎ চলে যাওয়া এবং বাইরের ছোটাছুটির কারণে সকলেই ক্লান্ত ছিল। তাই কেউ কারও সঙ্গে কথা না বলে যার যার রুমে চলে গেল।
,,,,,,,,,,
রাত ন’টা ছুঁই ছুঁই। খান বাড়ির সকলেই তখন ঘুমিয়ে আছে। শুধু ঘুম নেই তুরার চোখে। কাল তুরার বিয়ে এই ভাবনাতেই যেন তুরার বুক ফেটে আরও কান্না আসছে।তুরা ছাদের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে। তার মন জুড়ে শুধু কালকের বিষয়টা। কীভাবে সে কী করবে? কীভাবে শিহাবের নামের ‘কবুল’ শব্দটি বলবে? সে যে রৌদ্রকে ভালোবেসে ফেলেছে! এই কথা পারছে না কাউকে বলতে, না পারছে সহ্য করতে।
কাল কি সত্যি তুরার বিয়ে হয়ে যাবে? সে কি সত্যি রৌদ্রকে হারিয়ে ফেলবে? তাহলে তো সর্বনাশ! কারণ সে যে রৌদ্রকে ভালোবেসে ফেলেছে, খুব বেশিই ভালোবেসে ফেলেছে।
এগুলো ভাবতেই তুরা আবারও ডুকরে কেঁদে উঠল। কাঁদতে কাঁদতে সে ছাদের রেলিংয়ে নুইয়ে পড়ল। কাঁদতে কাঁদতে আর্তনাদ করে বলল।
“রৌদ্র, আপনি কোথায়? আমি পারছি না আপনাকে ছাড়া থাকতে! দম আটকে মরে যাচ্ছি আমি! আমি, আমি, আপনাকে খুব ভালোবাসি, খুব বেশিই ভালোবেসে ফেলেছি!”
তুরার মন অনুশোচনা আর ভালোবাসার ভারে ভেঙে যাচ্ছে। সে ছাদের রেলিংয়ে মুখ গুঁজে ফিসফিস করে বলল।
“আপনি ঠিকই ছিলেন! আমি ভুল ছিলাম, আপনার ভালোবাসা ভুল নয়, পবিত্র! আমি চাই আপনাকে? আপনাকে না পেলে আমি হয়তো বাঁচতে পারব না।”
তুরার আর্তনাদ আরও গভীর হলো। এই মুহূর্তে রৌদ্রের উপস্থিতি তার জন্য জীবনদায়ী। সে যেন আকাশের দিকে তাকিয়ে ভিক্ষা চাইছে।
“প্লিজ, আপনি ফিরে আসেন! আমি আপনি ব্যতীত কাউকে চাই না! আপনাকে না পেলে আমার মরণ হোক!”
তুরা রেলিংয়ে মাথা নুইয়ে কাঁদতে লাগল। আজ যেন তার চোখে নদী লেগেছে। আসলেই ভালোবাসা যেমন হাসায়, তেমন কাঁদায় তাতে আফসোস বা ধোঁকা যাই থাকুক। ভালোবাসা মানেই কান্না।ঠিক তখনই একটি ধীর কণ্ঠস্বর ভেসে এলো:
“তুরা।”
কারও ডাকে তুরার কান্না থেমে গেল। তুরা মাথা সোজা করে কান্নাভেজা চোখে সামনে তাকাল। চারপাশে অন্ধকার হলেও, শরীরের গড়ন দেখে তুরার চিনতে ভুল হলো না যে,ওটা আরশি।আরশির ঘুম আসছিল না তাই তুরার সাথে গল্প করার জন্য তুরার রুমে গিয়েছিল তুরাকে রুমে না পেয়ে আরশি খুঁজতেন খুঁজতে ছাদে আসে। আর এসেই তুরার আর্তনাদ করে বলা প্রতেকটা শব্দ স্পষ্ট ভাবে শুনে ফেলে।আরশি দ্রুত এগিয়ে এসে তুরার সামনে সেও ঝুঁকে বসল। আরশির চোখেও পানি টলমল করছে। সে শান্ত কণ্ঠে শিউর হতে জানতে চাইল।
“একটু আগে তুরা, তুই যেসব কথা বললি, সেগুলো কি সব সত্যি?”
আরশির কথা শুনে তুরার আর বুঝতে বাকি রইল না আরশি যে সব শুনে ফেলেছে। তুরা আর নিজেকে লুকানোর চেষ্টা করল না। মুহূর্তে তুরা আরশিকে ঝাঁপিয়ে জড়িয়ে ধরল এবং হাউমাউ করে কেঁদে উঠল।তুরা আর্তনাদ ও আকুতি নিয়ে বলল।
“হ্যাঁ আপু, সব সত্যি কথা! আপু, আমি রৌদ্র ভাইয়াকে ভালোবাসি। আমি ভালো নেই! আমার কিছুই ভালো লাগছে না। আমার দম আটকে আসছে! আপু, আমি এখন কী করব? আমি শিহাবকে বিয়ে করতে পারব না!”
তুরা কাঁদতেই থাকল।আরশি তুরার কথা শুনে কী বলবে।ভেবেই পাচ্ছে না। সে যা সন্দেহ করেছিল, তাই হলো। কিন্তু এখন সে কী বলে তুরাকে সান্ত্বনা দেবে, সে যেন ভেবেই পাচ্ছে না। তবুও আরশি, স্নেহভরে তুরার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল।
“কাঁদিস না তুরা। এইভাবে ভেঙে পড়লে চলবে না। দেখ, বাসার সবাই তোর বিয়ে নিয়ে কত খুশি! তুই কি চাস, এসব শুনে সবার মন খারাপ হোক? আর তা ছাড়া তুই তো রৌদ্র ভাইয়াকে ভালোবাসিস না তার জন্যই তো রৌদ্র ভাইয়া চলে গেল।
তুরা আরশিকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলল।
“তাহলে আমি এখন কী করব আপু? মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিহাবকে বিয়ে করব? আর রৌদ্র ভাইয়াকে আমি কিভাবে ভালোবেসে ফেললাম আমি নিজেও জানি না। কিন্তু আমি রৌদ্র ভাইয়াকে খুব ভালোবাসি পারছি না আপু আমি রৌদ্র ভাইয়াকে ছাড়া থাকতে বিশ্বাস করো আমার খুব কষ্ট হচ্ছে,আমি শ্বাস নিতে পারছি না কোনো কিছুতেই আমি মন বসাতে পারছি না,বিশ্বাস করো আপু আমি রৌদ্র ভাইয়াকে চাই প্লিজ।”
তুরার যন্ত্রণা যেন ফেটে বের হচ্ছে। তুরার চোখের পানি আরশির গলা ভিজিয়ে দিচ্ছে। আরশি, তুরার এই তীব্র যন্ত্রণা দেখে কিছু একটা ভেবে নিল। সে তুরাকে সোজা করে বসাল এবং তুরার চোখের দিকে দৃঢ়ভাবে তাকিয়ে বলল।
“তুই সত্যি রৌদ্র ভাইয়াকে চাস?”
তুরা সাথে সাথে মাথা নাড়িয়ে উত্তর দিল। তার কণ্ঠে ছিল নিশ্চয়তা ও আকুতি।
“হ্যাঁ আপু, আমি চাই!”
আরশি চ্যালেঞ্জিং প্রশ্ন করলো।
“আমি যা বলব, করতে পারবি তো?”
তুরার চূড়ান্ত অঙ্গীকার নিয়ে বলল।
“হ্যাঁ আপু! আমি রৌদ্র ভাইয়াকে পেতে সব করতে রাজি আছি। বল, আমায় কী করতে হবে?”
তুরার এই কথায় আরশি মুচকি হাসল। আরশির মনে পরিকল্পনা করা শেষ কীভাবে কী করতে হবে। আরশির মধ্যে এখন আর দ্বিধা নেই, আছে শুধু রৌদ্রকে তুরার করে দেওয়ার এক কঠিন অঙ্গীকার।আরশির মুচকি হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গোপন, সাহসী পরিকল্পনা।
এখন প্রশ্ন হলো:
১. কী হবে পরবর্তী পর্বে?
২. আরশির এই প্ল্যানে কি সত্যি তুরা তার ভালোবাসা রৌদ্রকে পেয়ে যাবে?
৩. কাল কি তাহলে তুরার বিয়ে আবারও আগের মতো ভেঙে যাবে?
প্রেম, ত্যাগ, আর পারিবারিক সম্মানের এই জটিল গল্প কোন দিকে মোড় নেয় জানতে হলে গল্পটি মনোযোগ সহকারে পড়তে থাকুন!
ধন্যবাদ সবাইকে!
চলবে….!
~~~~~~
Share On:
TAGS: নির্লজ্জ ভালোবাসা, প্রিঁয়ঁসেঁনীঁ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৪
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৪,১৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৩
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা গল্পের লিংক
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৪
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩৩
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩১