নির্লজ্জ_ভালোবাসা
পর্ব ১০
লেখিকাঃ-#প্রিঁয়ঁসেঁনীঁ
তুরা যেন এখন কোনো ভয়ঙ্কর বিপদের মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। নিস্তব্ধ বাতাসেও একটা চাপা উত্তেজনা ছড়িয়ে আছে চারপাশের রাস্তায়। তুরা একবার শিহাবের দিকে তাকায় চোখে মৃদু আশার ঝিলিক, যেন সেখানে একটু নিরাপত্তা খুঁজে পায়। কিন্তু পর মুহূর্তেই দৃষ্টি ঘুরে যায় রৌদ্রের দিকে, যার চোখে অজানা ঝড়, দমবন্ধ করে দেওয়ার মতো তীব্রতা। দুই দিকেই পথ, কিন্তু কোনো দিকেই মুক্তি নেই। তুরা নিঃশ্বাস নিতে চায়, কিন্তু বুকের ভেতর ভার জমে গেছে মনে হচ্ছে, এক ভুল পদক্ষেপেই সব শেষ হয়ে যাবে।
রৌদ্র চোখ-মুখ শক্ত করে এগিয়ে এলো, মুখে কোনো কথা নেই শুধু একরাশ তীব্রতা জমে আছে তার দৃষ্টিতে। রৌদ্র তুরার এক হাত শক্ত করে ধরে টান দিলো, যেন কোনো সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই নিয়ে ফেলেছে। তুরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই রৌদ্র তাকে টেনে নিতে শুরু করলে। ঠিক সেই মুহূর্তে শিহাব এগিয়ে এসে তুরার অন্য হাতটা ধরে ফেললো। তার চোখে দৃঢ়তা, মুখে চাপা রাগ, কণ্ঠ গম্ভীর আর ভারী হয়ে উঠলো।
“তুরাকে আমি নিয়ে যাবো তুরা আমার সাথেই যাবে।”
রৌদ্র এক পলক শিহাবের দিকে তাকালো চোখে ক্রোধ, তবু ঠোঁট নিঃশব্দ। কিছু না বলেই আবার তুরার হাত ধরে টান দিলো, যেন নিজের অধিকারের প্রমাণ দিতে চাইছে। শিহাব এবার আর চুপ রইলো না, সে আরও জোরে তুরার হাত চেপে ধরে কঠিন স্বরে বলল,
“শুনতে পাননি আমি কী বলেছি? তুরা আমার সাথে যাবে! তুরা, বলো তুমি কার সাথে যাবে!”
পরিস্থিতি এক মুহূর্তে ভারী হয়ে উঠল। বাতাস থেমে গেল, চারপাশ নিঃস্তব্ধ। তুরার চোখে পানি এসে জমল, গলা শুকিয়ে গেল। সে এক বড় ঢোক গিলে কাঁপা গলায় বলল,
“আমি শিহাবের সাথে যাবো। রৌদ্র ভাইয়া, আমাকে ছেড়ে দিন আমি যাবো না আপনার সাথে।”
রৌদ্রের হাত নিস্তব্ধ হয়ে গেলো, মুখের পেশিগুলো শক্ত হয়ে উঠলো। চোখের ভেতর একটা দহন জ্বলে উঠলো যেন এক মুহূর্তেই সব ভেঙ্গে চুরমার করে দিবে।মুহূর্তের মধ্যে রৌদ্রের চোখে আগুন জ্বলে উঠল। এক ঝটকায় নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে তুরাকে টেনে একদম কাছে এনে গাল চেপে ধরে বলল।
“হাউ সুইটহার্ট, তোর কি মনে হয়, তোকে আমি বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছি এই জঙ্গলি শিহাবের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য? শুন, আমি তোর ভাতার হবো এই শিহাব না!”
কথাটা বলেই রৌদ্র আবার শিহাবের দিকে তাকালো। চোখে দাউ দাউ করে জ্বলছে ক্রোধ, ঠোঁটের কোণে টান, বুক ওঠানামা করছে দ্রুত শ্বাসে। চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে গেছে, তুরা নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শরীর কাঁপছে, চোখে ভয় আর অবিশ্বাসের মিশ্র ছাপ।রৌদ্র শিহাবের দিকে ধীরে ধীরে কয়েক পা এগিয়ে এলো, তার কণ্ঠের গভীরতা যেন মাটির ভেতর কাঁপন তোলে।
“শিহাব,শোন তোর সঙ্গে আমি ঝামেলা করতে চাই না! কিন্তু তোর জন্য ভালো হবে, তুই তুরার কথা ভুলে যা। আমার এই প্রাণ থাকতে তুরাকে তুই কোনোদিন পাবি না,এমনকি পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেলেও,না।”
মুহূর্তের মধ্যে শিহাবের চোখেও আগুন জ্বলে উঠল। মুখ শক্ত হয়ে গেল, বুকের ভেতর রাগের ঢেউ তীব্রভাবে ওঠানামা করছে। নিজেকে আর সামলাতে পারলো না সে। এক ঝটকায় রৌদ্রের শার্টের কলার শক্ত করে চেপে ধরলো। চারপাশ নিস্তব্ধ শুধু দুজনের ভারী নিঃশ্বাসের শব্দ ভেসে আসছে, শিহাব গর্জে উঠল,বলল।
“তুরা শুধু আমার! আমার তুরার সঙ্গে বিয়ের কথা ছিল! তুই জোর করে তুরাকে তুলে এনে আটকে রাখছিস! তুরাও আমার সাথেই যেতে চায়! তুই কী করবি, আমি দেখতে চাই। কিন্তু এ কথা শোনে রাখ এই মুহূর্তে আমি তুরাকে নিয়ে যাবোই !”
রৌদ্রও রাগে চোখ লাল হয়ে উঠলো। এক ঝটকায় সেও শিহাবের কলার শক্ত করে চেপে ধরলো চোখে আগুন, গলায় রাগের ঝড়।রৌদ্র চিবুক শক্ত করে, দাঁত কিরমির করে বলল।
“তোর ভাগ্যই ভালো যে আমি তোকে কিছু করিনি! নাহলে দেখতাম আব্রাহাম রৌদ্রে খানের শার্টের কলার ধরে রাখার সাহস তোর কোথা থেকে আসে!”
শিহাবের চোখেও আগুন জ্বলছে রৌদ্রের দিকে ঝাপটিয়ে তাকিয়ে দাঁত কিরমির করে, সেও চিবুক শক্ত করে বলল,
“তাই তুই কি করবি আমায় আমি দেখতে চাই?”
দু’জনের মধ্যে কয়েক মিনিটের মধ্যেই মারামারি শুরু গেলো, যেন দু’জন সিনেমার শুটিং করছে। তুরা এই দৃশ্য দেখে আরও ভয় পেয়ে এগিয়ে এসে দুজনের দিকে চিৎকার করতে লাগলো।
“কি হচ্ছে কি আপনাদের সমস্যা কি? কেন এইভাবে রাস্তায় মারামারি করছেন?”
কিন্তু তুরার কোনো কথাই দু’জনের কানে পড়লো না। যে যতো পারছে মারছে। তুরা বারবার থামার জন্য বলছে, কিন্তু কেউ থামছে না। এদিকে শিহাব রৌদ্রের সাথে তুলনা করলে একটু বেশিই মার খাচ্ছে, শক্তি কমে আসছে। এক মুহূর্তে শিহাবের শক্তি ফুরিয়ে আসে, আর সেই সুযোগে রৌদ্র তাকে ইচ্ছে মতো মারতে থাকে। শিহাবের নাক-মুখ ফেটে র*ক্ত ঝরছে।তুরা আশেপাশে তাকালো, কিন্তু দূরে কোথাও মানুষ নেই। একাকী এই রাস্তায় দু’জনের তীব্র সংঘর্ষ চলছে।
তুরা চিৎকার করা শুরু করলো। তার সেই চিৎকারে আশেপাশের কিছু মানুষ ছুটে এলো। অনেক কষ্টে তারা রৌদ্রের হাত থেকে শিহাবকে বাঁচালো। শিহাবের অবস্থা তখন খুব খারাপ রৌদ্রের ঘুষিতে মুখ ফেটে র*ক্তে ভেসে যাচ্ছে। এখনই হসপিটালে না নিলে অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যাবে।শিহাবের অবস্থা দেখে তুরা তাড়াতাড়ি তার দিকে দৌড়াতে লাগলো, কিন্তু কয়েক পা এগোতেই মুহূর্তের মধ্যে রৌদ্র এসে কোনো কথা না বলেই তুরাকে পাজা কুলে তুলে কাঁধে নিয়ে নিলো। তুরা রাগে ও আতঙ্কে রৌদ্রের পিঠে আঘাত করতে করতে চিৎকার করে বলল,
“ছাড় বলছি আমায়, জানো’য়ারের বা’চ্চা কু’ত্তার বা’চ্চা ! তুই একটা খারাপ মানুষ! তুই মানুষ না, ও মানুষ , তোর মনে কোনো মায়া নাই! তুই অনেক খারাপ! তোকে আমি ঘৃণা করব আজীবন! যতোই তুই আমাকে নিয়ে যাস, তুই আমার দেহ হয়তো পাবি, কিন্তু প্রাণ থাকতে কোনোদিন তুই আমার মন পাবি না!”
রৌদ্র কোনো কথা না বলে তুরাকে জোর করে গাড়িতে তুলে গাড়ি নিয়ে ছুটে গেল। পিছনে পড়ে রইল শিহাবের রক্তে ভেজা শরীর। আশেপাশের লোকজন দ্রুত শিহাবকে হসপিটালে নিয়ে গেল।শিহাবের ফোন পেয়ে তাড়াতাড়ি তার বাবা-মাকে কল করা হলো। ছেলের এত বড় ঘটনার খবর পেয়ে শিহাবের বাবা-মা পাগলের মতো হসপিটালে ছুটে এলো।
খান বাড়িতে সবাই এখন নীরব। আগের মতো কেউ কারও সঙ্গে কথা বলছে না প্রত্যেকেই যেন হাজারো চিন্তায় আটকে গেছে। আনোয়ার খান হলে বসে খবরের কাগজ পড়ছিলেন। হঠাৎ ফোন বেজে উঠল। আনোয়ার খান ফোন নিয়ে দেখতে পেলো শিহাবের বাবা কল দিয়েছেন। তিনি খানিক চমকে গেলেন; এই মুহূর্তে শিহাবের বাবা ফোন করায় ভাবলেন,কোনো সমস্যা হলো নাকি।আনোয়ার খান দ্রুত কল রিসিভ করলেন। সঙ্গে সঙ্গেই ওপাশ থেকে শিহাবের বাবার রাগগ্রস্ত কণ্ঠ কানে এলো।
“আনোয়ার খান,আপনার ছেলের করা কাজের ফল আপনার ছেলেকে ভোগ করতে হবে। এতদিন চুপ করে ছিলাম, কিছু বলিনি; কিন্তু আজ যা করেছে, তা সীমা অতিক্রম করেছে। আপনার ছেলেকে আমি ছাড়বো না!”
আনোয়ার খান ফোনের ওপাশে উত্তেজিত কণ্ঠ শুনে কাঁপতে কাঁপতেই বললেন,
“কি হয়েছে? শিহাব ঠিক আছে তো? আর রৌদ্র কি করেছে?”
শিহাবের বাবা আনোয়ার খানের কাছে সব খুলে বললেন। সব কথা শুনে আনোয়ার খানের হাত থেকে ফোনটা পড়ে গেল। বুকে তীব্র ব্যথা শুরু হলো। বুকে হাত দিয়ে ধব করে তিনি ফ্লোরে পড়ে গেলেন। রৌশনি খান, যিনি সিঁড়ি দিয়ে নামছিলেন, মুহূর্তের মধ্যে আনোয়ার খানের দিকে চোখ গেল। তিনি তাড়াতাড়ি দৌড়ে এসে ধরে বললেন,
“একি! আপনার কি হয়েছে? এইভাবে বসে আছেন কেন?”
আনোয়ার খান বড় বড় শ্বাস নিতে লাগলেন। আনোয়ার খানের অবস্থা দেখে রৌশনি খান চিৎকার করতে লাগলেন। বাড়ির সকলেই চিৎকার শুনে একে একে বেরিয়ে এলেন। আনোয়ার খানের অবস্থা দেখে সবাই ভয় পেয়ে গেল। আরশি কান্না শুরু করে দিলো। আয়ান আনোয়ার খানের বুকে হাত রেখে বলল,
“চাচা, তোমার কি বুকে ব্যথা করছে? কষ্ট হচ্ছে?”
আনোয়ার খান শ্বাস নিতে নিতে সব ঘটনা খুলে বললেন। যা শুনে সকলের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেল।আনোয়ার খানের অবস্থা ধীরে ধীরে আরও খারাপ হতে লাগলো। তাড়াতাড়ি সবাই তাকে ধরে ইমারজেন্সি হসপিটালে নিয়ে গেল।
হসপিটালে কেবিনে আনোয়ার খানের পাশে সবাই বসে আছে, প্রত্যেকের মুখে চিন্তার ছাপ, কষ্টের ছাপ। আরশি কান্না করতে করতে চোখ ফুলিয়ে ফেলেছে। মুহূর্তে আশিক খান চোখ-মুখ শক্ত করে আয়ানের দিকে লক্ষ্য করে বললেন,
“আয়ান, তুই তো ভালো মানুষ/মারফতকারদের চেনিস যারা লোককে খুঁজে বের করে দেয়। তাদের সাথে তুই দেখা করতে পারবি?”
“হ্যাঁ, কিন্তু কেনো, চাচা?”
আশিক খান কণ্ঠে রাগ আর অস্থিরতায় বললেন।
“অনেক হয়েছে আর চুপ করে থাকা যাবে না। রৌদ্র এবার খুব জোর বেড়েছে শিহাবকে এমন মারেছে যে এখন আনোয়ার খানও তার চিন্তায় হাসপাতালে। আমরা আর বসে থেকে দেখবো না। যেভাবেই হোক, রৌদ্র আর তুরাকে খুঁজে বের করতে হবে। নাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যাবে।
আয়ান ও ভাবলো চাচা ঠিক কথাই বলেছে এখন আর সময় নষ্ট করার টাইম নেই। রৌদ্রের বদমাশী এবার অতিরিক্ত হয়ে গেছে আনোয়ার খানের অবস্থা, শিহাবের চরম আঘাত সব কথা মিলে এখন সকলে এগিয়ে না এলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ দিকে বাগাড়াবে।
,,,,,,,,,,,,,
এদিকে রৌদ্র তুরাকে নিয়ে সুজা একটা পাহাড়ি জঙ্গলে প্রবেশ করলো। জঙ্গলের ভিতর দিয়ে গাড়ি ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। তুরা চারপাশে তাকিয়ে ভয় পেলো জঙ্গলটা এতই ভয়ানক,হালকা অন্ধকার ও ঘন, যে একবার দেখলেই যে কেউ কাঁপতে শুরু করবে।গাছপালার ছায়া, হঠাৎ হাওয়ার শব্দ, দূরে দূরে অচেনা আওয়াজ সব মিলিয়ে তুরার মনে ভয় অসহায়তার অনুভূতি আরও বেড়ে গেল। সে চেষ্টা করলো রৌদ্রের দিকে তাকাতে, কিন্তু রৌদ্রের চোখে অদ্ভুত এক কঠিন অভিব্যক্তি, যা তুরাকে আরও ভয় দেখাচ্ছে।
রৌদ্র সুজা তুরাকে নিয়ে একটা ভবনের সামনে চলে আসলো। গাড়ি থামিয়ে কোনো কথা ছাড়াই তুরাকে পাঁজা কোলে তুলে ভিতরে প্রবেশ করলো। ভিতরে এসে দেখে কাজী বসে আছে। রৌদ্র তখনই তার গার্ডদের মেসেজ দিয়ে নির্দেশ দিয়েছে কাজীকে এনে রাখতে।রৌদ্র তুরাকে নিয়ে কাজীর সামনে এসে বলল।
“এই কাজী,ফাস্ট ফাস্ট! বিয়ে পড়ান! আমার বংশধর আসতে দেরি হয়ে যাচ্ছে।”
তুরা রৌদ্রের কথা শোনে কাজীর দিকে চোখ কপালে ভাঁজ করে বলল,
“কাজী ভাই! এই শা’লা মানুষটার হাত থেকে আমাকে বাঁচান। নাহলে আমি নিজের পায়ে ফেসে ঢুকিয়ে দেবো, এমন বিয়ে হবে না!”
মুহূর্তে রৌদ্র তুরার দিকে চোখ পাকিয়ে তাকালো। আর তুরা সঙ্গে সঙ্গে চট করে বলল,
“তাকাস কেনো! তোর মতো নষ্টা নোংরা পুরুষকে আমি বিয়ে করবো না। এত জোর কেনো করছিস এই শা’লা জানোয়ারের বা’চ্চা। আচ্ছা রৌদ্র, কুকুরের বাচ্চা হরিণের শুশুড় মশাই ব্যাঙের নানু ভাই, শোন তো তুই আমাকে কেনো বিয়ে করতে চাইছিস,ভালোবেসে নাকি নিজের চাহিদার জন্য?”
কথাটা বলতেই তুরার বুক কেঁপে উঠলো। রৌদ্র যতই খারাপ হোক না কেন, এই মুহূর্তে তুরাকে শক্ত থাকতে হবে দুর্বল হলে চলবে না। নাহলে তার জীবন চিরদিনের জন্য এই নির্মম রৌদ্রের সঙ্গে জড়িয়ে যাবে। রৌদ্র তুরার এমন কথায় ঠোঁটে একচিলতে মুঁচকি হাসি টেনে তুরার দিকে এগিয়ে এসে বলল,
“জানে’মান, বিশ্বাস কর, তোকে আমার ভীষণ ভালো লাগে। কিন্তু এই ভালো লাগাকে ঠিক কী বলে আমি জানি না। শুধু এইটুকু জানি আমার এই জীবনে তোকে আমি চাই, শুধু তোকেই।”
মুহূর্তে তুরার মুখে একটুখানি হাসি ফুটে উঠলো যে হাসির মানে তুরা ছাড়া আর কেউ জানে না। তুরা রৌদ্রের চোখের দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলল,
“ওকে, আমি আপনাকে বিয়ে করব তবে আমার একটা শর্ত আছে, সেটা আপনাকে মানতেই হবে।”
মুহূর্তেই রৌদ্রের ঠোঁটে আনন্দের হাসি ছড়িয়ে পড়ল। বুকে হাত রেখে, গলা একটু টেনে গভীর স্বরে বলল,
“আলহামদুলিল্লাহ! আমার জানে’মান রাজি হয়েছে তাহলে! বল, কী করতে হবে আমাকে? আমি তোর জন্য আমার জান ছাড়া সব কিছু করতে পারবো। জান দিতে পারব না, কারণ নিজের ইচ্ছায় জান দেওয়া পাপ, জীবনে অনেক পাপ করেছি, কিন্তু এই পাপটাকে আমি সবচেয়ে সম্মানের মনে করি, তাই এই পাপটা করতে চাই না। বল, আমার জানে’মান,কী করতে হবে আমাকে?”
তুরা কোনো সময় নষ্ট না করে সঙ্গে সঙ্গে রৌদ্রকে বলে ফেললো তার সেই শর্তটা। আর তুরার মুখ থেকে পুরো কথাগুলো শোনার পর রৌদ্রের চোখ যেন কপালে উঠে গেল। মুখের রঙ মুহূর্তে ফ্যাকাশে হয়ে গেলো, বিস্ময়ের সঙ্গে মিশে গেলো হালকা আতঙ্কও। তার ঠোঁটের হাসিটা যেন কোথায় হারিয়ে গেল এক নিমিষে। চোখের দৃষ্টিতে ফুটে উঠলো একরাশ অবিশ্বাস। বাচ্চাদের মতো মুখে অবাক ভাব, যেন কেউ হঠাৎ প্রিয় খেলনাটা কেড়ে নিয়েছে তার কাছ থেকে, কারণ তুরা বলেছে……!
চলবে….
~~
এখন মাএ গল্পটা লিখে দিলাম তাও কারেন্ট অনেক বার নিছে। অনেক কষ্টে পর্ব টা লিখলাম। যাই হোক ভুল হলে আমাকে সবাই ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন আর অপেক্ষা করানোর জন্য আমি সত্যি দুঃখিত…!🥺
Share On:
TAGS: নির্লজ্জ ভালোবাসা, প্রিঁয়ঁসেঁনীঁ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২০
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা গল্পের লিংক
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩১
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২৬
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৪
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ২১
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৩৩
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ১২